Tag: hindu festivals

hindu festivals

  • Durga Puja 2024: বন্দুকের পর পর গুলির শব্দে দেবীর বোধনের বার্তা পৌঁছে যেত বহু দূরে!

    Durga Puja 2024: বন্দুকের পর পর গুলির শব্দে দেবীর বোধনের বার্তা পৌঁছে যেত বহু দূরে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চণ্ডীমঙ্গল থেকে পালাগান এবং যাত্রাপালার মতো বিনোদনের আসর। সঙ্গে আশপাশের গ্রাম ভেঙে মানুষের ভিড়। সব মিলিয়ে গণ উৎসবে পরিণত হত দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট থানার পতিরাম এলাকার জমিদার বাড়ির পুজো (Durga Puja 2024)। ৩০১ বছরেরও বেশি আগে ঘোষ এস্টেটের জমিদার প্রয়াত রামসুন্দর ঘোষ দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। শূন্যে দোনলা বন্দুকের পর পর গুলির শব্দে দেবীর বোধনের বার্তা পৌঁছে যেত দূরের অঞ্চলে। গরুর গাড়িতে চড়ে, কেউ ছেলে-বউ নিয়ে পায়ে হেঁটে এসে জমিদারের তৈরি অতিথিশালায় ঠাঁই নিতেন। দেবী দুর্গাকে উৎসর্গ করে মণ্ডপে হত মোষ বলি এবং পর পর পাঁঠাবলি। আনন্দের জোয়ারে খুশি প্রজাগণের চওড়া হত মুখের হাসি। পুজোর কটা দিন জমিদার বাড়িতেই পাত পেড়ে দু’বেলা প্রসাদ খাওয়া তো ছিলই। সঙ্গে বড় বড় হ্যাজাকের আলোয় ভরা সামিয়ানায় বসে রাতভর পালাগানের আসরে মজে থাকতেন মানুষ। আর তাঁদের ভিড়ে উৎসবের দিনগুলিতে সকলে মেতে উঠতেন।

    বোধনে নারায়ণ পুজোর রীতি (Durga Puja 2024)

    আজ জমিদারও নেই। নেই সেই জমিদারির জৌলুস। পুরনো সেই মন্দির সংস্কার করে সাত পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ বারেও দু্র্গাপুজোর আয়োজন করছেন বৃদ্ধ বংশধর সাগর ঘোষ। পুরনো দিনের সেই যাত্রাপালা উৎসব আর হয় না। তবে কলকাতা ও জলপাইগুড়ি থেকে আত্মীয় স্বজনরা সময় পেলে পুজোয় আসেন। আত্রেয়ী নদীপথে বাণিজ্যের সুবাদে পূর্ববঙ্গ থেকে পতিরামে এসে জমিদারি পত্তনের সঙ্গেই পারিবারিক দুর্গাপুজো শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। এখনও রীতি মেনে জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে সূচনা হয় জমিদার বাড়ির প্রতিমা গড়ার কাজ। পঞ্চমীতে দেবীর বোধনে নারায়ণ পুজোর রীতি এখনও ধরে রেখেছেন সাগরবাবু। ঐতিহ্যের নিদর্শন প্রতীকী নৌকাও (Symbolic Boat) মণ্ডপে পুজো হয়।

    অষ্টমীতে চণ্ডীপুজো হলেও বলি প্রথা বন্ধ

    বৃদ্ধের কথায়, ‘‘এক সময় এই পুজো ঘিরে এলাকা-জুড়ে চলত উৎসব। এখন এলাকার ক্লাব কমিটির সাড়ম্বর পুজোয় (Durga Puja 2024) অনেক জৌলুস।’’ লোকবলের অভাব। পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার কারণে জৌলুস হারালেও তিথি-নক্ষত্র মেনে নিষ্ঠাচারে দেবীর পুজোর আয়োজন করে জমিদারের বংশধর সাগরবাবু এখনও সাতপুরুষের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন। এবিষয়ে জমিদার বাড়ির উত্তরসূরী সাগরকুমার ঘোষ বলেন, “আমাদের এই পুজো ৭ পুরুষের পুরনো। প্রতিমা বিসর্জনের দিন থেকে পরের বছর পুজোর প্রস্তুতি চলে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনে এই বাড়িতে থাকি। আমরা দুজনে প্রস্তুতির কাজকর্ম করি। আমাদের পুজোতে আগে বলি ছিল। আমরা এখন বলি প্রথাটা উঠিয়ে দিয়েছি। আমাদের পুজোর বিশেষত্ব হল নৌকাকে ডিঙি করে সেই নৌকাতে পুজো হয়। দশমীর দিন সেই ডিঙিকে (Symbolic Boat) বিভিন্নভাবে সাজিয়ে মণ্ডপে পুজো করে পুজোর পর বাড়িতে যে বয়স্ক মানুষ থাকে, সে মাথায় করে বসত বাড়িতে আনে। এটাই আমাদের পুজোর বিশেষত্ব। পুজোর পাঁচদিন এলাকার সমস্ত মানুষ এখানে এসে আনন্দ করে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: মা দুর্গার আরাধনার পর রাজা ফিরে পেয়েছিলেন রাজত্ব! জানেন সেই কাহিনি?

    Durga Puja 2024: মা দুর্গার আরাধনার পর রাজা ফিরে পেয়েছিলেন রাজত্ব! জানেন সেই কাহিনি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর শিউলি ফুলের গন্ধই বলে দেয়, মা আসছেন। পুজোর এই চারটে দিনের জন্যই যেন সারা বছর হা পিত্যেশ করে বসে থাকা। কিন্তু যে উৎসব ঘিরে এত আয়োজন, এত উন্মাদনা, এত আবেগ, তা শুরু হয়েছিল কার হাতে? এই প্রশ্নটা আমাদের অনেককেই মাঝে মধ্যে ভাবায়। আসুন, পুরাণ ঘেঁটে দেখে নিই, বাংলায় কে প্রথম এই দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সূচনা করেছিলেন? পুরাণে উল্লেখ রয়েছে বলিপুর নামক একটি জায়গার নাম। অনেকেই জানিয়েছেন, এই বলিপুর আসলে বীরভূম জেলার বোলপুর শহর, যা ছিল রাজা সুরথের রাজধানী‌‌। মার্কন্ডেয় পুরাণ অনুযায়ী, মর্ত্যলোকের এই রাজা মর্ত্যবাসীদের মধ্যে দেবীর মাহাত্ম্য তথা লীলা প্রচার করেছিলেন। তিনিই ছিলেন বাংলার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর প্রথম উদ্যোক্তা এবং প্রথম সংগঠক। এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক, কোন পরিস্থিতিতে, কেন রাজা সুরথ দুর্গাপুজো শুরু করেন? এবং কোথায় তা শুরু করেন?

    দুজনের সাক্ষাৎ যেন দৈব নির্ধারিত ছিল (Durga Puja 2024)

    দেবী মাহাত্ম্যে এবং মার্কন্ডেয় পুরাণে রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্ত বংশীয় রাজা অর্থাৎ চিত্রগুপ্তের বংশধর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁর রাজত্ব, সম্পত্তি সব কিছুই হারিয়েছিলেন। দাস-দাসী, আত্মীয়স্বজন, তাঁর পোষ্য জন্তু জানোয়ারদের কাছেও তিনি মর্যাদা হারিয়েছিলেন বলে জানা যায়। এরা কেউ তাঁর কথা শুনত না। অসহায় রাজা মনের দুঃখে রাজ্য ছাড়েন। যদুবংশীয় এই রাজা বৈরাগী হয়েছিলেন। রাজ্য ছাড়ার পর তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয় এক বণিকের। ওই বণিকও ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, একেবারে দেউলিয়া ছিলেন তিনি। বণিকের নাম ছিল সমাধি বৈশ্য। তাঁর নিজের পরিবার, আত্মীয়স্বজনের প্রতারণার জন্যই তিনি দেউলিয়া হয়েছিলেন বলে পুরাণে জানা যায়। একদিকে এক ভাগ্যহীন রাজা (King Suratha), অন্যদিকে এক ভাগ্যহীন বণিক। দুজনের সাক্ষাৎ যেন দৈব নির্ধারিত ছিল। তাঁদের সাথে যোগাযোগ হয় মেধস মুনির।

    মেধস মুনির আশ্রম কোথায় ছিল?

    একটি মত অনুযায়ী, মেধস মুনির আশ্রম বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার করলডাঙা পাহাড়ে অবস্থিত। বাংলাদেশের হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান হল এই পাহাড়ের উপর অবস্থিত মেধস মুনির আশ্রম। প্রতি বছর দুর্গাপুজোতে (Durga Puja 2024) ভক্তদের ভিড়ে ঠাসা থাকে এই আশ্রম। শিব মন্দির, চন্ডী মন্দির সমেত অনেকগুলি মন্দির রয়েছে এখানে। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা এই আশ্রম ভেঙে দেয়। পরবর্তীকালে এই আশ্রম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশে হিন্দুদের অন্যতম বড় এই তীর্থস্থান থেকেই বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। অপর একটি মত অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর শহরের কাছে গড় জঙ্গল নামক স্থানে ছিল মেধস মুনির আশ্রম‌। আশ্রমের অবস্থান নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে দ্বিমত থাকলেও এই মেধস মুনির আশ্রমেই যে দুর্গাপুজো প্রথম শুরু হয়েছিল, এ ব্যাপারে পন্ডিত থেকে ঐতিহাসিক সকলেই একমত।

    পুজো হয়েছিল বসন্ত কালে (Durga Puja 2024)

    রাজা সুরথ এবং বণিক সমাধি বৈশ্য দুজনে মেধস মুনির শরণাপন্ন হয়ে নিজেদের ভাগ্য বিপর্যয়ের কথা মুনিকে শোনাতে থাকেন। মেধস মুনি তাঁদের দেবী মাহাত্ম্য শোনান। মহিষাসুরমর্দিনীর স্তব করে শোনান। মুনি পরামর্শ দেন, একমাত্র দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার আরাধনা এবং পুজো করলেই তাঁদের ভাগ্য ফিরবে। মুনির পরামর্শ মতো রাজা সুরথ ও বণিক সমাধি বৈশ্য মাটির প্রতিমা নির্মাণ করে ওই আশ্রমেই দুর্গাপুজো করেন। কথিত আছে মাতৃ আরাধনার পর রাজা সুরথ (King Suratha) তাঁর রাজত্ব পুনরায় ফেরত পেয়েছিলেন, পরিবার পরিজনের কাছে তাঁর মর্যাদা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অপরদিকে বণিক সমাধি বৈশ্যও একই ভাবে সৌভাগ্যের অধিকারী হয়ে, হারানো সমস্ত কিছু ফেরত পেয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার মেধস মুনির আশ্রমে এই পুজো বসন্ত কালে সংঘটিত হয়েছিল। শরৎকালের দুর্গাপুজো শ্রী রামচন্দ্রের অকাল বোধনের কারণে হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    Durga Puja 2024: প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো (Durga Puja 2024)। হাতে গোনা আর মাত্র এক মাসের কয়েকটা দিন বেশি বাকি। দেবী দশভুজা চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে মর্তে আসেন। মর্ত্যবাসী তাঁকে নিজের মেয়ের মতো মনে করেই বরণ করে নেন। তাই এখন থেকেই দিকে দিকে তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের অনেকের মনেই যে প্রশ্ন জাগে, তা হল, কবে এই দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়েছিল? এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে পুরাণের (Puranas) দিকে। কারণ বিভিন্ন শাস্ত্রগ্রন্থই এসবের উত্তর বের করার মূল রাস্তা। এছাড়া এ ব্যাপারে আর নির্ভর করার মতো তেমন কিছু নেই।

    প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ

    ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন। তিনি পুজো করেছিলেন বৈকুণ্ঠের মহারাস মণ্ডলে। ওই শাস্ত্রের প্রমাণ বাক্যটি হল, প্রথমে পূজিতা সা চ কৃষ্ণেন পরমাত্মনা। শ্রীকৃষ্ণের পরে দুর্গাপুজো করেছিলেন স্বয়ং ব্রহ্মা। মহামায়ার পুজো করেছিলেন স্বয়ং মহাদেবও। ত্রিপুরাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে তিনি পুজো করেছিলেন দেবী দুর্গার। মহাদেবীর আরাধনা করেছিলেন দেবরাজ ইন্দ্রও। তার অনেক পরে মর্ত্যে শুরু হয় মহামায়ার আরাধনা (Worship of Mahamaya)।

    দেবী ভাগবত পুরাণ কী বলছে?

    দেবী ভাগবত পুরাণ মতে, ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু প্রথম পৃথিবীতে দুর্গাপুজো প্রচলন করেন। শ্রী শ্রী চণ্ডী অনুযায়ী, রাজা সুরথ রাজ্য লাভের আশায় দেবী দুর্গার পুজো করেন। বাল্মীকি রামায়ণে দুর্গাপুজোর কোনও বর্ণনা নেই। তবে কৃত্তিবাস ওঝা বিরচিত রামায়ণে দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে। বাসন্ত কালে দুর্গার পুজো করেছিলেন রাবণও। মৈথিলি কবি বিদ্যাপতি দুর্গা ভক্তি তরঙ্গিনীতে দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে।

    আরও নানা মত (Durga Puja 2024)

    কারও কারও মতে, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দুর্গাপুজো করেন। কারও কারও মতে আবার ষোড়শ শতকে রাজশাহী তাহেরপুর এলাকার রাজা কংস নারাযণ প্রথম দুর্গাপুজো করেন মর্তে। কোচবিহারে ১৫১০ সালে দুর্গাপুজো করেন রাজসিংহ। কেউ কেউ মনে করেন, ১৬০৬ সালে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন নদিয়ার ভবনানন্দ মজুমদার। কলকাতার বরিশাল রায় চৌধুরী পরিবার প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন বলেও মনে করেন অনেকে। আবার কারও কারও মতে, ১৬১০ সালে প্রথম দুর্গাপুজো করেছিল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরীর পরিবার। তাঁরা মহিষমর্দিনী দুর্গার পুজো করেননি। ওই পরিবারে দেবীর আগমন (Durga Puja 2024) ঘটেছিল ছেলেমেয়ে সহ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Durga Puja 2024: স্বপ্নাদেশে স্থান বদল গণেশ ও কার্তিকের, লুচি-মিষ্টি-ফল দিয়েই পাঁচদিনের পুজো!

    Durga Puja 2024: স্বপ্নাদেশে স্থান বদল গণেশ ও কার্তিকের, লুচি-মিষ্টি-ফল দিয়েই পাঁচদিনের পুজো!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুরঘাট শহরের আর দশটা পুজোর থেকে একটু আলাদা সাহা বাড়ির পুজো। এবার ১৮৬তম বর্ষে পদার্পণ করল এই পুজো (Durga Puja 2024)। সেই জমিদারি থাকাকালীন শুরু হয়েছিল এই দুর্গাপুজো। তারপর থেকেই পুজো হয়ে আসছে, বংশধররা সেই ধারা বজায় রেখেছেন এখনও পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই প্রচুর ব্যস্ততা শুরু হয়েছে সাহা বাড়িতে। বর্তমান বাংলাদেশের পাবনা জেলার জামির্তা গ্রাম থেকে নৌকাযোগে কোনও এক সময় সাহা পরিবার এসেছিল বালুরঘাটে ব্যবসার জন্য। তারপর এখানেই পরিবারের একটা অংশ থেকে গিয়েছে। ক্রমেই তাদের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি হয়েছিল। এমনকী কথিত আছে, কিছুটা অংশের জমিদারিও লাভ করেন পরিবারের বংশধরেরা। তারপর ১৮৬ বছর আগে শুরু হয় দুর্গাপুজো। ক্রমেই তা সাহা পরিবারের সকলের পুজো হয়ে ওঠে।

    প্রচুর মানুষ আজও ভিড় জমান (Durga Puja 2024)

    দেশ ভাগ হওয়ার পরেও বাংলাদেশ থেকে তাঁদের আত্মীয়-স্বজনরা এসেছেন বেশ কয়েকবার। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে সাহা পরিবার কার্যত মিলন মেলায় পরিণত হত। সময় বদলেছে, চলে গিয়েছে জমিদারি, কিন্তু বদলায়নি পুজোর রীতি-রেওয়াজ। স্বপ্নাদেশে গণেশ ও কার্তিকের (Ganesh and Kartik) স্থান বদল হয়েছে। দুর্গা প্রতিমা অর্থাৎ দেবীর ডানদিকে থাকবেন কার্তিক, বাঁদিকে থাকবেন গণেশ। সাহা বাড়ির পুজোর আরও একটি বিশেষত্ব, এখানে কোনও অন্নভোগ হয় না। লুচি-মিষ্টি এবং ফল দিয়েই দেবীর পাঁচদিনের পুজো হয়। জমিদারি যখন ছিল, তখন শাহ বাড়িতে প্রায় প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ প্রসাদ পেতেন। এখন জমিদারি নেই, আর্থিক সচ্ছলতাও কমেছে। পুরনো বাড়িতে এখন শুধুই শূন্যতা। দুর্গামণ্ডপ বহু পুরনো। আগে পুজোর কদিন প্রায় প্রতিদিনই গান-বাজনার আসর বসত। বাইরে থেকে আসতেন শিল্পীরা। এখন এসবও অতীত। নিয়ম মেনে দেবীর পুজো হয়। ব্যতিক্রমী এই পুজো দেখতে এবং প্রতিমা দর্শন করতে প্রচুর মানুষ আজও ভিড় জমান সাহা বাড়ির দুর্গা দালানে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যই সারা বছর অপেক্ষা করে থাকেন এই পাঁচদিনের দুর্গা উৎসবের জন্য।

    কী জানালেন পুজোর উদ্যোক্তারা?

    এই বিষয়ে পুজোর উদ্যোক্তা কালীকৃষ্ণ সাহা চৌধুরী বলেন, আমাদের এবারের দুর্গা পুজো ১৮৬তম বছরে পড়ল (Durga Puja 2024)। আমাদের এই পুজোর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল স্বপ্নাদেশে গণেশ ও কার্তিকের স্থান বদল হয়েছে। দুর্গা প্রতিমার অর্থাৎ দেবীর ডানদিকে থাকে কার্তিক, বাঁদিকে থাকে গণেশ এবং আমাদের এই পুজোর আরও একটি বিশেষত্ব, এখানে কোনও অন্নভোগ  হয় না। লুচি-মিষ্টি এবং ফল দিয়েই দেবীর পাঁচদিনের পুজো হয়। তিনি আরও বলেন, এই পুজোতে নবমীর দিন যজ্ঞ করা হয়। তবে কোনও বলি হয় না। আর দশমীর দিন শ্যাপলা ফুল ও ভ্যাটের খৈ দিয়ে মাকে ভোগ দেওয়া হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • Trishul Utsav: পৌষ পূর্ণিমায় ত্রিশূল উৎসব হয়ে গেল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে, জানেন এর মাহাত্ম্য?

    Trishul Utsav: পৌষ পূর্ণিমায় ত্রিশূল উৎসব হয়ে গেল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘে, জানেন এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাপুণ্যময় পৌষ পূর্ণিমা। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য্য স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ মহাসংযমের মাধ্যমে বর্তমান বাংলাদেশের বাজিতপুর ধামে সিদ্ধ ত্রিশূল মাটিতে পুঁতে দীর্ঘ একমাসব্যাপী তপস্যা করেছিলেন। তারপর মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। জগতের কল্যাণে বর্তমান সময়কে মহাজাগরণ, মহাসমন্বয়, মহামিলন ও মহামুক্তির যুগ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন৷ সেই থেকেই পুণ্য পৌষ পূর্ণিমা তিথিতে অতি সংযমের সঙ্গে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সমস্ত সন্ন্যাসী, গুরু ভাই-বোন, ভক্ত, শিষ্যগণ ত্রিশূল পুজোর মাধ্যমে ত্রিশূল উৎসব (Trishul Utsav) পালন করেন।

    কীভাবে হয় এই পুজো? (Trishul Utsav)

    কলকাতার বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান কার্যালয় সহ অন্যান্য শাখা কেন্দ্রে এবং সঙ্ঘের সেবা কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালী ব্লকের হাটগাছি অঞ্চলের কানমারী বাজারে মহাসাড়ম্বরে পালিত হল ত্রিশূল উৎসব ৷ কানমারী বিদ্যাধরী নদীতে ত্রিশূল স্নান করিয়ে (Trishul Utsav) ভক্ত ও বিশিষ্ট মানুষরা ত্রিশুল নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে মূল মন্দিরে উপস্থিত হন। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় ত্রিশূল পুজো ও আরতি।

    পরিবারের সুরক্ষা কবজ এই ত্রিশূল? (Trishul Utsav)

    সঙ্ঘের সন্নাসী ও ভক্তরা মনে করেন, জাগতিক বিশ্বাসী মানুষের অন্তরের আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক ত্রিতাপ ত্রিশূল পুজোয় দূরীভূত হয়। সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের দিব্য প্রকাশ, পজেটিভ শক্তির বিকাশ, কু-চক্র ও দৃষ্টির প্রভাব মুক্তির পথ এই ত্রিশূল (Trishul Utsav)। পরিবারের সুরক্ষা কবজ ও সমস্যা সমাধানের প্রতীক এবং সত্ব, রজ, তমোগুণের বহিঃপ্রকাশ ভগবান শিব সর্বশক্তিমানের হাতে থাকা মহাশক্তি এই ত্রিশূল। সঙ্ঘ ভক্তকুল মনে করেন, এই ত্রিশূল পুজোর মাধ্যমে ভগবৎ কৃপালাভের পথ নির্দেশিকা ও সংকল্প পালনের দিশা নিদিষ্ট হয়৷ সেই কারণে দেবাদিদেব মহাদেব অবতার রূপে আচার্য্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজ লীলারত অবস্থায় বিশ্বের কল্যাণে ও যুগের প্রয়োজনে প্রবর্তন করেন সনাতন হিন্দুর সদাচারী বিধান হিসাবে এই ত্রিশূল পুজো। সূচনা করেন সঙ্ঘের সৎ সংকল্প ধারণ দিবসের ৷ এই দিনটি সঙ্ঘের প্রতিটি শাখায় পালিত হয় শুভ ত্রিশূল উৎসব এবং সংকল্প মাসের শুভসূচনা হিসেবে৷

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Rash Yatra 2023: রাস উৎসবে নবদ্বীপে হাজার হাজার দর্শনার্থী, হয়ে গেল কুমারী পুজোও!

    Rash Yatra 2023: রাস উৎসবে নবদ্বীপে হাজার হাজার দর্শনার্থী, হয়ে গেল কুমারী পুজোও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে চৈতন্যভূমি নবদ্বীপের রাসযাত্রা উৎসব (Rash Yatra 2023)। এখানকার ষষ্ঠীতলা অন্নপূর্ণা মাতা পুজো কমিটির পক্ষ থেকে প্রত্যেক বছরের মতো এ বছরও করা হল কুমারী পুজো। শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলাকে কেন্দ্র করে পালন করা হলেও মন্দিরনগরী নবদ্বীপে এই রাসযাত্রা উৎসব উপলক্ষ্যে করা হয় একাধিক দেবতার পুজো। তবে শুধু দেব-দেবতাই নয়, দুর্গাপুজোয় বেলুড় মঠ এবং অন্যান্য কিছু জায়গায় যেমন কুমারীকে দেবী সাজিয়ে পুজো করা হয়, ঠিক তেমনি নবদ্বীপের বুড়োশিবতলা রোডের অন্তর্গত ষষ্ঠীতলা অন্নপূর্ণা মাতা পুজো কমিটির পক্ষ থেকেও করা হয় কুমারী পুজো। প্রত্যেক বছরই এই কুমারী পুজো করা হয় বলে পুজো কমিটি সূত্রে জানা যায়।

    ১২৭ তম বর্ষে পদার্পণ (Rash Yatra 2023)

    কমিটির কর্মকর্তারা জানান, এই পুজোটি এ বছর ১২৭ তম বর্ষে পদার্পণ করল। ষষ্ঠীতলা অন্নপূর্ণা বারোয়ারি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এত বছর ধরে পুজো (Rash Yatra 2023) করে আসছে। এখানকার বিশেষ বৈশিষ্ট্যই হল কুমারী পুজো। পুজোর অঞ্জলি দেওয়ার পরে করা হয় এই কুমারী পুজো। এটি চলে আসছে বহু কাল ধরে। সেই কারণে এখনকার প্রজন্মও সেই পরম্পরাকে বজায় রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। কুমারী পুজো এই কারণেই করা হয়, অন্নপূর্ণা যেমন অন্নের মা, ঠিক সেই রকম নারী জাতিকে মা রূপে পুজো করার লক্ষ্যেই এই কুমারী পুজো এবং সব থেকে বড় বৈশিষ্ট্য এটাই বলে মনে করেন কমিটির কর্মকর্তারা।

    হাজার হাজার দর্শনার্থী নবদ্বীপে (Rash Yatra 2023)

    উল্লেখ্য সোমবার থেকে সারা নবদ্বীপ জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রাস উৎসব। দেশ এবং বিদেশ মিলিয়ে হাজার হাজার দর্শনার্থী নবদ্বীপে এসে মিলিত হয়েছেন রাস (Rash Yatra 2023) উৎসবে শামিল হওয়ার জন্য। প্রশাসনের ভূমিকাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সিসিটিভি থেকে শুরু করে শহরের অলিতে গলিতে পুলিশ কর্মীদের কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রয়েছে গোটা নবদ্বীপ শহর। কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য সতর্ক রয়েছেন তাঁরা সর্বত্রই। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় খোলা হয়েছে মেডিক্যাল ক্যাম্প। সুতরাং বলাই বাহুল্য, রাস উৎসবে শামিল হতে আগত দর্শনার্থীরা সুন্দর ও সাবলীলভাবেই উপভোগ করতে পারছেন এই দিনগুলি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Rash Yatra 2023: বেলজিয়াম কাচের ফানুসে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোকিত শান্তিপুরের রাসমণ্ডপ

    Rash Yatra 2023: বেলজিয়াম কাচের ফানুসে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোকিত শান্তিপুরের রাসমণ্ডপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শহরের মঠবাড়ি হোক কিংবা দীনদয়াল ঠাকুরবাড়ি। প্রায় প্রতিটি বিগ্রহ বাড়িতে ব্যবহৃত বেলজিয়াম কাচের ফানুসগুলির একেকটির বয়স প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ বছর।উচ্চতা প্রায় দু’ ফুটের মতো। ঢেউ খেলানো বিভিন্ন আকৃতির রংবাহারি কাচের উপর আঁকা থাকে বিভিন্ন নকশা। বেলজিয়াম কাচের ফানুসের প্রতিটির দাম ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কেন এত দাম? কারণ অবশ্যই তার সূক্ষ্ম কাজের কেরামতির জন্য। সারা বছর বাড়ির অন্দরমহলে সযত্নে রক্ষিত থাকে সেগুলি। রাস উৎসবের (Rash Yatra 2023) সন্ধ্যায় এই বেলজিয়াম ফানুস দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি বাড়ির মূল প্রাঙ্গণ। ভিতরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকে মোমবাতির আলো। বাজারের সাধারণ মোম নয়, ফানুসের ভিতর বসানো হয় প্যারাসিন দিয়ে তৈরি সলতে পাকানো বিশেষ ধরনের মোম।

    উপচে পড়ে ভিড় (Rash Yatra 2023)

    এখনও বংশ-পরম্পরায় এই মোম তৈরি করেন শান্তিপুরের কয়েক ঘর মোমশিল্পী। ভাঙা রাসের দিন নগর পরিক্রমা দেখতে শহরের রাজপথে যে ভিড় উপচে পড়ে, আলো আঁধারির খেলা দেখতে বিগ্রহ বাড়ির রাস উৎসবে সেই ভিড়ের অন্তত তিনগুণ দর্শনার্থী থাকেন। নামে বেলজিয়াম ফানুস হলেও এগুলি এক সময় নিয়ে আসা হয়েছিল ফ্রান্স এবং ভেনিস থেকে। এখনও সেখানে এই ফানুস তৈরি হয়। বিগ্রহবাড়ির সদস্যদের কথায়, এখন আর ইউরোপ থেকে বেলজিয়াম ফানুস নিয়ে আসা হয় না। পরিবর্তে জায়গা নিয়েছে শহর কলকাতায় তৈরি কাচের অন্যান্য ফানুস। দামে কম হলেও আভিজাত্যে ধারেকাছেও যায় না।

    তিনদিন সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন (Rash Yatra 2023)

    রাসের তিনদিন সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় শহরের মঠবাড়ি ও দীনদয়াল বাড়িকে। রাসের সময় অন্তত শতাধিক বেলজিয়াম কাচের ফানুসে আলোয় আলো হয়ে ওঠে এই বাড়ি। পরিবারের সদস্য সুশান্ত মঠ বলেন, দেখতে অতীব সুন্দর। কিন্তু ফানুসের ভিতর মোমবাতি বসানোর ধরন একেবারেই সহজ নয়। অসাবধানতা কিংবা ভিতরের জ্বলন্ত মোমবাতি প্রায় এক ইঞ্চি ছোট হয়ে এলেই তাপের কারণে ভেঙে যেতে পারে সেগুলি। এভাবেই ৩০০ বছরের বহু পুরনো ফানুস ভেঙে গিয়েছে এই বাড়িতে। এক সময় মঠবাড়িতে রাসের প্রাঙ্গণে নাকি অন্তত দেড়শোখানা বেলজিয়াম কাচের ফানুস ঝোলানো হত। আজ শুধুই যত্নের ওপর টিকে রয়েছে এই প্রথা (Rash Yatra 2023)।

    জ্বালানো-নেভানোর কায়দা

    জানা গিয়েছে, ফানুসগুলিতে মোমবাতি জ্বালানোর ধরন যেমন আলাদা, তেমনিই মোমবাতি নেভানোর কায়দা। সরু আকৃতির একটি লাঠির মাথায় ন্যাকড়া বেঁধে স্পিরিটে চোবানো হয়। এরপর তাতে আগুন ধরিয়ে ঝুলন্ত ফানুসের ভিতরে থাকা মোমবাতি জ্বালানো হয়। স্থানীয় ভাষায় একে বলে ‘হুঁশ’। ঠিক একইভাবে লাঠির মাথায় ধাতব পাত্র ঝুলিয়ে কাচের ফানুসের উপরে আলতো চেপে ধরলে নিভে যায় মোমবাতি। এই পদ্ধতিকে স্থানীয়রা বলেন ফোঁস। শান্তিপুরের বাসিন্দারা বলছেন, এই শহরে রাসের (Rash Yatra 2023) মাহাত্ম্যের সঙ্গে যেন ওতপ্রোত সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে অভিজাত আলোকধারা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Rash Yatra 2023: কোচবিহারে মদনমোহনকে ১০৮ ঘটি জল ও দুধ, ঘি, মাখন দিয়ে স্নান করানো হয়

    Rash Yatra 2023: কোচবিহারে মদনমোহনকে ১০৮ ঘটি জল ও দুধ, ঘি, মাখন দিয়ে স্নান করানো হয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলির মধ্যে অন্যতম হল কোচবিহারের মদনমোহন রাসপূর্ণিমার মেলা। যাকে রাসমেলা (Rash Yatra 2023) বলা হয়ে থাকে। এই মেলা আনুমানিক ২০০ বছরের পুরনো। দেশ বিভাগের আগে পুর্ববঙ্গ থেকে প্রচুর মানুষ এই রাসমেলায় অংশগ্রহণ করতেন। এখনও দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর মানুষ এই রাসমেলা দেখতে এসে থাকেন। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো এবং কালীপুজোর পর রাসমেলার অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। শান্তিপুর, নবদ্বীপ রাসের মতো এই রাসও বৈষ্ণবদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মন্দিরে পূজিত হন ছোট মদনমোহন। আজ ২৭ নভেম্বর থেকে এই মেলা শুরু হবে এবং প্রায় ২০ দিন চলবে। তারপর ভাঙা রাসের মেলা বেশ কিছুদিন চলে।

    পূজিত হন ছোট মদনমোহন (Rash Yatra 2023)

    কোচবিহারে রথের মেলার মতো রাসমেলাও খুব ঐতিহ্যবাহী। চারমাসের নিদ্রা ত্যাগ করে রাসমেলার (Rash Yatra 2023) সময় জেগে ওঠেন ছোট মদনমোহন। মদনমোহন ঠাকুরকে ১০৮ ঘটি জল, দুধ, ঘি, মাখন দিয়ে স্নান করানো হয়। জানা যায়, উল্টো রথের পর যখন বড় মদনমোহন মাসির বাড়িতে আসেন, সেই সময় ছোট মদনমোহন নিদ্রায় চলে যান। তারপর চারমাস পরে ঘুম ভাঙে এবং এই রাসের সময় জেগে ওঠেন। এরপর চলে পুজোর প্রস্তুতি। যে কোনও শুভ কাজের আগে মদনমোহনকে পুজো করা হয়। ছোট এবং বড় মদনমোহনকে মন্দিরে নিত্যপুজো প্রত্যকে দিন করা হয়। রাসের সময় ছোট মদনমোহন মন্দিরের বাইরে স্থাপনা করা হয় আর ছোট মদনমোহন মন্দিরে পূজিত হন।

    কীভাবে এই রাসমেলার সূচনা?

    কোচবিহারের মদনমোহন রাসমেলার (Rash Yatra 2023) ইতিহাস আনুমানিক ২০০ বছরের পুরাতন। ১৮৯০ সালে কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণের আমলে মদনমোহন মন্দিরের স্থাপনা করা হয়। এই মেলায় প্রচুর বৈষ্ণব ভক্ত এবং পর্যটকদের আগমন ঘটে থাকে। কোচবিহারের রাজাদের আরাধ্য দেবতা মদনমোহন। তিনি পরম বৈষ্ণব। এই মেলার প্রধান আকর্ষণীয় কেন্দ্র রাসচক্র। এই রাসচক্রে থাকে মানব কল্যাণ এবং সর্বধর্মের সমন্বয়। প্রতি বছর এই রাসচক্র নির্মাণ করে থাকেন এক স্থানীয় মুসলমান পরিবার। এই বছর তৈরি করছেন আলতাফ মিয়া। তবে রাসের চক্র নির্মাণ করতে গেলে বৈষ্ণব মতে নিরামিষ খেয়ে শুদ্ধ হতে হয়। রাসচক্রের মধে নানান দেবদেবী এবং বৌদ্ধ স্থাপত্যের কারুকার্য করা থাকে।

    মেলায় নানা পসরা

    কোচবিহারের রাসমেলায় (Rash Yatra 2023) নানান পসরার দোকান বসে। মাটির জিনিস থেকে শুরু করে বাঁশ, বেত, লোহা, ঘরের আসবাব ইত্যাদি পাওয়া যায়। এছাড়াও কাপড়, কাঠের জিনিস, নানান মিষ্টি, বেলুন, খেলনা ইত্যাদি এখানে পাওয়া যায়। প্রচুর খাবারের দোকান লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও বাংলাদেশেরও অনেক জিনিস মেলায় পাওয়া যায়। যেমন-জামদানি শাড়ি, ইলিশ মাছ, নলেন গুড় ইত্যাদি। কোচবিহারে এই বছর ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভূটান থেকেও প্রচুর ব্যবসায়ীরা যোগদান করবেন। এই মেলায়  কয়েকশো কোটি টাকার বেচাকেনা হয় বলে ব্যবসায়ীরা মতামত দিয়েছেন। সরকার, প্রশাসন এবং পর্যটন দফতর থেকে মেলাকে ঢেলে সাজানো হয় প্রত্যেকবার।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Rash Yatra 2023: শান্তিপুর রাসযাত্রায় রাধাকৃষ্ণের যুগল মিলনের পর হয় বিগ্রহ নিয়ে নগর পরিক্রমা

    Rash Yatra 2023: শান্তিপুর রাসযাত্রায় রাধাকৃষ্ণের যুগল মিলনের পর হয় বিগ্রহ নিয়ে নগর পরিক্রমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আনুমানিক ৫০০ বছর আগে অদ্বৈত আচার্যের হাত ধরে প্রথম শুরু হয়েছিল শান্তিপুরের রাসযাত্রা (Rash Yatra 2023)। এখনও প্রাচীন রীতি মেনে ধুমধাম করেই পালিত হয় ঐতিহ্যবাহী রাধাকৃষ্ণের রাস। এবছরও শান্তিপুরের বিভিন্ন বারোয়ারিতে শুরু হয়েছে মণ্ডপ সজ্জার কাজ। এখানকার রাসযাত্রা দেখার জন্য ভিড় জমান দূর দূরান্তের মানুষও। রেলের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সুবিধার্থে চালানো হয় বিশেষ ট্রেন।

    কী এর ইতিহাস? (Rash Yatra 2023)

    কথিত আছে, অদ্বৈত আচার্য প্রথম কলিযুগে নারায়ণ রূপে রাসযাত্রা শুরু করেন। দ্বাপরে বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর গোপিনীদের সঙ্গে নিয়ে রাসলীলা করতেন। সেখানে কোনও পুরুষের প্রবেশ নিষেধ ছিল। কিন্তু মহাদেবের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, কেন সেখানে পুরুষ প্রবেশ করতে পারবে না? তিনি গোপনে সেই রাসযাত্রা দেখার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই কারণে তিনি রাসলীলা দর্শনের জন্য নিজেকে নারী রূপে সাজিয়ে ঘোমটা টেনে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ সেটি বুঝতে পেরে রাসলীলা সমাপ্ত না করেই ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। শ্রীকৃষ্ণ চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে গোপিনীরা বুঝতে পারেন, কোনও কিছু সমস্যা রয়েছে। মহাদেবের স্ত্রী যোগমায়ার সন্দেহ হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর স্বামী নারী রূপে প্রবেশ করেছেন। এরপরই খোঁজাখুঁজি করতে দেখা যায় একটি কোণে এক নারী ঘোমটা টেনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তখন কাছে গিয়ে যোগমায়া তাঁর স্বামীকে চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি স্বামী মহাদেবকে ভৎসনা করেন। মহাদেব ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেলে তিনি বলে যান, দ্বাপরের এই রাসলীলা আমি কলিযুগে শুরু করব। প্রভু অদ্বৈত আচার্যকে সে সময় মহাদেবের অবতার হিসেবে ধরা হত। সেই কারণে অদ্বৈত আচার্য প্রথম নারায়ণ পুজোর মধ্যে দিয়ে রাসযাত্রা (Rash Yatra 2023) শুরু করেন।

    রাধাকৃষ্ণের যুগল মিলন (Rash Yatra 2023)

    জানা যায়, গোস্বামী বাড়ির যে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ ছিল, হঠাৎ করে সেখান থেকে রাধা উধাও হয়ে যায়। বিভিন্ন খোঁজাখুঁজির পর শান্তিপুরের পার্শ্ববর্তী এলাকা দিগনগরে রাধার বিগ্রহ খুঁজে পাওয়া যায়। এরপরেই গোস্বামী বাড়ি তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাধাকৃষ্ণকে এক জায়গায় বসিয়ে তাঁদের যুগল মিলন করা হবে।। মূলত রাস পূর্ণিমা তিথিতেই তাঁদের এই যুগলের মিলন ঘটানো হয়। এর পরে শুরু হয় শান্তিপুরের রাধাকৃষ্ণের রাসযাত্রা। রাধাকৃষ্ণের যুগল ঘটানোর একদিন পর বৌভাতের মতো করেই যুগল বিগ্রহ নিয়ে করা হয় নগর পরিক্রমা। এখনও পর্যন্ত সেই রীতি মেনেই চলছে শান্তিপুরের রাসযাত্রা (Rash Yatra 2023)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Jagadhatri Puja 2023: একটি গ্রামেই ২৭টি জগদ্ধাত্রী পুজো! ভোররাত পর্যন্ত চলে বিসর্জন

    Jagadhatri Puja 2023: একটি গ্রামেই ২৭টি জগদ্ধাত্রী পুজো! ভোররাত পর্যন্ত চলে বিসর্জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা শুনলেই আমাদের সবার মনে আসে কৃষ্ণনগর এবং চন্দননগরের নাম। কিন্তু জানেন কি, মুর্শিদাবাদ জেলার কাগ্রামে অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব এই জগদ্ধাত্রী পুজো (Jagadhatri Puja 2023)? কাগ্রাম কান্দি মহকুমার সালার থানায় অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাচীন গ্রাম। এই গ্রামে বসবাস করেন ব্রাহ্মণ, শাক্ত এবং বৈষ্ণব পরিবার। শোনা যায়, গ্রাম্য দেবী কংকচণ্ডীর নাম অনুসারে এই গ্রামের নাম কাগ্রাম। এই গ্রামে দুর্গাপুজো এবং কালীপুজো হলেও শ্রেষ্ঠ উৎসব জগদ্ধাত্রী পুজো। ২২ টি পাড়ায় এই পুজো হচ্ছে। গত বছর পুজোর সংখ্যা ছিল ২৬ টি। এবার একটি বেড়ে হয়েছে ২৭ টি। তার মধ্যে নটি পারিবারিক পুজো এবং ১৮টি সর্বজনীন। মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হয় পুজো। পুজোর ভোগে থাকে বৈচিত্র। সপ্তমীতে ভাত, শাক ভাজা, মাছ, তরকারি, চাটনি। অষ্টমীতে খিচুড়ি, পোলাও, ভাজা, তরকারি। আর নবমীতে লুচি ও সুজি। আগে পশু বলি হলেও এখন চালকুমড়ো বলি হয় বলে জানান উদ্যোক্তারা।

    পারিবারিক থেকে সর্বজনীন (Jagadhatri Puja 2023)

    জানা যায়, এখানকার রায়পাড়ার জগদ্ধাত্রী পুজো প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। এটা পারিবারিক পুজো হলেও পরবর্তীতে কিছু ঘটনা ঘটায় তা সর্বজনীন হয়ে ওঠে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে এক কাহিনী শোনা যায়। এখানকার পুজো শুরু করেন শম্ভুনাথ রায়। সেই পরিবারের এক সদস্য বলেন, রায়বাড়িতে আগে দুর্গাপুজো, কালীপুজোর সঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয়। কিন্তু এই পুজো শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর কোনও না কোনও দুর্ঘটনা ঘটত। সেই সময় পুজোর উদ্যোক্তারা নবদ্বীপের পণ্ডিত সমাজের কাছে গিয়ে এই ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, একই বাড়িতে তিনটে শক্তির পুজো করা উচিত নয়। যদি করতে হয়, তাহলে চাঁদা তুলে করতে হবে। সেই থেকে এই পুজো সর্বজনীন (Jagadhatri Puja 2023) হয়ে থাকে।

    ভোররাত পর্যন্ত বিসর্জন (Jagadhatri Puja 2023)

    এই পুজোর সংকল্প হয় মহিলাদের নামে। প্রহর ভাগ করে সকালেই ষষ্ঠী পুজো করা হয় এবং সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী- এই চারটি তিথিতে ভাগ করে পুজো করা হয় বলে জানান উদ্যোক্তারা। আজ বুধবার গ্রামের সমস্ত প্রতিমা ভোররাত পর্যন্ত বিসর্জন চলবে বলে জানা যায়। এখানকার সমস্ত প্রতিমা সাবেকি। পুজোর প্রধান আকর্ষণ হল বিভিন্ন ধরনের বাজনা। পুজোমণ্ডপে ঢাকের বাদ্যি বাজলেও অনেকে ব্যান্ডের দল, সানাই সহ বহু ধরনের বাজনার আয়োজন করে। বেশ কিছু পুজো কমিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে। এর সঙ্গে বাউল গানও থাকে বলে জানান পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা (Jagadhatri Puja 2023)। পুজোর দিন প্রচুর দর্শনার্থী আসেন। সেই জন্য পুজো কমিটি দর্শনার্থীদের বিশ্রাম নেওয়ারও ব্যবস্থা করেন। কিছু পুজো কমিটি আহারেরও ব্যবস্থা রাখেন। এই পুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামে বসেছে বিরাট মেলা। সেখানে নাগরদোলা থেকে আরম্ভ করে নানা ধরনের জিনিস এবং খাবারের দোকান বসেছে। এছাড়া গ্রামে পুলিশ ও একাধিক মেডিকেল ক্যাম্প বসেছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share