Tag: Health Awareness

  • Mens Health: পুরুষের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে ‘একাকিত্ব’! সমস্যা ভাগ করে নিতে না পারার জেরেই কি বাড়ছে বিপদ?

    Mens Health: পুরুষের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে ‘একাকিত্ব’! সমস্যা ভাগ করে নিতে না পারার জেরেই কি বাড়ছে বিপদ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সবকিছুই সামলে নিতে পারে। অফিসের চাপ থেকে ব্যক্তিগত জীবনের নানান বঞ্চনা। অধিকাংশ সময়েই সে নিয়ে কথা বলা হয় না। বরং নিজের না পাওয়া নিয়ে কথা বলাই যেন একধরনের দূর্বলতার প্রকাশ। পুরুষ মানেই, সে সবকিছু পারবে। ব্যর্থতা যেন লজ্জা। সমাজে পুরুষের এমন এক ইমেজ। নিজের না পাওয়া কিংবা হেনস্থার কথা প্রকাশ করতেও তাই অধিকাংশ পুরুষের কুন্ঠাবোধ হয়। আর এই সমস্যা ভাগ করতে না পারার জন্য বিপদ বাড়ছে। দেখা দিচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। জুন মাসের ১৫ থেকে ২১ তারিখ ইন্টারন্যাশনাল মেন হেলথ উইক (International Men’s Health Week) পালন হয়। সপ্তাহ জুড়ে পুরুষদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে নানান কর্মশালার আয়োজন হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উঠে এসেছে, পুরুষদের স্বাস্থ্য সঙ্কটের নেপথ্যে রয়েছে নিজের সমস্যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করতে না পারার ঘটনা।

    সমস্যা ভাগ করতে না পারার জেরেই কেন বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারত সহ বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশেই পুরুষদের অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা হলো একাকিত্ব‌। এই সমস্যা মানসিক হলেও, শারীরিক ক্ষেত্রেও এর গভীর প্রভাব পড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পুরুষদের হৃদরোগের সমস্যা উর্ধ্বমুখী। ভারতে পুরুষদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হৃদরোগ। কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের জেরেই কম বয়স থেকেই হৃদরোগের সমস্যা দেখা যায়। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পুরুষেরা নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারে না। এর ফলে, মানসিক চাপ, বিষন্নতা, রাগ হয়। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা তৈরি হয়। এগুলো আবার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে পুরুষদের আত্মহত্যা!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে উদ্বেগজনক হারে পুরুষদের আত্মহত্যা বাড়ছে। নিজের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে না পারার জেরেই ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে একাকিত্ব, অবসাদ ও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনাও বাড়ছে। অনেক সময়েই পেশাগত জীবন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের নানান জটিলতায় তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু সেই সমস্যা অন্যের সঙ্গে ভাগ করতে পারছেন না। যার ফলে মানসিক চাপ বাড়ছে। সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, শারীরিক পরীক্ষা না করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, উপসর্গ দেখা দিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো অবহেলা করা হচ্ছে।‌ পরিবারের সদস্যেরাও রোগের উপসর্গ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকছেন না। ফলে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে না। বড় বিপদ আটকানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

    ভারতীয় পুরুষদের কোন চার রোগের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন?

    ইন্টারন্যাশনাল মেন হেলথ উইকে চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে চারটি রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে হৃদরোগ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ কম বয়সী ভারতীয় পুরুষেরা হৃদরোগে আক্রান্ত হন। উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখলে এই বিপদ আটকানো সহজ হবে। মানসিক চাপ কমাতে হবে। পরিবারের ছেলে সব সামলে নেবে, সব পারবে, এই চিন্তার বদল জরুরি। অতিরিক্ত প্রত্যাশা মানসিক চাপ তৈরি করছে। তবে এর পাশপাশি খাদ্যাভাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত পরিমাণ তেল মশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। বরং স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যস্ত থাকা জরুরি।‌ তাহলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে।

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধূমপানের প্রবণতা

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধূমপানের প্রবণতা। তাই ভারতীয় পুরুষদের ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বেশি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং অন্যান্য সংক্রমণের নেপথ্যে অন্যতম কারণ ধূমপানের অভ্যাস। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ভারতের ছেলেদের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস গড়ে উঠছে। আধুনিক জীবনে ‘স্মার্ট’ হওয়ার মাপকাঠি হয়ে উঠছে ধূমপান। কিন্তু এই ভ্রান্ত ধারণার বদল জরুরি‌। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস কখনোই আধুনিক জীবনের অংশ হতে পারে না। ধূমপানের অভ্যাস কখনোই ‘স্মার্ট’ হওয়ার মাপকাঠি নয়। বরং যে অভ্যাস না থাকলে দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব, সেটা মেনে চলার মধ্যেই বুদ্ধিমত্তা প্রকাশ পায়।

    মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা জরুরি

    ভারতীয় পুরুষদের শারীরিক সমস্যার পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও সচেতনতা জরুরি। এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতি বছর যে হারে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে, তাতে ভারতীয় পুরুষদের মানসিক চাপ ও অবসাদের বিষয়ে সচেতনতা কতখানি জরুরি, সে সম্পর্কে ধারণা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে। সবটা একটা সামলে নিতে হবে, এই ভাবনার পরিবর্তে পরিবারে সকলের সঙ্গে বিষয়টি ভাগ করে নিতে হবে, এটা বোঝাও জরুরি। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় পুরুষদের আত্মহত্যার অন্যতম অত্যাধিক মানসিক চাপ।

    ভারতে বাড়ছে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা

    ভারতে বাড়ছে প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। সময় মতো চিকিৎসা শুরু না করলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে ওঠে বলেও জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় প্রৌঢ়দের মধ্যে এই সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। বার্ধক্যজনিত কারণে প্রস্টেট গ্রন্থিতে অনেক সময়েই নানান সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই সেই উপসর্গকে পুরুষেরা বিশেষ গুরুত্ব দেন না। এর ফলে সমস্যা থাকলে তা আরও জটিল হয়ে যায়। তাই ভারতীয় পুরুষদের এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাহলে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ মোকাবিলা সহজ হবে‌।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আগাম উপসর্গ দেখা দিলেও, অসচেতনতার জেরে অনেক সময়েই তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিপদ বাড়লেও অসতর্কতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। মস্তিষ্কের টিউমার ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার জেরে অনেক সময়েই প্রাণ সংশয় বাড়ছে। চিকিৎসার সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে ভারতের পাশপাশি বিশ্বের একাধিক দেশেই এই সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার দেরি। তাই চলতি বছরে ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-র মূল বার্তা, নিবিড় পর্যবেক্ষণেই কমবে বিপদ!

    কেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাড়তি গুরুত্ব?

    ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-তে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের টিউমার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিবিড় পর্যবেক্ষণের উপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন-র এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ু ঘটিত সমস্যাকে অবহেলা করলে, পরবর্তী সময়ে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই এ বছরে সেই দিকে গুরুত্ব দিয়েই বলা হচ্ছে, ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি রুখতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি। অর্থাৎ, শিশু হোক বা মধ্য বয়সি, যেকোনো মানুষ যদি বারবার কোনো ধরনের স্নায়বিক সমস্যায় ভোগেন, তাহলে সেই উপসর্গকে অবহেলা করা চলবে না। বরং, তাঁর ঠিকমতো শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। সকলেই এই বিষয়ে অবগত হলে, রোগ নির্ণয় সহজ হবে।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সাধারণ সমস্যা, অনেক সময়েই অবহেলা করা হয়। যা পরবর্তীতে নানান জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই প্রবল মাথা যন্ত্রণার কাবু হন, আবার অনেকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, খিঁচুনির মতো উপসর্গ ও দেখা দেয়‌। এই ধরনের সমস্যা বারবার হলে, তা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। এগুলো মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। আবার, চোখে ঠিকমতো দেখতে না পাওয়া, লক্ষ্য অস্পষ্ট হওয়া, স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে অর্থাৎ খুব সাধারণ তথ্য ও মনে রাখতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিলে, একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের ভিতরে টিউমার হলে, তা খালি চোখে বোঝা যাবে না। কিন্তু শরীর নানান ভাবে তা জানান দেবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ সেই উপসর্গকে অবহেলা করেন। অসচেতনতার জেরে খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যাকেও অন্যান্য সমস্যা ভেবে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করান না। যার ফলে রোগ নির্ণয় হয় না। তাই নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি।

    কাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের টিউমার একটি স্নায়বিক সমস্যার জেরে হয়। যেকোনো বয়সে, মহিলা কিংবা পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু জিনগত একটা ইতিহাস মস্তিষ্কের টিউমারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হলে বংশানুক্রমিক ভাবে তা পরবর্তী প্রজন্মে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, টিউমারের সঙ্গে স্নায়বিক সমস্যার যোগাযোগ রয়েছে। স্নায়বিক সমস্যা কিন্তু অনেক সময়েই জিনগত হয়। তাছাড়া, বেশ কিছু বিরল স্নায়বিক রোগ রয়েছে, যেগুলো জিনগত সমস্যা। সেগুলোও মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে, জিনগত এই জটিলতার পাশপাশি অতিরিক্ত মাথায় উচ্চ মাত্রায় রেডিয়েশন থেরাপি টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক জীবনে বিভিন্ন রকম রেডিয়েশনের ঝুঁকি বাড়ছে। এগুলো কিন্তু মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যারা প্রত্যক্ষ ধূমপান করেন, তাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি, পরোক্ষভাবে এই ধূমপানের ধোঁয়ার মধ্যে থাকেন তাঁদের ও ঝুঁকি বেশি। অর্থাৎ, পরিবারের কেউ ধূমপান করলে, তার অন্যান্য সদস্যদেরও অনেক সময় সেই ধোঁয়া সহ্য করতে হয়। পরোক্ষভাবে হলেও এই ধোঁয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তামাকের এই ধোঁয়া, স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করে। তাই ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতনতাই রোগের ঝুঁকি কমাবে। রোগ নির্ণয় প্রাথমিক পর্বে হলে, তবেই চিকিৎসা ঠিকমতো করা যাবে। মস্তিষ্কের টিউমার চিকিৎসার মূল অন্তরায় হলো চিকিৎসার বিশেষ সুযোগ থাকে না। তাই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তবে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম নেওয়া, মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক এড়িয়ে চলা ও ক্ষতিকারক রশ্মি এড়িয়ে চললেছবি নানান শারীরিক বিপদ কমবে। ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। এগুলো স্নায়ু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে‌। ফলে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকিও কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    Eyesight Problems: স্ক্রিন টাইম নয়, দৃষ্টিশক্তি কমার নেপথ্যে দায়ী এই সাধারণ অভ্যাস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কমছে দৃষ্টিশক্তি! আট থেকে আশি, চোখের সমস্যায় কাবু! স্কুলের চৌকাঠে ঢোকার আগেই অনেক শিশুর চোখে চশমা! অনেকের দূরের জিনিস ঝাপসা দেখেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপনের অভ্যাসের জেরেই চোখের সমস্যা বাড়ছে। কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার নেপথ্যে এক সাধারণ অভ্যাস রয়েছে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা?

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক কলেজ অফ অপ্টোমেট্রি-র গবেষকেরা এক পরীক্ষা চালিয়েছেন। তার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাবে। বিশেষত, দূরের জিনিস স্পষ্ট ভাবে দেখার ক্ষমতা কমবে। শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা প্রবল ভাবে বাড়বে। দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা আর বয়সের সীমারেখায় আটকে থাকবে না। এই সমস্যার জেরে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যা চোখের দীর্ঘমেয়াদি জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে।

    কোন অভ্যাসের জেরে এই সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হোক কিংবা অবসর যাপনের সঙ্গী হলো ল্যাপটপ, মোবাইলের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট। ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার জেরে চোখের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এর থেকেও বেশি বিপদ বাড়াচ্ছে এক সাধারণ অভ্যাস। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অন্ধকার ঘরে কিংবা আবছা আলোয় ল্যাপটপ‌ কিংবা মোবাইল দেখেন। অনেকেই কাজে মনোযোগ বাড়ানোর জন্য ঘর অন্ধকার করে দেন। রাতে বিনোদনের জন্য মোবাইলে সময় কাটানোর সময় অন্ধকার ঘর বেশিরভাগ কম বয়সি ছেলেমেয়েদের পছন্দ। আর তাতেই বিপদ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্ধকারে কোনও জিনিস দেখার সময় চোখের পেশিতে মারাত্মক চাপ পড়ে। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে চোখের পেশি সংকুচিত হয়। সেই সংকোচনের ফলেই প্রতিফলিত হয়ে, আমরা যে কোনও বস্তু দেখতে পাই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় চোখের পেশিতে বাড়তি চাপ পড়লে কর্ণিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দৃষ্টিশক্তি কমে। এর ফলে, চোখ ঝাপসা হয়। দূরের জিনিস দেখার ক্ষমতাও কমে যায়।

    বিপদ এড়াতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখের শক্তি অক্ষুন্ন রাখতে কয়েকটি অভ্যাস বদল জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাতে ঘর অন্ধকার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার অভ্যাস বদল জরুরি। ল্যাপটপে কাজ করা হোক কিংবা মোবাইলে সিনেমা দেখা, ঘরে আলো জ্বালানো জরুরি। তাহলে চোখের পেশির উপরে বাড়তি চাপ পড়বে না। স্ক্রিন টাইম নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দিনের কতটা সময় একটানা ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকব, সে নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। আধ ঘণ্টার বেশি একনাগাড়ে স্ক্রিনের দিকে থাকা চলবে না। চোখে বারবার জল দিতে হবে। কয়েক ঘণ্টা ল্যাপটপে বা মোবাইলের স্ক্রিনে সময় কাটালে, অন্তত আট ঘণ্টা বা চল্লিশ মিনিট বাগানে বা গাছে ঘেরা এলাকায় থাকতে হবে। তাছাড়া লেবু ও বেরি জাতীয় ফল নিয়মিত খেতে হবে, এতে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তাহলে চোখের স্নায়ু ও পেশির প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হবে। চোখের ক্ষমতা বজায় থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share