Tag: Freedom Struggle

Freedom Struggle

  • Chandra Shekhar Azad: আজ স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদের আত্মবলিদান দিবস, চেনেন এই দেশপ্রেমিককে?

    Chandra Shekhar Azad: আজ স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদের আত্মবলিদান দিবস, চেনেন এই দেশপ্রেমিককে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন চন্দ্রশেখর আজাদ (Chandra Shekhar Azad)। তিনি হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠাতা রাম প্রসাদ বিসমিলের ফাঁসির সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি হয় রোশন সিং, রাজেন্দ্র নাথ লাহিড়ী এবং আশফাকুল্লা খানের। এরপর আজাদ হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনকে বদলে করেন হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন (HSRA)। তাঁর নির্ভীক নেতৃত্ব (Death Anniversary) এবং স্বাধীনতার লক্ষ্যে অবিচল প্রতিশ্রুতি তাঁকে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

    বিশ্বাসঘাতকতার শিকার (Death Anniversary)

    ১৯৩১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এলাহাবাদের আলফ্রেড পার্কে (বর্তমানে আজাদ পার্ক) এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেন ঠিক করেছিলেন তিনি। যদিও বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন আজাদ। পার্কে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ পুলিশ ঘিরে ফেলে তাঁকে। তীব্র গুলির লড়াই হয়। দুজন ব্রিটিশ অফিসার জখম হন। গুলিবিদ্ধ হন আজাদও। সঙ্গে সঙ্গেই শহিদ হন তিনি। আজাদ অঙ্গীকার করেছিলেন, কখনওই ব্রিটিশদের হাতে জীবিত অবস্থায় ধরা দেবেন না। সেই ইচ্ছে পূরণ হয় তাঁর। এভাবে শহিদ হয়ে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে অমর হয়ে রয়ে গেলেন আজাদ।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    চন্দ্রশেখর আজাদকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘‘মাতৃভূমির অপরাজেয় সন্তান চন্দ্রশেখর আজাদ তাঁর জীবনের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্বের কোনও সীমা নেই।’’ তিনি লেখেন, “আজাদজির আত্মত্যাগ, যিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে ব্রিটিশ সরকারের নিদ্রা ভঙ্গ করেছিলেন, স্বাধীনতার স্ফুলিঙ্গকে এক মহান শিখায় পরিণত করেছিলেন (Chandra Shekhar Azad)। অমর শহিদ ও মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রশেখর আজাদকে তাঁর শহিদ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।”

    আজাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি শ্রদ্ধা জানান আজাদকে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আজাদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। লেখেন, “ভারত মায়ের অমর সন্তান, মহান বিপ্লবী এবং সাহসী শহিদ চন্দ্রশেখর আজাদের ত্যাগ স্বাধীনতা আন্দোলনকে নতুন শক্তি দিয়েছিল। তাঁর সাহসিকতার কাহিনি ভারতীয় স্বাধীনতার ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়, যা প্রতিটি ভারতীয়র মধ্যে দেশপ্রেমের আগুন জাগিয়ে রাখবে। আজ তাঁর শহিদ দিবসে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি!”

    বিজেপি জাতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, “অমর শহিদ চন্দ্রশেখর আজাদের শহিদ দিবসে, যিনি মাতৃভূমির জন্য নিজের সব কিছু উৎসর্গ (Death Anniversary) করেছিলেন, সেই অতুলনীয় সাহস ও ত্যাগের নায়কের প্রতি আমি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাই (Chandra Shekhar Azad)।”

  • Freedom Struggle: রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বার্তায় মাতঙ্গিনী হাজরা ও কনকলতা বড়ুয়ার নাম, জানুন তাঁদের ইতিহাস

    Freedom Struggle: রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বার্তায় মাতঙ্গিনী হাজরা ও কনকলতা বড়ুয়ার নাম, জানুন তাঁদের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তিনি বলেন, ‘‘আমি সম্মান জানাই আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের (Freedom Struggle)। যাঁদের আত্মবলিদানের কারণেই আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। মাতঙ্গিনী হাজরা, কনকলতা বড়ুয়ার মতো সমস্ত মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আমি শ্রদ্ধা জানাই যাঁরা ভারত মায়ের চরণে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’’ রাষ্ট্রপতি তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় মাতঙ্গিনী হাজরা এবং কনকলতা বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছেন। আজকে আমরা জানবো এই দুই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর (Freedom Struggle) সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

    মাতঙ্গিনী হাজরার ইতিহাস

    পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনতা সংগ্রামী (Freedom Struggle) ছিলেন মাতঙ্গিনী হাজরা, ৭৩ বছর বয়সে ভারতছাড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার সময় ব্রিটিশ সরকারের গুলি তাঁকে ঝাঁঝরা করে দেয়। তমলুকের এই স্বাধীনতা সংগ্রামী গান্ধী বুড়ি নামেও পরিচিত। জানা যায়, মাতঙ্গিনী হাজরার জন্ম হয়েছিল তমলুকের হোগলা নামক গ্রামে ১৮৬৯ সালে। তাঁর প্রাথমিক জীবন সম্পর্কে সেভাবে কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। কিন্তু সরকারের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মাতঙ্গিনী হাজরা (Freedom Struggle) ছিলেন একজন গরিব কৃষক কন্যা। যিনি তাঁর প্রথাগত শিক্ষা খুব বেশি দূর টেনে নিয়ে যেতে পারেননি। মাত্র ১২ বছর বয়সে মাতঙ্গিনী হাজরার বিবাহ হয় ত্রিলোচন হাজরার সঙ্গে। তাঁর স্বামীর বয়স তখন ৬০ বছর। মাতঙ্গিনী হাজরার যখন ১৮ বছর বয়স, তখন ত্রিলোচন হাজরা মারা যান। তাঁর কোনও সন্তান ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পরে মাতঙ্গিনী হাজরা সমাজ এবং দেশের কাজে নিজেদের উৎসর্গ করেন (Freedom Struggle)। ১৯ শতকের শুরুর দিকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ভারতবর্ষে নতুনভাবে বিস্তার লাভ করতে থাকে। এতেই প্রভাবিত হতে থাকেন মাতঙ্গিনী হাজরা। প্রখ্যাত বিজ্ঞানী মণি ভৌমিকের লেখা ‘কোড নেম গড’ বইতে বলছেন, ‘‘মাতঙ্গিনী মহাত্মা গান্ধীর প্রতি খুব শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। যে কারণে তাঁকে গান্ধী বুড়ি নামে ডাকা হতো।’’  
    মাতঙ্গিনী হাজরা সম্পর্কে জানা যায় ১৯৩৩ সালে তমলুক শহরে একটি বিক্ষোভের সময় তিনি জাতীয় পতাকা হাতে গভর্নরের ব্যালকনির সামনে পৌঁছে যান এবং সেখানে স্লোগান দিতে থাকেন ‘গো ব্যাক লাট সাহেব’। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে হেনস্তা করে। তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়। এবং ৬ মাস এর জন্য তাঁর জেল হয়।  ৬১ বছর বয়সে মাতঙ্গিনী হাজরা ফের একবার গ্রেফতার হন। ১৯৩০ সালে আইন অমান্যের সময় (Freedom Struggle)। 

    এরপর ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ডাক দেন মহাত্মা গান্ধী। ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ছয় হাজার বিক্ষোভকারীর (Freedom Struggle) সঙ্গে সামনে থেকে মিছিলে হাঁটতে থাকেন ৭৩ বছর বয়সী মাতঙ্গিনী হাজরা। এই বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য ছিল যে তমলুক পুলিশ স্টেশনকে ব্রিটিশদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া। থানার সামনে মিছিল আসতেই পুলিশ বাধা সৃষ্টি করলে মাতঙ্গিনী হাজরা তাদেরকে আবেদন জানান যে মিছিলে গুলি যেন চালানো না হয়। এবং তখনই ব্রিটিশ পুলিশের রাইফেল গর্জে ওঠে তিন তিনবার। মাতঙ্গিনী হাজরার বুক ঝাঁঝরা করে দেয় ব্রটিশ পুলিশ। মৃত্যুর আগে তিনি বলতে থাকেন ‘বন্দেমাতরম’ এরপরেই সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। এবং ব্রিটিশ শাসন মুক্ত হয় তমলুক। পরবর্তীকালে ১৯৪৪ সালে মহাত্মা গান্ধীর অনুরোধে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার ভেঙে দেওয়া হয়।

    কনকলতা বড়ুয়ার ইতিহাস 

    কনকলতা বড়ুয়াছিলেন অসমের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী। ভারতছাড়ো আন্দোলনে তিনি শহীদ হয়েছিলেন। কনকলতা বড়ুয়ার যখন ১৭ বছর বয়স তখন তিনি মৃত্যু বাহিনীতে যোগ দেন। অসমের গোহপুর পুলিশ স্টেশনের সামনে ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে বিক্ষোভরত (Freedom Struggle) অবস্থায় পুলিশের গুলিতে ঝাঁঝরা হয় কনকলতা বড়ুয়ার শরীর। ডিব্রুগড় ইউনিভার্সিটি প্রফেসর শিলা বোড়া বলছেন, ‘‘ওই ঘটনার মাত্র দুদিন আগেই তিনি মৃত্যু বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। গুলিতে লুটিয়ে পড়ার পরেও যতক্ষণ তিনি বেঁচে ছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত জাতীয় পতাকাকে তিনি মাটিতে পড়তে দেননি।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share