Tag: geopolitics

geopolitics

  • S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায়”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।” সোমবার রাজ্যসভায় সাফ জানিয়ে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। সতর্ক করে (Iran War) দিয়ে তিনি বলেন, “এই সঙ্কটের কারণে বিঘ্ন ঘটতে পারে সরবরাহ শৃঙ্খলে।”

    জয়শঙ্করের বক্তব্য (S Jaishankar)

    বিরোধী সাংসদদের স্লোগানের মধ্যেই সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, সম্প্রতী ওই অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-পথ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কী  হতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি একটি বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।” জয়শঙ্কর এও বলেন, “উত্তেজনা কমাতে আলোচনা ও কূটনীতির পথই অনুসরণ করা উচিত বলে আমরা এখনও বিশ্বাস করি।” মন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়াকে অবশ্যই স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে।” তিনি জানান, ভারত তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

    জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার

    জয়শঙ্কর বলেন, “ভারতের জাতীয় স্বার্থ—বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভারতীয় উপভোক্তাদের কল্যাণ—সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ও কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা এবং কল্যাণ নিশ্চিত করাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” সংসদে তিনি জানান, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রায় ৬৭,০০০ ভারতীয় নাগরিক ইতিমধ্যেই দেশে ফিরে এসেছেন। ইরানের অনুরোধে ওই অঞ্চলে তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ভারত আইআরআইএস লাভান নামের একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে কোচি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়। ১ মার্চ এই অনুমোদন দেওয়া হয়, জাহাজটি বন্দরে পৌঁছয় ৪ মার্চ (S Jaishankar)।

    ইরানি নৌ-জাহাজ

    এর আগে শনিবার রাইসিনা ডায়ালগে ভাষণ দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মানবিকতার খাতিরে, কোনও ভূরাজনৈতিক বিবেচনা থেকে নয়। জাহাজটিতে ১৮৩ জন নাবিক ছিলেন, যাঁদের বেশিরভাগই তরুণ ক্যাডেট, এবং যাত্রাপথে জাহাজটির প্রযুক্তিগত একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল (Iran War)।” এই ঘটনার কয়েক দিন পরে ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে আর একটি ইরানি নৌ-জাহাজ আইআরআইএস ডেনা ডুবে যায় একটি মার্কিন সাবমেরিনের হামলায়। এতে ৮০ জনেরও বেশি নাবিক নিহত হন। পরে শ্রীলঙ্কা নেভি প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করে (S Jaishankar)।

    বিপদের সংকেত

    এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, জাহাজটি বিপদের সংকেত পাঠিয়েছিল। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ভারত সেখানে আগেই মোতায়েন করেছিল সামুদ্রিক বিভিন্ন সরঞ্জাম, যার মধ্যে ছিল টহলদারি বিমান এবং নৌবাহিনীর জাহাজও। মন্ত্রী বলেন, “লাভান জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়া ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।” তিনি ফের মনে করিয়ে দেন, “পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে ভারত সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন এবং কূটনৈতিক (Iran War) আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়ে যাচ্ছে (S Jaishankar)।”

     

  • Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    Iran: ইজরায়েলের পাশে আমেরিকা, ইরানে হামলার নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭৯ সালের আগে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির রাজত্বে ইরান (Iran) মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল। ইজরায়েলের সঙ্গে (US Israel Axis) সাইলেন্ট সম্পর্কও বজায় রাখত তারা। দুই দেশই নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে সহযোগিতা করত, যা ঠান্ডা যুদ্ধের সময় পশ্চিমি শক্তির সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ অবস্থানকে প্রতিফলিত করত।

    ইরানের রাজনৈতিক পরিচয় (Iran)

    রুহোল্লাহ খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের পর সেই অবস্থানের আকস্মিক অবসান ঘটে। নয়া শাসনব্যবস্থা ইরানের রাজনৈতিক পরিচয়কে তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর পুনর্নির্ধারণ করে। এগুলি হল,  পশ্চিমি আধিপত্যের বিরোধিতা,  ইজরায়েলের বৈধতা প্রত্যাখ্যান এবং
    শিয়া ইসলামি রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বভিত্তিক শাসন। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের প্রতি বৈরিতা কেবল বিদেশনীতির পছন্দের বিষয় হয়ে থাকেনি। বরং তা রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানই বৃহত্তম শিয়া-অধ্যুষিত রাষ্ট্র, যেখানে অধিকাংশ আরব দেশ সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ। সুন্নি-শিয়া বিভাজনের সূচনা ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে, মহানবী হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর। প্রথমদিকে বিরোধের কেন্দ্র ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব। সুন্নিরা নবীর ঘনিষ্ঠ সাহাবি আবু বকরকে নেতা নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন। দ্বিতীয়ত, শিয়ারা বিশ্বাস করতেন নেতৃত্ব নবীর পরিবারভুক্ত আলির প্রাপ্য (Iran)।

    ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই রাজনৈতিক মতভেদ গভীর ধর্মতাত্ত্বিক পার্থক্যের রূপ নেয় (US Israel Axis)। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৮৫-৯০ শতাংশ মুসলিম সুন্নি এবং ১০-১৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ের। ইরানের জনসংখ্যার প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ শিয়া। এদিকে, সৌদি আরব, মিশর ও জর্ডন-সহ অধিকাংশ আরব দেশেই সুন্নিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। বারো ইমামপন্থী শিয়া ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হল “গায়েব ইমামে”  বিশ্বাস। শিয়ারা মনে করেন দ্বাদশ ইমাম গায়েব হয়েছেন এবং একদিন মাহদি হিসেবে ফিরে আসবেন। এই বিশ্বাস ঐতিহাসিকভাবে একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে। সেটি হল, ইমামের অনুপস্থিতিতে শাসন করবেন কে? বহু শতাব্দী ধরে শিয়া আলেমরা সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত থেকেছেন। তাঁরা সমাজে নৈতিক ও আইনি দিশারি হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭৯ সালে এই অবস্থানের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে (Iran)।

    “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব”

    বিপ্লবের পর খোমেইনি “ভেলায়াত-এ ফকিহ” বা “ইসলামি ফকিহের অভিভাবকত্ব” মতবাদ প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থায় গায়েব ইমামের প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত ইসলামি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন প্রবীণ শিয়া ফকিহ রাজনৈতিক কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন। এই ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত হয়, সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সর্বোচ্চ নেতা, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের ওপর আলেমদের তত্ত্বাবধান এবং শিয়া ফিকহভিত্তিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো (US Israel Axis)। মুসলিম বিশ্বে এই কাঠামো অনন্য। কোনও সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই আলেমশাসনের এমন সমতুল্য ব্যবস্থা নেই।ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা তার আঞ্চলিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তেহরান নিজেকে শিয়া সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে শিয়া-ঘনিষ্ঠ আন্দোলনগুলিকে সমর্থন করে। তারা এই নীতিকে অবিচার ও বহিরাগত আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে তুলে ধরে।

    কৌশলগত চ্যালেঞ্জ

    সুন্নি রাজতন্ত্রগুলি, বিশেষত সৌদি আরব, এই সক্রিয়তাকে কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। তাদের আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক প্রভাব কমে যাওয়া এবং নিজ নিজ দেশে শিয়া সংখ্যালঘুদের মধ্যে অস্থিরতার সম্ভাবনা (Iran)। একে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক সংঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আসলে এটি ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক বৈধতা ও আঞ্চলিক প্রভাবের প্রতিযোগিতার এক জটিল সমন্বয়। ইরানের স্বতন্ত্র পরিচয় আরও একটি মাত্রা যোগ করে। মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ রাষ্ট্রের বিপরীতে ইরান আরব নয়, বরং বহন করে পারস্যজাতীয় সংস্কৃতি। তাদের ভাষা ফার্সি এবং তাদের সাম্রাজ্যের ইতিহাস ইসলামেরও পূর্ববর্তী (US Israel Axis)। জাতিগত, ভাষাগত, ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ধর্মীয় পার্থক্য তেহরানের স্বাতন্ত্র্যবোধকে জোরদার করে এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও গভীর করে।

    কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল

    অনেক সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ধর্মীয় কারণে নয়, বরং কৌশলগত হিসেব-নিকেশের ফল (Iran)। সৌদি আরব ১৯৪৫ সাল থেকে “তেলের বিনিময়ে নিরাপত্তা” অংশীদারত্ব বজায় রেখেছে এবং শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সম্পদ-স্বল্প জর্ডন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭৮ সালের ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পর মিশর ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলে এবং এখনও উল্লেখযোগ্য সামরিক সহায়তা পায়। এই সরকারগুলি আদর্শগতভাবে ইজরায়েলের সঙ্গে একাত্ম নয়, বরং তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং শাসনব্যবস্থার টিকে থাকাকে অগ্রাধিকার দেয় (US Israel Axis)। ধর্মতত্ত্ব ও বৈদেশিক জোটের বাইরে রয়েছে প্রভাব বিস্তারের বৃহত্তর লড়াই। সৌদি আরব নিজেকে সুন্নি ইসলামের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে, আর ইরান নিজেকে পশ্চিমি ও ইজরায়েলি প্রভাববিরোধী প্রতিরোধ অক্ষের সামনে রাখে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিচ্ছিন্নতা হল বিপ্লবী আদর্শ, শিয়া রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব, পারস্য পরিচয় এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার (Iran) সমন্বিত ফল—যা তাকে অধিকাংশ মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র থেকে আলাদা অবস্থানে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

     

  • India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    India Map: দিল্লির দাবিতেই মান্যতা ট্রাম্প প্রশাসনের, পিওকে-আকসাই চিন ভারতেরই, মানছে আমেরিকাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ঘোষণা করার পর, ট্রাম্প প্রশাসনের শেয়ার করা ভারতের একটি মানচিত্র (India Map) চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরালও (Trade Deal) হয়েছে এই মানচিত্রটি। বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের সময় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (USTR) যে ভারতের মানচিত্র প্রকাশ করে, তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অঞ্চল এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরকে (POK) ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মানচিত্রে আকসাই চিনকেও ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও চিন এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে।

    নয়া মানচিত্র (India Map)

    অবশ্য ভারতের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল না। ভারত বরাবরই বলে আসছে যে কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবু এই মানচিত্র আমেরিকার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি নির্দেশ করে। এটি ইচ্ছাকৃতই হোক বা অনিচ্ছাকৃত, পাকিস্তানের উদ্দেশে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ভারতের মানচিত্রের সঙ্গেই সাযুজ্য রাখছে। এর আগে আমেরিকা বা তাদের বিদেশ দফতর যে মানচিত্রগুলি প্রকাশ করত, তাতে সাধারণত পাকিস্তানের আপত্তির কথা মাথায় রেখে পিওকে-কে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্র পাকিস্তানের দাবিকে কার্যত উপেক্ষাই করেছে। এই ঘটনার সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্থির ও অনিশ্চিত অবস্থায় ট্রাম্প নেতৃত্ব এক টালমাটাল সময় পার করার পর ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার তাদের সম্পর্ক নতুন করে সাজাচ্ছে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন বাণিজ্য কাঠামোর আওতায় সেই শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এশীয় দেশগুলির মধ্যে সর্বনিম্ন (India Map)।

    ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত

    এছাড়া ট্রাম্প আবারও ভারত ও পাকিস্তানকে একসঙ্গে দেখার (re-hyphenation) নীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেন, যা জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শুরু করা ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টরাও তা অনুসরণ করে এসেছিলেন। মানচিত্রে লাদাখের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত বিতর্কিত আকসাই চিন অঞ্চলকেও ভারতের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও চিন দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের আপত্তি উপেক্ষা করে এই অঞ্চলের ওপর দাবি জানিয়ে আসছে (Trade Deal)। প্রসঙ্গত, ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) বারবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মানচিত্রে জম্মু ও কাশ্মীর এবং অরুণাচল প্রদেশের ভুল উপস্থাপনার বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে এসেছে। আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অবশেষে ভারতের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভূরাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা দ্রুত এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। অবসরপ্রাপ্ত মেজর গৌরব আর্য টুইট করে লেখেন, “মানচিত্রের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পুরো নম্বর। খুব ভালো কাজ (India Map)।”

    পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    আর এক ইউজার লেখেন, “পাকিস্তান, (আসিম) মুনির এবং ওয়াশিংটন সফর নিয়ে প্রচারের পক্ষে এটা একটা বড় ধাক্কা”, যা ইসলামাবাদের ট্রাম্পকে তোষামোদ করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে (Trade Deal)। গত ছ’মাসে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিনবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন, যার মধ্যে জুন মাসের একটি বহুল আলোচিত মধ্যাহ্নভোজও রয়েছে। এটি ছিল প্রথমবার, যখন কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে একান্তে সাক্ষাৎ করেন, কোনও বেসামরিক নেতৃত্ব ছাড়াই। এক সাংবাদিক টুইট-বার্তায় লেখেন, “বাণিজ্য গৌণ বিষয়। আসল বিষয় হল, এই মানচিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে পিওকে-কে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখানো হত।”

    অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি

    তবে মধ্য-মার্চে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকা এই অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ভারতের রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে, বিশেষত ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরে। ভারত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, ওষুধ, গাড়ি ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজের ‘রেড লাইন’ অটুট রেখেছে (India Map)। এখন প্রশ্ন হল, এই মানচিত্র কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে সূক্ষ্ম কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত, যা ভারতের দিকে ঝুঁকছে? এটি কি ট্রাম্পের সঙ্গে এক বছরের টানাপোড়েনের পর ভারতকে তুষ্ট করার কৌশল, নাকি নিছকই আমলাতান্ত্রিক অসাবধানতা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এই (Trade Deal) মানচিত্র ভারতকে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সুবিধা দিয়েছে এবং ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূখণ্ডগত দাবিকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে (India Map)।

     

  • Russia Ukraine War: কীভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছিলেন মোদি? মনে করালেন জয়শঙ্কর

    Russia Ukraine War: কীভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছিলেন মোদি? মনে করালেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে (Russia Ukraine War) ভারতের ভূমিকা স্মরণ করালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে যুদ্ধের ভয়াবহতা শুধু কমাননি ভারতীয় নাগরিক ও ছাত্রদের সুরক্ষিত ফিরিয়ে এনেছিলেন দেশে। যে তৎপরতার সঙ্গে ছাত্রদের ওই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় তা ছিল চ্যালেঞ্জের। কিন্তু মোদি জমানার কূটনৈতিক সাফল্যের ফল ছিল এটি”, বললেন এস জয়শঙ্কর।

    কূটনীতির পক্ষে কথা বলেন মোদি 

    প্রসঙ্গত ভ্লাদিমির পুতিন (Putin) ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে (Russia Ukraine War) সংলাপ এবং কূটনীতির পক্ষে কথা বলেন। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ভারতীয়দের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে তিনি পুতিন এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ইউক্রেন-রাশিয়া সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রী মোদির হস্তক্ষেপের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “ খারকিভে গোলাবর্ষণ শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী রুশ রাষ্ট্রপতি পুতিনের সঙ্গে কথোপকথন করেছিলেন এবং তাঁকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলেছিলেন। এবিষয়ে মোদিজির স্পষ্ট বক্তব্য ছিল ভারত এই যুদ্ধে সমর্থন করছে না।  ভারতীয়দের বের না করা পর্যন্ত কিন্তু রাশিয়ান গোলাবর্ষণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।”

    প্রত্যেক ভারতীয়কে ফিরিয়ে আনা হয় 

    কয়েক হাজার ভারতীয় ছাত্র এবং কয়েকশো ভারতীয় নাগরিক ইউক্রেনে এবং রাশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত আটকে পড়েছিলেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে ভারতীয়দের ফিরিয়ে এনেছিলেন। ভারতীয় পতাকা গর্বের সঙ্গে উঁচু করে ভারতীয় ছাত্ররা যুদ্ধের ময়দানে সুরক্ষিত স্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় ভারতীয় পতাকা ছিল তাদের গর্বের কারণ। ভারতীয়রা যেখানে যাচ্ছিল তাদের পথ করে দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি সেই সময় পাকিস্তানি ছাত্ররা ও ভারতীয় পতাকা নিয়ে সুরক্ষিত স্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, এমন দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এই দৃশ্য ভারতের কূটনৈতিক জয় বলে মনে করেন বিদেশমন্ত্রী। ভারতীয়দের প্রত্যেককে সুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।  

    রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ভারতের শিক্ষা

    এছাড়াও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভয়াবহতা কমাতে ভারত যথেষ্ট উদ্যোগী হয়েছিল। একইসঙ্গে এই যুদ্ধের ফলে ভারত অত্যন্ত কম দামে তেল কিন্তু সক্ষম হয়। যার প্রভাব পড়ে ভারতীয় অর্থনীতিতে। ভারত এখন কম দামে তেল কিনে দেশীয় বাজারে পেট্রোপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকেও পরিশোধিত তেল বিক্রি করে যথেষ্ট মুনাফা অর্জন করছে ভারত। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও বেশ কয়েকটি দেশ ভারতীয় তেল ক্রয় করছে। এর লাভ পেয়েছে ভারতীয় অর্থনীতি।

    আরও পড়ুন: ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে’, বলছে কিরঘিজ সরকার, ভারতীয় পড়ুয়াদের ঘরবন্দি থাকার নির্দেশ

    শুধু তাই নয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) থেকে ভারতীয় সামরিক বাহিনীও শিক্ষা নিয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধগত কৌশলের ক্ষেত্রে। বর্তমানে যুদ্ধের পরিস্থিতি কীভাবে বদল হয়। যুদ্ধক্ষেত্রের রণকৌশলের আধুনিকীকরণ সহ বেশ এই যুদ্ধ থেকে কয়েকটি সামরিক বিষয়ে শিক্ষা নিয়েছে ভারত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Information Technology: প্রযুক্তি বিশ্বে এগিয়ে চলেছে দেশ!  ‘টেকনোলজি হাব’-এর জন্য প্রস্তুত গ্রামীণ ভারতও

    Information Technology: প্রযুক্তি বিশ্বে এগিয়ে চলেছে দেশ! ‘টেকনোলজি হাব’-এর জন্য প্রস্তুত গ্রামীণ ভারতও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি বিশ্বে (Information Technology) ভারত এখন নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২০ সালে আত্মনির্ভর ভারতের (Make in India)ডাক দিয়েছিলেন। দেশে এখন বিদেশি স্মার্টফোন যেমন আসে, তেমনই আবার স্বদেশি স্মার্টফোনও তৈরি হয়, আবার বিদেশি সংস্থাগুলিও এ দেশে নিজেদের ব্র্যান্ডের ফোন তৈরি করছে। শুধু ফোন নয়। নানাবিধ গ্যাজেটস থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা বাইকও তৈরি হচ্ছে দেশে। 

    গতি শক্তি-তে জোর

    ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘গতি শক্তি’। অর্থাৎ, দ্রুততাই যেখানে হবে বিকাশের শক্তি। সরকারের নতুন এ ডিজিটাল পোর্টালে প্রকল্পের নকশা জমা দিতে পারবে বিনিয়োগকারী ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো। আর অনুমোদন প্রক্রিয়াও হবে মসৃণভাবে। নয়াদিল্লিতে এক সাক্ষাৎকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লজিস্টিক্স বিষয়ক বিশেষ সচিব অমৃত লাল মিনা বলেন, ‘সময় ও ব্যয় সীমার মধ্যে রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নই আমাদের মিশন। বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো যেন পণ্য প্রস্তুতের জন্য ভারতকে বেছে নেয়– সেটাই মূল লক্ষ্য’। 

    কৃত্রিম মেধার উপর ভরসা

    জিও পলিটিক্সে তথ্য-প্রযুক্তির হাত ধরে ভারত যাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যেতে পারে তার চেষ্টা করে যাচ্ছে বর্তমান কেন্দ্র সরকার। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কৃত্রিম মেধাকে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পাখির চোখ করার জন্য জোরালো সওয়াল করেছিলেন। সরকারে জোর দিয়েছে ‘ড্রোন-শক্তি’র মতো প্রকল্পে, যেখানে কৃত্রিম মেধার সাহায্যে বিভিন্ন আকারের ড্রোন ব্যবহার করা হবে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক পরিসরে। গত ৬ বছরে, ভারতে স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলোর বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১৫৪০০%। এর সিংহভাগেরই কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম মেধা-ভিত্তিক কোনও নতুন ব্যবসায়িক ধারণা। 

    আরও পড়ুন: নেতাজিই আদর্শ! তাঁর দেখানো পথেই এগিয়ে চলার বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ইউনেস্কো-র একটি শিক্ষা-সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে কৃত্রিম মেধাভিত্তিক ব্যবসার বাজার এই মুহূর্তে বছরে ২০.২% চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে, এবং ২০২৫ নাগাদ এই বাজারটির অর্থমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ৭.৮ বিলিয়ন ডলার, বা প্রায় পঁয়ষট্টি হাজার কোটি টাকা। এই বাজারের মূল প্রসার মূলত তিনটি প্রয়োগক্ষেত্রকে ঘিরে— ভোগ্যপণ্য ও পাইকারি ব্যবসা, কৃষি, এবং ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা। অর্থনীতি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ নাগাদ কৃত্রিম মেধার ব্যবসায়িক লভ্যাংশ থেকেই আসবে ভারতের লক্ষ্য যে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি, তার প্রায় ১০%। বিশ্বের পঁচিশটি দেশকে নিয়ে গঠিত সংস্থা গ্লোবাল পার্টনারশিপ অন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা জিপিএআই-এর মূল দায়িত্ব হল সাধারণ মানুষের কল্যাণার্থে কৃত্রিম মেধার দায়িত্বশীল প্রয়োগ এবং প্রসার ঘটানো। ২০২২-২৩ সালে এই সংস্থাটির পরিচালনভার নিয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে, ভারত এখন ডিজিটাল বিপ্লবের মঞ্চ তৈরি করছে। 

    ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন গ্রাম থেকেই

    তথ্য প্রযুক্তির হাত ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন প্রজন্মের উপর ভরসা রেখেছেন। ইনোভেশনের শক্তি অনুযায়ী এখন ইউপিআই- ভীম, ডিজিটাল পেমেন্ট, ফিনটেকের বিশ্বে ভারত নিজের জায়গা করে নিয়েছে। আজ বিশ্বে রিয়েল টাইম চল্লিশ শতাংশ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন ভারতে হয়। দেশ এখন ফাইভ জি-পর্বে পা রেখেছে। ভারতের গ্রামে গ্রামে এখন অপটিক্যাল ফাইবারের নেটওয়ার্ক পৌঁছে যাচ্ছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন গ্রাম থেকেই বাস্তবায়িত করার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভারতের চার লক্ষ কমন সার্ভিস সেন্টার গ্রামে গ্রামে গড়ে উঠছে। গ্রামের নবীন যুবক-যুবতীরা কমন সার্ভিস সেন্টার চালাচ্ছেন। দেশ গর্ব করতে পারে যে গ্রামীণ ক্ষেত্রে চার লক্ষ ‘ডিজিটাল এন্টারপ্রেনিউর’ তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ ভারতও এখন ‘টেকনোলজি হাব’-এর জন্য প্রস্তুত বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share