Tag: Gorkha Community

  • Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    Amit Shah:  শিলিগুড়ি করিডরে নিরাপত্তা জোরদারে সব সংস্থার উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে এই কৌশলগত অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার উপস্থিতি (National Security) বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। শনিবার করিডরটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি আরও নির্দেশ দেন, শিলিগুড়ি করিডরকে সব ধরনের দখলদারি থেকে মুক্ত রাখতে হবে এবং এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে।

    শিলিগুড়ি করিডর প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড। এটি ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই করিডরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    দক্ষিণ ও পশ্চিমে বাংলাদেশ, উত্তরে তিব্বত তথা চিনের অবস্থানের মাঝে রয়েছে এই করিডরটি। একই সঙ্গে এটি নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে শিলিগুড়ি করিডরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    বৈঠকে শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শিলিগুড়ি করিডরে অসামরিক প্রতিরক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা পর্যালোচনা (Amit Shah)

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকের সময়ই শাহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের কার্যকলাপ, জনসংখ্যার পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলি বৈঠকে উঠে আসে।

    বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক, সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রেল সুরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের মহানির্দেশকও।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সব সংস্থাকে করিডরে তাদের প্রতিষ্ঠান ও পরিকাঠামোর সংখ্যা বাড়িয়ে নিজেদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

    করিডরের গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তাও পর্যালোচনা করেন তিনি। সেগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি করিডরকে দখলদারি থেকে মুক্ত রাখার ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    অনুপ্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, “শিলিগুড়ি করিডরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।”

    বৈঠকে বহু সংস্থার সমন্বিত কাঠামোর অধীনে শিলিগুড়ি করিডরের জন্য গঠিত বিশেষ মনোযোগী গোষ্ঠী এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার জন্য তাদের সুপারিশ তুলে ধরে।

    এ ছাড়াও করিডরের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশল

    বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তায় চার স্তম্ভের সমন্বিত কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রচলিত সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Amit Shah)।

    এই চার স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সশস্ত্র সীমা বলের মতো সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী; অবৈধ অনুপ্রবেশ, স্থানীয় গতিবিধি ও অপরাধী চক্রের ওপর নজর রাখা রাজ্য পুলিশের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা; অসামরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় জনসমাজ।

    শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি স্তম্ভকেই সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে এই সমন্বিত কৌশল পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।

    শিলিগুড়ি করিডরের পরিকাঠামোগত প্রকল্পগুলির গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যে সমস্ত কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    উত্তরবঙ্গে আরও বেশি সৈনিক বিদ্যালয় খোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্যও রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেন শাহ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে জাতীয় ক্যাডেট বাহিনীর সিনিয়র ক্যাডেটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও উদ্যোগী হতে বলেন তিনি।

    গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের

    শিলিগুড়িতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গোর্খা সাংসদ, বিধায়ক এবং বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। দীর্ঘদিনের দাবি ও গোর্খা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উদ্বেগ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। পাশাপাশি ন্যায়সঙ্গত, মর্যাদাপূর্ণ এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত পথরেখা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

    বৈঠকের পর শাহ জানান, গোর্খা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং প্রকৃত উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও কথা হয়েছে।

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার এই বিষয়গুলির সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে গোর্খা সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রত্যাশা পূরণে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হবে (Amit Shah)।”

    শাহ এও বলেন, সরকার এমন একটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে, যা গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাকে সম্মান করবে, তাদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখবে এবং আরও ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।”

    গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে (National Security)।

    গোর্খাল্যান্ড নিয়ে আশা

    বিজেপি সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানান, বৈঠকের ফলে গোর্খাল্যান্ড সমস্যার ইতিবাচক সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “গোর্খাল্যান্ড সমস্যা নিয়ে আমরা যে সমাধান চাইছি, তা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে। একটি কমিটি গঠন করা হবে। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে আমাদের মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজের নেতৃত্বেই ওই কমিটি কাজ করবে।”

    শ্রিংলা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শিলিগুড়ি করিডরে একশো শতাংশ নিরাপত্তা থাকবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।”

    বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানান, বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামনে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে উদ্বেগ এবং উত্তরবঙ্গকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার বিষয়টিও (Amit Shah) উঠে আসে এদিনের আলোচনায় (National Security)।

     

  • Nitin Nabin: শিলিগুড়িতে গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নিতিন নবীনের, কী নিয়ে কথা হল?

    Nitin Nabin: শিলিগুড়িতে গোর্খা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নিতিন নবীনের, কী নিয়ে কথা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। সোমবার শিলিগুড়িতে গোর্খা সম্প্রদায়ের (Gorkha Community) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে। বিজেপির তরফে দেওয়া হয়েছে আশ্বাস।

    গোর্খাল্যান্ড ও বিকল্প দাবি (Nitin Nabin)

    বঙ্গ বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ উপলক্ষে বর্তমানে রাজ্যে অবস্থান করছেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। এই সফরের মধ্যেই পাহাড়ের গোর্খা নেতাদের (Gorkha Community) সঙ্গে তাঁর এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য।

    বৈঠকে উপস্থিত গোর্খা প্রতিনিধিরা পুনরায় পৃথক ‘গোর্খাল্যান্ড’ রাজ্যের দাবি উত্থাপন করেন। তাঁরা স্পষ্ট জানান, যদি পৃথক রাজ্য গঠন সম্ভব না হয়, তবে উত্তরবঙ্গকে একটি ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ (Union Territory) হিসেবে ঘোষণা করা হোক। উত্তরবঙ্গের মানুষ দীর্ঘ দিন বাম এবং তৃণমূলের শাসনে উন্নয়নের ধারা থেকে উপেক্ষিত রয়েছে। তাই উত্তরবঙ্গের মানুষ সার্বিক উন্নয়ন চান। তবে বাংলার পরিবর্তন এলে পাহাড় সমস্যার গঠন মূলক সমাধান যে হবেই এই নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    জিটিএ-র ব্যর্থতা

    গোর্খা নেতাদের অভিযোগ, ২০০৭ সালের আন্দোলনের পর গঠিত হওয়া গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) পাহাড়ের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। র্জিলিংয়ের বিজেপি বিধায়ক নীরজ জিম্বা বলেন, “গোর্খারা বৈঠকে থাকলে গোর্খাল্যান্ড প্রসঙ্গ আসবেই।” তৃণমূলের শাসনে পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাহাড়ের নেতারা।

    বিজেপি নেতৃত্বের আশ্বাস সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধান

    গোর্খা (Gorkha Community) প্রতিনিধিদের অভাব-অভিযোগ শোনার পর দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “বিজেপি বরাবরই পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চায়। ২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সমস্যার সম্মানজনক ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে।” অন্যদিকে, শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “পাহাড়ের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে এবং রাজ্যের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ভারসাম্য বজায় রেখেই বিজেপি সমাধানের পথ খুঁজবে।”

LinkedIn
Share