Tag: Fish Import

  • Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ইলিশ (Hilsa) বাণিজ্যের চেনা ছবিটাই যেন বদলে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারত যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছিল, তার চার গুণেরও বেশি ইলিশ এবার বাংলাদেশে রফতানি করতে চলেছে ভারত। চলতি বছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬৫০ থেকে ৭০০ টন পর্যন্ত ইলিশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গত দু’মাসে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকেই এই রফতানি শুরু হয়েছে।

    অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে (Hilsa)

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে। সেগুলি ভারুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু ইলিশ আবার হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে। প্রায় সমস্ত রফতানিই করেছেন হাওড়ার ব্যবসায়ীরা।

    হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সম্পাদক সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার বলেন, “আমরা সাধারণত বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পার্শে ও ট্যাংরা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ রফতানি করি। সেখানে ইলিশের জোগান কম থাকায় এই প্রথম ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছি। গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসার পর তার কিছুটা বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশের বাজারে সেই ইলিশ ভালো সাড়া পায়। পরে আরও ইলিশ রফতানি শুরু করি। এখনও পর্যন্ত ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করেছি। দু’দিন আগে গুজরাটে আরও ৫০০ টন ইলিশের বড়সড় জোগান এসেছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন বাংলাদেশে পাঠাব আশা করছি।”

    গুজরাটের ইলিশে ডিম বা মাছের ডিমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কলকাতায় এই ইলিশের চাহিদা সীমিত। তবে এই বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে গুজরাতের ইলিশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে এই ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে তা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রফতানি করা হয়। ওই দেশগুলিতে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন।

    কী বলছেন বাংলাদেশের আমদানিকারী 

    বাংলাদেশের এক আমদানিকারী বলেন, “ইলিশের ডিম বের করে নেওয়ার পর মাছের মাংস শুকিয়ে নুন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। তাজা ইলিশের মতো করে এই মাছ খাওয়া হয় না।”

    পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কিলোগ্রামের মধ্যে। গুণমানের উপর নির্ভর করে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে রয়েছে (Hilsa)।

    পেট্রাপোল ছাড়পত্রকর্মী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “মাছগুলির প্রয়োজনীয় খাদ্যমান পরীক্ষা করা হয়। প্রাণী কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া হয়। পণ্য পাঠানোর আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়।”

    ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা প্রদীপ দে-র মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের ইলিশের উৎপাদন, প্রাপ্যতা এবং ক্রেতাদের চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের প্রতিফলন এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

    প্রদীপ বলেন, “ইলিশের বিপরীতমুখী বাণিজ্যপ্রবাহ দেখাচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে মাছের পর্যাপ্ত জোগান, গুণমান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে ভারত প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসতে পারে।”

    পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবি

    এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের রফতানি চললেও বাংলাদেশ থেকে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মাছ আমদানিকারী সমিতির সম্পাদক ও সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান এবং ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে রফতানির বিষয়টি তুলে ধরেন তাঁরা।

    মকসুদ বলেন, “আমরা রফতানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তবে (Bangladesh) কোনও সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাইনি। কারণ নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দ করা ইলিশের (Hilsa) সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছতে পারে।”

     

LinkedIn
Share