Tag: Halisahar News

  • Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন যে নেত্রীকে চোখে হারাতেন সাধারণ মানুষ, যে নেত্রীকে বসিয়েছিলেন শীর্ষ আসনে, আজ তাঁরই কনভয়ে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো-কাদা! উঠল চোর স্লোগানও। সত্যিই তো ভাবতেই অবাক লাগে। আসলে কী বলুন তো? এত বছরের দীর্ঘ তৃণমূল শাসনে যে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে, যেভাবে রাজ্যের জনগণকে দিনের পর দিন শোষণ করে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাধের নেতারা, আজ তারই পরিণাম হয়তো ভোগ করছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কতদিনই বা আর চাপা থাকতে পারে? এবার আসা যাক মূল কথায়।

    ডিমের পর এবার ‘কাদা-থেরাপি’?

    রবিবার হালিশহরে (Halisahar) পুলিশি হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা।সেখানে ‘কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখা মাত্রই ধেয়ে আসে জনরোষ। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছনো মাত্রই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা-জুতো। গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। দেওয়া হয় চোর স্লোগান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে যান মমতা (Mamata Banerjee)।

    আমরা সবাই মরে যেতাম!

    সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের চিরাচরিত ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেননি নেত্রী। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাথা ফেটে যেত, আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। পুলিশ শুধুমাত্র বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।”

    কল্যাণের অভিযোগ

    উল্লেখ্য এদিন তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে (Halisahar) উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন (Dola Sen) এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন মূল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আইসি। আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করা হয়। বড় বড় ইট ছুড়ে মারা হয়। গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে- পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই ধাওয়া করা হয়েছে।”

    তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু

    ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর (Halisahar) থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। কয়েক দিন আগে হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইনের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে ব্যারাকপুর আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর পর শনিবার সকালে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তড়িঘড়ি তাকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বিরজুকে। যদিও পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ বিরজুর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে বেধড়ক মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। যদিও মারধর ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। এদিন এই বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলে মমতা(Mamata Banerjee)।

    মমতাকে দেখতেই ক্ষোভের বন্যা

    এদিন মমতা (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। নেত্রীর কনভয় আটকে চারদিক থেকে দেওয়া হয় চোর স্লোগান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। হালিশহরের (Halisahar) এই ঘটনা নিছক একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভের ছবি নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এক সময় যাঁর সভায় মানুষের ঢল নামত, সেই নেত্রীর কনভয় ঘিরেই উঠল চোর স্লোগান, ছোড়া হল কাদা-জুতো। ফলে হালিশহরের (Halisahar) এই বিক্ষোভ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

LinkedIn
Share