Tag: Hindu Dharma

Hindu Dharma

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশ লাগাতর হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত! বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা খারাপ?

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশ লাগাতর হিন্দু নির্যাতন অব্যাহত! বাংলাদেশের পরিস্থিতি কতটা খারাপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং বিদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ওপর লাগাতার আক্রমণের ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে, এই নিপীড়ন আমাদের চোখের সামনে ধীরে ধীরে গণহত্যার মতো প্রকাশ পাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলি উপেক্ষা করে আসছে। অথচ হিন্দু-বিরোধী (Hindu Dharma) ধর্মান্ধতার কারণে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে আক্রমণ, মন্দির ও মূর্তি অপবিত্রকরণ, ঘৃণ্য বক্তব্য এবং যৌন সহিংসতা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, হিন্দুরা (Hindus Under Attack) তাদের অস্তিত্বের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের শিকার হয়েই চলছে। ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোথায় কোথায় আক্রমণ হয়েছে আসুন এক নজরে দেখে নিই।

    কোচবিহারে হিন্দু নির্যাতন (Hindus Under Attack)

    স্থানীয় ক্ষোভ ও বিক্ষোভের কারণে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জের জামালদহ এলাকায়। মাত্র ১১ বছর বয়সী এক হিন্দু মেয়েকে (Hindus Under Attack) ধর্ষণের অভিযোগে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনামুল মিঞা নামে এক অভিযুক্ত ব্যক্তি হামলা চালানোর আগে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাবালিকা হিন্দু মেয়েটিকে মারার হুমকি দিয়েছিল বলে জানা গেছে।

    দক্ষিণ ভারতে অবমাননা

    শবরীমালা সোনা চুরি মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কেরালা, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ু জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে। দেবস্বম বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান এবং সিপিআইএম নেতার সম্পত্তি সহ ২১টি স্থানে ইডি তল্লাশি চালিয়েছে।

    পালাক্কাদে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ মিছিলের দৃশ্যগুলি প্রতিবাদের আচরণ এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন একটি স্কুল হোস্টেলে একজন ছাত্রের মৃত্যুর পর এই বিক্ষোভটি হয়েছিল। এই প্রতিবাদটি স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (SFI) দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন পালাক্কাদের স্কুল পরিচালিত হতো। প্রতিবাদের সময়, ওম প্রতীক যুক্ত হিন্দু আস্থার (Hindus Under Attack) উপরে চরম আঘাত হানে বামপন্থীরা।

    ছত্তিশগড়ে লাভ জিহাদ

    ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার পুলিশ বিহারের পাটনার বাসিন্দা মোহাম্মদ মাহফুজকে গ্রেফতার করেছে। যিনি জনজাতি মহিলাদের প্রতারণা ও শোষণের জন্য হিন্দু পুরুষ (Hindu Dharma)  সেজেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল এবং রেলওয়ে অফিসার হওয়ার মিথ্যা পরিচয়ের অভিযোগ রয়েছে। হিন্দু মেয়েদের লক্ষ্য করে প্রতারণামূলক সম্পর্কের বিষয়ে চলমান উদ্বেগকে তুলে ধরা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ভাবে লাভ জিহাদের ঘটনা।

    কাশ্মীরে হামলার ছক

    উত্তরপ্রদেশ সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (ATS) এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ সন্দেহভাজন ইসলামী সন্ত্রাসী মোহাম্মদ উজাইদ কুরেশিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিরাটের বাসিন্দা এবং আল-কায়েদা দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আবিষ্কার করেছেন যেখানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ফেদায়িন (আত্মঘাতী) হামলার অভিযোগ মিলছে।

    হরিয়ানায় ছক

    গুরুগ্রামের রাজীব নগর এলাকা থেকে লাভ জিহাদের মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। বিহারের এক হিন্দু মহিলা (Hindu Dharma) দাবি করেছেন, “এক ব্যক্তি মন্দিরের অনুষ্ঠানে তাকে বিয়ে করার জন্য তার মুসলিম পরিচয় গোপন করেছিলেন, পরে তাকে আক্রমণ করেছিল। ইসলামে ধর্মান্তরিত করার দাবি করেছিলেন। অভিযুক্তের নাম আরিফ খান, যিনি ভিকটিমকে প্রতারণা করার জন্য আরভের পরিচয় দিয়েছিলেন।

    মাদিকেরি গ্রামীণ পুলিশ নাপোকলু গ্রামের ২১ বছর বয়সী এক কলেজ ছাত্রকে একাধিক মহিলার সাথে যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার, তার মোবাইল ফোনে সেই কার্যকলাপ রেকর্ড করার এবং ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে । অভিযুক্ত ব্যক্তি বেঙ্গালুরুর একটি কলেজে অধ্যয়নরত একজন বিবিএ ছাত্র, পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের (Hindus Under Attack) উপর আক্রমণ অব্যাহত এবং ধীরে ধীরে দেশ থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাত-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির অপবিত্রকরণ, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম (Hindu Dharma) অবমাননার অভিযোগের পর জনতার আক্রমণ, নারীদের ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য হিন্দুদের ভয় দেখানো এবং তাড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার।

    বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায়, ২৩ বছর বয়সী এক হিন্দু মেকানিককে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, যেখানে তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এমন সময়েই আগুন দেওয়া হয়। চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক নামে পরিচিত ওই যুবক তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন এবং নরসিংদী শহরের একটি স্থানীয় গাড়ি মেরামতের কারখানায় কাজ করতেন।

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন! এই সপ্তাহে কোথায় কোথায় অত্যাচার?

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন! এই সপ্তাহে কোথায় কোথায় অত্যাচার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং ভারতের বাইরে বিদেশে হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) উপর আক্রমণ অবিরাম গতিতে হয়ে চলছে। আমাদের চোখের সামনেই বিশ্বের অনেক অঞ্চলে হিন্দু ধর্মের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গণহত্যার মতো প্রকাশ পাচ্ছে। কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক বিশ্ব এই ধারাবাহিক আক্রমণগুলিকে উপেক্ষা করে আসছে। হিন্দু-বিরোধী ধর্মান্ধতা (Hindu Dharma) এবং কট্টরপন্থীদের দৌরাত্ম্য ব্যাপক আকার রূপ নিয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে আক্রমণ, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণ্য বক্তব্য এবং যৌন হেনস্থার মতো নানা ঘটনা ঘটে চলছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের মতো নানা ঘটনায় হিন্দুরা নিজেদের অস্তিত্বের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে ইসালাম বিরোধী গুজব রটিয়ে বাংলাদেশের এক হিন্দু যুবককে নির্মম ভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।

    চলতি মাসে ১৪ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য এই সাপ্তাহিক সারসংক্ষেপ এখানে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করব। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংকট কতটা ভয়াবহরূপ ধারণ করছে এই আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    দক্ষিণ ভারতে হিন্দু নির্যাতন (Hindus Under Attack)

    হাসান জেলার সাকলেশপুর তালুকের বেলাগোডু হোবলির চিক্কানায়াকানাহল্লি গ্রামে সরকারি ষড়যন্ত্রে জমি দখলের একটি উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে। শেখ মোহাম্মদ জাল রেকর্ডের মাধ্যমে সিদ্দাম্মা নামে এক তফসিলি জাতির মহিলার সঙ্গে প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁকে জীবিত অবস্থায় মৃত ঘোষণা করে তাঁর জমি বেআইনিভাবে নিজের নামে হস্তান্তর করেছে দুর্বৃত্তরা।

    তিরুপতির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে হিন্দুদের (Hindus Under Attack) লক্ষ্য করে খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি হাই-প্রোফাইল মামলা হয়েছে। তিরুমালা মন্দিরের কাছাকাছি সরকারি কলেজগুলিতে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী সদস্যদের দ্বারা ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। শ্রীভেঙ্কটেশ্বর সরকারি পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষক প্রভাষক মাধবী এবং শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চ চাঙ্গাইয়া যীশু খ্রিস্টের প্রচারের জন্য শ্রেণীকক্ষকে রীতিমতো ব্যবহার করার অভিযোগ ব্যাপক ভাবে শোরগোল ফেলেছে। হিন্দু ছাত্রদের ধর্মান্তরের (Hindu Dharma) কৌশল থেকে রক্ষা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হিন্দু গোষ্ঠীগুলি ব্যাপক ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    মহারাষ্ট্রে হিন্দু নির্যাতন

    মহারাষ্ট্রের নান্দেরে একজন নিবেদিতপ্রাণ হিন্দু (Hindus Under Attack) কর্মী হর্ষ ঠাকুর বছরের পর বছর ধরে অবিরাম নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি নিজে অনলাইনে ভয়াবহ বর্বর শারীরিক অত্যাচারের কথা তুলে ধরেছেন। আবার রূপেশ দুবে মুম্বাইয়ের মীরা-ভায়ন্দর এলাকার একজন সুপরিচিত ব্যক্তি। হিন্দু (Hindu Dharma) অধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য তিনি এখন ভীম-মিম জোটের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে পুলিশের একটি অংশ ভীম-মিম জোটের পক্ষে কাজ করছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে রূপেশের মতো সমাজকর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে।

    এই রাজ্যে বেআইনি ধর্মান্তরকরণ এবং ইসলামি কট্টর মৌলবাদী কর্তৃত্বের সংগঠিত আরেকটি মামলায় পুলিশ একজন জাহাদি ধর্মগুরু মৌলভীকে গ্রেফতার করেছে। তিনি গ্রামের এক মহিলাকে প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার মতো অভিযোগে অভিযুক্ত। পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, জব্বার ওরফে হাফিজ ওরফে মৌলভী কেবল ধর্মান্তরকরণ নয়, তার বাইরে গিয়ে সরাসরি অবৈধ বিবাহকে সহজ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ইতিমধ্যে তাঁর নামেও একটি মামলায় দায়ের করা হয়েছে।

    হরিয়ানা-কর্নাটকে আক্রমণ

    হরিয়ানার যমুনানগরে জাতীয় মহাসড়কের বাহাদুরপুর গ্রামের কাছে একটি জনপ্রিয় নার্সারিতে ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু মহিলার (Hindus Under Attack) মাথাবিহীন এবং অর্ধ-উলঙ্গ দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো অঞ্চলকে হতবাক করে দিয়েছে। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের বাসিন্দা উমা নামে ওই মহিলা ১৩ বছর বয়সী এক ছেলের মাও ছিলেন। তবে নিজে খুনির সঙ্গে দুই বছরের লিভ-ইন সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন। স্বামী এবং পরিবার অনেক আগেই ত্যাগ করেছিলেন। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অভিযুক্তের অন্য মহিলার সঙ্গে আসন্ন বিবাহের কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

    স্কুলছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে কর্ণাটকের হাভেরি জেলায় এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় মানুষের সচেতন ভূমিকা তুলে ধরার দৃষ্টান্ত পাওয়া গিয়েছে। একটি প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, সাভানুর শহরে, নাবালিকা মেয়েদের বারবার হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন সরকারি উর্দু উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার সকল বাসিন্দারা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, সাহস দেন। এরপর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পশ্চিমবঙ্গের কুলপি বিধানসভা কেন্দ্রের রামকৃষ্ণপুর এলাকায় সিঙ্গির হাট মোড়ের কাছে বজরঙ্গবলী মন্দিরে শ্রী বজরঙ্গবলীর মূর্তির শিরোচ্ছেদ করার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সঙ্গে আক্রমণ করে মন্দিরের আরতির সরঞ্জাম এবং সাউন্ড সিস্টেমও ভাঙচুর করা হয়।

    বাংলাদেশে নির্যাতন

    বাংলাদেশে হিন্দুদের (Hindus Under Attack) উপর আক্রমণ অব্যাহত। ধীরে ধীরে দেশ থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাত-এর এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগের পর হিন্দু নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য হিন্দুদের ভয় দেখানোর মতো অজস্র ঘটনা ওই দেশে হিন্দুদের নির্মূল করার পক্ষে ঘটনা।

    ইসলাম ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় এক হিন্দু (Hindus Under Attack) যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তাঁর দেহকে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মন্তব্য ছিল ভুয়ো। পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করে জানিয়েছেন, হত্যার আগে যুবককে লাঠি ও রড দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। আক্রমণকারীরা প্রমাণ মুছতে এবং ভয় সৃষ্টি করার জন্য দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    হিন্দু-বিরোধী মনোভাবের আরও সূক্ষ্ম রূপ

    বেশিরভাগ ঘৃণামূলক অপরাধই ঘটে হিন্দু-বিরোধী (Hindu Dharma) গোঁড়ামির কারণে। কট্টর মৌলবাদীদের নির্দিষ্ট ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে লুকিয়ে আছে এই বিদ্বেষের বীজ। পার্শ্ববর্তী ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট। আবার ভারতের মতো আপাতদৃষ্টিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণের মধ্যেও হিন্দু-বিরোধী মনোভাবের আরও সূক্ষ্ম রূপ রয়েছে। সরকারি ব্যবস্থার আড়ালে ঘৃণামূলক অপরাধের প্রবণতা অনেক বেশি। প্রচলিত আইন এবং অভিযোগকে সূক্ষ্ম ভাবে বিচার না করলে হামলার মানসিকতা বোঝা সম্ভব নয়।

    আমরা সকল পাঠকদের অনুরোধ করছি যে, এই সময়ে আমরা যেসব হিন্দু-বিরোধী ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনাগুলিক উল্লেখ করতে পারিনি তাঁরা আমাদের কমেন্ট সেকশেনে গিয়ে মতামত এবং ঘটনার কথা উল্লেখ করুন। হিন্দু মানবাধিকার রক্ষায় আমরা সকলেই এক।

  • Mohan Bhagwat: “আরএসএস নীতিকে সমর্থন করে, কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে নয়”, সাফ জানালেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “আরএসএস নীতিকে সমর্থন করে, কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে নয়”, সাফ জানালেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আরএসএস (RSS) নীতিকে সমর্থন করে, কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলকে নয়”। এমনই মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, “কংগ্রেস যদি অযোধ্যায় রামমন্দিরের দাবি সমর্থন করত, তাহলে আরএসএস কর্মীরা কংগ্রেসকেই সমর্থন করতেন।”

    কী বললেন সরসংঘচালক (Mohan Bhagwat)

    সরসংঘচালক বলেন, “আমরা কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। আমরা নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিই না। সংঘ সমাজকে একত্রিত করার কাজ করে, আর রাজনীতি সমাজকে বিভক্ত করে। আমরা ব্যক্তি বা দলের নয়, নীতির সমর্থক। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, আমরা অযোধ্যায় রামমন্দির চেয়েছিলাম। তাই আমাদের স্বয়ংসেবকেরা তাঁদের ভোট দিয়েছেন যাঁরা মন্দির নির্মাণের পক্ষে ছিলেন।” তিনি জানান, বিজেপি সেই দাবি মেনে নিয়েছিল। এর পরেই সংঘ প্রধান বলেন, “কংগ্রেস যদি সমর্থন করত, তাহলে আমাদের স্বয়ংসেবকেরা কংগ্রেসকেই ভোট দিতেন।” তিনি বলেন, “আমাদের কোনও একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি বিশেষ অনুরাগ নেই। সংঘের কোনও দল নেই, কোনও দলও আমাদের নয়। আবার সব দলই আমাদের, কারণ তারা ভারতীয় দল। আমরা ‘রাষ্ট্রনীতি’কে সমর্থন করি, ‘রাজনীতি’কে নয়। আমাদের নিজস্ব মত আছে এবং আমরা চাই দেশ একটি নির্দিষ্ট পথে এগিয়ে যাক। যে দল দেশকে সেই পথে নিয়ে যাবে, আমরা তাদেরই সমর্থন করব।”

    আরএসএসে মুসলমানরা

    মুসলমানরা আরএসএসে যোগ দিতে পারেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “সংঘে কোনও ব্রাহ্মণকে আলাদা করে অনুমতি দেওয়া হয় না, কোনও জাতির মানুষকে আলাদা করে অনুমতি দেওয়া হয় না, কোনও মুসলিমকে আলাদা অনুমতি দেওয়া হয় না, কোনও খ্রিস্টানকেও নয়। বিভিন্ন ধর্মমতের মানুষ, সে তিনি মুসলিমই হোন বা খ্রিস্টান, সংঘে আসতে পারেন, যদি তাঁরা তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় সরিয়ে রেখে আসেন। শাখায় আসার সময় সবাইকে ভারত মায়ের সন্তান হিসেবেই আসতে হয়। মুসলিম ও খ্রিস্টানরা শাখায় আসেন, কিন্তু আমরা তাঁদের গণনা করি না (RSS)। আমরা কখনওই জিজ্ঞেস করি না তাঁরা কোন ধর্মের (Mohan Bhagwat)।”

  • Attacks on Hindus: হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে ভারত-বাংলাদেশে, বলছে রিপোর্ট

    Attacks on Hindus: হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে ভারত-বাংলাদেশে, বলছে রিপোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ, জমি দখল, হিন্দু উৎসব গুলিতে আক্রমণ, মন্দির ভাঙচুর (Attacks on Hindus)। এমনটাই দাবি হিন্দু পোস্ট পত্রিকার। তাদের প্রতিবেদনে গত ২৫ মে থেকে ১ জুন ২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন হিন্দু নির্যাতনের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    হিন্দু পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ভারত এবং বাংলাদেশে যে হিন্দুদের উপর আক্রমণের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হল-

    ভারতে ঘটা ঘটনা (Attacks on Hindus)

    অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার জেলার হালিশহরে একটি হিন্দু মন্দিরের আক্রমণ চালায় এবং শিবলিঙ্গ ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।

    পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলাতে এক হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বাপ্পা মিয়ার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গুজরাটের জামনগর থেকে যৌন নির্যাতনের একটি ঘটনা সামনে এসেছে। এখানে আম-আদমি পার্টির সক্রিয় কর্মী মহম্মদ আক্রামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণ করে ও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করে।

    শনিবার ২৪ মে অন্ধপ্রদেশের কাডাপা জেলায় রহমত উল্লাহ নামে এক ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তিন বছর বয়সি এক দলিত মেয়েকে ধর্ষণ করে সে।

    উত্তরপ্রদেশে জোর জবরদস্তি করে ইসলামিক ধর্মীয় রীতিনীতি মানতে বাধ্য করা হয় এক ব্যক্তিকে। এর পাশাপাশি তার হিন্দু পরিচয় (Attacks on Hindus) সম্পূর্ণ রূপে ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কুলদীপ কুমার। তিনি পেশায় একজন টোটো চালক। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালেই তিনি আলফিয়া নামে একজন মুসলিম মহিলাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তারপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিতে থাকে। ২০২৫ সালেই তাঁর নাম রশিদ রাখতে বাধ্য করে তারা।

    মধ্যপ্রদেশের বালুদা নামের একটি গ্রামে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং হিন্দু মহিলাকে যৌন নির্যাতনের জন্য সে রাজ্যের পুলিশ মোবারক মন্ত্রী নামে একজনকে গ্রেফতার করে।

    অন্যদিকে একই চিত্র ধরা পড়ছে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশেও

    সম্প্রতি, মানিকগঞ্জ জেলায় একটি মন্দিরকে ভাঙচুর করে উগ্র মৌলবাদীরা। অভিযোগ দেবদেবীর মূর্তিও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। মানিকগঞ্জ জেলার গড়পাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত মন্দিরটি। বাংলাদেশের গবেষক আবুল বারাকত জানাচ্ছেন, যে ধরনের অত্যাচার শুরু হয়েছে হিন্দুদের ওপর তাতে ২০৫০ সালের মধ্যে, বাংলাদেশ আর কোনও হিন্দু থাকবে না (Hindu Dharma)।

  • Falharini Kali Puja: মেলে দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি! জানুন ফলহারিণী কালীপুজোর মাহাত্ম্য

    Falharini Kali Puja: মেলে দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি! জানুন ফলহারিণী কালীপুজোর মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ সোমবার ফলহারিণী কালীপুজো। বাংলায় কালীপুজোর চল সারা বছর ধরেই দেখা যায়। দুর্গাপুজোর পরে যে কালীপুজো হয় তা জনপ্রিয় দীপান্বিতা কালী পুজো নামে পরিচিত। এছাড়াও রয়েছে রক্ষাকালী পুজো। স্থানীয়ভাবেও বাংলার নানা প্রান্তে কালীপুজো হয়। কোনও কোনও গৃহস্থের বাড়িতেও কালী পুজো বছরের বিশেষ সময়ে দেখা যায়। জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে যে কালীপুজো হয় তা ফলহারিণী কালীপুজো (Falharini Kali Puja) নামে প্রসিদ্ধ।

    কখন লাগছে তিথি?

    গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে এবছর ফলহারিণী অমাবস্যা শুরু হচ্ছে সোমবার সকাল ১১টা বেজে ৭মিনিট ১৯ সেকেন্ডে। চলবে মঙ্গলবার ২৭ তারিখ সকাল ৮টা ৪৪মিনিট ৫৯ সেকেন্ড পর্যন্ত। অন্যদিকে, বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, অমাবস্যা শুরু হবে ২৬ মে সোমবার দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে। ছেড়ে যাবে পরের দিন ২৭ তারিখ সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে।

    ফলের মালা পরানোর রীতি দেখা যায়

    ভক্তদের বিশ্বাস, মা কালী জীবের কর্মফল অনুসারে তাদের আশীর্বাদ প্রদান করেন। তিনি প্রসন্না হলে জীবের দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলে। পাশাপাশি জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে। ফলহারিণী অমাবস্যায় দেবীকে বিভিন্ন মরশুমি ফল দিয়ে পুজো দিলে দেবী সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস। আম, জাম, কলা, লিচু-সহ বিভিন্ন ফলের মালা তৈরি করে দেবীকে পরানোর রীতি দেখা যায়।

    এই দিনেই সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণ

    জানা যায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ফলহারিণী কালীপুজোর দিনে সারদা দেবীকে পুজো করেছিলেন জগত কল্যাণের জন্য। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জৈষ্ঠ্য মাসের অমাবস্যা তিথিতে ঠাকুর দক্ষিণেশ্বরে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন সারদা মা’কে। পরবর্তীতে এই সময়ের কালী পুজো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে ফলহারিণী কালী (Falharini Kali Puja) পুজো নামেই প্রসিদ্ধি পায়।

    কেন এই পুজো ফলহারিণী কালীপুজো (Falharini Kali Puja) নামে পরিচিত?

    শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, জৈষ্ঠ্য মাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল সমেত নানারকম মরসুমী ফল পাওয়া যায়। ভক্তরা তাদের ইষ্ট দেবীকে এই ফল নিবেদন করে থাকেন। দেবী ভক্তদের কর্মফল হরণ করে তাদেরকে মোক্ষফল প্রদান করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, ফলহারিণী কালীপুজো করলে বিদ্যা, কর্ম এবং অর্থ ভাগ্যের উন্নতি ঘটে প্রেম প্রণয়ের বাধা দূর হয়, দাম্পত্য সংসারী জীবনেও সুখ শান্তি বিরাজ করে। এককথায় এই বিশেষ পুজোয় ভক্তরা আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানসিক শক্তি পেয়ে থাকেন বলে তাদের বিশ্বাস।

  • Holi: দোল পূর্ণিমায় এই দেবতাদের পুজোয় জীবনে আসে সাফল্য

    Holi: দোল পূর্ণিমায় এই দেবতাদের পুজোয় জীবনে আসে সাফল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মে যেকোনও অনুষ্ঠানে তিথি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়। দোলের তিথি দেখেই বাঙালি গৃহস্থ বাড়িতে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। দোল পূর্ণিমা হিন্দুদের কাছে এক অত্যন্ত পবিত্র তিথি হওয়াতে, শাস্ত্র মতে এই তিথিতে বিশেষ কিছু নিয়ম-কার্য পালন করলে মানুষের আর্থিক, পরমাত্মিক এবং সাংসারিক শ্রীবৃদ্ধি লাভ সম্ভব হয়। বহু বাড়িতেই দোলের দিন শ্রীরাধাগোবিন্দের পুজো হয়। আবার শালগ্রাম শিলার পুজোও দেখা যায় এই দিন। পূর্ণিমার পুজো সকাল থেকেই চলে বাঙালি হিন্দু বাড়িতে। এই বিশেষ তিথিতে সমস্ত নিয়মকানুন মেনে গোপাল পূজা করলে ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা লাভ করা যায়। নিম্নে গোপাল পুজোর নিয়ম কারণ সম্পর্কে জানানো হল। এছাড়া আপনারা নিজেদের আরাধ্য দেবতাদেরও পূজা করতে পারেন এই দিন।

    দোল পূর্ণিমার দিন গোপাল পুজোর রীতি (Dol Purnima)

    শাস্ত্রমতে, মনে করা হয় এই তিথিতে বিশেষ কিছু নিয়ম পালন করলে সংসারের সার্বিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই দিনে বিশেষ কিছু নিয়ম পেলে গোপালের পুজো করলে ঈশ্বরের কৃপাদৃষ্টি বজায় থাকে। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের সঙ্গে আবির খেলায় মেতে উঠেছিলেন। হিন্দু শাস্ত্র মতে, এই তিথি অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি। তাই এই দিনে কিছু নিয়ম মেনে চললে ঈশ্বরের কৃপা দৃষ্টি সর্বদা বজায় থাকবে আপনার উপর। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে সংসারের সমৃদ্ধিও।

    জেনে নেওয়া যাক আজ ঠিক কোন নিয়মে পুজো সারবেন

    পণ্ডিতরা বলছেন, আগের দিনেই বাড়ি-ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নিন। রান্না ঘরে মজুত রাখা খাবারের কৌট বা জায়গা কখনও একদম ফাঁকা করে রাখবেন না। কিছু না কিছু ভরে রাখবেন। এই দিনে সকালে স্নান সেরে নিন। রাতে শুতে যাওয়ার আগে বাড়ির প্রধান দরজার সামনে এক বালতি জল রেখে দিন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই দরজার সামনে সেই জল ঢেলে ধুয়ে দিন। স্নানের জলে একটা বা দুটো তুলসী পাতা দিয়ে স্নান করুন। স্নানের পর ইষ্ট দেবতার স্মরণ করে পুজো সেরে নিন। গোপাল পুজো আপনি যেভাবে করেন সেই ভাবেই সারুন সঙ্গে শুধু উল্লিখিত নিয়মগুলো মেনে চলুন। এরপর ঠাকুরের পায়ে আবির দিয়ে প্রণাম সেরে নিন। ফুল মিষ্টি দিয়ে পুজো সেরে নিন। এই দিনে খাদ্য শষ্য দান অত্যন্ত পুণ্যের বলে মনে করা হয়। দুঃস্থকে খাদ্য এবং বস্ত্র বা সামর্থ অনুযায়ী এই দিনে দান করলে সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয়। সেই সঙ্গে মনের ইচ্ছাও পূরণ হয়।

  • Holi: আজ দোল, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোন কোন পৌরাণিক কাহিনী? উৎসবের ইতিহাসই বা কী?

    Holi: আজ দোল, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কোন কোন পৌরাণিক কাহিনী? উৎসবের ইতিহাসই বা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে দোল (Holi)। হলুদ শাড়ি এবং পাঞ্জাবিতে সাজবে মেয়ে এবং ছেলেরা। বসন্ত এসে গেছে গানের তালে তালে পালিত হবে দোল। শান্তিনিকেতনের দোল (Holi) আবার বিশেষ জনপ্রিয়। সারা রাজ্য থেকেই মানুষের ভিড় দেখা যাবে ওইদিন শান্তিনিকেতনে। রবি ঠাকুরের গানে, বসন্তের আগমনে এক আলাদা মাত্রা পায় শান্তিনিকেতনের দোল। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী দোল পূর্ণিমার দিন শ্রীকৃষ্ণ রং এবং আবির দিয়ে রাধা ও অন্যান্য গোপিনীদের সঙ্গে রং খেলায় মেতে উঠেছিলেন। বিশ্বাস মতে দোল খেলার উৎপত্তি সেখান থেকেই শুরু। যা আজও সমানভাবে এগিয়ে চলেছে।

    বাংলায় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু দোলযাত্রার (Holi) শুভ সূচনা করেন

    হিন্দু শাস্ত্রবিদরা বলছেন এই দোল (Holi) পূর্ণিমার দিনটিকে গৌড় পূর্ণিমাও বলা হয়। তার কারণ ১৪৮৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দোল পূর্ণিমা তিথিতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম হয়েছিল। পাশাপাশি এই বাংলাতে দোল উৎসবের সূচনাও শ্রীচৈতন্যদেবের হাত ধরে হয়েছিল। ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি গৃহত্যাগ করে অর্থাৎ নবদ্বীপ ত্যাগ করে বৃন্দাবনে গিয়ে সেখানে রং খেলা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন তখন থেকেই নাকি বাংলাতে দোল (Holi) উৎসবের সূচনা হয় ভক্তদের বিশ্বাস এই দোল খেলায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণও হাজির হতেন মহাপ্রভুর সঙ্গে দোল খেলতে। আবার কোনও কোনও গবেষক মনে করেন, প্রায় ২০০০ বছর আগে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন প্রচলন করেছিলেন দোল উৎসব। সপ্তম শতাব্দীতে সম্রাট হর্ষবর্ধনের লেখা রত্নাবলী নাটকেও হোলি (Holi) খেলার উল্লেখ রয়েছে। শুধু উত্তর ভারত নয় দক্ষিণ ভারতের বিজয়নগরের একটি মন্দিরের গায়ে এক রাজকুমার রাজকুমারীর রং খেলার চিত্রকলা রয়েছে। এখান থেকে বলা হয় যে দোল সারা ভারতবর্ষ ব্যাপী প্রচলিত ছিল (Dol Purnima)।

    পৌরাণিক কাহিনীগুলি জানা যাক

    ভক্ত প্রহ্লাদের আখ্যান এবং হোলিকা দহন

    অন্যদিকে পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী ভগবান বিষ্ণুর পরমভক্ত ছিলেন অসুর রাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ।  নিজেকে ঈশ্বর ঘোষণা করেছিলেন রাক্ষসরাজা। অহংকারী রাজার ওপর ব্রহ্মার বরদান ছিল দিন বা রাত, গৃহের ভিতর বা বাইরে, মানুষ বা পশু কেউই হিরণ্যকশিপুকে বধ করতে পারবেনা। এরপর নিজের পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যার পরিকল্পনা নেন রাক্ষসরাজা। নিজের বোন হোলিকার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন। হোলিকার ওপর আবার ব্রহ্মার বরদান স্বরুপ একটি চাদর ছিল, যেটি ছিল একধরনের রক্ষা কবচ। এই চাদর গায়ে জড়িয়ে প্রহ্লাদকে নিয়ে অগ্নিকুণ্ডে বসেন হোলিকা। ঠিক তখনই ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় চাদর উড়ে গিয়ে পড়ে প্রহ্লাদের গায়ে। অগ্নিকুণ্ডে দগ্ধ হয়ে যান হোলিকা। এই কারণে দোল উৎসবের আগের দিন হয় হোলিকা দহন। বাংলাতে এটাই প্রচলিত ন্যাড়াপোড়া নামে। ভক্তদের বিশ্বাস, এইদিনে সকল অশুভ শক্তির নাশ হয়। ভগবান বিষ্ণু তথা কৃষ্ণের পূজা করলে জীবনে সমৃদ্ধি নেমে আসে ভক্তদের।

    পুতনা রাক্ষসী বধ

    পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দোল (Holi) পূর্ণিমার দিনে শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করার কথা কোথাও কোথাও বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে হোলিকাকে পুতনার ভূমিকায় রাখা হয় এবং পুতানার বিষ দুধে শ্রীকৃষ্ণ পান করেনি বরং তার রক্ত পান করেন, এইভাবেই ভগবান বধ করেন পুতনাকে। এরফলে শ্রীকৃষ্ণের গায়ের রং নীল হয়ে যায়। বিশ্বাসমতে দোল পূর্ণিমা হল পুতনা বধের পর উৎসব। বিবাহিত নারীরা তাদের পরিবারের কল্যাণ এবং মঙ্গল কামনায় দোল উৎসবে মাতেন এদিন। ভারতের বাইরেও দোল উৎসব ব্যাপকভাবে পালিত হয়। বৈষ্ণব ধর্ম ছাড়াও শাক্ত-শৈবরাও এই উৎসব পালন করেন। পরিবারিক, বৃহত্তর সমাজ জীবনের ক্ষেত্রে দোল পূর্ণিমার গুরুত্ব অনেক।

     

     

  • Holi: দোলের আরেক নাম বসন্ত মহোৎসব, কেন জানেন?

    Holi: দোলের আরেক নাম বসন্ত মহোৎসব, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দোলকে রঙের উৎসব বলা হয়, যা ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে উদযাপিত হয়। এই বছর দোল পালিত হচ্ছে আজ অর্থাৎ ১৪ মার্চ। দোল হল অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির জয়। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন পৌরাণিক আখ্যান তাই বলছে। কিন্তু আপনি কি জানেন দোল বা হোলির ইতিহাস কী এবং কেন একে বসন্ত মহোৎসব বা কাম মহোৎসবও বলা হয়।

    দোল (Holi) বা হোলির ইতিহাস

    প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে হোলি বা দোলের উল্লেখ পাওয়া যায়। জৈমিনীর পূর্ব মীমাংসা সূত্র এবং কথা গড়্য-সূত্র, নারদ পুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ এবং বহু গ্রন্থে এর বর্ণনা পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক দিক থেকেও হোলির গুরুত্ব কম কিছু নয়। সম্রাট হর্ষবর্ধন রচিত রত্নাবলী নাটকে এর উল্লেখ মেলে। আবার রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন নামটির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন ভারতের হোলি খেলা। দোল একটি প্রাচীন উৎসব হিসাবে বিবেচিত হয়।

    পৌরাণিক আখ্যান

    পুরাণ মতে, বিষ্ণুর ভক্ত প্রহ্লাদকে হত্যা করতে হিরণ্যকশিপুর পরামর্শ মতো তার বোন হোলিকা অগ্নিকুণ্ডে বসেন। হোলিকার শরীর ছিল ব্রহ্মার বরে প্রাপ্ত চাদর দিয়ে ঢাকা। এই রক্ষাকবচের ফলে হোলিকা অগ্নিদগ্ধ হবেনা কিন্তু প্রহ্লাদ জ্বলে যাবে এই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু শেষে ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় চাদর উড়ে গিয়ে পড়ে প্রহ্লাদের গায়ে এবং অগ্নিদগ্ধ হন হোলিকা। তাই দোলের আগেরদিন অশুভ শক্তির পরাজয়ের প্রতীক হিসেবে হোলিকা দহনের রীতি সারা ভারতজুড়ে দেখা যায়।

    কেন দোল (Holi) পূর্ণিমাকে বসন্ত মহোৎসব বলা হয় 

    দোল উৎসব বসন্ত কালে পালিত হয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে বসন্তে পালিত হওয়ার কারণে এটিকে বসন্ত মহোৎসব এবং কাম মহোৎসব বলা হয়েছে। কামদেব সম্পর্কিত কাহিনী অনুসারে, সত্যযুগে এই দিনে, ভগবান শিব কামদেবকে ধ্বংস করার পর, রতিকে শ্রীকৃষ্ণের স্থানে কামদেব রূপে জন্মগ্রহণ করার বর দিয়েছিলেন। তাই দোলকে ‘বসন্ত মহোৎসব’ বা ‘কাম মহোৎসব’ও (Dol Purnima) বলা হয়।

  • Holika Dahan: হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়া আসলে কী? এই রীতির পৌরাণিক কাহিনী জানুন

    Holika Dahan: হোলিকা দহন বা ন্যাড়া পোড়া আসলে কী? এই রীতির পৌরাণিক কাহিনী জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘আজ আমাদের ন্যাড়া পোড়া, কাল আমাদের দোল, পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বলো হরিবোল।” এই প্রবাদের সঙ্গে আমরা সকলেই পরিচিত। দোলের (Dol Purnima) আগের দিন ন্যাড়া পোড়ানোর রীতি চলে আসছে বহু যুগ ধরে। যা আমাদের বাংলার বাইরে হোলিকা দহন (Holika Dahan) নামেও পরিচিত। কিন্তু কীভাবে এবং কেনই বা  এই ন্যাড়া পোড়ানোর রীতির প্রচলন হল? এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেই হয়তো জানেন না। আজ আমরা এই প্রতিবেদনে জানব, কী এই ন্যাড়া পোড়া?

    পিছনে আছে এক পৌরাণিক কাহিনী (Holika Dahan)

    এই রীতির পিছনে আছে এক পৌরাণিক কাহিনি, যার ওপর ভিত্তি করেই আজকের ন্যাড়া পোড়া (Holika Dahan)। রাক্ষসরাজ হিরণ্যকশিপু সব সময় তাঁর প্রজাদের ওপর অত্যাচার চালাতেন। এমনকী তাদের পূজার্চনাতেও বিঘ্ন ঘটাতেন। সব সময় নিজের শক্তিকে ভুল ভাবে প্রয়োগ করতেন। এক সময় তিনি অমরত্ব লাভের জন্য ভগবান ব্রহ্মার তপস্যায় বসেন। তাঁর এই কঠোর তপস্যায় খুশি হয়ে ভগবান ব্রহ্মা তাঁকে মোট পাঁচটি বর প্রদান করেন। যে পাঁচটি বর ছিল-কোনও মানুষ বা কোনও প্রাণী তাঁকে মারতে পারবে না। ঘরের ভিতরে বা ঘরের বাইরে তাঁর মৃত্যু হবে না। তাঁর মৃত্যু দিনেও হবে না, রাতেও হবে না। অস্ত্র দ্বারাও হবে না, শস্ত্র্র দ্বারাও হবে না। হিরণ্যকশিপুর মৃত্যু জমিতেও হবে না, জলেও হবে না, শূন্যেও হবে না।  এই বর পাওয়ার পর থেকে হিরণ্যকশিপু দেবতাদের ওপর আরও অত্যাচার চালাতে শুরু করেন।

    অশুভ শক্তিকে হারিয়ে শুভ শক্তির জয় (Holika Dahan) 

    হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ছিল ভগবান বিষ্ণুর ভক্ত। তাই প্রহ্লাদকে হত্যা করার জন্য নিজের বোন হোলিকার সাহায্য নেন তিনি।  এই হোলিকা ভগবান ব্রহ্মার কাছ থেকে একটি বিশেষ শাল পেয়েছিলেন, যা তাকে সব সময় রক্ষা করত। হোলিকা হিরণ্যকশিপুকে জানান, তিনি প্রহ্লাদকে নিয়ে এই শাল জড়িয়ে আগুনের মধ্যে বসবেন। এতে শাল তাঁকে রক্ষা করলেও প্রহ্লাদকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেবে। কিন্তু যেই প্রহ্লাদকে নিয়ে হোলিকা আগুনে প্রবেশ করেন, তখনই গায়ের শালটি তাঁর কাছ থেকে প্রহ্লাদের গায়ে গিয়ে পড়ে। তাই প্রহ্লাদের কিছু না হয়ে পুড়ে ছাই হয়ে যান হোলিকা। এর পরেই ভগবান বিষ্ণু নরসিংহ রূপ নিয়ে হিরন্যকশিপুকে হত্যা করেন, যে ঘটনা সবাই জানে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আজও হোলির আগের দিন হোলিকা দহন (Holika Dahan) বা ন্যাড়া পোড়ার রীতি চলে আসছে। দোলের আগের দিন হোলিকা দহন করে মনের সব পাপ, অশুচি, লোভকে শেষ করে ফেলে এক শুভ দিনের সূচনা করা হয়।

  • Makar Sankranti 2025: ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি, জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    Makar Sankranti 2025: ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি, জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই মকর সংক্রান্তি। হিন্দু ধর্মে (Hindu Dharma) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল এই উৎসব। জানা গিয়েছে, চলতি বছরে মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2025) পালিত হবে ১৪ জানুয়ারি। জ্যোতিষীরা জানাচ্ছেন, ওই দিনে সূর্যদেব দুপুর ২টো ৫৮ মিনিট নাগাদ মকর রাশিতে গমন করবেন। শাস্ত্রবিদদের মতে, মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2025) দিন সকালে উঠে যে কোনও পবিত্র নদীতে স্নান করা খুবই শুভ বলে মানা হয়। জ্যোতিষীদের মতে, মকর সংক্রান্তির বিশেষ দিনেই সূর্যদেব ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে গমন করেন। প্রচলিত বিশ্বাস, এই দিনে পবিত্র রীতিতে স্নান ও দান করলে ব্যক্তি জীবনের সমস্ত অশান্তি ঝামেলা দূর হয় এবং ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সংক্রান্তি শব্দের অর্থ হল মাসের শেষ তারিখ। সেই রীতি অনুযায়ী, পৌষ মাসের শেষ দিনে পালিত হওয়ার জন্য এদিনটিকে পৌষ সংক্রান্তিও বলা হয়।

    পৌরাণিক আখ্যান (Makar Sankranti 2025)

    প্রতি হিন্দু ঘরেই পালন করা হয় মকর সংক্রান্তি উৎসব। এদিন নানা নিয়মকানুন পালন করা হয়। কিন্তু আমাদের জানতে হবে পৌষ সংক্রান্তির উদ্ভব কিভাবে? কেনই বা পালন করা হয় এই বিশেষ দিন? পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, মকর সংক্রান্তির দিনে পিতা সূর্য, তাঁর পুত্র শনিদেবকে নিয়ে নিজের বাড়িতে গমন করেন। এছাড়াও কথিত রয়েছে, এই দিনই মহাভারতের ভীষ্ম পিতামহ ভীষ্ম ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন। দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তিও হয়েছিল মকর সংক্রান্তির দিনে। এই দিনেই অসুরদেরকে বধ করে শুভ শক্তির বিস্তার ঘটেছিল। তাই যেকোনও শুভ কাজ এই দিনে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে।

    সংক্রান্তি শব্দের অর্থ হল মাসের শেষ তারিখ

    হিন্দু পঞ্জিকা মতে, সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2025) শব্দের অর্থ হল মাসের শেষ তারিখ। সেইমতো শেষ দিনে পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি পালন করা হয়। প্রতি বাঙালি প্রতি হিন্দু বাড়িতেই এদিন পিঠেপুলি তৈরি করা হয়। আবার জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সংক্রান্তি শব্দের অর্থ হচ্ছে গমন করা। প্রতিবেদনের প্রথমে যেমনটা বলা হয়েছে যে এই দিন সূর্যদেব ধনু রাশি থেকে গমন করেন মকর রাশিতে। বহু হিন্দু বাড়িতে এই দিন নানারকমের মিষ্টি ও গুড়ের পদ তৈরি করা হয়। এর পাশাপাশি মকর সংক্রান্তির আগের দিন থেকে ঘরদুয়ার পরিষ্কার করা হয়। গ্রামবাংলায় এখনও বাড়িগুলিতে আলপনা দেওয়ার রীতিও দেখা যায়। আবার এই দিন বহু জায়গায় ঘুড়ি ওড়ানোর রীতিও দেখা যায়। প্রচলিত নিয়ম বলছে, মকর সংক্রান্তির রাতে অন্যত্র বাস করা উচিত নয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share