Tag: Finland President

  • Finnish President: “বৈশ্বিক শক্তির গতিপথ দ্রুত সরে যাচ্ছে নয়াদিল্লির দিকে”, বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

    Finnish President: “বৈশ্বিক শক্তির গতিপথ দ্রুত সরে যাচ্ছে নয়াদিল্লির দিকে”, বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বৈশ্বিক শক্তির গতিপথ দ্রুত সরে যাচ্ছে নয়াদিল্লির (New Delhi) দিকে।” কথাগুলি বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট (Finnish President) অ্যালেকজান্ডার স্টাব। ভারতের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। তাঁর যুক্তি, ভারতের জনসংখ্যাগত ও অর্থনৈতিক শক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টাব আগামী দশক সম্পর্কে একটি পূর্বাভাস দেন। তিনি বলেন, “প্রথমত, আমি মনে করি ভবিষ্যৎটা ভারতেরই। আমি এখন ভারতে আছি, তা-ই বলছি, কিংবা কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানোর জন্য বলছি, তা নয়। আমার মতে জনসংখ্যা, অর্থনীতি এবং ইতিহাস—সবই ভারতের পক্ষে কথা বলছে।”

    মোদি-স্টাব বৈঠক (Finnish President)

    রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করেন স্টাব। পরে তিনি এই বৈঠককে অসাধারণ বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে এটি ফিনল্যান্ড ও ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন,
    “এটি সত্যিই চমৎকার। আমি খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তিন ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি। এরপর রাইসিনা ডায়ালগে ভাষণ দিয়েছি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।” ২০১৩ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন স্টাব। সেই বারের সফরের কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন ভারতের দ্রুত উন্নয়নের কথাও। তিনি বলেন, “আমি শেষবার এখানে এসেছিলাম ২০১৩ সালে। এখন উন্নয়ন, পরিকাঠামো, রাস্তা এবং ভবনগুলি দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। ভারতে ফিরে আসতে সব সময়ই ভালো লাগে (Finnish President)।”

    চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সদ্য স্বাক্ষরিত মউয়ের পারস্পরিক সুবিধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি এই মউগুলি স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে শ্রমিক বিনিময় আরও ভালো হবে। এটি দুই দিক থেকেই লাভজনক হবে (New Delhi)।” মুম্বই সফরের সময় প্রেসিডেন্ট স্টাব ২৬/১১ জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে তাজ প্যালেস হোটেলে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ সর্বত্রই একটি বড় হুমকি। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের হামলাগুলি ছিল ভয়াবহ। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার পক্ষে বড় সম্মানের (New Delhi)।” পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন যে বর্তমান বিশ্ব পরিবর্তনের সময় পার করছে এবং পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন (Finnish President)।

    বিশ্বব্যবস্থা সময়ে সময়ে বদলায়

    তিনি বলেন, “বিশ্বব্যবস্থা সময়ে সময়ে বদলায় এবং এখন আমরা সেই পরিবর্তনের সময় দেখছি। আমি চাই এটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে হোক, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ম ও মানদণ্ডের মাধ্যমে, কেবল বহুমেরু ক্ষমতার লড়াই নয়, যেখানে কেবল স্বার্থ, চুক্তি ও লেনদেন প্রাধান্য পায়। বাস্তবে হয়তো এর মাঝামাঝি কিছু একটা ঘটবে।” ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমী দেশগুলিকে ভারতের নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত নেতৃত্ব দিচ্ছে। এতে আমি আনন্দিত। আমার পশ্চিমী বন্ধুদের বলছি, যদি আমরা বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে চাই, তাহলে আজকের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার টেবিলে যথাযথ ক্ষমতা ও জায়গা দিতে হবে (Finnish President)।”

    ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করবে ভারত

    তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির উচিত ১৯৪৫ সালের যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার বদলে বর্তমান সময়ের প্রতিফলন করা। আমরা ১৯৪৫ সালের পৃথিবীতে বাস করছি না, তাই প্রতিষ্ঠানগুলিতেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন হওয়া উচিত নয়। এগুলিকে ২০২৬ সালের পৃথিবীকে প্রতিফলিত করতে হবে। তাই আমি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের আহ্বান জানিয়েছি (New Delhi)।” নিজের গবেষণার প্রসঙ্গ তুলে স্টাব বলেন, “আন্তর্জাতিক সমাজের ভবিষ্যতের জন্য ভারতের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়টি নিয়ে ‘দ্য ট্রায়াঙ্গল অফ পাওয়ার’ (The Triangle of Power) নামে একটি বই লিখেছি। সেখানে আমি দেখিয়েছি যে গ্লোবাল সাউথ ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করবে, এবং তার নেতৃত্ব দেবে ভারত (Finnish President)।”

     

  • India US Relation: ভারতের সঙ্গে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা মার্কিন মুলুকে, কী বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট?

    India US Relation: ভারতের সঙ্গে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা মার্কিন মুলুকে, কী বললেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রাম্প জমানায় মার্কিন বিদেশনীতির কড়া সমালোচনা করলেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব। রাজধানী হেলসিঙ্কিতে একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপ এবং আমেরিকাকে গ্লোবাল সাউথ এবং ভারতের প্রতি সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নইলে আমরা হেরে যাব।’’ পরাজয় কোন দিক থেকে আসবে, তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি আলেকজান্ডার। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, স্টাবের এই মন্তব্যের সময় তাঁর পাশে ছিলেন লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গীতানাস নৌসেদা। ভারতের সঙ্গে ট্রাম্পের আচরণের (India US Relation) সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা রো খান্না। প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) জেক সুলিভানও ট্রাম্পের ভারতের উপর আরোপিত শুল্কনীতি এবং একতরফা ভূ-রাজনৈতিক আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

    ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ স্টাবের আশঙ্কা

    চলতি বছরের ৩১ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চিনের তিয়ানজিনে চলা ‘সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ বা এসসিওর বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (India US Relation)। সেখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, মোদিকে নিজের গাড়িতে করে হোটেলে নিয়ে যান পুতিন। সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নয়াদিল্লি ও ক্রেমলিনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়ায় বসে একাধিক পশ্চিমি দেশ। গত ২৭ অগাস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ করে শুল্ক ধার্য করেছে ট্রাম্পের আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, নয়াদিল্লি অবিলম্বে রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত খনিজ তেল ‘উরাল ক্রুড’ কেনা বন্ধ না করলে নিষেধাজ্ঞার অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। যদিও এই হুমকির কাছে মাথা নোয়াতে নারাজ মোদি সরকার। কেন্দ্রের সাফ যুক্তি, জাতীয় স্বার্থে মস্কোর থেকে সস্তা দরে ‘তরল সোনা’ আমদানি করা হচ্ছে, যা কোনও অবস্থাতেই বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়। ভারতীয় পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কের অঙ্ক বৃদ্ধি করতেই বিকল্প বাজারের সন্ধানে কোমর বেঁধে লেগে পড়ে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে সাত বছর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির চিন সফরের দিকে তাকিয়েছিল গোটা বিশ্ব। সেখানে শি এবং পুতিনের সঙ্গে তাঁকে খোশগল্প করতে দেখে প্রমাদ গুনেছে ফিনল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মতো রুশ সীমান্ত লাগোয়া পূর্ব ইউরোপের একাধিক দেশ। মস্কোর দিকে নয়াদিল্লির এ ভাবে ঝুঁকে পড়ার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়ী করছে তারা। ফিনল্যান্ড প্রেসিডেন্ট স্টাবের কথায়, ‘‘চিনের বৈঠকে কী হয়েছে সেটা আমরা সবাই দেখেছি। পশ্চিম ইউরোপ কিন্তু যথেষ্ট ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভারতের মতো উদীয়মান শক্তির সঙ্গে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে সমূহ বিপদ। আমাদের পুরনো ব্যবস্থার কথা মাথায় রাখতে হবে।’’

    স্টাবস-ট্রাম্প ঘনিষ্ঠতা

    স্টাবস নেহাতই কোনও দেশের প্রেসিডেন্ট নন, তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা আছে। একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়, সারা বিশ্বে যে কয়েকজন পশ্চিমী রাষ্ট্রনেতার (বিরল তালিকা) কথায় পাত্তা দেন ট্রাম্প, তাঁদের মধ্যে আছেন ফিনল্যান্ড প্রেসিডেন্ট। এমনকী ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউক্রেনের যে আলোচনা চলছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে ফিনল্যান্ড। শুধু তাই নয়, গত মার্চে ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসর্টে ট্রাম্পের সঙ্গে সাত ঘণ্টা গলফ খেলেছিলেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট।

    নোবেল না পাওয়াতেই ভারতকে শাস্তি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেসম্যান রো খান্না এক্স-এ এক পোস্টে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন না করায়, ট্রাম্প ভারতের উপর ৫০% শুল্ক বসিয়েছেন, যা চিনের উপর আরোপিত শুল্কের থেকেও কঠোর।” তিনি অভিযোগ করেন, “ট্রাম্প নিজের স্বার্থে তিন দশকের মার্কিন-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্ব ধ্বংস করছেন। এটা শুধু ভারতের রফতানি খাতকে নয়, মার্কিন নির্মাতা ও আমেরিকার অর্থনীতিকেও বিপর্যস্ত করছে।”

    পাকিস্তানে পারিবারিক ব্যবসার স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে ভাঙন

    আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানও ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেন, “ট্রাম্প নিজের পরিবারের ব্যবসা রক্ষা করতে পাকিস্তানের সঙ্গে আঁতাত করেছেন এবং ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক নষ্ট করেছেন।” তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে দ্বিদলীয় সমর্থনে ভারতের সঙ্গে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই সম্পর্ক প্রযুক্তি, প্রতিভা, অর্থনীতি ও চিন মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প সব কিছু এক লহমায় নষ্ট করে দিয়েছেন।” সুলিভান আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল ইঙ্ক (World Liberty Financial Inc বা WLFI) পাকিস্তানের ক্রিপ্টো কাউন্সিলের (PCC) সঙ্গে একাধিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। আমেরিকান অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উলফ, জেফরি স্যাকস ও প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত নিক্কি হ্যালিও ট্রাম্পের ভারতের উপর শুল্কনীতি ও একতরফা আচরণকে “কৌশলগত ভুল”, “আত্মঘাতী পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেছেন।

LinkedIn
Share