Tag: Friedrich Merz

  • India Germany Submarine Deal: মের্ৎসের সফরে স্বাক্ষরিত মউ, চলছে দরাদরি, চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত–জার্মানি ঐতিহাসিক সাবমেরিন চুক্তি?

    India Germany Submarine Deal: মের্ৎসের সফরে স্বাক্ষরিত মউ, চলছে দরাদরি, চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত–জার্মানি ঐতিহাসিক সাবমেরিন চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে দেশের নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা-শিল্প চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে ভারত। জার্মান সাবমেরিন নির্মাতা থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS)-এর সঙ্গে মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এর অংশীদারিত্বে ভারতীয় নৌসেনার জন্য ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত (ডিজেল-চালিত) সাবমেরিন নির্মাণের পথে এগোচ্ছে এই চুক্তি। এই মুহূর্তে ভারত সফরে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। সোমবার তিনি গুজরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন। এর পরই, দুই রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে একাধিক বিষয়ে মউ স্বাক্ষিরত করে তা বিনিময় উভয় পক্ষের শীর্ষ আধিকারিকরা।

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) সাবমেরিন কেনার বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। তবে, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শীর্ষ কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, বর্তমানে চুক্তির প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলছে এবং একটি গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আশাবাদ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে, বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি বলেন, “এই ধরনের চুক্তিতে প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা থাকে। এসব আলোচনা ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে। চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই চলছে এবং আমরা একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।”

    ৭২০০০০০০০০০০ টাকার চুক্তি!

    কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, জার্মানির সঙ্গে এই সাবমেরিন নির্মাণের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭২,০০০ কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির মাধ্যমে বহু প্রতিক্ষিত ‘প্রজেক্ট–৭৫আই’ টেন্ডারের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে. চা হবে দেশের সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ অঙ্কের চুক্তি। নীতিগত পরিবর্তন, কঠোর প্রযুক্তিগত শর্ত এবং পরীক্ষিত ও টিকে থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন প্রযুক্তির ওপর ভারতের জোরের কারণেই এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।

    এই চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জার্মান ‘টাইপ–২১৪ নেক্সট জেনারেশন’ (Type-214NG) সাবমেরিন নির্বাচন। প্রায় ২,৫০০ টন ওজনের এই ডিজেল–ইলেকট্রিক সাবমেরিনে রয়েছে এয়ার–ইনডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন বা এআইপি (AIP) ব্যবস্থা। স্পেনের নাভান্তিয়া প্রস্তাবিত এস–৮০ প্লাস সাবমেরিনকে পিছনে ফেলে টাইপ–২১৪এনজি বেছে নেওয়া হয়েছে মূলত এই সাবমেরিনের পরীক্ষিত এআইপি প্রযুক্তি, উন্নত শব্দ-নীরবতা (অ্যাকোস্টিক স্টেলথ) এবং কম জীবনচক্র ঝুঁকির কারণে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সমুদ্র অঞ্চলে দীর্ঘ সময় গোপনে কাজ করাই যেখানে প্রধান লক্ষ্য, সেখানে জার্মান প্ল্যাটফর্মের পরিণত ও পরীক্ষিত প্রযুক্তিই সিদ্ধান্তে নির্ণায়ক হয়েছে।

    কেন এআইপি ও স্টেলথ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের ক্ষেত্রে এআইপি এখন প্রায় অপরিহার্য। সাধারণ ডিজেল–ইলেকট্রিক সাবমেরিনকে ব্যাটারি চার্জের জন্য মাঝেমধ্যে ভেসে উঠতে বা স্নরকেল ব্যবহার করতে হয়, যা শত্রুপক্ষের নজরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এআইপি-যুক্ত সাবমেরিন সপ্তাহের পর সপ্তাহ জলের নিচে থাকতে পারে, অত্যন্ত কম শব্দ ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনেচার বজায় রেখে টহল, নজরদারি ও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করে।

    টাইপ–২১৪এনজি সাবমেরিনে ব্যবহৃত ফুয়েল–সেল নির্ভর এআইপি ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও কার্যত পরীক্ষিত প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। বিপরীতে, স্পেনের বায়ো-ইথানল ভিত্তিক এআইপি প্রযুক্তি এখনও সমপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি। জলতলের যুদ্ধে যেখানে ব্যর্থতার কোনও সুযোগ নেই, সেখানে পরীক্ষিত প্রযুক্তিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

    ১৯৭১: করাচি আক্রমণ ও নৌশক্তির পাঠ

    স্টেলথ ও সহনশীলতার ওপর ভারতের জোরের পেছনে রয়েছে কঠোর ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধে অপারেশন ট্রাইডেন্ট ও অপারেশন পাইথনের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানের প্রধান সমুদ্রবন্দর করাচিতে বিধ্বংসী হামলা চালায়। এই আঘাতে পাকিস্তানের নৌ লজিস্টিক্স ও জ্বালানি পরিকাঠামো কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের সমুদ্রভিত্তিক অভিযান দীর্ঘমেয়াদে অচল হয়ে যায়।

    এই হামলা ছিল কেবল কৌশলগত নয়, গভীরভাবে কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন। এটি যুদ্ধের পরিণতি ত্বরান্বিত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথমবারের মতো ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করে যে, সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ স্থলযুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। তবুও পরবর্তী দশকগুলিতে ভারতের সাবমেরিন আধুনিকীকরণ ধীরগতিতে এগোয়। বিলম্বিত কেনাকাটা, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং নীতিগত জড়তার ফলে নৌবাহিনীর জলতল বহর পুরনো হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে প্রজেক্ট–৭৫আই কেবল একটি সামরিক ক্রয় নয়, ১৯৭১-এর শিক্ষা থেকে উদ্ভূত বহু প্রতীক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

    অপারেশন ‘সিঁদুর’ ও করাচির পুনরাবির্ভাব

    গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে সামনে আসে। বড়সড় সন্ত্রাসী উসকানির পর ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়লে ৮ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনী ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’তে ছিল। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পাকিস্তানের আর্থিক ও লজিস্টিক প্রাণকেন্দ্র করাচি বন্দরে আঘাত হানার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল।

    আজও করাচি পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড—দেশটির অধিকাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি ও আর্থিক প্রবাহ এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭১-এর পুনরাবৃত্তির বিশ্বাসযোগ্য হুমকি—এবার আরও উন্নত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও জলতল সক্ষমতা নিয়ে— প্রমাণ করে যে, নৌ শক্তি শট না ছুড়েও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অপারেশন ‘সিঁদুর’ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সমুদ্রে, আর তা কাজে লাগাতে ভারতের দরকার শক্তিশালী জলতল আধিপত্য।

    এই প্রেক্ষাপটে ভারত–জার্মানি সাবমেরিন চুক্তির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি নিছক শান্তিকালীন আধুনিকীকরণ নয়, বরং সাম্প্রতিক বাস্তব সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা সক্ষমতা বৃদ্ধি। নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন যুক্ত হলে করাচির ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষমতা আরও বাড়বে, যা নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও স্থায়ী জলতল আঘাতের মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করবে।

    প্রজেক্ট—৭৫আই-এ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’

    এই চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল—ছয়টি সাবমেরিনই ভারতে নির্মিত হবে। প্রধান নির্মাণ সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পাবে এমডিএল। টিকেএমএস নকশা কর্তৃত্ব, প্রকৌশল সহায়তা, পরামর্শ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। এর ফলে ভারত কেবল সাবমেরিন প্ল্যাটফর্মই নয়, গভীর প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করবে—যা ভবিষ্যতের নৌ শক্তি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • German Chancellor Visit India: ভারত সফরে জার্মান চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে উঠবে কোন কোন বিষয়?

    German Chancellor Visit India: ভারত সফরে জার্মান চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠকে উঠবে কোন কোন বিষয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ (German Chancellor Visit India)। বার্লিনের মসনদে বসার পর এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। দু’দিনের ভারত সফরে ১২ জানুয়ারি আমেদাবাদে পা রাখবেন তিনি। সেখানেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তির পাশাপাশি আলোচনা হবে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে মার্জের এই সফর। তিনি বেঙ্গালুরুতেও যাবেন ।

    আমেদাবাদে স্বাগত

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, জার্মান চ্যান্সেলরের (German Chancellor Visit India) এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। শুধু তাই নয়, একে অপরকে সাহায্যের জন্য দু’দেশের যে অভিন্ন অঙ্গীকার তা-ও আরও দৃঢ় হবে। ভারত-জার্মানির দূরদর্শী অংশীদারিত্ব বৃহত্তর আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে বিদেশমন্ত্রক। জানা গিয়েছে, ১২ জানুয়ারি জার্মান চ্যান্সেলরকে আমেদাবাদে স্বাগত জানাবেন মোদি। সফরের অংশ হিসেবে দুই নেতা সবরমতি আশ্রম পরিদর্শন করবেন এবং সবরমতি রিভারফ্রন্টে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবে অংশ নেবেন। এরপর গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দিরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রেডরিখের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে? সূত্রের খবর, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা কীভাবে আরও বৃদ্ধি করা যায়, তা নিয়ে আলোকপাত করা হবে বৈঠকে। এছড়াও নিরাপত্তা, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবেন মোদি-ফ্রেডরিখ। অন্যদিকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে যে পূর্ব চুক্তিগুলি হয়েছে, সেগুলির অগ্রগতিও এই বৈঠকে পরিমাপ করা হবে বলে সরকারি সূত্রের খবর।

    প্রতিরক্ষা সহায়তা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে, যা ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এই চুক্তিকে ভারতের সামরিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জার্মানির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করাকে উভয় দেশই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। চ্যান্সেলর মার্জের এই সফর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক জোরদার করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলেও মনে করা হচ্ছে। এই বৈঠক শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও যৌথ আগ্রহের প্রতিফলন।

    ভারতের বাজারে নজর

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জার্মানি ভারতের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে জার্মান বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে ভারতের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে উভয় দেশই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

    ভারত সফর বিশেষ অর্থবহ

    সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি চলাকালীন, দুই দেশের সরকারই আশাবাদী যে এই বৈঠকের ফলাফল বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এই সফর আধুনিক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত–জার্মানি সম্পর্কের গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে আসার কথা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর। তার আগে জার্মান চ্যান্সেলরের ভারত সফর বিশেষ অর্থবহ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

  • Friedrich Merz: বদলের হাওয়া জার্মানিতেও, সাধারণ নির্বাচনে জয়ী রক্ষণশীলরা, পরবর্তী চ্যান্সেলর কে?

    Friedrich Merz: বদলের হাওয়া জার্মানিতেও, সাধারণ নির্বাচনে জয়ী রক্ষণশীলরা, পরবর্তী চ্যান্সেলর কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হার স্বীকার করে নিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজ। রবিবার রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা ফ্রেডরিখ মার্জকে (Friedrich Merz) অভিনন্দনও জানান তিনি। জনমত সমীক্ষার ফল বলছে, জার্মানির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। মার্জকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “সামাজিক গণতান্ত্রিক দলের জন্য এটি একটি তিক্ত নির্বাচনী ফল। এটি একটি নির্বাচনী পরাজয়ও। নির্বাচনী ফলের জন্য অভিনন্দন (Exit Polls)।”

    ২১তম সাধারণ নির্বাচন (Friedrich Merz)

    রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে জার্মানির ২১তম সাধারণ নির্বাচন। ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছিল সকাল ৮টায়। শেষ হয় সন্ধ্যা ছটায়। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক নির্বাচনী সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নির্বাচনে ফ্রেডরিখ মার্জের দল ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন জয়ী হয়েছে। তবে অতি ডানপন্থীদেরও উত্থান ঘটেছে। নির্বাচনে রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন দল ২৯ শতাংশ, কট্টরবাদী জার্মানির জন্য বিকল্প দল ১৯.৫ শতাংশ, সামাজিক গণতান্ত্রিক দল ১৬ শতাংশে এগিয়ে রয়েছে। পরিবেশবাদী সবুজ দল ১৩.৫ শতাংশ এবং বাম দল দ্য লিঙ্কে ৮.৬ শতাংশে এগিয়ে রয়েছে।

    কোন দলের ঝুলিতে কত ভোট

    বিরোধী রক্ষণশীল সিডিইউ/সিএসইউ জোট ২৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে, জেডডিএফ পাবলিক ব্রডকাস্টারের প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী (Exit Polls)। চরম ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে এসেছে, যা জাতীয় নির্বাচনে তাদের সর্বোচ্চ ফল। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তাদের সব চেয়ে খারাপ ফল করেছে। তারা ভোট পেয়েছে মাত্র ১৬.৫ শতাংশ। এই ফল জটিল জোট আলোচনার জন্য মঞ্চ তৈরি করেছে। মের্জ আরও শক্তিশালী নেতৃত্বের ধরন ও মিত্রদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে তাকে একটি জোট গঠন করতে হবে।

    রফতানি নির্ভর অর্থনীতি

    কোয়ালিশন আলোচনা চলাকালীন শোলৎজ হয়তো তত্ত্বাবধায়ক ভূমিকায় পদে থাকতে পারেন। এটি টানা দুবছর অর্থনৈতিক সংকোচনের পর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টাকে বিলম্বিত করতে পারে। জার্মানির রফতানি নির্ভর অর্থনীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তার সম্পর্ক এই অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জনমত সমীক্ষায় অভিবাসনের বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে। এটি ২০১৫ সালের থেকে আলাদা, যখন জার্মানি বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে স্বাগত জানিয়েছিল। এএফডি এই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। যদিও তারা কোয়ালিশনের আলোচনার বাইরে রয়েছে (Friedrich Merz)।

    এএফডির উত্থান

    এএফডির উত্থান শাসনকে জটিল করে তুলেছে। যদিও তাদের এখনই সরকারে প্রবেশের সম্ভাবনা নেই, তবে তাদের ক্রমবর্ধমান সমর্থন ভবিষ্যতের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলাফলটি এমন একটি সরকার গঠনে অবদান রাখতে পারে যা জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নীতিগুলি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। রক্ষণশীল নেতা মার্জ জার্মানির পরবর্তী চ্যান্সেলর হতে চলেছেন। কারণ জাতীয় নির্বাচনে তার দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যেটিক ইউনিয়ন (CDU) সব চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। এই জয় জার্মান রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নির্দেশ করে। কারণ তাঁর দল বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজের মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (SPD)-কে পরাজিত করেছে।

    জয়ী সিডিইউ/সিএসইউ জোট

    এদিকে, শেষ পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, সিডিইউ/সিএসইউ জোট রবিবার জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। এর জেরে ফ্রেডরিখ মার্জকে দেশের পরবর্তী চ্যান্সেলর হওয়ার পথে এগিয়ে রেখেছে। ২৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে মের্জের সংরক্ষণশীল দল কট্টর-ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। তারা রেকর্ড ভোট পেয়েছে ২০ শতাংশ। তবে এই জয় সত্ত্বেও মের্জের জন্য একটি স্থিতিশীল জোট গঠন করা একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তার নেতৃত্ব এমন একটি সময়ে শুরু হচ্ছে যখন জার্মানি কয়েক দশকের সব চেয়ে জটিল অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এদিন মার্জ সমর্থকদের উদ্দেশে প্রতিশ্রুতি দেন, জার্মানি আবারও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব পাবে (Exit Polls)।

    মার্জ জার্মানির ঋণ সীমা পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা একটি সাংবিধানিক নিয়ম যা সরকারি ঋণ গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করে। সমর্থকদের যুক্তি, এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (Friedrich Merz)। জার্মানির এক মহিলা ভোটার বলেন, “নির্বাচনের ফল কেমন হবে, তা আগে থেকেই পরিষ্কার ছিল। আমি নিজে অবশ্য মার্জকে পছন্দ করি না। কিন্তু অভিবাসী ইস্যুতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন এবং এএফডিকে ঠেকাতে পারবেন। দি লিংক বিরোধী দল নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুশি।”

LinkedIn
Share