Tag: Gen Z protest Iran

  • Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে অব্যাহত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের (Iran Update) ঘটনা।দেশটির অন্তত তিনটি বড় হাসপাতাল (Hospitals) মৃত ও আহত রোগীর চাপে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে খবর। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক সংবাদ মাধ্যমে জানান, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “তরুণদের মাথায় সরাসরি গুলি করা হয়েছে, এমনকি বুকেও গুলি লেগেছে।”

    ইরানের পরিস্থিতি (Iran Update)

    এদিকে, রাজধানীর একটি চক্ষুরোগের হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে হাসপাতালটিকে ‘ক্রাইসিস মোড’ বা জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিচালনা করতে হচ্ছে।” দুই চিকিৎসাকর্মী জানান, তাঁরা এমন বহু রোগীর চিকিৎসা করেছেন যাঁদের শরীরে তাজা গুলি এবং পেলেট গান- উভয়েরই ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এতে স্পষ্ট যে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে তার জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে (Iran Update)। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে উসকে দিয়ে সহিংস ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম ও ব্যাপক ভাঙচুরে পরিণত করেছে। বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের (Iran Update)।

    বিক্ষোভের জেরে ভয়ঙ্কর অবস্থা

    জানা গিয়েছে, ইরানে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, তা দিন দিন ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে প্রায় দুসপ্তাহ আগে রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির সব প্রদেশের অন্তত ১০০টির বেশি শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে (Hospitals)। বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত বা গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অনুমান, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। সূত্রের খবর, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৬ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে, যার মধ্যে ছ’জন শিশুও রয়েছে। বহু মানুষকে আটকও করেছে নিরাপত্তা বাহিনী (Iran Update)। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, নিহত নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা অন্তত ১৪।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ইরান সম্ভবত ইতিহাসের যে কোনও সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনতার খুব কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!!!” জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে রাশত শহরের পুরসিনা হাসপাতালে অন্তত ৭০টি মৃতদেহ আনা হয়েছিল। হাসপাতালের মর্গ ভর্তি হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত দেহ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষ মৃতদের স্বজনদের কাছে দাফনের জন্য মৃতদেহ ছাড়াতে ৭ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৭ হাজার মার্কিন ডলার) দাবি করেছে (Iran Update)।

    ভয়াবহ দৃশ্য

    তেহরানের একটি হাসপাতালের কর্মী জানান, “ভয়াবহ দৃশ্য। এত বেশি আহত মানুষ এসেছিল যে অনেকের ক্ষেত্রে সিপিআর দেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩৮ জন মারা গিয়েছেন, এঁদের মধ্যে অনেকেই মারা গিয়েছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই। তরুণদের মাথা ও বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে।” তিনি জানান, “মর্গে জায়গা না থাকায় মৃতদেহগুলি একটির ওপর আর একটি রাখা হয়েছিল। পরে প্রার্থনাকক্ষেও সেগুলিকে ডাঁই করে রাখা হয় (Hospitals)।” ওই হাসপাতাল কর্মীর ভাষায়, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ। তিনি বলেন, “অনেকের দিকে তাকানোই যায়নি, এতটাই কাঁচা বয়স তাদের (Iran Update)।” ইরানে বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কারণে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সরাসরি ইরানের ভেতর থেকে রিপোর্ট করতে পারছে না।

    ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট

    এদিকে, ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে, তাকে ঘিরে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এক চিকিৎসক জানান, তেহরানের প্রধান চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল বর্তমানে চরম সঙ্কটে রয়েছে। জরুরি পরিষেবা চাপে পড়ে গিয়েছে। ওই চিকিৎসকের দাবি, শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নন-ইমার্জেন্সি ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত রাখতে বাধ্য হন। জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয় (Hospitals)।চিকিৎসকদের বক্তব্য, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে প্রায়ই পেলেট ভর্তি কার্তুজ ছোড়ে এমন শটগান ব্যবহার করে। এতে বহু বিক্ষোভকারী মারাত্মকভাবে জখম হচ্ছেন, বিশেষ করে চোখে গুলি লাগার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজের চোখে দেখেছি, চোখে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে” (Iran Update)।

    চোখে গুলি

    মধ্য ইরানের কাশান শহরের এক চিকিৎসক জানান, শুক্রবার রাতের অশান্তির সময় বহু বিক্ষোভকারীর চোখে গুলি লাগে। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে একই ধরনের রিপোর্ট এসেছে বলেও জানান তিনি। তেহরানের এক চিকিৎসক বলেন, “আহত ও মৃতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। আমি নিজে একজনকে দেখেছি, যার চোখে গুলি লেগে মাথার পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।” তিনি এও বলেন, “রাত প্রায় বারোটার দিকে হাসপাতালের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন একদল মানুষ দরজা ভেঙে এক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ভিতরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। আমরা তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।” এরকম ছবি ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের সিরাজ শহরের এক হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, “বিপুল সংখ্যক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক সার্জেন ছিলেন না। চোখে গুলি লাগার একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাপক বিক্ষোভ

    ইরানজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে শুক্রবার রাতে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাজধানী লাগোয়া কারাজ শহরে একটি সরকারি ভবনেও অগ্নিসংযোগ করা হয় (Iran Update)। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে জনগণের সম্পত্তি রক্ষায় নামবে। সেনার এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল, যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা বাহিনী চাপের মুখে পড়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে (Hospitals)।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপ

    শুক্রবার ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে একাধিক সমন্বিত সতর্কবার্তা জারি করে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তথাকথিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ইরানি পুলিশের দাবি, শুক্রবার রাতে তেহরানে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ২৬টি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, তেহরানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করছেন জেনারেশন জেড। তাঁর কথায়, “তরুণরা তাঁদের বাবা-মা ও প্রবীণদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছেন এবং ভয় না পেতে আহ্বান জানাচ্ছেন।” ইরানের এই বিক্ষোভের আঁচ কবে স্তিমিত (Hospitals) হয়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল (Iran Update)।

LinkedIn
Share