Tag: Hindus

Hindus

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ, অস্তিত্বের সঙ্কটে সনাতনীরা!

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ, অস্তিত্বের সঙ্কটে সনাতনীরা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর অব্যাহত নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণ। দেশ তো বটেই, বিদেশেও নিত্য ঘটে চলেছে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার (Hindus Under Attack)। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে চলতে থাকা এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বের অনেক অংশ এই আক্রমণের প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করেছে, যা মূলত হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ ও পক্ষপাতদুষ্টতার জের (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত—হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ ও নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের মুখোমুখি হচ্ছেন। চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সেগুলি। বিশ্বজুড়ে মানুষ যাতে এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হয়, তাই।

    ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (Hindus Under Attack)

    ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ চলচ্চিত্র সিরিজের দ্বিতীয় অংশের শুরুতেই একটি দৃশ্যে দেখা যায় এক তরুণী আত্মহত্যা করেছে, তার মাথা মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে আনুজা নামের এক তরুণীর বাস্তব ঘটনাই এই দৃশ্যের নেপথ্যের কাহিনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কৌতুক অভিনেতা নাসির আখতারের একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো, যেটি ৮ মার্চ বেঙ্গালুরুর কোরামাঙ্গালায় ‘মিনিস্ট্রি অব কমেডি’তে হওয়ার কথা ছিল, তা বাতিল করা হয়। হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, তিনি আগে হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিকে অপমান করেছেন। দিল্লিতে তরুণ তরুণ কুমার বুটোলিয়াকে হত্যা করেছে কয়েকজন মুসলিম। অভিযোগ, ১১ বছরের এক নাবালিকার ছোড়া জলভরা রঙিন বেলুন দুর্ঘটনাবশত এক মুসলিম মহিলার গায়ে পড়ে যায় (Hindus Under Attack)। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে তরুণ হত্যার ঘটনা। যা বড়জোর একটি পাড়ার ঝগড়া হওয়ার কথা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত আকার নেয় গণপিটুনির।

    ইসলামপন্থী যুবকদের অত্যাচার

    রাজস্থানের আলওয়ার জেলার আরাবল্লি বিহার এলাকায় একটি প্রাচীন শিব মন্দিরে শিবলিঙ্গ ভাঙচুর করা হয়। মন্দির লাগোয়া এলাকায় মেলে মৃত বাছুর। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় (Roundup Week)। কর্নাটকের কপ্পাল জেলায় ভেঙ্কটেশ নামের এক ব্যক্তিকে ইসলামপন্থী যুবকদের একটি দল মারধর করে বলে অভিযোগ। তিনি তাঁর মুসলিম বন্ধু আজির এবং তাঁর স্ত্রী আফিয়ার পারিবারিক বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন (Hindus Under Attack)। এই রাজ্যেরই বাগালকোট জেলায় সাফিক নামে এক মুসলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে এক হিন্দু মহিলাকে নাম ভাঁড়িয়ে বিয়ে করে। তাঁকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে। পরে নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি।

    লাভ জেহাদ

    পুনে জেলার নহাভি গ্রামের নিউ ইংলিশ স্কুলে অভিযোগ ওঠে যে কপালে তিলক লাগানো ছাত্রদের ক্লাসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় হিন্দু সংগঠনগুলির মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। মোনালিসা ভোঁসলে নামে ১৮ বছরের এক হিন্দু তরুণীর কেরালায় গিয়ে জনৈক ফারমান খানকে বিয়ে করা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে প্রভাবিত করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগরে ২২ বছরের এক হিন্দু তরুণী পরিবারের সদস্যদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় মুসলিম প্রেমিকের সঙ্গে। পরিবারের অভিযোগ, এটি ‘লাভ জেহাদে’র ঘটনা (Roundup Week)।

    বাংলাদেশেও হিন্দুদের ওপর আক্রমণ

    এ তো গেল সপ্তাহান্তে দেশের ছবিটা। বাংলাদেশেও হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ধারাবাহিক নির্যাতনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব লুপ্ত হয়ে যেতে পারে। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবকে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কুমিল্লা শহরের কালীগাছতলা মন্দিরে একটি হাতবোমা হামলায় মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী-সহ অন্তত তিনজন জখম হন। শনি পুজো চলার সময় তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মন্দিরে ঢুকে বোমা ছোড়ে বলে জনান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    হিন্দু খুন

    নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করা হলেও, আদতে তা হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নতুন সরকারের মাত্র ২০ দিনের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাতজন নিহত হয়েছে বলে খবর।ফেনীতে ১৬ বছর বয়সী হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত সাহা ডাকাতদের হাতে নিহত হয়েছে। কক্সবাজারে গণেশ পাল নামে এক হিন্দু ব্যক্তি চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে ছুরি দিয়ে খুন করা হয়েছে বলে খবর। সাতক্ষীরা শহরের ‘মায়ের বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বড় মন্দির কমপ্লেক্সে চুরি হয়েছে। বিগ্রহের সোনার গয়না এবং দানবাক্সের টাকা চুরি হওয়ায় স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)।

    প্রি-স্কুলে হোলি উদযাপন নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রি-স্কুলে হোলি উদযাপন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক মার্কিন নাগরিক ওই অনুষ্ঠান নিয়ে সমালোচনা করায় তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বস্তুত, অনেক ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত বলে অভিযোগ করা হয়। কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে এই বিদ্বেষকে উৎসাহিত করা হয় বলে দাবি সমালোচকদের। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা দেখা গেলেও, ভারতের মতো তথাকথিত কিছু ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্মভাবে হিন্দু-বিদ্বেষ দেখা যায় বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার বিষয়টির উল্লেখ করা হয়। যা আপাতভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কারণ হলেও, সমালোচকদের মতে এতে রয়েছে দ্বৈত মানদণ্ড।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত

    Hindus Under Attack: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) চলছে অবাধে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন একটি পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে তা ধীরে ধীরে গণহত্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে (Roundup Week)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপকতাকে উপেক্ষা করেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য – সব মিলিয়ে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটে। যার জেরে নজিরবিহীনভাবে চড়ছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার পারদ। ১ মার্চ থেকে ৭ মার্চ, এই সময়ে দেশ-বিদেশে কী কী ঘটনা ঘটেছে, তা একবার দেখে নেওয়া যাক, যাতে বিশ্বব্যাপী মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

    হৃষিকেশ কীর্তন ফেস্ট (Hindus Under Attack)

    প্রথমে দেখে নেওয়া যাক এই সপ্তাহের ছবিটা। হৃষিকেশ কীর্তন ফেস্ট, ২০২৬ থেকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ভারতীয় অনুষ্ঠানের প্রবেশদ্বারে একজন বিদেশি কর্মীর সঙ্গে তর্কাতর্কি করছেন। অভিযোগ, স্থানীয় দর্শনার্থীদের প্রবেশে বাধা দিয়ে বিদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছিল। দেরাদুন র’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজে ভিডিওটি শেয়ার হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে এটি ৩,৭৮,০০০-এরও বেশি ভিউ পায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। মাডিকেরি তালুকের নাপোকলু গ্রামে জনৈক গৌতমকে আক্রমণ করে একদল মুসলিম যুবক। হিন্দু যুবকেরা একটি পিকআপ গাড়িতে করে বললামাভাট্টিতে অনুষ্ঠিতব্য হিন্দু সমাবেশ সম্পর্কে মাইকিং করছিলেন। অভিযোগ, কিছু ইসলামপন্থী যুবক মাইক ব্যবহারের বিরোধিতা করে এবং নাপোকলু শহরের পোনাড সুপারমার্কেটের কাছে কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর জখম অবস্থায় গৌতমকে চিকিৎসার জন্য মাডিকেরির জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (Roundup Week)।

    সংবাদমাধ্যমগুলির প্রবণতা

    এদিকে, ভারতের প্রধান ইংরেজি সংবাদমাধ্যমগুলির এক দশকের প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অন্তত ১২টি বড় সংবাদমাধ্যম হোলি উৎসবকে বিপদ, রোগ, পরিবেশগত ক্ষতি এবং জনশৃঙ্খলার ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, এই একই পর্বে রমজানকে প্রায় একচেটিয়াভাবে পবিত্র, স্বাস্থ্যকর, শান্ত ও দান-ধ্যানের মাস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই বৈপরীত্য কেবল তথ্য বা বিজ্ঞানের বিষয় নয়, এটি একটি বর্ণনাগত পক্ষপাতকে ইঙ্গিত করে (Hindus Under Attack)।

    হোলিকা দহন উপলক্ষে উত্তেজনা

    জনৈক চন্দ্রশেখরকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেইনি সম্পর্কিত একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে ইসলামপন্থী যুবকদের একটি দল আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কর্নাটকের কপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী শহরে উত্তেজনা ছড়ায়। রাজকোটের ভাগবতীপাড়া এলাকায় হোলিকা দহন উপলক্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই মুসলিম যুবক মোটরসাইকেলে করে আগুনের কাছে বিপজ্জনকভাবে স্টান্ট করছিল। এতে উৎসবে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। পুথিলা পরিবার সংগঠনের কর্মীদের অভিযোগ, পুত্তুরে চলচ্চিত্র “দ্য কেরালা স্টোরি ২”-এর বিনামূল্যে প্রদর্শনী বন্ধ করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে এসেছে হুমকিমূলক ফোন। আয়োজকদের মতে, ফোনকলগুলিতে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়, দেওয়া হয় হুমকিও (Hindus Under Attack)।

    হোলি উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

    গত ৪ মার্চ দেরাদুনের গান্ধী গ্রাম এলাকায় হোলি উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এক মুসলিম ব্যক্তি বছর পঁয়ষট্টির এক হিন্দু মহিলাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘটনাটির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই উত্তেজনা ছড়ায়। দাবি ওঠে দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়ার (Roundup Week)। এদিকে, বাংলাদেশে অব্যাহত হিন্দুদের ওপর আক্রমণ। ধীরে ধীরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ধারাবাহিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নির্যাতনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

    দেশছাড়া করার কৌশল

    মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্মনিন্দার অভিযোগে গণআক্রমণ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য—এসবই হিন্দুদের আতঙ্কিত করে দেশছাড়া করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে (Hindus Under Attack)। ভোলায় কীর্তন শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক হিন্দু বোবা মহিলাকে সারারাত ধরে ধর্ষণ ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় নাম জড়ায় মোহাম্মদ রাকিব, মোহাম্মদ শাকিল ও মোহাম্মদ রাসেলের। রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি একটি অটোরিকশায় উঠেছিলেন। চালক রাকিব তাঁকে বাড়ি না নিয়ে গিয়ে শশীগঞ্জ গ্রামের একটি নির্জন সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানেই তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ (Roundup Week)।

    চাঁদা আদায়কারীদের হামলা

    চট্টগ্রামে চাঁদা আদায়কারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন আকাশ দাস। তিনি ধোপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাবুল দাসের ছেলে। চট্টগ্রামের চান্দনাইশ উপজেলায় ডাকাতদের গুলিতে নিহত হন বছর সত্তরের চন্দন দে (Hindus Under Attack)। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল গ্রামে মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলায় অন্তত ১০ জন জখম হন, যাঁদের মধ্যে এক মহিলাও ছিলেন। বস্তুত, বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধ হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ দ্বারা প্রভাবিত, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে নিহিত। ইসলামি দেশগুলিতে এই ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান এবং জনপরিসরেও একটি সূক্ষ্ম হিন্দু-বিরোধী মনোভাব দেখা যায়।

    এই সূক্ষ্ম বৈষম্য অনেক সময় চোখ এড়িয়ে যায়, যদি না আইন ও সামাজিক প্রবণতাগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা প্রবণতার কথা উল্লেখ করা যায়। আপাতদৃষ্টিতে এটি পরিবেশগত সিদ্ধান্ত বলে মনে হলেও, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর (Roundup Week) বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, সবসময় যার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা মেলে না (Hindus Under Attack)।

     

  • CAA: সিএএ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যকর করল কেন্দ্র, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    CAA: সিএএ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যকর করল কেন্দ্র, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন (CAA) অনুযায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে রাজ্যে আইনটির অধীনে আবেদনগুলি প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের কথাও জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপটি এমন একটা সময়ে নেওয়া হল, যখন পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে এবং সিএএকে বৈষম্যমূলক বলে বিরোধিতা করে আসছে।

    সরকারি নির্দেশিকা (CAA)

    অতিরিক্ত সচিব নীতেশ কুমার ব্যাস জারি করা এক নির্দেশিকায় বলেন, “নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর ধারা ৬বি(১) এবং নাগরিকত্ব বিধি, ২০০৯-এর বিধি ১১এ(১) ও (৩) অনুসারে প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের সেনসাস অপারেশন্স দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেলকে কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ করছে।” নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিটির সদস্যদের মধ্যে থাকবেন— সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর একজন ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যায়ের আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন আধিকারিকের (FRRO) মনোনীত প্রতিনিধি, পশ্চিমবঙ্গের ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার (উভয়েই আন্ডার সেক্রেটারি পর্যায়ের নীচে নন), এবং পোস্টমাস্টার জেনারেল বা মনোনীত ডেপুটি সেক্রেটারি পর্যায়ের ডাক বিভাগের আধিকারিক।

    নাগরিকত্ব আইন

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই নির্দেশের মাধ্যমে নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬বি এবং নাগরিকত্ব বিধির ১১এ/১৩এ অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করে সিএএ-র কাঠামো কার্যকর করা হল। এর আগে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশে নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য একটি সর্বভারতীয় কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে কার্যকর করার জন্য রাজ্যভিত্তিক কমিটি গঠনের প্রয়োজন ছিল। এই কমিটির কাজ হবে— সিএএ-তে নির্ধারিত যোগ্য নির্যাতিত সংখ্যালঘু আবেদনকারীদের আবেদন যাচাই করা, জেলা পর্যায়ের যাচাইকরণ সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করা এবং নাগরিকত্ব মঞ্জুর বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া। আরও বলা হয়েছে, বৈঠকে দু’জন আমন্ত্রিত সদস্য থাকবেন। একজন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি (গৃহ) বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (গৃহ) দফতরের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।

    কী বলছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক 

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মতে, এই বিজ্ঞপ্তি ২০২৪ সালের ১১ মার্চের নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মাধ্যমে অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটিগুলির কাজ হল পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্যাতিত অ-মুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই ও প্রদান করা। ২০২৪ সালে সরকার নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯ কার্যকর করে এবং সংশ্লিষ্ট বিধি জারি করে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আগত অনথিভুক্ত অ-মুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করে। এখন সিএএর অধীনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আগত নির্যাতিত অ-মুসলিম অভিবাসী— হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পার্শি ও খ্রিস্টানদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মার্কিন মুলুকেও

    Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মার্কিন মুলুকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান কর্মসূচি শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। শনিবার দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের কেন্দ্রে বিপুল (Hindus) সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংসার প্রতিবাদে র‍্যালি করে। মার্কিন মুলুকের অন্তত ২২টিরও বেশি শহরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঘটনা প্রতিবাদের ব্যাপকতা, তীব্রতা এবং বাংলাদেশে হিংসার ভয়াবহতা ও তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

    বিরাট জমায়েত (Bangladesh)

    ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্টেসিয়া শহরে অন্যতম বৃহৎ জমায়েত দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মনোযোগ দাবি করেন এবং ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহির আহ্বান জানান। কারণ তাঁর শাসন কালেই দেশে উগ্রপন্থী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রতিবাদকারীরা বাংলাদেশে শান্তি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে “ওম শান্তি”-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভগুলি ছিল শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও রাজনৈতিকভাবে শালীন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য গঠিত গ্লোবাল কোয়ালিশনের মিডিয়া প্রতিনিধি গীতা সিকান্দ বলেন, “এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যই হল বিশ্ববাসীর দৃষ্টি দুর্বল ও নির্যাতিত সম্প্রদায়ের যন্ত্রণার দিকে আকর্ষণ করা। আমরা সুরক্ষা, জবাবদিহি ও শান্তি চাই।”

    সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের নিদর্শন

    সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের নিদর্শন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ও এই বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তোলে (Hindus)। আমেরিকার পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে র‍্যালি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শীতপ্রধান অঞ্চলে মাইনাস তাপমাত্রার মধ্যেও মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের সাফ কথা, বাংলাদেশের সঙ্কট আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানায়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হিংসার পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে এবং ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ নিরীহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে উগ্রপন্থী উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁরা বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষারও আহ্বান জানান (Bangladesh)।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতার বক্তব্য

    মানবাধিকার সংগঠনগুলি আরও উল্লেখ করে যে, ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশে একাধিকবার সাম্প্রদায়িক হিংসা ও উগ্রপন্থী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বারবার নিশানায় এসেছে। তবে ইউনূসের রাজত্বে এই নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুরেন্দ্র শর্মা বলেন,
    “সমষ্টিগত কণ্ঠস্বর তোলা হচ্ছে প্রথম ধাপ। আমরা সব সম্প্রদায়ের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা চাই।” প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে আরও গভীর সঙ্কটে তলিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তাও জানান তিনি। অভিযোগ, ইউনূস জমানায় উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলি আরও শক্তি সঞ্চয় করেছে, যার ফলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। প্রশাসনের ব্যর্থতায় দেশটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে (Hindus)। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা বাংলাদেশকে কার্যত নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্ষমতালোভী গোষ্ঠীগুলি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রশ্নে নীরব রয়েছে (Bangladesh)।

    পরিস্থিতির গুরুত্ব

    বাংলাদেশে বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা পরিস্থিতির গুরুত্বই প্রতিফলিত করে। গত সপ্তাহে ব্রিটেনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে লেবার সরকারের কাছে বাংলাদেশে ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চললেও এবং ঢাকায় নতুন ক্ষমতাকাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও, হিন্দু সংখ্যালঘুদের জীবন ও অধিকার এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে—যেখানে তাঁদের ওপর হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটছে (Bangladesh)। ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, ব্রিটেন এবং আমেরিকায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ ও কণ্ঠস্বর বাংলাদেশে হিন্দুদের জীবনরক্ষায় একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই (Hindus) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Hindus Under Attack: হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চলছেই, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চলছেই, দেখে নিন এই সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ- উভয় ক্ষেত্রেই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের (Hindus Under Attack) ওপর হামলা ক্রমাগত ঘটে চলেছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Roundup Week)। বহু দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে করে করে করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—সব মিলিয়ে হিন্দুরা আজ তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে অভূতপূর্ব মাত্রায় বাড়ছে হিন্দু-বিদ্বেষও। গত ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ এই সপ্তাহে সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এই ধরনের অপরাধের একটি চিত্র তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন।

    কর্নাটক (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই আসা যাক, ভারতের কথায়। কর্নাটকের হাভেরি জেলার ব্যাদগি তালুকের মল্লুর গ্রামে দান করা একটি জমির ওপর নির্মিত একটি সরকারি উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকালে দান করা অংশের বাইরের জমিও দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ দাতা পরিবারের সদস্য বীরাপ্পা কুলকার্নির। তিনি দখলকরা জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিজয়নগর জেলার হোসপেটেতে ভয়াবহ ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রেলওয়ে স্টেশন রোড সংলগ্ন চাপালাগাড্ডা এলাকায় একটি বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হয় এক মহিলার গলাকাটা দেহ। নিহতের নাম উমা (৩৫), তিন সন্তানের জননী। দাম্পত্য কলহের কারণে তিনি প্রথম স্বামী রঘু ওরফে রামাঞ্জনেয়ার থেকে প্রায় ছ’বছর ধরে আলাদা ছিলেন এবং বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকতেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিনি চার মাস আগে খাজা হুসেন নামে এক ইসলামপন্থী ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন (Hindus Under Attack)।

    পুলিশের হাতে সমাজকর্মী

    গভীর রাতে ব্যানারঘাট্টা পুলিশের হাতে সমাজকর্মী পুনীত কেরেহল্লির গ্রেফতারি নিয়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে (Roundup Week)। অভিযোগ, বেআইনি বাংলাদেশি অভিবাসী বসতি নিয়ে নাগরিক নজরদারি দমন করতেই এই পুলিশি পদক্ষেপ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মুক্তির দাবিতে ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে। এদিকে, গত সাত বছরে একটি ভয়াবহ প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। মুসলিম হিজড়ারা হিন্দু হিজড়াদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, শারীরিক নিপীড়ন, হুমকি ও মানসিক নির্যাতন করছেন (Hindus Under Attack)। বেলাগাভি জেলার এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মহম্মদ সাহিল নামে এক ইসলামপন্থী ব্যক্তি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ ও ধর্মান্তরের চেষ্টা করে। বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।

    লাভ জেহাদ

    উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় লাভ জেহাদের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। সুমেরপুরের এক নাবালিকা হিন্দু মেয়েকে প্রলুব্ধ করে ধর্ষণ, অশ্লীল ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং ধর্মান্তরের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সনাতনী সংগঠন ও ব্যবসায়ীরা বাজার বন্ধ করে প্রতিবাদ জানান (Roundup Week)। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া দুটি ঘটনায় নয়া বিতর্কে জড়িয়েছেন। বেলাগাভিতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে গেরুয়া পাগড়ি পরতে অস্বীকার করা এবং বেঙ্গালুরুতে এক ভক্তের দেওয়া গুরু রাঘবেন্দ্র স্বামীর ছবি ফিরিয়ে দেওয়া। এতে কংগ্রেস সরকারের তথাকথিত ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নিয়েই উঠছে প্রশ্ন (Hindus Under Attack)।

    মুসলমান ইনফ্লুয়েন্সার

    কেরলে সোশ্যাল মিডিয়া মুসলমান ইনফ্লুয়েন্সার শিমজিথা মুস্তাফার অভিযোগের পর ৪২ বছরের ইউ দীপক আত্মহত্যা করেন। ভাইরাল ভিডিওর জেরে জনসমক্ষে অপমানিত হয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে পরিবারের অভিযোগ। কেরল মানবাধিকার কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। উদুপিতে শতাব্দীপ্রাচীন পার্যায়া উৎসবে জেলা প্রশাসনের অংশগ্রহণ নিয়ে কংগ্রেস-বিজেপি সংঘাত তৈরি হয়েছে। কেসরি পতাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক। মেকআপ আর্টিস্ট রুচিকা শর্মা দাবি করেন, হিন্দু দেবী মারিয়াম্মা ও খ্রিস্টান মেরি একই, যা মিশনারি যুগের পুরনো মিথ্যাকে আবার প্রচার করেছে (Hindus Under Attack)। বেঙ্গালুরুর কাদুগোডি এলাকায় রোড রেজের ঘটনায় ইসলামপন্থী সৈয়দ আরবাজ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অবিরাম এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না (Roundup Week)। সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক হিন্দু শিক্ষকের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। গোয়ালন্দ মোড়ে পেট্রোলের দাম না দিয়ে পালাতে গিয়ে এক হিন্দু কর্মী রিপন সাহাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হয় (Hindus Under Attack)।

    বিদেশ

    অস্ট্রেলিয়ার খাদ্য সংস্থা মন্ডেলেজ ইন্টারন্যাশনালের পণ্যে গোপনে গরুর মাংস ব্যবহারের অভিযোগে বিশ্বজুড়ে হিন্দুরা ক্ষমা প্রার্থনার দাবি তুলেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ক্যারিতে শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। হিন্দু সংগঠনগুলি একে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। ইসলামি দেশগুলিতে এই বিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দেশগুলিতেও সূক্ষ্ম ও প্রাত্যহিক বৈষম্য হিন্দু-বিদ্বেষকে উসকে দিচ্ছে। দীপাবলিতে বাজি নিষেধাজ্ঞা তার একটি উদাহরণ। এটি আপাতদৃষ্টিতে পরিবেশগত হলেও, বাস্তবে দ্বিচারিতার পরিচয় দেয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু বিদ্বেষ, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং বিদেশ, সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নিপীড়ন এমন একটা অবস্থায় পৌঁছেছে, যা ধীরে ধীরে আমাদের চোখের সামনেই একপ্রকার গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। গত কয়েক দশক ধরে গভীর ও উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষের জেরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত ব্যাপ্তি ও ভয়াবহতা উপেক্ষা করে এসেছে (Roundup Week)। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষ।

    মানবাধিকার সঙ্কট (Hindus Under Attack)

    ২০২৬ সালের ১১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এমন কিছু ঘটনার একটি ছবি তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই গুরুতর মানবাধিকার সঙ্কট সম্পর্কে সচেতন হন। প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। মাদ্রাজ হাই কোর্ট তিরুপ্পারনকুন্দ্রমে অবস্থিত অরুলমিগু সুব্রহ্মণ্য স্বামী মন্দিরের নির্বাহী আধিকারিককে কড়া প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। মন্দিরের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষিত জমিতে একটি দরগার পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। আদালতের মন্তব্য, এই কাজটি ফৌজদারি অনধিকার প্রবেশের শামিল।

    অধ্যাপকের অভিযোগ

    আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রবীণ অধ্যাপক রচনা কৌশল প্রায় তিন দশক ধরে চলা ধর্মীয় বৈষম্য ও মানসিক হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, ধারাবাহিক নিপীড়নের ফলে এমন এক শত্রুতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যার কারণে ২০০৪ সালে যমজ সন্তানের গর্ভধারণের সময় তাঁর গর্ভপাত ঘটে। এএমইউয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া অডিও রেকর্ডিং ও নথিপত্রের ভিত্তিতে করা এই অভিযোগ একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার মারাত্মক লঙ্ঘন এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক হয়রানির চিত্র তুলে ধরে (Hindus Under Attack)।

    রাম’ শব্দে বিতর্ক

    ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলায় সরকারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার একটি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ঘিরে ৮ জানুয়ারি বিক্ষোভ ছড়িয়ে (Roundup Week) পড়ে। প্রশ্নে একটি কুকুরের নাম হিসেবে বিকল্পের মধ্যে ‘রাম’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ৭ জানুয়ারির পরীক্ষায় প্রশ্নটি ছিল—‘মোনার কুকুরের নাম কী?’ বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ‘বালা’, ‘শেরু’, ‘নো ওয়ান’ এবং ‘রাম’। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলির অভিযোগ, এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটির হুলিমাঙ্গলা এলাকায় এক উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী হল শহরটি। অবৈধ ইসলামি বসতি উচ্ছেদ অভিযানের সময় এক ইসলামপন্থী মহিলা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেসিবি মেশিন দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সময় এই ঘটনা ঘটে। পরে হেব্বাগোডি থানার পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব

    দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় ফয়েজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে পুরনিগমের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘটিত হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত মহম্মদ ইমরানকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ (Roundup Week)। পাকিস্তানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে হিন্দু সংখ্যালঘু নাবালিকা মেয়েদের অপহরণ, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বিয়ে একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু সিন্ধ প্রদেশেই প্রতি বছর অন্তত ১,০০০ সংখ্যালঘু মেয়ে এ ধরনের যৌন দাসত্বের শিকার হয়। এছাড়াও পাকিস্তানের হিন্দুরা প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বৈষম্য এবং অবহেলার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে হিন্দু মন্দিরে ঘনঘন হামলা, শিক্ষাক্রমে হিন্দুবিদ্বেষী উপস্থাপন, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার বৈরী মনোভাব, মৌলিক অধিকার অস্বীকার এবং এমনকি অস্পৃশ্যতার মতো সামাজিক বৈষম্য। পাকিস্তানে ভিল (Bheel) সম্প্রদায়ের মহিলাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনাটি পাকিস্তানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের করুণ অবস্থার আর একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।

    প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত

    পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে প্রভাবশালী এক জমিদারের গুলিতে কাইলাস কোলহি নামে এক প্রান্তিক ভাগচাষি নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড সংখ্যালঘু গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। গ্রামীণ সিন্ধে সামন্ততান্ত্রিক হিংসা, সংখ্যালঘু অধিকার ও বিচারহীনতার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি আবারও সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে পদক্ষেপ ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের সুরক্ষার দাবিতে সড়ক ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে (Roundup Week)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা অব্যাহত এবং পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধীরে ধীরে দেশছাড়া করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের গবেষণা অনুযায়ী, কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এইসব পদ্ধতি ব্যবহার করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

    দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত

    বাংলাদেশ পুলিশ ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত এক মসজিদের ইমাম ইয়াসিন আরাফতকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতারিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ঘটনাটি বাংলাদেশ-সহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল এবং ভারত থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছিল। শরীয়তপুর জেলায় সংঘটিত এক নৃশংস হামলায় জখম হয়ে বছর পঞ্চাশের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে খবর। তিনি ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের বাসিন্দা এবং একটি ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মালিক ছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর রাতে কেওড়ভাঙা বাজারের কাছে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় (Roundup Week)।

    হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ড

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে এক হিন্দু ব্যক্তির নতুন হত্যাকাণ্ডে। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা জয় মহাপাত্রকে স্থানীয় এক ব্যক্তি মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং পরে বিষ প্রয়োগ করে বলে পরিবারের অভিযোগ। তাঁকে সিলেটের এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Hindus Under Attack)। উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক ঘটনায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে একটি খালে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান মিঠুন সরকার নামে একজন। এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হিংসার আর একটি উদাহরণ। পাবনা জেলার প্রখ্যাত হিন্দু সংগীতশিল্পী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের প্রবীণ নেতা প্রলয় চাকীর মৃত্যু হয়েছে পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

    ঘৃণাজনিত অপরাধ

    বেশিরভাগ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে হিন্দুবিদ্বেষ, যা কিছু ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভেতরে প্রোথিত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা প্রকাশ্য ও স্পষ্ট হলেও, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও জনপরিসরে হিন্দুবিদ্বেষের আর একটি সূক্ষ্ম রূপ রয়েছে, যা হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে (Roundup Week)। এই সূক্ষ্ম ও দৈনন্দিন বৈষম্য সহজে চোখে পড়ে না, যদি না বিদ্যমান আইন ও তার প্রয়োগের ধরন এবং সামগ্রিক প্রবণতাগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে বাজি পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। আপাতদৃষ্টিতে এটি দূষণ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ এবং এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে সুসংগত যুক্তির অভাব লক্ষ্য করলে সংশ্লিষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডই স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

     

  • Hindus Under Attack: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু ও হিন্দুধর্মের ওপর হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে (Hindus Under Attack)। বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন এক রূপ নিয়েছে, যা ধীরে ধীরে গণহত্যার চেহারা নিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা (Roundup Week)। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করে এসেছে, যার নেপথ্যে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দুবিদ্বেষ। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মুখোমুখি এক অভূতপূর্ব সংকটের। ৪ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ এই সময়কালের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনই কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হল, যাতে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এই মানবাধিকার সঙ্কটের দিকে ফেরানো যায়। প্রথমেই দেখে নেওয়া ভারতের ছবিটা।

    কর্নাটক (Hindus Under Attack)

    উত্তর কানাড়া জেলার ইয়েল্লাপুর শহরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কালাম্মা নগরের বাসিন্দা রঞ্জিতা নামের এক তরুণী ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর জখম হয়ে মারা যায়। অভিযোগ, ইসলামপন্থী যুবক রফিক তার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর জেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন হত্যার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচার চেয়ে ইয়েল্লাপুর বন্‌ধের ডাক দেয়। ঘটনায় লাভ জেহাদের সন্দেহ আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে (Hindus Under Attack)।

    পূর্ব মেদিনীপুর

    পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গড়কমলপুর পঞ্চায়েতের কাঁঠালপট্টি এলাকায় নির্মীয়মাণ মা বসন্তী দুর্গা এবং দেবী সরস্বতীর একাধিক প্রতিমা অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ (Roundup Week)।

    হিন্দুদের মিছিলে পাথর

    জগজীবনরাম নগর এলাকায় ওম শক্তি ও আয়্যাপ্পা স্বামী ভক্তদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দুই মহিলা আহত হন, তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মধ্যপ্রদেশের শিওপুর জেলায় একটি খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় বজরং দলের হস্তক্ষেপ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটির দাবি, ‘প্রার্থনা সভা’ ও ‘হিলিং সেশনে’র আড়ালে সমাজের দুর্বল অংশকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সমাজকে ভাঙার চেষ্টা চলছে (Hindus Under Attack)।

    বৃন্দাবনে নাবালিকা উদ্ধার

    উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার বৃন্দাবনে হোটেলের একটি ঘর থেকে দিল্লির এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরী ও এক মুসলিম যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায় ওই হোটেলে। ঘটনাটি হিন্দু মেয়েদের যৌন ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরণের ধারাবাহিক চেষ্টার আরও একটি উদাহরণ বলে দাবি স্থানীয়দের।

    নাবালিকা ধর্ষণ

    উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে ২২ বছরের রেহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের ছলে সে ১৭ বছরের এক হিন্দু নাবালিকাকে দুবছর ধরে ধর্ষণ করে এবং জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালায়।
    মেয়েটিকে আজমীর দরগায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরের পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মথুরা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অব্যাহত রয়েছে দুষ্কৃতীদের হামলা। পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে এই নির্যাতন এমনভাবে চালানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশ থেকে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও নির্যাতনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দুই অবশিষ্ট থাকবে না (Roundup Week)। এই নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, পাশাপাশি লাগাতার ঘৃণামূলক বক্তব্য। উদ্দেশ্য একটাই, ভয় দেখিয়ে হিন্দুদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা (Hindus Under Attack)।

    সাংবিধানিক আধিকারিককে ভয় দেখানোর চেষ্টা

    সাম্প্রতিক এক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামির ক্যাডাররা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথের দফতর ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল একজন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

    এই বিক্ষোভে আইন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও স্লোগান ছিল না। তোলা হয় সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক ও আদর্শগত স্লোগান। অন্নপূর্ণা দেবনাথকে প্রকাশ্যে ‘ইসকন ভক্ত’ এবং ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। তাঁকে এই হুমকিও দেওয়া হয় যে, বাংলাদেশে তাঁকে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।

    হিন্দু ব্যবসায়ী খুন

    ঢাকার উপকণ্ঠে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চারসিন্দুর বাজারে ভয়াবহ হামলার শিকার হন বছর চল্লিশের হিন্দু দোকানদার শরৎ চক্রবর্তী মানি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা হয় (Hindus Under Attack)। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর।

    জানা গিয়েছে, ইসলামি কর ‘জিজিয়া’ দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে খুন করা হয়।

    ধর্ষণ

    আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলার খেদা পাড়া গ্রামের এক সংখ্যালঘু মহিলা নদীপাড় সংলগ্ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দোতলা একটি বাড়ি ও তিন শতক জমি বৈধভাবে ২০ লক্ষ টাকায় কিনেছিলেন। ওই জমি তিনি স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন ও তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে কেনেন। জমি কেনার পর থেকেই ওই মহিলাকে হেনস্থা করতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, শাহীন ও তার সহযোগী হাসান জোর করে বাড়িতে ঢুকে ওই মহিলাকে (Roundup Week) ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তারা তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবিও করে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বসংবাদ

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির লরেন্সভিল শহরের একটি কস্টকো ওয়্যারহাউসে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সংস্থাটির খাদ্য নমুনা বিতরণ ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি সামনে এনেছে। অভিযোগ, এই ত্রুটির ফলে বহু সদস্যের ধর্মীয় ও নৈতিক খাদ্যাভ্যাস লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একটি নিয়মিত কেনাকাটার সময় কস্টকোর তৃতীয় পক্ষের স্যাম্পলিং পার্টনার সিডিএস সেখানে জিনিয়াস গার্মেটের স্পার্কলিং ক্লিয়ার প্রোটিন ওয়াটারের নমুনা বিলি করছিল। অভিযোগ, স্যাম্পলিং স্টলে পণ্যের অন্যতম উপাদান বোভাইন কোলাজেন (গরু থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন) ব্যবহারের বিষয়টি সদস্যদের জানানো হয়নি।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিষয়টি অবহেলার নয়। বহু হিন্দু কেবল নিরামিষভোজী নন, তাঁরা বিশেষভাবে গরু থেকে প্রাপ্ত যে কোনও উপাদান গ্রহণ থেকেও বিরত থাকেন। ফলে এই ধরনের তথ্য গোপন করা তাঁদের গভীর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ সৃষ্টি করে।

    বৈষম্যের অভিযোগ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দু-বিরোধী মনোভাব। যদিও ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্য, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির  প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে আরও এক ধরনের সূক্ষ্ম ও নীরব হিন্দু-বিরোধী মানসিকতা কাজ করে (Roundup Week)। এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় চোখে পড়ে না, যতক্ষণ না বিদ্যমান আইন, নীতি ও ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করছেন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি পরিবেশ দূষণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হলেও, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকা এবং যুক্তির অভাব দ্বিচারিতার ইঙ্গিত দেয় বলেই মত পর্যবেক্ষকদের (Hindus Under Attack)।

    এই প্রেক্ষাপটে কস্টকোর ঘটনায় ওঠা প্রশ্ন শুধু একটি পণ্যের উপাদান গোপন রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বৃহত্তর এক সমস্যার প্রতিফলন, যেখানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উপেক্ষিত হচ্ছে এবং নীরব বৈষম্যের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। কস্টকো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে সদস্যদের ধর্মীয় ও নৈতিক অধিকার রক্ষায় কী ধরনের স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা দেখায়, এখন সেটাই দেখার।

  • Bangladesh: গাজায় সরব, বাংলাদেশে নীরব! হিন্দু-হত্যায় কেন মুখে কুলুপ বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির?

    Bangladesh: গাজায় সরব, বাংলাদেশে নীরব! হিন্দু-হত্যায় কেন মুখে কুলুপ বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির?

    মাধ্যম নউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) শরিয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসের ওপর বর্বর হামলা এবং ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন, এই দু’টি ঘটনা কোনও হঠাৎ উত্তেজনা (Hindus Killed) বা দুর্ঘটনাজনিত জনরোষের পরিণতি নয়। উভয় ক্ষেত্রেই ঘটনার ধারাবাহিকতা ছিল ভয়াবহভাবে স্পষ্ট। প্রথমে ভিড় জমে, তারপর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত চালানো হয় চরম নৃশংসতা।

    গণপিটুনি দিয়ে হত্যা (Bangladesh)

    ময়মনসিংহে দীপুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। আর শরিয়তপুরে খোকনকে প্রথমে মারধর করা হয়, পরে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়, পরে তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর মৃত্যু হয় তাঁর। খোকনের ওপর হামলা বা দীপুর হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের লক্ষ্য করে একাধিক গণহিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডল নামে এক হিন্দু যুবককে গুজব ছড়িয়ে হত্যা করা হয়। ময়মনসিংহে দীপুকে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগ তুলে পিটিয়ে মারে জনতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনাগুলি আলাদা নয়। গত দেড় বছরে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটনায় হিন্দুদের হত্যা, গণপিটুনি, ছুরিকাঘাত, ভয় দেখানো এবং কোথাও কোথাও পুরো হিন্দু গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু প্রতিবারই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় এগুলিকে বিচ্ছিন্ন ছোটখাটো অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে, নয়তো দাবি করেছে, এগুলি আসলে আওয়ামি লিগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ (Bangladesh)।

    অমানবিক অত্যাচার

    এই সব ঘটনার মধ্যে কোনও একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ নয়, বরং একটি অভিন্ন হিংসার কাঠামো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দ্রুত ভিড় জমে, সামাজিক সংযম (Hindus Killed) ভেঙে পড়ে, এবং অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, পরিবারগুলি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়, এবং পুরো হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকে, ভিড় সরে যাওয়ার পরেও। এরপর প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই চেনা ছবি, কয়েকটি প্রতীকী গ্রেফতার, প্রশাসনের আশ্বাস, এবং তারপর দীর্ঘ নীরবতা (Bangladesh)। প্রশ্ন উঠছে, এই ধারাবাহিক হিংসা কি আদৌ থামবে? নাকি প্রতিবারই বিচ্ছিন্ন ঘটনার তকমা দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়া হবে? বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় অসম প্রতিক্রিয়া মিলেছে। প্রথমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন সরকার। ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঢাকাকে আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটেনও একাধিক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের (পড়ুন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের) সুরক্ষার ওপর জোর দেয়। এগুলি হল আনুষ্ঠানিক ও নথিভুক্ত প্রতিক্রিয়া, যেখানে অপরাধের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে (Hindus Killed)।

    বাংলাদেশের স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী

    তবে সবচেয়ে সরব ভূমিকা নেয় বাংলাদেশের স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী, হিন্দু সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিষয়টি যেন জনচেতনার আড়ালে চলে না যায়, তাই তাঁরা বিক্ষোভ দেখান, পুলিশকে তথ্য দেন, নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেন এবং একের পর এক ঘটনা নথিভুক্তকরণ করেন (Bangladesh)। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে চোখে পড়েছে বড় বড় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির নীরবতা। বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। গাজা সংঘাতের মতো ঘটনায়ও যেখানে এই দুই সংস্থা দ্রুত বিবৃতি দিয়েছিল, বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, জরুরি আবেদন এবং ধারাবাহিক মিডিয়া ব্রিফিং করে চলেছিল, সেখানে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় তেমন কোনও সক্রিয়তাই দেখা যায়নি।

    প্রশ্ন একাধিক

    এই বৈপরীত্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেই নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত বহু মানবাধিকারকর্মী ও প্রভাবশালী কণ্ঠের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হিংসা কি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলের কাছে (Bangladesh) যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে? পরিবেশ আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ইস্যু, ভারতের কৃষক আন্দোলন কিংবা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যিনি বরাবরই সরব, সেই গ্রেটা থুনবার্গের মতো কোনও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক (Hindus Killed) অ্যাক্টিভিস্টও এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে একটি শব্দও খরচ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই একটি টুইট পর্যন্তও।

    আন্তর্জাতিক সংগঠনের মুখে কুলুপ

    শুধু গ্রেটা নন, বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সঙ্কটে নিয়মিত মন্তব্য করা আরও বহু আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্ট এবং সংগঠনও একই ধরনের নীরবতা পালন করছে। বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার ঘটনায় আলাদা করে কোনও আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হয়নি, হয়নি জরুরি বৈশ্বিক প্রচারাভিযান বা ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক ব্রিফিংও। কোথাও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠলেও তা এসেছে বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে, স্বতন্ত্র মানবাধিকার সঙ্কট হিসেবে নয় (Bangladesh)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বৈপরীত্য উপেক্ষা করা কঠিন। একদিকে স্থানীয় সরকার ও দেশীয় নাগরিক সমাজ যখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে, তখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির সংযত বা প্রায় নীরব প্রতিক্রিয়া এক অস্বস্তিকর যদিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে, কারা অগ্রাধিকার পায়? কোন ভুক্তভোগীর জন্য আন্তর্জাতিক আন্দোলন হয়, আর কারাই বা থেকে যায় উপেক্ষিত (Hindus Killed)?

    প্রকাশ্যে দ্বিচারিতা

    প্রসঙ্গত, নীরবতার প্রকৃত রূপ কী? এখানে নীরবতা মানে একেবারে কিছু না বলা নয়। এটি আরও সূক্ষ্ম, কিন্তু অনেক বেশি প্রভাবশালী। এই নীরবতা প্রকাশ পায় লক্ষ্যভিত্তিক মনোযোগের অনুপস্থিতিতে। বাংলাদেশে হিন্দু ভুক্তভোগীদের দুর্দশা নিয়ে কোনও আলাদা তদন্তমূলক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সমর্থকদের সক্রিয় করে তুলতে জরুরি ‘অ্যাকশন অ্যালার্ট’ও জারি করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলির তরফে এমন কোনও ধারাবাহিক মিডিয়া ব্রিফিংও হয়নি, যা বিষয়টিকে চর্চার বিষয় করে তোলে (Bangladesh)। অন্য দেশে গোষ্ঠীগত হিংসা বা সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলি যেভাবে দ্রুত প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রকাশ করে, মুখপাত্র নিয়োগ করে, ধারাবাহিক আপডেট দেয় এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তোলে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার কোনওটিই দেখা যায়নি।

    ফলে যা হয়েছে, তা হল, ঘটনাগুলি কিছুদিন আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত হয়ে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী প্রচার না থাকলে কূটনৈতিক চাপ দুর্বল হয়, জনস্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায় (Hindus Killed), আর একটি মানুষের মৃত্যু ন্যায়ের দাবির প্রতীক না হয়ে, পরিণত হয় ইতিহাসের পাদটীকায় (Bangladesh)।

  • Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন হয়ে উঠেছে (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Roundup Week)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তৃতি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য – সব মিলিয়ে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন। এসবই নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের প্রকাশ। ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫- এই সময়সীমায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এই ধরনের অপরাধগুলির একটি চিত্র তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হন।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার তাদের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বার্তায় খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠান, যাজক ও সাধারণ খ্রিস্টান সমাজের সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রকাশ্য যোগাযোগ স্থাপন করেছে। অন্তত সাতটি উচ্চপর্যায়ের নথিভুক্ত অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান উৎসব, কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি এবং চার্চ সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গুজরাটের নবসারি জেলার দাবেল গ্রামে এক তরুণ হিন্দু আদিবাসীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং লক্ষ্যভিত্তিক হিংসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিহত যুবকের নাম দীপক কালিদাস রাঠোর। তিনি হালপতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। নবসারি পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, তাঁর এলাকার একাধিক মুসলিম যুবকের নৃশংস হামলার ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Roundup Week)।

    গায়িকা লগ্নজিতাকে হেনস্থা

    খ্যাতনামা বাঙালি গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভগবানপুরে একটি বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে লাইভ(Hindus Under Attack)  পারফরম্যান্স চলাকালীন তাঁকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তিনি যখন চলচ্চিত্র দেবী চৌধুরানী থেকে ভক্তিমূলক গান “জাগো মা” পরিবেশন করেন, তখন মেহবুব মল্লিক নামে এক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলে পরিচিত, মঞ্চে উঠে তাঁকে ধমক দেন এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ কিছু’ গান গাওয়ার দাবি জানান। তামিলনাড়ুর ডিন্ডিগুল জেলা ও আশপাশের একাধিক গ্রামে জমির ব্যবহার, ধর্মীয় অধিকার এবং কথিত দখলদারিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে পেরুমাল কোভিলপট্টি গ্রামটি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামটিতে প্রায় ১,০০০টি পরিবার বসবাস করে, যার মধ্যে আনুমানিক ৮৫০টি খ্রিস্টান এবং প্রায় ১৫০টি হিন্দু পরিবার। ফলে হিন্দুরা সেখানে সংখ্যালঘু। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হল ধর্মীয় উদ্দেশ্যে বরাদ্দ সরকারি একটি জমি।

    নমাজ বিতর্ক

    বৈষ্ণব কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর আরাধনা সখী পুনের শনিবার ওয়াড়া নমাজ বিতর্কে সরব হওয়ার পর ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সেখানে দেখা যায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ শনিবার ওয়াড়ার প্রাঙ্গনে নমাজ আদায় করা (Roundup Week) হচ্ছে। কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবন কুট্টি তিরুবনন্তপুরমের আট্টুকালে অবস্থিত চিন্ময় বিদ্যালয়কে(Hindus Under Attack) বড়দিন উদযাপনের নির্দেশ দেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যালয়টি বড়দিন উদযাপনের জন্য প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে সংগ্রহ করেছিল। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে জানায় যে উৎসবটি বাতিল করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এক অভিভাবকের অভিযোগের পর মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে স্কুলকে উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দেন।

    হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার

    ডিএমকের শাসনে হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই বৈষম্যের সর্বোত্তম উদাহরণ হল থিরুপারঙ্কুন্দ্রাম। তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার এই ঐতিহাসিক শহরটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং হিন্দু ধর্মীয় আচরণের প্রতি বৈষম্য নিয়ে বিতর্কের একটি বড় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কাশী বিশ্বনাথর মন্দির চত্বরে ও তার আশপাশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি হিন্দু সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, কারণ রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সীমিত করছে, অথচ মুসলিম ধর্মীয় সমাবেশগুলিকে জাঁকজমকপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করছে (Hindus Under Attack)।দীপাবলিতে ‘না’, কিন্তু বড়দিনে ‘হ্যাঁ’- এই হল (Roundup Week) টিভিকে বিজয়ের দ্রাবিড় মডেলের রাজনীতি। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (TVK) স্পষ্ট দ্বিচারিতার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারুর পদদলিত দুর্ঘটনার পর জনশোকের অজুহাত তুলে একটি হিন্দু উৎসব উদযাপনে নিরুৎসাহিত করা হয়, অথচ পরে কোনও সংযম না দেখিয়ে বড়দিন উদযাপন করা হয় এবং তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করা হয়।

    লাভ জেহাদ

    ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলায় এক মুসলিম মহিলার অভিযোগ একটি আলোচিত তদন্তের সূত্রপাত করেছে। অভিযোগ, তাঁর স্বামী পরিকল্পিত ‘লাভ জেহাদ’ চক্রের মাধ্যমে হিন্দু নারীদের ফাঁদে ফেলত এবং প্রতিটি বিয়ের জন্য সহযোগী সংগঠনগুলির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেত (Hindus Under Attack)। পুলিশ প্রতারণা এবং সংগঠিত আর্থিক প্রণোদনার নেটওয়ার্ক – উভয় বিষয়েই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় রাজ্যে জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার, যিনি যৌন শোষণ, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের (লাভ জেহাদ বা যৌন গ্রুমিং) অভিযোগ এনেছেন। তাঁকে এখন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশি তদন্ত, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে। অভিযুক্ত মুসলিম রেসিডেন্ট ডাক্তার রামিজউদ্দিন, প্যাথলজি বিভাগের কর্মী, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    নৃসিংহ স্বামী মন্দির 

    পবিত্র কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ভারতজুড়ে হিন্দু ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আটটি পুলিশ যান ও নজরদারি ড্রোনের উদ্বোধনের সময় টিডিপি বিধায়ক কন্দিকুন্তা ভেঙ্কট প্রসাদ কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরের প্রবেশদ্বারে একজন পাদ্রি ও একজন মৌলানাকে প্রার্থনা করাতে আমন্ত্রণ জানান। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের অধীনে কেপু মন্দিরের ‘কোরি কট্টা’ আচারকে (Roundup Week) কেন্দ্র করে পুলিশের হস্তক্ষেপ আইন, ঐতিহ্য এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতিকে লক্ষ্য করে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা (Hindus Under Attack)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে হামলা। পরিকল্পিতভাবে দেশটি থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে জনতার হামলা, নারীদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এসবই হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার জন্য ব্যবহৃত কৌশল।

    বাংলাদেশের ছবি

    ঝিনাইদহ জেলায় এক হিন্দু রিকশাচালককে জনতা মারধর করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার কবজিতে একটি পবিত্র লাল সুতো লক্ষ্য করার পর তাঁর পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝিনাইদহ পুরসভার গেটের কাছে একদল লোক ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে তাঁর রিকশা থেকে নামিয়ে এনে শুধু কবজির লাল সুতো থাকার কারণেই মারধর করে(Hindus Under Attack)। জনতার সহিংসতার এক ভয়াবহ ঘটনায়, বাংলাদেশ পুলিশের স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজবাড়ি জেলায় মুসলিম গ্রামবাসীদের হাতে ২৯ বছর বয়সী এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম অমৃত মণ্ডল, যিনি সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। পাংশা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একটি বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে তাঁকে আক্রমণ করা হয় (Roundup Week)। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন অভিযোগ ওঠে যে হিন্দু বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ

    অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষায় ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে। ইসলামী দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, আর একটি আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী মনোভাব দেখা যায় তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির (যেমন ভারত) প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে (Hindus Under Attack)। এই সূক্ষ্ম বৈষম্য হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। প্রচলিত আইন ও নিদর্শনগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করলে এই দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। ওপর ওপর এটি দূষণ-সংক্রান্ত বিষয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যুক্তিসঙ্গত (Roundup Week) ব্যাখ্যার অভাব লক্ষ্য করলে এই দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দু ধর্মের ওপর আঘাত অব্যাহত, দেখুন এ সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে হিন্দু ধর্মের ওপর আঘাত অব্যাহত, দেখুন এ সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) চলছেই। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই নিপীড়ন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির গভীরতা ও ব্যাপ্তিকে উপেক্ষা করেছে (Roundup Week)। কারণ এর পেছনে রয়েছে ভয়াবহ হিন্দু-বিদ্বেষমূলক মানসিকতা। জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবের ওপর আক্রমণ, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই হিন্দুরা এখন তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ ও অভূতপূর্ব হিন্দু-বিদ্বেষের মুখোমুখি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কী কী ঘটনা ঘটেছে দেশ এবং বিদেশে।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। কর্নাটকের বেলাগাভি জেলার রামদুর্গা তালুকে এক মহিলাকে জোর করে ইসলাম ধর্মী দীক্ষিত করতে চাপাচাপি করা হয়। বছর আঠাশের ওই মহিলাকে স্থানীয় এক মুসলমান লাগাতার হয়রান করত, দিত হুমকিও। নিজের ধর্ম বাঁচাতে নাগাভ্বা দেমাপ্পা ভান্তামুরি নামের ওই মহিলা আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। বেঙ্গালুরুতে আবারও একটি উদ্বেগজনক ‘লাভ জিহাদ’ সংক্রান্ত ঘটনা সামনে এসেছে। এখানে এক হিন্দু মহিলা উসমান নামের এক ইসলামপন্থী ব্যক্তির বিরুদ্ধে চরম শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরের চেষ্টা, ব্ল্যাকমেল, আর্থিক শোষণ এবং নির্মম হত্যার হুমকির অভিযোগ দায়ের করেন। রকসৌল সীমান্তে সম্প্রতি এক ১৬ বছর বয়সি হিন্দু কিশোরীকে উদ্ধার (Roundup Week) করার হয়েছে। অভিযোগ, তাকে প্রলোভন দেখিয়ে শোষণ করা হয়েছিল এবং ধর্মান্তরের দিকে ঠেলে দিয়ে বোরখা পরিয়ে নেপালের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পূর্ব চম্পারণের স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর মানব পাচার বিরোধী ইউনিট রাকসৌল সীমান্তের কাস্টমস অফিসের কাছে নেপালে প্রবেশের চেষ্টার সময় এক ব্যক্তি, বোরখা  পরা ১৬ বছরের এক কিশোরী ও এক নাবালককে আটক করে। ওই ব্যক্তি পশ্চিম চম্পারণের বাসিন্দা মহম্মদ আজমুল্লাহ আলি। মেয়েটি বেত্তিয়া থেকে নিখোঁজ হয়েছিল (Hindus Under Attack)।

    মহিলা পুলিশ কনস্টেবলের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী জেলায় কর্মরত এক বিবাহিত মহিলা পুলিশ কনস্টেবলের অভিযোগ, এক মুসলিম ব্যক্তি তাঁকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, স্বামীকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করেছে, টাকা আদায় করেছে। পুনেতে তাঁকে আটকে রেখে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ মহারাষ্ট্র থেকে ওই কনস্টেবলকে উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত গুলফাম ওরফে আরকান আহমদকে গ্রেফতার করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিসরাখ থানা এলাকার এক মহিলা অভিযোগ দায়ের করেন যে, সারাই নজর খান, তার বোন গুড়িয়া এবং তার ভগ্নিপতি রাজু খানের সঙ্গে মিলিতভাবে একটি সংগঠিত চক্র পরিচালনা করত। তাঁর অভিযোগ, এরা এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ইসলামপন্থী যুবক নিজেদের পরিচয় গোপন করে হিন্দু নারীদের প্রলোভিত করত, মিথ্যা সম্পর্ক গড়ে তুলত এবং পরে অশ্লীল ভিডিও ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে তাদের শোষণ করত (Hindus Under Attack)।

    বজরং দলের শোভাযাত্রায় পাথর

    উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের জ্বালাপুর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন শৌর্য দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বজরং দলের একটি শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। জ্বালাপুর, হরিদ্বার শহর ও কাঁখাল—এই তিন জায়গা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি রাম চকের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। দুর্গা চক ও সাইনি আশ্রমের কাছে হামলার ঘটনাটি ঘটে। হতাহতের কোনও খবর মেলেনি। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন ক্ষুব্ধ বজরং দলের কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন (Roundup Week)। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। থিরুপারঙ্কুন্দ্রাম কার্তিগাই দীপম ইস্যুতে বিচারপতি জি আর স্বামীনাথনের ওপর আক্রমণটি শুধু একটি প্রদীপকে কেন্দ্র করে বিরোধ নয়; বরং এটি হিন্দু অধিকার, মন্দিরের ঐতিহ্য ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর একটি সমন্বিত রাজনৈতিক আক্রমণ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই আক্রমণের নেতৃত্বে রয়েছে তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকার এবং ইন্ডি জোটের সাংসদদের সমর্থন।

    নেহরুকে নিয়ে বিস্ময়কর মন্তব্য রাজনাথের

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে নিয়ে এক বিস্ময়কর মন্তব্য করে বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেহরু সংক্রান্ত বক্তব্য তথ্যভিত্তিক বলে দাবি করা হয়েছে। নথিপত্রে দেখা যাচ্ছে, জওহরলাল নেহরু বাবরি মসজিদের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয়ের পক্ষে ছিলেন (Roundup Week)। মধ্যপ্রদেশের সেহোর জেলায় পুলিশ ছজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তারা একটি খ্রিস্টান ধর্মান্তরণ চক্র চালাচ্ছিল। এই চক্রটি দরিদ্র বনবাসী পরিবারগুলিকে লক্ষ্য করে প্রতি ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মান্তরণে প্রলুব্ধ করছিল (Hindus Under Attack)। সুরথকল পুলিশের তরফে ইসলামপন্থী দোকান মালিককে এক নাবালককে যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের নাম মহম্মদ ইসমাইল। তিনি সুরথকলের চক্কাবেত্তু জুম্মা মসজিদের কাছের হানি ফ্যাশন শপ অ্যান্ড জেনারেল স্টোরের মালিক।

    কিশোরীকে আঘাত ব্লেড দিয়ে

    মির্জাপুরের গণেশগঞ্জ এলাকায় ১৭ বছরের এক হিন্দু কিশোরীকে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয় গলা ও কবজিতে। গুরুতর অবস্থায় রয়েছে সে। অভিযোগ, এক ইসলামপন্থী যুবক তাকে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। অস্বীকার করায় হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত আবদুল ওরফে সইফ সম্পর্কে তথ্য দিলে ২৫,০০০ টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত ষড়যন্ত্র ও তাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে নজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।  ‘প্রজা প্রভুত্ব উলিসি আন্দোলন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন কর্ণাটকের কুদ্রমুখ জাতীয় উদ্যান অঞ্চলে বসবাসকারী দুর্বল জনজাতী পরিবারগুলিকে লক্ষ্য করে চালানো কথিত মিশনারি ধর্মান্তরণ কার্যকলাপ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (Roundup Week)।

    খবরে পাকিস্তান-বাংলাদেশ-কানাডা

    এদিকে, পাকিস্তানের কুখ্যাত ইসলামপন্থী সংগঠন পীর সারহিন্দি মিথ্যে অভিযোগ তুলে পাকিস্তানি হিন্দু অধিকারকর্মী শিবা কাচ্ছিকে ইসলামবিরোধী ও পাকিস্তানি রাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা ‘ভারতীয় এজেন্ট’ আখ্যা দেওয়ার পর থেকেই তাঁর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবাশিবা এক্স হ্যান্ডেলে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    বাংলাদেশের রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় এক প্রবীণ হিন্দু দম্পতির গলাকাটা দেহ উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এঁদের মধ্য একজন মুক্তিযোদ্ধা, বছর পঁচাত্তরের যোগেশচন্দ্র রায় এবং তাঁর স্ত্রীর সুবর্ণা। বিশ্বের ছবিটাও খুব একটা কম ভয়ঙ্কর নয়। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের ব্র্যাম্পটনে একটি মন্দিরে থ্যাংকসগিভিং সপ্তাহে প্রকাশ্য দিবালোকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এতে ভক্তরা হতবাক হয়ে যান, দাবি করেন উপাসনালয়গুলির নিরাপত্তা জোরদারের করারও।

LinkedIn
Share