মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে এ বার আর রোগী বা তাঁর পরিজনদের হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে বেড, ভেন্টিলেটর বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকলে সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীকে পাঠানো হবে বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital)। সেখানে নিঃশুল্ক চিকিৎসার (Free Treatment) ব্যবস্থাও করবে সরকার। এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
নিঃশুল্ক চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালে (Free Treatment)
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালের সমন্বয় শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা রোগীদের দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে এই পরিষেবা শহর থেকে শহরতলি এবং বাংলার গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কম করে তিন থেকে চারটি বৈঠক করেছি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে। আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রায় আড়াই হাজার বেড সংরক্ষণ করেছি, যেগুলি নাগরিকদের নিঃশুল্ক চিকিৎসা দেবে। আজকের মহড়া সফল হয়েছে। এ বার থেকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী যাবে। আর সেটা আজ থেকেই চালু হল—একেবারে শহর থেকে শহরতলি, বাংলার গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত।”
কীভাবে মিলবে সুবিধা
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও রোগী চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে গেলে এবং সেখানে বেড না থাকলে, কিংবা ভেন্টিলেটর খালি না থাকলে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানাবে। সেখান থেকে খবর যাবে স্বাস্থ্য দফতরের কন্ট্রোল রুমে। কোন বেসরকারি হাসপাতালে বেড খালি রয়েছে, তা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে জানা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে বেড সংরক্ষণ করে সরকারি হাসপাতালকে জানানো হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে সরাসরি রোগীকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালকে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও রোগী এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে বেড না পেলে, বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানানো হবে। কন্ট্রোল রুম বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে খালি থাকা বেডের খোঁজ করবে এবং বেডের ব্যবস্থা হলে এসএসকেএমের এমার্জেন্সি বিভাগকে জানাবে। এরপর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগীকে সরাসরি ওই বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে (Free Treatment)।
আরও সরকারি হাসপাতাল যুক্ত হবে
সব বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে এই সমন্বয় তৈরি হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালকেই এই ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এখনও এর আওতায় নেই। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকাও জানানো হবে।
পর্যায়ক্রমে মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, আরজি কর, চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল এবং সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকেও শহরের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলির (Private Hospital) সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, সরকারি হাসপাতালে বেডের অভাবে কোনও রোগী যাতে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে না যান। তবে এক দিনে সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। ধীরে ধীরে সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সুতো ছিঁড়তে পারে, আবার জুড়তে হবে।”
সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মেসি’
এ দিন সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘অমৃত ফার্মেসি’ চালুর বিষয়েও বিস্তারিত জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রায় ১০০টি সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পাওয়া যাবে।
সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালুর জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের মৌ-চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি। অমৃত ফার্মেসিতে স্টেন্টে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে। পাশাপাশি ক্যানসারের ওষুধ এবং চোখের লেন্সও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ১০০টি এমন ফার্মেসি চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। সাধারণত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলির আশপাশেই এই ধরনের ফার্মেসি চালুর জন্য জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে। ছাড়ের সুবিধা পেতে রোগীর প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন পরিজনেরা (Free Treatment)।
হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য আরও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি হাসপাতালের পরিষেবার উপর নজরদারি রাখা হবে।
হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে এবং মেডিক্যাল আধিকারিকরা সেই নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। হাসপাতাল পরিষেবার কার্যকারিতা, নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে কি না, ফিল্ড লেভেলের ইউনিটগুলির সঙ্গে সমন্বয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতার সূচকগুলির উপরও নজর রাখা হবে (Private Hospital)।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেডের অভাবের কারণে যাতে কোনও রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে (Free Treatment)।
