Tag: Gujarat

Gujarat

  • PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সরকারের শীর্ষপদে থাকার যাত্রা। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর এই ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা পূর্ণ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ভুটান, জাপান, ফিলিপিন্স, নাইজেরিয়া, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, ডোমিনিকা-সহ একাধিক দেশের নেতারা মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের বার্তায় ভারতের উন্নয়ন, সুশাসন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

    বিষ্ণুর অবতার বলে উল্লেখ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে “আমাদের সময়ের এক অবতার” বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেই সময় মোদিকে নিজের দাদা এবং ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখেন বলে জানিয়েছিলেন তোবগে।

    মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, সহমর্মিতা এবং সাহস—একজন আলোকিত নেতার এই গুণগুলির সমন্বয় তিনি মোদির মধ্যে দেখতে পান। তাঁর মতে, ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্যের মাধ্যমে ভারতের সামনে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে (PM Modi)। তোবগে আরও বলেন, মোদির নেতৃত্বে ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের দেশ ও নিজেদের ক্ষমতার প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    কী বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভারতের উন্নয়নে অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে আপনি ভারতীয় সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি অসাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। ভারতের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আপনার কৃতিত্বের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

    ভারত সফরের সময় উষ্ণ আতিথেয়তার জন্যও মোদিকে ধন্যবাদ জানান তাকাইচি। ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মোদির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

    মোদির প্রশংসা ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টেরও

    ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্ব পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার উল্লেখ করে মার্কোস বলেন, মোদির নেতৃত্বে সুশাসন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মার্কোসের মতে, এই বিষয়গুলি ভারতের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নভেম্বরে আসিয়ান-ভারত এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মণিলায় মোদিকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান (PM Modi) তিনি।

    ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’, বললেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

    নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে সত্যিই ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বলেন, “একটানা ২৫ বছর নেতৃত্বে থাকা যে কোনও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেই বিরল কৃতিত্ব। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে এটি ভারতীয় জনগণের তাঁর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আস্থার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।”

    তিনুবু আরও বলেন, এই ২৫ বছরে মোদি উন্নয়নের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভারত ও নাইজেরিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট।

    মোদি স্তুতি বতসোয়ানার প্রেসিডেন্টের

    বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ডুমা গিডিয়ন বোকো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতীয় জনগণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও সেবার প্রশংসা (PM Modi) করেন।

    তিনি বলেন, “সরকারের শীর্ষে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার নিষ্ঠা ও সেবার আমরা প্রশংসা করি। আগামী বছরগুলিতে আপনার সাফল্য কামনা করি এবং আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা রাখি।”

    ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ভেভারও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি—সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছরের যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গত মাসে আমার ফলপ্রসূ ভারত সফরের পর দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও মোদিকে ২৫ বছরের জনসেবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভারত সরকার ও মোদির আগামী দিনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    মোদির জার্নি, গুজরাট থেকে ‘কর্তব্যপথ’

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন তিনি গুজরাটের  মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর গুজরাটে টানা তিন দফা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই সময় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে টানা তৃতীয় মেয়াদ সম্পূর্ণ করার পথে রয়েছেন। ২৫ বছর পূর্তিতে পাওয়া শুভেচ্ছার জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নাইজেরিয়া, ভুটান, ফিলিপিন্স, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম এবং ডোমিনিকার নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র সমাপ্তি কর্মসূচি হিসেবে ৭ অক্টোবর, বুধবার ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র আয়োজন করবে বিজেপি (PM Modi)। সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরেও এই কর্মসূচি পালিত হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান (Seva Jyoti Yatra) রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ (PM Modi)

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হওয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই কর্মসূচির আয়োজন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু হয়েছিল ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। ৭ অক্টোবর তার সমাপ্তি হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র মাধ্যমে। শমীক বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ৭ অক্টোবর সারা দেশে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরে বিজেপি কর্মীদের উপস্থিতিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।”

    তিনি জানান, বিভিন্ন জেলা সদরে বড় পর্দায় সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য সম্প্রচার করা হবে। তাঁদের বক্তব্যের পর শুরু হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’। মশাল হাতে পদযাত্রায় অংশ নেবেন বিজেপি কর্মীরা।

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম বার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। টানা প্রায় ১৩ বছর ওই পদে থাকার পর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে ভোটে লড়ে বিজেপি। ওই নির্বাচনে প্রথম বার লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় পদ্মশিবির। এরপর টানা ১২ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি। ৭ অক্টোবর সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হবে।

    বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন

    শমীক জানান, কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরেও একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সেখানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক সাফল্য, গুজরাটের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ২৫ বছরের জনসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে (PM Modi)।

    একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ থেকে ১৪০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সাফল্যও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

    রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রাজনীতির প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন এসেছে এবং উন্নয়নকে রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শমীক বলেন, “আজকের ধর্ম গণতন্ত্র এবং আজকের রাজনীতি উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনীতির গতানুগতিক পরিভাষা বদলে উন্নয়নকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত (Seva Jyoti Yatra) করেছেন।”

    তাঁর কথায়, “আজকের তরুণ প্রজন্ম আধুনিক জীবনযাত্রা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ চায়। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশাকেই বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন (PM Modi)।”

     

  • Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    Uniform Civil Code: মিলল রাষ্ট্রপতির সম্মতি, গুজরাটে পরিষ্কার হয়ে গেল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরের রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতির পর খুলে গেল গুজরাটে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকরের আনুষ্ঠানিক পথ। উত্তরাখণ্ডের পর গুজরাটই ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য, যেখানে এই বিধি কার্যকর করার অনুমোদন মিলল। রাষ্ট্রপতির সম্মতি পাওয়া বিধিটি ১ অক্টোবর রাজ্যের সরকারি বিশেষ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতি দেওয়া হয়েছিল (Gujarat) ১৭ সেপ্টেম্বর। তবে বিধিটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই তারিখ রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে। চলতি বছরের মার্চে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা শেষে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পাশ করে গুজরাট বিধানসভা।  ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। এই বিধিতে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং বিবাহবহির্ভূত সহবাসের মতো বিষয়গুলির জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গুজরাটের আইনটি মূলত উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আদলে তৈরি। তবে তফশিলি উপজাতি এবং সংবিধানের ২১তম অংশের অধীনে প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকা কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এই আইনের আওতার বাইরে থাকবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Uniform Civil Code)

    মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাঁর কথায়, “এই বিল গুজরাটের বোন ও মেয়েদের জন্য আনা হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য আরও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়েছে। এই বিল নিশ্চিত করছে যে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে না। এটি কারও অধিকার কেড়ে নেয় না বা কারও স্বাধীনতায় বাধা দেয় না।”

    তবে বিরোধীরা বিলটির বিরোধিতা করে দাবি করেছে, এতে মূলত সাম্প্রদায়িক বিষয়গুলিই গুরুত্ব পেয়েছে এবং এর মাধ্যমে শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হবে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অসন্তোষ মোকাবিলায় বিলটি দ্রুত পাশ করানো হয়েছে।

    বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে গুজরাটের কংগ্রেস বিধায়ক ইমরান খেদাওয়ালা বলেন, “এই বিল আমাদের সমাজের বিরুদ্ধে এবং এতে আমাদের কোনও উপকার হবে না। আমরা কোরান ও শরিয়তে বিশ্বাস করি, তাই আমরা এই বিলের বিরোধিতা করছি। সরকার যদি মুসলিম মহিলাদের নিয়ে সত্যিই উদ্বিগ্ন হয়, তাহলে বিলকিস বানোর প্রতি ন্যায়বিচার করা এবং তাঁর অভিযুক্তদের দেওয়া সংবর্ধনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

    আম আদমি পার্টির অভিযোগ

    আম আদমি পার্টির বিধায়ক ছতার বাসাভানের অভিযোগ, শুধুমাত্র নির্বাচনী স্বার্থেই সরকার এই বিল এনেছে। নতুন অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবস্থান নিয়েও স্পষ্টতা নেই বলে দাবি করেন (Uniform Civil Code) তিনি। আম আদমি পার্টির এই বিধায়ক বলেন, “কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি। অন্য সম্প্রদায়ের কাউকে বিয়ে করা আদিবাসী মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হবে, সরকার তা স্পষ্ট করেনি।”

    গুজরাটের এই আইনটি বিবাহবহির্ভূত সহবাসের সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই ধরনের সম্পর্কে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকার, উত্তরাধিকার, বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন আনছে। বিধানসভায় বিলটি পাশের সময় বিরোধী কংগ্রেস বিধায়করা স্পিকারকে এটি নির্বাচিত কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানিয়ে অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন (Gujarat)।

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরাখণ্ড দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছিল। ২০২২ সালের উত্তরাখণ্ড বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহারেও ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল এই বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করা।

     

  • Ahmedabad: ডিজেলের বিকল্প এলএনজি, ভারতে প্রথম এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু গুজরাটে

    Ahmedabad: ডিজেলের বিকল্প এলএনজি, ভারতে প্রথম এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু গুজরাটে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রেলের জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়। দেশের প্রথম এলএনজি (LNG) চালিত ট্রেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল গুজরাটের সবরমতী থেকে। রবিবার ট্রেনটির উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল। রেল পরিষেবায় প্রচলিত ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে ডিজেল-প্লাস-এলএনজি ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তি। সবরমতী ইন্টিগ্রেটেড কোচিং ডিপোর দুটি ১,৪০০ হর্সপাওয়ারের ড্রাইভিং পাওয়ার কার (DPC)-কে এই প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী একই ইঞ্জিনে ডিজেলের পাশাপাশি এলএনজিও ব্যবহার করা যাবে।

    প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা

    প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই ওই দুটি রূপান্তরিত ডিপিসি-তে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি ফিল্ড ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। রেলের পরীক্ষামূলক তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় মোট ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এলএনজি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। রেলের হিসেব অনুযায়ী, এলএনজি ব্যবহারের ফলে জ্বালানি খরচ কমার পাশাপাশি কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পার্টিকুলেট ম্যাটারের মতো দূষণকারী নির্গমনও কমতে পারে। পূর্ববর্তী রেল মূল্যায়নে অনুমান করা হয়েছিল, একটি ডিপিসি থেকে বছরে প্রায় ১১.৯ লক্ষ টাকা এবং আট-কোচের একটি রেক থেকে প্রায় ২৩.৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে।

    ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তির সুবিধা

    ডুয়াল-ফুয়েল প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হল এর নমনীয়তা। জ্বালানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এলএনজি ও ডিজেলের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারবে। একইসঙ্গে প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিনের শক্তি ও কার্যক্ষমতা বজায় রেখেই ডিজেলের আংশিক বিকল্প হিসেবে এলএনজি ব্যবহার করা যাবে। প্রতিটি রূপান্তরিত ডিপিসি-তে প্রায় ২,২০০ লিটারের এলএনজি ট্যাঙ্ক বসানো হয়েছে। এতে প্রায় ৮৫০ থেকে ৯০০ কেজি ব্যবহারযোগ্য এলএনজি ধারণ করা যায়। একবার সম্পূর্ণ এলএনজি ভরলে প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ট্রেন চালানো সম্ভব বলে রেলের তরফে জানানো হয়েছে। ফলে ঘন ঘন জ্বালানি ভরার প্রয়োজনও কমবে।

    একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন

    অমিত শাহের আমেদাবাদ সফরের সময় একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন ও সূচনার অংশ হিসেবেই এই এলএনজি-চালিত ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। গোটা প্যাকেজে রেল নিরাপত্তা, সিগন্যালিং, লাইন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মালবাহী পরিকাঠামো-সহ মোট ১,৫৪২ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্প রয়েছে। এর আগে সাবরমতীতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াগ-১২ লোকোমোটিভ রক্ষণাবেক্ষণ শেড উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। একইসঙ্গে একটি ওয়াগ-১২ বৈদ্যুতিক লোকোমোটিভেরও উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আমেদাবাদ-পালনপুর এবং আমেদাবাদ-সামাখিয়ালি রেলপথে দেশীয় ‘কবচ’ ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। পাশাপাশি দুটি রেলপথে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং সাবরমতী-সরখেজ অংশে ডাবলিংয়ের কাজেরও সূচনা করা হয়েছে। রেলের ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পথে এলএনজি-চালিত এই ট্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি ট্রেনের কর্মক্ষমতা বজায় রেখে নির্গমন কমানো যায় কি না, আগামী দিনে তার কার্যকারিতাই নজরে থাকবে।

  • Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ইলিশ (Hilsa) বাণিজ্যের চেনা ছবিটাই যেন বদলে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারত যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছিল, তার চার গুণেরও বেশি ইলিশ এবার বাংলাদেশে রফতানি করতে চলেছে ভারত। চলতি বছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬৫০ থেকে ৭০০ টন পর্যন্ত ইলিশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গত দু’মাসে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকেই এই রফতানি শুরু হয়েছে।

    অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে (Hilsa)

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে। সেগুলি ভারুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু ইলিশ আবার হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে। প্রায় সমস্ত রফতানিই করেছেন হাওড়ার ব্যবসায়ীরা।

    হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সম্পাদক সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার বলেন, “আমরা সাধারণত বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পার্শে ও ট্যাংরা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ রফতানি করি। সেখানে ইলিশের জোগান কম থাকায় এই প্রথম ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছি। গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসার পর তার কিছুটা বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশের বাজারে সেই ইলিশ ভালো সাড়া পায়। পরে আরও ইলিশ রফতানি শুরু করি। এখনও পর্যন্ত ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করেছি। দু’দিন আগে গুজরাটে আরও ৫০০ টন ইলিশের বড়সড় জোগান এসেছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন বাংলাদেশে পাঠাব আশা করছি।”

    গুজরাটের ইলিশে ডিম বা মাছের ডিমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কলকাতায় এই ইলিশের চাহিদা সীমিত। তবে এই বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে গুজরাতের ইলিশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে এই ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে তা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রফতানি করা হয়। ওই দেশগুলিতে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন।

    কী বলছেন বাংলাদেশের আমদানিকারী 

    বাংলাদেশের এক আমদানিকারী বলেন, “ইলিশের ডিম বের করে নেওয়ার পর মাছের মাংস শুকিয়ে নুন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। তাজা ইলিশের মতো করে এই মাছ খাওয়া হয় না।”

    পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কিলোগ্রামের মধ্যে। গুণমানের উপর নির্ভর করে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে রয়েছে (Hilsa)।

    পেট্রাপোল ছাড়পত্রকর্মী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “মাছগুলির প্রয়োজনীয় খাদ্যমান পরীক্ষা করা হয়। প্রাণী কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া হয়। পণ্য পাঠানোর আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়।”

    ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা প্রদীপ দে-র মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের ইলিশের উৎপাদন, প্রাপ্যতা এবং ক্রেতাদের চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের প্রতিফলন এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

    প্রদীপ বলেন, “ইলিশের বিপরীতমুখী বাণিজ্যপ্রবাহ দেখাচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে মাছের পর্যাপ্ত জোগান, গুণমান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে ভারত প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসতে পারে।”

    পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবি

    এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের রফতানি চললেও বাংলাদেশ থেকে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মাছ আমদানিকারী সমিতির সম্পাদক ও সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান এবং ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে রফতানির বিষয়টি তুলে ধরেন তাঁরা।

    মকসুদ বলেন, “আমরা রফতানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তবে (Bangladesh) কোনও সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাইনি। কারণ নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দ করা ইলিশের (Hilsa) সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছতে পারে।”

     

  • UCC: “২০২৯-এর আগে বিজেপি-এনডিএ শাসিত সব রাজ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি”, বললেন শাহ

    UCC: “২০২৯-এর আগে বিজেপি-এনডিএ শাসিত সব রাজ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-শাসিত ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করা হবে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। রবিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গত ১২ বছরের বিভিন্ন সাফল্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে (UCC) বিজেপির ২৫ বছরের যাত্রার কথাও তুলে ধরেন।

    মুম্বইয়ে ৩০ দিনের ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র সূচনা করতে এসেছিলেন শাহ। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার সরকারের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)

    শাহ বলেন, ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হয়েছে। ২০২৯ সালের আগে এনডিএ-শাসিত সব রাজ্যই এই আইন কার্যকর করবে বলে তিনি আশাবাদী। উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন পাস করে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়। গত বছর গুজরাটেও এই আইন পাস হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে অসম উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করে। সর্বশেষ এই তালিকায় যোগ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশও। জুলাই মাসে বিশেষ বৈঠকে রাজ্য মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতভাবে এই বিধি অনুমোদন করে।

    তবে গুজরাট, অসম ও মধ্যপ্রদেশের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়ে এই বিধির খসড়া তৈরির জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    শাহ বলেন, “তিন তালাক প্রথা বিলোপ করা হয়েছে, ফলে মুসলিম মহিলারা সমান অধিকার পেয়েছেন। একাধিক রাজ্যে আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে বিজেপি-এনডিএ শাসিত ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের আগেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে।” উল্লেখ্য, পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন ২০২৯ সালে হওয়ার কথা।

    দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মাধ্যমে দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে দাবি করেন (UCC) তিনি। তাঁর বক্তব্য, এক বছরে বেশ কয়েকটি রাজ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

    তিন বছরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান শাহ।

    জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শাহের বক্তব্য

    জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিলের সময় একটি গুলিও চালাতে হয়নি বা এক ফোঁটা রক্তও ঝরেনি। তাঁর দাবি, কাশ্মীর এখন সম্পূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে একীভূত।

    উত্তর-পূর্ব ভারত ও নকশাল সমস্যা নিয়েও সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন শাহ। তাঁর দাবি, পাঁচ দশকের নকশালবাদের অবসান ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৪টিরও বেশি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শাহ বলেন, “৯ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মসমর্পণ করেছেন এবং আজ আমরা উত্তর-পূর্ব ভারতকে উন্নয়নের পথে নিয়ে গিয়েছি।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বিমান হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সে’র নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    মণিপুরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালের ভিত্তিবর্ষ ব্যবহার করা হবে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের শরিক দল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছে।

    তিনি বলেন, “আমরা আমাদের শরিকদের সঙ্গে এবং মণিপুরের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করছি। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, আমরা আপনাদের তা জানাব।”

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত

    মুম্বইয়ের মতো শহরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ বলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য সরকার যে পদ্ধতি বা উপায় ব্যবহার করছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হবে না। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “আপনারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইছেন, কী কী উপায়ে তাঁদের শনাক্ত করা হবে তা প্রকাশ করে দিতে। তা হলে আমরা তাঁদের ধরব কী করে? তাঁরাও তো বিষয়টি জেনে যাবেন।”

    দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও ফের স্পষ্ট করেন শাহ। তিনি বলেন, “আমি আবারও আমাদের সংকল্পের কথা বলছি—এই দেশের প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে একে একে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

    মাদকবিরোধী অভিযান

    মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’ শুরু করেছেন এবং এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি রাজ্যে যাবেন। আগের দিনই এক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মসূচিটি দেশের তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পুরো দিন ধরে একটি বৈঠকও হবে বলে জানান শাহ (Amit Shah)। তাঁর কথায়, “এই অভিযান অবশ্যই তৃণমূল স্তরে পৌঁছবে এবং (UCC) ভারত মাদকের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে।”

     

  • BJP Seva Sankalp Abhiyan: মোদির ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি, দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ বিজেপির

    BJP Seva Sankalp Abhiyan: মোদির ২৫ বছরের জনসেবা পূর্তি, দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের জনসেবা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের সময়কাল পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan) শুরু করতে চলেছে বিজেপি। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এক মাস ধরে সামাজিক সেবা, জনসংযোগ, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে যুক্ত করে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    জন্মদিনে ‘সেবা দিবস’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan)

    ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) জন্মদিন। ওই দিনটিকে ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। সারা দেশে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। ওই দিনই সন্ধ্যা ৭টায় দেশের প্রতিটি বুথে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচি পালন করবে বিজেপি। মোদির ২৫ বছরের জনসেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রদীপ জ্বালাবেন মানুষ ।

    অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য তরুণ প্রজন্ম ও শিশুদের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুলগুলিতে ‘আমার স্বপ্নের ভারত’ বিষয়ের উপর ছবি আঁকা ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে পড়ুয়ারা ছবি ও বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

    ‘নমো সেবা—অকথিত কাহিনি’ কর্মসূচির আওতায় সংগীত ও নাট্য পরিবেশনেরও আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ‘আঙন মিলন সেবা’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং আশা কর্মীদের সম্মানিত করা হবে।

    উন্নত ভারতের লক্ষ্যে শপথ

    ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা উন্নত ভারতের লক্ষ্যে শপথ নেবেন। অভিযানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে মোট ২৫টি পৃথক সেবামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    এছাড়াও ব্লক স্তরে ‘সেবা সেতু অভিযান’ পরিচালনা করা হবে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষ সহজে পেতে পারেন, সে জন্য শিবিরের আয়োজন করা হবে। এই শিবিরগুলির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মানুষকে সহায়তা করা হবে।

    এক মাসব্যাপী এই অভিযানের সমাপ্তি হবে ১৭ অক্টোবর ‘সুশাসন সেবা সংবাদ’ কর্মসূচির মাধ্যমে। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে সুশাসন ও জনসেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।

    বুধবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ৭ অক্টোবর মোদির ২৫ বছরের জনসেবা যাত্রা পূর্ণ হবে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল।

    ‘সেবা সংকল্প অভিযান’

    নিতিন নবীন বলেন, “আজ আমরা এখানে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (BJP Seva Sankalp Abhiyan) নিয়ে আলোচনা করতে একত্রিত হয়েছি। ৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসেবায় ২৫ বছর পূর্ণ করবেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। গত ২৫ বছর ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে এই সেবার যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। জনসেবা থেকে দেশসেবায় উত্তরণের মন্ত্রকে সামনে রেখে তিনি কাজ করে চলেছেন।”

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দাবি, মোদির নেতৃত্বে ভারত “হতাশা ও অন্ধকার” থেকে বেরিয়ে বিশ্বের দ্রুততম বিকাশশীল বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।

    সারা দেশের এই মাসব্যাপী কর্মসূচিতে সামাজিক সেবা, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া, জনসম্পৃক্ততা এবং সমাজের (PM Modi) বিভিন্ন অংশের মানুষের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোদির ২৫ বছরের জনসেবার যাত্রাকে (BJP Seva Sankalp Abhiyan) সামনে রেখে সেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হবে।

     

  • Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে বড়সড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল গুজরাট পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। ৩ জুলাই পরিচালিত এক অভিযানে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ থেকে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা গত প্রায় ছয় মাস ধরে সক্রিয় ছিল। গুজরাটে জইশ-ই-মহম্মদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল তারা। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সময়মতো অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।

    এটিএস-এর হাতে ধৃতদের পরিচয়

    এটিএস সূত্রে জানা গেছে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক বিশেষ দল গঠন করে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে একযোগে অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের যোগাযোগ, সম্ভাব্য সহযোগী, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গুজরাটের বানাসকাঁঠা জেলা থেকে তিনজন, পাটন জেলা থেকে তিনজন, নওসারি জেলা থেকে একজন এবং মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের নাম হল— আহমেদ আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু উবাইদা (১৯), ইব্রাহিম মহম্মদ হুসেন ঘাঘা ওরফে আবু হামজা (৩০), মুদাস্সির আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু আয়া (২২), জাকারিয়া দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে ইবনে আম্মার ওরফে জাকারিয়া পালানপুরি (২১), মুফতি ফওজান ইসমাইল দাউয়া ওরফে মুফতি সাহেব (৪০), মহম্মদ আমিন শেরা ওরফে আমিন পালানপুরি (২১), মহম্মদ আবদুল রহমান সাভদি ওরফে মহম্মদ পালানপুরি ওরফে আবু ইউনাইসা (২২) এবং বিলাল দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে আবু দুজানা, আবু সুফিয়ান, আবু জুন্দাল, উমর বিন খাত্তাব (১৮)।

    সক্রিয় জঙ্গি মডিউল ভেস্তে গেল

    প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, অভিযুক্তরা গুজরাট-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য একটি সক্রিয় মডিউল গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। সময়মতো পদক্ষেপ করায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA)-এর ১৩ (বেআইনি কার্যকলাপ), ১৭ (সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সংগ্রহ), ১৮ (ষড়যন্ত্র), ৩৮ (সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৪৮ এবং ৬১ ধারায়ও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ATS-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ৬১ ধারা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত এবং ১৪৮ ধারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধের চেষ্টা বা সেই ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গুজরাটের বিখ্যাত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • Bharat Taxi: ড্রাইভারদের মালিকানায় নয়া রাইড-হেলিং প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’ চালু, জানুন বিশদে

    Bharat Taxi: ড্রাইভারদের মালিকানায় নয়া রাইড-হেলিং প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’ চালু, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের দ্রুত বিকাশমান মোবিলিটি সেক্টরে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ ২৭ জুন গুজরাটের (Gujarat) গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দিরে উদ্বোধন করলেন ‘ভারত ট্যাক্সি’র (Bharat Taxi)। এটি সমবায় ভিত্তিক একটি রাইড-হেলিং প্ল্যাটফর্ম। সরকারের দাবি, এটি দেশের প্রথম বৃহৎ সমবায়ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবা, যেখানে ড্রাইভাররাই হবেন প্ল্যাটফর্মের অংশীদার এবং মালিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিভিন্ন সমবায় সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং ৪ হাজারেরও বেশি চালক। প্রাথমিকভাবে গুজরাটের ১৪টি বড় শহরে পরিষেবা চালু হয়েছে।

    বেসরকারি অ্যাপের সমালোচনায় শাহ (Bharat Taxi)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, এটি শুধু একটি নতুন ট্যাক্সি পরিষেবা নয়, বরং এমন একটি অর্থনৈতিক মডেল যেখানে চালকেরাই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশীদার হবেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে অধিকাংশ বেসরকারি রাইড-হেলিং সংস্থা চড়া হারে কমিশন কেটে নেয়, পেমেন্টে দেরি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের ভিত্তিতে চালকদের পর্যাপ্ত শুনানি ছাড়াই অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেয়। ফলে চালকদের দরকষাকষির ক্ষমতা কমে যায়। শাহ বলেন, “অন্য অ্যাপগুলি চালকদের শোষণ করেছে। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, ভারত ট্যাক্সিতে এমনটা হবে না।” তিনি জানান, তিনি ‘ড্রাইভার’ শব্দের বদলে ‘সারথি’ শব্দটি ব্যবহার করতেই পছন্দ করেন। কারণ এই পেশার সঙ্গে সম্মান, নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জড়িত।

    কীভাবে কাজ করবে ভারত ট্যাক্সি?

    ‘ভারত ট্যাক্সি’ তৈরি হয়েছে সাহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেডের মাধ্যমে। এই প্রকল্পে সহযোগিতা করেছে দেশের শীর্ষ সমবায় সংস্থা আমূল, আইএফএফসিও (IFFCO) এবং নাবার্ড (NABARD)। এই প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিরো কমিশন মডেল। অর্থাৎ, যাত্রার ভাড়া থেকে কোনও কমিশন কাটা হবে না। ফলে আয়ের বড় অংশ সরাসরি চালকদের কাছেই থাকবে। সরকারের দাবি, এই মডেলটি আমূলের সফল সমবায় কাঠামো থেকে প্রাণিত। যেমন দুধ উৎপাদকরা আমূলের অংশীদার, তেমনই ভারত ট্যাক্সিতে চালকরাও প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পাবেন। শাহ জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ লাখ চালক এই সমবায় কাঠামোর শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন।

    ১৪টি শহরে পরিষেবা শুরু

    প্রথম পর্যায়ে আমেদাবাদ, সুরাট, ভাদোদরা, রাজকোট, ভাবনগর, জামনগর-সহ গুজরাটের (Gujarat) ১৪টি শহরে পরিষেবা চালু হয়েছে।দুচাকা, অটো-রিকশা এবং চার চাকার গাড়ি—সব ধরনের পরিষেবাই এই প্ল্যাটফর্মে থাকবে। আগামী এক মাসের মধ্যে গোটা গুজরাটে পরিষেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদ বিমানবন্দর এবং একাধিক পুরসভা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মউ (MoU) সই করেছে ভারত ট্যাক্সি, যা পরিষেবার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের (Bharat Taxi)।

    ইতিমধ্যেই ৭ লাখ গ্রাহক

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে প্ল্যাটফর্মে ১.৫ লাখেরও বেশি চালক এবং প্রায় ৭ লাখ গ্রাহক নথিভুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩,৫০০টি ট্রিপ দেওয়া হচ্ছে। যদিও এই সংখ্যা এখনও দেশের বড় রাইড-হেলিং সংস্থাগুলির তুলনায় অনেক কম, তবুও সরকারের দাবি, সমবায় মডেলের কার্যকারিতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হচ্ছে।

    কম ভাড়া নিয়ে প্রতিযোগিতা

    শাহের অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থাগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে সাময়িকভাবে ভাড়া কমিয়ে ভারত ট্যাক্সিকে বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, “বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলি প্রথমে কম দামে প্রতিযোগীদের দুর্বল করে দেয়। পরে বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। তবে ভারত ট্যাক্সি বাজারে টিকে থাকবে, এবং সফল হবেই।”

    কেন প্রয়োজন হল ভারত ট্যাক্সির?

    ভারতে অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি পরিষেবা জনপ্রিয় হলেও, দীর্ঘদিন ধরেই চালকদের মধ্যে কমিশনের হার, সার্জ প্রাইসিং, আয়ের অনিশ্চয়তা, অ্যালগরিদম-নির্ভর অ্যাকাউন্ট সাসপেনশন-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সরকারের মতে, সমবায় মডেলের মাধ্যমে চালকদের আয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং লাভের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে গিগ-ওয়ার্কারদের আর্থিক নিরাপত্তাও বাড়বে।

    আমূলের মডেলেই প্রাণিত সরকার

    বক্তব্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার আমূলের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “একসময় অনেকেই বিশ্বাস করেননি যে কৃষকদের মালিকানাধীন একটি সমবায় সংস্থা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। অথচ আজ আমূল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধ সমবায় সংস্থা। সরকারের আশা, একইভাবে ভারত ট্যাক্সিও ভবিষ্যতে দেশের পরিবহণ খাতে সফল সমবায় মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে (Bharat Taxi)।”

    সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত ট্যাক্সির সাফল্য নির্ভর করবে গ্রাহক আকর্ষণ, পরিষেবার মান, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো (Gujarat) এবং প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতার ওপর। তবে ড্রাইভারদের মালিকানা, জিরো কমিশন নীতি এবং সমবায় কাঠামো যদি ঠিকঠাকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি ভারতের গিগ ইকোনমিতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করতে (Bharat Taxi)।

     

  • ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    ECI: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি কমিশনের, আরও শক্তি বাড়বে এনডিএর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের (Rajya Sabha Polls) বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার জারি হয় এই বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ১০টি রাজ্যের ২৪টি আসন সদস্যদের অবসরের কারণে ফাঁকা হয়েছে। পদত্যাগজনিত কারণে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার ৩টি আসনে হবে উপনির্বাচন।

    নির্বাচনের সাত-সতেরো (ECI)

    কমিশন জানিয়েছে, ২৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ১৮ জুন। ওই দিনই বিকেল ৫টার পর হবে ভোট গণনা। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৮ জুন বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা ৯ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই করবেন। ১১ জুন প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন।অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, রাজস্থান, অরুণাচল প্রদেশ, কর্নাটক এবং মিজোরামে ২৪টি শূন্যপদে ভোট হবে। পদত্যাগের কারণে আরও ৩টি পদ শূন্য। ফলে বিরোধী জোট রাজ্যসভায় অন্তত তিনটি অতিরিক্ত আসন পেতে পারে বলেই ইঙ্গিত। যদিও শাসক বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বর্তমান শক্তি বজায় রাখবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। আগামী মাসে রাজ্যসভা থেকে যাঁরা অবসর নেবেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং, এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন।

    শক্তি বাড়ছে এনডিএর!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২৭টি আসনের মধ্যে শাসক এনডিএ তাদের শক্তি এক বাড়িয়ে ১৯-এ নিয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ২৪৫ সদস্য বিশিষ্ট রাজ্যসভায় এনডিএর আসন সংখ্যা ১৪৮। কংগ্রেসের রয়েছে ৪টি আসন, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর ১টি এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি (YSRCP)-এর ৩টি আসন। রাজ্য বিধানসভাগুলিতে (Rajya Sabha Polls) দলগুলির বর্তমান শক্তির ভিত্তিতে কংগ্রেস তাদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করতে পারে (ECI)। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা দু’টি আসনে জিততে পারে। শাসক তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (TVK) তামিলনাড়ুর উপনির্বাচনে একটি আসন জিতে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভায় জায়গা পেতে পারে।

    এনডিএ ভালো অবস্থায়

    এনসিপি নেতা সুনেত্রা পাওয়ার এবং এআইএডিএমকে নেতা সিভি শানমুগম বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ায় রাজ্যসভায় ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণেই উপনির্বাচন হবে মহারাষ্ট্র ও তামিলনাড়ুতে। ওড়িশায় দেবাশিস সমান্ত রায়, বিজেডি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ছেড়েছেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তাই এই কেন্দ্রেও হবে উপনির্বাচন (ECI)। মহারাষ্ট্রে সুনেত্রা পাওয়ারের শূন্য পদে এনডিএ ভালো অবস্থায় রয়েছে (Rajya Sabha Polls)। তামিলনাড়ুর একটিমাত্র আসন বন্ধু দলগুলির সমর্থনে টিভিকের দখলে যেতে পারে। ওড়িশার আসনটি শাসক দলের ঝুলিতে যেতে পারে।

    কোন আসনে জিতছে কারা

    অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ চারটি আসনই জিততে পারে। গুজরাটে বিজেপি চারটি আসনেই জিতবে। তাই এই রাজ্য থেকে কংগ্রেস তাদের একমাত্র আসনটি খোয়াতে পারে। কর্নাটকে কংগ্রেস চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিততে পারে, একটি আসন যেতে পারে পদ্ম-ঝুলিতে। খাড়্গে ফের রাজ্যসভায় মনোনীত হতে পারেন (ECI)। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বিজেপি দু’টি করে আসন জিততে পারে। এই দুই রাজ্যে কংগ্রেস একটি করে আসন পেতে পারে। ঝাড়খণ্ডে শাসক জেএমএম-কংগ্রেস জোট দু’টি আসনই জিততে পারে। তাদের জয়ের পথে খাড়া প্রাচীর হয়ে দাঁড়াতে পারে বিজেপি। অর্থাৎ, জোরদার লড়াই হতে পারে (Rajya Sabha Polls)।

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত দ্বিবার্ষিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ১০টি রাজ্যের ৩৭টি আসনের মধ্যে (ECI) বিজেপি জিতেছিল ১৩টি আসনে।

     

LinkedIn
Share