Tag: Hindu religious practice

Hindu religious practice

  • Kamika Ekadashi 2022: এবছর কবে কামিকা একাদশী? এদিনের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    Kamika Ekadashi 2022: এবছর কবে কামিকা একাদশী? এদিনের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণ একাদশী কামিকা একাদশী নামে পরিচিত। শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে এই একাদশী ব্রত পালিত হয়। চলতি বছর ২৪ জুলাই, বুধবার এই একাদশী ব্রত পালিত হবে। বিষ্ণুকে সমর্পিত এই একাদশী ব্রত। এদিন বিধি মেনে বিষ্ণুর পুজো করা হয়। মনে করা হয় বিষ্ণুর আশীর্বাদে ব্যক্তি সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয় এবং সমস্ত মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

    কামিকা একাদশীর শুভক্ষণ

    একাদশী তিথি শুরু- ২৩ জুলাই, শনিবার, দুপুর ১টা ৩৯ মিনিটে।

    একাদশী তিথি সমাপ্ত- ২৪ জুলাই, রবিবার, দুপুর ২টে ৫৭ মিনিটে।

    একাদশী তিথি পরনার সময়- ২৪ জুলাই সকাল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ২১ মিনিটের মধ্যে।

    আরও পড়ুন: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    কামিকা একাদশীর মাহাত্ম্য

    হিন্দুশাস্ত্র মতে বলা হয়ে থাকে, মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে এই কামিকা একাদশী তিথির মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে শুনিয়েছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন, এইদিনে ভক্তরা যদি শুদ্ধ মনে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করেন তবে ভক্তের জীবনের সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং দুঃখভোগ থেকে ভক্তের নিস্কৃতি লাভ হবে।

    এই একাদশী করলে সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়। ব্যক্তির পাপমুক্তি ঘটে। কৃষ্ণ ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে এই একাদশীর মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করেছিলেন। কামিকা একাদশীর দিনে পুজো শেষ হলে বিষ্ণুর আরতি করতে ভুলবেন না। মনে করা হয়, পুজোর পর আরতি করলে পুজোয় যে ভুল হয়ে থাকে, তার ক্ষমা লাভ করা যায় এবং পুজোর পূর্ণ ফল পাওয়া যায়।

    বিশ্বাস করা হয়, এই ব্রত পালনের মাধ্যমে ব্যক্তির সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয়। যারা নিজেদের পাপ সম্পর্কে ভয় পায়, তাদের অবশ্যই এই ব্রত করা উচিত। পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একাদশী ব্রতের চেয়ে ভাল আর কোনও দ্বিতীয় উপায় নেই। একাদশীর দিন ভগবান বিষ্ণুর পূজা করা অত্যন্ত লাভদায়ক।

    আরও পড়ুন: প্রদীপের মুখ কোনদিকে থাকা উচিত? নিয়মগুলি না জানলে হতে পারে অমঙ্গল!

    কামিকা একাদশীর তিথির পুজাবিধি

    কামিকা একাদশীর দিন যারা ব্রত করবেন, তাদের খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করা উচিত। প্রথমে ব্রতের সংকল্প গ্রহণ করুন এবং চারিদিকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ও গঙ্গাজল দিয়ে পূজার স্থান শুদ্ধ করে নিন। এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করা হয়। দুধ, পঞ্চামৃত, ফল, হলুদ ফুল, তিল, ইত্যাদি শ্রীহরিকে অর্পণ করুন। এই দিন বেশির ভাগ সময় ভগবান বিষ্ণুর নাম স্মরণ করে ব্যয় করুন। এই দিনে ব্রাহ্মণ ভোজন করান এবং দক্ষিণা দিন। যদি এটি সম্ভব না হয়, তাহলে আপনার সাধ্যমতো অভাবীদের সাহায্য করুন। একাদশীর পূজায় বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ অবশ্যই করুন।

    এরপর ব্রতকারীরা ফলমূল, নিরামিষ ভোজন বা অরন্ধ্রনজাত খাবার খেয়ে ব্রত ভাঙ্গতে পারেন।

  • Hindu Rituals: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    Hindu Rituals: পুজোয় মঙ্গল ঘট কেন স্থাপন করা হয়, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দুশাস্ত্রে পুজোয় মঙ্গল ঘট স্থাপন করা অপরিহার্য। যে কোনও পুজোতেই প্রথমে ঘট স্থাপন করা হয়। বলতে গেলে ঘট স্থাপনের মাধ্যমেই ওই পুজোর আনুষ্ঠানিকতার শুরু হয়। যে পুজোর জন্য ঘট স্থাপন করা হয়, মূলত ঘট স্থাপনের মাধ্যমে ওই দেব বা দেবীকে আহ্বান জানানো হয় পুজো গ্রহণের জন্য।

    কোনও কোনও ক্ষেত্রে দেব এবং দেবীর জন্য দেখা যায় আলাদা আলাদা ঘট। বিশ্বাস, ঘট কোনও দেবী বা দেবতার মূর্তি বা প্রতিমা নয়। ঘট ভগবানের নিরাকার অবস্থার প্রতীক। সনাতন ধর্মের প্রত্যেক দেবদেবী এক, অভিন্ন ও নিরাকার পরম ব্রহ্মেরই এক একটি সাকার রুপের প্রকাশ।

    আরও পড়ুন: প্রদীপের মুখ কোনদিকে থাকা উচিত? নিয়মগুলি না জানলে হতে পারে অমঙ্গল!

    শাস্ত্রমতে, ঘট হল মঙ্গলের চিহ্ন। যে কোনও পুজো, মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান, গৃহপ্রবেশ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ঘট স্থাপন করা হয়। ঘটের মধ্যে আম্রপল্লব, বেলপাতা, ফুল ইত্যাদি দিয়ে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের পুজো হয়। বেলপাতা হল ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের প্রতীক। মানবজীবনকে ঘটের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাতে থাকে জল। জল হল জীবনের প্রতীক। প্রাণহীন শরীর যেমন মূল্যহীন, তেমনই জলবিহীন ঘটও মূল্যহীন।

    এই ঘট স্থাপন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, দেব-দেবীর কোনও মূর্তি ছাড়া শুধু ওই ঘটেই পুজো সম্পন্ন করা যায়, যার নাম হলো ঘট পুজো। ঘট স্থাপন করে যে দেব-দেবীকে আহ্বান জানানো হয়, সেই দেবদেবী ওই ঘটে অবস্থান নেন এবং ওই ঘটে থেকেই পুজো গ্রহণ করেন। 

    ঘটের পেছনে যে আমরা নানা ভঙ্গিমার মূর্তি স্থাপন করি, সেটা মূলত পূজাকে একটি বড় অনুষ্ঠানে রূপ দেবার জন্য, যাতে ভক্তরা ওই মূর্তি দর্শনের জন্য পূজাস্থানে আসে এবং নিজের কল্যাণ লাভ করে। ঘটেই যে কোনও দেব-দেবী অবস্থান করেন। তার বড় প্রমাণ হল- পূজা শেষে পুরোহিত যখন বিসর্জন দেন, তখন তিনি মন্ত্র উচ্চারণ শেষে ঘট নারিয়ে তা সম্পন্ন করেন। বিসর্জন প্রকৃতপক্ষে এটাই। 

    আরও পড়ুন: শঙ্খ তিনবার বাজানো হয়, কেন জানেন? কী বলা হয়েছে শাস্ত্রে?

    জলে মূর্তি ডুবিয়ে দেওয়া বিসর্জন নয়, ওটা হল পুরনোকে ত্যাগ করা। পরের বছরে নতুন কিছু সৃষ্টির জন্য। জলে মূর্তি ডুবিয়ে দেওয়া যে প্রকৃত বিসর্জন নয়, তার আরেকটি প্রমাণ হল যে সব মন্দিরে-পাথর, পিতল বা সোনা রূপার স্থায়ী মূর্তি আছে, সেগুলোর জলে বিসর্জন না দেওয়া।

  • Ambubachi 2022: এবছর অম্বুবাচী শুরু কবে? জেনে নিন এই বিশেষ উৎসবের মাহাত্ম্য

    Ambubachi 2022: এবছর অম্বুবাচী শুরু কবে? জেনে নিন এই বিশেষ উৎসবের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মের একটি বিশেষ উৎসব হল অম্বুবাচী (Ambubachi)। লোককথা অনুসারে, আষাঢ় মাসের মৃগশিরা নক্ষত্রের তৃতীয় চরণ শেষ হলে ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী হন। এই সময়েই পালন করা হয় অম্বুবাচী। এই সময় মাটি কাটা, জমিতে লাঙ্গল চালানো যায় না। এই সময় সমস্ত মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। এই তিন দিন বিশেষভাবে নিত্য পূজা সম্পন্ন হলেও মন্দিরের দরজা কখনও জনসাধারণের জন্য খোলা হয় না।

    চলতি বছর অম্বুবাচীর তারিখ (Ambubachi Mahotsav 2022)

    অম্বুবাচী শুরু- ২২ জুন ২০২২ (৭ আষাঢ় ১৪২৯)

    অম্বুবাচী সমাপ্ত- ২৬ জুন ২০২২ (১১ আষাঢ় ১৪২৯)

    ৫১টি সতীপীঠের অন্যতম সতীপীঠ  আসামের নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির (Kamakhya Devalaya)। যেখান থেকেই এই অম্বুবাচী পালনের সূত্রপাত। অম্বুবাচীর সময় আসামের কামাখ্যা মন্দিরে বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়। সতীপিঠের অন্যতম এই কামাখ্যা মন্দির তন্ত্র সাধনার অন্যতম পীঠ। একান্নটি খন্ডে বিভক্ত হওয়া দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি পড়েছিল এখানে। এর ইতিহাস সুদূরপ্রসারী। 

    অম্বুবাচীর প্রথম দিন থেকে কামাখ্যা দেবীর মন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকে। চতুর্থদিনের স্নান ও পূজা সম্পন্ন হওয়ার পর কামাখ্যা মায়ের দর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই সময় ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর ভক্তের সমাগম হয় কামাখ্যায়। অম্বুবাচীর প্রবৃত্তির তিনদিন পর হয় অম্বুবাচী নিবৃত্তি।

    পঞ্জিকা মতে আষাঢ় মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখ গ্রামবাংলায় এই আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। পিঠে-পায়েস বানানোর রীতি আছে এই সময়। বিধবা মহিলারা এই সময় তিন দিন ধরে ব্রত পালন করে থাকেন।

    আরও পড়ুন: বাড়িতে তুলসী মঞ্চ সঠিক নিয়মে রেখেছেন তো? নয়তো হতে পারে অমঙ্গল!

    শাস্ত্র অনুসারে, অম্বুবাচীর তিন দিন যেকোনও মাঙ্গলিক কার্য বা শুভ কর্ম, যেমন – বিবাহ, অন্নপ্রাশন, গৃহ প্রবেশ, উপনয়ন, ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত। কৃষিকাজ সংক্রান্ত কাজও এই সময় বন্ধ থাকে। জমিতে কোনও রকম খোঁড়াখুড়ি থেকে বিরত থাকা হয়। তবে চতুর্থ দিন থেকে কোনও বাধা থাকে না। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর আবার জমিতে চাষাবাদ শুরু হয়। 

    মনে করা হয়, বৈদিক যুগে কৃষিকাজ ছিল সমাজের অর্থনৈতিক ভিত্তি। তাই ধরিত্রীকে মাতৃরূপে পুজো করা হত। বর্ষায় সিক্তা পৃথিবী নতুন বছরে নতুন ফসল উত্পাদনের উপযোগী হয়ে ওঠে। তাই এই সময় কিছুদিন চাষাবাদ বন্ধ রাখা হয়। আষাঢ় মাসের শুরুতে পৃথিবী বা মাতা বসুমতি যখন বর্ষার নতুন জলে সিক্ত হয়ে ওঠে তখন তাকে ঋতুমতি নারী রূপে গণ্য করা হয়। তাই ধর্মীয় আচার হলেও অম্বুবাচীর সঙ্গে প্রাচীন কৃষি ব্যবস্থা জড়িয়ে রয়েছে। অম্বুবাচী একটি কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠানও। এর অর্থ ধরিত্রীর উর্বরাকাল।

    এই সময় মঠ-মন্দিরের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকে। অম্বুবাচীর এই তিনদিন সন্ন্যাসী এবং বিধবারা বিশেষ ভাবে পালন করেন। এই সময় মহিলারা সন্তান প্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন মাতৃমন্দিরে বিশেষ করে কামাখ্যা মন্দিরে প্রার্থনা করে থাকেন।

  • Hindu Rituals: প্রদীপের মুখ কোনদিকে থাকা উচিত? নিয়মগুলি না জানলে হতে পারে অমঙ্গল!

    Hindu Rituals: প্রদীপের মুখ কোনদিকে থাকা উচিত? নিয়মগুলি না জানলে হতে পারে অমঙ্গল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্ম অনুসারে পুজো অর্চনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল প্রদীপ। পুজোর কাজে প্রদীপ জ্বালাতেই হয়। এছাড়া সন্ধেবেলা তুলসীতলা এবং বাড়ির মূল ফটকের সামনে প্রদীপ জ্বালানোর নির্দেশ দেন বিশেষজ্ঞরা। কালীপুজো ও তার আগে রাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ি সাজানোর প্রথা প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। তবে যে কোনও স্থানে যে কোনও সময় প্রদীপ জ্বালালেই হল না। জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রদীপ জ্বালানোর আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, না হলে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

    প্রদীপ ঠিক ভাবে না জ্বালানো হলে পুজো বা প্রার্থনার কোনও শুভ ফল পাওয়া যায় না। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে সন্ধেবেলায় তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত জরুরি। সন্ধেবেলা তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালালে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করতে পারে না। এছাড়া যিনি তুলসীতলায় প্রতিদিন প্রদীপ জ্বালান, তাঁর জীবনের সমস্ত সমস্যা দূর হয়। তুলসীর কৃপায় সুখ ও সমৃদ্ধিতে তাঁর জীবন ভরে ওঠে।

    অশ্বথ গাছের নীচেও প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। প্রতি অমাবস্যায় অশ্বথ গাছের নীচে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আসুন। এর ফলে আপনার প্রয়াত পূর্ব পুরুষের আশীর্বাদ আপনার ওপরে থাকবে। এছাড়া টানা ৪১ দিন ধরে অশ্বথ গাছের নীচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালালে জীবনের সমস্ত ইচ্ছে পূরণ হবে।

    জ্যোতিষবিদদের পরামর্শ অনুসারে প্রতি বৃহস্পতিবার কলাগাছের নীচে প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। তবে এই প্রদীপ শুধুমাত্র ঘিয়ের হতে হবে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে আরও মনে করা হয় যে যদি কোনও ব্যক্তি কঠিন অসুখে ভোগেন, তাহলে তাঁর পরা কোনও পোশাক থেকে কয়েক টুকরো কেটে নিয়ে ঘিয়ের প্রদীপে তা জ্বালিয়ে দিন। এর ফলে কঠিন অসুখের নিরাময় হয় বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।

    মনে রাখতে হবে যে, প্রদীপের পলতে যেন পূর্ব বা উত্তরমুখী হয়। দক্ষিণ বা পশ্চিমমুখী প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে গৃহস্থের প্রভূত অকল্যাণ হয়, যেমন — অহেতুক মানসিক চঞ্চলতা, আর্থিক ক্ষতি, স্মৃতিভ্রংশতা, গৃহ কলহ, চাকুরী বা ব্যবসায়ে বাধাপ্রাপ্ততা, হঠাৎ কোনো দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

    প্রদীপ দিয়ে প্রদীপ জ্বালালে ব্যক্তি দরিদ্র ও রোগী হয়। দক্ষিণ দিকে মুখ করে প্রদীপ রাখা উচিত নয়। দেবীর বাম দিকে প্রদীপ রাখা উচিত। প্রদীপ দিয়ে ধূপকাঠি জ্বালালেও তা দারিদ্রের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

  • Yogini Ekadashi 2022: যোগিনী একাদশী কবে জেনে নিন, ব্রত পালনের নিয়মবিধি জানেন তো?

    Yogini Ekadashi 2022: যোগিনী একাদশী কবে জেনে নিন, ব্রত পালনের নিয়মবিধি জানেন তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আষাঢ় মাসের কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে বিষ্ণুর উদ্দেশে যোগিনী একাদশী (Yogini Ekadashi) ব্রত রাখা হয়। এবছর, আগামী ২৪ জুন, শুক্রবার এই ব্রত পালিত হবে। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, একাদশী তিথি ২৩ জুন বৃহস্পতিবার রাত ০৯:৪১ মিনিটে শুরু হচ্ছে। একাদশী তিথি শেষ হবে ২৪ জুন শুক্রবার রাত ১১.১২টায়।

    যোগিনী একাদশীর শুভক্ষণ—

    একাদশী তিথি শুরু- ২৩ জুন, রাত ৯টা ৪১ মিনিট।
    একাদশী তিথি সমাপ্ত- ২৪ জুন, রাত ১১টা ১২ মিনিটে।

    আরও পড়ুন: এবছর অম্বুবাচী শুরু কবে? জেনে নিন এই বিশেষ উৎসবের মাহাত্ম্য

    পদ্মপুরাণ অনুযায়ী সমস্ত পাতকের নাশ করে যোগিনী একাদশী। এটি শরীরের সমস্ত আধি-ব্যাধি নষ্ট করে সুন্দর রূপ, গুণ ও যশ প্রদান করে। ৮৮ হাজার ব্রাহ্মণদের ভোজন করালে যে ফল পাওয়া যায়, তার সমান ফল লাভ সম্ভব এই একাদশী ব্রত করলে। এই একাদশী বড়সড় পাপ নাশ করে দেয় এবং মহান পুণ্য দেয়। এই একাদশীর কাহিনী পড়লে ও শুনলে ব্যক্তি সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।

    এদিন বিষ্ণুর আরাধনা করা উচিত। হলুদ বস্ত্র ধারণ করে বিষ্ণুর পুজো করা উচিত। হলুদ ফুল, পঞ্চামৃত, তুলসী এবং চন্দন অর্পণ করা উচিত নারায়ণকে। এর পর বিষ্ণু সহস্ত্রনামাবলী পাঠ করতে পারেন। এ ছাড়াও ১০৮ বার “ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায় নমঃ” মন্ত্র জপ করলে সুফল পতে পারেন।

    এই দিনের পালনীয় কর্তব্য—

    যাঁরা একাদশী ব্রত পালন করেন, এদিন উপবাস করেন তাঁরা। যাঁরা পুরনো পাপ থেকে মুক্তি পেতে চান, তাঁদের জন্য এই একাদশী পালন করা জরুরী, এর ফলে স্বাস্থ্যও ভাল থাকে। এদিন বিষ্ণু মন্ত্র বা বিষ্ণু সহস্রনাম জপ করতে হয়। বলা হয়, যোগিনী একাদশী পালন করলে ৮৮ জন ব্রাহ্মণভোজন করানোর পুণ্যলাভ হয়। হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এই মহাপাপবিনাশকারী ও পুন্যফলপ্রদায়ী যোগিনী একাদশীর কথাপাঠ এবং শ্রবণ করে সে অচিরেই সর্বপাপ থেকে মুক্ত হয়।

    আরও পড়ুন: বাড়িতে তুলসী মঞ্চ সঠিক নিয়মে রেখেছেন তো? নয়তো হতে পারে অমঙ্গল!

    এই তিথির গুরুত্ব—

    ১. বাড়িতেই এই তিথি পালন করে লাভ করুন ১০ বছরের পূণ্য লাভ। এই একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর পাশাপাশি মহাদেবী লক্ষ্মীরও পুজো করতে পারেন।
    ২. এই পুজোয়, দক্ষিণমুখী শঙ্খগুলিতে জাফরান মিশ্রিত দুধ রাখুন এবং সেই দিয়েই আরাধ্য ঈশ্বরের অভিষেক করুন। এই অভিষেক গোপালও খুব পছন্দ করেন।
    ৩. বাড়িতে গোপাল থাকলে এদিনে গোপালকেও মাখন ও মিছরি দিয়ে পুজো দিতে পারেন।
    ৪. বিশেষ এই একাদশী তিথিতে শিবলিঙ্গ তামার পাত্র দিয়ে জল অর্পণ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
    ৫. সেই সঙ্গে শিব লিঙ্গে জল ঢালার সময় ওম নম: শিবায় মন্ত্র জপ করুন। এই মন্ত্র কমপক্ষে ১০৮ বার উচ্চারণ করা প্রয়োজন।
    ৬. পাশাপাশি শিবলিঙ্গে বিল্বপত্র এবং ধুতরা ফুল অর্পণ করুন। প্রদীপ এবং কর্পূর জ্বালিয়ে আরতি করুন।
    ৭. এই একাদশীর তিথিতে বজরঙ্গবলীর সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে হনুমান চালিশা পাঠ করুন।
    ৮. পুজোর পরে দুঃস্থদের অর্থ ও খাদ্যশস্য দান করা উচিত। এই তিথিতে সকাল বেলায় স্নান সেরে তুলসী গাছে জল অর্পণ করুন।
    ৯. পাশাপাশি সূর্যাস্তের সময় তুলসীর গাছে প্রদীপ জ্বালান এবং তুলসী মঞ্চ তিন বা পাঁচ বার প্রদক্ষিণ করুন।

    আরও পড়ুন: বাড়িতে শঙ্খ আছে! সঠিক ব্যবহারের নিয়ম জানেন তো?

    উপবাস ও পুজো বিধি—

    ১) যোগিনী একাদশীর উপবাস একাদশীর ব্রাহ্মমুহূর্ত যেদিন থাকে সেদিন থেকে শুরু হয় অথবা দশমীর রাত থেকে শুরু হয়।
    ২) দশমীর রাতে উপবাসের শুরু ফলে ব্রহ্মচর্য পালন করা উচিত। সম্ভব হলে মাটিতে ঘুমনো উচিত।
    ৩) খুব সকালে উঠে স্নান সারার পর শুদ্ধ মনে ব্রত পালন শুরু করুন।
    ৪) ঘট প্রতিষ্ঠা করুন এবং এতে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করুন।
    ৫) প্রয়োজনে নারায়ণের প্রতিমা অর্পণ করে তাতে ফুল, ধূপ, প্রদীপ ইত্যাদি দিয়ে আরতি করুন।
    ৬) যোগিনী একাদশীর ব্রত কথা দিনের বেলা শুনতে হবে।
    ৭) ঘরে নারায়ণের মূর্তি না থাকায় অনেকে বট গাছেও পুজো করেন।
    ৮) রাতে জাগরণও পালন করা উচিত। এইভাবে এই ব্রত পালনের ফলে আপনার জীবনের বিভ্রান্তি দূর হবে এবং সাত্ত্বিক জীবন যাপন করতে সক্ষম হবেন।

     

  • Hindu Rituals: সন্ধ্যায় বাড়িতে প্রদীপ জ্বালান! এই সনাতন রীতির গুরুত্ব জানেন কি?

    Hindu Rituals: সন্ধ্যায় বাড়িতে প্রদীপ জ্বালান! এই সনাতন রীতির গুরুত্ব জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু সংস্কৃতিতে সন্ধ্যা হলে গৃহস্থবাড়িতে তুলসী তলায় দেওয়া হয় প্রদীপ। অনেকে আবার মনে করেন যথাসময়ে প্রদীপ না জ্বালালে তা গৃহস্থের অমঙ্গলের কারণ হতে পারে। কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে হিন্দু সংস্কৃতিতে প্রদীপ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

    আত্মা ও জ্ঞান

    অগ্নি হলো জ্ঞানের প্রতীক। স্বয়ং ঈশ্বর আমাদের মনের অন্ধকার দূর করার জন্য আলোর পথ দেখান। তেমনই প্রদীপের আলো সমস্ত অন্ধকারকে দূর করে। আবার পরম আত্মা হলেন প্রদীপের জ্যোতির মত। পরমাত্মাকে উপলব্ধি করতে গেলে প্রয়োজন দিব্যদৃষ্টির। তাই হিন্দু সংস্কৃতিতে প্রদীপকে তুলনা করা হয় পরমাত্মা এবং জ্ঞানের আধার রূপে।

    বৈদিক যুগ

    হিন্দু সংস্কৃতির অন্যতম একটি অঙ্গ প্রদীপ জ্বালানো হলেও, বৈদিক যুগে প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা সেভাবে ছিল না। তখন প্রাধান্য দেওয়া হতো হোম ও যজ্ঞকে। তারপর ধীরে ধীরে পুজোর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে থাকে নৈবেদ্য, বস্ত্র, ধুপ এবং প্রদীপ। এছাড়াও পুজোর সময় অন্ধকার দূর করার জন্য চারিদিকে প্রদীপ জ্বালানো হত।

    সন্ধ্যাপ্রদীপ

    অতীতে অনেকে সন্ধ্যা নামলে সদর দরজার সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতেন। উদ্দেশ্য একটাই, কোনও পথিকের প্রয়োজন হলে যেন তিনি আশ্রয় গ্রহণ করতে পারেন। বর্তমানেও গ্রামাঞ্চলের দিকে কিছু কিছু স্থানে সদর দরজায় প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে।

    তুলসী গাছের নীচে প্রদীপ কেন?

    গৃহদেবতার পাশাপাশি সন্ধ্যাবেলায় তুলসী গাছের নীচে প্রদীপ রাখা হয়। কারণ তুলসী ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের দূতী বৃন্দা। পুরাণে বৃন্দা দেবী ছিলেন অত্যন্ত পবিত্র এবং সমস্ত বিশ্বের মধ্যে কারোর সঙ্গেই তিনি তুলনীয় ছিলেন না। তাই তিনি পবিত্র তুলসী নামে সমধিক পরিচিতি লাভ করেন।

    সন্ধ্যায় প্রদীপের গুরুত্ব

    সন্ধ্যা বলতে বোঝায় দুটি সময়ের সন্ধিক্ষণ। দিনের শেষ মুহূর্ত এবং রাত্রির শুরু। যদিও সন্ধ্যা মূলত তিন প্রকার। প্রাতসন্ধ্যা, মধ্যাহ্নসন্ধ্যা এবং স্বায়ংসন্ধ্যা। এই তিন সন্ধ্যাতেই ব্রাহ্মণগণ গায়ত্রীকে আহ্বান করে আহ্নিক করতেন এবং সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ করতেন জপ ও ধ্যান। স্বায়ংসন্ধ্যার সময় প্রত্যেক গৃহস্থবাড়িতে মঙ্গল কামনায় জ্বালানো হয় প্রদীপ।

  • Hindu Rituals: ঘরের সামনে ঝুলছে লেবু লঙ্কা! আছে আশ্চর্য এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

    Hindu Rituals: ঘরের সামনে ঝুলছে লেবু লঙ্কা! আছে আশ্চর্য এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমান সমাজে লেবু-লঙ্কা ঝোলানো কে নিছক কুসংস্কার বলে চালিয়ে দেয় অনেকেই। কোনওদিন আমরা জানতে চাইনা যে, কেন এই রীতি ছিল বহু বছর আগে থেকে? চলুন জেনে নেওয়া যাক—

    ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচলিত বিশ্বাস যে বাড়িতে প্রবেশের পথে লেবু ও লঙ্কা ঝুলিয়ে রাখলে ভাল হয়। দীর্ঘদিন ধরেই সারা দেশ জুড়ে এই প্রথা চলে আসছে। এগুলি আমাদের বাড়িতে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশে ও ইতিবাচক প্রভাবকে ত্বরান্বিত করতে প্রভাবশালী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

    বলা হয় যে, অশুভ শক্তি, অন্যের কুদৃষ্টি দূরে রাখতে লেবু-লঙ্কার তুলনা হয় না। কিন্তু এর নেপথ্যেও যে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তুশাস্ত্রসম্মত কারণ রয়েছে, যে কারণে এটি ঘর ও দোকানের বাইরে টাঙানো হয়, তা হয় তো অনেকেই জানেন না। 

    বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে স্বীকার করতেই হয় যে, লেবু-লঙ্কা অত্যন্ত উপকারী, কেন না লেবু স্বভাবগুণে টক এবং লঙ্কা খুবই তিক্ত, লেবুর টক এবং লঙ্কার তীব্রতার মিশ্রিত সুগন্ধ মাছি বা অন্যান্য কীটপতঙ্গ প্রতিরোধে সহায়তা করে। 

    আরও পড়ুন: শঙ্খ তিনবার বাজানো হয়, কেন জানেন? কী বলা হয়েছে শাস্ত্রে?

    তাই দরজার বাইরে লেবু-লঙ্কা টাঙিয়ে রাখলে তা মশা এবং অনেক পতঙ্গকেই আমাদের ঘরে প্রবেশ করতে না দিয়ে আমাদের অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে বাড়িতে লেবু এবং লঙ্কা ঝুলিয়ে রাখলে তা মানুষকে খারাপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। 

    এও বিশ্বাস করা হয় যে লেবুর টক স্বাদ এবং লঙ্কার তীব্র স্বাদ দুষ্ট মানুষের দৃষ্টির ঘনত্বকে ব্যাহত করে। আসলে, আমরা যখন লঙ্কা, লেবুর মতো জিনিস দেখি, তখন এগুলি আমাদের মনের মধ্যে স্বাদ অনুভব করাতে শুরু করে, যার কারণে দুষ্ট মনোভাবসম্পন্ন মানুষ দীর্ঘক্ষণ এ জাতীয় কোনও বিষয়বস্তুর দিকে তীক্ষ্ণ নজর দিতে পারে না এবং সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

    আরও পড়ুন: সন্ধ্যা দেওয়া হয় কেন? এর ঐতিহ্য, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই বা কী?

    বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে যে বাড়িতে লেবু গাছ থাকে সেখানে নেতিবাচক শক্তি বিরাজ করতে পারে না। এর প্রভাবে আমাদের ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। লেবু এবং লঙ্কার মধ্যে এমন কীটনাশক গুণ রয়েছে, যা আমাদের বাড়ির আশেপাশে ঝুলিয়ে রাখলে পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখে। 

    বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী এমনটা মনে করা হয় যে, লেবু চারপাশে ছড়িয়ে থাকা নেতিবাচক শক্তিকে শোষণ করে এবং পরিবেশে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চারিত করতে সহায়তা করে। আমরা এখনও অনেক কিছু কুসংস্কার বলে মনে করি তা সঠিক ভাবে গণনা করলে হয়ত দেখা যাবে তার মধ্যে অনেক কিছু অজানা তথ্য, গুণ লুকিয়ে আছে।

  • Hindu Rituals: শঙ্খের উৎপত্তি কোথায়? কোন শঙ্খের মূল্য সবচেয়ে বেশি?

    Hindu Rituals: শঙ্খের উৎপত্তি কোথায়? কোন শঙ্খের মূল্য সবচেয়ে বেশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  শঙ্খ প্রাচীন শিল্প। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আবিষ্কারের সময় শঙ্খশিল্পের বিভিন্ন কারুকাজের নিদর্শন পাওয়া যায়।

    শাঁখ বা শঙ্খ শব্দটি এসেছে দুটি সংস্কৃত শব্দ ‘শম’ ও ‘খম’ থেকে। ‘শম’ শব্দের অর্থ শুভ এবং ‘খম’ শব্দের অর্থ জল। এই শব্দের মিলনে সৃষ্টি হয়েছে ‘শঙ্খম’ শব্দটি। হিন্দু ধর্মে যে কোনও পুজোয় শাঁখ বাজানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এছাড়া সব শুভ কাজেও শঙ্খধ্বনি অতি জরুরি। প্রতিদিন তুলসীতলায় সন্ধে দিয়ে শাঁখ বাজানোর রীতি রয়েছে।

    সাধারণত শঙ্খ পাওয়া যায় ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে। আরব সাগরেও কিছু প্রাপ্তি ঘটে। প্রাপ্তির ওপর ভিত্তি করে শঙ্খেরবিভিন্ন নামকরণ করা হয়। বিভিন্ন জাতের শঙ্খ রয়েছে। এদের মধ্যে উন্নতমানের হচ্ছে কন্যাকুমারী, রামেশ্বরী, কেপি, জাজি, পাটি, মতি সালামত, ওমেনি, দোয়ালি, সারভি কি, তিতকুটি, ধলা ইত্যাদি। ‘মতি সালামত’ সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ এর মধ্যে মুক্তা পাওয়া যায়।

    আরও পড়ুন: সন্ধ্যা দেওয়া হয় কেন? এর ঐতিহ্য, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই বা কী?

    শঙ্খের মুখ, লেজ ও পিঠ আছে। সাধারণত বাম দিকে শঙ্খের মুখ থাকে। যদি শঙ্খের মুখ ডান দিকে থাকে তবে তার মূল্য অনেক। এটাকে নারায়ণের হাতের শঙ্খের অনুরূপ মনে করা হয়। এ দক্ষিণমুখী শঙ্খকে সৌভাগ্যের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ শঙ্খ দিয়ে পূজা করলে ঘরে সৌভাগ্য আসে, বিপদ-আপদ দূর হয়।

    হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে শঙ্খের যোগ আজকের নয়। সেই কোন প্রাচীন কাল থেকে পুজো-অর্চনার কাজে লেগে আসছে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি। দুর্গাপূজার অন্যতম অনুষঙ্গ শঙ্খ। পুরোহিতের মন্ত্র, ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খধ্বনি এই শব্দগুলো সনাতন পূজার পরিচিত অনুষঙ্গ। এগুলো ছাড়া পূজাই হয় না।

    শঙ্খ প্রতিটা হিন্দু বাঙালি বাড়িতে থাকে, প্রতিটা বাঙালি বাড়িতে সকাল ও সন্ধ্যায় শঙ্খ বাজানো একটা রীতি।

    আরও পড়ুন: কেন হয় রটন্তী কালীপুজো? কী বা তার ইতিহাস?

  • Hindu Rituals: শঙ্খ তিনবার বাজানো হয়, কেন জানেন? কী বলা হয়েছে শাস্ত্রে?

    Hindu Rituals: শঙ্খ তিনবার বাজানো হয়, কেন জানেন? কী বলা হয়েছে শাস্ত্রে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে শঙ্খের যোগ আজকের নয়। সেই কোন প্রাচীন কাল থেকে পুজো-অর্চনার কাজে লেগে আসছে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি। দুর্গাপুজোর অন্যতম অনুষঙ্গ শঙ্খ। পুরোহিতের মন্ত্র, ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খধ্বনি এই শব্দগুলো সনাতন পুজো মণ্ডপের পরিচিত অনুষঙ্গ। এগুলো ছাড়া পুজোই হয় না। শঙ্খ প্রতিটা হিন্দু বাঙালি বাড়িতে থাকে, প্রতিটা বাঙালি বাড়িতে সকাল ও সন্ধ্যায় শঙ্খ বাজানো একটা রীতি।

    হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে, নিত্যপুজোর পরে যদি নিয়ম করে তিনবার শঙ্খ বাজানো যায়, তাহলে গৃহস্থের অন্দরে অশুভ শক্তির প্রভাব কমতে থাকে এবং শুভ শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে কোনও খারাপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি ভাগ্যও ফিরে যায়। ফলে জীবন সুখ -শান্তিতে এবং আনন্দে ভরে উঠতে সময় লাগে না।

    আরও পড়ুন: শঙ্খের উৎপত্তি কোথায়? কোন শঙ্খের মূল্য সবচেয়ে বেশি?

    শাস্ত্রে বলা হয় বাড়িতে শঙ্খ তিনবার বাজানো উচিত। তিনবারের বেশি শঙ্খ বাজানো উচিত নয়। এর কারণ হিসেবে শাস্ত্রে বলা হয় যে, ৩ বার শঙ্খ বাজালে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ এই তিন দেবতার সঙ্গে সমস্ত দেবদেবীরা আমন্ত্রিত হন। কিন্তু তিনবারের বেশি শঙ্খ বাজালে দেবের সঙ্গে দানব বা অসুরকে নিমন্ত্রণ পাঠানো হয়।

    হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রে বলা হচ্ছে যে, সমুদ্র মন্থনের সময় অসুররা চারবার শঙ্খধ্বনি করে “বলি অসুর”-কে নিমন্ত্রণ পাঠিয়ে জাগ্ৰত করেছিল। তাই, তিনবারের বেশি শঙ্খ বাজালে সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের দেবতা মহাদেব, বিষ্ণু, ব্রহ্মার পাশাপাশি আসুরি শক্তিও নিমন্ত্রণ পেয়ে আপনার গৃহে প্রবেশ করে। দেবতার পাশাপাশি অসুরকে নিমন্ত্রণের ফলস্বরূপ আপনার ও আপনার পরিবারের উপর নেমে আসতে পারে এইসব দেবতাদের অভিশাপ। তাই শাস্ত্রে তিনবার করেই শঙ্খ বাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

    আরও পড়ুন: সন্ধ্যা দেওয়া হয় কেন? এর ঐতিহ্য, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাই বা কী?

     

  • Hindu Rituals: বাড়িতে তুলসী মঞ্চ সঠিক নিয়মে রেখেছেন তো? নয়তো হতে পারে অমঙ্গল!

    Hindu Rituals: বাড়িতে তুলসী মঞ্চ সঠিক নিয়মে রেখেছেন তো? নয়তো হতে পারে অমঙ্গল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু শাস্ত্র মতে তুলসি পাতা ও তুলসি গাছ খুবই পবিত্র। দেব-দেবীর পুজোয় তুলসি পাতা ব্যবহার করা হয়। তুলসি গাছের যেমন অলৌকিক গুণ আছে তেমনই ভেষজ বিদ্যায় তুলসী গাছ ও পাতার গুরুত্ব অপরিসীম।

    হিন্দুধর্মে তুলসী গাছকে দেবী হিসেবে পুজো করা হয়। তুলসীকে লক্ষীর অবতার বলে মনে করা হয়। পুরাণে বলা আছে, যে বাড়িতে তুলসী গাছ রয়েছে এবং নিয়মিত তার পুজো করা হয়, সেই বাড়িতে কখনও হঠাৎ শোকের ছায়া নামে না। সেই সংসার সব সময় সুখ শান্তি থাকে। 

    বাড়িতে তুলসী মঞ্চ রাখার বা তুলসী গাছে জল ঢালার সঠিক কিছু নিয়ম বা মন্ত্র আছে। যদি সেই সঠিক নিয়মে মেনে চলা যায়, তা হলে বাড়িতে কোনও বিপদ সহজে আসতে পারবে না। অন্যথায় হতে পারে অমঙ্গল।

    আরও পড়ুন: বাড়িতে শঙ্খ আছে! সঠিক ব্যবহারের নিয়ম জানেন তো?

    বাড়িতে তুলসী গাছ ও তুলসী মঞ্চ রাখার সঠিক নিয়ম যা মানতেই হবে—

    • বাড়িতে বেশ কিছুটা উঁচু স্থানে তুলসী গাছ রাকা দরকার। চলার পথের থেকে কিছুটা উঁচুতে। কোনও মঞ্চের উপর থাকলে তা আরও ভাল।
    • তুলসী গাছ বাড়িতে রাখলে তবে তার প্রতিদিন পুজো করতে হবে, তাতে জল ঢালতে হবে। প্রতি সন্ধ্যেবেলায় তুলসী মঞ্চে প্রদীপ জ্বালতে হবে।
    • তুলসী মঞ্চ সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। অন্য কোনও গাছ তুলসী মঞ্চে রাখা চলবে না। 
    • তুলসী গাছ সব সময় বিজোড় সংখ্যায় রাখতে হবে। যেমন-তিনটি, পাঁচটি। এই গাছের পাশে কোনও কাঁটা জাতীয় গাছ রাখা যাবে না।
    • সন্ধ্যের পর তুলসী গাছ স্পর্শ করা যাবে না। এমনকি, সন্ধ্যা বাতি দেওয়ার পর আর তুলসী গাছ স্পর্শই করা যাবে না।
    • এছাড়া বিশেষ কিছু তিথিতে তুলসী পাতা তোলা যাবে না। একাদশী, সূর্যগ্রহণ এই দিনগুলিতে কোনও ভাবেই তুলসী পাতা ছেঁড়া চলবে না।
    • তুলসী গাছ সব সময় উত্তর-পূর্ব দিকে রাখতে হবে। একইসঙ্গে তুলসি গাছের নীচে একটি শালগ্রাম শিলা পাথর রাখুন।
    • শালগ্রাম শিলাকে ভগবান বিষ্ণুর স্বরূপ বলে মনে করা হয়। তাই যে বাড়িতে তুলসির সঙ্গে শালগ্রাম শিলা থাকে সেই বাড়িতে কখনও টাকার অভাব হয় না।
    • তুলসী গাছ শুকিয়ে গেলে বা মরে গেলে যেখানে সেখানে না ফেলে কোনও জলাশয়ে ফেলতে হবে।
    • বাস্তুতে কখনোই মরা তুলসী গাছ রাখা চলবে তা। তা খুবই অমঙ্গলজনক বা অশুভ।
    • ভাইরাস বা যে কোনও সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২টি করে তুলসী পাতা খান। 
    • এই কয়েকটি নিয়ম মেনে যদি বাড়িতে তুলসী গাছ রাখতে পারেন, তবে সহজেই সংসারে ফিরে আসবে সুখ ও সমৃদ্ধি।

    আরও পড়ুন: ঘরের সামনে ঝুলছে লেবু লঙ্কা! আছে আশ্চর্য এক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

LinkedIn
Share