Tag: howrah railway station

howrah railway station

  • River Ganga: গঙ্গা বুজিয়েও তৈরি হয়ে যাচ্ছে একের পর এক হোটেল! তোলা তুলতে ব্যস্ত তৃণমূল  

    River Ganga: গঙ্গা বুজিয়েও তৈরি হয়ে যাচ্ছে একের পর এক হোটেল! তোলা তুলতে ব্যস্ত তৃণমূল  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পবিত্র নদী গঙ্গার (River Ganga) দুই পাড় জবরদখল করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে হকারদের স্টল, বড় বড় অট্টালিকা, কারখানা, এমনকী হোটেল। হাওড়া ব্রিজ থেকে গঙ্গার ধার বরাবর রামকৃষ্ণপুর ঘাটের দিকে এগোলে দেখা মেলে, কীভাবে গঙ্গার পাড় দখল করে একের পর এক হোটেল ব্যবসা চলছে। হাওড়া পুরসভা এবং পুলিশ-প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর এই জবরদখল চললেও তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরানোর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। একরকম বহাল তবিয়তে গঙ্গার পাড় দখল করে ব্যবসা চলছে। শুধু গঙ্গার পাড়ে সারি সারি হোটেল বা হকারদের স্টল নয়, কোথাও কোথাও গঙ্গার ঘাটে নামার সিঁড়িও দখল করে দোকানদাররা বসে পড়েছে জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে। এবার হাওড়া স্টেশনের উল্টোদিকে হাওড়া গঙ্গার ঘাট ও লঞ্চঘাটের মাঝখানে দেখা মিলল নতুন দৃশ্য। কাঠের পাটাতন তৈরি করে গঙ্গার জলের নিচে থাম লাগিয়ে তার উপরে গড়ে উঠেছে হোটেল।

    যে কোনও সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা (River Ganga)

    যাত্রীরা জানান, এতদিন শুধুমাত্র গঙ্গার (River Ganga) পাড় দখল করে হোটেল তৈরি হয়েছিল। এবার হাওড়া স্টেশনের দিকে আর হোটেল বাড়ানোর জায়গা না পেয়ে মালিকরা গঙ্গার ভিতরের দিকে পাড় বুজিয়ে, কোথাও গঙ্গার জলের মধ্যেই থাম দিয়ে তৈরি করেছে হোটেল। ফলে এতে যেমন একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ন গঙ্গার ঘাট ক্রমশ তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। এক নিত্যযাত্রী তীর্থঙ্কর চ্যাটার্জি বলেন, তিনি নিয়মিত লঞ্চে যাতায়াত করেন। ভাটার সময় গঙ্গার পাড়ের দিকে লঞ্চের জেটি থেকে তাকালেই এটা পরিস্কার বোঝা যায়, কীভাবে গঙ্গার নিচে বাঁশ ও কাঠের থাম পুঁতে তাতে কাঠের পাটাতন তৈরি করে তার ওপর হোটেল ও দোকান তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতে যে শুধুমাত্র পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে তাই নয়, যে কোনও সময় গঙ্গার জলের তোড়ে ওই কাঠ ও বাঁশের থাম হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রশাসনের উচিত এখনই বিষয়টিতে নজরদারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
    আরেক লঞ্চের যাত্রী বাবলু সান্যাল বলেন, যখন গঙ্গায় (River Ganga) জোয়ার আসে, তখন প্রচণ্ড ঢেউ ওই পাড়ে ধাক্কা মারে। এমনকী লঞ্চ জেটিগুলিও দুলতে থাকে। তখন যে কোনও সময় জোয়ারের ধাক্কায় কাঠের থাম ভেঙে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যত দিন যাচ্ছে, তত জবরদখল আরও বেড়ে চলেছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি বলেন, গঙ্গার পাড়ের উপরের অংশে হাঁটার জায়গা নেই, এত হকার সেখানে বসে পড়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই হকারি গঙ্গার জলের দিকেও বেড়ে চলছে। এখনই প্রশাসনের উচিত এ ধরনের জবরদখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ।

    কাজ হয়নি পুলিশকে বারবার বলেও

    কলকাতা বন্দরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখার্জি বলেন, জবরদখল (River Ganga) সরানোর কাজ পুলিশ-প্রশাসনের। বন্দরের পক্ষ থেকে তাঁরা পুলিশকে বারবার জানিয়েছেন এ ব্যাপারে। পুলিশকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তিনি জানান।

    তৃণমূলের মদতেই জবরদখল, তোলাবাজি

    নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন গঙ্গার ধারে এভাবে অবৈধ হোটেল তৈরি করে সেখান থেকে বরাবরই তোলাবাজির অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। বাম আমলেও স্থানীয় বিধায়ক ও কাউন্সিলারের মদতে গঙ্গার পাড় বুজিয়ে এভাবে বড় বড় হোটেল তৈরি হয়েছে। সেই সব বাম নেতারা বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসে। হাওড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জায়গা দখল করেই তৈরি হয়েছে তৃণমূলের পার্টি অফিস এবং তাদের মদতেই এভাবে জবরদখল চলছে বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ। যদিও স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

     

     দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Howrah Station: প্রি-পেইড বুথ চিরতরে বন্ধ, হাওড়া স্টেশনে ট্যাক্সি পেতে নাজেহাল হচ্ছেন যাত্রীরা

    Howrah Station: প্রি-পেইড বুথ চিরতরে বন্ধ, হাওড়া স্টেশনে ট্যাক্সি পেতে নাজেহাল হচ্ছেন যাত্রীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাত্রী দুর্ভোগ এবং ট্যাক্সি চালকদের যথেচ্ছাচার কমাতে কয়েক বছর আগে হাওড়া (Howrah Station), শিয়ালদহ, কলকাতা স্টেশন, এমনকী কলকাতা বিমানবন্দরে চালু হয় প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথ। সেখান থেকে লাইন দিয়ে টিকিট কেটে ট্যাক্সিতে চড়তেন যাত্রীরা। এবার সেই দিন শেষ। তার বদলে রাজ্য সরকারের তৈরি করা ওলা-উবেরের মতো ‘অ্যাপ’-এ (Yatri Sathi) বুকিং করে তবেই ট্যাক্সি চড়তে পারবেন যাত্রীরা। এর ফলে চড়া দামের টিকিট কেটে ট্যাক্সিতে চড়তে হবে বলে যাত্রীদের আশঙ্কা। গত পাঁচ জুলাই থেকে রাজ্য সরকার এই সমস্ত জনবহুল স্টেশনে এই পরিষেবা চালু করেছে। তার বদলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথ। এতে একদিকে যেমন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা, একইভাবে বেশি ভাড়া দিয়ে তাঁদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। হাওড়া স্টেশনের পুরনো এবং নতুন কমপ্লেক্সের বাইরে দুটি করে চারটি এই ধরনের প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথ ছিল। যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ট্যাক্সি বুকিং করে গন্তব্যে যেতেন। বর্তমানে সেখানে প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথে তালা লাগানো। তার বদলে যাত্রীদের নিজেদেরই মোবাইল ফোনে ‘অ্যাপ’ ইন্সটল করে বুকিং করতে হচ্ছে ট্যাক্সি।

    অনেকেই পড়ছেন সমস্যায় (Howrah Station)

    যাত্রীরা জানিয়েছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নেই। ফলে তাঁরা ট্যাক্সি বুকিং (Howrah Station) করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন এবং বাসে করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। তাতে তাঁরা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। অন্যদিকে যাঁরা ওই অ্যাপ দিয়ে ট্যাক্সি বুকিং করছেন তাঁরা জানিয়েছেন, আগে প্রি-পেইড ট্যাক্সি বুথে একটি নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা ছিল। সেই অনুযায়ী ভাড়া দিতে হত। কিন্তু বর্তমানে হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে কোনও গন্তব্যে গেলে যে ভাড়া দেখাচ্ছে, একই সময় সেই গন্তব্য থেকে হাওড়া ট্যাক্সিস্ট্যান্ড পর্যন্ত আলাদা ভাড়া দেখাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভাড়া অনেকটাই বেশি। বিশেষ করে রাতের দিকে ভাড়ার অনেকটাই তারতাম্য দেখা যাচ্ছে। যাত্রীদের দাবি, তাঁদের স্বার্থে নিদিষ্ট ভাড়ার তালিকা তৈরি করা হোক।

    কীভাবে চলছে কাজ (Howrah Station)?

    পরিবহণ কর্মীরা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনে প্রথমে যাত্রীকে ওই যাত্রী সাথী (Yatri Sathi) নামে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে। এরপর বুকিং করলে একটি ওটিপি নম্বর পাওয়া যাবে। সেই ওটিপি নম্বর ড্রাইভারকে দেখালে তবেই গাড়িতে ওঠা যাবে। আপাতত এই ধরনের সিস্টেম চালু হয়েছে হাওড়া স্টেশন (Howrah Station), শিয়ালদা স্টেশন, কলকাতা বিমানবন্দর, সাঁতরাগাছি স্টেশন এবং কলকাতা স্টেশনে। এখন সমস্যা দেখা দেওয়ায় ওই বুথ থেকেই যাত্রীদের স্মার্টফোনে অ্যাপ ডাউনলোড করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বুথের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। যাত্রীদের বুকিং পেতে বেশ কিছুটা সময় লাগছে। আবার যদি কোনও যাত্রীর স্মার্টফোন না থাকে, তাহলে বুথ থেকেই ট্যাবের মাধ্যমে বুকিং করে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকেই ওটিপি নাম্বার ড্রাইভারকে দিয়ে যাত্রীদের ট্যাক্সিতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ওই কাজে হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিক অফিসার এবং কনস্টেবল ছাড়াও সিভিক ভলান্টিয়াররা সাহায্য করছেন। অনেক যাত্রী প্রি-পেইড সিস্টেম ভালো ছিল বলে মন্তব্য করলেও বেশিরভাগ যাত্রী জানিয়েছেন, এতে তাঁদের ভালো হয়েছে। চালকরাও জানিয়েছেন, তাঁদের সুবিধা হয়েছে। তবে এই সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রী ভাড়া বেড়েছে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Howrah Railway Station: নয়া শিরোপা, হাওড়া স্টেশন এখন থেকে গ্রিন রেলওয়ে স্টেশন

    Howrah Railway Station: নয়া শিরোপা, হাওড়া স্টেশন এখন থেকে গ্রিন রেলওয়ে স্টেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাওড়া স্টেশন এতদিন ছিল সিলভার রেটিং পাওয়া স্টেশন। বুধবার থেকে হাওড়া স্টেশনকে (Howrah Railway Station) গোল্ড রেটিং স্টেশনের শিরোপা দেওয়া হল। হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনকে ইন্ডিয়ান গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল, গ্রিন রেলওয়ে স্টেশন হিসাবে ঘোষণা করল। তাদের রেটিং সিস্টেমের অধীনে সিআইআই-আইজিবিসি গোল্ড রেটিং দেওয়া হয়েছে। বুধবার হাওড়া স্টেশন এক অনুষ্ঠানে, পুর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রী অমরপ্রকাশ দ্বিবেদীর হাতে গোল্ড ফলক এবং গোল্ড রেটিং সার্টিফিকেট তুলে দেন গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের কোর কমিটির সদস্য জি এম কাপুর। হাওড়া স্টেশনের টেকসই পরিচালন ব্যবস্থা ও পরিবেশ বান্ধব পরিষেবার জন্য এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

    কী কী কাজের জন্য মিলল এই সম্মান?

    হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন, প্ল্যাটফর্মের সংখ্যার দিক থেকে দেশের বৃহত্তম। প্রতিদিন এই স্টেশন (Howrah Railway Station) দিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ যাত্রী চলাচল করেন। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রূপ বদলেছে হাওড়া স্টেশনের। হাওড়া স্টেশনের ফুড প্লাজার কাছে গেলে দেখা যাবে আধুনিকতার উজ্জ্বল মুখ। এই অনুষ্ঠানে নতুন ডিআরএম নিযুক্ত হলেন সঞ্জীব কুমার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেল আধিকারিক মণীষ জৈন। গ্রিন রেটিং দেওয়া হয়েছে পরিবেশ বান্ধব ভবন এবং যাত্রী-বান্ধব বৈশিষ্ট্য যেমন স্টেশনের ছাদের ইনস্টলেশন, জলের ব্যবস্থাপনা, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্টেশন পরিষ্কার রাখা, দিনের বেলায় কোনও কৃত্রিম আলো ব্যবহার না করে সুর্যের আলো ব্যবহার, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, তাজা বাতাস চলাচল সহ নানা বৈশিষ্ট্যের জন্য। অমর প্রকাশ দ্বিবেদী এই সাফল্যের জন্যে স্টেশন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান।

    খুশি রেলযাত্রীরা (Howrah Railway Station)

    হাওড়া স্টেশনের এই শিরোপা অর্জনে খুশি সাধারণ মানুষ থেকে রেল যাত্রীরা (Howrah Railway Station)। তাঁরা জানান,  অন্যান্য স্টেশনের তুলনায় হাওড়া স্টেশনের পরিষেবা অনেকটাই ভালো। যাত্রী সুবিধার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ বান্ধব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় রেলের কাছে একটা দৃষ্টান্ত স্বরূপ।  তাই এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল বলে তাঁরা মনে করেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Howrah: তৃণমূলকে শিখণ্ডী করে হকারে হকারে ছেয়ে যাচ্ছে হাওড়া বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন চত্বর!

    Howrah: তৃণমূলকে শিখণ্ডী করে হকারে হকারে ছেয়ে যাচ্ছে হাওড়া বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন চত্বর!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যত দিন যাচ্ছে, ততই বেড়ে চলেছে হকারের সংখ্যা। এর ফলে ক্রমশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ছে হাওড়া (Howrah) স্টেশনে যাওয়ার প্রধান রাস্তা। হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বাস স্ট্যান্ড থেকে হকারের দৌরাত্ম্য কমাতে হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যেই অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সেই অভিযানের সময় কয়েক দিন হকার বসা বন্ধ হয়ে গেলেও তারপর দু-চার দিন যেতে না যেতেই ফের জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে হাজির হয় হকাররা। ফলে সাধারণ রেলযাত্রীদের কাছে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এবং স্টেশনে ঢোকার সাবওয়ে রীতিমতো যন্ত্রণার যাত্রাপথ হয়ে উঠেছে। হাওড়া বাসস্ট্যান্ড চত্বর এবং সাবওয়ের ভিতরে রাস্তা দখল করে সারি সারি বাজার এবং হকার বসছে বছরের পর বছর ধরে। কখনও দু-একজন যাত্রীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এই হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। কিন্তু কখনই পাকাপাকিভাবে হকার সরে না এই জায়গা থেকে।

    পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই ব্যবসা, বলছেন হকাররা (Howrah) 

    হাওড়া স্টেশনে ঢোকার পথে হকার ঠেলে ঢোকা এক রকম অভ্যাস হয়ে গেছে যাত্রীদের। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছে স্টেশন (Howrah) সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডে যেসব জায়গায় হকার বসত, তার বাইরেও যেটুকু ফাঁকা অংশ আছে, সেখানেও নতুন নতুন হকারের আমদানি ঘটছে। হকারদের দাবি, তারা পুলিশকে মাসোহারা দিয়েই এখানে ব্যবসা করে। আবার পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের মদতে হকারদের পুরোপুরি তোলা যায় না। একটা সময় সিপিআইএম নেতা লগনদেও সিংয়ের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড, গঙ্গার ধার, মাছ বাজার এলাকায়। এখন তিনি তৃণমূলে। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড চত্বরে তৈরি হয়ে গেছে বেশ কিছু তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস। হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে শরৎচন্দ্রের মূর্তির সামনে বড় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস তৈরি হয়েছে। হকারদের একাংশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক দাদাদের সন্তুষ্ট করে তারা এখানে হকারি করে এবং সামনে পার্টি অফিস থাকায় তাদের উচ্ছেদের ভয় করতে হয় না। মাঝে মধ্যে পুলিশ অভিযান চালালেও তারা দুদিন পরে আবার বসে পড়ে।

    কী বলছেন রেলযাত্রীরা (Howrah)?

    রেলযাত্রী তুহিন মজুমদার বলেন, অফিস যাওয়ার পথে এবং অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তা চলতে খুবই অসুবিধায় পড়তে হয়। ইদানীং দেখা যাচ্ছে কলকাতা থেকে হাওড়াগামী বাসগুলি হাওড়া ব্রিজ থেকে নেমে যাত্রী নামানোর পর সেই যাত্রী গঙ্গার ঘাটের দিকে ট্যাক্সিস্ট্যান্ডের পাশ দিয়ে মূলত হাওড়া স্টেশনে ঢোকেন। কিন্তু স্টেশনে যাওয়ার রাস্তার মাঝখানেই বেশ কিছু ডিম, পাউরুটি, ফল এবং চায়ের দোকান বসে পড়েছে। ফলে সেইসব হকার ঠেলে তাদের হাওড়া (Howrah) স্টেশনে ঢুকতে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। আরেক যাত্রী গার্গী সাহা জানান, অফিস টাইমে তো পা গলানোর জায়গা পাওয়া যায় না। রাস্তার দু’ধারে হকার বসায় সাধারণ মানুষ অফিস ফেরার সময় সেখান থেকেই কেনাকাটা করে। ফলে ট্রেনের সময় হয়ে গেলেও তাঁরা দ্রুত হাওড়া স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন না ক্রেতাদের ঠেলায়। তাই সরকারের উচিত অন্তত স্টেশনে ঢোকার রাস্তায় যাতে হকার না বসে, সেদিকে খেয়াল রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। হাওড়া সিটি পুলিশের দুটি বুথ রয়েছে হাওড়া স্টেশনের সামনে এবং ট্যাক্সিস্ট্যান্ড সংলগ্ন অনুসন্ধান কেন্দ্রের সামনে। কিন্তু তারা মূলত  ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকার ফলে হকারদের দিকে তাদের নজর নেই বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

    কী বলছে পুলিশ ও পুরসভা (Howrah)?

    যদিও পুলিশ জানিয়েছে, তারা মাঝে মধ্যেই হকার উচ্ছেদ সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই হকাররা ফের বসে পড়ে। হাওড়া পুরসভার বক্তব্য, হাওড়া বাসস্ট্যান্ড চত্বর মূলত কেএমডিএ-র আওতাধীন। ফলে সেখানে পুরসভা সরাসরি কিছু করতে পারে না। এদিকে হাওড়া (Howrah) স্টেশনের বাইরের নিরাপত্তা দেখা বা যাত্রী নিয়ন্ত্রণ যেহেতু হাওড়া সিটি পুলিশের আওতায়, তাই রেল পুলিশও সেখানে কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ফলে সমস্যার কোনও সমাধান তো হয় না, উল্টে সমস্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Howrah: পাশে এলেন মহিলা আরপিএফ, হাওড়া স্টেশনে নির্বিঘ্নে সন্তান প্রসব গৃহবধূর

    Howrah: পাশে এলেন মহিলা আরপিএফ, হাওড়া স্টেশনে নির্বিঘ্নে সন্তান প্রসব গৃহবধূর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরপিএফের মানবিক মুখ। মহিলা আরপিএফ কর্মীদের তৎপরতায় হাওড়া (Howrah) স্টেশনে নির্বিঘ্নে সন্তান প্রসব করলেন এক গৃহবধূ। শুক্রবার হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সে এই ঘটনাটি ঘটে। মা ও সদ্যোজাত শিশু দুজনেই সুস্থ। হাওড়া জেলা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন দুজনেই।

    কীভাবে হল সন্তান প্রসব (Howrah)?

    জানা গেছে, পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের বাসিন্দা সুপ্রিয়া করণ (২৮), স্বামী আকাশের সঙ্গে হাওড়া স্টেশনে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল দুরন্ত এক্সপ্রেসে চেপে বেঙ্গালুরুতে যাবেন। ট্রেন থেকে হাওড়া (Howrah) স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সে নামতেই সুপ্রিয়ার প্রসব বেদনা শুরু হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়েই সেখানে কর্তব্যরত মহিলা আরপিএফ কর্মীরা সুপ্রিয়াকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন। ট্রেনের কয়েকজন মহিলা সহযাত্রীও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। এরপরই মহিলা আরপিএফ কর্মীরা প্লাটফর্মের চারদিকে কাপড় দিয়ে ঘিরে একটি অস্থায়ী লেবার রুম তৈরি করেন। তাঁদের সাহায্যে ওই মহিলার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন রেলের চিকিৎসক। চিকিৎসক এসে দুজনকেই সুস্থ বলে ঘোষণা করেন। পরে আরপিএফ কর্মীরা রেলের অ্যাম্বুল্যান্সে করে দুজনকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে মা ও সদ্যোজাত সন্তান দুজনেই।

    গৃহবধূর স্বামীর বক্তব্য

    সুপ্রিয়া দেবীর স্বামী আকাশ করণ জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরু যাওয়া খুব জরুরি ছিল। তাই গর্ভবতী হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রীকে নিয়ে যেতে হচ্ছিল। কিন্তু এইদিন হাওড়া (Howrah) স্টেশনে নামতেই স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। তখন কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না৷ সেই সময় এগিয়ে আসেন আরপিএফের মহিলারা। তারাই দ্রুত পুরো এলাকা কাপড় দিয়ে ঘিরে দিয়ে তাঁর স্ত্রীর প্রসব করান। এই জন্যে আরপিএফ কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

    এর আগেও হাওড়া (Howrah) স্টেশন সহ বিভিন্ন রেল স্টেশনে প্রসব যন্ত্রণা ওঠা মহিলাদের সহযোগিতার করে নজির সৃষ্টি করেছে রেল পুলিশ। মাসখানেক আগেই হাওড়া স্টেশনে পরপর দুবার সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটে। সেখানেও মহিলা পুলিশ কর্মীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। রেলের নিরাপত্তা দেখার পাশাপাশি মানুষের সহযোগিতায় রেল পুলিশের এই ভুমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন রেল যাত্রীরা। বিশেষ করে মহিলা রেল যাত্রীরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আরপিএফের এই মহিলা কর্মীদের। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ। 

LinkedIn
Share