Tag: Hindenburg

Hindenburg

  • Hindenburg: হিন্ডেনবার্গের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, তাই কি ঝাঁপ পড়ছে সংস্থায়?

    Hindenburg: হিন্ডেনবার্গের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ, তাই কি ঝাঁপ পড়ছে সংস্থায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা আট বছর চলার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে মার্কিন লগ্নি সংক্রান্ত গবেষণাকারী (Fraud Allegations) সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ (Hindenburg)। সম্প্রতি এমনই ঘোষণা করা হয়েছে সংস্থার তরফে। এই আট বছরে একের পর বোমা ফাটিয়েছে এই সংস্থা। যার জেরে হিন্ডেনবার্গের নামের পারা যত চড়েছে, ততই মুখ থুবড়ে পড়েছে একের পর এক সংস্থা। কোনও সংস্থার শেয়ার বিক্রিতে গলদ রয়েছে কিনা, কিংবা বাজার থেকে সংস্থাগুলি যে ঋণ নিয়েছে, তাতে স্বচ্ছতা বজায় রয়েছে কিনা, এই ধরনের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে এই সংস্থা।

    হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা (Hindenburg)

    হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা নাথান অ্যান্ডারসন। ২০১৭ সালে তিনিই প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন এই সংস্থার। বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে নানা সময় সরব হয়েছে হিন্ডেনবার্গ। তবে যে সংস্থার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ করে সাফল্য পেয়েছিল এই সংস্থা, তারা হল আমেরিকার বৈদ্যুতিক ট্রাক নির্মাণকারী সংস্থা নিকোলা কর্পোরেশন। হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ, প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে নিকোলা। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় নিকোলার প্রতিষ্ঠাতা ট্রেভর মিল্টনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল মার্কিন আদালত। হিন্ডেনবার্গের অভিযোগ ছিল, কারচুপি করে নিজেদের বিভিন্ন সংস্থার শেয়ার দর বাড়িয়েছে গৌতম আদানির আদানি গোষ্ঠী। রিপোর্টে হিন্ডেনবার্গের তরফে দাবি করা হয়েছিল, দু’বছর ধরে তদন্ত চালিয়ে তারা এই তথ্য জানতে পেরেছিল। তাদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর কয়েকগুণ বাড়িয়ে আদানিরা বিশাল সম্পদ তৈরি করেছেন। আট বছরের স্বল্প আয়ুতে অন্তত ১৬টি সংস্থার অনিয়মের কথা ফাঁস করেছে হিন্ডেনবার্গ।

    হিন্ডেনবার্গের বিরুদ্ধেই উঠেছে অভিযোগ

    এহেন হিন্ডেনবার্গের বিরুদ্ধেই উঠেছে অভিযোগ। কানাডার একটি পোর্টালের রিপোর্ট অনুযায়ী, আদালতের নথিতে প্রকাশিত হয়েছে যে হিন্ডেনবার্গ তাদের রিপোর্ট প্রস্তুতের সময় আনসন ফান্ডসের সঙ্গে সহযোগিতা করেছিল। এই সহযোগিতার প্রভাব ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (SEC) সিকিউরিটিজ প্রতারণা সম্পর্কিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করতে পারে, যা তাদের গবেষণা প্রক্রিয়ার নৈতিকতা নিয়ে তদন্ত দাবি করছে।

    আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে খিলাফতে পরিণত করতে চাইছে আইএসআই এবং হামাস!

    হেজ ফান্ড হল এমন (Hindenburg) বিনিয়োগ সংস্থা যা বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে মুনাফা অর্জন করে এবং প্রায়ই উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি গ্রহণ করে। হিন্ডেনবার্গের মতো গবেষণা সংস্থার কার্যক্রমে হেজ ফান্ডের সম্পৃক্ততা বাজার কারসাজি এবং বিনিয়োগ গবেষণার অখণ্ডতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। অ্যান্ডারসন ও অ্যানসন ফান্ডসের মধ্যে বিনিময় হওয়া ইমেলগুলি সহযোগিতার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সমর্থন (Fraud Allegations) করে। এই যোগাযোগগুলো প্রমাণ করে যে অ্যান্ডারসন অ্যানসনের নির্দেশনায় কাজ করেছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সব কারণেই তাড়াহুড়ো করে ঝাঁপ ফেলতে বাধ্য হচ্ছে হিন্ডেনবার্গ (Hindenburg)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Hindenburg: বিপাকে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ, বাজারে কারসাজি ও সিকিউরিটিজ প্রতারণার অভিযোগ

    Hindenburg: বিপাকে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ, বাজারে কারসাজি ও সিকিউরিটিজ প্রতারণার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাড়তি পর্যবেক্ষণের মুখে হেজ ফান্ড আনসন ফান্ডস ও হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা নাথান অ্যান্ডারসন (Hindenburg)। তাঁদের বিরুদ্ধে বাজারে কারসাজি এবং সিকিউরিটিজ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নথিপত্রে দেখা গেছে, আনসন ফান্ডস নাকি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে একত্রে কাজ করে লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক শর্ট-সেলিং ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। মার্কেট ফ্রডস ওয়েবসাইটে শেয়ার করা নথির স্ক্রিনশট থেকে জানা যায় যে, আনসন ফান্ডস হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টের বিষয়বস্তু ঠিক করে দিত, যা প্রমাণ করে যে সংস্থাটি স্বাধীনভাবে গবেষণা পরিচালনা করেনি। এই ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (US SEC)-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি। তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া (Mahua Moitra) চলছে।

    চাঞ্চল্যকর তথ্য (Hindenburg)

    আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং আনসন ফান্ডসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোয়েজ কাসামের স্ত্রী মারিসা সিগাল কাসামের মধ্যে যোগাযোগের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুজনেই আগে জেপি মর্গানে কাজ করেছেন। মহুয়া প্রায় ১২ বছর ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। পরে যোগ দেন রাজনীতিতে। আর মারিসা লন্ডন, হংকং এবং নিউইয়র্কে জেপি মর্গানের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের এই যোগাযোগ আদানি গ্রুপের ওপর হামলার পেছনে উদ্দেশ্য এবং সম্পর্কগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ওপিইন্ডিয়া রিপোর্ট করেছিল, আদানির বিরুদ্ধে সংসদে প্রশ্ন তোলার জন্য মহুয়া মৈত্র নাকি ঘুষ নিয়েছিলেন।

    নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ

    অ্যানসন ফান্ডসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলির (Hindenburg) মধ্যে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্র এবং ম্যানিপুলেটেড স্টক মূল্য পতনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আদালতের নথি এবং তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ওপিইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে অভিযুক্ত করেছেন যে তিনি ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং উপহার গ্রহণ করেছিলেন। এর বিনিময়ে তিনি সংসদে এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন, যা হিরানন্দানির ব্যবসায়িক স্বার্থকে সুবিধা করে দিয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, মহুয়া লোকসভায় পারাদীপ পোর্ট এবং আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে যে প্রশ্নগুলো তুলেছিলেন, সেগুলো হিরানন্দানির প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ উল্লেখযোগ্য প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল পোর্ট চুক্তি, টেলিকম পরিষেবা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ সম্পর্কিত বিষয়।

    আরও পড়ুন: বাহিনীর গুলিতে খতম ১৪ মাওবাদী, ‘‘শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে নকশালরা’’, মন্তব্য শাহের

    এও অভিযোগ উঠেছে যে আদানি পরিচালিত পোর্ট এবং জ্বালানি নীতির বিষয়ে তাঁর প্রশ্নগুলো হিরানন্দানির প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মহুয়া কোনও অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি তাঁর স্বাধীনতার কথা জানিয়েছিলেন। তবে, ওপিইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে সংসদীয় কার্যকলাপ এবং হিরানন্দানির ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে কিছু মিল পাওয়া গেছে, যা তার উদ্দেশ্য নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে। এই অভিযোগগুলির পাশাপাশি অ্যানসন ফান্ডসের সহ-প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী মারিসা সিগেল কাসামের সঙ্গে মৈত্রের সম্ভাব্য সংযোগ, আদানি গ্রুপকে ঘিরে আর্থিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    হিন্ডেনবার্গ রিসার্চে ঝাঁপ

    সম্প্রতি হিন্ডেনবার্গ রিসার্চে (Hindenburg) ঝাঁপ ফেলার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল সংস্থার তরফে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান ন্যাথন অ্যান্ডারসন বলেছিলেন, “আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে”। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ তাঁর জীবনের একটা অধ্যায়, গোটা জীবন নয়। ভেবেচিন্তেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ন্যাথামের যুক্তি, কাজের চাপে ব্যক্তিগত জীবনে সময় দিতে পারছিলেন না। জীবনে ভারসাম্য আনতেই আপাতত সংস্থা বন্ধ করছেন। কিন্তু তাঁর হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনও প্রভাব কাজ করেছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে কারচুপি করে শেয়ারের দর বাড়ানো এবং কর ফাঁকি-সহ বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এনেছিল মার্কিন সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। এ নিয়ে কেন্দ্রকে ধারাবাহিকভাবে নিশানা করেছিল বিরোধীরা। যৌথ সংসদীয় কমিটির তদন্তের দাবিও উঠেছিল। শেয়ার বাজারে আদানিকাণ্ডের প্রভাব খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও সেই তদন্তে আদানিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

    জানা গিয়েছে, কানাডার আদালতে পেশ হওয়া একটি নথির জেরে চাপে পড়ে যান হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা। অভিযোগ, ইচ্ছে করে ভুল রিপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দর (Mahua Moitra) কমাতো ন্যাথানের সংস্থা (Hindenburg)।

     

      দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Hindenburg Research: সরোসের সঙ্গে যোগসাজস! বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ সংস্থা, জন্ম একঝাঁক প্রশ্নের

    Hindenburg Research: সরোসের সঙ্গে যোগসাজস! বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ সংস্থা, জন্ম একঝাঁক প্রশ্নের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ (Hindenburg Research) সংস্থা। ‘স্বল্পায়ু’ এই সংস্থার প্রকাশ করা রিপোর্টের প্রেক্ষিতে বড়সড় বিপদে পড়েছিল বিভিন্ন সংস্থা। বিপদে পড়েছিল ভারতের আদানি গোষ্ঠীও। শেয়ার বাজারে পতনের পাশাপাশি আইনি ঝামেলায়ও জড়িয়ে পড়ে গৌতম আদানির সংস্থা। পরবর্তীকালে সেবি প্রধান ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধেও বড় অভিযোগ এনেছিল এই সংস্থা। এহেন আলোড়ন ফেলা একটি সংস্থার ঝাঁপই (Shut Down) বন্ধ হতে চলেছে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা ন্যাথান অ্যান্ডারসন জানান, এই সংস্থা তাঁর জীবনের একটি অধ্যায়, গোটা জীবন নয়। ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।  

    ন্যাথান অ্যান্ডারসনের নোট (Hindenburg Research)

    বুধবার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি ব্যক্তিগত নোটে ন্যাথান অ্যান্ডারসন বলেন, “কাজের অত্যন্ত তীব্র এবং কখনও কখনও সর্বগ্রাসী প্রকৃতিই আমার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ।” প্রসঙ্গত ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। অ্যান্ডারসন লিখেছেন, “এটি অত্যন্ত তীব্র, এবং কখনও কখনও সর্বগ্রাসী ছিল। প্রায়ই ঘুমের মধ্যে আমি নতুন কোনও তদন্তের ধারা নিয়ে ভাবতে ভাবতে জেগে উঠি, অথবা কোনও সম্পাদনার বিষয়ে যা দিনে আমার অজান্তে আমাকে অস্থির করেছিল। অথবা সব কিছুর সাধারণ চাপের কারণে। আমরা ভীতিহীন নই—আমরা কেবল সত্যের প্রতি বিশ্বাস রাখি এবং আশা করি এটি আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে।” তিনি আরও বলেন, “অদ্ভুত, হাস্যকর এবং উদ্ভট ঘটনাগুলোর দিনও ছিল।” হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ বন্ধ করার কারণ প্রসঙ্গে অ্যান্ডারসন বলেন, “এর পেছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ নেই— কোনও বিশেষ হুমকি, স্বাস্থ্য সমস্যা, বা বড় কোনও ব্যক্তিগত সমস্যাও নেই।”

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    আদানি শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির প্রধানের যোগসূত্রের উল্লেখ করে রিপোর্ট প্রকাশ করে আমেরিকার বেসরকারি সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। এ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর যখন তুঙ্গে, তখন একটি বিবৃতি প্রকাশ করে হিন্ডেনবার্গকে পাল্টা আক্রমণ করে শিল্পপতি গৌতম আদানির সংস্থা। গত অগাস্টে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর এক মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন যে, জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্যের কিছু মিথ্যা, ক্ষতিকর এবং বিদ্বেষমূলক অংশ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত লাভের জন্য পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে। হিন্ডেনবার্গকে আক্রমণ শানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, আমেরিকার এই সংস্থাটির বিরুদ্ধে একাধিকবার ভারতে আইন ভাঙার অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগ ভিত্তিহীন!

    গৌতম আদানির শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শেয়ার বাজারে অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ তুলেছিল হিন্ডেনবার্গ। সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আদানি গোষ্ঠীর তরফে বলা হয়েছিল, সবিস্তার তদন্তের পর প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল যে অভিযোগ ভিত্তিহীন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টও মামলা খারিজ করে দেয় (Shut Down)। হিন্ডেনবার্গ (Hindenburg Research) মার্কিন সংস্থা। সেই সময় তারা এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিল, আদানিরা বিদেশে যে টাকা সরিয়েছেন, তাতে অংশীদারিত্ব রয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা সেবির প্রধানের। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, গৌতম আদানির ভাই বিনোদ আদানির বিদেশে থাকা সংস্থায় অংশীদারিত্ব রয়েছে সেবি প্রধান মাধবী পুরী বুচ ও তাঁর স্বামী ধবল বুচের। যে বছর হিন্ডেনবার্গের জন্ম হয়, সেই বছরই সেবিতে যোগ দেন মাধবী। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে এও দাবি করা হয়, সেই সময় সম্ভাব্য নজরদারি এড়াতে মাধবীর নামে থাকা সমস্ত বিদেশি বিনিয়োগ নিজের নামে করে নেন তাঁর স্বামী। রিপোর্টটিকে চরিত্রহননের চেষ্টা বলে উড়িয়ে দেন বুচ দম্পতি। তবে তাতে বিতর্ক থামেনি। 

    ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা!

    আদানি ও সেবির বিরুদ্ধে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে। এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে মোদির বিরুদ্ধে ময়দানে নেমে পড়েছিল ইন্ডি-জোটের অংশীদাররা। তখনই, হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট নিয়ে জর্জ সরোসের যোগ নিয়ে একটা ইঙ্গিত মিলেছিল। সেই ইঙ্গিত জোরালো হয়ে ওঠে, যখন সরাসরি জর্জ সরোস দাবি করে বসেন যে, হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে জবাবদিহি করতে হবে। তখন থেকেই হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের আসল উদ্দেশ্য সামনে আসতে থাকে। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, বিদেশ থেকে ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ‘অপচেষ্টা’ চলছে।

    অ্যান্ডারসন-পিস-সরোস যোগসাজস ফাঁস!

    এর মধ্যেই ফাঁস হয়ে যায় ন্যাথান অ্যান্ডারসনের সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি। কী ছিল সেই যোগসূত্র? হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টকে হাতিয়ার করে মার্কিন আদালতে আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি এবং সাতজন অন্যান্য এক্সিকিউটিভ আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ঘুষের অভিযোগ এনেছিলেন নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি ব্রিয়ন পিস। জানা যায়, এই ব্রিয়নের স্ত্রী যে সংস্থার অন্যতম শীর্ষ ডিরেক্টর, সেই (এনজিও) সংস্থাটির মালিক হলেন ব্রায়ান স্টিভেনসন, যিনি কিনা আবার সরোসের মালিকানধীন ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও বটে। ফলে, সরোসের সঙ্গে পিস দম্পতির যোগসাজস পরিষ্কার হয়ে যায়। কাকতালীয়ভাবে, এর পরেই ব্রিয়ন পিস তাঁর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। 

    ঝাঁপ ফেলার সময়কাল

    উল্লেখ্য যে, নাথান অ্যান্ডারসনের হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ বন্ধ করার ঘোষণাটি এমন একটি সময়ে এল যখন দিন কয়েকের মধ্যে ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই সংস্থা। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ বন্ধের সময় জন্ম দিয়েছে বহু প্রশ্নের। এই সিদ্ধান্তটি এমন একটি সময়ে এল যখন হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির সদস্য রিপ্রেজেন্টেটিভ ল্যান্স গুডেন ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডকে চিঠি লিখে আদানি গ্রুপের তদন্ত সম্পর্কিত ন্যায়বিচার বিভাগের সমস্ত নথি ও রেকর্ড প্রকাশ করার দাবি জানান (Hindenburg Research)।

    কী বললেন গুডেন

    এর আগে রিপাবলিকান নেতা আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা বিতর্কিত অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ৭ জানুয়ারি গারল্যান্ডকে লেখা এক চিঠিতে ল্যান্স গুডেন বলেছিলেন, “অভিযোগে যেসব ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি সবই ভারতে ঘটেছে। এখানে শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিক ও কর্তারা জড়িত, কোনও মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি হয়নি (Shut Down)।” তিনি আরও বলেন, “যদি অভিযোগ প্রমাণিতও হয়, তবে এ ক্ষেত্রে আমেরিকা চূড়ান্ত বিচারক হতে পারে না। কারণ এতে কোনও মার্কিন পক্ষের জড়িত থাকার প্রমাণ নেই (Hindenburg Research)।”

    আরও পড়ুন: কুম্ভে আসতে চেয়েছিলেন স্টিভ জোবস, বন্ধুকে জানিয়েছিলেন, সেই চিঠি বিক্রি হল ৪.৩২ কোটিতে

    গুডেনের দাবি

    গুডেন অবশ্য দাবি করেন, “আদানি মামলার অভিযোগ, যদি প্রমাণিতও হয়, তবুও আমেরিকাকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত এবং যথোপযুক্ত বিচারক করে তোলে না। এই ‘ঘুষ’গুলো অভিযোগ অনুযায়ী ভারতের রাজ্য সরকারের কর্তাদের কাছে, ভারতে, একটি ভারতীয় কোম্পানির ভারতীয় কর্তারা দিয়েছেন, যেখানে কোনও মার্কিন পক্ষের সরাসরি জড়িত থাকার বা ক্ষতির প্রমাণ নেই। অন্যদিকে, স্মার্টম্যাটিক একটি আমেরিকান কোম্পানি, যা আমাদের নির্বাচনের দায়িত্বে ছিল, তার কর্তারা অর্থপাচার এবং বিদেশি সরকারকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিল ন্যায়বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী। তবে, আমার সহকর্মী এবং আমি বহুবার চেষ্টা করেও নির্বাচনের আগে এই বিষয়ে আপনার বিভাগ থেকে কোনও ব্রিফিং পাইনি।”

    রিপাবলিকান ওই নেতা বলেন, “যদি এই মামলাটির (Hindenburg Research) সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ থাকে, তবে বিচার বিভাগ কেন এখনও একজন আমেরিকানকেও অভিযুক্ত করেনি? এই চক্রান্তের যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে কি কোনও আমেরিকান জড়িত ছিল না? গৌতম আদানির বিরুদ্ধে কেন বিচার বিভাগ এই মামলা পরিচালনা করছে, যখন অভিযোগের ঘটনাটি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত (Shut Down)?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Rahul Gandhi: ৫ মাসে শেয়ার থেকে রাহুল গান্ধী নিজে লাভ করেছেন ৪৬ লক্ষ টাকা, তারপরেও বলছেন ঝুঁকিপুর্ণ!

    Rahul Gandhi: ৫ মাসে শেয়ার থেকে রাহুল গান্ধী নিজে লাভ করেছেন ৪৬ লক্ষ টাকা, তারপরেও বলছেন ঝুঁকিপুর্ণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাত্র ৫ মাসের মধ্যে শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা লাভ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তবু ভারতীয় স্টক মার্কেট (Indian Stock Market) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণের মধ্যে মিথ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন বিরোধী নেতা, এমনই দাবি অর্থনৈতিক মহলে। সম্প্রতি রাহুল বলেছিলেন, “কোটি কোটি ভারতীয়ের কঠোর পরিশ্রমের সঞ্চয় ঝুঁকিতে রয়েছে।”

    বিনিয়োগ থেকে রাহুলের লাভ

    সূত্রের খবর, সম্প্রতি রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) তাঁর শেয়ার বিনিয়োগ থেকে ৪৬.৪৯ লক্ষ টাকা লাভ করেছেন। রাহুলের শেয়ার বাজারের পোর্টফোলিওর মূল্য ১৫ই মার্চ ২০২৪-এ ছিল প্রায় ৪.৩৩ কোটি টাকা। ১২ই অগাস্ট সেটা বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪.৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তাঁর পোর্টফোলিওতে এশিয়ান পেইন্টস, বাজাজ ফিন্যান্স, ইনফোসিস, টিসিএস, টাইটান এবং টিউব ইনভেস্টমেন্টস অফ ইন্ডিয়া সহ বেশ কয়েকটি বড় সংস্থার শেয়ার রয়েছে। গান্ধীর ২৪টি শেয়ারের মধ্যে ২০টি লাভজনক, মাত্র ৪টি শেয়ার-এর ক্ষতি হয়েছে।

    কী বলেছিলেন রাহুল?

    ১১ই অগাস্ট এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ভারতীয় স্টক মার্কেটকে (Indian Stock Market) একটি ক্রিকেট ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করেন এবং বলেন, “যদি ম্যাচে আম্পায়ার সমঝোতাকারী হয়, তাহলে সেই ম্যাচ কেমন হবে?” তিনি সেবির চেয়ারপার্সন মাধাবী পুরী বুচের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি এবং অবৈধ শেয়ার মালিকানার অভিযোগ আনেন। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, একদিকে তিনি সাধারণ মানুষের সঞ্চয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে নিজে বিশাল লাভ করেছেন। 

    বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) এই ধরনের মন্তব্য দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করবে। ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি এবং সেনসেক্সের (Indian Stock Market) রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর সময়ে, তাঁর এ ধরনের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। সেবি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছে যে, হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে সেবির নিয়মকানুন মেনে চলার প্রশ্নে এক্ষেত্রে কোনও ধরনের সমস্যা নেই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Hindenburg: আদানি গ্রুপ সংক্রান্ত রিপোর্টকাণ্ডে হিন্ডেনবার্গকে কারণ দর্শানোর নোটিশ সেবির

    Hindenburg: আদানি গ্রুপ সংক্রান্ত রিপোর্টকাণ্ডে হিন্ডেনবার্গকে কারণ দর্শানোর নোটিশ সেবির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চকে শোকজ নোটিশ পাঠাল সেবি। আদানি গ্রুপ সংক্রান্ত যে রিপোর্ট হিন্ডেনবার্গ প্রকাশ করেছিল সে বিষয়েই এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে সংস্থা। এ বিষয়ে তাদের ব্লগে পোস্টও করা হয়েছে আজ অর্থাৎ ২ জুলাই। মোট ৪৬ পাতার ওই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে গত ২৭ জুন। এটাই জানিয়েছে হিন্ডেনবার্গ (Hindenburg)।

    নোটিশের সারমর্ম

    জানা গিয়েছে, ওই নোটিশের সারমর্ম হল, শর্ট-সেলার বিষয়ে ভারতের নিয়মবিধিকে লঙ্ঘন করা। ওই নোটিশে হিন্ডেনবার্গ সংস্থার সঙ্গে আদানি গ্রুপে বিনিয়োগকারী এক ব্যক্তির সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সেবির নিয়মবিধি লঙ্ঘন করেছে হিন্ডেনবার্গ। সেবির প্রতারণামূলক এবং অন্যায্য ব্যবসায়িক পন্থা অবলম্বন রোধ নিয়ন্ত্রণ আইনকে হিন্ডেনবার্গ লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ।

    সেবি (SEBI) কোনও অনিয়ম খুঁজে পায়নি

    হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ (Hindenburg) আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে শেয়ারের দাম প্রভাবিত করা সহ অনেক গুরুতর অভিযোগ এনেছিল। এরপর হিন্ডেনবার্গ বিতর্কের জল অনেক দূর গড়ায়। প্রভাব পড়ে আদানিদের একাধিক সংস্থাতেও। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বাজার নিয়ন্ত্রক সেবি তদন্ত করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ রিপোর্টে করা আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আনা অনিয়মের অভিযোগ সত্য নয়।

    এই হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ কারা? 

    এক কথায় বলতে গেলে হিন্ডেনবার্গ (Hindenburg) রিসার্চ একটি বিনিয়োগ গবেষণা সংস্থা। তাদের মূল লক্ষ্য হল শর্ট-সেলিংয়কে কাজে লাগিয়ে মুনাফা করা। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতার নাম নাথান অ্যান্ডারসন। সংস্থার সদর দফতর নিউ ইয়র্কে। ১৯৩৭ সালে মার্কিন বাজারে একটি আর্থিক কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়। তার নাম ছিল ‘হিন্ডেনবার্গ কাণ্ড’। জানা যায়, সেই ঘটনার সূত্রেই নিজের সংস্থার নাম দিয়েছেন নাথান। সংস্থার লক্ষ্য, এমন সব আর্থিক ফাঁক খুঁজে বের করা, যা ধরতে পারলে, আগে থেকেই বিপর্যয়ের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা যায়।

    ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সামনে আসে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট

    ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আমেরিকার শেয়ার লেনদেন এবং গবেষণাকারী সংস্থা হিন্ডেনবার্গ (Hindenburg) রিসার্চ কৃত্রিম ভাবে শেয়ার দর বাড়িয়ে প্রতারণা এবং বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ তুলেছিল আদানি গোষ্ঠির সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে। তারপর থেকেই তদন্তে নামে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সেবি। চলতি বছরের মে মাসে এই প্রেক্ষিতে গৌতম আদানির নথিভুক্ত ১০টি সংস্থার মধ্যে সাতটির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে সেবি (SEBI)। ঠিক তার দুমাসের মাথায় হিন্ডেনবার্গকে নোটিশ ধরাল সেবি।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Amit Shah: ‘বিজেপির কিছু লুকোনোর নেই, ভয় পাওয়ারও নেই’, আদানিকাণ্ডে বললেন শাহ

    Amit Shah: ‘বিজেপির কিছু লুকোনোর নেই, ভয় পাওয়ারও নেই’, আদানিকাণ্ডে বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির (BJP) কিছু লুকোনোর নেই আর ভয় পাওয়ারও কিছু নেই। মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এ কথা বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। আদানি (Gautam Adani) বিতর্কে নরেন্দ্র মোদির সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধীরা। সেই প্রসঙ্গেই এদিন মুখ খোলেন শাহ।

    কংগ্রেসের অভিযোগ…

    কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি গৌতম আদানিকে সাহায্য করছে। তার জবাব দিতে গিয়েই শাহ বলেন, আড়াল করার বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তাঁর মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তিনি (Amit Shah) বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি দেখছে। একজন মন্ত্রী হিসেবে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কিন্তু এতে বিজেপির লুকোনোর কিছু নেই। এবং হওয়ার কিছু নেই।

    প্রসঙ্গত, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছে আদানির। ২০১৪ সালের পর আদানি ৬০৯তম থেকে বিশ্বব্যাপী ধনীদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন। কংগ্রেস সাংসদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদি আদানিকে বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশি চুক্তিতে সহায়তা করেছিলেন। তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে আদানি গত ২০ বছরে নির্বাচনী বন্ড সহ বিজেপিকে কত টাকা দিয়েছে। বিজেপির তরফে এর আগে মুখ খুলেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। তিনি বলেন, ভারতের শেয়ার বাজার খুবই ভালভাবে নিয়ন্ত্রিত। একটি মাত্র ঘটনা, তা নিয়ে বিশ্বে যতই শোরগোল হোক না কেন, তা দিয়ে এই নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার বিচার করা যায় না। ওই ঘটনায় বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীর আস্থা নষ্ট হয়ে যাবে বলেও আমি মনে করি না।

    আরও পড়ুুন: নিয়োগ দুর্নীতির জের, চাকরি হারাচ্ছেন নবম-দশম শ্রেণির ৬১৮ জন শিক্ষক! বিজ্ঞপ্তি জারি এসএসসি-র

    প্রসঙ্গত, আদানিকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। সেই আবেদনের শুনানিতে শনিবার প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কি আমরা ব্যবস্থা নেব? আমরা নীতিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। তা সরকারের কাজ। তবে তিনি এও বলেন, আমরা একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরির পরামর্শ দিয়েছি। সরকারেরও এ বিষয়ে আগ্রহ থাকা প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি বলেন, শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ভারতীয় লগ্নিকারীদের স্বার্থরক্ষা সম্পর্কে আশঙ্কার কথা আমরা সলিসিটর জেনারেলকে জানিয়েছি।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিনডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিবেদনে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারচুপি করে সম্পদ বৃদ্ধির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এদিন সে প্রসঙ্গে শাহের পরামর্শ, বিরোধীরা অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share