Tag: Foreign Women Abduction Pakistan

  • Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি মুহাম্মদ রেজা দারকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আরও চার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, গণধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    কী অভিযোগ উঠেছে?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুন লাহোরে নেদারল্যান্ডস এবং ভেনেজুয়েলার দুই তরুণীকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে। শুধু তাই নয়, তাঁদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তির জন্য ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে দুই নারীকে হত্যা করা হবে এবং তাঁদের শরীরের অঙ্গ বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

    কীভাবে উদ্ধার হলেন দুই বিদেশিনী?

    পুলিশের দাবি, বন্দিদশায় থাকা অবস্থায় এক নারী কোনওভাবে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি নেদারল্যান্ডস থেকে জরুরি ভিত্তিতে লাহোর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুই বিদেশিনীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার পর নির্যাতিতারা অভিযোগ করেন, লাহোরে পৌঁছানোর পরই রেজা দার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁদের ওপর গণধর্ষণ চালানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

    গ্রেফতার চার, পলাতক এক

    এই ঘটনায় লাহোর পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন— মহম্মদ রেজা দার, হাসান রেজা, সিকান্দার খান, ও সাজিদ আলি। অন্য এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আদালত ধৃত চার অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

    কীভাবে পরিচয় হয়েছিল?

    নির্যাতিতাদের বয়ান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে তাঁদের সঙ্গে রেজা দারের পরিচয় হয়। তাঁরা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়িক উদ্যোগে অংশীদার ছিলেন। পরে রেজা দার তাঁদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই তাঁরা লাহোরে যান বলে অভিযোগ।

    গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ

    দুই বিদেশিনী আরও অভিযোগ করেছেন, নির্যাতনের সময় তাঁদের গোপনে ভিডিও করা হয়। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। আদালত সূত্রের দাবি, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অভিযুক্তদের হাজির করা হলে নির্যাতিতারা সরাসরি রেজা দারকেই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    সংবেদনশীল মামলায় পুলিশের বক্তব্য

    এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, যেহেতু পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মামলায় অভিযুক্ত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

    নাটকীয় মোড়, থানার ওসি-সহ তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    এদিকে, ঘটনার একদিন পর মামলাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ, এই মামলার তদন্ত ও প্রাথমিক এফআইআর নথিভুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাহোরের ডিফেন্স সি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ফারিয়াদ আশরাফ-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে আরও দুই পুলিশকর্মীর সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই পদক্ষেপের নির্দেশ পাঞ্জাব পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দফতর থেকে জারি করা হয় এবং এর পেছনে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কার্যালয়ের নির্দেশও ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। তবে এই পুলিশি পদক্ষেপের কারণ সম্পর্কে এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

LinkedIn
Share