Tag: handloom sarees

handloom sarees

  • Nadia: শান্তিপুরে কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে শাড়ি! নয়া উদ্যোগ দিশা দেখাচ্ছে কর্মসংস্থানেরও

    Nadia: শান্তিপুরে কচুরিপানা থেকে তৈরি হচ্ছে শাড়ি! নয়া উদ্যোগ দিশা দেখাচ্ছে কর্মসংস্থানেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিত্যক্ত কিংবা অব্যবহৃত জিনিসকে কাজে লাগিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার আন্তর্জাতিক চিন্তাভাবনার ওপর ভর করে এখন সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প হচ্ছে। একদিকে যেমন সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নানা কাজ করা হচ্ছে, তেমনি বাড়ি বাড়ি থেকে সংগৃহীত পচনশীল এবং অপচনশীল বর্জ্যেরও প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছে সরকারি তত্ত্বাবধানে। কেন্দ্রীয় সরকারের এ ধরনের নানা ক্ষুদ্র, কুটির কিংবা হস্তশিল্পের প্রকল্প রয়েছে। মহিলা হোক বা পুরুষ, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তৈরি করে তাদের মধ্য দিয়ে উৎপাদন এবং বিপণন পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় (Nadia)।

    কীভাবে এই ভাবনা মাথায় এল?

    আজ থেকে পাঁচ বছর আগে বনগাঁর এরকমই এক উদ্যোগী কৌশিক মণ্ডল নদিয়ার শান্তিপুর এলাকার বেশ কিছু তাঁতি এবং বাংলার বিভিন্ন জেলার পরিবেশ রক্ষা এবং নতুন ধরনের চিন্তাভাবনাসম্পন্ন মানুষকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (Nadia)। যদিও সে সময় নদী পরিষ্কার তাঁদের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল। আর তা করতে গিয়ে তাঁরা প্রথম লক্ষ্য করেন, কোনও কাজে না লাগা কচুরিপানা মাছচাষের ক্ষেত্রেই হোক বা নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা, সবকিছুতেই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। সেগুলি পরিষ্কার করার জন্য কৃষকদের অযথা অর্থ ব্যয় হয়। অন্যদিকে সেগুলি পুকুর কিংবা জলাশয়ের পাড়ে পড়ে থেকে থেকে নষ্ট হয়। এর পরই কচুরিপানা দিয়ে কিছু করার চিন্তাভাবনা তাঁর মাথায় আসে।

    কীভাবে হচ্ছে শাড়ি তৈরির কাজ? (Nadia)

    পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু হয়। শান্তিপুরের বিভিন্ন ডোবা, পুকুর পরিষ্কারের পর কচুরিপানার গোড়া এবং পাতা ফেলে দিয়ে, প্রধান কাণ্ড কিংবা পাতার মোটা ডাটা থেকে আঁশ ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। পরে তা শুকানো হয়। তবে এক্ষেত্রে মাত্র দু’কেজি তন্তু পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গে স্পিনিং মিলের সংখ্যা কম থাকার কারণে তাঁরা বিভিন্ন রাজ্যের এ ধরনের মিলে সুতো তৈরি করে নিয়ে আসেন। যেগুলি কখনও টানায়, কখনও পোড়েন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ২৫ শতাংশের বেশি কখনই নয়। কারণ হিসেবে কৌশিকবাবু জানান, টেকসই এবং ক্রেতাদের ক্ষমতার দিকে নজর রেখেই এটা করা হয়ে থেকে। এভাবেই প্রায় ৪০০ শাড়ি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে (Nadia)। যা সাড়া ফেলে দিয়েছে ইউরোপ, আমেরিকার মতো দেশগুলিতে। তাদের সংগঠনকে পুরস্কৃতও করা হয়েছে। আগামী দিনে অত্যন্ত কম মূলধনের এই ব্যবসায় অনেকেই আগ্রহী হবেন বলে তাঁর আশা। তবে পরিবেশের কথা ভেবে এবং পরিত্যক্ত জিনিসকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার বিষয়টিতে কেন্দ্র এবং রাজ্য, উভয় সরকারকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি। 

    কাজ দেখতে আসছেন দূরদূরান্তের গবেষক ছাত্রছাত্রীরা (Nadia)

    নদীয়ার শান্তিপুর মহাপ্রভু পাড়ায় এই কাজ দেখতে এসেছিলেন ছত্তিশগড় রাজ্যের জব্বলপুর এলাকা থেকে সোয়েতা স্যোনি। তিনি জানান, তাঁরা পুরুষ ও মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের হস্তচালিত কুটির শিল্প কিংবা ব্যবসায়িক স্বনির্ভরতার কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কচুরিপানার এই শাড়ি দেখার পর নিজে এসে স্বচক্ষে দেখে গেলেন শাড়ি উৎপাদন। আগামী দিনে রাজ্যে ফিরে গিয়ে সেখানে এ ধরনের একটি প্রকল্প করার চিন্তাভাবনা আছে। সুদূর মুম্বই থেকে অর্পনা গাইকোড-এর নেতৃত্বে ৮ ছাত্রছাত্রীর একদল ফ্যাশন ডিজাইন এবং বস্ত্র বয়ন সংক্রান্ত পড়াশোনা করা গবেষক ছাত্রছাত্রীরা একইভাবে স্বচক্ষে দেখতে এসেছিলেন শান্তিপুরে (Nadia)। তাঁরাও জানাচ্ছেন, অত্যন্ত যুগোপযোগী এই প্রকল্পে আগামী দিনে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। তবে শুধু শাড়ি নয়, এই ফাইবার বা তন্তু নানান কাজে লাগানো সম্ভব। অন্যদিকে এই কচুরিপানা সংগ্রহের ফলে বর্ষাকালে উপকৃত হবেন বহু মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে নদী এবং বিভিন্ন জলপথে যাতায়াত মাধ্যমের কর্মীরাও।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Handloom Sarees: পুজোর মুখেও ওঁরা বিষণ্ণ, করুণ অবস্থা বেগমপুরের তাঁত শিল্পীদের

    Handloom Sarees: পুজোর মুখেও ওঁরা বিষণ্ণ, করুণ অবস্থা বেগমপুরের তাঁত শিল্পীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই শারদোৎসব। কাশফুলের সমাহার ইতিউতি জানান দিচ্ছে, আর বেশি দিন নেই। কয়েক সপ্তাহ পরেই বাংলার মানুষ মেতে উঠবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে। খুশিতে ভরে উঠবে কচিকাঁচা থেকে আবালবৃদ্ধবনিতা। নতুন নতুন জামাকাপড় পরে প্রতিমা দর্শনের অনাবিল আনন্দ। এটা গেল একটা দিক। এবার একটু অন্য দিকে খোঁজ নেওয়া যাক। নতুন নতুন পোশাক যাঁরা তৈরি করছেন, তাঁদের সবাই ভালো আছেন তো? বাংলার নারীর কাছে শাড়িই (Handloom Sarees) হচ্ছে একমাত্র পোশাক, যার প্রতি তাঁরা আজীবন দুর্বল। আর এই শাড়ির মধ্যে তাঁত একটি উজ্জ্বল নাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, হাজার বছরের পুরনো তাঁত শিল্প প্রায় উঠতে বসেছে। এই রাজ্যে নদিয়া ও  হুগলি জেলার তাঁত প্রায় জগৎবিখ্যাত ছিল এক সময়। বিশেষত হুগলির ধনিয়াখালি, আঁটপুর ও বেগমপুরের তাঁতের আলাদা কদর ছিল শাড়িপ্রেমীদের কাছে। কিন্তু এই আধুনিকতার যুগে আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যশালী তাঁত শিল্প। কেমন আছেন সেই সব তাঁত শিল্পীরা? যাদের এক সময় ইংরেজরাও দমাতে পারেনি ম্যাঞ্চেস্টারকে তুলতে গিয়ে।

    করুণ অবস্থা শিল্পীদের

    হুগলি জেলার প্রাচীন জনপদ বেগমপুর। শ্রীরামপুর মহকুমার চণ্ডীতলা থানার অধীনে এই প্রাচীন জায়গা তাঁত শিল্পের জন্য এক সময় সুবিখ্যাত ছিল। বিশেষ করে হালকা এবং উজ্জ্বল বলে এই বেগমপুরি তাঁতের (Handloom Sarees) বরাবরই একটা কদর রয়েছে। কিন্তু আগামী দিনে আদৌ এই বেগমপুরি শাড়ি থাকবে কিনা, তা নিয়ে একটা প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বেগমপুরের তাঁতিপাড়ায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে যেতেই উঠে এল শিল্পীদের করুণ অবস্থা। সামনেই দুর্গাপুজো। কিন্তু তাঁদের মুখে হাসি নেই। অধিকাংশ শিল্পী প্রবীণ। তাঁদের উত্তরসূরি কেউ আর তাঁত বোনে না। কারণ তাতে করে পেট ভরে না। তাই তাঁরা পার্শ্ববর্তী ডানকুনি শিল্পাঞ্চলে কলকারখানায় কাজ জোটাতে ব্যস্ত।

    বাস্তব অভিজ্ঞতা বড়ই করুণ

    আর করবেই বা কেন? বাস্তব অভিজ্ঞতা যে বড়ই করুণ। মহাজন কাঁচামাল দিয়ে যায়, বৃদ্ধ তাঁতি তাঁর সহধর্মিণীকে পাশে রেখে তাঁত বুনে যান। একটি ১২ হাত শাড়ি (Handloom Sarees) তৈরি করতে লাগে ২ দিন। মজুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। শেয়ার বাজারের মতো রেট ওঠানামা করে। দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে দৈনিক রোজগার ৮০ কি ৯০। এতে কি সংসার চলে? কিন্তু কে দেখবে? কে করবে এর সমাধান? শিল্পীদের একটাই দাবি, মজুরি বৃদ্ধি। কিন্তু সে তো অরণ্যে রোদন। এক সময় যে এলাকায় ৩৫ হাজার তাঁত চলত, রাস্তার দু’দিকের বাড়ি থেকে ভেসে আসা সুমধুর খটাখট আওয়াজে চারদিক গমগম করত, এখন মেরেকেটে ৫০০ তাঁত চলে কিনা সন্দেহ। তবুও ঘষে যাওয়া চশমা মুছে, তাঁরা বুনে চলেছেন, খটাখট খটাখট..।

    কী বললেন প্রবীণ শিল্পী?

    এখানকারই এক প্রবীণ শিল্পী বলছিলেন, শাড়ির বাজার খুবই খারাপ। সুতোর দাম বেড়ে গিয়ে কাপড়ের দাম বেড়েছে। কিন্তু লক ডাউনের আগে মজুরি যা পেয়েছি, এখন তা আরও কমে গেছে।  যে কাপড়টা ২৩০ টাকা মজুরি পেয়েছি, সেটা আজকে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা মজুরি। একটা কাপড় বুনতে ২ দিন করে সময় লাগে। সপ্তাহে ৪ টের বেশি বোনাই যায় না। আমাদের বয়স হয়ে গেছে। যারা একটু বেশি বোনে, তারাও ৫ টার বেশি পারে না। তাঁর আক্ষেপ, এখন আর নতুন করে কেউ তাঁত বোনে না। সব কারখানায় কাজ করতে চলে যাচ্ছে। তাঁত চালাতে পারছে না বলেই দলে দলে ডানকুনি বা দুর্গাপুর রোডে কাজে চলে যাচ্ছে। তাঁত শিল্প কি উঠে যাবে? ওই প্রবীণের সাফ জবাব, উঠে যাবে মানে? উঠে তো গেছে। 

    অকাল বিশ্বকর্মা

    এখানে তাঁতিদের (Handloom Sarees) এতই কর্মব্যস্ততা ছিল যে কারিগরি দেবতা বিশ্বকর্মা পুজোও তাঁরা পিছিয়ে শীতকালে করতেন। কারণ দুর্গাপুজোর ঠিক এক মাস আগে বিশ্বকর্মা পুজো তাঁরা ঠিকমতো করতে পারতেন না। তাই দুর্গাপুজোর পর বিশ্বকর্মা পুজোর আয়োজন করতেন। সেই থেকে এই বেগমপুর এলাকায় অকাল বিশ্বকর্মা পুজো হয়ে থাকে, যা এই বাংলায় কোথাও হয় না। সেই হুগলির ম্যাঞ্চেস্টারের সুদিন কি আবার কোনও দিন ফিরে আসবে কোনও সোনার কাঠির ছোঁয়ায়? সময় এর উত্তর দেবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ। 

LinkedIn
Share