Tag: Financial Action Task Force

  • FATF: সন্ত্রাসে অর্থ জোগান রুখতে ভারতের হাতে বড় শক্তি, বিশ্ব নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদে বিবেক আগরওয়াল

    FATF: সন্ত্রাসে অর্থ জোগান রুখতে ভারতের হাতে বড় শক্তি, বিশ্ব নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদে বিবেক আগরওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের শীর্ষ আর্থিক নজরদারি সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (Financial Action Task Force/ FATF)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল (Vivek Aggarwal)। এই প্রথম ভারত থেকে কেউ এই পদে অধিষ্ঠিত হল। এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান ও মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেল ভারত। এই নিয়োগকে ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কে এই বিবেক আগরওয়াল

    বিবেক আগরওয়াল মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তিনি অতীতে এফএটিএফ-এ ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (FIU)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বিবেক। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত করা এবং মানি লন্ডারিং রোধে এফআইইউ দেশের প্রধান সংস্থা।২০২৪ সালে যখন ভারতের সর্বশেষ পারস্পরিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, তখন তিনি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি

    সরকারি সূত্রের মতে, আগরওয়ালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, মানি লন্ডারিং এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পক্ষে সওয়াল করে আসছে এবং এফএটিএফ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে এসেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগরওয়ালের নির্বাচনকে ভারতের জন্য একটি “বড় জয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, এই নেতৃত্বের ভূমিকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী অর্থায়ন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের নিরলস প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে। তিনি বলেন, “ভারত যেহেতু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা নীতি অব্যাহত রেখেছে, এই নেতৃত্বের ভূমিকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী অর্থায়ন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই এবং অবৈধ আর্থিক ব্যবস্থাগুলো ভেঙে ফেলার ওপর আমাদের নিরলস মনোযোগকে আরও জোরদার করে”। জয়সওয়াল বলেছেন, ভারতীয় এফএটিএফ প্রতিনিধিদলের প্রাক্তন প্রধান হিসেবে আগরওয়ালের ‘গভীর দক্ষতা’ আর্থিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির ম্যান্ডেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    ঐতিহাসিক নিয়োগ

    কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক এই নিয়োগটিকে একটি “ঐতিহাসিক” নিয়োগ বলে অভিহিত করেছে। এটি ২০০টিরও বেশি অধিক্ষেত্রে ভারতের অর্জিত বিপুল আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতারই প্রতিফলন, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ও ভার্চুয়াল অ্যাসেটের মতো উদীয়মান ঝুঁকি বিষয়ে বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে দেশটির সক্রিয় ভূমিকাকে তুলে ধরে। এই অর্জন ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক অখণ্ডতার প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। অর্থ মন্ত্রক এই ঘটনাটিকে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের একটি “ঐতিহাসিক স্বীকৃতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

    এফএটিএফ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এফএটিএফ (FATF) হলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সদস্য দেশগুলির আইন ও ব্যবস্থার মূল্যায়ন করে সংস্থাটি। পাশাপাশি, যারা আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হয়, তাদের ‘গ্রে লিস্ট’ বা ‘ব্ল্যাক লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেক আগরওয়াল এফএটিএফ (FATF)-এর নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে।

    বিবেকের প্রতিক্রিয়া

    নিয়োগের পর এক বিবৃতিতে বিবেক আগরওয়াল বলেছেন যে, “এই নিয়োগটি ভারতের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আমাদের অর্থ পাচার বিরোধী ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বিরোধী শক্তিশালী কাঠামোর স্বীকৃতি। এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাখতে এফএটিএফ গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।”

    ভারতের প্রশংসা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এফএটিএফ (FATF) তাদের “Asset Recovery Guidance and Best Practices” প্রতিবেদনে ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিল। সংস্থাটি এনফোর্সমেনট ডিরেক্টরেট (ED)-কে অপরাধ ও মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নির্দেশিকা সংক্রান্ত এফএটিএফ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে অপরাধ এবং আর্থিক নয়ছয়ের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি কার্যকর ভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে ভারতের যে আইনি বিধান রয়েছে, তারও প্রশংসা করেছে এফএটিএফ। এ ছাড়াও, তারা জানিয়েছে, ইডির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নীল নকশা অনেক বেশি গোছানো, প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধ। এফএটিএফ ভারতের আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের প্রশংসা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, এই সংক্রান্ত বিধান কোনও অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই অপরাধে যুক্ত অর্থ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ‘সবুজ সঙ্কেত’ দেয়। ভারতের বিভিন্ন কার্যকর তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের মধ্যে যে সমন্বয় করে কাজ করে, তা যথেষ্ট প্রশংনীয়। এই সমন্বয়ের কথা বলতে গিয়ে এফএটিএফ সিবিআই, ইডি এবং ভারতের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (এফআইউ-আইএনডি) উল্লেখ করেছে। আর্থিক অপরাধ শুধু খুঁজে বার করা নয়, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং বিচারব্যবস্থাকে একত্রীভূত করাকে ‘মডেল’ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    কড়া নজরে পাকিস্তান

    বিশ্বের কোনও দেশের আর্থিক মদতে সন্ত্রাস বা জঙ্গি কার্যকলাপ হচ্ছে কি না, তার উপর কড়া নজর রাখে এফএটিএফ। তাদের রিপোর্ট সব সময়ই গুরুত্ব পায়। কোনও দেশকে আর্থিক সাহায্য বা ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে এফএটিএফ-এর মতামত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন ধরে ধূসর তালিকাভুক্ত করে রেখেছিল এফএটিএফ। ২০২২ সালে ওই তালিকা থেকে মুক্ত করা হয় পাকিস্তানকে। তার পরেও এই সংক্রান্ত নজরদারি থেকে তারা মুক্ত নয় বলে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে এফএটিএফ।

  • Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    Terror Outfits: কাশ্মীরে কৌশল বদলাচ্ছে আইএসআই, জঙ্গিদের ভিড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ভারতের রাজনীতিতে! সতর্ক করলেন গোয়েন্দারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশল বদলানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপের তদন্ত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিরন্তর অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে জম্মু-কাশ্মীরে তাদের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার (OGW) নেটওয়ার্ককে মূলধারার জাতীয় রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে মিশে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান আধিকারিকরা।

    আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা (Terror Outfits)

    আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF)-এর নজরদারিতে রয়েছে পাকিস্তান। সেই কারণেও আইএসআইয়ের কৌশল পরিবর্তনের চেষ্টা। এরই অংশ হিসেবে তারা নয়ের দশকের শুরুতে স্থানীয়ভাবে গঠিত এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সক্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গি কার্যকলাপগুলির ‘ভারতীয়করণে’র রূপ দিতে এবং পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ মদত দেওয়ার বিষয়টিকে আড়াল করতেই এই পন্থা অবলম্বন করছে পাক-চর সংস্থা।

    জেরায় কী জানিয়েছে জঙ্গিরা?

    কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার আধিকারিকদের মতে, সম্প্রতি শ্রীনগর পুলিশ পাকড়াও করেছে কয়েকজন ওজিডব্লিউকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিল। জঙ্গি সংগঠনগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সহায়তা, নিয়োগ এবং অর্থায়নকারী সমর্থকদের বৈধ রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ভিড়িয়ে দিয়ে আইএসআই তাদের এজেন্টদের নিরাপত্তা অভিযানের হাত থেকে রক্ষা করতে চাইছে।

    জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আধিকারিক জানান, এই কৌশলটি মূলত হতাশা থেকে নেওয়া। কারণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবল চাপে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির কোমর ভেঙে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে নয়া প্রক্সি সংগঠনগুলির প্রতি স্থানীয়দের সমর্থনও। পুরানো সংগঠনগুলির নাম পুনরুজ্জীবিত করে এবং তাদের কর্মীদের মূলধারার রাজনীতির স্রোতে মিশিয়ে দিয়ে নতুন প্রজন্মের যুবকদের আকৃষ্ট করতে এবং একই সঙ্গে তাদের কর্মীদের রাজনৈতিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে চাইছে আইএসআই। আধিকারিকদের মতে, যখন কোনও ওজিডব্লিউ ঘেরাও এবং তল্লাশি অভিযানে ধরা পড়ে, তখন তারা অনেক সময় জাতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সদস্যপদের ‘প্রমাণপত্র’ দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে।

    জঙ্গিদের ছল

    নিরাপত্তা আধিকারিকরা লক্ষ্য করেছেন, জঙ্গিদের এই কৌশল বদলেছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। নয়ের দশকের শেষ দিকে সন্দেহভাজনরা পুলিশের হাত এড়াতে ভোটারকার্ড ব্যবহার করত। পরে তদন্ত এড়াতে তারা আধার কার্ডও ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে। যদিও তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কখনও এই ধরনের লোকজনকে রক্ষা করতে হস্তক্ষেপ করেনি। এদিকে, ওজিডব্লিউ কার্যকলাপের মাধ্যমে ১৯৯৩ সালের পর প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিছু সংগঠনকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা করতেও দেখা যাচ্ছে।

    আইএসআইয়ের কৌশল

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বর্তমানে ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে জম্মু- কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত পুরোনো সংগঠনগুলির নাম ফের সামনে আসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই সব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে আল-উমর মুজাহিদিন, আল বদর, এবং তেহরিক-উল-মুজাহিদিনও। আধিকারিকদের মতে, এই পুরোনো স্থানীয় পরিচয়ের সংগঠনগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে আইএসআই এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি করতে চায় যে জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গি কার্যকলাপ একটি অভ্যন্তরীণ এবং স্থানীয় আন্দোলন, সীমান্তপারের পরিকল্পিত ছায়াযুদ্ধ নয়।

    বহাল তবিয়তে রয়েছে জঙ্গিদের মাথারা

    তাঁরা এও জানান, পুনরুজ্জীবিত এই সব সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নিরাপদে রয়েছে। যদিও তারা ফিল্ড লেভেলের নেটওয়ার্ক প্রচার, অর্থ জোগাড় এবং উগ্রপন্থায় প্ররোচনা দেওয়ার কাজে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জঙ্গিদের এসব তৎপরতার ওপর কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফের সক্রিয় হওয়া ওজিডব্লিউ নেটওয়ার্কের লজিস্টিক সহায়তা ব্যবস্থাকে নিষ্ক্রিয় করার কাজ করছে। একই সঙ্গে, জঙ্গিদের সমর্থকদের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে উগ্র মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও প্রতিরোধ করা হচ্ছে। অর্জিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানান গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কর্তারা।

     

  • PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামাম বিশ্বে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দ্বিতীয়বারের জন্য ইজরায়েলে যাচ্ছেন তিনি। তার আগে ইজরায়েলের সংবাদপত্র ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট  ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে একটি বিশেষ প্রথম পৃষ্ঠা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পত্রিকার সম্পাদক-ইন-চিফ জিভিকা ক্লাইন ২৪ ফেব্রুয়ারি এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়টি জানান।

    পত্রিকার সম্পাদকের আবেদন (PM Modi)

    তিনি লিখেছেন, “আগামীকালের পত্রিকা আমরা জেরুজালেমে মুদ্রণের জন্য পাঠিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর উপলক্ষে—২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম সফর। এই উপলক্ষে এটি আমাদের বিশেষ @জেরুজালেম পোস্ট কভার। আপনাদের কী মনে হয়?” প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পাঠকদের আহ্বানও জানান তিনি। বুধবার ভারতীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পৌঁছবেন ইজরায়েলে। ২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম ইজরায়েল সফর। সফরকালে তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি ইজরায়েলের সংসদ ‘কনেসেট’-এ ভাষণও দেবেন, যা হবে সেখানে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতামত বিনিময় হবে।” ইজরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু পর গাজার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সফরের আগে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় গোয়েন্দা ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই দেশ।

    মঙ্গলবার উভয় দেশ জোর দিয়ে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় “টেকসই ও সর্বাঙ্গীণ পদ্ধতিতে” সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। ভারত-ইজরায়েল যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা মজবুত করার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করেছে দুই পক্ষ।” তেল আভিভাবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত বিদায়ী বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ককে একটি দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।

     

LinkedIn
Share