Tag: Form 15CB

  • Income Tax Department: বিদেশে বিপুল অর্থ পাঠিয়েও নামমাত্র লেনদেন, ৩৯৪ সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর দফতরের যাচাই অভিযান

    Income Tax Department: বিদেশে বিপুল অর্থ পাঠিয়েও নামমাত্র লেনদেন, ৩৯৪ সংস্থার বিরুদ্ধে আয়কর দফতরের যাচাই অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামমাত্র বা কোনও ব্যবসায়িক লেনদেন না দেখিয়েও, গত তিন বছরে বিদেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর অভিযোগে একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিস্তারিত যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করল আয়কর দফতর (Income Tax Department)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন বেশ কিছু সংস্থার হদিশ মিলেছে, যাদের ঘোষিত ব্যবসার পরিমাণের সঙ্গে বিদেশে পাঠানো অর্থের চোখে পড়ার মতো কোনও সামঞ্জস্য নেই। ফিল্ড লেভেলের গোয়েন্দা তথ্য এবং বিদেশে পাঠানো অর্থ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেই খবর (Remittances)।

    আয়কর দফতরের তৎপরতার সূত্রপাত (Income Tax Department)

    আয়কর দফতরের এই পদক্ষেপের সূত্রপাত একটি ভুয়ো দাতব্য ট্রাস্টের গোষ্ঠীকে ঘিরে তল্লাশি অভিযান থেকে। অভিযোগ, ওই ট্রাস্টগুলির মাধ্যমে ভুয়ো অনুদান ও চাঁদার বিনিময়ে হিসাবের খাতায় সাজানো লেনদেন দেখানো হত। তল্লাশি অভিযানের পর তদন্তকারীদের নজরে আসে আরও বিস্তৃত একটি নেটওয়ার্ক, যার সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর মতো সন্দেহজনক লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে অর্থ পাঠানো সংস্থাগুলির একটি অংশ হয় আয়কর রিটার্নই জমা দেয়নি, নয়তো খুব সামান্য ব্যবসায়িক লেনদেন দেখিয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছে। অথচ সেই সংস্থাগুলির মাধ্যমেই বিদেশে পাঠানো হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ঘোষিত ব্যবসার পরিমাণ এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    সন্দেহ যেখানে যেখানে

    শুধু অর্থের পরিমাণই নয়, বিদেশে টাকা পাঠানোর যে কারণগুলি দেখানো হয়েছিল, সেগুলিও তদন্তকারীদের সন্দেহের কারণ হয়ে উঠেছে। পণ্য পরিবহণের খরচ, সফটওয়্যার আমদানি এবং পরামর্শ পরিষেবার মূল্য মেটানোর মতো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেই লেনদেনগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যকলাপের সামঞ্জস্যও স্পষ্ট হয়নি। ফিল্ড লেভেলের আরও কিছু তথ্য আয়কর দফতরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্তকারীদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির অনেকগুলিই তাদের নথিতে যে ঠিকানা উল্লেখ করেছিল, বাস্তবে সেখানে তাদের কোনও কার্যক্রম ছিল না। অর্থাৎ কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও, বাস্তবে সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

    তথ্য বিশ্লেষণের সময় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, তুলনামূলকভাবে অল্প সংখ্যক পেশাজীবীর কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র জারি করা হয়েছে। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো অর্থের প্রাপক হিসেবেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সংস্থার নাম বারবার উঠে এসেছে। ফলে অর্থের উৎস, প্রেরক সংস্থা, শংসাপত্র প্রদানকারী পেশাজীবী এবং বিদেশি প্রাপকদের মধ্যে কোনও সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Income Tax Department)। বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬২ সালের আয়কর বিধির ৩৭বিবি নিয়মের সঙ্গে পাঠযোগ্য ১৫সিবি ফর্মের বিধান অনুযায়ী, বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষককে হিসাবের খাতা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথির ভিত্তিতে ওই অর্থের উপর কর প্রযোজ্য কি না, তা যাচাই করতে হয়। ২০২৬ সালের আয়কর বিধিতে এর সমতুল্য ব্যবস্থা রয়েছে ২২০ নম্বর নিয়মের সঙ্গে পাঠযোগ্য ১৪৬ নম্বর ফর্মে।

    দেশজুড়ে যাচাই অভিযান

    এই নিয়মের প্রেক্ষিতে তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষক কিংবা পেশাজীবীরা শংসাপত্র দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় মাত্রায় যাচাই-বাছাই এবং সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন কি না। কারণ, বিদেশে পাঠানো অর্থের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বাস্তবতা এবং কর সংক্রান্ত দায় সম্পর্কে যথাযথ পরীক্ষা না করে শংসাপত্র দেওয়া হয়ে থাকলে তা আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে (Remittances)। ১৮ অগাস্ট, মঙ্গলবার, আয়কর দফতর বিদেশে পাঠানো অর্থ সংক্রান্ত এই দেশজুড়ে বিস্তারিত যাচাই অভিযান শুরু করেছে। অভিযানের আওতায় শুধু সন্দেহজনক সংস্থাগুলিই নয়, তাদের পিছনে থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন। একই সঙ্গে যে পেশাজীবীরা ১৫সিবি ফর্মের শংসাপত্র জারি করেছেন, তাঁদের ভূমিকাও আলাদা করে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে (Income Tax Department)।

    বিদেশে পাঠানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ

    দেশের স্থলসীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অবস্থিত এবং বিদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছে—এমন সংস্থাগুলিকেও এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে তদন্তের পরিধি শুধু বড় শহর বা আর্থিক কেন্দ্রগুলিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে থাকা সন্দেহজনক সংস্থাগুলির লেনদেনও একইভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আয়কর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে মোট প্রায় ৩৯৪টি সংস্থাকে এই যাচাইয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের স্থলসীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অবস্থিত প্রায় ১১৭টি সংস্থাও রয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ জন পেশাজীবীর ভূমিকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁদের জারি করা শংসাপত্রের ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নথি এবং অর্থ পাঠানোর উদ্দেশ্য—সবই যাচাই করা হবে।

    হিসাবরক্ষকদের ভূমিকা

    দফতরের বক্তব্য, ১৫সিবি বা ১৪৬ নম্বর ফর্মে শংসাপত্র দেওয়ার সময় হিসাবরক্ষকদের যথাযথ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাগত বিচারবোধ প্রয়োগ করা প্রত্যাশিত। বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের মূল নথি, বাস্তব তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আয়কর দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের শংসাপত্র আর্থিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধু নথি পূরণ বা আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়, শংসাপত্র দেওয়ার আগে লেনদেনের প্রকৃত চরিত্র যাচাই করাও জরুরি।

    যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আয়কর দফতর

    প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এখন আরও বিস্তৃত তদন্ত চালানো হচ্ছে। সন্দেহজনক সংস্থাগুলি আদৌ বাস্তবে ব্যবসা করত কি না, তাদের ঘোষিত লেনদেন এবং বিদেশে পাঠানো অর্থের মধ্যে কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, বিদেশি প্রাপকদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র কী, এবং শংসাপত্র প্রদানকারী পেশাজীবীরা কতটা যথাযথ যাচাই করেছিলেন—এই সব প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে আয়কর দফতর (Income Tax Department)। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর এই নেটওয়ার্কের প্রকৃত পরিধি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আরও (Remittances) স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত প্রায় ৩৯৪টি সংস্থা এবং ৩৬ জন পেশাজীবীকে ঘিরে চলা দেশজুড়ে এই যাচাই অভিযানের পরবর্তী ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে দেশবাসীর (Income Tax Department)।

     

LinkedIn
Share