Tag: government hospital

government hospital

  • Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: সরকারি হাসপাতালে কড়া নজরদারি! স্বাস্থ্যভবন থেকে ডিজিটাল মনিটরিং চালু করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সাধারণ মানুষের কাছে আরও কার্যকর করে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার পথে আচমকাই স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, পরিকাঠামো, রোগী পরিষেবা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৫ থেকে ১৬টি সরকারি ও জেলা হাসপাতালকে ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ (ওপিডি), ওয়ার্ড, এমনকি রান্নাঘর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত অংশে নজরদারি চালানো হবে। তিনি বলেন, “রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বরদাস্ত করা হবে না।”

    স্বাস্থ্যভবনে অত্যাধুনিক কন্ট্রোল রুম

    হাসপাতালগুলির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্বাস্থ্যভবনে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম চালু হয়েছে। এই কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ ফিডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সাধারণ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে আসেন না। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি বারবার একই হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তাঁকে সহজেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর দাবি, সরকারি হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র

    রোগী ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থে হাসপাতালের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের জন্য পৃথক রঙের ল্যামিনেটেড পরিচয়পত্র চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নার্স, নিরাপত্তারক্ষী, ট্রলি চালক-সহ বিভিন্ন কর্মীর আলাদা ব্যাজ থাকলে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের পরিচয় বুঝতে পারবেন এবং বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে।

    প্রতিটি বড় হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার

    দুর্ঘটনা বা বড়সড় বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিটি বড় সরকারি হাসপাতালে আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে মাত্র এক মিনিটের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের পরিজনদের কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল চত্বরে স্বল্প খরচে বা বিনামূল্যে রাত্রিযাপনের আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইউনিটের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।

    এসএসকেএমে বাড়ছে বেড ও আইসিইউ

    এসএসকেএম হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে ইতিমধ্যেই ১০০টি নতুন বেড চালু হয়েছে। দুর্গাপুজোর আগেই আরও ২৫০টি বেড যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউ বেড ১১২ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ২০০ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্ন ইউনিটেও দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ করে পরিষেবা আরও উন্নত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

    রোগীদের খাবারের বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ

    সরকারি হাসপাতালের রোগীদের খাবারের মান উন্নয়নের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের আমলে ২০১৭ সালের পর থেকে রোগীদের খাদ্য বরাদ্দ আর বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার সেই বরাদ্দ ৫৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করেছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল, আইসিইউ-তে ভর্তি শিশু এবং আইসিডিএস প্রকল্পের অন্তর্গত গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টি সংক্রান্ত বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    বেসরকারি হাসপাতালের ফ্রি বেড নিয়ে কড়া বার্তা

    সরকারি জমিতে তৈরি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে চুক্তি অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের জন্য ১৫ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের চাপের মুখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলি আপাতত ১০ শতাংশ বিনামূল্যের বেড চালু করতে সম্মত হয়েছে।

    নিউটাউনে ২,০০০ শয্যার আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল

    স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতায় ২,০০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই হাসপাতালের ১,০০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

    দুর্নীতির তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ

    স্বাস্থ্য দফতরের অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আইন মেনে দ্রুত সরবরাহ করতে হবে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোবে প্রশাসন।

  • Hospital scam: তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার দিল্লির বিশিষ্ট হাসপাতালের দুই কার্ডিওলজিস্ট সহ নয় কর্মী

    Hospital scam: তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার দিল্লির বিশিষ্ট হাসপাতালের দুই কার্ডিওলজিস্ট সহ নয় কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোটা হাসপাতালই যেন দুর্নীতির আখড়া। চিকিৎসক, ল্যাব বিভাগ, হাসপাতালের কর্মচারি থেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সররাহকারী সংস্থার কর্মী। সকলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির (Hospital scam) অভিযোগ। এমনই দুর্নীতির মাকড়জাল সামনে এল। দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল থেকে দুই চিকিৎসক সহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করল সেন্ট্রাল বিউরো অফ ইনভেস্টিগেশন। বুধবার হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ১৪ই মে পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    গ্রেপ্তার কার্ডিওলজি বিভাগের দুই চিকিৎসক (Hospital scam)

    জানা গিয়েছে গ্রেফতার হওয়া ৯ জনের মধ্যে দুজন কার্ডিওলজি বিভাগের নাম করা চিকিৎসক। তাদের নাম অজয় রাজ এবং পার্বতাগৌড়া চেনাপ্পাগৌড়া। এছাড়াও ভুবল জয়সওয়াল (ক্লার্ক), সঞ্জয় কুমার (ক্লার্ক), রজনীশ কুমার (ক্যাথ ল্যাব ইঞ্চার্জ), বিকাশ কুমার(দালাল), নরেশ নাগপাল (চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী), ভরত সিং ((চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী), আবরার আহমদকে (চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী) গ্রেফতার করা হয়েছে। সিবিআই সূত্রে খবর মোট ১১ জন ব্যক্তি ও চারটি সংস্থার নামে এফআইআর হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন হাসপাতালে কর্মী, একজন মধ্যস্থতাকারী ও চারজন চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী। এরা সকলের হাসপাতালে তোলাবাজির (Hospital scam) রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে অভিযোগ। চিকিৎসকরা ও হাসপাতালের ল্যাব বিভাগের কর্মীরা ওষুধ ও  চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারীদয়ের কাছ থেকে অনৈতিক উপায়ে টাকা আদায় করছিলেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে হাসপাতালের কর্মীরা রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধে পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তোলা আদায় থেকে শুরু করে অনেকক্ষেত্রে ভয় দেখিয়ে টাকা তুলছিলেন বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে নার্সদেরও যুক্ত থাকার অভিযোগ পেয়েছে সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা।

    ৫০ বছর পর মথুরার গোবর্ধন পাহাড়ে ফের খনন শুরু এএসআই-এর, কেন জানেন?

    ইউরোপ টুরে যাওয়ার আগে দিয়ে ঘুষ দেওয়ার অনুরোধ করেন চিকিৎসক 

    অজয় রাজ এবং পার্বতাগৌড়া বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিনি স্টেন্ট সরবরাহ সংস্থার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির স্টেন্ট কেনার জন্য রোগীদের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করতেন। হৃদরোগে অস্ত্রোপচারে স্টেন্টের প্রয়োজন হয়। প্রসঙ্গত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় হৃদরোগে আক্রন্ত হলে তাঁর হৃদযন্ত্রে স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। অভিযুক্ত দুই হৃদরোগ বিষেষজ্ঞ চিকিৎসক ঘুষ নিয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির সরঞ্জাম ব্যবহার করার জন্য রোগীর পরিবারের উপর চাপ দিতেন।  সিবিআই সূত্রে খবর পার্বতাগৌড়া আহমেদ নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল ঘুষ বাবদ ২লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা প্রদেয় অর্থ গরমের ছুটিতে ইউরোপ টুরে যাওয়ার আগে দিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর আগে আহমেদ নামে ঐ ব্যক্তি ওই চিকিৎসকের পিতা বসন্ত গৌড়ার কাছে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা নগদ দিয়েছিল। এফআইআরে কথা উল্লেখ আছে যে কার্ডিয়োলজিস্ট অজয় রাজকে ভারতী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এর তরফ থেকে ভরত সিং দালাল বেশ কয়েক দফায় লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। এমনকি হাসপাতালের কেরানি সঞ্জয় কুমারের  বিরুদ্ধে অভিযোগ যে সে ভুয়ো মেডিকেল সার্টিফিকেট বিক্রি করত। বিভিন্ন সংস্থায় ছুটির আবেদন কিংবা অফিসিয়াল দরকারে যাদের মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রয়োজন হত তাঁদের কাছ টাকা থেকে ভুয়ো মেডিকেল সার্টিফিকেট দেওয়া হত। প্রয়োজন বুঝে মোতা টাকাও আদায় হত বলে অভিযোগ। এভাবে বাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা সঞ্জয় তুলেছিল।

    রোগীদের কাছ থেকে চলত তোলা আদায় (Hospital scam)

    শুধু তাই নয় রোগীদেরকে ভয় দেখিয়েও রীতিমত চলত তোলা আদায়(Hospital scam) । জানা গিয়েছে ভুবল জয়সওয়াল নামে এক কেরানি এবং শালু নামে এক নার্সও তোলাবাজির ঘটনায় (Hospital scam) জড়িত বলে অভিযোগ। তাঁরা এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তাঁর স্বামীকে ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা আদায় করেছিল অভিযোগ ওঠে ওই ব্যক্তিকে ভয় দেখানো হয় যদি কুড়ি হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই ব্যক্তিকে বলা হয় টাকা না দিলে তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে ছুঁড়ে ফেলা হবে। ভয় পেয়ে ওই ব্যক্তি অনলাইনের মাধ্যমে ভুবলকে কুড়ি হাজার টাকায় ইউপিআই পেমেন্ট করেন। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং অতিরিক্ত সুবিধায় পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তোলা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালে দুর্নীতি এখানেই সীমিত ছিল না হাসপাতালে ল্যাবরেটরি বিভাগের রজনিশ কুমার এবং আব্রার আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা বেশ কয়েকটি কোম্পানির সরঞ্জাম রোগীদের সুপারিশ করার নাম করে ঘুষ নিত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • WB Hospital: সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলেও টাকা? দালালচক্রে হয়রান রোগী ও পরিজনেরা

    WB Hospital: সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলেও টাকা? দালালচক্রে হয়রান রোগী ও পরিজনেরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবে, সরকারি হাসপাতাল (WB Hospital) নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল, দালালচক্র। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে ওষুধ সবটাই হবে বিনামূল্যে, সম্পূর্ণ নিখরচায়, এমন কথা সব সময় বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলেও টাকা দিতে হয়। সরকারি হাসপাতালে সক্রিয় একাধিক দালালচক্র। অন্য হাসপাতাল থেকে রেফার হোক কিংবা সরকারি হাসপাতালে আউটডোরে চিকিৎসকের পরামর্শে ভর্তি, দালালকে টাকা দিলে তবেই সম্ভব। না হলে, ‘বেড নেই’, এমনই শুনতে হয়। 

    কী অভিজ্ঞতা হয় রোগীর পরিবারের (WB Hospital)? 

    সরকারি হাসপাতালে (WB Hospital) ভর্তি নিয়ে নানান অভিযোগ রোগীর পরিবারের। তবে, দালালচক্রের জন্য সবচেয়ে বেশি হয়রানি হতে হয় রোগী ও পরিজনের। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে এক রোগী জ্বর, কাশি ও ফুসফুসের কিছু সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান। তাঁকে পরীক্ষার পর চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ফুসফুসের সমস্যার জন্য তাঁকে ভর্তি হতে বলা হয়। কিন্তু অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে কাউন্টারের কাছে কিছু ব্যক্তি এসে তাঁর পরিজনদের জানান, তাঁরা হাসপাতালের কর্মচারী। পরিবারের কাছে নগদ কয়েক হাজার টাকা দাবি করা হয়। তবেই রোগী ভর্তি করা হবে, এমনও জানানো হয়। পরিবারের সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ ছিল না। তাঁরা রোগী ভর্তি করতে পারেননি। পরে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সেই রোগী আরও জটিল বক্ষঃরোগ নিয়ে ভর্তি হন। মুর্শিদাবাদের ঘটনা ব্যতিক্রম নয়। এমনই অভিজ্ঞতা রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের এক রোগী ও তাঁর পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ, পেটের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে যান বীরভূমের এক প্রৌঢ়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করাতে হলেও দালালচক্রকে টাকা দিতে হবে বলেই অভিযোগ করেন ওই প্রৌঢ় ও তাঁর পরিবার।ফলে, বিনা চিকিৎসাতেই হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে হয়। ভোগান্তির শিকার রোগী ও তাঁর পরিবারের লোকজন জানাচ্ছেন, কলকাতা হোক বা জেলা, রাজ্যের যে কোনও সরকারি হাসপাতাল বিশেষত যে কোনও সরকারি মেডিক্যাল কলেজে রোগী ভর্তি করতে হলেই নগদ টাকা দিতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দালালচক্রে যাঁরা সক্রিয় থাকেন, তাঁরা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কর্মী। কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও অধিকাংশ সময়ই কোনও সদুত্তর পাওয়া যায় না।

    দালালচক্র (WB Hospital) নিয়ে সরব খোদ বিধায়ক থেকে সাংসদ? 

    সরকারি হাসপাতালের (WB Hospital) দালালচক্রের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে শুধু রোগী ও তাঁর পরিবার নয়। এবার তা নিয়ে মুখ খুলছেন তৃণমূলের বিধায়ক থেকে সাংসদ। সূত্রের খবর, সম্প্রতি দলের অন্দরেই একাধিক নেতা রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বারবার বিজ্ঞাপনে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বলা হচ্ছে। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে রোগী হয়রানি বাড়ছে। ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, সময়মতো চিকিৎসাও পাওয়া যায় না। তবে, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে গেলে যেভাবে সরাসরি দালালচক্রের খপ্পরে পড়তে হয়, তা বন্ধ করা দরকার বলে দলের অন্দরেই জানাচ্ছেন নেতারা। তবে শুধু বন্ধ ঘরে নয়, হাসপাতালের দালালচক্র নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্র থেকে সাংসদ শতাব্দী রায়। সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে দালালচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে মুখ খোলেন মদন মিত্র। সংবাদ মাধ্যমে জানান, টাকা না দিলে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যায় না।তৃণমূলের সাংসদ শতাব্দী রায়ও অভিযোগ করেন, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের দালালচক্র নিয়ে। 

    কী বলছেন স্বাস্থ্যকর্তারা? 

    স্বাস্থ্য দফতর কিন্তু এ নিয়ে মুখ বন্ধ রেখেছে। সরকারি হাসপাতালে (WB Hospital) দালালচক্রের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানায়, অভিযোগ জমা পড়লেই খতিয়ে দেখা হয়। কেউ ভোগান্তির শিকার হলে অভিযোগ জানান। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Bardhaman: সরকারি হাসপাতালেই এক্স-রে হল না রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহর, পদত্যাগ চাইল বিজেপি

    Bardhaman: সরকারি হাসপাতালেই এক্স-রে হল না রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহর, পদত্যাগ চাইল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতে লোক নেই, তাই সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে হল না রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহর। স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের জোয়ারের কথা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের ঢাক পিটিয়ে প্রায় বলতে শোনা যায়। অথচ রাজ্যের খোদ মন্ত্রীর মুখেই এবার শোনা গেল বর্ধমানের (Bardhaman) এক সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা না পাওয়ার কথা। অবাক রাজ্যের মন্ত্রী! ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জীর্ণদশার কথা ফের একবার উঠে এল। পাল্টা মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইল বিজেপি। উল্লেখ্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও গত কয়েক মাস আগে এসএসকেএমে নিজের পায়ের চিকিৎসার বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শোনা যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মুখের কথাই যেন ফের আওড়ালেন এবার গ্রন্থাগারমন্ত্রী।

    কী বললেন সিদ্দিকুলাহ (Bardhaman)?

    গত মঙ্গলবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি শৌচাগার থেকে বের হওয়ার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। ডান পায়ের কনিষ্ঠ আঙুলে চোট লাগে। এরপর রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এরপর সন্ধ্যায় যন্ত্রণা বাড়তে থাকলে চিকিৎসার জন্য বর্ধমান (Bardhaman) মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে যান। চিকিৎসকেরা জানধ, এক্স-রে করতে হবে। কিন্তু হাসপাতালের ওপিডিতে দিনে এক্স-রে হলেও রাতে তা করার কোনও ব্যবস্থা নেই বলে জানতে পারেন মন্ত্রী। কথা শুনেই অবাক হয়ে যান তিনি। এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই বিরাট হাসপাতালে এক্স-রে হবে না! আমার জানা ছিল না। সব সময় হলে মানুষের অনেক উপকার হবে। আমি উদ্যোগ নিয়ে এই কাজটি করাবো। মানুষের সুবিধার জন্য চেষ্টা করব। মানুষ যাতে সুযোগ পান সেই দিকেই নজর রাখবো। রাজ্যে ৪২-৪৩টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল রয়েছে। আমি সরকারি হাসপাতালেই দেখাই, প্রাইভেটে দেখাই না।”

    বিজেপির বক্তব্য

    মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করে বিজেপি। বিজেপির পূর্ব বর্ধমান (Bardhaman) জেলার সহ সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় চন্দ বলেন, “সরকারি হাসপাতালে যদি রাজ্যের মন্ত্রীর এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হাল হবে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য ন্যূনতম পরিষেবার ব্যবস্থা নেই। তাই রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুলাহ সাহেবের পদত্যাগ করা উচিত।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share