Tag: hindu

hindu

  • Congress: হিন্দু বিরোধিতা কংগ্রেসের ট্র্যাডিশন! জেনে নিন বহমান সেই ধারা

    Congress: হিন্দু বিরোধিতা কংগ্রেসের ট্র্যাডিশন! জেনে নিন বহমান সেই ধারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দুদের নিয়ে সম্প্রতি পার্লামেন্টে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেসের (Congress) প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছিলেন, “হিন্দুরা কেবল হিংসার কথা বলেন, বলেন ঘৃণার কথা, মিথ্যেও বলেন।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাহুল হিন্দুদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নতুন কিছু নয়, বরং এটা কংগ্রেসের ঐতিহ্যের সঙ্গেই সম্পৃক্ত। রাহুলের এহেন মন্তব্যে নিঃসন্দেহে আঘাত পেয়েছেন এ দেশের সংখ্যাগুরু হিন্দুরা (Hindu Bashing)।

    রাহুলের বেফাঁস মন্তব্য (Congress)

    তবে তাতে রাহুল কিংবা কংগ্রেস, কারও কিস্যু যায় আসে না! রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে অভ্যস্ত কংগ্রেসের কাছে এই জাতীয় মন্তব্যই কাঙ্খিত। এর আগেও রাহুলকে হিন্দু ধর্ম নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, তিনি শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছেন। ‘শক্তি’ বলতে হিন্দু ধর্মে আদ্যাশক্তিকে বোঝায়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কংগ্রেসের জন্ম ব্রিটিশদের হাতে, আর বর্তমানে তাকে চালনা করছেন ইটালিয়ানরা। তাই তাঁরা যে হিন্দু-বিরোধী হবেন, তাতে আর আশ্চর্যের কী আছে? এ প্রসঙ্গে (Congress) পণ্ডিত জওহর লাল নেহরুর মন্তব্যটি প্রনিধানযোগ্য। ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত লাহোর কংগ্রেসে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি হিন্দু হয়ে জন্মেছিলাম। কিন্তু আমি জানি না, আমার নিজেকে কতটা হিন্দু বলে দাবি করা ঠিক হবে।”

    প্রসঙ্গ যখন সোমনাথ মন্দির

    বিধর্মীদের হাতে ধ্বংস হয়েছিল সোমনাথ মন্দির। সেই মন্দির পুনর্গঠন করতে যখন রাজেন্দ্রপ্রসাদ, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, কেএম মুন্সি, এনভি গ্যাডগিলের মতো নেতারা জোট বাঁধছেন, তখন তার বিরোধিতা করেছিলেন নেহরু স্বয়ং। এই মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্র প্রসাদ। তাঁকে যেতে নিষেধ করেছিলেন নেহরু। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই সোমনাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। কংগ্রেসের সেই ‘মেকি ধর্মনিরপেক্ষতা’র মুখোশ আমরা দেখলাম এই ২০২৪ সালেও। ২২ জানুয়ারি উদ্বোধন হয় অযোধ্যার রাম মন্দিরের। এই অনুষ্ঠানেও আমন্ত্রণ পেয়ে যাননি কংগ্রেসের কেউ। অথচ এসেছিলেন দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিরা।

    নেহরুর দ্বিচারিতা

    স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নেহেরু। তিনি প্রথমবার নির্বাচিত হন ১৯৫২ সালে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তার পরের লোকসভা নির্বাচনেও। যদিও ১৯৫৮ সালেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হিন্দুত্ব নিয়ে তাঁর দ্বিচারিতা। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম দফায়ই তিনি বিরোধিতা করেছিলেন প্রো-হিন্দু নেতাদের (Congress)। পাকিস্তানে থেকে যাওয়া হিন্দুদের কী হবে, সে প্রশ্ন তুলেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এবং কংগ্রেসের অন্য প্রো-হিন্দু নেতারা। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন ১৯৫০ সালের নেহেরু-লিয়াকত দিল্লি চুক্তি নিয়েও। এই চুক্তিতেই বলা ছিল, দুই দেশই তাদের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করবে। পাকিস্তানের মতো একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে যা অকল্পনীয় বলেই ধারণা হিন্দুত্ববাদী নেতাদের সিংহভাগেরই। ১৯৫০ সালে অকালে প্রয়াত হন শ্যামাপ্রসাদ। বস্তুত তার পরেই খোলা মাঠ পেয়ে যান নেহরু। এই হিন্দুত্ব নিয়ে নেহরুর সঙ্গে মতদ্বৈততার কারণে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। নেহরুর হিন্দু কোড বিলের প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন প্রো-হিন্দু নেতারা।

    নেহরু ‘সাম্প্রদায়িক’!

    পার্লামেন্টে তো নেহরুকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে দেগে দিয়েছিলেন জেবি কৃপালনী। সংবিধান রচয়িতা আম্বেডকর বলেছিলেন, যে দেশে যে ধর্মের প্রধান্য সেই ধর্মের লোকজন চলে যান সেই দেশে। এটাই স্থায়ী সমাধান। (সেই সূত্রে মেনেই বোধহয়) গিয়েছিলেন পূর্ব ভারতের দলিত নেতা যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল। পাকিস্তানে গিয়ে মন্ত্রীও হয়েছিলেন। তবে তিক্ত অভিজ্ঞতার জেরে আবারও ফিরে আসেন ভারতে। আম্বেডকর এবং মুখার্জি দুজনেই খোলাখুলি নেহরুর হিন্দু-বিরোধী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। যার জেরে ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন ইন্দিরা গান্ধীর বাবা জওহর লাল। রাজনীতিকদের একাংশের মতে, মেকি-ধর্ম নিরপেক্ষতার আড়ালে নেহরু আসলে চিরকাল করে গিয়েছেন তুষ্টিকরণের রাজনীতি। নেহরু সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে সীতারাম গোয়েল বলেছিলেন, “পণ্ডিত জওহর লাল নেহরু একজন গর্বিত বাদামি সাহেব। নেহরুর ফর্মুলা হল, প্রতিটি পরিস্থিতিতে হিন্দুদের দোষী করা উচিত, সে তাঁরা প্রকৃত দোষী হোন বা না হোন।”

    আর পড়ুন: দুর্গাপুজোর প্রচলন এখানেই! বাংলাদেশের মেধস মুনির আশ্রমের জমি দখলের অভিযোগ

    বিলম্বিত বোধদয়

    নেহরুর সেই ধারা আজও বহমান কংগ্রেসে। তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে দিনের পর দিন তারা দোষারোপ করে চলেছে হিন্দুদের। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হল সংসদে রাহুল গান্ধীর হিন্দু বিরোধী মন্তব্য। রাহুলের আগে প্রো-মুসলিম মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও। তিনি বলেছিলেন, “এই দেশের সম্পদের ওপর সবার আগে অধিকার মুসলমানদের।” মৃত্যুর আগে বোধহয় চৈতন্যোদয় হয়েছিল (Hindu Bashing) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নেহরুর। ১৯৬৩ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন আরএসএসের স্বয়ংসেবকদের। যে জনসংঘকে ১৯৪৮ সালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন নেহরু, সেই জনসংঘকেই ১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের পর নেহরু বলেছিলেন, “জনসংঘ দেশপ্রেমিক একটি দল।”

    একেই বোধহয় বলে বিলম্বিত বোধদয় (Congress)!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Hindus Under Attack: ভারতে কি শুরু হয়ে গেল হিন্দু ‘নিধন যজ্ঞ’?

    Hindus Under Attack: ভারতে কি শুরু হয়ে গেল হিন্দু ‘নিধন যজ্ঞ’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে কি হিন্দু ‘নিধন যজ্ঞ’ শুরু হয়ে গেল? গত এক সপ্তাহে ভারত (India) এবং বহির্ভারতে হিন্দুদের (Hindus Under Attack) ওপর অত্যাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উঠছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই প্রশ্ন। কখনও জোর করে ধর্মান্তকরণ, কখনও আবার বেছে বেছে হিন্দুদের খুন-মারধর, কখনও আবার হিন্দুদের জমি জোর করে কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা, মন্দিরে ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ এবং যৌন হিংসার ঘটনা শুরু হতেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি হিন্দু ধর্মের ওপর ফের নেমে এল অত্যাচারীদের খড়্গ-কৃপাণ? এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক গত ৩০ জুন থেকে ৬ জুলাই- এই এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ।

    হিন্দু নির্যাতনের ঘটনাপ্রবাহ (Hindus Under Attack)

    মহারাষ্ট্রের ঠানেতে এক হিন্দু মহিলাকে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে এক মুসলমানের বিরুদ্ধে। আফসানা পারভিন এই মিথ্যে পরিচয়ে দিল্লির এক তরুণকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরের সিএসআই ইমানুয়েল চার্চে রবিবারের প্রার্থনাসভায় হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে প্রিন্স কেলভিনের বিরুদ্ধে। প্রার্থনাসভাটি পরিচালনা করছিলেন তিনিই (Hindus Under Attack)। অসমের গুয়াহাটিতে এক কুখ্যাত যুবকের প্রেম-প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় অপহরণ করা হয় এক আইনের ছাত্রীকে। এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় আশরাফ জামান নামে এক যুবককে।

    তালিকায় হরিয়ানা, রাজস্থান…

    হরিয়ানার ফরিদাবাদে জনতা কলোনি এলাকার এক কালী মন্দিরের সামনে নিদারুণভাবে নির্যাতন করা হয় মন্দিরের পুরোহিত রবি কাশ্যপকে। জখম অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। রাজস্থানের মহাত্মা গান্ধী পার্ক এলাকায় কর্মসূচি পালন করছিলেন আরএসএসের স্বয়ংসেবকরা। অদূরেই ক্রিকেট খেলছিল কয়েকজন মুসলমান ছেলে। স্বয়ংসেবকদের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে ৬ জন ইসলাম ধর্মাবলম্বীকে।

    আর পড়ুন: দুর্গাপুজোর প্রচলন এখানেই! বাংলাদেশের মেধস মুনির আশ্রমের জমি দখলের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে দুই মুসলিম যুবক তানিম এবং ফৈজান হিন্দুদের কয়েকটি দোকানে ঢুকে পড়ে মারধর করে দোকানদার ও তাঁদের কর্মীদের। কর্ণাটকের কালাবুর্গি এলাকায় ভীমশঙ্কর দাশারা নামে এক তরুণকে বেধড়ক মারধর করে কয়েকজন মুসলমান যুবক। পাঞ্জাবে শিবসেনা প্রধান সন্দীপ থাপারের ওপর কয়েকজন শিখ তরোয়াল নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে এক মুসলমান ফল বিক্রেতা পাথরের আঘাতে একটি চোখ নষ্ট করে দেয় নিতু সিং নামে একজনের। কেবল ভারত নয়, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশেও এই জাতীয় ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে (India) বলে অভিযোগ।

    সনাতনীদের ওপর এহেন আক্রমণ কেন (Hindus Under Attack)?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • PM Modi: “মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবেন না”, রাহুলের ‘হিন্দু’-মন্তব্য প্রসঙ্গে বললেন মোদি

    PM Modi: “মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবেন না”, রাহুলের ‘হিন্দু’-মন্তব্য প্রসঙ্গে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবেন না।” মঙ্গলবার এই ভাষায়ই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবারই লোকসভায় হিন্দুদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন ওয়েনাড়ের সাংসদ। তার জেরেই এদিন তিনি চলে আসেন প্রধানমন্ত্রীর চাঁদমারিতে। রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মুর্মুর ভাষণের ওপর চলছে মোশন অফ থ্যাংকস।

    ‘ঈশ্বরের ছবি দেখানোয় দেশবাসী আঘাত পেয়েছেন’ (PM Modi)

    এই প্রসঙ্গেই লোকসভায় বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। বলেন, “শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবেন না…হিন্দুরা সহনশীল। সেই হিন্দুদের মিথ্যে অভিযোগে অভিযুক্ত করতে ষড়যন্ত্র চলছে। বলা হচ্ছে, হিন্দুরা হিংস্র।” তিনি বলেন, “এটা আপনার চরিত্র, মননে এবং ঘৃণায়।” সংসদে ঈশ্বরের ছবি দেখানোয় দেশবাসী আঘাত পেয়েছেন বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তাঁরা আমাদের ঈশ্বরদের অপমান করেছেন। জিনকে দর্শন হোতে হ্যায়, উনকে প্রদর্শন নহি হোতে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গতকালের ঘটনা দেখে হিন্দুদের ভাবতে হবে এটা (লোকসভায় শিবের ছবি দেখানো) কী কাকতালীয় না কি পূর্বপরিকল্পিত।”

    রাহুলকে নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

    রাহুলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সহানুভূতি কুড়োনোর একটা প্রবণতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি একটি শিশুর সম্পর্কে বলতে চাই যে স্কুল থেকে ফিরে মাকে বলছে স্কুলে তাকে মারধর করা হয়েছে। শিশুটি তার মাকে বলল না যে স্কুলে সে একজনকে গালি দিয়েছে, একটি শিশুর বই ছিঁড়ে দিয়েছে এবং একজনের টিফিন চুরি করেছে। গতকাল আমরা সংসদে একটি শিশুসুলভ আচরণ দেখেছি। এটা করা হয়েছিল স্রেফ সহানুভূতি কুড়োতে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যাইহোক, গোটা দেশ জানে এই ব্যক্তি একটি দুর্নীতি মামলায় জামিনে ছাড়া পেয়েছেন, একজন ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষকে চোর বলায় সাজা পেয়েছেন, বীর সাভারকরকে অপমান করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।”

    আর পড়ুন: নিট-পিজিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে অভিনব বন্দোবস্ত, কী হচ্ছে জানেন?

    প্রসঙ্গত, সংসদে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাহুল (Rahul Gandhi) বলেছিলেন, “হিন্দুরা কখনওই হিংসা ছড়ায় না। কিন্তু বিজেপি গোটা দেশে হিংসা এবং ঘৃণা ছড়িয়ে চলেছে। যদিও আমাদের মনে রাখতে হবে যে বিজেপি এবং আরএসএসই সম্পূর্ণ হিন্দু সম্প্রদায় নয়।” ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি ভগবান শিবের ছবিও দেখিয়েছিলেন। এদিন লোকসভায় তারই জবাব দিলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

     

  • India Russia Relation: রাশিয়ায় জোরালো হচ্ছে হিন্দু মন্দিরের দাবি, মোদির সফরেই পূরণ হবে স্বপ্ন?

    India Russia Relation: রাশিয়ায় জোরালো হচ্ছে হিন্দু মন্দিরের দাবি, মোদির সফরেই পূরণ হবে স্বপ্ন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কমিউনিস্ট শাসিত দেশ। এবার সে দেশেই উঠল হিন্দু মন্দির তৈরির দাবি (India Russia Relation)। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। এই আবহেই চলতি মাসে রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম রুশ দেশে পা রাখতে চলেছেন মোদি।

    জোরালো হিন্দু মন্দিরের দাবি (India Russia Relation)

    রাশিয়া-ইউক্রেন (India Russia Relation) যুদ্ধ শুরুর পরেও এটাই তাঁর প্রথম রাশিয়া সফর। এসব দিক থেকে দেখতে গেলে প্রধানমন্ত্রীর এবারের রাশিয়া সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এহেন সফরের আগেই উঠল রাশিয়ায় হিন্দু মন্দির তৈরির দাবি। ইন্ডিয়ান বিজনেস অ্যালায়েন্সের সভাপতি স্যামি কোতওয়ানি রাশিয়ার মস্কোয় হিন্দু মন্দির তৈরির দাবি জানিয়েছেন। কমিউনিস্ট শাসিত হলেও, রাশিয়া ঐতিহ্যগতভাবে অর্থডক্স চার্চের জন্য পরিচিত। দেশটির সিংহভাগ বাসিন্দাই খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে হিন্দুদের সংখ্যাও। সেই জন্যই জোরালো হচ্ছে হিন্দু মন্দির তৈরির দাবি।

    রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছিল গীতা!

    ভারতীয় জাতীয় সংস্কৃতি কেন্দ্র এসআইটিএ-র তরফে জানানো হয়েছে, মস্কোয় মন্দির নির্মাণ হলে সেটি কেবল যে রাশিয়ার রাজধানীকেই সমৃদ্ধ করবে তা নয়, মজবুত করবে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ককেও। এক সময় রাশিয়ায় নিষিদ্ধ হয়েছিল ভগবদ গীতা। মস্কোয় ইসকনের কৃষ্ণ মন্দিরও ছিল। ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে রাশিয়ার এই মন্দিরটি শহর কর্তৃপক্ষ ভেঙে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন ইস্কনের সন্ন্যাসীরা। এরপর মস্কোভা নদী দিয়ে গড়িয়েছে অনেক জল। ভারতের ক্ষমতায় এসেছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার। তার পর থেকে ক্রমেই মজবুত হয়েছে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক। এই সম্পর্কের জেরেই এবার মস্কোয় হিন্দু মন্দির গড়ার দাবি উঠেছে।

    আর পড়ুন: “নরেন্দ্রকে ঠাকুর বলিতেছেন, চিদাকাশে হল পূর্ণ প্রেমচন্দ্রোদয় হে, এই গানটি একবার গা না”

    রাশিয়ায় হিন্দু ধর্মের প্রসার ঘটতে থাকে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। এই সময় রাশিয়ায় চলছিল পেরেস্ত্রৈকা। এই সময়ই বদলে যার রাশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পরিবর্তনের ঢেউ গিয়ে লাগে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও। এই সময়ই নানা কাজে এ দেশে আসেন হিন্দুরা। তাঁরাই দাবি তুলেছেন হিন্দু মন্দিরের (India Russia Relation)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Bangladeshi Arrest: বাংলায় জাল নথি বানিয়ে হিন্দু ‘সেজে’ বাস অনুপ্রবেশকারীর, গ্রেফতার বাংলাদেশি

    Bangladeshi Arrest: বাংলায় জাল নথি বানিয়ে হিন্দু ‘সেজে’ বাস অনুপ্রবেশকারীর, গ্রেফতার বাংলাদেশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সুরাটে বাংলাদেশি মুসলমান গ্রেফতারে (Bangladeshi Arrest) বঙ্গ যোগ! পশ্চিমবঙ্গ থেকে জাল নথি বানিয়ে বাংলাদেশি মুসলমান হিন্দু ‘সেজে’ দিব্যি বাস করছিল গুজরাটের সুরাটে। ধরা পড়তেই ফাঁস বাংলার কেলেঙ্কারির পর্দা।

    বাংলায় জাল নথির রমরমা কারবার! (Bangladeshi Arrest)

    সীমান্তে নিরাপত্তার ফাঁক গলে বাংলাদেশ থেকে ঢুকে পড়ছে ভারতে। পরে হিন্দু সেজে দিব্যি বসবাস করছে এ দেশে। ধরা পড়ার পরে জানা যায়, তারা আদতে বাংলাদেশি, ধর্মে মুসলমান। দিন কয়েক আগে এমন খবর প্রকাশ করেছিল মাধ্যম। ফের প্রকাশ্যে এল এমন একটি খবর। এবার ঘটনাস্থল গুজরাটের সুরাট। এখানকারই এক হিন্দু এলাকায় হিন্দু পরিচয়ে বাস করছিল বাংলাদেশি এই মুসলমান। রবিবার তাকে গ্রেফতার করে সুরাট পুলিশ। ভারতে পুলিশের চোখে ধুলো দিতে সে জাল নথিপত্রও বানিয়ে নিয়েছিল (Bangladeshi Arrest)। সেই নথি দেখিয়েই বাস করছিল সুরাট শহরে। প্রশাসন সূত্রে খবর, তার কাছে উদ্ধার হওয়া নথিপত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট, আধার কার্ড, পশ্চিমবঙ্গের একটি স্কুললিভিং সার্টিফিকেট, কাতার রেসিডেন্সি পারমিট এবং বাংলাদেশি পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কাগজপত্র।

    মুসলমান হয়েও হিন্দু নাম!

    পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতের আসল নাম মিনার হেমায়েত সর্দার। ২০২০ সালে সে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। ভারতে চলে আসার পর একাধিক জাল নথিপত্র তৈরি করে সে। মুসলমান পরিচয় লুকিয়ে সে নাম নিয়েছিল শুভ দাস। জাল নথিগুলো সে বানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। বঙ্গেরই নদিয়া জেলা থেকে নকল পাসপোর্ট জোগাড় করেছিল এই সব জাল নথি দেখিয়ে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, জাল পাসপোর্ট বানিয়েই ২০২১ সালে মিনার ঘুরে এসেছে দোহা, কাতার। ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানেই সে কাজ করত শ্রমিক হিসেবে। চলতি বছর সে ফিরে আসে সুরাটে। এখানেই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল সে। মিনারকে জেরা করছে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি, জেরায় অপরাধ কবুল করেছে সে। তাকে জেরা করে এই জাল নথিপত্র বানানোর চক্রের হদিশ পেতে চাইছে পুলিশ। গুজরাটের পুলিশ প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বাংলাদেশি মুসলমান এক ব্যক্তি তার মুসলিম পরিচয় গোপন করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাহায্যপ্রাপ্ত মাদ্রাসার সাহায্যে হিন্দু নামে জাল সার্টিফিকেট বানিয়েছিল।” ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “বাংলাদেশি মুসলিমদের হিন্দু করার নথিপত্রের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলার মাদ্রাসাগুলিকে। মাদ্রাসাগুলির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বাজেট অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এতে কি তাহলে রাজ্য সরকারের সমর্থন রয়েছে (Bangladeshi Arrest)?”

    আর পড়ুন: ‘‘হিন্দুরা নয়, শুধুমাত্র একটি ধর্মই সাম্প্রদায়িকতা ছড়ায়’’, তোপ হিমন্তের

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • West Bengal Day: প্রত্যেক হিন্দুর উচিত ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করা! জানুন এই দিনটির ইতিহাস

    West Bengal Day: প্রত্যেক হিন্দুর উচিত ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করা! জানুন এই দিনটির ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০ জুন দিনটি “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” বা পশ্চিমবঙ্গ গঠন দিবস হিসাবে পালিত হওয়া উচিৎ। প্রত্যেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর উচিত ২০ জুন দিনটিকেই “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” হিসেবে পালন করা। কিন্তু তার জন্য জানা দরকার কী তাৎপর্য লুকিয়ে রয়েছে এই দিনটির পিছনে। কেন এই দিনটিকেই এতদিন ধরে “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” হিসেবে পালন করা হত – তা হয়তো রাজ্যে বসবাসকারী অনেকের কাছেই অজানা।  

    ২০ জুন দিনটির ইতিহাস ও গুরুত্ব (History of West Bengal Day) 

    ২০ জুন হচ্ছে বাংলার প্রতিষ্ঠা দিবস। কারণ ১৯৪৭ সালের ২০ জুন, অখণ্ড বাংলা বিধানসভায় বাংলা ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই কারণে এই দিনটি এতদিন ধরে পালিত হত “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” হিসেবে। তবে “পশ্চিমবঙ্গ দিবস” দিনটি যার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনি হলেন ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। 

    শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান 

    এই পশ্চিমবঙ্গ দিবস (West Bengal Day) পালনের ক্ষেত্রে ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান অনেক। যদিও তা মানতে অস্বীকার করেন কমিউনিস্ট-মনোভাবাপন্ন বুদ্ধিজীবীরা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, একজন কট্টর জাতীয়তাবাদী, যিনি সবসময় ভারত ভাগের বিরুদ্ধে ছিলেন। বিভিন্ন মুসলিম নির্বাচিত নেতাদের অধীনে বাঙালি হিন্দুদের দুর্দশা দেখে গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছিলেন।         

    আরও পড়ুন: জম্মু-কাশ্মীরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন-শিলান্যাস ৮৪ প্রকল্পের

    এরপর ১৯৪৭ সালের ১৫ মার্চ, একটি বক্তৃতায়, ড. মুখোপাধ্যায় বাংলায় হিন্দুদের পায়ের তলার মাটি সুরক্ষিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তখন নির্মল চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ডঃ বিধান চন্দ্র রায়, ডঃ প্রমথ নাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, এবং ক্ষিতীশ চন্দ্র নিওগী সহ নির্ভীক হিন্দু নেতারা বাঙালি হিন্দুদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হিসাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলা ভাগ করার ধারণার সঙ্গে একমত হন। এরপর ভারত ভাগের প্রস্তাব দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, যদি ২৪ শতাংশ মুসলমান ভারতে ৭৬ শতাংশ অমুসলিমদের সঙ্গে থাকতে না পারে তবে ৪৫ শতাংশ অমুসলিম বাংলায় ৫৫ শতাংশ মুসলমানের সাথে কীভাবে থাকতে পারে। তিনি তাঁর বক্তব্যের সাপেক্ষে গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং এবং নোয়াখালী গণহত্যার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

     
    সে সময় শ্যামাপ্রসাদের কথা মেনে কিংবদন্তি ঘনশ্যাম দাস বিড়লা সহ প্রায় সমস্ত বাঙালি হিন্দু আইনজীবী সহ হিন্দু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাঁর পাশে দাঁড়ান। এরপর ২০ জুন ১৯৪৭ সালে, বঙ্গীয় আইনসভার বিধায়কেরা ইউনাইটেড বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি ভারতের সাথে থাকবে নাকি পাকিস্তানে যাবে নাকি বিভক্ত হবে তা সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেন। সেসময় নানাবিধ আলোচনার শেষে অখণ্ড বাংলা বিধানসভায় বাংলা ভাগ করে পশ্চিমবঙ্গ গঠনের (West Bengal Day) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Love Jihad: প্রেমের ফাঁদ পাতা বাংলাদেশে! হিন্দুদের নিয়ে গিয়ে চলছে ইসলামে দীক্ষিতকরণ

    Love Jihad: প্রেমের ফাঁদ পাতা বাংলাদেশে! হিন্দুদের নিয়ে গিয়ে চলছে ইসলামে দীক্ষিতকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অপহরণ করে বাংলাদেশে নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে হিন্দু নারী-পুরুষ-শিশুদের। পরে জোর করে তাঁদের করা হচ্ছে মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তকরণ (Love Jihad)। জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা নানা অছিলায় হিন্দু তরুণীদের নিয়ে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে। সেখানেই চলছে জোর করে ধর্মান্তকরণ। সম্প্রতি এমনই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তাজ্জব প্রশাসন।

    অপহৃত হিন্দু কিশোরী (Love Jihad)

    কিছু দিন আগেই বাংলাদেশের সিপাহিজেলা থেকে অপহৃত হয় বছর পনেরোর এক হিন্দু কিশোরী। জনৈক সাব্বির আহমেদ ও তার বাবা তাকে অপহরণ করে বলে অভিযোগ। এর পরেই বাংলাদেশ প্রশাসন বর্ডার গার্ডকে (বিবিজি) এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়। ভারত থেকে অপহৃত মহিলা কিংবা তরুণীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার সময় পাকড়াও করার নির্দেশও দেওয়া হয়। বিবিজিকে এই নির্দেশ দেওয়া হলেও, স্থানীয় ম্যারেজ রেজিস্ট্রার এবং আদালতকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়নি। তার জেরেই বন্ধ হয়নি তরুণী অপহরণ কিংবা জোর করে ধর্মান্তকরণ (Love Jihad)। ফলশ্রুতি হিসেবে বাংলাদেশে বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে লভ জিহাদ ও হিন্দু মহিলাদের ধর্মান্তকরণ।

    অপহৃত ১১ জন গ্রেফতার

    এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের কিছু মিডিয়া খবর করে। সেই সংবাদ প্রতিবেদনের লিঙ্ক শেয়ার করা নিষিদ্ধ করে দেয় ফেসবুক, কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘনের অজুহাতে। বাংলাদের নামী দৈনিক ‘যুগান্তর’ ও নিউজ পোর্টাল ‘জাগো নিউজ’ একটি প্রতিবেদনে জানায়, রামগঞ্জ উপজিলার লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে স্থানীয় পুলিশ গ্রেফতার করেছে ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে। এদের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে অপহরণ করে নিয়ে আসা হয়েছিল, করা হয়েছিল ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তকরণও। মৌলবাদী ঘৃণা প্রচারক মিজানুর রহমান আজহারি স্বয়ং ধর্মান্তকরণের অনুষ্ঠান করেছিল। এই প্রতিবেদন থেকেই জানা গিয়েছিল, ২০০৬ সালে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে নিখোঁজ হয়ে যায় স্থানীয় কাউন্সিল সদস্য ফতেমা বেগম ও মোজিবল হকের ছেলে মনির হোসেন।

    ওপার বাংলার মনির এপারে এসে শঙ্কর!

    পশ্চিমবঙ্গে এসে সে যোগ দিয়েছিল তবলিঘি জামাতে। শঙ্কর অধিকারী নাম নিয়ে দিব্যি সে বাস করছিল এপার বাংলায়। এখানেই সে এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করে। এক দশকেরও বেশি সময় এ দেশে বসবাস করার পর মনির ও তাঁর স্ত্রী ফাঁদে পড়ে তবলিঘি জামাতের। ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। জামাতের তরফে মনির ওরফে শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের এক ব্যক্তির পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশি এই নাগরিক মনিরকে হিন্দু তরুণী ও মহিলাদের বাংলাদেশের পাচারের অফার দেয়। তাঁদের ইসলামে দীক্ষিত করাতে হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। তার বিনিময়ে মনিরকে ওই বাংলাদেশি মোটা টাকা মিলবে বলেও টোপ দেয়। টোপ গেলে মনির। জানা গিয়েছে, এ রাজ্যের ছ’জন মহিলা, যাঁদের অধিকাংশই তার স্ত্রীর (যিনি আদতে হিন্দু) আত্মীয়, তাঁদের ভিসা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশে। মনিরের স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও পাঠানো হয় তাঁদের সঙ্গে। সেখানে তাঁদের প্রত্যেককেই জোর করে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়।

    লভ জিহাদের ফাঁদ

    ‘যুগান্তরে’র অন্য এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচাং উপজিলার হিন্দু মহিলা করফুল সরকারকে লভ জিহাদের ফাঁদে ফেলে জোর করে ধর্মান্তকরণ করা হয়। সে পড়েছিল কাজল মিঞার খপ্পরে। প্রেমের জালে (Love Jihad) জড়িয়ে তাঁকে মুসলমান করার পর ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন করফুল। এতেই খেপে যান স্থানীয় মুসলমান নেতারা। তাঁকে তাঁর বাবার বাড়ির বাইরে বসবাস করতে বাধ্য করেন। শর্ত দেওয়া হয়, তাঁর বাবা-সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হিন্দু ধর্ম ছেড়ে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হলে, তবেই মিলবে এক সঙ্গে বসবাসের অনুমতি।

    হিন্দু পরিবারকে মুসলমান হতে চিঠি!

    বাংলাদেশের এক প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শামিম আহমেদ। সে-ও এক হিন্দু তরুণীকে অপহরণ করে বিয়ে করে জোর করে দীক্ষিত করে মুসলমান ধর্মে। পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করায় গ্রেফতার করা হয় শামিমকে। ২০২৩ সালের অগাস্টে কয়েকজন মুসলমান ঐশী বণিক নামে এক হিন্দু তরুণীকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে বাধ্য করে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নামকরা বাংলা দৈনিক ‘ইত্তেফাকে’র একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ, সে দেশের কয়েকজন মুসলমান মাগুরা জেলার ৫০টি হিন্দু পরিবারকে মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত হতে হবে বলে চিঠি দেয়। ওই ঘটনায় চারজন মুসলমানকে গ্রেফতার করেছিল বাংলাদেশের প্রশাসন। যদিও তারা প্রত্যেকেই জামিন পেয়ে যায়।

    অন্য একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, সৌদি আরবে ৩ লাখ ৪৭ হাজার হিন্দুকে ইসলামি গ্রুপের তরফে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার টোপ দেওয়া হয়। ৩ লাখ ৪৭ হাজার হিন্দু ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন বলে ভুয়ো খবরও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তান এবং আরও কয়েকটি দেশেও রমরমিয়ে চলছে জোর করে ধর্মান্তকরণের ব্যবসা।

    আর পড়ুন: রেকর্ড গড়ল বিজেপি, বিরোধীশূন্য মধ্যপ্রদেশ পদ্মময়

    বাংলাদেশেরই আর একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, ক্রমাগত চাপের কাছে নতি স্বীকার করে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশের মাদারিপুরের হিন্দু দম্পতি অশোক মিত্র ও তাঁর স্ত্রী পার্বতী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এই মাসেই জনৈক সাগরিকা দাস লভ জিহাদের খপ্পরে পড়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হতে বাধ্য হন। চেন্নাই পুলিশ কীভাবে আন্তর্জাতিক লভ জিহাদের একটি ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছিল, সে খবর ফাঁস করে বাংলাদেশের নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ট্রিবিউন’।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ হিসেবে, তখন জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল অনেক হিন্দু পরিবার। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৪ বছর আগে। যদিও আজও সেই ট্র্যাডিশন সমানে (Love Jihad) চলছে…

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Viswa Hindu Parishad: মুখ্যমন্ত্রীর ‘সাধু’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

    Viswa Hindu Parishad: মুখ্যমন্ত্রীর ‘সাধু’ মন্তব্যের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিশ্ব হিন্দু পরিষদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঠ-মিশন-সংঘের সাধু-সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে বেঁফাস মন্তব্য করে বিপাকে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! মুখ্যমন্ত্রীর বেলাগাম মন্তব্যে সন্ন্যাসী ও আশ্রমের ওপর হামলার ঘটনা বাড়বে বলেই মনে করেন বিভিন্ন মঠ-মিশন কর্তৃপক্ষ। এই আশঙ্কা প্রকাশ করে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Viswa Hindu Parishad)। মামালার শুনানি হবে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের এজলাসে।

    কী বলেছিলেন মমতা? (Viswa Hindu Parishad)

    সন্ন্যাসী বিতর্কের জল এতদূর গড়ানোর কারণ শনিবার আরামবাগের এক জনসভায় করা তৃণমূল নেত্রীর একটি মন্তব্য। ওই সভায় মমতা রামকৃষ্ণ মিশন ও ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কয়েকজন সন্ন্যাসীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বেলডাঙা শাখার কার্তিক মহারাজের নাম করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “সব সাধু সামান হয় না। সব স্বজন সমান হয় না। আমাদের মধ্যেও কি আমরা সবাই সমান? এই যে বহরমপুরের একজন মহারাজ রয়েছেন। আমি শুনেছি অনেক দিন ধরে, কার্তিক মহারাজ। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘকে আমি খুব শ্রদ্ধা করতাম। আমার শ্রদ্ধার্ঘের তালিকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। কিন্তু যে লোকটা বলে, তৃণমূলের এজেন্ট বসতে দেব না, সেই লোকটাকে আমি সাধু বলে মনে করি না। তার কারণ, সে ডাইরেক্ট পলিটিক্স করে দেশটার সর্বনাশ করছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই (Viswa Hindu Parishad) মন্তব্যের পরে পরেই শিলিগুড়িতে রামকৃষ্ণ মিশনে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা।

    আর পড়ুন: “ক্ষমতায় ফিরছে বিজেপি, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ নেই”, বললেন পিকে

    মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি চিঠি

    মুখ্যমন্ত্রীর এহেন মন্তব্যে তোলপাড় হয় রাজ্যও। সোশ্যাল মিডিয়ায় বয়ে যায় নিন্দার ঝড়। বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের কার্তিক মহারাজ। চিঠিতে চার দিনের মধ্যে তাঁর বক্তব্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। চার দিনের মধ্যে জবাব না মিললে মহারাজ আইনি পদক্ষেপ করবেন বলেও জানিয়ে দেওয়া হয় ওই চিঠিতে। মহারাজের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কোনও সারবত্তা নেই। তাঁর সম্মানহানির চেষ্টায় মুখ্যমন্ত্রী অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ ওই সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীর। সাধুদের নিশানা করায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। পদযাত্রার ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন মঠ-মিশন-আশ্রমের সাধু-সন্তরা। এহেন আবহে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা ঠুকে দিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Viswa Hindu Parishad)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Kalash Tribe: ‘আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটে’র ‘হারানো সন্তান’রা পালন করেন হিন্দুধর্ম!

    Kalash Tribe: ‘আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটে’র ‘হারানো সন্তান’রা পালন করেন হিন্দুধর্ম!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশটা ইসলামি। তার ওপর দেশটার নাম পাকিস্তান। সে দেশেই কোনওক্রমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন হাজার চারেক হিন্দু। এ যেন কয়েক হাজার ওয়াটের নিয়ন আলোর সামনে টিম টিম করে জ্বলা লণ্ঠন, কোনওক্রমে চালিয়ে যাচ্ছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই! আজ্ঞে হ্যাঁ, আমরা পাকিস্তানের কালাশ (Kalash Tribe) হিন্দুদের কথাই বলছি। হিন্দুকুশ পর্বতের উপত্যকার জেলা চিত্রালে বাস করেন হাজার চারেক কালাশ সম্প্রদায়ের মানুষ। এঁরা মুসলমান নন।

    হিন্দুত্বের ধ্বজা (Kalash Tribe)

    হিন্দু গণহত্যার আবহেও ইসলামি এক রাষ্ট্রের বুকে এঁরা আজও উড়িয়ে চলেছেন হিন্দুত্বের ধ্বজা। মুসলমানদের কাছে এঁরা ‘কাফের’ নামে পরিচিত। যেহেতু এক সময় এই সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ হিন্দুকুশ পর্বত অঞ্চলে বসবাস করতেন, তাই এই অঞ্চলের নাম ছিল ‘কাফেরস্তান’। ডুরান্ড লাইন বিভক্ত করেছে কাফেরস্তানকে। এদের একটা অংশের শাসক ছিল ব্রিটিশরা। অন্য অংশের বাসিন্দারা ছিলেন আফগান রাজা আমির আবদুর রহমানের অধীনে। নিজের অংশের প্রজাদের ধর্মান্তরিত করা হয়। এলাকার নাম বদলে রাজা করে দেন নুরিস্তান। ব্রিটিশদের অধীনে যাঁরা ছিলেন, তাঁর কালাশই রয়ে যান। এঁরা আজও সংস্কৃত ভাষা গোষ্ঠীর ইন্ডিক ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলেন।

    কোথায় বাস কালাশদের

    কালাশরা (Kalash Tribe) ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন বুম্বুরেট, রুম্বুর ও বিরির এই তিন উপত্যকায়। কালাশ অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে থাবা বসাতে পারেনি মৌলবাদ। এই সম্প্রদায়ের মানুষ পাকিস্তানের শাসন মানেন না। এঁরা নিজেদের গ্রীক বীর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের সৈন্যের বংশধর বলে মনে করেন। তাই হাজার বছর ধরে লড়াই করেও কোনওক্রমে স্বতন্ত্র অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন কালাশরা। কালাশদের দাবি, ইসলামেরও জন্মের আগে ভারতে এসেছিলেন সিকান্দার-ই-আজম (আলেকজান্ডার)। ভারত জয় করে তিনি ফিরে যান গ্রিসে। তাঁর কিছু সৈন্য হিন্দুকুশ অঞ্চলে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে গিয়ে এখানেই থেকে যান। বিয়ে করেন স্থানীয় মহিলাদের। পাকিস্তানের মুসলমানরা যাঁদের কাফের বলেন, হিন্দুকুশের সেই কাফের কালাশরা তাঁদেরই বংশধর। কালাশদের (Kalash Tribe) জীবন বড় বর্ণময়। জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় সব কিছুই নিজেরাই তৈরি করে নেন তাঁরা। জীবিকা নির্বাহের জন্য এঁরা চাষবাস করেন, করেন পশুপালনও। কালাশ সমাজে নারী-পুরুষ সবাই সমান। তবে রজঃস্বলারা বা সন্তানের জন্ম দেওয়ার সময় মহিলাদের বাস করতে হয় গ্রামের প্রান্তের ‘বাশালেনি’ নামের একটি ঘরে।

    কালাশরাও পৌত্তলিকতায় বিশ্বাসী

    হিন্দুদের মতোই কালাশরাও পৌত্তলিকতা (পুতুল পুজো) বা মূর্তিপুজোয় বিশ্বাসী। এঁদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব তিনটি। মে মাসে হয় ‘চিলাম জোশি’, শরৎকালে যে সময় হিন্দুরা পালন করেন নবরাত্রি উৎসব, সেই সময় কালাশরা পালন করেন ‘উচাউ’। আর শীতকালের মাঝামাঝি একটি সময় তাঁরা পালন করেন ‘কাউমুস’ নামের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। দেবতার বাসগৃহকে কালাশরা ‘ডেভালক’ বলেন। ‘কাউমুস’ উৎসবের সময় ‘টক’ গাছের (স্থানীয় ভাষায় জায়গাটার নাম ইন্দানকোট) কাছে জড়ো হন স্থানীয়রা। মন্দিরে হয় পুজো। পুরোহিতরা ভক্তদের গায়ে বুলিয়ে দেন জুনিপার গাছের পাতা। এই উৎসবে ছাগল উৎসর্গ করেন কালাশরা। তাঁদের বিশ্বাস, এই সময় তাঁদের দেবতা ‘বালোমেন’ ঘুরে ঘুরে শোনেন ভক্তদের প্রার্থনা। দেবতার উদ্দেশে এই সময় পাহাড়ে জ্বালানো হয় আগুন-মশাল। বাঁশি বাজিয়ে, ড্রাম বাজিয়ে সেই আগুনের চারপাশে ঘুরতে থাকেন এই সম্প্রদায়ের মানুষ। কালাশদের প্রধান দেবতা ‘বালোমেন’ হলেও, তাঁর ভাই ‘ইনডর’ও পূজিত হন। পুজো পান ‘সরিযান’, ‘গসিদাই’, ‘মুনজেম’ ‘মালিক’, ‘মাহানদিও’, ‘দেজাউ’, ‘জেস্টাক’, ‘ডেজলিক’ নামের দেবতারাও। অর্থাৎ হিন্দুদের মতোই কালাশরাও ঈশ্বরের বহুত্বে বিশ্বাসী। কালাশদের বিশ্বাস, ‘বালোমেনে’র রুদ্ররূপ হলেন ‘জেস্টান’। কুকুরের রূপ ধরে পৃথিবীতে আসেন তিনি।

    কী বলছেন গবেষকরা?

    সংস্কৃত ভাষা নিয়ে চর্চা করেন মিখাইল উইটজেল। ‘দ্য ওরিজিনস অফ দ্য ওয়ার্ল্ডস মিথোলজিস’ গ্রন্থে তিনি বলেছেন, “কালাশ ধর্মের কিছু প্রবাদ, আচার এবং সমাজব্যবস্থার সঙ্গে ঋগ্বেদে বর্ণিত তথ্যের মিল আমি পেয়েছি।” তিনি মনে করেন, কালাশরা প্রাচীন বৈদিক ধর্ম পালন করেন। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ অবশ্য ২০১৪ সালে লিখেছিল, “কালাশদের ডিএনএ বলছে, তাঁরা প্রাচীন ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর বংশোদ্ভুত।” মাইট্রোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ রিপোর্ট বলছে, এশিয়ার সঙ্গে কালাশ উপজাতির জিনগত কোনও সম্পর্ক নেই, মিল রয়েছে পাশ্চাত্যের ইউরেশিয়ানদের।

    আর পড়ুন: “আরএসএসে ছিলাম, ফিরে যেতেও প্রস্তুত”, অবসর নিয়ে বললেন বিচারপতি দাশ

    ইউনিভার্সিটি মাস ডার্টমাউথের ইসলামিক স্টাডির অধ্যাপক তথা লেখক ব্রায়ান গ্লিন উইলিয়াম “দ্য লস্ট চিল্ড্রেন অফ আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট: আ জার্নি টু দ্য পাগান কালাশ পিপল অফ পাকিস্তান” শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন”, ঊনবিংশ শতাব্দীতে কালাশ উপজাতিকে নির্মমভাবে শেষ করার চেষ্টা করেছিল আফগানরা। তাঁদের প্রাচীন মন্দির ও দেবতার কাঠের মূর্তি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন চিহ্ন, সমাজব্যবস্থার ধরন, সংস্কৃতিগত প্রমাণ ও ডিএনএ রিপোর্টও প্রমাণ করতে চলেছে তাঁরা আলেকজান্ডারের সৈন্যদের বংশধর।”

    পণ্ডিতদের একটা অংশের মতে, কালাশরা হিন্দু। নুরিস্তানকে তাঁরা বলেছেন প্রাচীন হিন্দুধর্ম। খ্যাতনামা নুরিস্তান ভাষাতত্ত্ববিদ রিচার্ড স্ট্র্যান্ড বলেন, “ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার আগে নুরিস্তানের বাসিন্দারা প্রাচীন হিন্দু ধর্ম পালন করতেন (Kalash Tribe)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • India Hindu Population: ভারতে হিন্দু জনসংখ্যার হার কমেছে ৮ শতাংশ, তরতরিয়ে বেড়েছে সংখ্যালঘুরা

    India Hindu Population: ভারতে হিন্দু জনসংখ্যার হার কমেছে ৮ শতাংশ, তরতরিয়ে বেড়েছে সংখ্যালঘুরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংখ্যাগুরু হিন্দুদের সংখ্যা (India Hindu Population) দ্রুত কমছে। আর যারা সংখ্যালঘু তাদের বংশলতিকা বাড়ছে বর্ষার লবঙ্গলতিকার মতো। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়ই উঠে এসেছে ভারতের জনসংখ্যার এই ছবি। প্রধানমন্ত্রীর ইকনোমিক অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের (EAC-PM Study) প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৫০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারতে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের সংখ্যা কমেছে ৭.৮ শতাংশ। অথচ এই সময়সীমায় ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে সংখ্যাগুরু (পড়ুন মুসলমান) জনসংখ্যা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

    বেড়েছে সংখ্যালঘু (India Hindu Population) 

    কেবল প্রতিবেশী দেশগুলিতে নয়, ভারতেও যেখানে হিন্দুদের সংখ্যা কমছে, সেখানেও সংখ্যালঘু মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং শিখ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বাড়ছে। আর উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে জৈন ও পার্শিদের সংখ্যা। ১৯৫০ থেকে ২০১৫ এই পঁয়ষট্টি বছরে (India Hindu Population) ভারতে মুসলমান জনসংখ্যার হার বেড়েছে ৪৩.১৫ শতাংশ। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বেড়েছে ৫.৩৮ শতাংশ। জনসংখ্যা বেড়েছে শিখ এবং বৌদ্ধদেরও। শিখদের জনসংখ্যা বেড়েছে ৬.৫৮ শতাংশ। বৌদ্ধদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে সামান্য।

    কমেছে হিন্দুর হার

    সংখ্যালঘুদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তার চেয়ে তুলনায় ঢের কমছে সংখ্যাগুরু হিন্দু জনসংখ্যা (India Hindu Population)। ১৯৫০ সাল থেকে ২০১৫ এই পর্বে ভারতে হিন্দু জনসংখ্যার ভাগ ৮৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৭৮ শতাংশ। এই সময় মুসলমানদের ভাগ ৯.৮৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪.০৯ শতাংশ। ভারতে হিন্দুদের জনসংখ্যা যে হারে কমছে, সেদিক থেকে ভারতের স্থান হয়েছে পড়শি দেশ মায়ানমারের পরেই। এখানে হিন্দু জনসংখ্যা কমেছে ১০ শতাংশ। ভারতে এই হার ৭.৮ শতাংশ। হিন্দুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে ভারতের আর এক প্রতিবেশী দেশ নেপালেও। এখানেও হিন্দুরাই সংখ্যা গরিষ্ঠ। তবে তাদের বৃদ্ধির হার মাত্রই ৩.৬ শতাংশ। যে রিপোর্টের ভিত্তিতে এসব বলা হচ্ছে, তা সংগ্রহ করা হয়েছে বিশ্বের ১৬৭টি দেশ থেকে। গবেষণাপত্রটির লেখকদের মতে, বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভারতে সংখ্যালঘুরা কেবল নিরাপদেই রয়েছেন তা নয়, তাঁরা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে গোটা দেশে (India Hindu Population)।

    এগিয়ে বাংলাদেশ

    সংখ্যাগুরু হওয়া সত্ত্বেও ভারতে যেখানে হিন্দুদের সংখ্যা কমছে, সেখানে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে সংখ্যাগুরু মুসলমানদের সংখ্যা বাড়ছে তরতরিয়ে। সব চেয়ে বেশি বেড়েছে বাংলাদেশে। এদেশে মুসলমান বেড়েছে ১৮.৫ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে পাকিস্তান। সেখানে বেড়েছে ৩.৭৫ শতাংশ। এই তালিকার একেবারে শেষে রয়েছে আফগানিস্তান। সেখানে বেড়েছে মাত্রই ০.২৯ শতাংশ। গবেষণাপত্রটির লেখক শমিকা রবি, আব্রাহাম জোশ এবং অপূর্বকুমার মিশ্র। তাঁরা বলছেন, পাকিস্তানে হানিফ মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে ৩.৭৫ শতাংশ। এদেশে সামগ্রিকভাবে মুসলমানের সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশ। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পরেও পাকিস্তানে অব্যাহত মুসলমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার। ভারতের পূর্ব দিকের প্রতিবেশী মায়ানমার। সেখানে জনসংখ্যার হার কমেছে ব্যাপকভাবে। ১৯৫০ থেকে ২০১৫ এই সময়সীমায় সে দেশে থেরাভাদা বৌদ্ধদের সংখ্যা কমে গিয়েছে ১০ শতাংশ। এদেশে এরাই সংখ্যাগুরু (India Hindu Population)। গবেষণায় জানা গিয়েছে, ভারত এবং মায়ানমারের পরে নেপালে সংখ্যাগুরু হিন্দুদের জনসংখ্যা কমেছে ৩.৬ শতাংশ।

    পিছিয়ে মলদ্বীপও

    ভারত মহাসাগরের বুকে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র মলদ্বীপ। এখানেও মুসলমানেরাই সংখ্যাগুরু। তবে এঁরা সফি সুন্নি সম্প্রদায়ের মুসলমান। কমেছে এঁদের হারও। সংখ্যাতত্ত্বের হিসেবে ১.৪৭ শতাংশ। ভারতের আরও দুই প্রতিবেশী দেশে বৌদ্ধরা সংখ্যাগুরু। এই দুই দেশের একটি হল ভুটান, অন্যটি শ্রীলঙ্কা। চলতি বছরের মে মাসে যে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে ভুটানে বৌদ্ধ জনসংখ্যার হার বেড়েছে ১৭.৬ শতাংশ। আর শ্রীলঙ্কায় এই হার ৫.২৫ শতাংশ। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘুদের মোট জনসংখ্যার শেয়ারের পরিবর্তন থেকে ওই দেশের সংখ্যালঘুদের স্টেটাস কী, তা বোঝা যায়।

    আরও পড়ুুন: পাকিস্তানের হাতে সিয়াচেন তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সোনিয়া গান্ধী?

    বিশ্বেও হ্রাস পাচ্ছে সংখ্যাগুরুরা

    ওই গবেষণা থেকে আরও জানা গিয়েছে, কেবল ভারতেই (India Hindu Population) নয়, গোটা বিশ্বেই কমছে সংখ্যাগুরুদের বৃদ্ধির হার। চিন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড এবং পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের কথা অবশ্য আলাদা। এই দেশগুলিতে ভারতের চেয়ে বেশি বেড়েছেন সংখ্যালঘুরা। বিশ্বের যে ১৬৭টি দেশে ধর্মীয় জনগণনা করা হয়েছিল, সেখানে গড়ে জনসংখ্যা কমেছে ২২ শতাংশ (১৯৫০-২০১৫ এই সময় সীমায়)। লাইবেরিয়ায় কমেছে ৯৯ শতাংশ। আর নাবিমিয়ায় বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ১২৩টি দেশে সংখ্যাগুরুদের সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    ভারতে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ

    কী কারণে ভারতে বাড়ছে সংখ্যালঘুরা? গবেষণা থেকে জানা গিয়েছে, ভারতে সংখ্যালঘুরা যে নিরাপদেই রয়েছেন, এটা তার একটা বড় প্রমাণ। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সংখ্যাগুরুদের জনসংখ্যা হ্রাসের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রমাণ করে দেশের নীতি রয়েছে সঠিক পথে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও রয়েছে ঠিকঠাক। তার জেরেই জনসংখ্যা বাড়ছে সংখ্যালঘুদের। ভারতের যে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বাতাবরণ রয়েছে, তাও যে সত্য, তা প্রমাণিত এ দেশে সংখ্যালঘুদের বাড়বাড়ন্তে (India Hindu Population)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

LinkedIn
Share