Tag: Heart Attack Warning Signs

  • Heart Attack Warning Signs: বুকে ব্যথা নেই, তবু হতে পারে হার্ট অ্যাটাক! এই ৭ সাধারণ উপসর্গ একেবারেই অবহেলা নয়

    Heart Attack Warning Signs: বুকে ব্যথা নেই, তবু হতে পারে হার্ট অ্যাটাক! এই ৭ সাধারণ উপসর্গ একেবারেই অবহেলা নয়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আকস্মিক মৃত্যু চিকিৎসার সময়ও দিচ্ছে না। বয়সের সীমারেখায় আর বিপদ আটকে থাকছে না। বরং, কম বয়সিদের মধ্যেও উদ্বেগজনক ভাবে মৃত্যু বাড়ছে। তাই ভারতে হৃদরোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ সময়েই হৃদরোগ সম্পর্কে অসচেতনতা চরম পরিণতির কারণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বুকে ব্যথাই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার একমাত্র উপসর্গ নয়। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়দের হৃদরোগের উপসর্গ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট নেই। ফলে, একাধিক সমস্যাকে হজমের অসুবিধা ভেবে অবহেলা করা হয়। প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করানো হয় না। তাই বড় বিপদ ঘটে।

    কোন সাধারণ উপসর্গ বিপদজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র বুকে ব্যথা বা বুকে খিঁচ ধরাই হৃদরোগের একমাত্র উপসর্গ নয়। হৃদরোগের একাধিক উপসর্গ থাকে। যেগুলো খুব সাধারণ সমস্যা মনে হলেও, একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কয়েক মিনিট হাঁটাচলার পরে বা সিঁড়ি দিয়ে উঠলেই অস্বস্তি বোধ করা কিংবা শ্বাসকষ্ট হলে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকতে পারে।
    সামান্য পরিশ্রমের কাজ করলেও অসম্ভব ক্লান্ত হয়ে যাওয়া কিংবা বুকের ভিতরে অস্বস্তি বোধ করা এবং অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো উপসর্গ আসলে হৃদরোগের কারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
    বারবার বমি হওয়া কিংবা দিনভর বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা এবং দূর্বল অনুভব করাও হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকি বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার বমি করা কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গকে শুধুমাত্র হজমের সমস্যা ভাবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হজমের ওষুধ খেয়ে নেন। যা আসলে হৃদরোগের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময়েই চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া যায় না।
    বুকে ব্যথা না হলেও কাঁধ, পিঠ এবং মুখের চোয়ালে হঠাৎ অস্বাভাবিক যন্ত্রণা এবং শ্বাসকষ্ট হৃদরোগের অন্যতম উপসর্গ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশির টান ধরা বলে ইচ্ছেমতো পেন কিলার খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। তবেই সময় মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হবে‌।

    ভারতে কি হৃদরোগে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। যা ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। একাধিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তালিকায় প্রথমেই থাকছে হৃদরোগ। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর সংখ্যা প্রত্যেক বছর বাড়ছে।
    ন্যাশনাল রেসপিরেটিভ ডেথ স্টাডি-র এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। প্রতি বছর কয়েক লাখ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশের বয়স ৩০-৫০ বছরের মধ্যে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হৃদরোগ সম্পর্কে অসচেতনতা এবং উপসর্গকে অবহেলা করার ফলেই মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে হৃদরোগ, দেশ জুড়ে অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠেছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগের দাপট বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর নেপথ্যেও থাকছে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে বুকে ব্যথা, অস্বস্তির মতো একাধিক হৃদরোগের উপসর্গ বোঝা যায় না। ফলে, হার্ট অ্যাটাক এবং তারপরে মৃত্যু ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
    ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ তামাক সেবন। চিকিৎসকের জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে ধূমপানে আসক্তি দেখা যায়। অনেকেই নানান রকমের তামাকজাত দ্রব্য সেবন করেন। এরফলে হৃদরোগ দেখা দিচ্ছে।
    শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া হৃদরোগের বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি শহুরে ভারতীয়দের কাজের পদ্ধতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। দীর্ঘসময় তাঁরা বসে কাজ করেন। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট‌ হচ্ছে। এগুলো হৃদরোগের বিপদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
    ভারতীয়দের মধ্যে হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যাভ্যাস বলেও মনে করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অধিকাংশ ভারতীয় অতিরিক্ত নুন খাওয়ায় অভ্যস্ত। তাছাড়া অতিরিক্ত তেল এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াই ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসে দেখা দিচ্ছে। এরফলে বিপদ বাড়ছে। ক্ষতিকারক রাসায়নিক এবং অতিরিক্ত তেল শরীরে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই ভারতীয়দের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share