Tag: Hormuz Strait Crisis

  • US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    US Iran War: আমেরিকা-ইরান ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি! ‘ঐতিহাসিক জয়’ বলল তেহরান, হরমুজ প্রণালী খুলতে হল সম্মত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের (US Iran War) সাময়িক বিরতি। খুলছে হরমুজ প্রণালী। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি আমেরিকা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ স্যোশালের পোস্টে যুদ্ধবিরতির কথা জানান। তাঁর কথায়, ‘‘ইরানে এখনই সেনা পাঠাচ্ছি না। বোমা ফেলব না।’’ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছে তেহরানও। সে দেশের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘ইরানের উপর যদি হামলা বন্ধ করা হয়, তবে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান বন্ধ করে দেবে।’’ দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ইরানকে ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে সোমবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘আজ রাতের মধ্যেই গোটা সভ্যতা শেষ হবে।’’ মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি

    মধ্যপ্রাচ্যে টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের মাঝে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald Trump) জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের জন্য বোমা হামলা স্থগিত রাখবে। তেহরানও শর্তসাপেক্ষে এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং সীমিতভাবে প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, যদি তাদের ওপর হামলা বন্ধ হয়, তবে তারাও সামরিক প্রতিরোধ থামাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের পাশাপাশি নিজেদের ১০ ও ১৫ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, মার্কিন সামরিক চাপের ফলেই ইরান এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান এটিকে নিজেদের কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করেছে।

    ইরানের হাত ট্রিগারেই

    দু’সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি মানেই যুদ্ধে ইতি নয়! আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে এমনই বার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনেই। তবে এ-ও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর সমস্ত সেনাবাহিনীকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের এক সরকারি বিবৃতিতে মোজতবার বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘‘এই যুদ্ধবিরতির অর্থ যুদ্ধের শেষ নয়। আমেরিকা বা ইজরায়েল— শত্রুপক্ষ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করে, তবে আমাদের হাত ট্রিগারেই থাকবে।’’ বুঝিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল যদি কোনও রকম ‘ভুল’ করে, তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও।

    ইরানের ‘ঐতিহাসিক জয়’!

    ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপদ পরিষদ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এক দীর্ঘ বিবৃতি জারি করে। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘যুদ্ধের প্রায় সকল উদ্দেশ্যই অর্জিত। শত্রুপক্ষ এক মাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুনয়-বিনয় করছে।’’ তেহরান এই পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছে। তারা বুঝিয়েছে, আমেরিকার সামনে কখনওই মাথা নত করেনি ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা বার বার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার কথা বলেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই সব বিষয়কে পাত্তা দিতে রাজি ছিল না। আলোচনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিষয়গুলি চূড়ান্ত হলে তবেই ইরান যুদ্ধের অবসান মেনে নেবে।’’ তারা জোর দিয়েছে, আলোচনায় তাদের ১০ দফা পরিকল্পনার কথা কঠোর ভাবে উপস্থাপিত করা হবে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

    ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা

    ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তরফে জানানো হয়েছে, ১০ দফা প্রস্তাব হল হরমুজ প্রণালিতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র শক্তির নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুটি বড় বিষয়—হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার (Highly Enriched Uranium Stockpile) বন্ধ করা। সূত্র বলছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমার মধ্যে ইরান কিছু সীমিত পদক্ষেপ করতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই দুটো ইস্যুই তেহরানের সবচেয়ে বড় দরকষাকষির হাতিয়ার, তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়া পুরোপুরি ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন বাহিনীর জয়!

    ইরানের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছেন, যা একটি অত্যন্ত কার্যকর সূচনা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদী, ‘‘ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হয়েছি।’’ আসন্ন দু’সপ্তাহের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা সম্ভব। ইরানের মতো আমেরিকাও ‘জয়’ দেখছে। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন বাহিনীর জয়।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব, বাজারে প্রভাব

    হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এই পথ খুলে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দামে বড় পতন হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১৩% কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলারে নেমেছে, এবং মার্কিন ক্রুডও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজার ও মার্কিন ফিউচার মার্কেটে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    এখনও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য!

    কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিকাঠামোতে হামলা হলে তার পাল্টা জবাব থাকবেই। আর তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে। এতে বড় আঞ্চলিক সংকট (Regional Crisis) তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আর ইতিমধ্যেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই (Esmaeil Baghaei) স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানে হামলা হলে সমান জবাব (Retaliation) দেওয়া হবে। বলেন, ‘প্রয়োজনে আমেরিকা-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুকেও (US-linked Targets) নিশানা করা হতে পারে।’ ইরান জানিয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত সংঘাত চলবে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই সৌদি আরব, বাহারাইন এবং কুয়েতে শোনা গিয়েছে মিসাইল অ্যালার্ট অ্যালার্ম। সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পরিস্থিতি শান্ত হলেও ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে উপসাগরীয় এলাকায়।

  • PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Meeting: রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ জরুরি, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতিতে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ইন্টার-মিনিস্টেরিয়াল গ্রুপ (IGM) গঠন করল। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কমিটিতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। পশ্চিম এশিয়ার (West Asia) অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভার্চুয়াল বৈঠকে (Virtual Meeting) বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ( PM Modi Meeting)। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অংশ নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কীভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

    ছিল না ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য

    ভোটমুখী পাঁচ রাজ্য অসম (Assam),কেরালা (Kerala),তামিলনাড়ু (Tamilnadu),পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল পুদুচেরির (Puducherry) মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেননি। নির্বাচন আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এই পাঁচ রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করবেন কেন্দ্রের মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, যাতে প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বজায় রাখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখেন। সীমান্ত, উপকূল, সাইবার স্পেস এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। গুজব ও মজুতদারি রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একের পর এক বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ভারত তার অগ্রগতির ধারা বজায় রেখেছে, যা সম্ভব হয়েছে সম্মিলিত জাতীয় প্রচেষ্টা এবং সক্রিয় প্রশাসনের মাধ্যমে।

    জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক

    এই ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও যোগ দেন। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে খবর। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বৈঠকে ‘টিম ইন্ডিয়া’-র ভাবনায় রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের বৈঠক এই প্রথম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই এই সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল ও একাধিক উপসাগরীয় দেশে।

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালী পেরোতে প্রস্তুত আরও ৬টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার, ‘টোল’ নিচ্ছে না ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা মঙ্গলবার জানান, আরও ৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার প্রণালী পারাপারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম অনুযায়ী ইরান কোনও ‘টোল’ নিচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অশোধিত তেলের মজুত-সহ দেশের সব শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় চালু রয়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের বিপণন ও তেল শোধনাগার বিভাগের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, খুচরো তেল বিতরণ কেন্দ্রগুলিতে তেলের ঘাটতির কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

    আসছে ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’

    রাজেশ কুমার বলেন, ইতিমধ্যেই ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ নামের দুটি এলপিজি বাহক জাহাজ সোমবার সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। জাহাজ দুটি প্রায় ৯২ হাজার টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহন করছিল এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সুরক্ষায় এই যাত্রা সম্পন্ন হয়। সরকারি সংস্থা ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)-এর চার্টার করা ট্যাঙ্কারগুলি ২৬ থেকে ২৮ মার্চের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এর আগে ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের জাহাজও নিরাপদে প্রণালী পার হয়ে প্রায় ৯২,৭০০ টন এলপিজি সরবরাহ করেছে।

    ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে

    উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বর্তমানে ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহণ হয়। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে। বর্তমানে প্রায় ৩ লক্ষ টন এলপিজি-সহ একাধিক পণ্যবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, প্রণালী অঞ্চলে প্রায় ২০টি জাহাজে ৫৪০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে এবং কিছু নাবিককে ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলির সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরেও উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর-এর উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজও ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে, যাতে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গালফ অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছেছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ট্যাঙ্কার ও কার্গোগুলিকে এসকর্ট করার জন্য আধ ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্সের শক্তি বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার ইজরায়েল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। তাই এই পদক্ষেপ।

    আসছে আরও দুই জাহাজ

    ভারতীয় নৌবাহিনী দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’—কে নিরাপদে এসকর্ট করে। সোমবার আরও দুটি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’—কে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজ দুটি সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী জলসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী কাছাকাছি অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজগুলিকেই সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারকে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কুয়েত থেকে কোনও জাহাজ রওনা দিলে প্রায় দেড় দিন সময় লাগে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছাতে, তারপর থেকেই নৌবাহিনীর এসকর্ট শুরু হয়।

    ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি

    ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের গতিবিধি সর্বক্ষণ নজরে রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গেলে পারস্য উপসাগরে এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। বাকি প্রায় সব দেশের জাহাজকে হরমুজ পার না করার হুমকি দিলেও ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনীতি

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কথা হয়েছে। আলোচ্য বিষয় ছিল জলপথের সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি জাহাজের সুরক্ষা। এরপরেই ভারতের পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষিত ভাবে হরমুজ পার করতে দিয়েছে ইরান। এমনকী ইরানের নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অতিক্রম করেছে ভারতের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার (Indian LPG Tanker)। দীর্ঘ ১০ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।

    বিশ্বশক্তির সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ

    ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির উপর নির্ভর না করে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কথা বলেছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরা। লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটগুলিকে সক্রিয় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ যাতে ব্যর্থ না হয় সেই দিকে নজর রাখা।

    অপারেশন সংকল্পের অধীনে নৌবাহিনী মোতায়েন

    ভারতীয় নৌবাহিনী অপারেশন সংকল্প-এর অধীনে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই মিশনের লক্ষ্য ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাছাকাছি জলসীমায় যে কোনও হুমকির প্রতিরোধ করা। বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে হরমুজের আশে পাশে ৬টি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নিয়মিত টহল ছাড়াও ভারত গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ এবং ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলি আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় ভারতীয় জাহাজগুলি হুমকির সম্মুখীন হলে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

    ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের উপর নজরদারি

    আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল এই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা। সরকারি তথ্য অনুসারে, পারস্য উপসাগর এবং আশেপাশের জলসীমায় বর্তমানে কয়েক ডজন ভারতীয় জাহাজ এবং শত শত ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    সঙ্কট ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল

    ভারতীয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবfলায় জরুরি সমন্বয় ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এবং ভারতীয় ক্রু বা পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উন্নত সুরক্ষা প্রোটোকল, নিয়মিত রিপোর্ট ব্যবস্থা এবং একটি বিশেষ দল স্থাপন করেছে।

    ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ

    ভারত সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় দেশের নৌবাহিনীর ‘মিশন-বেসড ডিপ্লয়মেন্ট’ বর্তমানে বিশ্বের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০১৭ সাল থেকে এই উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ওমান ও এডেন উপসাগরের পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চলছে। এই মোতায়েনের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসকর্ট অপারেশন চালানো হচ্ছে, তেমনই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে যৌথ মহড়া এবং জলদস্যুতা বা সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সহায়ক জাহাজ-সহ মোট সাতটি জাহাজ এখন মোতায়েন রয়েছে। এর আগে উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দিতে দু’টি টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এই পদক্ষেপ আসলে ২০১৯ সাল থেকে চালু থাকা ‘অপারেশন সংকল্প’-এরই সম্প্রসারণ। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়মিতভাবে ওমান উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মোতায়েন থাকে। লক্ষ্য একটাই, এলপিজি ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, এবং পারস্য উপসাগরের আশপাশে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

     

  • Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    Strait of Hormuz: শীঘ্রই মিটতে চলেছে জ্বালানি সংকট! হরমুজ পেরোচ্ছে ভারতের আরও ২ এলপিজি ট্যাঙ্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরও দুই অপরিশোধিত তেলবাহী ভারতীয় জাহাজ পার করবে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে অস্থির হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতীয় পতাকাবাহী আরও দুইটি এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gas) এবং ‘জগ বসন্ত’ (Jag Vasant)—আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রণালী অতিক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে ওই দুই জাহাজ। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, দুটি জাহাজই যাত্রার সংকেত পাঠাতে শুরু করেছে। বাণিজ্যিক সূত্রের দাবি, খুব শীঘ্রই তারা রওনা দিতে পারে।

    ভারতীয় জাহাজগুলির অবস্থান

    ২ দিন আগের রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে ২২টি ভারতীয় জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (Indian Oil Corporation)-এর ‘পাইন গ্যাস’ এবং ভারত পেট্রোলিয়ম-এর (Bharat Petroleum) ‘জগ বসন্ত’ ও রয়েছে। দু’টি জাহাজই এলপিজি ট্যাঙ্কার। সহজ ভাষায় বললে, রান্নার গ্যাস আসছে। জাহাজ দু’টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শারজার কাছে নোঙর করে রয়েছে। তবে শীঘ্রই রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, এই দু’টি জাহাজ চলাচলের বিষয়ে এখনও নিখুঁত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয়। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেয়। ইতিমধ্যেই এলপিজি নিয়ে সেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও ইরানের সুসম্পর্ক এবং ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানের ফলেই এই সুযোগ মিলেছে।

    তেল পরিবহণে স্থবিরতা, সীমিত চলাচল

    গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে কোনও ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার চলাচল করেনি। ইরানের হুঁশিয়ারির পর বহু জাহাজই নোঙর করে অপেক্ষা করছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। তবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলার পর ইরান ওই প্রণালীর উপর ‘দখল’ রেখেছে। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, কোনও পণ্যবাহী জাহাজকে প্রণালী পার করতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি এগোনোর চেষ্টা করে, তবে পরিণতি ‘সাংঘাতিক’ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। কয়েকটি জাহাজে হামলাও হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। কয়েকটি দেশের জাহাজ পারাপারের ‘অনুমতি’ দেয় ইরান।

    ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ

    এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার নিরাপদ নৌ-চলাচলের ওপর জোর দিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। গত সপ্তাহে ইরান দু’টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কারকে পারাপারের অনুমতি দিয়েছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল এখনও সম্ভব। এই দুই ভারতীয় ট্যাঙ্কারের সম্ভাব্য যাত্রা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ, এটি ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে কিনা, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

    ইরান থেকে তেল আমদানি!

    আগেই হরমুজ দিয়ে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে বারবার ছাড়পত্র দিয়েছে ইরান। সেদেশ থেকে ফের অপরিশোধিত তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারতের বিভিন্ন রিফাইনারি। তেল কেনা নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত কিছুটা শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এমতাবস্থায়, সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছিল ভারত। যদিও ইরান জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির মতো অতিরিক্ত তেলের জোগান এই মুহূর্তে তাদের হাতে নেই। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ভারতের তৈল শোধনাগারগুলি ইরান থেকে পুনরায় ক্রুড অয়েল আমদানি শুরু করার বিষয়ে প্ল্যান করছে। তেহরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা ছাড় দিচ্ছে। সেই সুযোগেই ভারত বিকল্প উৎস হিসেবে ইরানের দিকে ঝুঁকছে। তবে ইরানের তেল মন্ত্রকের বক্তব্যই কিছুটা চিন্তার বিষয়। তাদের দাবি, বর্তমানে কোনও ‘ফ্লোটিং ক্রুড’ বা অতিরিক্ত মজুত নেই।

    ইরান-মার্কিন সংঘাতে তেলের দামে আগুন

    হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম হুহু করে বেড়েছে (Global Oil Crisis)। ইরানের বক্তব্য, পথ শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ট্যাঙ্কারদের জন্যই বন্ধ, অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে আপাতত বাধা নেই। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “হরমুজ খোলা। শুধু যারা আমাদের শত্রু বা আমাদের আক্রমণ করছে এবং তাদের মিত্রদের জন্যই এটি বন্ধ।”

    ভারতের জন্য কী বার্তা?

    কয়েকদিন আগেই ভারতের দু’টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে গুজরাতে পৌঁছেছে। এখন নজর আরও দুই জাহাজের গতিপ্রকৃতিতে। হরমুজে এলপিজি ট্যাঙ্কার জগ বসন্ত (Jag Vasant), বিডব্লিউ এল্ম (BW Elm), বিডব্লিউ লয়্যালিটি (BW Loyalty), পাইন গ্যাস (Pine Gas), গ্রিন সাংভি (Green Sanvi), জগ বিক্রম (Jag Vikram) এবং গ্রিন আশা (Green Asha) আটকে ছিল। এর মধ্যে কমপক্ষে চারটি ‘ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার’, বাকি তিনটি মিড-সাইজ ক্যারিয়ার। ভারতের মাসিক চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ বহন করছে এই জাহাজগুলি। এই ৬টি ট্যাঙ্কার মিলিয়ে বহন করছে প্রায় ৩.৩৪ লক্ষ মেট্রিক টন এলপিজি (LPG), যা ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। তুলনায়, সম্প্রতি নিরাপদে দেশে এসে পৌঁছনো শিবালিক (Shivalik) ও নন্দা দেবী (Nanda Devi) নামের দুটি ট্যাঙ্কার এনেছিল প্রায় ৪৬ হাজার টন করে এলপিজি (LPG)। ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’-এও ৪৫ থেকে ৪৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি থাকতে বলে জানা যাচ্ছে।

  • Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    Hormuz Strait Crisis: মোদির কূটনৈতিক জয়! লোহিত সাগর দিয়ে ভারতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে খুশির খবর পেল ভারত। নরেন্দ্র মোদির দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে একটি নয়া পথ ব্যবহার করতে শুরু করেছে সৌদি আরব (Hormuz Strait Crisis)। ইতিমধ্যেই লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে একাধিক ট্যাঙ্কার ভারতের বিভিন্ন (Saudi Arabia) বন্দরের দিকে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নের কারণে উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

    নয়া পথে আসছে তেল (Hormuz Strait Crisis)

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান ওই এলাকায় কিছু জাহাজকে টার্গেট করায় অনেক জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলছে। সাধারণত, বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ভারতের উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি আমদানিও মূলত এই পথের ওপরই নির্ভরশীল। এখন সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে ভারতে তেল সরবরাহ শুরু করেছে। ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে চারটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে। এগুলিতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে। চলতি মাসের শেষে আরও ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে পৌঁছনোর কথা। এই নয়া লোহিত সাগর রুটের খবর ১৬ মার্চ প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। যদিও সৌদি আরব এই জ্বালানি সরবরাহে একটি শর্ত দিয়েছে, সেটি হল মাসিক বরাদ্দের কেবল একটি অংশই এই পথে পাঠানো হবে।

    ‘সামনের দরজা’ বনাম ‘পেছনের দরজা’

    সাধারণত উপসাগরীয় অঞ্চলের অধিকাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। একে ‘সামনের দরজা’ বলা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে এই পথটি জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে (Saudi Arabia)। এদিকে, ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে বিবেচিত লোহিত সাগর রুটে ইয়ানবু থেকে ১২০০ কিমি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহণ করা হয়। অবশ্য এই পাইপলাইনের ক্ষমতা সীমিত। তাই এই পথে হরমুজ প্রণালী রুটের তুলনায় কম পরিমাণ তেল পরিবহণ করা যায়। লোহিত সাগর রুটও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি বাব আল-মানডাব প্রণালী দিয়ে যায়, যা ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আওতায় রয়েছে। এর আগে ইজরায়েল-হামাস দ্বন্দ্ব চলাকালীন হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে টার্গেট করেছিল। তাই সেই সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছিল (Saudi Arabia)। সেই কারণেই অনেক জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে যায় (Hormuz Strait Crisis)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যদি হুথিরা ফের হামলা শুরু করে, তাহলে এই রুটেও জাহাজ চলাচল ফের সমস্যার মুখে পড়তে পারে।

     

LinkedIn
Share