Tag: hindu

hindu

  • Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh) দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দুকে (Hindu Man Killed)। সেই ঘটনার রেশ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের হিন্দু নিধন পদ্মাপারের দেশে। নিহত ব্যক্তির নাম বজেন্দ্র বিশ্বাস। বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ মেহরাবাড়ি এলাকার সুলতানা সুইটার্স লিমিটেড কারখানার ভেতরেই সহকর্মীর গুলিতে গুরুতর জখম হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে।

    আনসার বাহিনীর সদস্য খুন (Hindu Man Killed)

    জানা গিয়েছে, বজেন্দ্র বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন আধাসামরিক বাহিনী আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীরই আর এক সদস্য নোমান মিঞা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় কারখানায় মোট প্রায় ২০ জন আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বজেন্দ্র ও নোমান পাশাপাশি বসেছিলেন। হঠাৎই নোমান একটি শটগান বের করে বজেন্দ্রর বাঁ দিকের উরুতে গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ব্রজেন্দ্র। সহকর্মীরা (Bangladesh)দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (Hindu Man Killed)।

    প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্য এপিসি আজহার আলি বলেন, “ঘটনার সময় নোমান মিঞা ও বজেন্দ্র বিশ্বাস আমার ঘরেই বসেছিলেন। হঠাৎ নোমান বজেন্দ্রের দিকে বন্দুক তাক করে বলে, ‘গুলি করব?’ কথাটা শেষ করেই সে গুলি চালায়। তার পরেই গা ঢাকা দেয় নোমান।” প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ঘটনার আগে দু’জনের মধ্যে কোনও ধরনের ঝগড়া বা তর্কাতর্কি হয়নি। ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নোমান মিঞাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত (Bangladesh)। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    অব্যাহত হিন্দু নিধন যজ্ঞ

    প্রসঙ্গত, শুধু ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনও সদস্যকে হত্যার এটি তৃতীয় ঘটনা। একই সঙ্গে এটি ময়মনসিংহ জেলায় রিপোর্ট হওয়া দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড (Hindu Man Killed)। গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙা এলাকায় বছর ঊনত্রিশের অমৃত মণ্ডলকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। তার আগে, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি কারখানায় মিথ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বছর পঁচিশের দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, কারখানার এক মুসলমান সহকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলে। পিটিয়ে খুনের পর উন্মত্ত জনতা তাঁর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

    মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর, বিশেষ করে হিন্দুদের, ওপর হিংসার ঘটনা বেড়েছে বলেই অভিযোগ। এ নিয়ে দেশটির নাগরিক সমাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (Hindu Man Killed)। এদিকে, গত সপ্তাহে ভারত সরকার বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা (Bangladesh) নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি এও জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশটির পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে।

  • Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউএইচইএফ) ২০২৫ অনুষ্ঠিত হল  ১৯–২০ ডিসেম্বর, মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে। এই অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারণ, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে সভ্যতাগত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করে ভারতের সমকালীন অর্থনৈতিক আলোচনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করেছে। এটি কেবল (Hindu Economic Forum) একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন নয়, ধর্ম, শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্বার্থে প্রোথিত, আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যতমুখী এক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই ছিল এই সমাবেশের লক্ষ্য।

    কারা উপস্থিত ছিলেন (Bharats Rise)

    দুদিনের এই ফোরামে কেন্দ্র ও রাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, এমএসএমই নেতৃত্ব, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশ-বিদেশের চিন্তাবিদরা একত্রিত হন। বিভিন্ন অধিবেশনে বারবার যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়েছে তা হল, ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান কেবল পুঁজি ও প্রযুক্তির জোরে নয়, বরং সম্পদ সৃষ্টির একটি সুসংগঠিত, মূল্যবোধভিত্তিক পন্থার মাধ্যমে এগোতে হবে (Bharats Rise)। ফোরামের উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি আস্থাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নবি মুম্বইয়ে ৫৪তলা বিশিষ্ট একটি ‘আফ্রিকা সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করে তিনি। বলেন, “আফ্রিকা আগামী দিনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রের প্রতিটি তলায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দফতর থাকবে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পৃক্ততার জন্য একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করবে।”

    কী বললেন ফড়নবীস

    ফড়নবীস উল্লেখ করেন, আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক ভারতকে এমন একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে কোনও ধরনের জবরদস্তি বা শোষণ ছাড়াই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্টভাবে ভারতের ক্রমবিকাশমান বাণিজ্য দর্শনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ভারত কেবলমাত্র সম্পূর্ণভাবে উইন-উইন ভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুসরণ করছে এবং সচেতনভাবেই এমন কোনও চুক্তি থেকে দূরে থাকছে যা দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অথবা যেসব প্রতিযোগী অর্থনীতির মাথাপিছু আয় ভারতের তুলনায় কম, তাদের সঙ্গে করা হয় (Hindu Economic Forum)।

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’

    ভারত ইতিমধ্যেই ছটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), অস্ট্রেলিয়া এবং ইএফটিএ জোটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও রয়েছে। একই সঙ্গে, একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে একাধিক উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে (Bharats Rise)। গয়াল জানান, ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থনীতিতে উন্নীত হবে। এই অগ্রগতি সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির ফল। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দেন যে ভারতের উন্নয়ন মডেল অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক এবং বিশ্বজনীন দায়বদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

    নিতিন গডকরি

    সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি জাতীয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ভারতের সড়ক নেটওয়ার্ক আমেরিকার মানের সমতুল্য হবে, এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও যাবে। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হল লজিস্টিক্স খরচ কমানো, যাতে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। বিশ্বমানের পরিকাঠামো মূলধনী বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি (Hindu Economic Forum)। এদিকে, মহারাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার জানান, আগামী ছমাসের মধ্যে রাজ্যে ভারতের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে একটি যৌথ এআই শহর (Bharats Rise)।

    সজ্জন জিন্দাল

    জেএসডব্লিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে পরিষেবা খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি হলেও টেকসই বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদন খাতের অংশ বর্তমান ১৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্যাক্স সিলিকার উদ্যোগ থেকে ভারতের বাদ পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জিন্দাল বলেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত রেয়ার আর্থ মজুত রয়েছে এবং দেশীয় অনুসন্ধানে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করা জরুরি। তিনি বলেন, “আত্মনির্ভর ভারত কোনও বিকল্প নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক অনিবার্যতা।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে জেএসডব্লিউ গ্রুপ বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর একটি দেশীয় যাত্রীবাহী গাড়ির ব্র্যান্ড উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতাও গড়ে তোলা হচ্ছে (Hindu Economic Forum)।

    নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণা

    এই সময় নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণাও করা হয়। শ্রী সিমেন্টসের চেয়ারম্যান শ্রী হরি মোহন বাঙ্গুর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার একটি লেটার অব ইনটেন্ট  তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী মধ্যপ্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, বস্ত্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের বছর ঘোষণা করে তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার পাশাপাশি, এই ফোরামে এমএসএমই, নারী উদ্যোক্তা, স্টার্ট-আপ এবং প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জয় খেমানি বলেন, সততা, শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে যাঁরা ব্যবসা গড়ে তুলছেন, সেই উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই ভারতের প্রবৃদ্ধির কাহিনি ক্রমশ রূপ পাচ্ছে (Bharats Rise)।

    ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদকের বক্তব্য

    হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদক টিআর শিব প্রসাদ বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য কেবল শহর বা কর্পোরেট পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। মেন্টরশিপ, পুঁজি প্রাপ্তির সুযোগ এবং বাজার সংক্রান্ত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাম ও স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য (Hindu Economic Forum)। দ্বিতীয় দিনে আয়োজকেরা হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন অব রেস্টুরেন্টস, হোটেলস, আহার অ্যান্ড রিফ্রেশমেন্টস (হারহার) উপস্থাপন করেন। এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প সংগঠন, যার ধারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম। হারহার হিন্দু খাদ্যসংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হোটেল মালিক, রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা, মিষ্টি ও স্ন্যাকস প্রস্তুতকারক, ক্যাটারার, শেফ, খাদ্য উদ্ভাবক, মসলা ও শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী, সরবরাহকারী এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের একত্রিত করে। দেশীয় বাজারের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৪–১৮ শতাংশ হলেও, এতদিন এই খাতে ধর্মভিত্তিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরের অভাব ছিল। হারহার সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে এবং নিজেকে হিন্দু নেতৃত্বাধীন আতিথেয়তা উদ্যোগগুলির সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

    ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন

     ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন ছিল মূল আকর্ষণ। সেখানে ছ’জন স্টার্ট-আপ উদ্ভাবক অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর ও মেন্টরদের সামনে তাঁদের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে চারটি উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একান্ত আলোচনার জন্য নির্বাচিত হয়, যা স্বদেশি উদ্যোগ গড়ে তোলায় এই প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা তুলে ধরে। বিনিয়োগকারীরা জানান, ধারণার বিস্তারযোগ্যতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতি উদ্যোগে ৫০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তাঁরা আগ্রহী (Hindu Economic Forum)।

    প্ল্যাটফর্মের পেছনের ভাবনা

    ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী বিজ্ঞানানন্দ। তিনি আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দার্শনিক ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত এক সন্ন্যাসী। আচার্য চাণক্যের উক্তি—“ধর্মস্য মূলম্ অর্থঃ” থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি জোর দেন যে নৈতিক আচরণ, সামাজিক সামঞ্জস্য এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা অবশ্যই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ভগবদ গীতার “ভবিষ্যতের কথা ভেবে, ভবিষ্যতের জন্য কাজ করো” এই আহ্বানকে সামনে রেখে তিনি হিন্দু সমাজকে তার ঐতিহাসিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির ভূমিকা পুনরুদ্ধার করার স্বপ্ন দেখেন। দুটি লাড্ডুর একটি সহজ উপমার মাধ্যমে—একটি আলগাভাবে বাঁধা ও অন্যটি দৃঢ়ভাবে একত্রে ধরা—তিনি দেখান, কীভাবে ঐক্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

    ফোরাম শেষ হওয়ার আগে ঘোষণা করা হয় যে হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় অধ্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্ণাটকের হুব্বল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের নিবন্ধনও শুরু হয়, যা ১৮–২০ ডিসেম্বর ২০২৬ মুম্বাইয়ে আয়োজিত হবে (Bharats Rise)। সমাবেশের সমাপ্তিতে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়ে যায়: ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান তার সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ধর্মকে উদ্যোগের সঙ্গে এবং জাতীয়তাবাদকে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে একীভূত করে ফোরামটি কেবল একটি অর্থনৈতিক রূপরেখাই নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অভিযানের দিকনির্দেশও তুলে ধরে (Hindu Economic Forum)।

  • Christmas: খ্রিস্টমাসের কোনও অস্তিত্বই ছিল না! হিন্দুদের উৎসবই রং বদলে নয়া ফর্মে

    Christmas: খ্রিস্টমাসের কোনও অস্তিত্বই ছিল না! হিন্দুদের উৎসবই রং বদলে নয়া ফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “খ্রিস্টমাস (Christmas) আসলে খ্রিস্টীয় ছিল না। পৌত্তলিক উৎসবগুলিকে এতটাই সম্পূর্ণভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছিল যে মাত্র দু’প্রজন্মের মধ্যেই মানুষ ভুলে গিয়েছিল, এই উৎসবগুলির আদৌ কোনও অস্তিত্বই ছিল না। আর ৬০১ খ্রিস্টাব্দের একটি চিঠি আমাদের হাতে আছে, যা প্রমাণ করে যে এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। কিন্তু যেটি আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিল, তা হল, আমি উপলব্ধি করলাম, আজও ঠিক এই একই কৌশলটি ব্যবহার করা হচ্ছে পৃথিবীতে টিকে থাকা শেষ প্রাচীন সভ্যতার ওপর। একবার আপনি এটি দেখতে পেলে, আর না দেখে থাকতে পারবেন না।” কথাগুলি বললেন শন বিন্ডা, যাঁর পূর্বপুরুষদের খ্রিস্টান ব্রিটিশরা দাস হিসেবে ক্যারিবীয় দেশগুলিতে নিয়ে গিয়েছিল।

    সনাতন হিন্দু ধর্ম (Christmas)

    সনাতন হিন্দু ধর্ম খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মতো ধর্মগুলির তুলনায় সর্বাধিক প্রাচীন। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র, ভারত-সহ মানুষ কর্মনির্ভর জীবনদর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন, প্রকৃতির পুজারি ছিলেন, মূর্তিপুজোর প্রচলন ছিল, বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিলেন, যাঁদের ‘পৌত্তলিক’ বলা হত। এছাড়াও, ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টানরা ভারতের হিন্দুদের ‘পৌত্তলিক’, ‘মূর্তিপূজক’ ও ‘বহুদেবতাবাদী’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করে এসেছে। শন বলেন, “একটি আইটি প্রকল্পের কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় আমি লক্ষ্য করেছি, সেখানে খ্রিস্টানরা কীভাবে ঘটা করে বড়দিন উদযাপন করে (Hindu Festivals)।”

    যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন

    খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন সারা বিশ্বে খ্রিস্টানরা যে প্রধান উৎসব হিসেবে পালন করেন, সেটিই বড়দিন (Christmas)। তবে বহু ইতিহাসবিদ ও গবেষকের মতে, এই উৎসবটির ধারণা এসেছে প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসব থেকে, কিংবা বলা যায়, সেখান থেকেই তা সরাসরি অনুকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে এটি রোমান সভ্যতার দুটি উৎসব -‘স্যাটারনালিয়া’ (Saturnalia) এবং ‘সল ইনভিক্টাস’ (Sol Invictus)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এই উৎসবগুলি শীতকালীন অয়নান্তকে কেন্দ্র করে পালিত হত, যা সূর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা (Christmas)।

    ‘সল ইনভিক্টাস’ উৎসব

    খ্রিস্টমাসের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ‘সল ইনভিক্টাস’ উৎসবের তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। ‘সল’ অর্থ সূর্য এবং ‘ইনভিক্টাস’ অর্থ অজেয়। উপহার দেওয়া, ভোজের আয়োজন, গাছ সাজানো, এসব বহু রীতিই ছিল প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসবগুলির সঙ্গে যুক্ত। ভারতে হিন্দুরাও তুলসী, বট, অশ্বত্থ ও ডুমুর গাছকে পবিত্র বলে মনে করে সেগুলির পূজা করে। সংক্রান্তি এবং ছট পুজোও সূর্যকে কেন্দ্র করেই পালিত উৎসব। ভারতে সূর্যদেবের উদ্দেশে নিবেদিত বহু মন্দির রয়েছে, যেমন কোনার্ক, মোধেরা, মার্তণ্ড, মুলতান (পাকিস্তান), এছাড়াও মিশর, চিন, জাপান, পেরু প্রভৃতি দেশে সূর্য উপাসনার নিদর্শন দেখা যায়। হিন্দুরা সূর্যকে অর্ঘ্য দান করেন এবং সূর্য নমস্কার করেন (Hindu Festivals)।

    স্বর্ণযুগের স্মৃতি

    দীপাবলি, কার্তিক পূর্ণিমা, কার্তিগাই দীপম প্রভৃতি উৎসবে হিন্দুরা প্রদীপ ও দীপমালার মাধ্যমে নিজেদের ঘর আলোকিত করেন, দীপস্তম্ভেও প্রদীপ জ্বালানো হয়। খ্রিস্টধর্মের আগমনের পূর্বে ইউরোপের মানুষও একই অনুভূতি ও ভাবধারায় এসব উৎসব পালন করত। স্যাটারনালিয়া ছিল প্রাচীন রোমের একটি উৎসব, যা কৃষির দেবতা স্যাটার্নের সম্মানে পালিত হত। প্রথমে এটি ১৭ ডিসেম্বর একদিনের উৎসব ছিল, কিন্তু খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে তা বেড়ে সাত দিনের উৎসবে পরিণত হয় (Christmas)। এই সময় উৎসবের বৈশিষ্ট্য ছিল ঘর সাজানো, গাছ সাজানো, কৃষিশ্রমিকদের উপহার দেওয়া ভোজসভা এবং আনন্দঘন ‘ইও স্যাটারনালিয়া!’ ধ্বনি উচ্চারণ করা। জনসমাগমেও পালিত হত এই উৎসব। এই উৎসব সেই ‘স্বর্ণযুগে’র স্মৃতিকে উদযাপন করত, যখন দাসপ্রথা ছিল না।

    স্যাটার্নালিয়া উৎসবের রীতিনীতির ছাপ

    স্যাটার্নালিয়া উৎসবের রীতিনীতির ছাপ ক্রিসমাসে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাজসজ্জা, উপহার আদান–প্রদান, ভোজসভা ইত্যাদি। এগুলি সরাসরি প্রভাবের ফল।
    চতুর্থ শতকে খ্রিস্টান চার্চ এই উৎসবগুলি গ্রহণ করে, মূলত পৌত্তলিক রোমানদের খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে (Hindu Festivals)। স্যাটার্নালিয়া উৎসবটি সূর্যের দক্ষিণ অয়ন থেকে উত্তর অয়নে যাত্রার সঙ্গে যুক্ত। উত্তর অয়নের সময় দিন বড় হতে থাকে এবং সূর্যালোক বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই খ্রিস্টানরা ক্রিসমাসকে ‘আলোর জন্মে’র সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে যিশুকে বলা হয় ‘বিশ্বের আলো’।

    সোল ইনভিক্টাস উৎসব

    সোল (সূর্য) ইনভিক্টাস (অজেয়) ছিল রোমান সাম্রাজ্যের সূর্যদেবতা। সম্রাট অরেলিয়ান ‘ডিয়েস নাতালিস সোলিস ইনভিক্টি’ (অজেয় সূর্যের জন্মদিন) নামে একটি উৎসব প্রবর্তন করেন, যা ২৫ ডিসেম্বর পালিত হত (Christmas)। এই উৎসব পালিত হত কারণ এই সময়ে সূর্যের শক্তি আবার বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ্য বাড়তে শুরু করে। রথেরদৌড়, ভোজসভা এবং উপহার আদান–প্রদান ছিল এই উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সম্রাট কনস্টানটাইনও সোল ইনভিক্টাসের প্রচার করেছিলেন এবং তাঁর মুদ্রায় সূর্যদেবতার প্রতিকৃতি আঁকা ছিল। অনেকের বিশ্বাস, ২৫ ডিসেম্বর তারিখটি সরাসরি সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকেই নেওয়া হয়েছে। চার্চ ইচ্ছাকৃতভাবে এই তারিখটিকেই যিশুর জন্মদিন হিসেবে নির্ধারণ করে, যাতে পৌত্তলিক উৎসবকে খ্রিস্টীয় উৎসবে রূপান্তর করা যায় (Hindu Festivals)।

    ‘ন্যায়ের সূর্য’

    প্রাচীন খ্রিস্টীয় গ্রন্থে যিশুকে ‘ন্যায়ের সূর্য’ বলা হয়েছে। সেন্ট অগাস্টিন জনগণকে আহ্বান জানান, ২৫ ডিসেম্বর সূর্য নয়, যিশুকেই উদযাপন করতেন মানুষ। এসব তথ্য স্পষ্ট করে যে খ্রিস্টানরা একটি পৌত্তলিক উৎসবকে খ্রিস্টীয় রূপ দিয়েছিল (Christmas)। সমাস ট্রি, ইউল লগ ও মিস্টলটো—এসবই পৌত্তলিক ঐতিহ্য থেকে এসেছে। উত্তর ইউরোপের জার্মানিক জনগোষ্ঠীর ইউল উৎসব শীতকালীন অয়নান্তকে কেন্দ্র করে পালিত হত। এই উৎসবে ইউল লগ পোড়ানো, সাজসজ্জা ও ভোজসভা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেসব অঞ্চলের মানুষ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পর এই প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসবগুলি ধীরে ধীরে ক্রিসমাসের অংশ হয়ে যায়। ইউল লগ পোড়ানো সূর্যের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। আজও অনেক দেশে ক্রিসমাস কেক বা মিষ্টি কাঠের গুঁড়ির আদলে তৈরি করা হয়, যা সেই প্রাচীন ঐতিহ্যেরই স্মারক।

    প্রাচীন পৌত্তলিকত্বর ঐতিহ্য

    ক্রিসমাস ট্রি-র উৎস প্রাচীন পৌত্তলিকত্বর ঐতিহ্যের মধ্যেই নিহিত। প্রাচীন মিশরীয়, রোমান ও সেল্টরা চিরসবুজ গাছ ব্যবহার করত, যা চিরন্তন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হত। রোমানদের স্যাটার্নালিয়া উৎসবে চিরসবুজ ডালপালা সাজানো হতো। ষোড়শ শতকে জার্মানিতে প্রথম ক্রিসমাসট্রি সাজানোর প্রথা শুরু হয়। একটি কিংবদন্তি অনুযায়ী, মার্টিন লুথার নাকি গাছের ওপর আলো জ্বালিয়ে তারকার প্রতীক স্থাপন করেছিলেন (Hindu Festivals)। ঐতিহাসিক প্রমাণ ও প্রভাব অনুযায়ী, ইতিহাসবিদদের মতে চতুর্থ শতকে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সময় বিভিন্ন পৌত্তলিক উৎসবকে তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। উদাহরণ হিসেবে, ‘ক্রোনোগ্রাফ অফ ৩৫৪’ গ্রন্থে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে একসঙ্গে ‘সোল ইনভিক্টাস’ এবং ‘ক্রিসমাসে’ উল্লেখ পাওয়া যায় (Christmas)।

    খ্রিস্টান চার্চ

    অনেক গবেষকের মতে, খ্রিস্টান চার্চ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল পৌত্তলিকদের আকৃষ্ট করার জন্য। যেমন, সূর্যদেবতার সঙ্গে যিশুকে যুক্ত করা। উপহার দেওয়া, ভোজসভার আয়োজন এবং আনন্দোৎসবের ধারণা এসেছে স্যাটার্নালিয়া উৎসব থেকে। আর আলো ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সূর্যসংক্রান্ত উপাদান এসেছে সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকে। ইউরোপে ইউল  ও সেল্টিক ঐতিহ্যপূর্ণ গাছ। এগুলি সবুজ সাজসজ্জার প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে কিছু সমালোচক এই দাবিগুলি নাকচ করেন। তাঁদের মতে, ক্রিসমাসের তারিখ স্বতন্ত্রভাবেই নির্ধারিত হয়েছিল, ২৫ মার্চ থেকে ন’মাস হিসেব করেই ২৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

    ক্রিসমাস পৌত্তলিক উৎসবগুলির অনুকরণে গড়ে উঠেছে

    তা সত্ত্বেও, ঐতিহাসিক সমাপতন ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মিল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, খ্রিস্টধর্ম প্রসারের সুবিধার্থে ক্রিসমাস অনেকাংশেই পৌত্তলিক (বহুদেববাদী হিন্দু) উৎসবগুলির অনুকরণে গড়ে উঠেছে (Christmas)। আজকের দিনে ক্রিসমাস একটি সুন্দর ও আনন্দঘন উৎসব হলেও, এর মূল শেকড় প্রাক্-খ্রিস্টীয় পৌত্তলিক উৎসবগুলির মধ্যেই নিহিত। স্যাটার্নালিয়া, সোল ইনভিক্টাস ও ইউল উৎসব থেকে উপহার দেওয়া, ভোজ, গাছ ব্যবহার এবং আলো দিয়ে সাজানোর মতো নানা উপাদান ক্রিসমাসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানরা নিশ্চয়ই জানতে পেরে আনন্দিত হবেন যে, তাঁদের এই উৎসবের সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে প্রাচীন পৌত্তলিকতা বা সনাতন হিন্দু ধর্মের। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখায় কীভাবে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে (Hindu Festivals)। আজও বিশ্বজুড়ে নানা উৎসব পালিত হয়, যদিও তাদের ঐতিহাসিক পটভূমি বিস্মৃত হওয়া (Christmas) উচিত নয়।

  • Demolition Of Hindu Deitys: এবার মূর্তি ভাঙার অভিযোগ কাম্বোডিয়ায়, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    Demolition Of Hindu Deitys: এবার মূর্তি ভাঙার অভিযোগ কাম্বোডিয়ায়, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার মূর্তি ভাঙার (Demolition Of Hindu Deitys) অভিযোগ কাম্বোডিয়ায় (Cambodia)। সেখানে একটি বিষ্ণুমূর্তি ভাঙা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে একটি ব্যাকহো লোডার দিয়ে বিষ্ণু মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। মূর্তি ভাঙছে সে দেশের সেনাবাহিনী। বুধবার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এই ধরনের অশ্রদ্ধাজনক কাজ বিশ্বজুড়ে অনুসারীদের অনুভূতিতে আঘাত করে এবং এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়।

    কী বললেন রণধীর জয়সওয়াল?

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা সম্প্রতি নির্মিত একটি হিন্দু ধর্মীয় দেবমূর্তি ভাঙচুর সংক্রান্ত খবর দেখেছি। এই মূর্তিটি ছিল বর্তমানে থাই–কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধ প্রভাবিত একটি এলাকায়।” তিনি জানান, হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীরা এই অঞ্চলের মানুষের কাছে পূজিত হন। এগুলি আমাদের সাধারণ সভ্যতাগত ঐতিহ্যের অংশ। প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে ভারত দুই দেশকে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলাপ-আলোচনা ও কূটনীতির পথ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি হলেও, চলতি মাসে ফের শুরু হয়েছে সংঘাত।

    কাম্বোডিয়ার বক্তব্য

    প্রেহ ভিহেয়ারের (কাম্বোডিয়ার রাজধানী) মুখপাত্র লিম চ্যানপানহা জানান, মূর্তিটি কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডের মধ্যেই আন সেস এলাকায় অবস্থিত ছিল (Cambodia)। তিনি বলেন, “২০১৪ সালে নির্মিত বিষ্ণু মূর্তিটি সোমবার ভেঙে ফেলা হয়। এটা থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে অবস্থিত ছিল। বৌদ্ধ ও হিন্দুধর্ম অনুসারীদের দ্বারা পূজিত প্রাচীন মন্দির ও মূর্তিগুলির ধ্বংসের আমরা তীব্র নিন্দা করি (Demolition Of Hindu Deitys)।”

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের সাফ কথা, আঞ্চলিক দাবি সত্ত্বেও, এই ধরনের অসন্মানজনক কাজ বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও অনুগামীদের অনুভূতিতে আঘাত করে। তাই এই ধরনের কাজ করা উচিত নয়। আর কোনও প্রাণহানি, সম্পত্তি এবং ঐতিহ্যের ক্ষতি এড়াতে আমরা আবারও উভয় পক্ষকে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার এবং কূটনীতির ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ করছি। শান্তি পুনরুদ্ধার করার আহ্বানও জানাচ্ছি (Demolition Of Hindu Deitys)।

  • Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের (Hindu Minorities) ওপর নৃশংস অপরাধের ঘটনা। বর্তমানে পদ্মাপারের এই দেশের রাশ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহম্মদ ইউনূস (Bangladesh)। তাঁর জমানায় এই জাতীয় ঘটনা কার্যত নির্বিঘ্নে চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে অমানবিক কার্যকলাপের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনূস প্রশাসন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইনপ্রণেতারা নিরপরাধ এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনির ঘটনার কড়া নিন্দে করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস ইউনূস সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান থেকে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন করে ‘বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভারত ও রাশিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, তা ভোলার নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই কঠোর স্মরণবার্তাগুলি বাংলাদেশের পক্ষে এক সতর্কবার্তাস্বরূপ। দেশটি বর্তমানে রাজনৈতিক হিংসা, গণপিটুনি, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড এবং উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত নানা চরমপন্থী নৃশংসতায় ক্রমাগত ডুবে যাচ্ছে।

    মার্কিন সাংসদের তোপ (Hindu Minorities)

    হিংসার এই ধারা ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা জেনিফার রাজকুমার। নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিনিধি ও নাগরিক অধিকার আইনজীবী জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ঘটে চলা এক ভয়াবহ লাগাতার হিংসার ইঙ্গিত দেয়।” বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর আহ্বান, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু (Hindu Minorities) সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে চলা হিংসার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিচলিত। সাম্প্রতিক সময়ে এর ভয়াবহ উদাহরণ হল বাংলাদেশি হিন্দু দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা। একটি জনতা তাঁকে মারধর করে, আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং তাঁর দেহ একটি হাইওয়েতে ফেলে রেখে গেল!” তিনি বলেন, “এই ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন (Bangladesh) ও লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার এক উদ্বেগজনক ধারার অংশ। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি হিংসা ঘটনা ঘটেছে এবং ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।” জেনিফার বলেন, “বিশ্বের উচিত বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বাংলাদেশের হিন্দুদের যে ভয়, যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা আমাদেরও ভাগ করে নিতে হবে।”

    কানাডার নিশানায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর লাগাতার নৃশসংতার সমালোচনা করেছেন কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ শুভ মজুমদারও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো ‘পগরোম’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে হিন্দুদের  (Hindu Minorities) বিরুদ্ধে সংঘটিত সব লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও জঘন্য অপরাধের জন্য জবাবদিহিও দাবি করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে শুভ লেখেন, “এমন সময়ে আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সহ সব সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে পগরোম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাতে হবে এবং ইউনূস সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পক্ষে আমাদের নিরলসভাবে কথা বলতেই হবে। এতে চরমপন্থাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নামে যারা যুক্তি দেখায়, বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং হিংসা ও ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে না পেরে সমতুল্যতার মোহে আচ্ছন্ন রাষ্ট্রসংঘ যতই অস্বস্তিতে পড়ুক না কেন, তা আমাদের করতেই হবে।”

    বাংলাদেশে শেকড় গেড়েছে ধর্মীয় চরমপন্থা

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে (Bangladesh) যে ধর্মীয় চরমপন্থা শেকড় গেড়েছে, তাকেই কটাক্ষ করেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।” কানাডার সাংসদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যখন একদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার নিন্দা করছে এবং গ্রেফতারির কথা ঘোষণা করছে, তখনও নিপীড়নের এই ধারাবাহিকতা থামেনি। স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে উগ্রপন্থী শক্তিগুলি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” সংখ্যালঘুদের ওপর অপরাধ বন্ধে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া সমালোচনাও(Hindu Minorities) করেন তিনি।

    সরব কানাডার আরও এক সাংসদও

    কানাডার আর এক সাংসদ মেলিসা ল্যান্টসম্যানও বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা ক্রমবর্ধমান হিংসার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গণহামলা, যৌন নির্যাতন, মন্দির ধ্বংস এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি।” তিনি জানান, ২০২৪ সালেই বাংলাদেশে হিন্দুদের লক্ষ্য করে ২০০০-এরও বেশি সহিংস ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মেলিসা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সময় থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।”

    রুশ হাই কমিশনের কড়া বার্তা

    বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত রুশ হাই কমিশনও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তিতে ভারতের ভূমিকা ও গুরুত্বের কথা বাংলাদেশকে কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারত ও রাশিয়ার ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশের(Bangladesh) জন্ম হয়েছে। তাই ঢাকা যেন দেরি না করে নয়াদিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা কমায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারত ও রাশিয়ার ভূমিকার কথা কখনও ভুলে না যায় (Hindu Minorities)।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বাংলাদেশকে সতর্কবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যে নিত্য হিংসার ঘটনা ঘটছে, তার যে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে রুশ রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে জড়িয়ে পড়া উত্তেজনা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান। রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারত, বাংলাদেশ(Bangladesh) ও রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল। সাম্প্রতিক উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। কারণ তা ভারত বা বাংলাদেশ, কোনও দেশেরই স্বার্থে নয় (Hindu Minorities)।”

  • Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি পেশায় ছিলেন ঢাকার (Bangladesh) পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির এক অতি সাধারণ কর্মী। ধর্মে হিন্দু। বছর পঁচিশের এই দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) রোজগারেই চলত দাসেদের সংসার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে খুন করে দীপুকে। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলাদেশিদের একাংশ। বিশ্বজুড়ে বইছে নিন্দের ঝড়।

    তুমুল উত্তেজনা (Dipu Chandra Das)

    বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগটি কারখানার ভেতরে এবং আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যার জেরে ছড়ায় তুমুল উত্তেজনা। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দীপুকে আক্রমণ করে। মারধর করে নির্মমভাবে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ভালুকা মডেল থানার তদন্তকারী আধিকারিক আবদুল মালেক জানান, হত্যার পর জনতা ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের পাশে দীপুর মরদেহ ফেলে দিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর ফলে সড়কের দু’পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবারের ঘটনার নিন্দে করেছে মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নতুন বাংলাদেশের মধ্যে এই ধরনের হিংসার কোনও জায়গা নেই। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

    রবিলাল দাসের বক্তব্য

    দীপুর বাবা রবিলাল দাস জানান, তাঁর পরিবার প্রথম ঘটনাটির কথা জানতে পারেন (Bangladesh) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, “আমরা ফেসবুকে দেখেছিলাম। ফেসবুক থেকেই নানা কথা কানে আসতে শুরু করে। তারপর আরও মানুষ বলতে থাকে। শেষে একজন এসে আমায় বলল, আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে, ভীষণভাবে মারা হয়েছে (Dipu Chandra Das)। তারপর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে আমার কাকা এসে জানাল যে ওরা আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে। তাকে একটি গাছে বেঁধে রেখেছে।” তিনি জানান, এরপর সেই জনতা তাঁর ছেলের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার পোড়া দেহ বাইরে ফেলে রাখা হয়েছিল। পোড়া ধড় আর মাথা একসঙ্গে বেঁধে বাইরে রাখা হয়েছিল। দৃশ্যটা যে কী নৃশংস, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কথাগুলি বলেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন সদ্য সন্তান হারানো বাবা। পরে নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে রবিলাল জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস পাননি। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনওরকম আশ্বাস দেয়নি। কেউ কিছুই বলেওনি (Dipu Chandra Das)।”

    গ্রেফতার ৭

    এদিকে, দীপুকে নৃশংসভাবে মারধর ও খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) গ্রেফতার করেছে (Bangladesh) সাতজনকে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় র‍্যাব-১৪ পরিচালিত একাধিক অভিযানের পর এদের গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল মহম্মদ লিমন সরকার, মহম্মদ তারেক হোসেন, মহম্মদ মানিক মিঞা, এরশাদ আলি, নিজুমউদ্দিন, মহম্মদ আলমগির হোসেন এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন। বিশিষ্ট লেখিকা তথা মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং পুলিশের হেফাজতে থাকার পরেও তাঁকে কার্যত ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

    তসলিমার বক্তব্য

    এক্স হ্যান্ডেলে তসলিমা লেখেন, দীপু চন্দ্র দাস ছিলেন একজন দরিদ্র শ্রমিক। তাঁর এক মুসলিম সহকর্মী তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দীপুকে শাস্তি দিতে চেয়ে প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য (Bangladesh) করার মিথ্যে অভিযোগ তোলে (Dipu Chandra Das)। যার জেরে শুরু হয় উন্মত্ত জনতার হিংসা। এতেই সব শেষ হয়ে যায়।” তাঁর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা দীপুর ওপর হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে তাঁকে মারধর করে। পরে পুলিশ দীপুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং তাঁকে পুলিশি সুরক্ষায় রাখা হয়। দীপুর পরিবারের অবস্থার কথা তুলে ধরে তসলিমা জানান, দীপু ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করতেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইতিহাস ত্যাগকে স্মরণ করে। কিন্তু আজ যে মাটি একদিন ভারতীয়দের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয়েছিল, সেই মাটিই এখন নিরীহ সংখ্যালঘুদের রক্তে কলুষিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।” তিনি বলেন, “আমাদের বীর সৈনিকরা শুধু একটি যুদ্ধ লড়েননি, তাঁরা আজকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত ভূখণ্ডের লাখ লাখ মানুষের পরিচয় ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন। বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত করতে প্রায় ৩,৯০০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ বলি দিয়েছিলেন (Bangladesh)। জখম হয়েছিলেন ১০ হাজারেরও বেশি সৈনিক। অন্যরা যাতে শান্তিতে বাঁচতে পারে, তাই আমরা আমাদের জীবন দিয়েছিলাম (Dipu Chandra Das)।”

  • Pakistan: এবার পাকিস্তানেও পড়ানো হবে সংস্কৃত, জানুন আসল কারণ

    Pakistan: এবার পাকিস্তানেও পড়ানো হবে সংস্কৃত, জানুন আসল কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশভাগের পর থেকে পাকিস্তানে (Pakistan) ব্রাত্যই ছিল সংস্কৃত। তবে ভারতীয় এই ভাষাটির গুরুত্ব বুঝতে পাকিস্তানের সময় লাগল প্রায় ৭৭ বছর। যদিও শেষমেশ সংস্কৃতের (Sanskrit Education) গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে ভারতের এই প্রতিবেশী দেশটি। দেশভাগের পর এই প্রথম লাহোর ইউনিভার্সিটি অফ ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেসে পড়ানো হবে সংস্কৃত। শুধু তাই নয়, শীঘ্রই গীতা ও মহাভারত নিয়ে পড়াশোনার সুযোগও মিলতে পারে সেখানে। সূত্রের খবর, পড়ুয়া এবং শিক্ষাবিদদের সুপারিশেই সংস্কৃত, গীতা এবং মহাভারতকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও চলছে। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে তিন মাসের কোর্স হিসেবেই চালু করা হয়েছিল সংস্কৃত শিক্ষা। ক্লাস হত সপ্তাহান্তে। সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে পৌরাণিক রীতি-নীতি সম্পর্কে পড়ানো হত। এতে পড়ুয়া এবং শিক্ষকরা এতই উৎসাহিত হয়ে পড়েন যে, পুরোদমে ফোর ক্রেডিট কোর্স চালু করছে লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়।

    পরিস্থিতি পালটাতে পারে (Pakistan)

    এই কোর্সের মাধ্যমে পড়ুয়ারা ‘হ্যায় কথা সংগ্রাম কি’ গানের উর্দু সংস্করণও শিখতে পারবেন। এটি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল মহাভারতের থিম সং হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। গুরমানি সেন্টারের ডিরেক্টর আলি উসমান কাসমি বলেন, “১৯৩০ সাল নাগাদ গবেষক জেসিআর উলনার তালপাতায় লেখা বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি সংগ্রহে রেখেছিলেন। ১৯৪৭ সাল থেকে কোনও পাকিস্তানি শিক্ষাবিদ সেই সব বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেননি। শুধু বিদেশি গবেষকরাই সেগুলি নেড়েচেড়ে দেখেন (Sanskrit Education)। এবার পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে।”

    মহাভারত ও গীতার কোর্স

    লাহোর বিশ্ববিদ্যালয় মহাভারত ও গীতার কোর্সও চালু করতে চলেছে। কাসমি বলেন, “আগামী ১০-১৫ বছরে পাকিস্তান থেকে গীতা ও মহাভারত বিষয়ক পণ্ডিত উঠে আসবেন (Pakistan)।” ফোরম্যান ক্রিশ্চিয়ান কলেজের সোশিওলজি বিভাগের অধ্যাপক শাহিদ রাশিদ বলেন, “ধ্রুপদী ভাষাগুলির মধ্যে মানবজাতির জন্য প্রচুর জ্ঞান নিহিত রয়েছে। আমি আরবি ও ফারসি ভাষা দিয়ে শুরু করেছিলাম, পরে সংস্কৃতও শিখেছি।” তিনি বলেন, “গোটা অঞ্চলকে বেঁধে রাখে সংস্কৃত ভাষা। সংস্কৃত ব্যাকরণের জনক পাণিনি এখানকার গ্রামের বাসিন্দা। সিন্ধু সভ্যতার যুগে অধিকাংশ লেখালেখি তিনি করেছেন এখানেই। সংস্কৃত পর্বতের মতো, সাংস্কৃতিক সৌধ। আমাদের নিজেদের অধিকার বুঝতে হবে। সংস্কৃত কোনও বিশেষ ধর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়।”

    নতুন যুগের সূচনা

    তিনি বলেন, “ভেবে দেখুন (Sanskrit Education), ভারতের হিন্দু এবং শিখরা যদিও আরও বেশি করে আরবি শেখেন এবং পাকিস্তানের মুসলমানরা যদি সংস্কৃত শেখেন, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য তা হতে পারে একটি নতুন যুগের সূচনা। ভাষা তখন প্রতিবন্ধক না হয়ে, হয়ে উঠতে পারে সেতু।” তিনি জানান, ২০২৭ সালের বসন্ত আসতে আসতে বছরভরের কোর্স চালু করতে তাঁরা সফল হবেন বলে আশাবাদী। লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই শেখানো হয় সিন্ধি, পাশতু, পঞ্জাবি, বালুচি, আরবি এবং ফারসি। কিন্তু আঞ্চলিক সাহিত্যই হোক বা কবিতা, শিল্পই হোক বা দর্শন, বৈদিক যুগের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে সব (Sanskrit Education) কিছুর। তাই জরুরি হয়ে উঠেছে সংস্কৃত শিক্ষা (Pakistan)।

  • Hindu Freedom Fighters: ইউনূসের বাংলাদেশে নৃশংস খুন সস্ত্রীক হিন্দু মুক্তিযোদ্ধা, প্রৌঢ় দম্পতির গলাকাটা দেহ উদ্ধার

    Hindu Freedom Fighters: ইউনূসের বাংলাদেশে নৃশংস খুন সস্ত্রীক হিন্দু মুক্তিযোদ্ধা, প্রৌঢ় দম্পতির গলাকাটা দেহ উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের কবল থেকে বাংলাদেশকে (Bangladesh) ছিনিয়ে নিতে যাঁরা লড়েছিলেন, তিনিও ছিলেন তাঁদের একজন (Hindu Freedom Fighters)। ১৯৭১ সালের সেই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা তিনিও। এহেন এক দেশপ্রেমিক এবং তাঁর স্ত্রীর গলাকাটা দেহ উদ্ধার হল বাংলাদেশের রংপুরে। নিহতরা হলেন বছর পঁচাত্তরের যোগেশচন্দ্র রায় এবং তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা। এই মুক্তিযোদ্ধার দুই ছেলেই বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত। রবিবার বেশ বেলা পর্যন্তও রায় বাড়ির দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় পড়শিদের। তাঁরা একাধিকবার দরজায় কড়া নেড়েও সাড়া পাননি। পরে বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার হয় জোড়া মৃতদেহ।

    হিন্দুদের ওপর অত্যাচার (Hindu Freedom Fighters)

    বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জমানায় হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হলেও, তা ছিল হাতে গোণা। ব্যাপক আন্দোলনের জেরে গত বছরের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে দেশান্তরিত হন হাসিনা। দেশের ক্ষমতার রাশ যায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের হাতে। কার্যত, তার পর থেকেই বাংলাদেশে শুরু হয় হিন্দু নিধন যজ্ঞ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই যজ্ঞেরই বলি হলেন ওই মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রী। হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতেই টার্গেট করা হয় হিন্দুদের। বিভিন্ন পদে থাকা হিন্দুদের ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। অগাস্টের সেই আন্দোলনের আবহে (Hindu Freedom Fighters) পিটিয়ে হত্যা করা হয় ডজনখানেক পুলিশ কর্মীকে। সূত্রের খবর, গত বছরের সেই তাণ্ডবের এক বছর পরেও বাংলাদেশ চলছে পুলিশ ছাড়াই। বস্তুত, ঠুঁটো করে রাখা হয়েছে পুলিশ কর্মীদের। তার জেরেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে হিন্দু হত্যার লেখচিত্র। সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলির দাবি, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। যদিও ইউনূসের দাবি, হিন্দুদের ওপর হামলার খবর অতিরঞ্জিত।

    দেহ উদ্ধারের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া

    মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীর গলা কাটা দেহ উদ্ধারের ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ (Bangladesh)। এই দলের নির্বাসিত নেতা মহম্মদ আলি আরাফত বলেন, এই ঘটনা মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকির দিকটি স্পষ্ট করে। যুদ্ধাপরাধী সমর্থিত ইসলামপন্থী জামায়াতে ইসলামিকে মদত দিয়ে মহম্মদ ইউনূসের রাজত্বে এই ধরনের হামলা ও হত্যাকাণ্ড আরও ঘন ঘন ঘটছে (Hindu Freedom Fighters)। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা শুধু অপমান ও হামলারই শিকার হচ্ছেন না, বরং ইউনূসের শাসন কালে তাঁদের হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এই শাসন আবার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ইসলামপন্থী গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামির দ্বারা সমর্থিত।”

    গলাকাটা দেহ উদ্ধার

    বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, রংপুর জেলার কুর্শার উত্তর রহিমপুর এলাকায় থাকতেন ওই দম্পতি। রবিবার সকালে অনেক ডেকেও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হন প্রতিবেশীরা। তাঁদেরই কয়েকজন মই বেয়ে উঠে ঢোকেন বাড়ির ভেতরে। তাঁরা দেখেন, সুবর্ণার গলা কাটা দেহ পড়ে রয়েছে রান্নাঘরে, আর ডাইনিং রুমে পড়ে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশের গলাকাটা দেহ। তবে রায় দম্পতিকে কে বা কারা খুন করল তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য নেই বাংলাদেশের কোনও সংবাদ মাধ্যমে। যদিও আওয়ামি লিগের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে ইউনূস সরকার ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ইসলামপন্থী গোষ্ঠী জামায়াতে ইসলামি (Bangladesh)।

    প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক

    বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন যোগেশ। অবসর নেন ২০১৭ সালে। রংপুরের ওই বাড়িতে থাকতেন ওই দম্পতি। তাঁদের দুই ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় এবং রাজেশ খন্না চন্দ্র রায় বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত। একজনের পোস্টিং জয়পুরহাটে, অন্যজন থাকেন ঢাকায়। যে এলাকায় ওই জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে, সেখানে সোমবার সকালে গিয়েছিলেন তারাগঞ্জ থানার কয়েকজন আধিকারিক। গিয়েছে ফরেনসিক দল। শুরু হয়েছে তদন্তও। প্রশাসনের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ময়নাতদন্তের। পুলিশ জানিয়েছে, এই হিন্দু পরিবারকে কেন্দ্র করে আগের কোনও বিরোধের তথ্য তাদের কাছে নেই (Hindu Freedom Fighters)।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য

    মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীর খুনের জেরে বেজায় খেপে গিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অপরাধীরা দ্রুত ধরা না পড়লে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের হুমকিও দিয়েছেন স্থানীয়রা। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে সংখ্যালঘুদের ওপর প্রায় ২ হাজারটি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। সেখানে ৯ জন হিন্দুর মৃত্যু এবং উপাসনালয়ের ওপর ৬৯টি হামলার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল (Bangladesh)। এর দু’মাস আগেই অক্টোবর মাসে ইসলামপন্থীরা বাংলাদেশজুড়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। ইসকনকে উগ্রপন্থী সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিষেধাজ্ঞার দাবিও জানায় (Hindu Freedom Fighters)।

  • Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    Geetapath: লক্ষ লক্ষ কণ্ঠে গীতার বাণীতে মুখরিত ব্রিগেড, অনুষ্ঠানের ধারা বিবরণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখ লাখ কণ্ঠে গীত হচ্ছে গীতা (Geetapath)। ব্রিগেডজুড়ে (Brigade) ভাবগম্ভীর পরিবেশ। ধূপের গন্ধে ম ম করছে গোটা চত্বর। সাধু-সন্তদের পাশাপাশি গীতা পাঠ করছে আমজনতাও। এই জনতার ভিড়ে যেমন ছিলেন হিন্দুরা, তেমনি সংখ্যায় কম হলেও, ছিলেন ভিন ধর্মের কিছু মানুষও। সবার সঙ্গেই গলা মেলালেন তাঁরাও। বস্তুত, রবিবার ভোর থেকেই জনতা ছিল ব্রিগেডমুখী। হাওড়া এবং শিয়ালদহ থেকে দলে দলে লোক যোগ দিতে যান গীতা পাঠের আসরে। ঘোড়ার গাড়িতে করে মঞ্চে এসেছেন বেশ কয়েকজন সাধু-সন্তও। ঘড়ির কাঁটায় যখন ঠিক ন’টা বাজে, তখনই এক সঙ্গে বেজে উঠল কয়েক হাজার শাঁখ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভিড়ও।

    সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ (Geetapath)

    ব্রিগেডে এদিন পাঁচ লাখ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করেছে সনাতন সংস্কৃতি পর্ষদ। এদিন প্রথমে হয়েছে সমবেত কণ্ঠে বেদপাঠ। পরে হয় গীতা আরতি। এই আরতির সময় ঢাক, খোল এবং করতাল নিয়ে ভাবাবিষ্ট হয়ে নৃত্য করতে দেখা যায় জনতার একাংশকে। এই সময় উলুধ্বনিও দিতে থাকেন মহিলারা। অনুষ্ঠানে সভাপতি পদে বরণ করে নেওয়া হয় জ্ঞানানন্দজি মহারাজকে। ব্রিগেডের এই ভিড় সামাল দিতে বিভিন্ন রুটে ২০টি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছিল রেল। শিয়ালদহের পাশাপাশি হাওড়া শাখায়ও চলছে বিশেষ ট্রেন। ট্রেন এসেছে কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর, বনগাঁ, হাসনাবাদ, লক্ষ্মীকান্তপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং ক্যানিং থেকেও। ট্রেনগুলিতে কার্যত তিল ধারণের জায়গা ছিল না। প্রবীণ ব্যক্তিদের অনেকের মতে, দীর্ঘদিন পরে এমন জনসমাবেশ দেখল ব্রিগেড। এদিনের ভিড় ছাপিয়ে গিয়েছে অতীতের সব রেকর্ড।

    আয়োজনের পুরোধা

    এদিন এই আয়োজনের পুরোধা ছিলেন স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ, যাঁকে কার্তিক মহারাজ বলেই চেনেন সবাই। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন নির্গুনানন্দ ব্রহ্মচারী, বন্ধুগৌরব দাস মহারাজেরাও (Geetapath)। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা সাধু-সন্তরা ছিলেন মূল মঞ্চে। বাকি দুটি মঞ্চে ছিলেন এরাজ্যের সাধু-সন্ত এবং বিশিষ্টজনেরা। গীতা পাঠের (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা এলাকা। মাঠজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ২৫টি গেট। সব মিলিয়ে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে তিনটি। মূল মঞ্চের পাশেই রয়েছে আরও দুটি মঞ্চ। মঞ্চের নীচে সোফায় বসার ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যদের। ভিআইপিদের বসার জন্যও ছিল লাল রংয়ের চেয়ার। ব্রিগেডের শেষ প্রান্তের মানুষজনও যাতে অনুষ্ঠান চাক্ষুষ করতে পারেন, সেজন্য টাঙানো হয়েছিল বেশ কয়েকটি জায়ান্ট স্ক্রিন। ভিড়ের কারণে সেই স্ক্রিনেই মূল অনুষ্ঠান দেখতে বাধ্য হয়েছেন বহু মানুষ (Geetapath)।

    গীতা আরতি

    এদিন গীতা পাঠ করতে ব্রিগেডে আসা মানুষকে সাহায্য করতে দুটি শিবির করা হয়েছিল হাওড়া স্টেশনের বাইরে। এই শিবির তৈরি করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের তরফে। ভিড়ে চোটে যাঁরা বুঝতে পারছেন না, ঠিক কোন দিকে যাবেন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, তাঁরা নানা প্রশ্ন নিয়ে চলে গিয়েছেন ক্যাম্পে। তারপর কেউ ফেরি চড়ে, কেউবা বাসে চড়ে রওনা দেন গন্তব্যের দিকে। পায়ে হেঁটেও অনেকেই দেখা গেল ব্রিগেডের দিকে যেতে। এদিনের অনুষ্ঠানে অবশ্য গোটা গীতা পাঠ করা হয়নি। পাঠ করা হয়েছে কেবল প্রথম, নবম এবং অষ্টাদশ অধ্যায়। এর আগে মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করা হয় গীতাকে। পরে হয় আরতি। তারও পরে শুরু হয় গীতা পাঠ। সব শেষে হয়েছে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবচন (Geetapath)। এদিনের এই (Brigade) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেমন মানুষ এসেছেন তামাম ভারত থেকে, তেমনি লোকজন এসেছেন নেপাল এবং বাংলাদেশ থেকেও।

    এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ

    উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। তবে অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানে হাজির হননি মমতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে যাতে টোল না লাগে, তা-ই এদিনের অনুষ্ঠান সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের দাবি, কলকাতা বা কেবল বাংলা নয়, ভারতের ইতিহাসেও এত বড় সমবেত কণ্ঠে গীতা পাঠ এই প্রথমবার (Geetapath)। গত বছরই প্রথমবারের জন্য লক্ষ কণ্ঠে গীতা পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল এই ব্রিগেডেই। তবে সেবার মাঠ ভরেনি বলেই দাবি করেছিল রাজ্যের শাসক দল। এবার লক্ষ কণ্ঠ নয়, গীতা পাঠ করেছেন পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। এই প্রথম ব্রিগেড (Brigade) প্রত্যক্ষ করল ভারতে রয়েছে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের ছবি।

  • Bangladeshi Hindu Rights Activist: রাষ্ট্রসংঘে হিন্দুদের ওপর নৃশংস অত্যাচারের বর্ণনা দিলেন হিন্দু অধিকার কর্মী

    Bangladeshi Hindu Rights Activist: রাষ্ট্রসংঘে হিন্দুদের ওপর নৃশংস অত্যাচারের বর্ণনা দিলেন হিন্দু অধিকার কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাপক আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ (Bangladeshi Hindu Rights Activist) ছাড়তে বাধ্য হন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনা। এই অন্ধকার দিনটি একইসঙ্গে বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার অবসানেরও সংকেত দেয়। কারণ উগ্র ইসলামপন্থীরা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হিন্দুদের হত্যা করে (Islamist Atrocities)। নির্বিচারে চালায় লুটপাট-ধর্ষণ। ভাঙচুর করার পাশাপাশি অপবিত্র করা হয় তাঁদের মন্দির এবং বিগ্রহ।

    হিন্দু অধিকার কর্মীর বক্তব্য (Bangladeshi Hindu Rights Activist)

    সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘ মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত “সংখ্যালঘু বিষয়ক ফোরামের অষ্টাদশ অধিবেশনে” বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলাদেশের হিন্দু অধিকার কর্মী দীপন মিত্র ইসলামপন্থীদের হাতে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও নৃশংসতার ঘটনাগুলির কথা তুলে ধরেন। ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার ব্যুরোর সভাপতি দীপন  বলেন, “১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এবং আদিবাসী সম্প্রদায়গুলি রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছেই।” বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ইসলামপন্থীদের অপরাধগুলির পরিসংখ্যান দিয়ে দীপন বলেন, “গত এক বছরে ১৮৩ জনেরও বেশি হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে। ২১৯ জন হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। গত বছর হাজার হাজার হিন্দু বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণ এবং ভাঙচুর চালানো হয়েছে। করা হয়েছে অগ্নিসংযোগও। হিন্দু ও বৌদ্ধ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৮ জন কিশোরীকে জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে (Bangladeshi Hindu Rights Activist)।”

    ধর্ম অবমাননার অভিযোগ

    তিনি বলেন, “ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দুদের ওপর হামলা, হিন্দু মঠ ও মন্দির দখল – এসব এখন বাংলাদেশে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিন্দু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও তোলাবাজি ব্যাপক হারে বাড়ছে। একদিনও যায় না যখন হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করা হয় না, বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় না (Islamist Atrocities)।” প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অগাস্টেই ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল বাংলাদেশে মুসলিম দাঙ্গাবাজরা হামলা চালিয়েছিল একাধিক হিন্দু মন্দির ও বাড়িতে। সেই সময় ইসলামো-বামপন্থী গণমাধ্যম যেমন আল জাজিরা, নিউ ইয়র্ক টাইমস ইত্যাদি এই হিংসাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধ’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছিল। ওই গণমাধ্যমগুলির দাবি, যে এই সব ঘটনা আওয়ামি লিগকে সমর্থনের জন্য করা প্রতিশোধমূলক আক্রমণ। বাস্তবে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দাঙ্গাবাজরা আওয়ামি লিগের হিন্দু নেতাদের লক্ষ্য করেছিল, তবুও হামলা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রতিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

    হিন্দুদের দোকান ভাঙচুর

    নাটোর, ঢাকার ধামরাই, পটুয়াখালির কালাপাড়া, শরিয়তপুর, ফরিদপুরের মন্দির এবং যশোর, নোয়াখালি, মেহেরপুর, চাঁদপুর ও খুলনায় হিন্দুদের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। দিনাজপুরে হিন্দুদের ৪০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছিল (Bangladeshi Hindu Rights Activist)। এই ঘটনাগুলি ঘটেছিল হাসিনা দেশান্তিরিত হওয়ার পরপরই। মহম্মদ ইউনূস যখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন থেকেই ইসলামপন্থীরা অকল্পনীয়ভাবে হিন্দুদের ওপর ঘৃণা, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। ওই সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপন হিন্দু আধিকারিক ও শিক্ষকদের চাকরি থেকে বহিষ্কারের জন্য চালানো একটি পরিকল্পিত প্রচারের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক উত্তম কুমার দাস, প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার (Islamist Atrocities), কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের প্রেস সেক্রেটারি রঞ্জন সেন, কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর অর্পণা রানি পাল—এদের বরখাস্ত করা হয়েছে।”

    হিন্দুদের চাকরি থেকে বরখাস্ত

    তিনি জানান, গত বছর অন্তত ১৭৬ জন হিন্দু শিক্ষক বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বা চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন (Bangladeshi Hindu Rights Activist)। দীপন বলেন, “শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ পুলিশ থেকেও হিন্দুদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শতাধিক পুলিশ কর্তা বরখাস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে কৃষ্ণপদ রায়ও রয়েছেন। ২০২৪ সালে রাজশাহি সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে চূড়ান্ত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশ করা ২৫২ জন সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) মধ্যে ২৫২ জনকেই ছেঁটে দেওয়া হয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ২৫২ জনের মধ্যে ৯৯ জন হিন্দু, দু’জন বৌদ্ধ এবং একজন খ্রিস্টানও ছিলেন।” হিন্দু অধিকারকর্মী আরও জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক মহম্মদ ইউনূসের অধীনে, আইজিপি বাহারুল আলমকে নির্দেশ দিয়েছে যেন বাংলাদেশ পুলিশে কোনও হিন্দুকে নিয়োগ করা না হয় (Bangladeshi Hindu Rights Activist)।

LinkedIn
Share