Tag: Healthy Diet

Healthy Diet

  • Brain Health: ভুলে যাচ্ছেন সব কিছু? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন মানুন এই ৪ অভ্যাস

    Brain Health: ভুলে যাচ্ছেন সব কিছু? মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে প্রতিদিন মানুন এই ৪ অভ্যাস

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ জীবন যাপনের অনেকটাই নির্ভর করে মস্তিষ্কের উপরে।‌স্মৃতিশক্তি ঠিক থাকলে, মস্তিষ্ক ভালো থাকলে, শরীর ভালো থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের একাধিক সমস্যাও সমাধান করা সহজ হয়। কিন্তু আধুনিক জীবনে চাপ বাড়ছে। তাই মস্তিষ্কের উপরে তার প্রভাব পড়ছে। নানান শারীরিক সমস্যা এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চারটি অভ্যাসে নজর দিলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে। জটিলতা কমবে। জুলাই মাসে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতোই মস্তিষ্কের যত্ন নেওয়া জরুরি।‌ নিয়মিত কয়েকটি অভ্যাসের মাধ্যমেই মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে এমন একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যার সঙ্গে সরাসরি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য জড়িয়ে আছে। স্নায়ুর একাধিক রোগের অন্যতম কারণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ‌্য। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ, দুশ্চিন্তা মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। স্নায়ুতন্ত্রের উপরে যার প্রভাব পড়ে। ফলে, হাত-পায়ে খিঁচুনি, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ, যেকোনো কাজে মনোযোগ না করার মতো সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে পেশাগত জীবনে সমস্যা তৈরি হয়। ব্যক্তিগত জীবনেও জটিলতা আসে। যার ফলে আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, একটা চক্রের মতো সমস্যা বাড়তে থাকে।

    বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা 

    তাছাড়া বিশ্বজুড়ে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ছে। প্রৌঢ় বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে পারছেন না। এর ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হয়‌। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা বাড়বে। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রয়েছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে নানান অভ্যাস রপ্ত করা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য মস্তিষ্কের সুস্থ থাকা এবং সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। সেটা না হলেই নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আচরণগত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এমনটাই মত চিকিৎসকদের একাংশের।‌

    কোন চার অভ্যাসে বাড়তি নজর বিশেষজ্ঞদের?

    নিয়ম মাফিক ঘুমের অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত মস্তিষ্কের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। আধুনিক জীবনের একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার নেপথ্যে থাকছে পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোয় না। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখতে নিয়মিত অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম জরুরি। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকলে মস্তিষ্কের স্নায়ু এবং হরমোনের উপরে গভীর চাপ পড়ে। ভারসাম্য নষ্ট হয়‌। তাই নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসে জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই নিয়ম মাফিক পর্যাপ্ত ঘুমোয় না। রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানো কিংবা অনেক সময় অফিসের কাজ করার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। এগুলো মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা কমিয়ে দেয়।

    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস !

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ঠিকমতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকে। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বাড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে যেমন ভিটামিন,‌ প্রোটিন জরুরি। তেমনি মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে খনিজ পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত শরীরে পর্যাপ্ত মিনারেল পৌঁছলে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই তাঁরা নিয়মিত কাঠবাদাম, পেস্তা, আখরোটের মতো খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো উপাদান থাকে। এই খনিজ পদার্থগুলো মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।

    নিয়মিত মেডিটেশন!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে নিয়মিত মেডিটেশন‌ জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন নিয়মিত তিরিশ মিনিট মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমবে। আবার আচরণগত জটিলতা দেখা দেবে না। অনেকের সব সময় মেজাজ খিটখিটে থাকে। অকারণেই রাগ বাড়ে। নানান ছোটো বিষয়েও উদ্বেগ বাড়ে। সেগুলো তাঁদের আচরণে প্রভাব‌ ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোন গত সমস্যার কারণেই এই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে তবেই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। নিয়মিত মেডিটেশন করলে মস্তিষ্ক ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

    ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ জরুরি!

    ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশপাশি মস্তিষ্কের অসুখের নেপথ্যেও থাকে ধূমপান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ধূমপান করলে ফুসফুসের ক্যান্সার হতে পারে। মুখ ও গলার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ ধূমপান। আবার মস্তিষ্কের নানান রোগের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের অভ্যাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার ধূমপান করলে স্নায়ুর উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। মস্তিষ্কেও ক্ষতের সৃষ্টি হয়। স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ নিয়মিত লাগাতার ধূমপান। তাই মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে ধূমপানের মতো অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    Chronic Disease: ডায়াবেটিস থেকে শ্বাসকষ্ট— ভারতে বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট, কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কেউ শ্বাসকষ্টের জেরে বছরের বিভিন্ন সময়েই ভোগেন, আবার কেউ পেটের সমস্যায় কাবু! সমস্যার জেরে বাইরে যাওয়ার আগেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। কেউ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপকেই নিত্যসঙ্গী করে চলছেন। বিশ্বের অন‌্যান্য দেশের মতো ভারতেও বাড়ছে ক্রনিক রোগের দাপট। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও এই ক্রনিক রোগের দাপট বাড়ছে। ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে চিকিৎসক মহল জানাচ্ছেন, মনের জোরেই এই রোগ মোকাবিলার পথ সহজ হবে। মানসিক শক্তিই স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেও সাহায্য করবে।

    ক্রনিক ডিজিজ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো রোগে তিন মাসের বেশি সময় আক্রান্ত থাকলে, তাকে ক্রনিক ডিজিজ বলা যেতে পারে। তবে, আরও কয়েকটি দিক সেক্ষেত্রে দেখতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে দীর্ঘ সময় এই রোগের উপস্থিতি থাকার পাশপাশি এই রোগ অনেকক্ষেত্রেই পুরোপুরি সেরে যায় না। বারবার ফিরে আসার ঝুঁকিও থাকে। কখনো রোগের দাপট বাড়ে। আবার কখনো কমে।

    ভারতে কোন ক্রনিক রোগের দাপট বেশি?

    গত কয়েক দশকে ভারতে উদ্বেগজনক হারে ক্রনিক রোগের দাপট বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিছু রোগ সংক্রামক হয় না। কিন্তু সেই রোগে আক্রান্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি চলে। রোগের বোঝা জনজীবনে গভীর ভাবে পড়ে। গত কয়েক দশকে ভারতে এমন কিছু রোগের দাপট বাড়ছে, যা জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।

    সিওপিডি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে বাড়ছে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। শ্বাসকষ্টজনিত এই রোগে কাবু শিশু থেকে বয়স্ক অনেকেই। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশপাশি ফুসফুসের আরও একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হয়‌।

    পেটের সমস্যা

    এছাড়াও ভারতের অন্যতম বড় ক্রনিক রোগ হলো পেটের সমস্যা। অধিকাংশ ভারতীয় পেটের সমস্যায় কাবু। অন্ত্রের একাধিক সমস্যার জেরে হজমের গোলমাল এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। বারবার মলত্যাগ, পেট ব্যথার মতো সমস্যার জেরে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিরাও এই পেটের সমস্যায় কাবু হন।

    অস্টিওপোরোসিস

    ভারতে বাড়ছে হাড়ের ক্রনিক রোগ। বিশেষত ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, তিরিশের চৌকাঠ পার করার পরেই ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওপোরোসিস বলা হয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে বিশেষত হাঁটু, কোমড় এবং অন্যান্য জয়েন্টে তীব্র যন্ত্রণা, দীর্ঘসময় বসে থাকা বা দাঁড়িয়ে থাকায় মুশকিল হয়।

    ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে কিডনি ও হৃদরোগের ক্রনিক  ডিজিজ

    এছাড়াও ভারতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির ক্রনিক অসুখ এবং হৃদরোগ ক্রনিক ডিজিজ হিসাবে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বয়স তিরিশের চৌকাঠ পেরোনোর পরেই বহু ভারতীয় এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন যাপন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কর্মদক্ষতা কমছে। স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব হচ্ছে না।

    কেন ক্রনিক রোগের মোকাবিলায় মনের জোরকেই হাতিয়ার করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ২০২৬ সালের ক্রনিক ডিজিজ ডে-তে বিশ্ব জুড়ে পালন হবে I stay strong! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্রনিক রোগ মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার মনের জোর। ক্রনিক রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। একাধিক বার এই রোগে আক্রান্তের ভোগান্তি বাড়ে। সুস্থ থাকতে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানান চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয়‌। অনেক খাবার খাওয়া এবং অন্যান্য একাধিক অভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি হয়। ফলে জীবন যাপনেও নিয়ন্ত্রণ থাকে। অনেকক্ষেত্রেই রোগীর একঘেয়েমি লাগতে পারে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘকাল শরীরে উপস্থিত থাকা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানসিক জোর জরুরি। পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়, জেনেও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ, তবেই রোগের দাপট নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার রোগের প্রকোপ বাড়লেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। বছরের কিছু সময়ে, শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের সমস্যার মতো ক্রনিক রোগ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হলে বিপদ বাড়বে। বরং কীভাবে বাড়তি ভোগান্তি কমানো যাবে, সে সম্পর্কে রোগীকে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। আর এই সবকিছু দীর্ঘদিন ধরে চলবে। তাই মানসিক শক্তি জরুরি। মনের জোর না থাকলে ক্রনিক রোগের মোকাবিলা কঠিন।

    ক্রনিক রোগ ঠেকাতে কী কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন মনের জোর। আর দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে প্রয়োজন সচেতনতা। শ্বাসকষ্ট, অন্ত্রের গোলমালের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা জরুরি। বায়ুদূষণ, জল দূষণের মাত্রা কমলেই এই ধরনের জটিল ক্রনিক রোগের দাপট কমবে। সকলের জন্য পরিশ্রুত পানীয় জল জরুরি। যথেচ্ছ বাজি পোড়ানো, গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। সরকারের পাশপাশি জনসমাজেও পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই রোগের বোঝা কমবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চা নিয়ে আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে। নিয়মিত শারীরিক কসরত করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি না হয়। তাছাড়া নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। তাহলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, হৃদরোগের মতো ক্রনিক রোগের দাপট কমানো যাবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Diabetes Causes Beyond Sugar: শুধু চিনি নয়! তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়াচ্ছে এই ৪ দৈনন্দিন অভ্যাস, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা

    Diabetes Causes Beyond Sugar: শুধু চিনি নয়! তরুণদের ডায়াবেটিস বাড়াচ্ছে এই ৪ দৈনন্দিন অভ্যাস, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চিনি বিপজ্জনক। কিন্তু শুধু চিনিই সমস্যা তৈরি করছে না। বরং, চিনির সঙ্গে বিপদ বাড়াচ্ছে প্রতি দিনের কিছু অভ্যাস। ভারতে ডায়াবেটিস আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের দাপট বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের অন্যতম শর্ত রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকতে হবে। কিন্তু আধুনিক জীবন যাপনের জেরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে‌। ডায়াবেটিস রুখতে অনেকেই চিনিকে খাবারের তালিকা থেকে বাদ রাখছেন। কিন্তু তারপরেও বিপদ আটকানো যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের ডায়াবেটিস আক্রান্তের কারণ শুধুই চিনি নয়। বরং, তার নেপথ্যে রয়েছে আরও কয়েকটি কারণ। এমনটাই সাম্প্রতিক গবেষণায় জানিয়েছেন একদল গবেষক-চিকিৎসক।

    কী বলছে সাম্প্রতিক গবেষণা? ডায়াবেটিসের নেপথ্যে কোন কারণ দায়ী?

    সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের দাপট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, তাঁদের জীবন যাপনের অভ্যাস এবং খাদ্যাভাস।

    ব্যালেন্স খাবার নিয়ে ধারণার অভাব!

    গবেষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চিনি খাওয়া নিয়ে সতর্ক। কিন্তু তাঁরা সুষম খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত নন। তাঁদের খাবারে নিয়মিত প্রোটিন, ভিটামিন এবং কার্বোহাইড্রেটের ব্যালেন্স থাকছে না। সকাল থেকে রাত, প্রত্যেকদিন একাধিকবার তাঁরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজন মাফিক প্রোটিন এবং ভিটামিন শরীর পাচ্ছে না। সকালের জলখাবারে পরোটা, দুপুরে ভাত কিংবা রাতে রুটি বা ভাতের মতো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার থাকছে। চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব্জি, ডাল, ডিম, পনীর খাওয়া হয় না। সকালের জলখাবার হোক বা দুপুরের খাবার, ভাত কিংবা রুটির সমান পরিমাণ সব্জি, ডাল খাওয়া জরুরি। এই সম্পর্কে এখনও অধিকাংশ মানুষ সচেতন নন। এই অসচেতনতা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কম!

    তরুণ প্রজন্মের একাংশের দিনের বেশিরভাগ সময় চেয়ার কিংবা সোফায় বসে কাটাতে হয়। গবেষক চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কাজের ধরণ বদলে গিয়েছে। আধুনিক জীবনে অধিকাংশ পেশায় চেয়ার কিংবা সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করার রেওয়াজ। দিনের ৯-১০ ঘণ্টা বসেই কাটছে। আবার বাড়ি ফিরে অবসর যাপন বসেই হয়। সোফায় বা বিছানায় বসে মোবাইলে সময় কাটানো হলো দিন শেষের নিজেস্ব সময় কাটানোর পথ। আর এই সবটাই অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনের দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শারীরিক পরিশ্রম না হলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

    খাবারের সময়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কখন খাবার খাওয়া হয়, তার উপরে একাধিক রোগের দাপট নির্ভর করে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ অনেক রাতে খাবার খায়। এমন অনেকেই রাত বারোটার পরে খাবার খায়। এই অতিরিক্ত রাতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

    অনিদ্রা!

    তরুণ প্রজন্মের একাংশের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হলো অনিদ্রা। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ঘুম হলে মস্তিষ্ক, পেশি এবং স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। কার্যক্ষমতা বাড়ে। তেমনি পর্যাপ্ত ঘুম হলে শরীরের একাধিক হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম হলে ইনসুলিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রাও বজায় থাকে।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে চিনি খাওয়া বাদ দেওয়ার পাশপাশি আরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন জরুরি। শুধু চিনি বাদ দিলেই হবে না। ডায়াবেটিস রুখতে চিনির পাশপাশি অতিরিক্ত তেলেভাজা জাতীয় খাবার, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা হতে পারে এমন খাবার খাওয়া চলবে না।‌ তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করতে হবে। নিজস্ব সময় কাটানো শুধুই মোবাইল দেখায় আবদ্ধ করলে চলবে না। বরং যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটাহাঁটির জন্য কিছুটা সময় বরাদ্দ করতে হবে। তাছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অল্প পরিমাণে খাওয়া, অতিরিক্ত রাতে খাবার না খাওয়ার মতো অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পাশপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর দিতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আর দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের সমস্যা হলে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া দরকার বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Food Allergy: ডিম-দুধে অ্যালার্জি! পুষ্টির ঘাটতি না বাড়িয়ে কোন খাবার খেলে মিলবে একই উপকার?

    Food Allergy: ডিম-দুধে অ্যালার্জি! পুষ্টির ঘাটতি না বাড়িয়ে কোন খাবার খেলে মিলবে একই উপকার?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরের জন্য উপকারি। কিন্তু খেলেই হাতে-পায়ে চুলকানি, ত্বক লাল হয়ে উঠছে। এমনকি শ্বাসকষ্ট হতে পারে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর খাবারেও অ্যালার্জি হতে পারে। যা প্রাণ সংশয় পর্যন্ত তৈরি করতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি। শিশু হোক বা বয়স্ক, স্বাস্থ্যকর খাবারেও অ্যালার্জি হলে কী ভাবে সেটা আটকানো যাবে। পুষ্টির ঘাটতি রুখতে বিকল্প খাবার কী হতে পারে, সে নিয়েও সচেতনতা জরুরি।

    কোন খাবারে অ্যালার্জি হতে পারে?

    প্রাণীজ প্রোটিন এবং দানাশস্য, যে কোনও খাবার থেকেই অ্যালার্জি হতে পারে। তবে কয়েকটি খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্যে ডিম, সামুদ্রিক মাছ যেমন কড, আবার সামুদ্রিক প্রাণী যেমন লবস্টার, কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি দুধ থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। কিন্তু দুধ, ডিম, কড মাছ বা কাঁকড়া, চিংড়ি জাতীয় খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। তাই এগুলো ছোটো থেকে বয়স্ক, সকলের খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু এই ধরনের খাবারে অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে প্রাণীজ প্রোটিনের পাশপাশি কিছু দানাশস্য এবং সব্জি থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের দানাশস্য যেমন রাগি, বাজরার মতো দানাশস্য থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। আবার সোয়াবিনের থেকেও অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু শরীরের পুষ্টির জন্য এই ধরনের খাবার খুব জরুরি। তবে অ্যালার্জি বিপজ্জনক। তাই বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    কীভাবে বুঝবেন অ্যালার্জি হয়েছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ জানান দেয়, অ্যালার্জি হয়েছে কিনা। উপসর্গ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। অবহেলা না করে প্রথম থেকেই চিকিৎসা করলে বড় বিপদ এড়ানো যেতে পারে। খাবার খাওয়ায় কিছু সময় পরেই হাতে-পায়ে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় চুলকানি, লাল দাগ দেখা দেওয়া অ্যালার্জির অন্যতম উপসর্গ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, জিভ ও ঠোঁট ফুলে যাওয়া, লালা ঝরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আবার বমি, পেট ব্যথা, বারবার মলত্যাগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সমস্যা বাড়লে কাশি, গলার ভিতরে জ্বালা এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি ও তৈরি হতে পারে।

    অ্যালার্জি রুখতে কী করবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালার্জি রুখতে এই সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। কোনও নির্দিষ্ট একটা খাবার খেয়ে, যদি বারবার ত্বকে সমস্যা, গলার ভিতরে অস্বস্তি কিংবা পেট ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে প্রথম থেকেই সতর্কতা প্রয়োজন। অবহেলা করলে বিপদ বাড়বে। পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো, অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। পাশপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে।‌

    বিকল্প পুষ্টি কী হতে পারে?

    ডিম, দুধ বা দানাশস্য, সোয়াবিন এই ধরনের খাবারেই অ্যালার্জির ঝুঁকি বেশি থাকে। কিন্তু এই খাবারগুলো শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস। তাই অ্যালার্জি হলে এই সব খাবার খাওয়া যায় না। কিন্তু শরীরে পুষ্টির ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। তাই বিকল্প পুষ্টির ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ডিম ও দুধ অত্যন্ত জরুরি দুটি খাবার। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, প্রোটিন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে। যদি এই দুই খাবার বাদ দিতে হয়, তাহলে বিকল্প খাবার হিসাবে অবশ্যই মাছ,‌ পনির এবং বাদামের দুধ খাওয়া যেতে পারে। দুধ থেকে অনেক সময়েই পেটের সমস্যা হয়। কিন্তু বাদাম দুধে সেই ঝুঁকি কম। কিন্তু পুষ্টিগুণ একরকম। তাই যাদের দুধ খেলে সমস্যা হয়, তাঁরা বিকল্প খাবার হিসাবে বাদাম দুধ খেতেই পারে। আবার ডিমের মতোই পনীর এবং মাছ শরীরে সহজে পুষ্টির জোগান দেয়। নিয়মিত এমন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, যাতে সেটা সহজে হজম হয়‌। তবেই শরীর উপকার পাবে। মাছ এবং পনীর সহজ পাচ্য। তাই ডিমে অ্যালার্জি থাকলে নিয়মিত এই দুই খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তাহলে প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের ঘাটতি কমবে। সোয়াবিনের মতো নিরামিষ প্রোটিনে অ্যালার্জি দেখা দিলে নিয়মিত ডাল খাওয়া জরুরি। মুগ, মুসুর বা ছোলা যে‌কোনো ডাল নিয়মিত খেলে শরীরে প্রোটিন, ফাইবারের ঘাটতি হবে না। তাই এই ধরনের বিকল্প খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। যাতে শরীর সুস্থ থাকে। আবার অ্যালার্জি থাকলে, বড় বিপদ ও সহজে এড়ানো যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    Superfoods for Children: দিনভর পড়াশোনা, টিউশন, খেলাধুলা! ক্লান্তি দূর করে স্কুলপড়ুয়াদের এনার্জি বাড়াবে এই ৭ সুপারফুড

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভোর থেকে রাত, দিনভর থাকে নানান কাজ! পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা, গান শেখা কিংবা সাঁতার-ক্যারাটের মতো খেলা চলে। একদম রুটিন মেনে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ক্লান্তি। শরীর ও মনে এর গভীর প্রভাব পড়ছে। তাই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের বাড়তি যত্ন জরুরি। বিশেষত তাদের খাবারের দিকে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্কুল পড়ুয়াদের শারীরিক বিকাশে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। তাদের ঠিকমতো শারীরিক বিকাশ না হলে পরবর্তীতে একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্যেও গভীর প্রভাব পড়ে। মনঃসংযোগ নষ্ট হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি স্মৃতিশক্তিতেও প্রভাব ফেলে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত এমন কিছু খাবার থাকা জরুরি, যাতে তাদের শরীর ও মন ভালো থাকে। দিনভরের ধকল নিতে সক্ষম হয়।

    কোন খাবারে ভরসা রাখছেন পুষ্টিবিদেরা?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর পাতে এমন খাবার দিতে হবে, যা সহজেই হজম হবে। কিন্তু তার পুষ্টিগুণ পর্যাপ্ত থাকবে। এমন একাধিক সব্জি এবং ফল নিয়মিত শিশুকে দেওয়া যেতে পারে, যাতে তার শরীরের সমস্ত চাহিদা পূরণ হয়।

    পালং শাক!

    পুষ্টিকর সব্জির তালিকায় প্রথমেই থাকছে পালং শাক। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, পালং শাক সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাওয়া উচিত। পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন কে সহ একাধিক ভিটামিন। ভারতের অসংখ্য শিশু আয়রনের অভাবে ভোগে। আয়রনের ঘাটতি শিশুর ক্লান্তি বোধ বাড়িয়ে দেয়। রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। এছাড়া ভিটামিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ জরুরি। তাই পালং শাকের মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

    গাজর!

    স্কুল পড়ুয়াদের পাতে নিয়মিত গাজর থাকা প্রয়োজন বলেই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ শিশুর দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। চোখ ভালো রাখতে গাজর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত সব্জি হিসাবে কিংবা স্যালাডের সঙ্গে গাজর খাওয়া যেতে পারে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, গাজর বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ একটি সব্জি। তাই গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমতে পারে।

    ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মজবুত পেশি এবং স্নায়ু সক্রিয় রাখার জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।‌ ভিটামিন, আয়রনের পাশপাশি শিশুর পাতে নিয়মিত ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যাতে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাই ফুলকপি এবং মিষ্টি আলুর মতো সব্জি নিয়মিত শিশুকে খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ফুলকপি এবং মিষ্টি আলু ভিটামিন এ, সি, কে এবং ফাইবার সমৃদ্ধ দুটো সব্জি। তাই এগুলো নিয়মিত খেলে অন্ত্র, লিভার ভালো থাকবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর সচলতা বাড়বে। পাশপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে। ফলে শিশুর সহজে ক্লান্তিবোধ হবে না।

    পেয়ারা, কলা, আমের মতো ফলে বাড়বে খেলাধুলার এনার্জি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশুই সাঁতার, ক্রিকেট কিংবা ক্যারাটের মতো নানান ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধূলা চালানোর জন্য বাড়তি এনার্জি জরুরি। শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দিলে মস্তিষ্কে গভীর প্রভাব পড়বে। মনে রাখার ক্ষমতা কমবে। তার সঙ্গে দক্ষতাও কমবে। ফলে শিশুর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। তাই স্কুল পড়ুয়াদের যাতে বাড়তি এনার্জি পাওয়া যায়, এমন কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, পেয়ারা, কলা এবং আমের মতো ফল নিয়মিত খেলে সহজেই বাড়তি এনার্জি পাওয়া যেতে পারে। কলা কার্বোহাইড্রেট এবং পটাশিয়ামের জোগান দেয়। পেয়ারার থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি। আম কার্বোহাইড্রেটের পাশপাশি ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ফল। তাই এই তিন ফলের মধ্যে যেকোনো একটা ফল নিয়মিত খেলেই শরীরে এনার্জির ঘাটতি দেখা দেবে না।

    কেন সব্জি ও ফলে বাড়তি গুরুত্ব?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অন্যতম বড় সমস্যা স্থুলতা। বিশেষত শিশুদের অতিরিক্ত ওজন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করছে। শিশুদের ওবেসিটির হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। আর তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবন‌ যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। শিশুদের নিয়মিত এমন কিছু খাবার দেওয়া প্রয়োজন, যা মেদ তৈরি করবে না। বরং পুষ্টির জোগান দেবে। অতিরিক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া বিশেষত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার জেরেই স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে। প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার প্রবণতাই শিশুর সুস্থ জীবনের পরিপন্থী হয়ে উঠছে। তাই প্রোটিনের পাশপাশি শিশুর ভিটামিন, ফাইবার, আয়রন এবং পটাশিয়ামের মতো উপাদানের চাহিদা মিটছে কিনা সেদিকে নজর রাখাও জরুরি।‌ কারণ সেগুলোর ঘাটতি হলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। আর তাই ভরসা রামধনু মেনুতে। অর্থাৎ, প্রতিদিন খাবারে নানান রঙের সব্জি থাকবে‌। অর্থাৎ , ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে গাজর, বিট, পালং শাক, কুমড়ো, পটলের মতো নানান রঙের সব্জি থাকবে। যাতে শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ এবং ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়। তবেই সুস্থ দীর্ঘ জীবন সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Nutrition for kids: শিশু কি পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছে? সন্তানের বুদ্ধির বিকাশ হবে কোন পাঁচ খাবারে?

    Nutrition for kids: শিশু কি পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছে? সন্তানের বুদ্ধির বিকাশ হবে কোন পাঁচ খাবারে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ থাকতে জরুরি সঠিক খাদ্যাভ্যাস। পুষ্টি ঠিকমতো না হলে শিশুর বিকাশ সম্ভব নয়। আর স্বাস্থ্যকর খাবার আর পুষ্টি ঠিকমতো না পেলে শিশুর একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষত বুদ্ধির বিকাশে মারাত্মক প্রভাব পড়ে! কারণ, শিশু কী খাবার খাচ্ছে, তার উপরে অনেকটাই তার মস্তিষ্কের বিকাশ নির্ভর করে। তাই ঠিকমতো পুষ্টিগুণ (Nutrition for kids) না পেলে শিশুর বুদ্ধির বিকাশ হয় না। যার প্রভাব সরাসরি তার পড়াশোনার উপরেই পড়ে। তাই পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য, সন্তানের বুদ্ধির বিকাশের জন্য পুষ্টির দিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে, ৩ থেকে ৫ বছর বয়সি শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।‌ কারণ, এটা শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের আদর্শ সময়। এই সময়ে তাই তার খাবারেও‌ বিশেষ‌ নজরদারি প্রয়োজন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কোন পাঁচ খাবারে বুদ্ধির বিকাশের পথ সহজ হবে? এবার সেই বিষয়েই আলোচনা করা যাক।

    জলখাবারে থাকুক বাদাম (Nutrition for kids)

    বছর তিনেক বয়স থেকেই জলখাবারে বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার নিয়মিত দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম, কাজু কিংবা পেস্তা যে কোনও ধরনের বাদাম জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি থাকে। এই উপাদান শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই জলখাবারে নিয়মিত যে কোনও এক ধরনের বাদাম খাওয়া জরুরি। এর ফলে শিশুর বিভিন্ন বিষয় মনে রাখতে সুবিধা হয়।

    দিনে অন্তত এক ধরনের বেরি জাতীয় ফল 

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনের যে কোনও সময় শিশুদের অন্তত এক ধরনের বেরি জাতীয় ফল (Nutrition for kids) দিতে হবে। স্ট্রবেরি, ব্লু বেরি বা যে কোনও বেরি জাতীয় ফল নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের বিকাশে বাড়তি সাহায্য হয়। কারণ, যে কোনও বেরি জাতীয় ফলে ভিটামিন সি পর্যাপ্ত থাকে।‌ এর পাশপাশি থাকে ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস। এই উপাদানগুলি মস্তিষ্কের গঠনে বিশেষ সাহায্য করে। আবার স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।

    দুপুরের মেনুতে থাকুক মাছ এবং ডিম (Nutrition for kids)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর বিকাশের জন্য মাছ এবং ডিম, এই দুই খাবারের পুষ্টিগুণ অত‌্যন্ত জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরের বিভিন্ন পেশি মজবুত করতে, রক্তে আয়রনের অভাব মেটাতে এবং শরীরে ভিটামিন‌-ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে মাছ এবং ডিম সাহায্য করে। তেমনি, মস্তিষ্কের বিকাশেও মাছ এবং ডিম-এই দুই খাবার‌ বিশেষভাবে সাহায্য করে। তাই শিশুকে নিয়মিত দুপুরে মাছ অথবা ডিম দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মাছ এবং ডিম এই দুই খাবারেই থাকে ফ্যাটি অ্যাসিড। এই উপাদান মস্তিষ্কের বিকাশে‌ বিশেষত স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এই দুই খাবার শিশুকে দিলে তার বিশেষ উপকার হবে।

    রাতের খাবারে থাকুক ‘রামধনু’ সব্জি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সব্জি খাওয়ায় (Nutrition for kids) শিশুদের অভ্যস্ত করা জরুরি।‌ টমেটো, কুমড়ো, পটল কিংবা পালং শাক, বিভিন্ন রঙের সব্জি, সবুজ সব্জি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে।‌ কিন্তু অধিকাংশ শিশুই এখন নিয়মিত সবুজ সব্জি খায় না।‌ এর জেরে নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মস্তিষ্কের বিকাশে এই সবুজ সব্জি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিট, মূলা, পটল কিংবা গাজর-এই বিভিন্ন রঙের সব্জিতে থাকে বিটা ক্যারোটিন। এই উপাদান মস্তিষ্কের বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে। তাই একসঙ্গে বিভিন্ন রঙের সব্জি খাওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। একেই ‘রামধনু’ সব্জি বলছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সব সব্জি (Nutritious food) খেলে একদিকে শরীরের বিকাশ ঠিকমতো হবে, আবার মস্তিষ্কও সক্রিয় থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Arthritis Pain: তিরিশের চৌকাঠে পৌঁছনোর আগেই বহু মহিলা হাঁটু, পিঠ ও কোমরের যন্ত্রণায় কাবু!

    Arthritis Pain: তিরিশের চৌকাঠে পৌঁছনোর আগেই বহু মহিলা হাঁটু, পিঠ ও কোমরের যন্ত্রণায় কাবু!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে হাড়ের রোগ। বিশেষত মহিলাদের মধ্যে (Young Women) এই সমস‌্যা আরও বেশি। অনেকের হাড়ের শক্তি কমে যাওয়ার জেরে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। তাই মহিলাদের মধ্যে হাড়ের রোগের এই বাড়বাড়ন্ত যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন মহিলাদের বাতের সমস্যা বাড়ছে? (Arthritis Pain)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশ জুড়ে একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ভারতীয় মহিলা অস্ট্রিয় পোরেসিস সহ একাধিক হাড়ের রোগে আক্রান্ত। এর মূল কারণ ভিটামিন ডি -র অভাব। অধিকাংশ মহিলার দেহে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকছে না। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা বংশানুক্রমিক হচ্ছে। তবে জীবনযাপনের ধরন বাতের সমস্যা কিংবা যে কোনও হাড়ের রোগকে আরও জটিল করে তুলছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মহিলাদের খাদ্যাভ্যাস অস্বাস্থ্যকর। অনেক সময়েই তাঁরা দীর্ঘ ব্যবধানে খাবার খান।‌ আবার পরিমাণও ঠিকমতো থাকে না।‌ অর্থাৎ, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিনের মধ্যে ঠিকমতো ভারসাম্য থাকে না। ফলে হাড়ের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বাতের সমস্যাও কাবু করে। পাশপাশি ঘরের কাজ অধিকাংশ সময়েই মহিলারা বেশি করেন। এর জেরে সিঁড়ি দিয়ে বারবার ওঠানামা করা, ভারী জিনিস তোলার মতো কাজ লাগাতার করার জেরে হাড়ের শক্তি ক্ষয় হয়। তাছাড়া মা হওয়ার পরে শরীরে মারাত্মক ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে মহিলাদের এই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও ওষুধ পাওয়া যায় না। এর জেরেই দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি বাড়ে। এবার দেখা যাক, কোন পাঁচ অভ্যাস মহিলাদের বাতের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখবে?

    সময় মতো ব্যালেন্স খাবার জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মহিলাদের নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। পাশপাশি কী খাচ্ছেন, কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। পেট ভরানোর জন্য শুধু ভাত কিংবা রুটি খেলেই শরীর সুস্থ থাকবে না। হাড় মজবুত করতে (Arthritis Pain) জরুরি নিয়মিত পরিমিত প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাবার। তাই ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে নিয়মিত সবুজ সব্জি, ডিম, মাছ, মাংস খেতে হবে। এতে হাড়ের শক্তি বাড়বে। নিয়মিত দুধ জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। পনির কিংবা দই নিয়মিত খেলে হাড় প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সহজেই পাবে‌। এই ধরনের খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হলে বাতের সমস্যার মোকাবিলা সহজ‌ হবে।

    স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ জরুরি (Arthritis Pain)

    মহিলাদের আরেকটি বড় শারীরিক সমস্যা হল অতিরিক্ত ওজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই স্থূলতার সমস্যায় কাবু হন। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই রোগ আরও বাড়িয়ে তোলে। দেহের ওজন বেড়ে গেলে হাঁটু ও কোমরে মারাত্মক চাপ পড়ে। অনেক সময়েই সেই ওজনের জেরে বাতের‌ সমস্যা বাড়ে। তাই দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। তাতে একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ‌ হয়।

    নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মহিলারা ঘরে-বাইরে পরিশ্রম করেন। কিন্তু শারীরিক কসরত অনেক সময়েই নিয়মিত করেন না। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের কাজ ঠিকমতো হয় না। বাতের ব্যথার মতো একাধিক রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়মিত শারীরিক কসরত জরুরি। এতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে (Arthritis Pain)। বিভিন্ন পেশি সক্রিয় থাকে।‌ আবার জয়েন্টগুলো সচল থাকে।

    পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি

    মহিলাদের ঘুমের জন্য বরাদ্দ সময় যথেষ্ট নয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মহিলার দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম হয় না।‌ এর প্রভাব স্নায়ু, পেশি এবং হাড়ের উপরে মারাত্মক ভাবে পড়ে। শরীরের বিশ্রাম জরুরি।‌ তবেই শরীর শক্তি সঞ্চয় করে আবার কাজ করতে পারবে। তাই নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমনো দরকার।‌ তবেই হাড়ের শক্তি বাড়বে।

    ঘরের কাজের সময়ে সাবধানতা জরুরি (Arthritis Pain)

    মহিলারাই অধিকাংশ সময়ে বাড়ির বিভিন্ন কাজ করেন। এই কাজের জন্য তাঁদের বারবার ওঠাবসা করতে হয়। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামাও হয় একাধিকবার। এর জেরে অস্থিসন্ধি অর্থাৎ কোমর, হাঁটুর বিভিন্ন জয়েন্টের কাজ বাড়ে। বারবার এই ধরনের কাজ করার ফলে এই অস্থিসন্ধি ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন ব্যথা বাড়ে। তাই এই ঘরোয়া কাজ করার সময় খেয়াল রাখা জরুরি। প্রয়োজন মাফিক বিশ্রাম জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Dry skin: শীতের শিরশিরানি শুরু! ত্বকের শুষ্কতা কাটাতে কোন ঘরোয়া উপাদানে করতে পারেন বাজিমাত?

    Dry skin: শীতের শিরশিরানি শুরু! ত্বকের শুষ্কতা কাটাতে কোন ঘরোয়া উপাদানে করতে পারেন বাজিমাত?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাতাসে ঠান্ডার আমেজ শুরু হয়ে গিয়েছে। একটানা ফ্যানের হাওয়া এখন আর আরাম দিচ্ছে না। বরং একটা শিরশিরানি ভাব হচ্ছে। সন্ধ্যার পরে বেশ আরাম দেওয়া আবহাওয়া। সব মিলিয়ে পরিবেশ জানান দিচ্ছে, শীতের শুরু হবে শিগগিরই! কয়েক বছর ধরেই বাঙালির হেমন্ত ঋতু চোখের নিমিষেই মিলিয়ে যায়। বর্ষার পরে একেবারে শীতের দাপট। তবে এ বছরে দুর্গাপুজোর পরে আবহাওয়ায় হেমন্তের টের পাওয়া যাচ্ছে। দীপাবলির এখনও দিন কয়েক বাকি। কিন্তু তার আগেই পরিবেশে বেশ শীতের আমেজ। কিন্তু বছরের এই সময় থেকেই ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। শীতকাল শুষ্ক। তাই ত্বকেও শুষ্কতা (Dry skin) দেখা যায়। বিশেষত, যাদের ত্বক অতিরিক্ত সেনসেটিভ, তাদের এই সময় থেকেই বিশেষ যত্ন না নিলে শীতে ত্বকের নানান রোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে‌। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বিশেষত, শিশুদের ত্বক অতিরিক্ত সেনসেটিভ হয়। তাই শিশুত্বকের বিশেষ‌ যত্ন নেওয়া জরুরি। তবে অতিরিক্ত কৃত্রিম জিনিস নয়, বরং ঘরোয়া কিছু উপাদান করবে বাজিমাত। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত কিছু ঘরোয়া উপাদান (Household ingredients) ব্যবহার করলেই শীতের শুষ্কতা সহ একাধিক ত্বকের সমস্যাকে কাবু করা যাবে‌। এবার দেখা যাক, কোন ঘরোয়া উপাদান মুশকিল আসান করবে?

    নিয়মিত লেবুর ব্যবহার (Dry skin)

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ থাকলেই ত্বক ভালো থাকবে। শরীরে ভিটামিন সি-র জোগান ঠিকমতো থাকলে ত্বক মসৃণ এবং ময়েশ্চারাইজার পর্যাপ্ত থাকবে। তাই শীতের শুরু থেকেই দরকার নিয়মিত লেবু খাওয়া। যে কোনও লেবু জাতীয় ফল নিয়মিত খেলে শরীরে ভিটামিন‌ সি পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায়। তাই ত্বক ভালো থাকে।

    জল পর্যাপ্ত খাওয়া জরুরি

    ত্বকের শুষ্কতা (Dry skin) হোক কিংবা ব্রণ, যে কোনও রোগের মোকাবিলা সহজেই করে জল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই শীতে জল খুব কম পরিমাণে খান। আর এর জেরেই নানান ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত পাঁচ থেকে ছয় লিটার জল খাওয়া দরকার। শিশুদের প্রয়োজন অন্তত দেড় থেকে দু লিটার জল। তবেই ত্বক ভালো থাকবে। ত্বকের একাধিক সমস্যা কমবে।

    প্রতি সপ্তাহে মধু ত্বকে লাগালে শুষ্কতা কমবে (Dry skin)

    শীতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখা। অনেকের ত্বকের শুষ্কতা মারাত্মক বেড়ে যায়। এর ফলে একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত একদিন ত্বকে মধু লাগালো দরকার। মধু প্রাকৃতিকভাবেই ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে টক দইয়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে মাখলে বাড়তি গুণ পাওয়া যায়। এতে ত্বকের একাধিক সমস্যা কমে।

    এক টুকরো কাঁচা হলুদ

    শীতে ত্বকে নানান ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখা যায়। ত্বকের সংক্রমণ রুখতে নিয়মিত কাঁচা হলুদ (Household ingredients) খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন হলুদ অ্যান্টিসেপটিক। নিয়মিত সকালে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খেলে শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।‌ এতে ত্বক ভালো থাকে।

    অতিরিক্ত তেলমশলা জাতীয় খাবারে রাশ

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ত্বক ভালো রাখার জন্য অন্ত্র ভালো রাখা জরুরি। হজমের গোলমাল ত্বকের সমস্যাও বাড়িয়ে দেয়। উৎসবের মরশুমে অনেকেই খাবারে রাশ টানেন না। অতিরিক্ত তেলমশলা জাতীয় খাবার নিয়মিত খান। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এতে ত্বকের নানান সমস্যা (Dry skin) বাড়তে পারে। তাই স্বাস্থ‌্যকর খাবার নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share