Tag: Heavy Rain Alert

  • Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে ক্যাটেগরি-৩ ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone Arnab) পরিণত হওয়ারও। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)-এর তথ্য় অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে অ্যাক্টিভ হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক ঘণ্টার এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর শক্তি বাড়লেই এটি পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। সকাল থেকেই মুখ ভারি আকাশের। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে, আজ থেকে ৪ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির (Weather Update)সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ উপকূলীয় রাজ্যগুলির জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল কখন কোথায়

    ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল গভীর নিম্নচাপ রূপে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকা: ওড়িশার গোপালপুর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে গোপালপুর ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে এই সিস্টেম। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও ভারতীয় মৌসম ভবন সূত্রে খবর,ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়ের নামের আঞ্চলিক তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট হতে যাওয়া পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, যার বাংলা অর্থ মহাসাগর। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তাণ্ডবের আশঙ্কা তিন রাজ্যে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবল ঝড়ের পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    দীঘায় সমুদ্রে নামতে মানা

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আপাতত ‘রিজার্ভ’ বা প্রভাবহীন অবস্থায় রয়েছে, তবুও এর ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ধাক্কায় পূর্ব মেদিনীপুর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট ও পেটুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার পূর্বাভাসের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি সৈকত এলাকায় মাইকিং চালিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। সমুদ্রের বেশি গভীরে না যেতে এবং প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পুরো আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাবতীয় আপৎকালীন পরিকাঠামো।

    কলকাতায় দুর্যোগের প্রভাব

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতাতেও আবহাওয়ার দ্রুত অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই কখনও হালকা আবার কখনও ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে, দঃ ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। পুরুলিয়া, বীরভূম, হাওড়ার একাংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দিনভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

    ওড়িশায় জারি রেড অ্যালার্ট

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন যে, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরাপুট, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই তিনটি জেলা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, কোরাপুট এবং মালকানগিরি ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা যেমন বালেশ্বর এবং বৌধও রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জেলার কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মালকানগিরিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোও ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা

    ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের অন্যতম প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া থেকে প্রবল ঝড় হতে পারে। এর সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। অন্ধ্রের পাশাপাশি ওড়িশা উপকূলেও দুর্যোগের আশঙ্কা। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়লসীমায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তব, হচ্ছে না ঘূর্ণিঝড়। কলকাতার আবহাওয়া ফের খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। জোরালো নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে পুরসভার নিকাশি দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জল জমা ও নিকাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পাম্পিং স্টেশনেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

    কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ

    বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি, বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। আর এই নিম্নচাপের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে বাংলায়। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    বাংলায় নিম্নচাপের প্রভাব

    সরাসরি বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও এই সিস্টেমের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা রয়েছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। নিম্নচাপের অবস্থান এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কোন জেলায় কত বৃষ্টি

    বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূমে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়। সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্য জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ভিজবে কলকাতাও।

    বৃহস্পতিবার থেকে আরও বাড়বে

    আগামী বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই জেলাগুলির এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়াও থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিশেষত ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হাওড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও নিম্নচাপের দাপট

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুরে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ধস বা যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।

    উত্তাল সমুদ্র, নিষেধাজ্ঞা

    সমুদ্রের পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে হাওয়া জোরালো হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনকেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে।

    সতর্ক কলকাতা পুরসভা

    এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার নিকাশি দফতরকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে ভারী বৃষ্টির সময় শহরের নিকাশি ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের নিকাশি পাম্পিং স্টেশনগুলিতেও কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জল জমার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি পাম্প চালানো এবং জমা জল দ্রুত সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় নিচু এলাকা ও জল জমার প্রবণ রাস্তাগুলিতে। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার বড় অংশ বহু পুরনো এবং ভারী বৃষ্টিতে নিকাশি ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

     

     

     

     

     

  • Weather Update: পুজোর আগে ফের দুর্যোগের শঙ্কা! শক্তিশালী নিম্নচাপ, সকাল থেকেই বৃষ্টি, জেলায় জেলায় দুর্যোগের পূর্বাভাস

    Weather Update: পুজোর আগে ফের দুর্যোগের শঙ্কা! শক্তিশালী নিম্নচাপ, সকাল থেকেই বৃষ্টি, জেলায় জেলায় দুর্যোগের পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরসুম। কেনাকাটা থেকে প্যান্ডেলের প্রস্তুতি- সর্বত্রই এখন শেষ লগ্নের ব্যস্ততা। কিন্তু এরই মধ্যে পুজোর আমেজে জল ঢালতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে দুর্যোগ (Durga Puja weather forecast)! বঙ্গোপসাগরে বাসা বেঁধেছে এক নতুন নিম্নচাপ (Bay of Bengal depression), যা দিনে দিনে শক্তি বাড়িয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে (West Bengal weather update)। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নাগাদ এটি দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছবে।

    পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব

    এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় (West Bengal Weather)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (Heavy Rain Alert)। বিশেষ করে উপকূলের জেলাগুলোতে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর- এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট সবথেকে বেশি হতে পারে। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বাজ পড়ার সতর্কতা রয়েছে এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির পরিধি আরও বাড়বে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মেদিনীপুর জেলার পাশাপাশি বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ওই দিন হাওয়ার গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর এই দিনও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

    কলকাতার আবহাওয়া

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি কলকাতাতেও মেঘলা আকাশ ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির (Weather Update) সম্ভাবনা রয়েছে। ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাদ যাচ্ছে না উত্তরবঙ্গও। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একটানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর।

    ফের দুর্ঘটনা মন্দারমনিতে

    নিম্নচাপ, দুর্যোগের পূর্বাভাসের মধ্যেই মন্দারমণিতে বড় দুর্ঘটনা। সোমবার উত্তাল ছিল সমুদ্র। দুপুরের দিকে সপরিবারে স্নান করতে নেমে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। মন্দারমণিতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেলেন ৩ জন। উদ্ধার করা হয়েছে ১ নাবালককে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। দীঘা থেকে টোটো করে মন্দারমণিতে বেড়াতে এসে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান তিনজন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ । মন্দারমণি কোস্টাল থানার অন্তর্গত কালিন্দী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। মন্দারমণি গোয়া বিচ রিসোর্টের সামনেই সপরিবারে স্নানে নামেন নদিয়া জেলার শান্তিপুরের বাসিন্দা সুমন শীল , তাঁর স্ত্রী ও শিশু। তারপর উত্তাল সমুদ্রে তলিয়ে যান তাঁরা। নিখোঁজ হয়ে যান সুমন শীল (২৪) এবং তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি শীল (১৮)। তাঁদের সঙ্গে থাকা বছর সাতেকের এক শিশুও জলে তলিয়ে যায়। শিশুটিকে তলিয়ে যেতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বালিসাই বড় রাঙ্গুয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় বৃষ্টি শীলের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তাঁর স্বামী সুমন শীল। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।

  • Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সকাল থেকেই ছিল অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম। কিন্তু দুপুর গড়াতেই যেন আচমকা বদলে গেল প্রকৃতির মেজাজ। মুহূর্তের মধ্যে কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ, তারপর শুরু হল ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বর্ষণ এবং একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত। বৃহস্পতিবারের কলকাতা যেন সাক্ষী থাকল প্রকৃতির এক বিরল ও রুদ্র রূপের। সাম্প্রতিক অতীতে এত ঘনঘন এবং এত তীব্র বজ্রপাতের অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়েছে মহানগরবাসীর। আকাশ চিরে পরপর বিদ্যুতের ঝলকানি এবং কানফাটানো বজ্রধ্বনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু মানুষ। শহরের বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট— সর্বত্রই অনুভূত হয় বজ্রপাতের তীব্রতা।

    ঝড়-বৃষ্টিতে কার্যত থমকে শহর

    বৃহস্পতিবার দুপুরের এই আকস্মিক দুর্যোগে কলকাতার স্বাভাবিক জনজীবনে বড়সড় প্রভাব পড়ে। ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, ময়দান, এসপ্ল্যানেড, কলকাতা হাইকোর্ট চত্বর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পরিবেশ। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসফেরত মানুষ, পথচারী ও নিত্যযাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন। বহু এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শুধু কলকাতাই নয়, এই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে।

    কেন এত তীব্র বজ্রপাত? ব্যাখ্যা আবহাওয়া দফতরের

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে কাজ করছে একাধিক সক্রিয় আবহাওয়াজনিত সিস্টেম। বর্তমানে উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। একই সময়ে রাজস্থান থেকে গাঙ্গেয় বঙ্গ পর্যন্ত মৌসুমী অক্ষরেখাও সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আবার বঙ্গোপসাগরের উপরও এই মরশুমের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হয়েছে। এই সমস্ত আবহাওয়াগত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প এবং দিনের তাপমাত্রাজনিত অস্থিরতার ফলে দ্রুত তৈরি হচ্ছে বিশালাকার কিমিউলোনিম্বাস (Cumulonimbus) বা বজ্রগর্ভ মেঘ। এই মেঘ থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে প্রবল বজ্রঝড় এবং ঘনঘন বজ্রপাতের ঘটনা।

    কী সতর্কতা মেনে চলবেন?

    আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী—

    • ● বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ছাদ বা গাছের নিচে দাঁড়াবেন না।
    • ● মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
    • ● বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
    • ● ঝড় শুরু হলে পাকা বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন।
    • ● অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।

    সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হলুদ সতর্কতা

    গত কয়েকদিন ধরে চলা দফায় দফায় বৃষ্টি এবং ঝড়ের কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়া দফতরের মতে, আপাত স্বস্তির মাঝেও দুর্যোগের আশঙ্কা এখনও কাটেনি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই পরিস্থিতির জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।

    বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে—

    • ● উত্তর ২৪ পরগনা
    • ● দক্ষিণ ২৪ পরগনা
    • ● পূর্ব বর্ধমান
    • ● পশ্চিম বর্ধমান
    • ● বীরভূম
    • ● মুর্শিদাবাদ
    • ● নদিয়া
    • ● পুরুলিয়া
    • ● বাঁকুড়া
    • ● ঝাড়গ্রাম
    • ● পূর্ব মেদিনীপুর

    এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে প্রবল বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

    উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক

    দক্ষিণবঙ্গে যেখানে মূল উদ্বেগ বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টি, সেখানে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে অতিভারী বৃষ্টির কারণে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় আগামী কয়েকদিনে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২০ সেন্টিমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস। অতিভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা, তোর্সা, বালাসন-সহ একাধিক পাহাড়ি নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জল জমা, নদী উপচে পড়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    উত্তাল সমুদ্র, মৎস্যজীবীদের সতর্কবার্তা

    শুধু স্থলভাগ নয়, বঙ্গোপসাগরও বর্তমানে উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ বন্দরে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের স্পষ্ট বার্তা, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির এই অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকবে। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

LinkedIn
Share