Tag: Hungary

  • Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar)। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ, জ্বালানি-খাদ্য-সার-অর্থের ‘চার এফ’ সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন (India)। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার’ শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এই প্রথম শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বমূলক ও স্বচ্ছ করে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, বললেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)

    বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক কাঠামোগত বিবর্তনের অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরাসরি সংঘাত সেই পরিবর্তনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।তাঁর কথায়, “বিশ্বব্যবস্থা এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে।”

    জয়শঙ্কর সতর্ক করেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বহুপাক্ষিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচার, নীতি প্রয়োগের কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও বিধি যাতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হয়ে থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)। তাঁর মতে, এর ফলে রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থার উপর দেশগুলির আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।

    ‘চার এফ’ সঙ্কট

    জয়শঙ্করের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘চার এফ’ সঙ্কট। জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ক্ষেত্রে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা কীভাবে এক দেশ বা অঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে বৃহত্তর বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ‘এফ’ সঙ্কটকে নিজের মতো করে চলতে দেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, এই সঙ্কটের সঙ্গে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। তাই কেবল কূটনৈতিক ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, নতুন প্রযুক্তি, উন্নয়নমূলক অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং মহামারি মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখানে যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলি অত্যন্ত বাস্তব সমস্যা—শুধু শব্দ বা অভিব্যক্তি নয়।” তাঁর মতে, এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শেষ পর্যন্ত নির্ভরতা রয়েছে দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার সদিচ্ছার উপর (India)।

    ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যের আহ্বান

    বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে (Jaishankar) নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথাও বলেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সঙ্গে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে তার জন্য উপযুক্ত কাঠামো এবং নিরাপত্তাবিধি থাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য, “যেখানে নতুন সক্ষমতা ও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে উপযুক্ত কাঠামো ও নিরাপত্তাবিধির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট।”

    একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস ও পথ তৈরি করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বাধা, কোনও একটি পক্ষের আধিপত্য অথবা আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকলে সেই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

    চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সমস্যাগুলির পৃথক সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অর্জিত সাফল্যগুলি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক

    রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও ফ্রান্সের বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং সংস্কারকৃত ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইকুয়েডরের বিদেশমন্ত্রী রবার্তো কুরির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও ওষুধশিল্প, মানুষের যাতায়াত, কর্মী প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

    স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানারের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও (Jaishankar) গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। হাঙ্গেরির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী অনিতা অরবানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ভারত-সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী নাউরুর রাষ্ট্রপতি ডেভিড আদেয়াংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় (India)।

    সংস্কার ও সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে ভারতের কূটনীতি

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে কৌশলগত চাপ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল ভাবনা—বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনকে সামলে এমন একটি রাষ্ট্রসংঘে গড়ে তোলা, যা সকলের জন্য কার্যকর।

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে। জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৬ সেপ্টেম্বর জয়শঙ্করের (Jaishankar) বক্তব্য রাখার কথা। সেখানে বিশ্ব পরিচালনা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ভারতের অগ্রাধিকার আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলেছিল ইজরায়েল (Israel)। ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও, তাঁকেই দেশের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও ছকেছিল তেল আভিভ (ইজরায়েলের রাজধানী)। মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেই এমনই দাবি করা হয়েছে (Ahmadinejad Intelligence Asset)।

    ইজরায়েলের ছক! (Israel)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রথম দিকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবন থেকে তাঁকে গোপনে সরিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মোসাদের সদস্যরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদ স্বয়ং ওই উদ্ধার অভিযানে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিলেন, এবং আস্থা হারিয়েছিলেন ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের ইজরায়েলি পরিকল্পনার সাফল্যে। ফলে গোটা পরিকল্পনাটাই ভেস্তে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। সম্মেলনটি ছিল আসলে ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের আড়াল। সেই সময় মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া নিজেও বুদাপেস্টে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    আহমাদিনেজাদ-রহস্য

    গত বছরের জুন মাসে আবারও বুদাপেস্ট সফরে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইরানি রক্ষীরা পরে জানান, ওই সফরে অন্তত দু’বার তিনি তাঁদের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। আহমাদিনেজাদ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিদেশ সফর এবং থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করেছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা (Israel)। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের থাকার ভবন এবং সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়। এর কিছুক্ষণ পর একটি কালো রঙের পিউজো গাড়ি সেখানে পৌঁছে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যায়। মার্কিন ও ইরানি কর্তাদের বক্তব্য দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের সদস্যরা।

    ভূখণ্ড দখলের ছক!

    এরপর তাঁকে একটি গোপন নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। একই সময়ে ইরানের সরকার উৎখাতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানি কুর্দি বিরোধী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভূখণ্ড দখল এবং পরে তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কীভাবে আহমাদিনেজাদ নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এর কিছুদিন পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের যাত্রায় খানিকক্ষণের জন্য প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল আহমাদিনেজাদকে। তিনি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ছিলেন, এবং কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ইরানের চার প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন আহমাদিনেজাদ, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘনিষ্ঠদের কাছে আহমাদিনেজাদ (নাকি) জানিয়েছিলেন, বিদেশি সমর্থনে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। শাসন পরিবর্তনের পর তিনি ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পক্ষেও প্রস্তুত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে (Israel)। তবে এই সব অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোসাদ কিংবা আহমাদিনেজাদের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে (Ahmadinejad Intelligence Asset) কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তাই জানা যায়নি, সত্যটা ঠিক কী।

     

LinkedIn
Share