Tag: Government Scheme News

  • Nabanna Cabinet Meeting: নবান্নে বড় ঘোষণা! সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর, মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস ও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’

    Nabanna Cabinet Meeting: নবান্নে বড় ঘোষণা! সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর, মহিলাদের জন্য ফ্রি বাস ও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হলো নতুন বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠক। সরকার গঠনের পর এটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক, যেখানে রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষত মহিলা ও সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থে একাধিক বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ক্যাবিনেটের সিদ্ধান্তগুলির বিস্তারিত ঘোষণা করেন। তাঁর কথায়, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মানুষের জন্য দ্রুত কাজ শুরু করেছে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে ফের সক্রিয় করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত

    দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম বড় দাবি ছিল কেন্দ্রীয় হারে বেতন কাঠামো এবং মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে আজকের বৈঠকে সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন পুনর্বিবেচনা, বকেয়া ডিএ এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সংক্রান্ত জট দ্রুত কাটতে পারে। যদিও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো, সদস্য তালিকা এবং কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সাধারণত ১০ বছর অন্তর কেন্দ্র ও রাজ্য পে কমিশন গঠন করে। রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাজ্য মন্ত্রিসভা সপ্তম পে কমিশনে সিলমোহর দেওয়ার পর বেতন বৃদ্ধির অঙ্ক নিয়েও চলছে জল্পনা।সরকারি কর্মীরা বলছেন, সপ্তম পে কমিশন গঠন হয়ে কার্যকর হলে, একলাফে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে কর্মীদের বেসিক পে।

    প্রতিশ্রুতি পালন বিজেপির

    নির্বাচনী ইস্তেহার থেকে প্রচারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে সপ্তম পে কমিশন। তার ফলে বেতন পরিকাঠামোয় বদল আসবে। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। রাজ্যে পালা বদল ঘটেছে। গত ৯ মে, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক ৯ দিনের মাথায় দ্বিতীয় বৈঠকে সপ্তম পে কমিশনে সায় দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমরা আগে থেকেই বলেছিলাম, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, প্রশাসনিক কাজেও গতি আনা হবে। সরকার গঠনের পর থেকেই মানুষের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি ফের রাজ্যে চালু করাই আমাদের লক্ষ্য।” যদিও ডিএ নিয়ে এদিনের বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে তা অ্যাজেন্ডায় রয়েছে বলেই জানান মন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি সরকারি কর্মীরা।

    ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বদলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’

    সবচেয়ে বড় ঘোষণা এসেছে রাজ্যের বহুল জনপ্রিয় মহিলা সহায়তা প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে চালু করা হবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নামে। ক্যাবিনেট সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতায় আর্থিক সহায়তা পেতেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হবে। ফলে পুরনো উপভোক্তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না। আগের মতোই সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে।

    নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু শীঘ্রই

    এছাড়া, যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁদের জন্য খুব শীঘ্রই একটি নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করা হবে। সেখান থেকে আবেদন করে নতুন উপভোক্তারা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র জন্য আবেদনকারীদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরাও ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    ১ জুন থেকে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত

    মহিলাদের জন্য আরও একটি বড় স্বস্তির ঘোষণা করেছে নতুন সরকার। আগামী ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে কর্মজীবী, ছাত্রী, গৃহবধূ এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। মন্ত্রী আরও জানান, জুন মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর রাজ্যে নতুন বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস (E-Bus) পরিষেবা সম্প্রসারণে।

    রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা

    বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে মহিলা কল্যাণ, সরকারি কর্মীদের আর্থিক দাবি এবং গণপরিবহণ—এই তিন ক্ষেত্রকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ও বিনামূল্যে বাসযাত্রার মতো সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। জুনের পূর্ণাঙ্গ বাজেটের দিকে এখন নজর থাকবে রাজ্যবাসীর, কারণ সেখানেই এই ঘোষণাগুলির আর্থিক কাঠামো এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।

LinkedIn
Share