Tag: hindu

hindu

  • Bangladesh: বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন, গ্যারেজ কর্মীকে পুড়িয়ে হত্যা

    Bangladesh: বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন, গ্যারেজ কর্মীকে পুড়িয়ে হত্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হিন্দু খুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সে দেশে হওয়ার কথা সাধারণ নির্বাচন। এমন সময় বাংলাদেশে হিন্দু (Hindu Burnt Alive) সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার মধ্যেই আরও একটি ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে চলে এল (Bangladesh)। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে নরসিংদী শহরে ঘুমন্ত অবস্থায় বছর তেইশের এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

    হিন্দু খুন (Bangladesh)

    নিহত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক। তিনি কুমিল্লা জেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। চঞ্চল নরসিংদী পুলিশ লাইনের খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেট এলাকায় একটি গ্যারাজে কাজ করতেন। শুক্রবার রাতে কাজ শেষ করে ক্লান্ত অবস্থায় গ্যারাজের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চঞ্চল। সেই সময় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি গ্যারাজে আগুন লাগিয়ে দেয়। গ্যারাজের ভেতরে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোল, ইঞ্জিন অয়েল ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

    মারা হল জ্যান্ত পুড়িয়ে

    ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা চঞ্চল ভৌমিক দমবন্ধ হয়ে ও দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলাকারীদের গ্যারাজে আগুন দিতে দেখা গেলেও এখনও তাদের পরিচয় জানা যায়নি (Bangladesh)। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের একটি দল দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।” ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার হিন্দু বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ।

    এর আগে ভারত বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেশী এই দেশে চরমপন্থা বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এক সপ্তাহ আগেই গাজিপুর জেলায় এক হিন্দু মিষ্টি বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি এক কর্মচারীকে হামলার হাত থেকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। ওই সপ্তাহেই সিলেট জেলায় এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আগুন (Hindu Burnt Alive) লাগানো হয় এবং ফেনি জেলায় এক হিন্দু অটোরিকশা চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় (Bangladesh)।

     

  • Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিষবৃক্ষে ফলতে শুরু করেছে বিষময় ফল! তার জেরে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল-শাসিত (TMC) রাজ্যের একাধিক জায়গায় ব্যাহত হয়েছে বার্ষিক হিন্দু উৎসব সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ছিল সরস্বতী পুজো। উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি শহরে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বাধা সৃষ্টি হয় সরস্বতী পুজোয়।

    তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মন্দিরে তালা (Saraswati Puja)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলঘরিয়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা চৌক সোসাইটি মন্দিরটিতে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে স্থানীয় হিন্দু মহিলারা সরস্বতীর আরাধনা করতে পারেননি। সমস্যার সমাধান করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট টিএমসি কাউন্সিলরও। পুলিশ জানিয়েছে, টিএমসির বিবদমান দুই গোষ্ঠী কোনও সমঝোতায় না পৌঁছনো পর্যন্ত তারা তালা ভাঙবে না বা হস্তক্ষেপ করবে না। স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “আমরা চাই এই মন্দিরটি সকলের জন্য একটি সাধারণ উপাসনাস্থল হোক। এখানে একটি মাত্র তালা থাকবে, যার দুটি চাবি থাকবে, একটি ওদের কাছে, অন্যটি আমাদের কাছে।” আর এক মহিলা বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সবার।”

    পুজো বন্ধ কলেজ-স্কুলেও

    এদিকে, দক্ষিণ কলকাতার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের এক ছাত্রী জানান, সরস্বতী পুজোর আয়োজন করার জন্য তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, হুমকি দেওয়া টিএমসি নেতার নাম দাউদ আলম মোল্লা। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ওই ছাত্রী বলেন, “দাউদ আলম মোল্লা বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে আমায় হুমকি দিয়েছে যে সে আমার এলএলএম (LLM) নষ্ট করে দেবে।” উল্লেখ্য, যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিএমসি সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী (TMC), কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ শব্বির আলি সরস্বতী পুজোর আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীদের ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দিয়েছিলেন।

    এদিন, কোচবিহার জেলার দিনহাটা কলেজে টিএমসির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে সরস্বতী পূজার মণ্ডপ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে তলব করা হয়। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার ওসি এবং এসডিপিও কলেজ চত্বরে পৌঁছন (Saraswati Puja)। পুজোয় অংশ নিতে আসা হিন্দু ভক্তদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, শাসক দলের দুষ্কৃতীরা কলেজ ক্যাম্পাসকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত শহরের আর একটি ঘটনায়, স্কুল চত্বরে সরস্বতী পুজো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম ছাত্রছাত্রী থাকায় পুজোর অনুমতি নাকচ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিকরা ছাত্রছাত্রীদের দেবী সরস্বতীর পুজো করতে বাধা দিচ্ছেন।

    ফুটপাতে পুজোর আয়োজন!

    শেষ পর্যন্ত হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে, ফুটপাতে পুজোর আয়োজন করতে বাধ্য করা হয় (Saraswati Puja)। প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বলেন, “তারা বলেছে, এই স্কুলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ায় এখানে পুজো করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে থাকা হিন্দুদের অবস্থা আর বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই (TMC)।” তিনি এও বলেন, “পুলিশ দেবী সরস্বতীকেও স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুল দিতে হয়েছে।” এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। টুইট-বার্তায় তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গ কি এখন বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে?” তিনি এও লেখেন, “এই ঘটনা আমাদের একটি বিষয় শেখায়, যদি হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যায়, তাহলে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে।” উপরোক্ত চারটি ঘটনা স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায়ই যেমন দেখা যায়, হিন্দুদের অধিকার সংক্রান্ত বহু খবরই মূলধারার সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষিত থেকে যায়। তাই সরস্বতী পুজো ব্যাহত হওয়ার ঘটনার সংখ্যা (TMC) কয়েক ডজন ছাড়িয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না (Saraswati Puja)।

  • Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    Hindu Businessman: বাংলাদেশে ফের খুন হিন্দু ব্যবসায়ী, পিটিয়ে হত্যা ৫৫ বছরের লিটন ঘোষকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশীর বাগান থেকে চুরি গিয়েছে কলার কাঁদি। তার জেরে নিছক সন্দেহের বশে শনিবার এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে (Hindu Businessman) খুন করা হল। বাংলাদেশের (Bangladesh) গাজিপুর জেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য। মৃতের নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ, বয়স ৫৫। কালীগঞ্জ এলাকায় রয়েছে তাঁর ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’। সেখানে এসেই দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে মারে তাঁকে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ একই পরিবারের তিন সদস্যকে আটক করেছে। তারা হল স্বপন মিঞা, তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং তাদের ছেলে মাসুম মিঞা।

    বচসা থেকে হাতাহাতি (Hindu Businessman)

    পুলিশ জানিয়েছে, মাসুমের একটি কলার বাগান রয়েছে। সেখান থেকে খোয়া যায় এক কাঁদি কলা। কলার খোঁজে করতে বেরিয়ে সে লিটনের হোটেলে পৌঁছে যায়। সেখানেও কলা ঝোলানো ছিল। সেই কলার কাঁদি তারই বাগানের বলে দাবি করতে থাকে মাসুম। এ নিয়েই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে মাসুম ফিরে যায়। সকাল ১১টা নাগাদ মাসুম ফের হোটেলে এসে একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে হোটেলের এক কর্মচারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরে মাসুমের বাবা-মাও ওই হোটেলে এসে হাজির হয়। তার পরেই শুরু হয় হাতাহাতি (Hindu Businessman)।

    অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি

    পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা লিটনকে ঘুষি ও লাথি মারে। মারের চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লিটন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।এই ঘটনাটি এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে অন্তত ১৫ জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে, যা বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে এই ঘটনাটি বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক (Bangladesh) হিংসার ধারাবাহিকতার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি। লিটনের মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অভিযুক্তদের (Hindu Businessman)।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিন্দু-নিধন…

    • ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
    • ১১ জানুয়ারি ২০২৬: এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
    • ১৬ জানুয়ারি ২০২৬: রাজবাড়ী জেলায় পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানির দাম না দিয়ে পালানোর সময় চলন্ত গাড়িকে আটকাতে গেলে চাপা দেওয়া হয় পেট্রোল পাম্পের কর্মী হিন্দু যুবক রিপন সাহাকে।
    • ১৭ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের গাজিপুর জেলার কালীগঞ্জে কলা নিয়ে বিবাদের জেরে হিন্দু ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র যোষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
  • Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্রমেই বাড়ছে হিন্দু খুনের ঘটনা। রবিবার রাতে এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। এ নিয়ে দেশে (Hindu Rickshaw Puller Killed) সাম্প্রতিক হিংসায় বলি হিন্দুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২। উল্লেখ্য, ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে। জানা গিয়েছে, সমীর ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন।

    ফের হিন্দু খুন (Bangladesh)

    পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে একটি উপজেলা হাসপাতালের কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘটনাটি ডাকাতি ও খুনের। তদন্ত চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দিন কয়েক আগেই নরসিংদী জেলার এক হিন্দু মুদি দোকানির দোকানে হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায়ও তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার জেরে আরও দুই হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে জয় মহাপাত্র নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান। অভিযোগ, মোবাইল ফোনের কিস্তির টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে বিবাদের পর তিনি বিষ খান। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, কিস্তি বাবদ ৫০০ টাকা না (Hindu Rickshaw Puller Killed) দেওয়ায় দোকানদার আমিরুল ইসলাম তাঁকে মারধর, অপমান ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন (Bangladesh)।

    আরও হিন্দু খুন

    এদিকে, উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক এলাকায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে মিঠুন সরকার নামে বছর পঁচিশের এক হিন্দু যুবক একটি খালে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এছাড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহে এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এক হিন্দু স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং কুড়িগ্রাম জেলার এক হিন্দু ডেপুটি কমিশনারকে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ভয় দেখানো হয়েছে (Bangladesh)। তবে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনার নিন্দা করলেও, বারবার দাবি করেছে যে এই ঘটনাগুলি সাম্প্রদায়িক নয় এবং মৃত্যুর সংখ্যা ব্যতিক্রমী মাত্র (Hindu Rickshaw Puller Killed)। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে (Bangladesh)।

    ইউনূসের বাংলাদেশে হিন্দু-নিধন যজ্ঞ

    • ১) ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২) ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩ ও ৪) ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ৫) ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ৬) ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ৭) ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ৮) ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৯) ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ১০) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ১১) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
  • Uttar Pradesh: বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান যোগীর, জাত–ধর্মভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    Uttar Pradesh: বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান যোগীর, জাত–ধর্মভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের ধ্বংস করে দেবে, যেমনটা আজ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে।” প্রয়াগরাজে (Uttar Pradesh) জগতগুরু রামানন্দাচার্যের ৭২৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কথাগুলি বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (CM Yogi)। জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ভিত্তিক বিভাজনের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তাও দেন তিনি। বলেন, “এ ধরনের বিভাজন সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়, বাংলাদেশ তার জ্বলন্ত উদাহরণ।”

    ধ্বংস করে দেবে (Uttar Pradesh)

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জাত, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে বিভাজন আমাদের ধ্বংস করে দেবে, যেমনটা আজ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হিংসার শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে যোগী আদিত্যনাথ তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষদেরও কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটছে, তা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করে এবং হিন্দু সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করে, তারা বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব (Uttar Pradesh)।”

    বিরোধীদের কটাক্ষ

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে (CM Yogi)। বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁদের মুখে যেন ফেভিকল লাগানো রয়েছে,  অথবা কেউ সেলোটেপ এঁটে দিয়েছে। কারও মুখ থেকে একটি কথাও বেরোচ্ছে না” (Uttar Pradesh)।এদিন ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন জগদগুরু রামানন্দাচার্যকে। তিনি বলেন, “প্রায় ৭০০ বছর আগে জগদগুরু রামানন্দাচার্য ভগবান সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ঈশ্বরের শরণ নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে। সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি বিভিন্ন জাতের শিষ্যও গ্রহণ করেছিলেন।”

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার

    এদিকে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান- ঐক্য পরিষদের এক বিবৃতি অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে অন্তত ৫১টি হিংসার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে, ১০টি খুন, ১০টি চুরি ও ডাকাতির ঘটনা, ২৩টি বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও জমি দখল, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা, ৪টি ক্ষেত্রে ধর্ম অবমাননা ও ‘র’-এর এজেন্ট তকমা দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার এবং নির্যাতন,  ১টি ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা এবং ৩টি শারীরিক হামলার ঘটনা। হিংসার এই প্রবণতা নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেও অব্যাহত রয়েছে বলে খবর। ৩ জানুয়ারি, শরীয়তপুরে ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে হত্যা করার পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় (Uttar Pradesh)।

    এদিনই ভোরবেলায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালি উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মিলন দাসের পরিবারকে ডাকাতির সময় বন্দি করে রাখা হয়। ওই দিনই কুমিল্লার হোমনা এলাকায় সোনু দাসের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১০ ভরি সোনার গয়না, ১২ ভরি রুপো এবং নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ (CM Yogi)।

  • Bangladesh: মারাই গেলেন হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস, জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউনূসের বাংলাদেশে

    Bangladesh: মারাই গেলেন হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস, জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউনূসের বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ মারাই গেলেন বাংলাদেশের (Bangladesh) হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস। বর্ষবরণের রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী প্রথমে ছুরিকাঘাত করে তাঁকে, পরে গায়ে লাগিয়ে দেয় আগুন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর (Hindu Businessman)। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রায় তিন দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন খোকন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “শরিয়তপুর জেলার দামুদ্যা উপজেলার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহত খোকন দাস আজ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গিয়েছেন।”

    হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর হামলা (Bangladesh) 

    নববর্ষের রাতে শরিয়তপুরের দামুদ্যা উপজেলায় একদল দুর্বৃত্ত খোকনের ওপর হামলা চালিয়েছিল। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায়, পরে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।এই ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে (Bangladesh)। চিকিৎসকদের মতে, খোকনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর মুখমণ্ডল ও শ্বাসনালী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই আঘাতগুলি অত্যন্ত গুরুতর ছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন হলেই দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন (Hindu Businessman)।

    শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন

    শরিয়তপুর জেলার দামুদ্যা উপজেলার কোনেশ্বর ইউনিয়নের কেয়ুরভাঙা বাজার এলাকায় ছিল খোকনের ওষুধের দোকান। বর্ষবরণের রাতেও প্রতিদিনের মতোই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এই সময় একদল দুর্বৃত্ত পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে তাঁকে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে হামলাকারীরা চম্পট দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয় (Bangladesh)। শরিয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত এক ব্যবসায়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের নাম দাস। তিনি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    চিকিৎসকের বক্তব্য

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে শরিয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা সেদিন রাতেই তাকে ঢাকায় রেফার করেন। শরিয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম জানান, খোকন দাসের শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর পেটে গুরুতর ক্ষত ছিল। তাঁর মুখমণ্ডল, মাথার পেছনের অংশ ও হাতের একটা অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। ডামুড্যা থানার পুলিশ সূত্রে খবর, খোকন কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।   ঘটনার সময় তিনি একটি অটোরিকশায় চড়ে ডামুড্যা–শরিয়তপুর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায় (Hindu Businessman)।

    কী বলছেন ওসি

    ডামুড্যা থানার ওসি মহম্মদ রবিউল হক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কেওড়ভাঙা বাজারে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই (Bangladesh)। হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তারা স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি ও সোহাগ। তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    গ্রেফতারির দাবি

    নিহতের এক আত্মীয় বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। যাদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।” নিহতের স্ত্রী সীমা দাস জানান, বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তেই তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “আমার স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বাড়িতে ঢোকার সময় একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। তারা গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার স্বামী অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন হামলা করা হল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না (Hindu Businessman)।”

    প্রসঙ্গত, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে (Bangladesh)। গত মাসেই ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে খুন করা হয়। একই সময়ে রাজবাড়িতে তোলাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল নামে আর এক হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয়। পরপর এই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহল, ধর্মীয় সংগঠন এবং সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে এই হিংসার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে (Hindu Businessman)। দাবি উঠেছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার (Bangladesh)।

  • TMC: মুসলিম-তোষণের জন্য এবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের স্থান বদল! মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    TMC: মুসলিম-তোষণের জন্য এবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের স্থান বদল! মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গা অঙ্গন বিতর্কে বেকায়দায় তৃণমূল (TMC)। এই ইস্যুতে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে ফের একবার তোপ দাগল বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, এই প্রকল্প ঘিরেই সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে (Muslim Vote Bank) নতুন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তৃণমূল সরকার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা সরণির ধারে সরকারি জমিতে বৃহৎ দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে একে মা দুর্গার প্রতি ‘সভ্যতাগত শ্রদ্ধার্ঘ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়। দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন কড়া নাড়ায় প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি নির্বাচনও করা হয়। দ্রুত টেন্ডার ডেকে তড়িঘড়ি করে চুক্তি স্বাক্ষর এবং মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়ে যায়।

    ৪ কোটি টাকা জলে (TMC)

    সরকারি নথি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি (Muslim Vote Bank)। হঠাৎ করে পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ দাবি তোলে যে ওই জমি মুসলিম ওরিজিন এবং সেখানে একটি হিন্দু ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা অনুচিত। এই আপত্তির পরেই অভিযোগ, রাজ্য সরকার আচমকাই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়। সবচেয়ে (TMC) বিতর্কের বিষয় হল, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের তরফে কোনও ব্যাখ্যা, কোনও দায়বদ্ধতা নির্ধারণ, এবং ইতিমধ্যেই ব্যয় হওয়া অর্থ ফেরতের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি (Muslim Vote Bank)। শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের শিলান্যাস অন্য একটি জমিতে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা আদতে শিল্প প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ছিল।

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি

    তৃণমূলের তুষ্টিকরণের এই রাজনীতিকেই নিশানা করেছে বিজেপি। পদ্ম-নেতা অমিত মালব্য এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, “এটি শাসনের নামে আতঙ্কজনিত তোষণ। তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার জন্য করদাতাদের কোটি কোটি টাকা জলে ফেলা হয়েছে।” বিজেপির আরও অভিযোগ, দুর্গা সংক্রান্ত প্রকল্পে বারবার পিছু হটা এক ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে, যেন হিন্দু ধর্ম ও ঐতিহ্য রাজনৈতিক চাপের কাছে  আপসযোগ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে আগে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এবার ছুঁচো গেলার অবস্থা হয় মাননীয়ার ! নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে গিয়ে দুর্গাঙ্গন, মহাকাল মন্দির ইত্যাদি বানানোর ঘোষণা করা হয়ে গেছে, আবার মুসলিম ভোট ব্যাংক কে চটালে সাড়ে সর্বনাশ!” নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও লেখেন, “অজ্ঞতা ভোট ব্যাংকের ওজনের ভারের তুলনায় হিন্দুদের ভাবাবেগ হালকা, তাই তাড়াতাড়ি স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে দুর্গাঙ্গনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে নিউটাউনের বাস স্ট্যান্ডের পাশে। এবারের চিহ্নিত জমি শিল্পের জন্যে নির্ধারিত ছিল!”

    বিজেপির অভিযোগ (TMC)

    বিজেপির দাবি, এই ঘটনা শুধুই আর্থিক অপচয় নয় (TMC), বরং রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও অবমাননাকর। এদিকে, দুর্গাপুজো ও হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) আক্রমণ শানাল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তে একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে সাংবিধানিক সমতা ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার বদলে ভোটের অঙ্কই প্রধান হয়ে উঠেছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত হিন্দু সমাজের ধর্মীয় অধিকারকে খর্ব করছে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজনৈতিক তোষণের জন্য দুর্গাপুজোর সঙ্গে আপোস করেছেন। পোস্টে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর আপত্তি উঠলেই হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করাকে রাজ্য সরকার কার্যত স্বাভাবিক করে তুলেছে।

    হিন্দু সমাজের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ

    বিজেপির আরও অভিযোগ, এই ধরনের অবস্থান নির্বাচিত কিছু গোষ্ঠীকে বিক্ষোভে উৎসাহিত করছে এবং রাজ্যের হিন্দু সমাজের মধ্যে ভয় ও অনাস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, এর ফলে রাজ্যে ধর্মীয় সহাবস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি (TMC)। তবে দুর্গাপুজো ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, ২০১৬ সালে বীরভূম জেলার একটি গ্রামে টানা চার বছর ধরে দুর্গাপুজো করার অনুমতি পায়নি গ্রামের শতাধিক হিন্দু পরিবার। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামের বাসিন্দারা জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ একাধিক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে বারবার আবেদন করলেও, পুজোর অনুমতি মেলেনি।

    উদ্যোক্তাদের দাবি

    উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রায় ২৫টি মুসলিম পরিবারের আপত্তির পরেই প্রশাসন দুর্গাপুজোর অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় পুজোর সংখ্যা আগেই চূড়ান্ত করা হয়ে গিয়েছিল (Muslim Vote Bank)। তাই নতুন করে আর কোনও পুজোর অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই (TMC)। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। কাংলাপাহাড়ি দুর্গা মন্দির কমিটির সদস্য চন্দন সাউয়ের অভিযোগ, পুজো আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ওই এলাকার মহিলা ও শিশুদের দুর্গাপুজোয় আনন্দ করতে তিন থেকে আট কিলোমিটার পর্যন্ত পথ যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি জানা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ করেনি। কারণ তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশকে বিরূপ করতে চায়নি।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনায় বিজেপির প্রতিক্রিয়া, এটি রাজনৈতিক চাপে পরিচালিত প্রশাসনিক পক্ষপাতের স্পষ্ট উদাহরণ (TMC)। বিজেপি এও মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০১৭ সালে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কথাও (Muslim Vote Bank)। সেই সময় মহরমের মিছিলের কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছিল এবং কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দিয়েছিল।

    কী বলেছিল আদালত

    হাইকোর্ট তখন ওই সিদ্ধান্তকে খামখেয়ালি বলে আখ্যা দিয়েছিল। পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছিল, রাজ্য সরকার একটি সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে গিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কড়া ভাষায় দেওয়া সেই নির্দেশে আদালত স্পষ্ট জানায়, সরকার এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। আদালত আরও উল্লেখ করেছিল, পূর্ববর্তী (Muslim Vote Bank) বছরগুলিতে (TMC) এই ধরনের কোনও বিধিনিষেধ ছিল না।

  • Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh) দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দুকে (Hindu Man Killed)। সেই ঘটনার রেশ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের হিন্দু নিধন পদ্মাপারের দেশে। নিহত ব্যক্তির নাম বজেন্দ্র বিশ্বাস। বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ মেহরাবাড়ি এলাকার সুলতানা সুইটার্স লিমিটেড কারখানার ভেতরেই সহকর্মীর গুলিতে গুরুতর জখম হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে।

    আনসার বাহিনীর সদস্য খুন (Hindu Man Killed)

    জানা গিয়েছে, বজেন্দ্র বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন আধাসামরিক বাহিনী আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীরই আর এক সদস্য নোমান মিঞা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় কারখানায় মোট প্রায় ২০ জন আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বজেন্দ্র ও নোমান পাশাপাশি বসেছিলেন। হঠাৎই নোমান একটি শটগান বের করে বজেন্দ্রর বাঁ দিকের উরুতে গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ব্রজেন্দ্র। সহকর্মীরা (Bangladesh)দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (Hindu Man Killed)।

    প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্য এপিসি আজহার আলি বলেন, “ঘটনার সময় নোমান মিঞা ও বজেন্দ্র বিশ্বাস আমার ঘরেই বসেছিলেন। হঠাৎ নোমান বজেন্দ্রের দিকে বন্দুক তাক করে বলে, ‘গুলি করব?’ কথাটা শেষ করেই সে গুলি চালায়। তার পরেই গা ঢাকা দেয় নোমান।” প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ঘটনার আগে দু’জনের মধ্যে কোনও ধরনের ঝগড়া বা তর্কাতর্কি হয়নি। ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নোমান মিঞাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত (Bangladesh)। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    অব্যাহত হিন্দু নিধন যজ্ঞ

    প্রসঙ্গত, শুধু ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনও সদস্যকে হত্যার এটি তৃতীয় ঘটনা। একই সঙ্গে এটি ময়মনসিংহ জেলায় রিপোর্ট হওয়া দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড (Hindu Man Killed)। গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙা এলাকায় বছর ঊনত্রিশের অমৃত মণ্ডলকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। তার আগে, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি কারখানায় মিথ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বছর পঁচিশের দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, কারখানার এক মুসলমান সহকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলে। পিটিয়ে খুনের পর উন্মত্ত জনতা তাঁর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

    মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর, বিশেষ করে হিন্দুদের, ওপর হিংসার ঘটনা বেড়েছে বলেই অভিযোগ। এ নিয়ে দেশটির নাগরিক সমাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (Hindu Man Killed)। এদিকে, গত সপ্তাহে ভারত সরকার বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা (Bangladesh) নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি এও জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশটির পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে।

  • Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউএইচইএফ) ২০২৫ অনুষ্ঠিত হল  ১৯–২০ ডিসেম্বর, মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে। এই অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারণ, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে সভ্যতাগত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করে ভারতের সমকালীন অর্থনৈতিক আলোচনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করেছে। এটি কেবল (Hindu Economic Forum) একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন নয়, ধর্ম, শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্বার্থে প্রোথিত, আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যতমুখী এক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই ছিল এই সমাবেশের লক্ষ্য।

    কারা উপস্থিত ছিলেন (Bharats Rise)

    দুদিনের এই ফোরামে কেন্দ্র ও রাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, এমএসএমই নেতৃত্ব, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশ-বিদেশের চিন্তাবিদরা একত্রিত হন। বিভিন্ন অধিবেশনে বারবার যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়েছে তা হল, ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান কেবল পুঁজি ও প্রযুক্তির জোরে নয়, বরং সম্পদ সৃষ্টির একটি সুসংগঠিত, মূল্যবোধভিত্তিক পন্থার মাধ্যমে এগোতে হবে (Bharats Rise)। ফোরামের উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি আস্থাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নবি মুম্বইয়ে ৫৪তলা বিশিষ্ট একটি ‘আফ্রিকা সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করে তিনি। বলেন, “আফ্রিকা আগামী দিনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রের প্রতিটি তলায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দফতর থাকবে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পৃক্ততার জন্য একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করবে।”

    কী বললেন ফড়নবীস

    ফড়নবীস উল্লেখ করেন, আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক ভারতকে এমন একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে কোনও ধরনের জবরদস্তি বা শোষণ ছাড়াই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্টভাবে ভারতের ক্রমবিকাশমান বাণিজ্য দর্শনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ভারত কেবলমাত্র সম্পূর্ণভাবে উইন-উইন ভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুসরণ করছে এবং সচেতনভাবেই এমন কোনও চুক্তি থেকে দূরে থাকছে যা দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অথবা যেসব প্রতিযোগী অর্থনীতির মাথাপিছু আয় ভারতের তুলনায় কম, তাদের সঙ্গে করা হয় (Hindu Economic Forum)।

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’

    ভারত ইতিমধ্যেই ছটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), অস্ট্রেলিয়া এবং ইএফটিএ জোটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও রয়েছে। একই সঙ্গে, একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে একাধিক উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে (Bharats Rise)। গয়াল জানান, ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থনীতিতে উন্নীত হবে। এই অগ্রগতি সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির ফল। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দেন যে ভারতের উন্নয়ন মডেল অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক এবং বিশ্বজনীন দায়বদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

    নিতিন গডকরি

    সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি জাতীয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ভারতের সড়ক নেটওয়ার্ক আমেরিকার মানের সমতুল্য হবে, এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও যাবে। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হল লজিস্টিক্স খরচ কমানো, যাতে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। বিশ্বমানের পরিকাঠামো মূলধনী বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি (Hindu Economic Forum)। এদিকে, মহারাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার জানান, আগামী ছমাসের মধ্যে রাজ্যে ভারতের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে একটি যৌথ এআই শহর (Bharats Rise)।

    সজ্জন জিন্দাল

    জেএসডব্লিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে পরিষেবা খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি হলেও টেকসই বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদন খাতের অংশ বর্তমান ১৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্যাক্স সিলিকার উদ্যোগ থেকে ভারতের বাদ পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জিন্দাল বলেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত রেয়ার আর্থ মজুত রয়েছে এবং দেশীয় অনুসন্ধানে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করা জরুরি। তিনি বলেন, “আত্মনির্ভর ভারত কোনও বিকল্প নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক অনিবার্যতা।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে জেএসডব্লিউ গ্রুপ বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর একটি দেশীয় যাত্রীবাহী গাড়ির ব্র্যান্ড উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতাও গড়ে তোলা হচ্ছে (Hindu Economic Forum)।

    নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণা

    এই সময় নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণাও করা হয়। শ্রী সিমেন্টসের চেয়ারম্যান শ্রী হরি মোহন বাঙ্গুর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার একটি লেটার অব ইনটেন্ট  তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী মধ্যপ্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, বস্ত্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের বছর ঘোষণা করে তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার পাশাপাশি, এই ফোরামে এমএসএমই, নারী উদ্যোক্তা, স্টার্ট-আপ এবং প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জয় খেমানি বলেন, সততা, শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে যাঁরা ব্যবসা গড়ে তুলছেন, সেই উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই ভারতের প্রবৃদ্ধির কাহিনি ক্রমশ রূপ পাচ্ছে (Bharats Rise)।

    ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদকের বক্তব্য

    হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদক টিআর শিব প্রসাদ বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য কেবল শহর বা কর্পোরেট পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। মেন্টরশিপ, পুঁজি প্রাপ্তির সুযোগ এবং বাজার সংক্রান্ত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাম ও স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য (Hindu Economic Forum)। দ্বিতীয় দিনে আয়োজকেরা হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন অব রেস্টুরেন্টস, হোটেলস, আহার অ্যান্ড রিফ্রেশমেন্টস (হারহার) উপস্থাপন করেন। এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প সংগঠন, যার ধারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম। হারহার হিন্দু খাদ্যসংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হোটেল মালিক, রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা, মিষ্টি ও স্ন্যাকস প্রস্তুতকারক, ক্যাটারার, শেফ, খাদ্য উদ্ভাবক, মসলা ও শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী, সরবরাহকারী এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের একত্রিত করে। দেশীয় বাজারের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৪–১৮ শতাংশ হলেও, এতদিন এই খাতে ধর্মভিত্তিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরের অভাব ছিল। হারহার সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে এবং নিজেকে হিন্দু নেতৃত্বাধীন আতিথেয়তা উদ্যোগগুলির সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

    ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন

     ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন ছিল মূল আকর্ষণ। সেখানে ছ’জন স্টার্ট-আপ উদ্ভাবক অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর ও মেন্টরদের সামনে তাঁদের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে চারটি উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একান্ত আলোচনার জন্য নির্বাচিত হয়, যা স্বদেশি উদ্যোগ গড়ে তোলায় এই প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা তুলে ধরে। বিনিয়োগকারীরা জানান, ধারণার বিস্তারযোগ্যতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতি উদ্যোগে ৫০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তাঁরা আগ্রহী (Hindu Economic Forum)।

    প্ল্যাটফর্মের পেছনের ভাবনা

    ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী বিজ্ঞানানন্দ। তিনি আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দার্শনিক ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত এক সন্ন্যাসী। আচার্য চাণক্যের উক্তি—“ধর্মস্য মূলম্ অর্থঃ” থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি জোর দেন যে নৈতিক আচরণ, সামাজিক সামঞ্জস্য এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা অবশ্যই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ভগবদ গীতার “ভবিষ্যতের কথা ভেবে, ভবিষ্যতের জন্য কাজ করো” এই আহ্বানকে সামনে রেখে তিনি হিন্দু সমাজকে তার ঐতিহাসিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির ভূমিকা পুনরুদ্ধার করার স্বপ্ন দেখেন। দুটি লাড্ডুর একটি সহজ উপমার মাধ্যমে—একটি আলগাভাবে বাঁধা ও অন্যটি দৃঢ়ভাবে একত্রে ধরা—তিনি দেখান, কীভাবে ঐক্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

    ফোরাম শেষ হওয়ার আগে ঘোষণা করা হয় যে হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় অধ্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্ণাটকের হুব্বল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের নিবন্ধনও শুরু হয়, যা ১৮–২০ ডিসেম্বর ২০২৬ মুম্বাইয়ে আয়োজিত হবে (Bharats Rise)। সমাবেশের সমাপ্তিতে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়ে যায়: ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান তার সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ধর্মকে উদ্যোগের সঙ্গে এবং জাতীয়তাবাদকে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে একীভূত করে ফোরামটি কেবল একটি অর্থনৈতিক রূপরেখাই নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অভিযানের দিকনির্দেশও তুলে ধরে (Hindu Economic Forum)।

  • Christmas: খ্রিস্টমাসের কোনও অস্তিত্বই ছিল না! হিন্দুদের উৎসবই রং বদলে নয়া ফর্মে

    Christmas: খ্রিস্টমাসের কোনও অস্তিত্বই ছিল না! হিন্দুদের উৎসবই রং বদলে নয়া ফর্মে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “খ্রিস্টমাস (Christmas) আসলে খ্রিস্টীয় ছিল না। পৌত্তলিক উৎসবগুলিকে এতটাই সম্পূর্ণভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছিল যে মাত্র দু’প্রজন্মের মধ্যেই মানুষ ভুলে গিয়েছিল, এই উৎসবগুলির আদৌ কোনও অস্তিত্বই ছিল না। আর ৬০১ খ্রিস্টাব্দের একটি চিঠি আমাদের হাতে আছে, যা প্রমাণ করে যে এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। কিন্তু যেটি আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিল, তা হল, আমি উপলব্ধি করলাম, আজও ঠিক এই একই কৌশলটি ব্যবহার করা হচ্ছে পৃথিবীতে টিকে থাকা শেষ প্রাচীন সভ্যতার ওপর। একবার আপনি এটি দেখতে পেলে, আর না দেখে থাকতে পারবেন না।” কথাগুলি বললেন শন বিন্ডা, যাঁর পূর্বপুরুষদের খ্রিস্টান ব্রিটিশরা দাস হিসেবে ক্যারিবীয় দেশগুলিতে নিয়ে গিয়েছিল।

    সনাতন হিন্দু ধর্ম (Christmas)

    সনাতন হিন্দু ধর্ম খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মতো ধর্মগুলির তুলনায় সর্বাধিক প্রাচীন। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র, ভারত-সহ মানুষ কর্মনির্ভর জীবনদর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন, প্রকৃতির পুজারি ছিলেন, মূর্তিপুজোর প্রচলন ছিল, বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিলেন, যাঁদের ‘পৌত্তলিক’ বলা হত। এছাড়াও, ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টানরা ভারতের হিন্দুদের ‘পৌত্তলিক’, ‘মূর্তিপূজক’ ও ‘বহুদেবতাবাদী’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করে এসেছে। শন বলেন, “একটি আইটি প্রকল্পের কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় আমি লক্ষ্য করেছি, সেখানে খ্রিস্টানরা কীভাবে ঘটা করে বড়দিন উদযাপন করে (Hindu Festivals)।”

    যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন

    খ্রিস্টানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন সারা বিশ্বে খ্রিস্টানরা যে প্রধান উৎসব হিসেবে পালন করেন, সেটিই বড়দিন (Christmas)। তবে বহু ইতিহাসবিদ ও গবেষকের মতে, এই উৎসবটির ধারণা এসেছে প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসব থেকে, কিংবা বলা যায়, সেখান থেকেই তা সরাসরি অনুকরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে এটি রোমান সভ্যতার দুটি উৎসব -‘স্যাটারনালিয়া’ (Saturnalia) এবং ‘সল ইনভিক্টাস’ (Sol Invictus)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এই উৎসবগুলি শীতকালীন অয়নান্তকে কেন্দ্র করে পালিত হত, যা সূর্যের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা (Christmas)।

    ‘সল ইনভিক্টাস’ উৎসব

    খ্রিস্টমাসের তারিখ ২৫ ডিসেম্বর ‘সল ইনভিক্টাস’ উৎসবের তারিখের সঙ্গে মিলে যায়। ‘সল’ অর্থ সূর্য এবং ‘ইনভিক্টাস’ অর্থ অজেয়। উপহার দেওয়া, ভোজের আয়োজন, গাছ সাজানো, এসব বহু রীতিই ছিল প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসবগুলির সঙ্গে যুক্ত। ভারতে হিন্দুরাও তুলসী, বট, অশ্বত্থ ও ডুমুর গাছকে পবিত্র বলে মনে করে সেগুলির পূজা করে। সংক্রান্তি এবং ছট পুজোও সূর্যকে কেন্দ্র করেই পালিত উৎসব। ভারতে সূর্যদেবের উদ্দেশে নিবেদিত বহু মন্দির রয়েছে, যেমন কোনার্ক, মোধেরা, মার্তণ্ড, মুলতান (পাকিস্তান), এছাড়াও মিশর, চিন, জাপান, পেরু প্রভৃতি দেশে সূর্য উপাসনার নিদর্শন দেখা যায়। হিন্দুরা সূর্যকে অর্ঘ্য দান করেন এবং সূর্য নমস্কার করেন (Hindu Festivals)।

    স্বর্ণযুগের স্মৃতি

    দীপাবলি, কার্তিক পূর্ণিমা, কার্তিগাই দীপম প্রভৃতি উৎসবে হিন্দুরা প্রদীপ ও দীপমালার মাধ্যমে নিজেদের ঘর আলোকিত করেন, দীপস্তম্ভেও প্রদীপ জ্বালানো হয়। খ্রিস্টধর্মের আগমনের পূর্বে ইউরোপের মানুষও একই অনুভূতি ও ভাবধারায় এসব উৎসব পালন করত। স্যাটারনালিয়া ছিল প্রাচীন রোমের একটি উৎসব, যা কৃষির দেবতা স্যাটার্নের সম্মানে পালিত হত। প্রথমে এটি ১৭ ডিসেম্বর একদিনের উৎসব ছিল, কিন্তু খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে তা বেড়ে সাত দিনের উৎসবে পরিণত হয় (Christmas)। এই সময় উৎসবের বৈশিষ্ট্য ছিল ঘর সাজানো, গাছ সাজানো, কৃষিশ্রমিকদের উপহার দেওয়া ভোজসভা এবং আনন্দঘন ‘ইও স্যাটারনালিয়া!’ ধ্বনি উচ্চারণ করা। জনসমাগমেও পালিত হত এই উৎসব। এই উৎসব সেই ‘স্বর্ণযুগে’র স্মৃতিকে উদযাপন করত, যখন দাসপ্রথা ছিল না।

    স্যাটার্নালিয়া উৎসবের রীতিনীতির ছাপ

    স্যাটার্নালিয়া উৎসবের রীতিনীতির ছাপ ক্রিসমাসে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সাজসজ্জা, উপহার আদান–প্রদান, ভোজসভা ইত্যাদি। এগুলি সরাসরি প্রভাবের ফল।
    চতুর্থ শতকে খ্রিস্টান চার্চ এই উৎসবগুলি গ্রহণ করে, মূলত পৌত্তলিক রোমানদের খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরিত করার উদ্দেশ্যে (Hindu Festivals)। স্যাটার্নালিয়া উৎসবটি সূর্যের দক্ষিণ অয়ন থেকে উত্তর অয়নে যাত্রার সঙ্গে যুক্ত। উত্তর অয়নের সময় দিন বড় হতে থাকে এবং সূর্যালোক বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই খ্রিস্টানরা ক্রিসমাসকে ‘আলোর জন্মে’র সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে যিশুকে বলা হয় ‘বিশ্বের আলো’।

    সোল ইনভিক্টাস উৎসব

    সোল (সূর্য) ইনভিক্টাস (অজেয়) ছিল রোমান সাম্রাজ্যের সূর্যদেবতা। সম্রাট অরেলিয়ান ‘ডিয়েস নাতালিস সোলিস ইনভিক্টি’ (অজেয় সূর্যের জন্মদিন) নামে একটি উৎসব প্রবর্তন করেন, যা ২৫ ডিসেম্বর পালিত হত (Christmas)। এই উৎসব পালিত হত কারণ এই সময়ে সূর্যের শক্তি আবার বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ্য বাড়তে শুরু করে। রথেরদৌড়, ভোজসভা এবং উপহার আদান–প্রদান ছিল এই উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সম্রাট কনস্টানটাইনও সোল ইনভিক্টাসের প্রচার করেছিলেন এবং তাঁর মুদ্রায় সূর্যদেবতার প্রতিকৃতি আঁকা ছিল। অনেকের বিশ্বাস, ২৫ ডিসেম্বর তারিখটি সরাসরি সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকেই নেওয়া হয়েছে। চার্চ ইচ্ছাকৃতভাবে এই তারিখটিকেই যিশুর জন্মদিন হিসেবে নির্ধারণ করে, যাতে পৌত্তলিক উৎসবকে খ্রিস্টীয় উৎসবে রূপান্তর করা যায় (Hindu Festivals)।

    ‘ন্যায়ের সূর্য’

    প্রাচীন খ্রিস্টীয় গ্রন্থে যিশুকে ‘ন্যায়ের সূর্য’ বলা হয়েছে। সেন্ট অগাস্টিন জনগণকে আহ্বান জানান, ২৫ ডিসেম্বর সূর্য নয়, যিশুকেই উদযাপন করতেন মানুষ। এসব তথ্য স্পষ্ট করে যে খ্রিস্টানরা একটি পৌত্তলিক উৎসবকে খ্রিস্টীয় রূপ দিয়েছিল (Christmas)। সমাস ট্রি, ইউল লগ ও মিস্টলটো—এসবই পৌত্তলিক ঐতিহ্য থেকে এসেছে। উত্তর ইউরোপের জার্মানিক জনগোষ্ঠীর ইউল উৎসব শীতকালীন অয়নান্তকে কেন্দ্র করে পালিত হত। এই উৎসবে ইউল লগ পোড়ানো, সাজসজ্জা ও ভোজসভা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেসব অঞ্চলের মানুষ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পর এই প্রাচীন পৌত্তলিক উৎসবগুলি ধীরে ধীরে ক্রিসমাসের অংশ হয়ে যায়। ইউল লগ পোড়ানো সূর্যের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। আজও অনেক দেশে ক্রিসমাস কেক বা মিষ্টি কাঠের গুঁড়ির আদলে তৈরি করা হয়, যা সেই প্রাচীন ঐতিহ্যেরই স্মারক।

    প্রাচীন পৌত্তলিকত্বর ঐতিহ্য

    ক্রিসমাস ট্রি-র উৎস প্রাচীন পৌত্তলিকত্বর ঐতিহ্যের মধ্যেই নিহিত। প্রাচীন মিশরীয়, রোমান ও সেল্টরা চিরসবুজ গাছ ব্যবহার করত, যা চিরন্তন জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হত। রোমানদের স্যাটার্নালিয়া উৎসবে চিরসবুজ ডালপালা সাজানো হতো। ষোড়শ শতকে জার্মানিতে প্রথম ক্রিসমাসট্রি সাজানোর প্রথা শুরু হয়। একটি কিংবদন্তি অনুযায়ী, মার্টিন লুথার নাকি গাছের ওপর আলো জ্বালিয়ে তারকার প্রতীক স্থাপন করেছিলেন (Hindu Festivals)। ঐতিহাসিক প্রমাণ ও প্রভাব অনুযায়ী, ইতিহাসবিদদের মতে চতুর্থ শতকে রোমান সম্রাট কনস্টান্টাইন খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সময় বিভিন্ন পৌত্তলিক উৎসবকে তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। উদাহরণ হিসেবে, ‘ক্রোনোগ্রাফ অফ ৩৫৪’ গ্রন্থে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে একসঙ্গে ‘সোল ইনভিক্টাস’ এবং ‘ক্রিসমাসে’ উল্লেখ পাওয়া যায় (Christmas)।

    খ্রিস্টান চার্চ

    অনেক গবেষকের মতে, খ্রিস্টান চার্চ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল পৌত্তলিকদের আকৃষ্ট করার জন্য। যেমন, সূর্যদেবতার সঙ্গে যিশুকে যুক্ত করা। উপহার দেওয়া, ভোজসভার আয়োজন এবং আনন্দোৎসবের ধারণা এসেছে স্যাটার্নালিয়া উৎসব থেকে। আর আলো ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সূর্যসংক্রান্ত উপাদান এসেছে সোল ইনভিক্টাস উৎসব থেকে। ইউরোপে ইউল  ও সেল্টিক ঐতিহ্যপূর্ণ গাছ। এগুলি সবুজ সাজসজ্জার প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে কিছু সমালোচক এই দাবিগুলি নাকচ করেন। তাঁদের মতে, ক্রিসমাসের তারিখ স্বতন্ত্রভাবেই নির্ধারিত হয়েছিল, ২৫ মার্চ থেকে ন’মাস হিসেব করেই ২৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

    ক্রিসমাস পৌত্তলিক উৎসবগুলির অনুকরণে গড়ে উঠেছে

    তা সত্ত্বেও, ঐতিহাসিক সমাপতন ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মিল স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, খ্রিস্টধর্ম প্রসারের সুবিধার্থে ক্রিসমাস অনেকাংশেই পৌত্তলিক (বহুদেববাদী হিন্দু) উৎসবগুলির অনুকরণে গড়ে উঠেছে (Christmas)। আজকের দিনে ক্রিসমাস একটি সুন্দর ও আনন্দঘন উৎসব হলেও, এর মূল শেকড় প্রাক্-খ্রিস্টীয় পৌত্তলিক উৎসবগুলির মধ্যেই নিহিত। স্যাটার্নালিয়া, সোল ইনভিক্টাস ও ইউল উৎসব থেকে উপহার দেওয়া, ভোজ, গাছ ব্যবহার এবং আলো দিয়ে সাজানোর মতো নানা উপাদান ক্রিসমাসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টানরা নিশ্চয়ই জানতে পেরে আনন্দিত হবেন যে, তাঁদের এই উৎসবের সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে প্রাচীন পৌত্তলিকতা বা সনাতন হিন্দু ধর্মের। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখায় কীভাবে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটে (Hindu Festivals)। আজও বিশ্বজুড়ে নানা উৎসব পালিত হয়, যদিও তাদের ঐতিহাসিক পটভূমি বিস্মৃত হওয়া (Christmas) উচিত নয়।

LinkedIn
Share