Tag: FETSU

  • Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    Jadavpur University: যাদবপুরে জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে এবিভিপি-বামপন্থী পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেনারেল বডির বৈঠককে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)। বুধবার রাতের ওই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। বৈঠক চলাকালীন এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ফেটসু-ঘনিষ্ঠ পড়ুয়াদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি হয়। তার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাতাহাতি রূপ নেয় সংঘর্ষের। ঘটনায় দু’পক্ষেরই একাধিক পড়ুয়া জখম হয়েছেন বলে (Left Student) দাবি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসাও করাতে হয়েছে বলে খবর। যদিও ঠিক কী কারণে আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

    এবিভিপির অভিযোগ (Jadavpur University)

    আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির অভিযোগ, জেনারেল বডির বৈঠক চলাকালীন তাঁদের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে সেই ঘটনা হাতাহাতির আকার নেয়। সংগঠনের দাবি, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিতভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। এদিকে, ফেটসুর অভিযোগ, এবিভিপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পড়ুয়া বৈঠকে এসে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তাঁদের আচরণের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার পরেই তা আকার নেয় সংঘর্ষের।

    জখম এবিভিপির ছাত্র নেতা

    বামপন্থী পড়ুয়াদের মারে জখম হয়েছেন এবিভিপির অর্ণব দাস। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের দাবি, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ওই জেনারেল বডির বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন সংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। তাঁর কথায়, “আজকে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা জেনারেল বডি বৈঠকে তাঁরা ঠিক করেন কোনও সরকারি সিদ্ধান্ত মানবেন না। আমরা বলেছি, নির্বাচন ছাড়া এমন কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। সর্বোপরি, আমাদের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে কোনও রাজনীতি চলবে না। আমি বলেছিলাম, ইউনিয়ন রুমে (Jadavpur University) এরকম স্লোগান লেখা থাকবে না, কারণ ইউনিয়ন হয়নি। তার পরেই ওরা আচমকা এসে আমাকে ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। আমার চশমা ছিটকে পড়ে। আমাকে সিনিয়ররা বাঁচাতে এলে তাঁরাও জখম হন।”

    বিরোধীদের অভিযোগ

    অর্ণবের আরও দাবি, ঘটনার প্রথম দিকে ৭০ থেকে ৮০ জনের জমায়েত হয়েছিল। পরে যখন মারধর শুরু হয়, তখন সেখানে প্রায় ২০ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে এবিভিপি। ঘটনাস্থলে বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের এই ছাত্র সংগঠন। অন্যদিকে, ফেটসুর সদস্য বৈদিক সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের একটা সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের একটি সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরকারী ঠিক করার জন্যই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রগোষ্ঠী বারবার উসকানিমূলক মন্তব্য করতে থাকে। তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং মারধর শুরু হয়।” বৈদিকের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কয়েকজন পড়ুয়াকেও মারধর করা হয়েছে। বাঁশ এবং গাছের মোটা ডাল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি তাঁর। তিনি জানান, কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছে তাঁর সংগঠন ফেটসু-ও (Left Student)।

    জেনারেল বডির বৈঠক কীভাবে?

    এই ঘটনার পাশাপাশি জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবিভিপির বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন থাকার কথা নয়। তাহলে কীভাবে জেনারেল বডির বৈঠক ডাকা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা। সংগঠনের প্রশ্ন, নির্বাচন না হলে ছাত্র ইউনিয়নের নামে কোনও বৈঠক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা থাকে কি (Jadavpur University)? ফেটসুর পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচন না হলেও ছাত্রদের সাংগঠনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তারা। তাদের বক্তব্য, ছাত্রদের সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর বুধবার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী চক্রবর্তী। জেনারেল বডির বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান এবং নকশাল-মাওবাদী রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।

    বিধায়কের বক্তব্য

    শর্বরী বলেন, “কোনও ইউনিয়ন নেই। তারপরেও কী করে জিবির বৈঠক ডাকা হয়েছে? কে ডেকেছে বৈঠক? আমি সৃজন ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞেস করছি, কে ডেকেছে জিবির বৈঠক (Left Student)?” যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “যাদবপুরকে নকশাল এবং দেশবিরোধী শক্তি, মাওবাদী দিয়ে আপনারা ভর্তি করে রাখবেন? কী ভেবেছেন, কী? এমনটা চলবে না। যাদবপুরে তো নয়ই।” ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম প্রকাশ্যে উল্লেখ করে তাঁদের পুলিশের কাছে হাজির করার দাবিও জানান শর্বরী। তাঁর বক্তব্য, “এক ঘণ্টার মধ্যে যদি যাদবপুর থানায় সারেন্ডার না করান… আমি কিন্তু যেখানে লুকিয়ে আছে, সেখান থেকে টেনে বের করব (Jadavpur University)।”

    থানায় বিক্ষোভ এবিভিপির

    এরপর ওই এলাকার বিজেপি কর্মী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সদস্যরা মিলে রাতে স্থানীয় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। এবিভিপির দাবি, তাঁদের বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। একইসঙ্গে তাদের দাবি, ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘দলিত প্রেমের কথা বলা বাম, অতিবাম ও দিমাগি নকশালরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁদের বলে দলিতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।’’ তাঁর দাবি, এবিভিপির ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। শুভব্রত জানান, বেশ কয়েকজনের নামে এফআইআর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে গণতান্ত্রিকভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’’ যদিও শর্বরীর অভিযোগ এবং এবিভিপির বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কোনও যোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে এসএফআই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআইয়ের শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজকের জিবি মিটিংয়ে এসএফআইয়ের কোনও ছাত্র উপস্থিত ছিলেন না। এই জিবি মিটিংটি ফেটসুর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এএফএসইউ এবং ডিএসএফের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।”

    ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ

    জেনারেল বডি বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও এবিভিপিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শুভদীপ। তিনি বলেন, “কেউ যদি দেশবিরোধী স্লোগান দিয়ে থাকে, তাহলে এবিভিপিকে বলব অভিযোগ না করে পুরো বিষয়টি উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাতে। তাঁরা নিজেরা কেন ব্যবস্থা নেবেন? পুরো বিষয়টি দেখার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের (Jadavpur University)।” অন্যদিকে, ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, বুধবার রাতের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ, ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপ এবং জেনারেল বডি বৈঠকের বৈধতা নিয়েও কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    সব মিলিয়ে, জেনারেল বডির বৈঠক ঘিরে বুধবার রাতের সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বৈঠকের বৈধতা এবং ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে হামলা এবং পাল্টা হামলা এবং উসকানির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন, তা স্পষ্ট করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই (Left Student) পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বৃহস্পতিবারের প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরেও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (Jadavpur University)।

     

LinkedIn
Share