Tag: Food Labelling

  • FSSAI: প্যাকেটজাত খাবারে এবার লাল ষড়ভুজ সতর্কবার্তা! অতিরিক্ত চিনি, নুন ও চর্বিতে নজর এফএসএসএআই-এর

    FSSAI: প্যাকেটজাত খাবারে এবার লাল ষড়ভুজ সতর্কবার্তা! অতিরিক্ত চিনি, নুন ও চর্বিতে নজর এফএসএসএআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নোনতা, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে এবার আরও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিতে চলেছে ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্যাকেটের সামনের দিকে বড় করে লাল রঙের ষড়ভুজ চিহ্ন (Red Hexagon Labels) বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ। কোনও খাবারে অতিরিক্ত চিনি, চর্বি ও নুনের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে ক্রেতাদের সতর্ক করতেই এই উদ্যোগ।

    এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাব (FSSAI)

    ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ বা এফএসএসএআইয়ের (FSSAI) এই প্রস্তাব এসেছে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে বিভিন্ন জীবনযাপনজনিত রোগের সম্পর্ক নিয়ে আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। অতিরিক্ত নুন, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি খাওয়ার ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে—আবেদনে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এফএসএসএআই জানিয়েছে, খাবারের প্যাকেটের সামনের দিকে ‘যোগ করা চিনি’, ‘যোগ করা চর্বি’ এবং ‘নুনে’র মাত্রা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। সংস্থার লক্ষ্য, কোনও খাবারে উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি থাকলে ক্রেতাদের জন্য একটি “সহজ, স্পষ্ট এবং সহজে বোঝা যায় এমন সতর্কবার্তা” দেওয়া।

    লাল রঙের ষড়ভুজ সতর্কচিহ্ন

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায়, প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে অন্তত দু’টির মাত্রা বেশি থাকলে সংশ্লিষ্ট খাবারের প্যাকেটে লাল রঙের ষড়ভুজ সতর্কচিহ্ন দেওয়া হবে।পুষ্টি উপাদান অনুযায়ী সতর্কবার্তায় লেখা থাকতে পারে “অতিরিক্ত চর্বি”, “অতিরিক্ত চিনি” অথবা “অতিরিক্ত নুন”। নির্দিষ্ট কিছু পানীয়ের ক্ষেত্রে আলাদা করে “অত্যধিক মিষ্টিযুক্ত পানীয়” লেখা সতর্কবার্তাও ব্যবহার করা হতে পারে। শুধু প্যাকেটের পিছনে থাকা বিস্তারিত পুষ্টিগুণের তালিকার উপর নির্ভর না করে যাতে কেনার আগেই ক্রেতার নজরে সতর্কবার্তা আসে, সে জন্য সামনের দিকের এই লেখাগুলি পিছনের পুষ্টি-তথ্য প্যানেলের তুলনায় বড় অক্ষরে ছাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে এফএসএসএআই।

    কোন খাবারে নাও থাকতে পারে সতর্কবার্তা?

    প্রস্তাবিত নিয়ম সব ধরনের খাবারের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। একক উপাদানে তৈরি খাবার এবং স্বাভাবিকভাবেই চর্বি, চিনি বা নুনের মাত্রা বেশি এমন কিছু খাবারকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এর মধ্যে ঘি, ভোজ্য তেল, নুন, চিনি, গুড় এবং মধুর মতো খাবার থাকতে পারে। তবে বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা ও প্যাকেটের গায়ে তথ্য দেওয়ার নিয়মের অন্যান্য শর্ত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।

    ধাপে ধাপে চালু হতে পারে নতুন ব্যবস্থা

    একসঙ্গে সমস্ত প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর না করে ধাপে ধাপে সতর্কবার্তা চালুর সুপারিশ করেছে এফএসএসএআই (FSSAI)।

    প্রথম পর্যায়ে এমন খাবারকে আওতায় আনা হবে, যেগুলিতে নির্ধারিত দুই বা তার বেশি পুষ্টি উপাদান—যোগ করা চর্বি, যোগ করা চিনি এবং নুন—নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি রয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের মিষ্টিযুক্ত পানীয়ও এই পর্যায়ের আওতায় থাকবে।

    দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়ম আরও বিস্তৃত করা হবে। তখন নির্ধারিত পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে যে কোনও একটির মাত্রা বেশি থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাবারের প্যাকেটে সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    এফএসএসএআইয়ের মতে, ধাপে ধাপে ব্যবস্থা চালু হলে ক্রেতারা নতুন সতর্কচিহ্নের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় পাবেন। একইসঙ্গে প্রয়োজনে খাবারের উপাদান ও প্রস্তুতপ্রণালী পরিবর্তন করে পণ্য নতুনভাবে তৈরি করার জন্য খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও পর্যাপ্ত সময় পাবে।

    ২০২৪ সালের খাদ্য নির্দেশিকার ভিত্তিতে সীমা নির্ধারণ

    এফএসএসএআই যে পুষ্টি-সীমার প্রস্তাব করেছে, তা ২০২৪ সালের ভারতীয়দের জন্য খাদ্য নির্দেশিকার ভিত্তিতে তৈরি। এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ এবং জাতীয় পুষ্টি সংস্থা।

    প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে কোনও খাবারে চর্বি, চিনি এবং বা নুনের মাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে এবং চিহ্নিত পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে অন্তত দু’টির মাত্রা বেশি হলে সেটিকে সতর্কবার্তা দেওয়ার আওতায় আনা হবে (FSSAI)।

    এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের খাদ্যপণ্যের গায়ে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতদিন প্যাকেটের পিছনে থাকা বিস্তারিত পুষ্টি-তথ্য দেখে ক্রেতাকে নিজেই খাবারের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বুঝতে হত (Red Hexagon Labels)। নতুন ব্যবস্থায় প্যাকেটের সামনেই বড় ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকবে, ফলে খাবার কেনার আগেই অতিরিক্ত চিনি, নুন বা চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে (FSSAI) সহজে জানতে পারবেন ক্রেতারা।

     

LinkedIn
Share