Tag: guru dakshina

guru dakshina

  • RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কোনও সংগঠন চালাতে গেলে খরচ বিস্তর। অন্যান্য সংগঠন চাঁদা তুলে সংগঠন চালায়। এ পথে হাঁটে না রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ, সংক্ষেপে আরএসএস (RSS)। ১৯২৫ সালে জন্ম ইস্তক আর পাঁচটা সংগঠনের পথে না হেঁটে সম্পূণ ভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে আসছে আরএসএস। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য করতে গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস।

    আরএসএসে গুরুর স্থান

    সনাতন শাস্ত্রে গুরুর স্থান সবার ওপরে। আরএসএসও গুরুকে ভীষণ গুরুত্ব দেয়। তাই সংগঠনের প্রতিটি শাখা আয়োজন করে ‘গুরুদক্ষিণা’ অনুষ্ঠানের। বছরের একটি বিশেষ দিনে স্বয়ং সেবকদের জন্য আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের। হিন্দুদের গুরুপূর্ণিমার দিন থেকে শুরু করে তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন শাখায় আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। চলতি বছর গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে ২১ জুন। এদিনই ছিল গুরুপূর্ণিমা। এই দিনেই গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান আয়োজন করার কারণ মূলত দুটি। একটি, সুপ্রাচীন কাল থেকে গুরু-শিষ্যের যে পরম্পরা সনাতন ভারতে চলে আসছে, তা বজায় রাখা। সেই সময় শিষ্যরা থাকতেন গুরুর আশ্রমে। ব্রহ্মচর্য-পর্ব শেষে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা দিতেন গুরুদক্ষিণা। হিন্দু পরম্পরায় শিষ্য গুরুকে কী দিলেন, সেটা বিষয় নয়, যেটা বিষয়, সেটা হল শিষ্য গুরুর কৃপায় যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, সেজন্য গুরুর কাছে তিনি কতটা কৃতজ্ঞ, তা যাচাই করা। গুরুদক্ষিণা হিসেবে শিষ্য যা-ই দিতেন, তা-ই সাদরে গ্রহণ করতেন গুরু।

    গুরু পরম্পরা

    সনাতনী এই পরম্পরাই বিভিন্ন শাখায় বাঁচিয়ে রেখেছে আরএসএস (RSS)। আজ্ঞে হ্যাঁ, জন্ম ইস্তক এই পরম্পরাই ধরে রেখেছে আরএসএস। আরএসএসে গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানটি পালিত হয় নিতান্তই সাদামাটাভাবে। সচরাচর অনুষ্ঠানটি হয় একটি হল ঘরে, যেখানে ৫০-১০০ জনের ব্যবস্থা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকালে। এদিন প্রত্যেকেই ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সাদা পোশাক পরে আসেন। গুরুদক্ষিণার দিন স্বয়ংসেবকরা পাজামা-পাঞ্জাবি কিংবা ধুতি-পাঞ্জাবি পরেন। যে হলঘরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রথমে উত্তোলন করা হয় সংগঠনের গৈরিক পতাকা। জ্বালানো হয় মাটির প্রদীপ। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রথম সরসঙ্ঘচালক কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক যিনি আরএসএসে গুরুজি নামে খ্যাত তাঁদের বাঁধানো ছবি রাখা হয় অডিটোরিয়ামে।

    গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান

    শারীরিকভাবে সক্ষম স্বয়ংসেবকরা মেঝেয় বসেন। মেঝেয় পাতা থাকে পাতলা কাপড় দিয়ে তৈরি ‘দড়িস’(আসন)এবং কাপড়ের পাতলা চাদর। তার আগে অবশ্য ঘর পরিষ্কার করা হয়। স্বয়ংসেবকরা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। তাই এদিন তাঁরা চলে আসেন অনুষ্ঠান (Guru Dakshina) শুরুর ঢের আগে, নির্দিষ্ট সময়ে। তার পরেই হল ঘরে আগে থেকে বিছানো দরিস (পাটি বিশেষ) পেতে বসেন তাঁরা, সারিবদ্ধভাবে। এই সময় অনুষ্ঠান স্থলে শোনা যায় পিন-পতনের শব্দও। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তাদের নাম লেখা একটি করে সাদা খাম দেওয়া হয়। এই কাজটি করেন শাখা প্রধান, সঙ্ঘের(RSS) ভাষায় যিনি মুখ্য শিক্ষক বা শাখাকার্যবাহ নামে পরিচিত। প্রায়ই এই খামগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের বাড়িতে। সেই খাম যে গুরুদক্ষিণা দানের জন্য পাঠানো হয়েছে, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়। যেসব স্বয়ংসেবক একবার শাখার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, তাঁদেরও এ ব্যাপারে জানানো হয়। কর্মক্ষেত্রের দায়বদ্ধতার কারণে যাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না কিংবা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন না, তাঁদেরও গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    কেন নিশানই গুরু

    আরএসএসের গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) এই অনুষ্ঠানে যাঁরা প্রথমে যোগ দেন, তাঁদের পক্ষে খুবই আনন্দদায়ক। খোলা মনে যাঁরা একবার গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, তাঁদের মনে এর একটা গভীর ছাপ থেকে যায়, বিশেষত তরুণ মনে। যেহেতু মানুষ মাত্রেই ভুল করে, এবং কোনও মানুষই ত্রুটিহীন নন, তাই আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ঠিক করেছিলেন, কেউই একা গুরু নন। আরএসএসে সঙ্ঘের পতাকাকেই গুরু মেনে চলা হয়। সেই কারণেই আরএসএসের প্রতিটি শাখায় নিত্য দিনের প্রথম কাজ হল গৈরিক পতাকা উত্তোলন। শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা দিন শুরু করেন সঙ্ঘের পতাকার সামনে মাথা নত করে। সূর্য অস্ত গেলেও পালন করা হয় একই প্রথা।

    সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথ

    গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠান বছরভর সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে গুরু বলে মনে করায়। মাটির প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে শুরু হয় গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান। গোটা হলে তখন অদ্ভুত নীরবতা, প্রশান্তি। এই সময় সংস্কৃতে লেখা কিছু গুরু-স্তুতি পাঠ করা হয়। জানানো হয় গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভারতের সোনালি যুগের কথা স্মরণ (RSS) করায় যেসব গান, সেগুলোও গান স্বয়ংসেবকরা। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সেই সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথও নেন তাঁরা। এর পরেই একের পর স্বয়ংসেবক যান পতাকা তলে। সেখানে ট্রেতে রাখা ফুলের পাপড়ি তাঁরা ছড়িয়ে দেন পতাকা দণ্ডের পায়ের কাছে। মাথা নতও করেন স্বয়ংসেবকরা। এই সময় ডান হাত আনত থাকে ভূমি বরাবর। সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে এভাবেই নিত্যদিন শ্রদ্ধা জানান স্বয়ংসেবকরা। সঙ্ঘের (RSS) পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ধ্বজা প্রণা’ম। বাংলা তর্জমা করলে যার অর্থ দাঁড়ায় গেরুয়া পাতাকাকে শ্রদ্ধা জানানো। এর পরেই স্বয়ংসেবকরা খামে করে কিছু টাকা কিংবা ফুলের পাপড়ি রেখে দেন।

    গুরুদক্ষিণা কত

    গুরুদক্ষিণা হিসেবে কত টাকা দিতে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই। কেউ কাউকে জিজ্ঞেসও করেন না, গুরুদক্ষিণা বাবদ কে কত দিলেন। যেহেতু খামের মুখ বন্ধ করা থাকে, তাই কেউই জানেন না, খামে কে কত টাকা দিয়েছেন। দক্ষিণান্তে স্বয়ংসেবকরা ফের একবার ধ্বজা প্রণাম করেন। ফিরে আসেন নিজের আসনে। একইভাবে তাঁর পরের স্বয়ংসেবকও পালন করেন গুরুদক্ষিণার পরম্পরা। উপস্থিত প্রত্যেক স্বয়ংসেবকের (RSS) গুরুদক্ষিণা দেওয়া হয়ে গেলে হয় বক্তৃতা পর্ব। ভাষণ দেন হয় আরএসএসের কোনও প্রবীণ কর্মকর্তা কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি, যাঁকে ওই দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনও অধ্যাপক, চিকিৎসক, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি যিনি প্রমিনেন্ট, শাখা প্রধানদের তাঁদেরই প্রধান অতিথি করে আনতে বলা হয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তাও তিনিই। এটা করা হয়, যাতে যাঁরা আরএসএস-মনস্ক নন, তাঁরাও যাতে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

    আরও পড়ুন: পরপর মন্দিরে হামলা, নেতাকে হত্যা! বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা

    সঙ্ঘের ভাবাদর্শ প্রচারে সহায়ক

    সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে জানা গিয়েছে, যাঁরা একবার আরএসএসের গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন, তাঁরা এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন, যাতে সারা জীবনের জন্য তাঁরা আরএসএসের সদস্য পদ গ্রহণ করেন কিংবা আরএসএসের বন্ধু বা সমর্থক হয়ে যান। গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শেষে হয় আরএসএসের প্রার্থনা। তার পর প্রত্যেককে তাঁদের প্রাপ্য দেওয়া হয়। যাঁরা নতুন করে আরএসএসের প্রোগ্রামে যোগ দেন, তাঁদের জন্য স্বয়ংসেবকরা কখনও কখনও চা কিংবা কফি এবং স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা করেন। এটা অবশ্য সব সময় হয় না, হয় মাঝে মধ্যে। যাঁরা আরএসএসের কোনও প্রোগ্রামে আগে যোগ দেননি কিংবা আরএসএসের সঙ্গে সঙ্গ ছিন্ন করেছেন, মূলত তাঁদের জন্যই আয়োজন করা হয় চা কিংবা কফি চক্রের।

    গুরুদক্ষিণা একটা ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য আরএসএস (RSS) কখনওই ভাঙেনি। তাদের কাছে এটি হল সব চেয়ে শ্রদ্ধার ও পবিত্র একটি অনুষ্ঠান। মৌলিক এই পদ্ধতিতেই অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস। তাই বজায় রাখতে পারে সঙ্ঘের স্বাধীনতা। আরএসএসের প্রসার (Guru Dakshina) ঘটাতেও এটি একটি কার্যকরী মাধ্যম বলে বিবেচিত হয় (RSS)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RSS: আরএসএসের কাছে গুরুপূর্ণিমার মাহাত্ম্য কতটা, জানেন কি?  

    RSS: আরএসএসের কাছে গুরুপূর্ণিমার মাহাত্ম্য কতটা, জানেন কি?  

     

    অরুণ আনন্দ

     

    আজ গুরুপূর্ণিমা (Guru Purnima)। গুরুর প্রতি শিষ্যের (Disciple) শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের দিন। দিনটি ব্যাসদেবের জন্মদিনও। মহর্ষি ব্যাস চতুর্বেদ সম্পাদনা ছাড়াও রচনা করেছিলেন ১৮টি পুরাণ। তাই দিনটি ব্যাস পূর্ণিমা নামেও খ্যাত। শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করে আরএসএসও (RSS)। এই দিন থেকে শুরু হয় আরএসএসের গুরুদক্ষিণা (Gurudakshina) দিবস।

    তবে আরএসএসের কাছে গুরুদক্ষিণা দিবস কোনও একটি দিন নয়। প্রায় একমাস ধরে চলতে থাকে অনুশীলন। গোটা দেশে আরএসএসের ৬০ হাজার শাখায় পালিত হয় গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান। ফি বছর আরএসএস ছটি অনুষ্ঠান পালন করে। তারই একটি হল গুরুপূজা। বাকি পাঁচটি হল বিজয়াদশমী, মকর সংক্রান্তি, বর্ষা প্রতিপদ, হিন্দু সম্রাজ্য দিবস এবং রাখিবন্ধন। গুরুপূর্ণিমার দিনেই শুরু হয় আরএসএসের গুরুদক্ষিণা কর্মসূচির। কর্মসূচি পালিত হয় প্রায় এক মাস ধরে। মূলত দুটি কারণে পালিত হয় এই কর্মসূচি। একটি কারণ হল, ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে গুরু-শিষ্যের চিরন্তন সম্পর্ক বজায় রাখা। আর দ্বিতীয় কারণ হল, নিজস্ব সম্পদে বলীয়ান হয়ে ওঠা, যাতে কখনওই অন্য কারও ওপর নির্ভর করতে না হয়।

    সুপ্রাচীন কালে ব্রহ্মচর্যাশ্রম পর্বে গুরুগৃহে থেকে শিক্ষালাভ করতেন শিষ্যরা। শিক্ষাপর্ব শেষ হলে দিতে হত গুরুদক্ষিণা। গুরুর প্রতি শিষ্য যে কৃতজ্ঞ, তার প্রকাশক এই গুরুদক্ষিণা। অতীতের সেই পরাম্পরা মেনে আজও গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান উদযাপন করে আরএসএস। একটি হলঘরে পালিত হয় অনুষ্ঠানটি। সচরাচর সকালেই হয় অনুষ্ঠান। এদিন সবাই সাদা পোশাক পরে যোগ দেন অনুষ্ঠানে। ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে স্বয়ংসেবকরা পরে ধুতি কুর্তা কিংবা কুর্তা পাজামা। ওই হলঘরেই তোলা হয় আরএসএসের গেরুয়া পতাকা। জ্বালানো হয় মাটির প্রদীপ, ধূপ। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং দ্বিতীয় সরসংঘচালক মাধব সদাশিবরাও গোলওয়ালকর। আরএসএসের মধ্যে গুরুজি নামে পরিচিত এই গোলওয়ালকর।

    আরও পড়ুন : ২০২৪ সালের মধ্যে ১ লক্ষ শাখা ! শতবর্ষ উদযাপনের আগে পরিকল্পনা আরএসএস-এর

    গুরুদক্ষিণা অনুষ্ঠানের শুরুতে গুরুর উদ্দেশে নিবেদিত কয়েকটি সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারিত হয় সমবেত কণ্ঠে। এর পরেই স্বয়ংসেবকরা গান দেশপ্রেমের গান। তার পরে এক একজন গিয়ে গৈরিক নিশানের পদপ্রান্তে অর্পণ করে পুষ্পার্ঘ্য। প্রণাম জানিয়ে ফিরে যান নিজের জায়গায়।পরে সাদা খামে মোড়া দক্ষিণা দান করেন স্বয়ংসেবকরা। যেহেতু দান মোড়া থাকে খামে, তাই কেউই জানেন না, ঠিক কত দক্ষিণা কে দিলেন। খাম রেখে আরও একবার প্রণাম সেরে ফের ফিরে যান নিজের জায়গায়।

    কেবল স্বয়ংসেবকরা নন, গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অধ্যাপক, চিকিৎসক, সশস্ত্র বাহিনীর কোনও প্রাক্তন আধিকারিক কিংবা সমাজের কোনও গণ্যমান্য ব্যক্তি।এভাবেই ধীরে ধীরে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা যুক্ত হয়ে পড়েন আরএসএসের সঙ্গে। সব শেষে হয় আরএসএসের প্রার্থনা। অনুষ্ঠান পর্ব শেষ হলে পরে খাম খুলে হিসেব নিকেশ করা হয় গুরুদক্ষিণা বাবদ প্রাপ্য অর্থ।

    আরও পড়ুন : উদয়পুরের মতো নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদ করা উচিত মুসলিমদেরও, জানাল আরএসএস

    আরএসএসের কাছে গুরুদক্ষিণার তাৎপর্য অনেক। এর মধ্যে গুরু-শিষ্যের চিরন্তন সম্পর্কের পরম্পরা বজায় রাখাও যেমন একটি, তেমনি শিষ্যদের থেকে সংগ্রহ করা হয় সংঘ চালনার অর্থ। সংঘে গৈরিক পতাকা চির উড্ডীন রাখতে যা প্রয়োজন। সর্বোপরি, সংঘের পতাকা যে সবার ওপরে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় সংঘ-সদস্যদের।

    শুধু তাই নয়, গুরুদক্ষিণা দিবস পালনের আরও একটা মহতী উদ্দেশ্য রয়েছে। সেটি হল যেসব স্বয়ংসেবক সংঘে নিয়মিত নন, তাঁদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগও হয় গুরুদক্ষিণা দিবস পালনের মাধ্যমে। বছরে অন্তত এই সময়টায় তাঁরা সংঘের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

    সংঘে এই গুরুদক্ষিণা কর্মসূচি পালনের আরও একটি উদ্দেশ্য হল সততার পাঠ দেওয়া। স্বয়ংসেবকরা গুরুদক্ষিণা হিসেবে যে অর্থ দান করেন, সেই অর্থের কানাকড়িও এদিক ওদিক হয় না। কোনও স্বয়ংসেবক কী পরিমাণ অর্থ দান করেন, তা দিয়ে তাঁদের যোগ্যতাও মাপা হয় না।

    ফি বার গুরুদক্ষিণা কর্মসূচি পালনের পর মুখ্যশিক্ষক দক্ষিণা বাবদ কত দান সংগৃহীত হল, তার হিসেব কষেন। যাঁরা দান দিয়েছেন, তাঁদের নাম এবং দানের অর্থের পরিমাণ সবই লিখে রাখা হয়। পরে সেই তুলে দেওয়া হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হাতে। সংগৃহীত অর্থ আরএসএসের বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়। গুরুদক্ষিণা বাবদ যে অর্থ আয় হয়, তার কানাকড়িও কেউ নেন না। তাই দুর্নীতির কোনও কথাও কশ্মিনকালেও ওঠেনি আরএসএসের ইতিহাসে। আরএসএস স্বয়ংসেবকদের চরিত্র গঠনের ওপর জোর দেয় নিরন্তর। তার জেরেই স্বয়ংসেবকরা উন্নত চরিত্রের হন। আরএসএসের কট্টর সমালোচকরাও সংঘের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি কোনওদিন।

    আরএসএসে গুরুদক্ষিণা পালিত হয় বছরে একবার। এক পক্ষকাল কিংবা এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এই পুরো পর্ব জুড়ে হয় গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান পালন। আরএসএসের জন্মলগ্ন থেকে এই পরম্পরায় ছেদ পড়েনি। শুধু তাই নয়, এই অনুষ্ঠান আরএসএসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম পবিত্র অনুষ্ঠানও। তাই আরএসএস গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানটি পালন করে মর্যাদার সঙ্গে।

     

    (তথ্য সৌজন্য- ফার্স্টপোস্ট ডট কম)

LinkedIn
Share