Tag: ICC

ICC

  • T20 World Cup 2026: ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়! ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে ইডেনে মুখোমুখি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    T20 World Cup 2026: ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়! ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে ইডেনে মুখোমুখি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে কলকাতা। এসআইআর লিস্ট নিয়ে আমজনতার আগ্রহ অন্তত শনিবার চোখে পড়েনি। ময়দান চত্বরে একটাই আলোচনা, কীভাবে মিলবে রবিবার ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ (India vs West Indies )ম্যাচের টিকিট। রবিবার ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’। এই ম্যাচে যে জিতবে, সে পা রাখবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) সেমিফাইনালে। ম্যাচের ফলাফল কী হবে, সেটা তো সময়ই বলবে। কিন্তু তা বলে দর্শকদের জন্য বিনোদনের কমতি থাকছে না। এই হাইভোল্টেজ, ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। কিন্তু এই উন্মাদনার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে টিকিট কালোবাজারি চক্রও। ৯০০ টাকার টিকিট বিকোচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকায়।

    ক্রীড়া-বিনোদনের জন্য মুখিয়ে ইডেন

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে বড়় জয়ের পরেও নিরাপদ নয় ভারতের সেমিফাইনালে ওঠা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অবশ্যই জিততে হবে ভারতকে। সেই ম্যাচ যদি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় তাহলে ছিটকে যাবে ভারত। তবে জিতে গেলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত ভারতের। লেজার শো থেকে দেশাত্মবোধক গান, রবিবার সবই থাকছে ক্রিকেটের নন্দনকাননে। মাঠে সূর্যকুমার-অভিষেকদের ব্যাট থেকে রানের ফুলঝুরি দেখার জন্য মুখিয়ে ক্রিকেটভক্তরা। কিন্তু ইডেন কোনওভাবেই খালি হাতে ফেরাবে না দর্শকদের। থাকছে লেজার শো। এছাড়া দেশাত্মবোধক গানও থাকছে। যার মধ্যে একটা বাংলা ভাষায়। বাজবে ‘ধুরন্ধর’-এর গান। এখানেই শেষ নয়। দর্শকদের উন্মাদনার জন্য স্লোগান উঠবে ‘বন্দে’। দর্শকরা উত্তর দেবেন ‘মাতরম’।

    টিকিটের দেদার কালোবাজারি

    ইডেনের ম্যাচে টিকিটের দেদার কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার লোয়ার টিয়ারের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩০ হাজার টাকায়। শনিবার টাকার অঙ্কটা ৫০ হাজারে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়াও আপার টিয়ারের টিকিট বিক্রির খবর পাওয়া গিয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকায়।

    দু’টি বিশেষ মেট্রো

    ম্যাচ শেষের পর দর্শকদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ব্লু লাইনে দু’টি বিশেষ মেট্রো চালানো হবে। এই পরিষেবাগুলি চলবে এসপ্ল্যানেড–দক্ষিণেশ্বর এবং এসপ্ল্যানেড–শহিদ ক্ষুদিরাম রুটে। দু’টি মেট্রোই রাত ১১টা ১৫ মিনিটে এসপ্ল্যানেড থেকে ছাড়বে এবং পথে সমস্ত স্টেশনে থামবে। বিশেষ এই পরিষেবার ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টার খোলা থাকবে শুধুমাত্র এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনে। ফলে ম্যাচ শেষে দর্শকরা সেখান থেকেই টিকিট কেটে সহজে মেট্রো ধরতে পারবেন।

    বোলিং ইউনিট নিয়ে চিন্তা

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে চিন্তার কারণ বরুণ চক্রবর্তী এবং শিবম দুবের অফ ফর্ম। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এই বিশ্বকাপে বোলিং ইউনিট নিয়ে চিন্তায় রয়েছে ভারতীয় দল। খোদ সূর্যকুমার নিজেও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। আসলে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মাত্র দুই ওভার বল করেছেন শিবম দুবে। দিয়েছেন ৪৭ রান। ওদিকে বরুণ চক্রবর্তী এবং অক্ষর প্যাটেল দুই জনেই ১টি করে উইকেট নিয়েছেন। দিয়েছেন ৩৫ রান। মাথায় রাখতে হবে, অক্ষর প্রথম দিকে দারুণ বল করছিলেন। তবে শেষে গিয়ে তিনিও ভাল রান দেন। আর সূর্যও এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত। প্রথমে ব্যাট করে তাই স্কোরবোর্ডে বড় রান তোলাই লক্ষ্য ভারতের।

     

     

     

     

  • T20 World Cup 2026: শেষ চারের ভাগ্য নির্ধারণ ইডেনে! এবার চিন্তা বোলিং, জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে কী বললেন ভারত অধিনায়ক?

    T20 World Cup 2026: শেষ চারের ভাগ্য নির্ধারণ ইডেনে! এবার চিন্তা বোলিং, জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে কী বললেন ভারত অধিনায়ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডেনে ক্যারিবিয়ান ক্যালিপসো থামাতে পারলেই টি-২০ বিশ্বকাপের (2026 ICC Men’s T20 World Cup) শেষ চারে পৌঁছে যাবে ভারত। চিপকে জিম্বাবোয়েকে ৭২ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখল টিম ইন্ডিয়া (India vs Zimbabwe)। ভারতের সামনে সেমিফাইনালে ওঠার একটাই রাস্তা। কলকাতায় ম্যাচ জিততে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। পয়েন্টের বিচারেই উঠে যাবে শেষ চারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতে প্রথম দল হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা বৃহস্পতিবার দুপুরেই নিজেদের জায়গা পাকা করেছে। ভারতের সামনে এবার সুযোগ। তবে, বৃষ্টি হলে বা কোনও কারণে ম্যাচ ভেস্তে গেলে নেট রান রেটের বিচারে ওয়াংখেড়েতে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

    সেমির পথে সূর্যরা, কারা প্রতিপক্ষ

    চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ৮-এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিরাট ব্যবধানে হারের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৭৬ রানের এই পরাজয় তাদের নেট রান রেটে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছিল। অঙ্ক ছিল, টিম ইন্ডিয়াকে তাদের দুটি ম্যাচই জিততে হবে, এবং তাও বড় ব্যবধানে। গ্রুপ – ১ পয়েন্ট টেবিলে ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে, ছিটকে গিয়েছে জিম্বাবোয়ে। দুটো দলই ২টো করে ম্য়াচ খেলেছে। এবার তৃতীয় ম্য়াচটা নিজেদের মধ্যেই খেলতে হবে। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণ করতে কোনও সমস্যা হবে না। গ্রুপের বাকি ২ দল অর্থাৎ ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজও ২টো ম্য়াচ খেলেছে। তৃতীয় ম্য়াচে এই ২ দলকে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। আপাতত দুটো দলের কাছেই ২-২ পয়েন্ট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে জিততে চাইবে। যে দলই জিতুক না কেন, ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা সেমিফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে। কিন্তু এই ম্যাচ কোনও কারণে ভেস্তে গেলে রান রেট ভালো থাকায় সেমিফাইনালে চলে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালে পৌঁছলে মুম্বই-এর ওয়াংখেড়েতে মুখোমুখি হবে ভারত ও ইংল্যান্ড। কারণ, নিয়ম অনুসারে গ্রুপ-এ-র শীর্ষে থাকা দল খেলবে গ্রুপ ২-এর দুই নম্বরে থাকা দল। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এক নম্বর ধরে রাখার সম্ভাবনা দক্ষিণ আফ্রিকার। সেক্ষেত্রে গ্রুপ-২-এর দুই নম্বরে থাকা দলের মুখোমুখি হবে তারা।

    ইডেনের লড়াই নিয়ে কী ভাবছেন সূর্য

    রবিবার, ১ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া। তাও আবার ইডেন গার্ডেন্সে। সেই ম্যাচ নিয়ে ইতিমধ্যেই কথাবার্তা, আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। টিম ইন্ডিয়া অধিনায়ক সূর্যকুমার কি ইতিমধ্যেই ক্যারিবিয়ান দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছেন? সূর্য জানাচ্ছেন, ‘‘দেখুন আমাদের ইতিবাচক হওয়া ছাড়া তো আর কোনও বিকল্প নেই। আমরা কলকাতায় পৌঁছাই, তারপরেই সেখানে বসে ওই ম্যাচ নিয়ে ঠিকঠাকভাবে পরিকল্পনা তৈরি করব। আপাতত একদিনের ছুটি, আর সফরও করতে হবে আমাদের, সেই সঙ্গে বিশ্রামও নেওয়াটা জরুরি।’’ চিপকে খেলার শেষে সূর্যকুমার বলেন, ‘‘আমার মনে হয় আমরা সবকিছু পিছনে ফেলেই আসতে চেয়েছিলাম। লিগ পর্বে বা অমদাবাদে শেষ ম্যাচে আমরা কী করেছি, তা নিয়ে আমরা খুব বেশি ভাবিনি। আমাদের ভিডিও বিশ্লেষক সমস্ত ব্যাটার এবং বোলারদের জন্য একটি স্লাইড তৈরি করেছিলেন। সেখানে বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা কী করেছি তা তুলে ধরেছিলেন। আমরা সেটি দেখেছি, এখান থেকে অনেক পজিটিভিটি পেয়েছি এবং স্পষ্টতা নিয়ে এখানে এসেছি। তার ফল মিলেছে।’’

    চিন্তায় ভারতীয় বোলিং

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ভারতের ব্যাটাররা ভালো করলেও ইডেনে নামার আগে ভারতের বোলিং কিন্তু রীতিমতো চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। যা স্বীকারও করে নিলেন সূর্যকুমার, তিনি বলেন, ‘‘সত্যি বলতে, আমরা বলের সঙ্গে আরও কিছুটা ক্লিনিকাল হতে পারতাম। কিন্তু দিনের শেষে, জয় মানে জয়। আমরা এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটি গ্রহণ করব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সঙ্গে খেলতে গেলে আমরা বেশ কিছু স্ক্রু টাইট করেই যাব। আমি জিম্বাবোয়ের ব্যাটারদের কাছ থেকে কোনও কৃতিত্ব কেড়ে নিতে চাই না। আমার মনে হয় তারা সুন্দর ব্যাট করেছে। হ্যাঁ, উইকেট ভালো ছিল, পাওয়ারপ্লেতে সময় নিয়ে, তাঁরা যেভাবে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাতে করে স্মার্টলি খেলার গতি বাড়িয়েছিল – তা চিত্তাকর্ষক ছিল। কৃতিত্ব তাঁদেরও। বোলিংয়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কিছু বিকল্প নিয়ে আমরা আরও একটু বুদ্ধিমান হতে পারতাম। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহসী হতে হবে।’’ সূর্য বুঝিয়েই দিলেন যে তিনি ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে নামার আগে বোলিং নিয়ে সামান্য হলেও চিন্তিত।

    টি-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ

    জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে এদিন রানের পাহাড় গড়ে ভারত। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন সিকন্দর রাজা। প্রথমে ফিল্ডিং করে নিতে চেয়েছিল জিম্বাবোয়ে। যাতে রাতের শিশিরের সমস্যা এড়াতে পারেন বোলাররা। তবে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবোয়ে বোলিংকে দুরমুশ করলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। বৃহস্পতিবার অভিষেক শর্মার সঙ্গে ইনিংস ওপেন করেন সঞ্জু স্যামসন। ভারতকে শুরুতেই চালকের আসনে বসিয়ে দেন দুই ওপেনার। সঞ্জু বড় রান পাননি। তবে ১৫ বলে ২৪ রান করে ইনিংসের গতিটা শুরুতেই ফিফথ গিয়ারে বেঁধে দেন। মাত্র ২২ বলে ৪৮ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। এরপর সঞ্জু ফিরলেও অভিষেক ও ঈশান কিষাণ মিলে ধ্বংসলীলা চালান। টি-২০ ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটার অভিষেক শর্মার টুর্নামেন্ট কাটছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টানা তিন ম্যাচে শূন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৫। অবশেষে সুপার এইটের দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দে ফিরলেন বাঁহাতি ব্যাটার। ২৬ বলে হাফসেঞ্চুরি। ৩০ বলে ৫৫ রান করলেন। ২৪ বলে ৩৮ ঈশান কিষাণের। দ্বিতীয় উইকেটে ৪২ বলে ৭২ রান যোগ করলেন দুজনে। সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তাণ্ডব চালালেন তিলক বর্মা (১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রান), হার্দিক পান্ডিয়া (২৩ বলে অপরাজিত ৫০ রান), সূর্যকুমার যাদবরা (১৩ বলে ৩৩ রান)। ২০ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ২৫৬/৪। টি-২০ বিশ্বকাপে যা ভারতের রেকর্ড। ২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপে ডারবানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২১৮/৪ তুলেছিল ভারত।

    প্রয়াত রিঙ্কু সিং-এর পিতা

    শেষরক্ষা হল না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঝেই প্রয়াত হলেন রিঙ্কু সিং-এর বাবা খাচান্দ্র সিং। ভারতীয় শিবির থেকে ছুটি নিয়ে গত মঙ্গলবার হাসপাতাল ভর্তি বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন রিঙ্কু। পর দিনই ফিরে আসেন। গ্রেটার নয়ডার হাসপাতালে রিঙ্কুর বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গত কয়েক দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। খাচান্দ্র মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও ‘কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’-তে ছিলেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চেন্নাইয়ের জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে রিঙ্কু হঠাৎ শিবির ছেড়ে চলে যান। বাবাকে দেখে রিঙ্কু দ্রুত চেন্নাই ফিরে আসেন। যদিও বৃহস্পতিবারের ম‍্যাচে তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন না। শুধু পরিবর্ত হিসেবে ফিল্ডিং করেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলিতে রিঙ্কুকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।

  • T20 World Cup 2026: চিপকে বড় জয়ই লক্ষ্য ভারতের, কোন পথে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারে সূর্যরা?

    T20 World Cup 2026: চিপকে বড় জয়ই লক্ষ্য ভারতের, কোন পথে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারে সূর্যরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (2026 ICC Men’s T20 World Cup) বৃহস্পতিবার সুপার এইটে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচ (India vs Zimbabwe) খেলতে নামছে ভারত। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ৮-এর প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিরাট ব্যবধানে হারের ফলে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সেমিফাইনালে ওঠার পথ বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭৬ রানের এই পরাজয় তাদের নেট রান রেটে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে। এখন, টিম ইন্ডিয়াকে তাদের দুটি ম্যাচই জিততে হবে, এবং তাও বড় ব্যবধানে।

    সেমিফাইনালের সম্ভাবনা

    দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের সঙ্গে সঙ্গে, টিম ইন্ডিয়ার নেট রান রেটেরও উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে, যার ফলে সেমিফাইনালে (T20 World Cup 2026) পৌঁছানোর সম্ভাবনা কমে গিয়েছে। তবে, ভারতের জন্য প্রত্যাবর্তন সম্ভব। এর জন্য, তাদের বাকি দুটি ম্যাচে সেমিফাইনালের হিসেব-নিকেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। টিম ইন্ডিয়া যদি বাকি সুপার ৮ ম্যাচগুলিতে বড় জয় অর্জন করে, তাহলে সেমিফাইনালের দৌড়ে থাকার সুযোগ তাদের রয়েছে। ভারত যদি প্রথমে ব্যাট করে এবং ১৯০ রানের বেশি করে, তাহলে টিম ইন্ডিয়াকে জিম্বাবোয়েকে ১৩০ রানের কম রানে অলআউট করতে হবে এবং ৬০ রানের বেশি রানে জিততে হবে। তবে, ৮০ বা তার বেশি রানের জয়ই সেরা বলে বিবেচিত হবে। ভারত যদি লক্ষ্য তাড়া করে, অর্থাৎ পরে ব্যাট করে তাহলে টিম ইন্ডিয়াকে জিম্বাবোয়েকে ১৩০ রানের কম রানে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং ১০ থেকে ১২ ওভারে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে।

    দলে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু সিং

    বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগেই ভারতীয় দলে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু সিং। তবে তিনি এই ম্যাচে খেলবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট হয়। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক (Sitanshu Kotak) জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধেতেই ফের দলে যোগ দিচ্ছেন রিঙ্কু। তিনি বৃহস্পতিবার চিপকে (Chepauk) থাকবেন। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি মনে করে, তাহলে তিনি খেলবেন। পারিবারিক সমস্যার কারণে ভারতীয় দল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন রিঙ্কু। তাঁর বাবা খানচাঁদ সিং (Khanchand Singh) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি গ্রেটার নয়ডার (Greater Noida) এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে টিম ম্যানেজমেন্ট রিঙ্কুকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। বাড়ির পরিস্থিতি সামলে চেন্নাইয়ে ফিরছেন রিঙ্কু।

    চিপকে চাপে ভারত

    সোমবার মুম্বইয়ে সুপার এইটের ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে ১০৭ রানে হারিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে এমনিতেই চাপে ছিল ভারত। তার উপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বিশাল জয়ের ফলে ভারতের নেট রান রেটের সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে। সেমিফাইনালে উঠতে হলে বাকি ম্যাচগুলো বড় ব্যবধানে জিততেই হবে। ভারতের পরবর্তী ম্যাচ বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। একই দিনে অন্য ম্যাচে আমেদাবাদে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ম্যাচের ফলাফলের উপর অনেকটাই নির্ভর করছে ভারতের সেমিফাইনাল ভাগ্য। তবে অন্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নিতে চাইবেন গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেক্ষেত্রে সবকিছু ভুলে রানে ফিরতে হবে অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষাণদের। ভারতের ব্যাটিং তেজই চিপকে ফের সূর্যোদয় ঘটাতে পারে টিম ইন্ডিয়ার।

  • T20 World Cup 2026: থামল বিজয়রথ! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হতাশাজনক হারের পরও বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যয়ী সূর্য

    T20 World Cup 2026: থামল বিজয়রথ! দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হতাশাজনক হারের পরও বিশ্বকাপ নিয়ে প্রত্যয়ী সূর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিনা লড়াইয়ে থামল সূর্যের বিজয়রথ। সুপার এইটে বড় ধাক্কা। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) কাছে ৭৬ রানে হেরে গেল ভারত। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানে অল আউট টিম ইন্ডিয়া। ১২ ম্যাচে জয়ের পর হার। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের (Suryakumar Yadav) স্পষ্ট দাবি—হারের দায় ব্যাটিংয়ের। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে এই আমেদাবাদেই ভারতের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, রোহিতদের বিজয়রথ থেমেছিল, সেখানেই ফের মুখ থুবড়ে পড়ল সূর্যের ভারত (Indian Cricket Team)। শুধু হার নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টিম ইন্ডিয়া এতই বড় ব্যবধানে পরাজিত হলে যে ভারতের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়ে গেল।

    ২০২২ সালের পর আইসিসি টি-টোয়েন্টি-তে হার

    দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে রবিবার মাত্র ১১১ রানেই অল আউট হয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। গ্রুপ পর্বে অপেক্ষাকৃত কমজোরি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও রকমে সামাল দেওয়া গিয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছাড়া কোনও ম্যাচেই সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি গুরু গম্ভীরের ছাত্ররা। সুপার এইটে নামতেই বাস্তব পরিস্থিতির সামনে পড়ল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বিরাট ব্যবধানে হেরে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরাজয়ের পর এই প্রথম কোনও একাধিক দেশের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে পরাজিত হল ভারতীয় দল। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গের পর এই প্রথম আইসিসি প্রতিযোিগতার ম্যাচে হারের সম্মুখীন হল মেন ইন ব্লু-রা।

    পাওয়ারপ্লেতেই ভাঙন

    রান চেজের শুরুতেই ভাঙন। প্রথম ওভারে শূন্য রানে আউট ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)। তিলক বর্মা (Tilak Varma) ১, অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ১৫—পাওয়ারপ্লের শেষে স্কোর ৩১/৩। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। এই কারণে ম্যাচের পর সূর্যকুমার বলেন, ‘১৮৮ তাড়া করতে গেলে পাওয়ারপ্লেতে ম্যাচ জেতা না গেলেও হেরে যাওয়া যায়। আমরা এই পর্যায়েই বেশি উইকেট হারিয়েছি। ছোট ছোট জুটি গড়তে পারিনি।’ পরিসংখ্যান বলছে, কাল ভারতের ব্যাটাররা থিতু হতে পারেননি। বড় শট খেলতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট পড়েছে। স্ট্রাইক রোটেশনও হয়নি ঠিকমতো। ফলে রান তোলার চাপ ক্রমশ বেড়েছে।

    মিডল অর্ডারে ধীরগতি

    পাওয়ার-প্লে-তে ব্যাকফুটে চলে গিয়েও নিজেদের কৌশল থেকে সরলেন না গম্ভীর, সূর্যকুমাররা। ঈশান, অভিষেক ফিরে যাওয়ার পরেও চলল সেই টুকটুক করে ব্যাটিং। পরিস্থিতির বিচার না করেই ধরে খেলতে গিয়ে বিপদ ঘনিয়ে এল। দক্ষিণ আফ্রিকাও ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল। তাই বলে ডেভিড মিলার এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ‘টেস্ট’ খেলার রাস্তায় হাঁটেননি। পাল্টা মারের রাস্তায় হেঁটে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। ভারত সেটাই করতে পারল না। ধরে খেলতে গিয়ে নিজেদের উপর চাপ এতটাই বাড়িয়ে ফেলল যে পরের দিকে আর সামলানো গেল না।

    ব্যাটিং ব্যর্থতাই দায়ী

    ম্যাচ শেষে ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন অধিনায়ক সূর্য কুমার। কিন্তু পরিকল্পনা কই? ভারতের ব্যাটারদের খেলা নিয়ে প্রতি ম্যাচেই প্রশ্ন থাকছে। কেউ না কেউ পারফরম্যান্স করে ম্যাচ বার করে দিচ্ছিলেন ঠিক, কিন্তু কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে সেই চাল চলে না। তখন টি-টোয়েন্টি হোক বা টেস্ট, ক্রিকেট বুঝিয়ে দেয় এটা ওয়ান-ম্যান গেম নয়, টিম গেম। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা যেখানে একের পর এক মন্থর বল করছেন, তা খেলার জন্য কেন পরিকল্পনা থাকবে না ব্যাটারদের? অনুশীলনে ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাকের কাজটা কী? আগের চারটি ম্যাচে ওপেনিং জুটি টিকতে পারেননি। মূলত অভিষেক শর্মার ব্যর্থতার জন্যই। এ দিন সেই তালিকায় নাম লেখালেন ঈশান কিশন। অভিষেকের বদলে তিনি স্ট্রাইক নিয়েছিলেন। চতুর্থ বলেই তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন এডেন মার্করাম। অভিষেক কোনও মতে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ১৫ রান করলেন। তবে যে বলে আউট হলেন তাতে শিক্ষানবিশ ক্রিকেটারও লজ্জা পাবেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রতি ম্যাচে ওপেনারেরা এ ভাবে ব্যর্থ হলে সাফল্যের আশা করা যায় না।

    কেন নেই অক্ষর প্যাটেল

    আমেদাবাদের পিচে কী ভাবে বোলিং করতে হয়, তা ভারতকে শিখিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। কেশব মহারাজের মতো বোলার যেখানে এক ওভারে তিনটি উইকেট তুলে নিলেন, সেখানে ভারতের স্পিনারদের প্রাপ্তি মাত্র একটি উইকেট। বরুণ চক্রবর্তী ভারতের স্ট্রাইক বোলার। তিনি এমন বল করলেন যে লোকানো যাচ্ছিল না। শেষ ওভারে ডেভিড মিলারকে আউট করলেন ঠিকই। তত ক্ষণে মিলার যা ক্ষতি করার করে দিয়েছেন। আমেদাবাদের পিচে খেলে বড় হয়েছেন অক্ষর প্যাটেল। মাঠ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে নাদিয়াদে থাকেন। তিনি দলের সহ-অধিনায়কও বটে। তাঁকেই কি না এই ম্যাচ থেকে বাদ দেওয়া হল? যে কোনও দিন অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়াশিংটনের থেকে অক্ষর এগিয়ে থাকবেন। তার উপর তাঁর ঘরের মাঠে দলের বাইরে অক্ষর। মাঠে বল হাতে থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার আরও ২০ রান হয়তো কমতে পারত। যে ২০ রানই ২০ ওভারের ক্রিকেটে মানসিক ফারাক গড়ে দেয়।

    সূর্যদের শেষ-চারের পথ

    এই পরাজয়ের পর ভারতের আর ভুলত্রুটির কোনও অবকাশ নেই। সুপার এইটে সব দলই তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। ভারতীয় দল নিজেদের পরের ম্যাচগুলি খেলবে জিম্বাবোয়ে (Zimbabwe) এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) বিরুদ্ধে। ভারতীয় দলকে এই দুই ম্যাচে জিততে তো হবেই। পাশাপাশি টিম ইন্ডিয়াকে আশা করতে হবে প্রোটিয়া দলও যেন বাকি দুই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে। তাহলে সেক্ষেত্রে দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ ১ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবে টিম ইন্ডিয়া। তবে এর অন্যথা হলে? দক্ষিণ আফ্রিকা যদি জিম্বাবোয়ে বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরাজিত হয়, তাহলে সমস্যায় পড়বে ভারত।

    বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে এত বড় ব্যবধানে হারের ফলে ভারতের (India vs South Africa) নেট রান রেটও বেশ ধাক্কা খেয়েছে। এই হারে ভারতের নেট রান রেট নেমে গেছে মাইনাস ৩.৮০০-তে। সুপার এইটে এখন পরিস্থিতি জটিল। তাই ভারতীয় দলকে সেক্ষেত্রে নিজেদের ম্যাচ বড় ব্যবধানে জিততে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পরাজয় শুধু পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাসেও ধাক্কা। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার পরিষ্কার জানিয়েছেন, এটা ঘাবড়ানোর নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। সূর্য বলেন, ‘আমরা আমাদের ব্র্যান্ডের ক্রিকেটই খেলব। ব্যাট, বল, ফিল্ডিং—সব বিভাগেই উন্নতি করতে হবে। তারপর সময় বলবে।’

  • T-20 World Cup 2026: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না মধুর প্রতিশোধ! আমেদাবাদে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা

    T-20 World Cup 2026: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না মধুর প্রতিশোধ! আমেদাবাদে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সূর্যের বিজয়রথ ছুটছে। সুপার এইট তো হল, এবার লক্ষ্য সেমিফাইনাল! ভারতীয় দল আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T-20 World Cup 2026) চারটি ম্যাচের চারটিতেই জিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সুপার এইটে উঠেছে। সেমিফাইনালের লক্ষ্যে সুপার এইটে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছেন সূর্যরা। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দু’বছর আগে বার্বাডোজে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারত প্রোটিয়াদের হারিয়েই বিশ্বকাপ জিতেছিল। প্রোটিয়াদের সামনে মধুর প্রতিশোধের সুযোগ।

    লড়াই যেন আরও কঠিন

    গ্ৰুপ লিগে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছিল ভারত (India vs South Africa)। এবার লড়াই যেন আরও কঠিন। একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া সে ভাবে কোনও দলই দাগ কাটতে পারেনি। এ বার লড়াই আলাদা। সুপার এইটে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চলেছে জিম্বাবোয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সূর্যকুমার যাদবের লক্ষ্য থাকবে তিন প্রতিপক্ষকে জয় করে তার অপ্রতিরোধ্য রথকে সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া। তবে, এটা এত সহজ হবে না। তিনটি দলই শক্তিশালী, এবং এটি একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচটিকে সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছে। জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজও শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ খাড়া করে দেবে৷

    নেট রান-রেট গুরুত্বপূর্ণ

    টিম ইন্ডিয়া এই রাউন্ডে তাদের তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই জয়লাভ করে, তাহলে তারা সরাসরি সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে। ভারত তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি জিতলেও সেমিফাইনালে উঠতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে গ্রুপের বাকি দলগুলির থেকে নেট রান রেট ভাল রাখতে হবে। শেষ চারে যাওয়ার জন্য প্রতিটি দলকে কমপক্ষে দুটি ম্যাচ জিততে হবে। সেক্ষেত্রে নেট রান রেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভারতীয় দল এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচই জিতেছে এবং এই গ্রুপে তাদের নেট রান রেটই সেরা। ভারতের নেট রান রেট ২.৫ এর উপরে, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই পয়েন্টেরও কম।

    কাঁটে কে টক্কর

    প্রোটিয়াদের সামনে বদলার চ্যালেঞ্জ, আর ভারতের সামনে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির সুযোগ। সেই কারণেই রবিবারের এই ম্যাচে যে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা একবায়ে বলা যায়। গ্রুপ পর্বে দুই দলকেই দুর্দান্ত ছন্দে দেখা গিয়েছে। ভারত চার ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছে। পর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়া, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাও সমান দাপট দেখিয়ে নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ‘সুপার–৮’–এ পৌঁছেছে। এর আগে আমেদাবাদের মাটিতেই নিজের তিন ম্যাচ খেলে ফেলেছে প্রোটিয়ারা। ফলত, পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন মহারাজরা। অন্যদিকে একমাত্র নেদারল্যান্ডস ম্যাচ বাদ দিয়ে কোনও ম্যাচেই ‘কালো মাটি’র পিচ পায়নি ভারত।

    পরিসংখ্যানে কে কতটা এগিয়ে

    তবে পরিসংখ্যানের নিরিখে প্রোটিয়াদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে মোট ৭ ম্যাচে ৫ বার জিতেছে ভারত, ২ বার দক্ষিণ আফ্রিকা। এই প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর ১৮৬, সর্বনিম্ন ১১৮। অন্যদিকে, ভারতের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ ১৭২, সর্বনিম্ন ১১৬ রান। এদিকে সামগ্রিকভাবে টি-২০ ক্রিকেটে দুই দলের মধ্যে ৩১টি ম্যাচ হয়েছে। সেখানে ভারত জিতেছে ১৮টি, দক্ষিণ আফ্রিকা ১২টি, আর একটি ম্যাচের ফল হয়নি।

    স্পিন মন্ত্রেই সাফল্যের রসায়ন

    এই পিচে স্পিনের সাহায্য নিতে দেখা যেতে পারে দুই অধিনায়ককে। এমনিতেও স্পিন মন্ত্রে ভর করেই ভারতের তারকা ওপেনার অভিষেক শর্মাকে আউট করে চলেছেন বিপক্ষের খেলোয়াড়রা। তিন ম্যাচ খেলে ফেললেও অভিষেকের রানের খাতা খোলেনি। তাঁকে নিয়ে চিন্তায় থাকবে ভারতীয় শিবির। শুক্রবার তাঁর সঙ্গে অনেকক্ষন আলোচনা করতে দেখা গেল কোচ গৌতম গম্ভীরকে। বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল যতই বলুন, অভিষেককে নিয়ে দল চিন্তিত নয়,ভারতীয় দলকে দেখে সেটা মনে হওয়ার উপায় নেই। স্পিনের বিরুদ্ধেই আগামিকাল শুরু করবে দুই দল। একদিকে ভারতের হাতে রয়েছেন বরুন চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেলের মতো তারকারা। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন কেশব মহারাজ, ট্রিস্টান স্টাব্সরা। ফলত, যতই রানের আশা করা যায়, ততই স্পিন জুজু যেন আঁকড়ে বসছে দুই দলকে।

    ভারতের চিন্তা অভিষেক

    অভিষেক শর্মা টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। মাত্র সপ্তাহ দুয়েক আগেও ফর্মের ভিত্তিতে অভিষেকের সঙ্গে কিষানকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। স্যামসন ও অভিষেক— দু’জনই ২০২৪ সালে দারুণ ফর্মে ছিলেন। কিন্তু ২০২৫-এর শেষে স্যামসন বেঞ্চে চলে যান, আর অভিষেক বিশ্বের শীর্ষ র‌্যাঙ্কিং ব্যাটসম্যান হন। যদিও শুভমান গিলকে জায়গা দিতে স্যামসনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অভিষেককে বিশ্রাম দেওয়ার মতো কারণ তখন ছিল না। ভারতের সহকারী কোচ মর্নে মর্কেল (Morne Morkel) অবশ্য জানিয়েছেন, অভিষেকের জায়গায় স্যামসনকে আনার কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেই। তিনি বলেন, ‘অভিষেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় এবং ও খুব তাড়াতাড়িই ভালো খেলবে।’ শুধু অভিষেক নয়, ভারতের বড় চিন্তা ফিল্ডিংও। টানা ক্যাচ মিস করে চলেছে দল। ইতিমধ্যেই ভারত ফেলেছে মোট ৯ ক্যাচ। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেই ৩টি। যদি গ্ৰুপ পর্যায়ের মতো সুপার এইটেও ক্যাচ ফেলতে শুরু করে দল, কপালে দুর্ভোগ অপেক্ষা করবে ভারতের জন্য।

    দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের সম্ভাব্য একাদশ

    অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান (উইকেটকিপার), তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), শিবম দুবে, হার্দিক পান্ডিয়া, রিঙ্কু সিং, অর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী এবং জশপ্রীত বুমরা।

  • Bangladesh India Cricket: ‘ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায় বাংলাদেশ’, জানালেন ঢাকার নয়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    Bangladesh India Cricket: ‘ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে চায় বাংলাদেশ’, জানালেন ঢাকার নয়া ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি (BNP) সরকার শপথ নিয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নয়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ইঙ্গিত দেন, আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ইস্যুতে (Bangladesh India Cricket) যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার পর ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে ঢাকা। আমিনুল জানান, তিনি ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ নিরসনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ-সংকটের সময় দায়িত্বে থাকা বিসিবির কর্মকর্তাদের নির্বাচনের প্রক্রিয়াকেও তিনি সন্দেহজনক বলে কটাক্ষ করেন।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে অবনতি (Bangladesh India Cricket)

    মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সামগ্রিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যার প্রভাব পড়ে ক্রিকেট সম্পর্কেও। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ায় বিরোধের সূচনা হয়। ঢাকার দৃষ্টিতে এই সিদ্ধান্ত ছিল অন্যায্য। এরপর ইউনূস সরকারের সময় বাংলাদেশ ভারত মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারত সফরে যেতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ম্যাচ খেলতে রাজি হবে না জেনে আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে না বলে। শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে (BNP)। যদিও বাংলাদেশকে কোনও ক্রীড়া বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতে আয়োজক হওয়ার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় (Bangladesh India Cricket)।

    মামলাগুলির নিষ্পত্তি চাই

    এই প্রেক্ষাপটে আমিনুল বলেন, “আওয়ামি লিগ-ঘনিষ্ঠ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলির নিষ্পত্তি চাই আমি, যাতে প্রাক্তন দুই অধিনায়ক আবারও বাংলাদেশ ক্রিকেটে ফিরতে পারেন। দুই খেলোয়াড়ই আওয়ামি লিগের সাংসদ ছিলেন। ২০২৪ সালের অগাস্টে ইউনূস প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাকিব দেশে ফিরতে পারেননি এবং মাশরাফিকেও জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে শেখ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের সময়ের ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনের পর ঢাকায় নতুন সরকার গঠনের পর প্রাক্তন বাংলাদেশ ফুটবল অধিনায়ক আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ ক্রিকেট সম্পর্ক মেরামতের পরিকল্পনা তুলে ধরেন (BNP)।

    ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ

    তিনি বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমি ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা বলেছি। আমরা প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং ক্রীড়া অঙ্গনের সমস্যাগুলি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আইসিসি বিধিমালা অনুযায়ী আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি এও বলেন, “সংসদ ভবনে আমি ভারতের উপ-হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন এবং আমিও বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলেছি (Bangladesh India Cricket)। আমরা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাই, কারণ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। খেলাধুলা থেকে শুরু করে অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।”

    কূটনৈতিক জটিলতা

    তিনি বলেন, “কূটনৈতিক জটিলতার কারণে আমরা বিশ্বকাপে খেলতে পারিনি। বিষয়গুলি আগে আলোচনা করে সমাধান করা গেলে হয়তো আমাদের দল অংশ নিতে পারত।” যদিও আমিনুলের বক্তব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ছেড়েছেন। বিসিবির প্রধান এক্সিকিউটিভ নিজামউদ্দিন চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে, বুলবুল অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছেন, যেখানে তাঁর পরিবার বসবাস করে (BNP)। আমিনুল বলেন, “আমি আগেই বলেছি, ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন প্রশ্নবাণে জর্জরিত ছিল। আমরা বসে আলোচনা করব। সঠিক পথে এগোতে চাই। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে (Bangladesh India Cricket)।” ২০২৫ সালের মে মাসে ইউনূসের রাজত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে নির্বাচিত হন নয়া কর্মকর্তারা। বোর্ডের দায়িত্ব নেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

    ভারতের মাটিতে খেলবে না

    তিনি যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতের মাটিতে খেলবে না বলেই জানিয়ে দেয়। সেই সময় বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিল। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান (Bangladesh India Cricket)। তবে পরে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ম্যাচটি খেলে এবং হেরে যায়। ইসলামাবাদ যখন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের কথা ঘোষণা করে, তখন আইসিসি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। লাহোরে আইসিসির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। বৈঠকে অংশ নিতে বুলবুল রাত ১টার ফ্লাইটে লাহোরে যান (BNP)।

    বর্তমানে নতুন বিএনপি সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সম্পর্ক পুনর্গঠন এখন অগ্রাধিকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা আলোচনার পথেই এগোতে চায় বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (Bangladesh India Cricket)।

     

  • T-20 World Cup 2026: সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত! কবে, কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে খেলবেন সূর্যরা?

    T-20 World Cup 2026: সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত! কবে, কোথায়, কাদের বিরুদ্ধে খেলবেন সূর্যরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের (T-20 World Cup 2026) গ্রুপ পর্বে ভারতের শেষ ম্যাচ নিয়মরক্ষার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার কলম্বোর মাঠে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। সেখানে তিনটি ম্যাচ খেলতে হবে সূর্যকুমার যাদবদের। কবে কোথায় হবে সেই ম্যাচ হবে তা-ও জানা গিয়েছে। সুপার এইটে কঠিন গ্রুপে ভারত। লড়াই হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে। তার আগে বুধবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রাখতে চায় গুরু গম্ভীরের ছেলেরা। সুপার এইট-এর লড়াইয়ের কলকাতায় একটি ম্যাচ খেলবে ভারত। তাই ক্রিকেট জ্বরে কাঁপছে মহানগরী।

    সুপার এইটে দু’টি গ্রুপ

    বিশ্বকাপের সুপার এইটে দু’টি গ্রুপ রয়েছে। গ্রুপ ‘এক্স’ ও গ্রুপ ‘ওয়াই’। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল থেকে যে দুই দল নক আউটে উঠবে, তাদের আলাদা আলাদা গ্রুপে রাখা হবে। তবে সুপার এইটে আটটি দল আগে থেকে ধরে রাখা হয়েছে। তারা গ্রুপ পর্বে যে স্থানেই শেষ করুক না কেন, নক আউটে নির্দিষ্ট জায়গাতেই খেলবে। সুপার এইটে ভারতের তিনটি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। অন্য গ্রুপে রয়েছে, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও সম্ভাব্য পাকিস্তান।

    লড়াই কঠিন

    সুপার এইটে আগামী রবিবার ভারতের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা। গতবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ভারত সেখানে দারুণ জয় পায়। সূর্যকুমারের দল দারুণ ছন্দে। ২৬ ম্যাচের মধ্যে ২৫টা ম্যাচ জিতেছে। ফলে সুপার এইটের লড়াইয়েও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভারতের সামনে জিম্বাবোয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক দিয়েছে সিকান্দার রাজার দল। সেটাই কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে ১ মার্চ মুখোমুখি ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ম্যাচ হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। ক্যারাবিয়ানরা আপাতত দাপুটে ফর্মে। দক্ষিণ আফ্রিকাও সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক। ভারতও অবশ্য ছন্দেই রয়েছে। তবু সুপার এইট অন্য পরীক্ষা। এখানে ভুলের জায়গা কম। সামান্য স্খলনে গুনতে হতে পারে বিরাট মাশুল। তাই সদা সতর্ক ভারত। ঘরের মাঠে ট্রফি ধরে রাখতে মরিয়া সূর্যরা।

    টি-২০ বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ার ‘সুপার-৮’ সূচি

    ২২ ফেব্রুয়ারি – ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, আমেদাবাদ)

    ২৬ ফেব্রুয়ারি – ভারত বনাম জিম্বাবোয়ে (এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়াম, চেন্নাই)

    ০১ মার্চ – ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা)

  • India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    India vs Pakistan: ছন্নছাড়া পাক ক্রিকেট! রাগের চোটে টিভি ভাঙলেন সমর্থকরা, দোষারোপের পালা শুরু প্রতিবেশী দেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পর পাকিস্তানে আবেগের বিস্ফোরণ। ভাঙল একের পর এক টিভি। ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতের দাপট ছিল। পাকিস্তানের খেলা দেখে কোনও সময়েই মনে হয়নি তারা এই ম্যাচে জয় পেতে পারে। ভারতীয় দল নিরঙ্কুশ দাপট দেখিয়ে জয় পেল। ভারতের এই জয়ের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি, ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে টেলিভিশন সেট ভাঙা হয়েছে। পাকিস্তানে এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারলেই টিভি ভাঙা হয়। এবারও ঠিক সেটাই হল। আসলে পুরোটাই হতাশার ফল। ম্যাচের আগে বয়কট বিতর্ক, উত্তেজনা—সব মিলিয়ে আবহ ছিল তপ্ত। কিন্তু মাঠে পার্থক্য স্পষ্ট। ভারত ছিল পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত, আত্মবিশ্বাসী। পাকিস্তান ছিল ছন্নছাড়া।

    পুরনো রীতি ফিরে এল!

    কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) একতরফা ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল এক ভিডিও—ক্ষুব্ধ এক পাক সমর্থক নিজের টিভি সেট ভেঙে ফেলছেন! গ্রুপ এ-র ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তুলেছিল। জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৪ রানে। ফল—৬১ রানের ধাক্কা। টি-২০ আন্তর্জাতিক (T20I) ইতিহাসে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ম্যাচের কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সমর্থকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি লিখেছেন, ‘‘ভারত আবার হারাল পাকিস্তানকে। রাগে টিভি ভেঙে ফেললাম।’’ আরেক পোস্টে যোগ করেন, ‘‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি, লজ্জিত, হতবাক—কিছু বলার নেই।’’ আত্মবিদ্রূপ মেশানো হতাশা যেন গোটা দেশের আবেগের প্রতিফলন। তেমনই একটি পোস্টে বিদ্রুপের সুরে লেখা হয়েছে — ‘ভারতের কাছে ম্যাচ হারার পর মধ্যরাত পর্যন্ত পাকিস্তানিরা সারা দেশে ৫৫০০টিরও বেশি টিভি ভেঙে ফেলেছে। এরই মধ্যে, পাকিস্তানি টিভি সেট নির্মাতারা তাদের শিল্পকে বাঁচানোর জন্য ভারতকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’

    ভারতের কাছে হার নিত্য ঘটনা!

    মাঠে হতাশা, গ্যালারিতেও দীর্ঘশ্বাস পাক সমর্থকদের। কলম্বোর (Colombo) আর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে (R Premadasa Stadium) যে পাকিস্তানিরা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন, তাঁরাও ফের ভারতের কাছে হারে হতাশ। এক পাকিস্তানি বলেছেন, ‘‘ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একটু আশা ছিল যে আমরা ম্যাচ জিতব এবং অন্তত একটু লড়াই করব। কিন্তু এখন ভারতের জয় রুটিন হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে বুমরার জবাব নেই। আমরা হার্দিকের মোকাবিলা করতে পারি না। এখন এই অবস্থা হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় দল ভালো খেলেছে।’’

    দোষারোপের পালা পাকিস্তান

    ভারতের কাছে পাকিস্তানের হার মেনে নিতে পারছেন না শাহিদ আফ্রিদি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে দু’ওভার বল করে ৩১ রান দিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি। ঘটনাচক্রে শাহিন ও শাহিদের সম্পর্ক জামাই-শ্বশুরের। সেই জামাইকেই এ বার দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেন শ্বশুর। জানিয়ে দিলেন, তাঁর হাতে ক্ষমতা থাকলে শাহিনকে ছাঁটাই করতেন তিনি। আফ্রিদির মতে, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের হারের দায় নিতে হবে। বার বার একই ক্রিকেটারদের উপর ভরসা দেখানোর মানে নেই। সেটা নির্বাচকদের বুঝতে হবে। আফ্রিদি বলেন, “যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত তা হলে শাহিন, বাবর ও শাদাবকে বাদ দিয়ে দিতাম। ওদের বদলে নতুনদের সুযোগ দিতাম। এরা তো বছরের পর বছর খেলছে। এখনও ভারতকে হারাতে পারল না। তা হলে কেন ওদেরই খেলিয়ে যাব। আমার মনে হয়, নামিবিয়া ম্যাচেই এই তিন জনকে বসিয়ে দেওয়া উচিত।”

    সিনিয়রদের সমালোচনা

    ভারতের বিরুদ্ধে ৬১ রানে হেরেছে পাকিস্তান। কলোম্বোয় ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- সব দিকেই ফেল করেছে সলমান আলি আঘা ব্রিগেড। এমন লজ্জাজনক হারের পরই রেগে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ফাস্টবোলার শোয়েব আখতারও। তিনি শুধু পাকিস্তান দল নিয়ে নয়, এর পাশাপাশি ক্রিকেট বোর্ডের কাজকর্ম নিয়েও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের সিনিয়র প্লেয়ারদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন শোয়েব। তিনি বাবর আজম, শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো সিনিয়র প্লেয়ারকে আক্রমণ করেন।। তিনি মনে করেন, এই সব স্টারেরা কোনও বড় ম্যাচে পারফর্ম করেন না। এমনকী স্টার কালচার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই কারণেই পাকিস্তান ক্রিকেট দল হারছে বলে মনে করছেন তিনি।

    অযোগ্য ব্যক্তি চেয়ারে আখতারের টার্গেট নকভি

    আখতার অভিযোগ করেন, কোনও অযোগ্য মানুষকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে শুধু টিমের নয়, গোটা দলের ক্ষতি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে প্লেয়ারদের যোগ্যতা দেখে নয়, অন্য অনেক বিষয় দেখে নির্বাচন করা হয়। আর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সোজাসুজি মহসিন নকভির দিকেই ইঙ্গিত করলেন। মাথায় রাখতে হবে নকভি হলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর কথায় এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে চায়নি ভারত। আখতার বলেন, ‘‘গত ১৫-২০ বছরে কোনও বিনিয়োগই হয়নি। এক সময় মাঠে আমরা ভারতের সঙ্গে লড়াই করতাম, আর আজ তাদের হারানোর স্বপ্নও দেখতে পারি না।’’ শোয়েব আখতারের মতে, পাকিস্তান ক্রিকেটে বর্তমান শোচনীয় অবস্থা কয়েক বছর ধরে চলা খারাপ নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘একজন মানুষ যিনি কিছুই জানেন না, তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। দল কী ভাবে চলবে?’’ শোয়েব আরও বলেন, ‘‘পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় সমস্যা হলো বোর্ডের দায়িত্ব অযোগ্য মানুষের হাতে থাকা।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া। এর ফলে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো দল ও প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’’

  • India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    India Vs Pakistan: ‘‘জায়গা তারিখ বদলায়, ফল একই থেকে যায়’’, ভারতের জয়ে পোস্ট অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এটাই যেন ট্যাডিশন হয়ে গিয়েছে। বাইশ গজ হোক বা যুদ্ধক্ষেত্র, সব জায়গাতেই ফলাফল এক। রবিবার কলম্বোয় ভারতের দাপুটে জয়ের পরই সমাজ মাধ্যমে পাকিস্তানকে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে লিখলেন, ‘‘খেলার ফর্ম্যাট, জায়গা বা তারিখ বদলায়, কিন্তু ভারত বনাম পাকিস্তানের ফলাফল সবসময় একই থেকে যায়। পুরো দলকে অভিনন্দন।’’

    শাহী কটাক্ষ

    ইতিহাস নিজেই নিজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়—ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষে প্রত্যেকবারই বলতে হয় এই ক্লিশে কথা। মাঠে গড়ানোর আগেই ম্যাচের যা ফল অনুমান করা হয়, দিন শেষে সেটাই দেখা যায়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেন তা-ই বোঝাতে চাইলেন। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে প্রতিবেশীদের খোঁচা দিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতকে সবশেষ পাকিস্তান হারিয়েছে দুবাইয়ে ২০২২ এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে। গত সাড়ে তিন বছরে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১০ বার। যার মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে ভারত। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে এক ম্যাচ। কলম্বোর প্রেমাদাসায় গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানে জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট পাকিস্তানকে কটাক্ষ অমিত শাহের। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘ভারত দারুণ খেলেছে। সংস্করণ, ভেন্যু, তারিখ বদলাতে পারে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফল একই।’’ আসলে শাহ যে সবদিক থেকেই পাকিস্তানকে খোঁচা দিলেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    মাঠ ছাড়লেন নকভি

    রবিবার খেলা শুরুর আগে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। দিয়েছিলেন উৎসাহ। কিন্তু মাঠে সে সব বোঝা গেল না। ভারতের কাছে ৬১ রানে হারল পাকিস্তান। দলের লজ্জার হার মাঠে বসে দেখতে পারেননি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি। পাকিস্তানের ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেই স্টেডিয়ামের ভিতর নকভিকে দেখা যায়নি। কিছু ক্ষণ পরে দেখা যায়, স্টেডিয়াম থেকে তাঁর গাড়ি বেরিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নকভির ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। এই দৃশ্য থেকে পরিষ্কার, নকভি খেলা শেষ হওয়ার আগেই স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির কর্তারা গিয়েছিলেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি মিঠুন মিনহাস, সচিব দেবজিৎ শইকীয়া যেমন ছিলেন, তেমনই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহও উপস্থিত ছিলেন। এ দিন জয়ের সঙ্গে নকভির একটি বৈঠক হওয়ারও কথা ছিল। বাকি সকল কর্তা খেলার শেষ পর্যন্ত থাকলেও নকভি আগেই বেরিয়ে যান।

    গুগল ইন্ডিয়ার ‘গুগলি’

    বাংলাদেশকে সমর্থন করে প্রথমে ম্যাচ বয়কটের হুঁশিয়ারি। এর পর মাঠে নামার আগে তর্জন-গর্জন। কিছুই বাকি রাখেনি পাকিস্তান (Pakistan)। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার কলম্বোতে ভারতীয় (India) ব্রিগেডের কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছেন সলমন আলি আঘা’রা। ম্যাচ হারার পরেই পাকিস্তান দলকে নিয়ে ট্রোল শুরু হয় সমাজমাধ্যমে। সেই তালিকায় নাম লেখাল গুগল (Google)-ও। ছয় শব্দের পোস্টে পাকিস্তানকে কটাক্ষ করল গুগল ইন্ডিয়া (Google India)। রবিবার, ঈশান কিষাণের ৭৭ রানের উপর ভর করে স্কোর বোর্ডে ১৭৫ রান তুলেছিল ভারত। জবাবে মাত্র ১১৪ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ৬১ রানে বড় জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। তার পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয় গুগল ইন্ডিয়ার তরফে। লেখা হয়, “এই ম্যাচটি আসলে একটি ইমেল হতে পারত।” রবিবার সূর্যকুমারদের কাছে যেভাবে আত্মসমর্পন করেছেন শাহিন আফ্রিদিরা, সেই কথাই তুলে ধরল গুগল (Google)। অর্থাৎ গুগল ইন্ডিয়া একপ্রকার বোঝাতে চেয়েছে, ম্যাচের ফলাফল যেখানে অনুমেয় ছিল, সেখানে একটা ইমেল করে দিলেই হতো, এত সময় ধরে ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল না। আর এ নিয়ে জোর চর্চা চলছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।

  • India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    India Vs Pakistan: “হর হর মহাদেব”, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একতরফা জয় দেশবাসীকে উৎসর্গ সূর্যকুমারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ফের একবার প্রমাণ করল পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এখন আর লড়াই হয় না। ম্যাচ হয় এক তরফাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে ম্যাচটা নিয়ে সবচেয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ম্যাচে একেবারে এক তরফা খেলে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত। কলম্বোর ম্যাচে ৬১ রানে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে সুপার এইটে উঠে গেল মেন ই ব্লু। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে সব ম্যাচেই জয় পেল ভারত। এই জয়কে দেশবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন ভারত অধিনায়ক। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর সূর্য স্মরণ করলেন মহাদেবকে।

    ‘হর হর মহাদেব’ পোস্ট

    কলম্বোতে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ৬১ রানের বিশাল জয়ের পর, ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তার নিজস্ব ভঙ্গিতে জয় উদযাপন করেছেন। ম্যাচ জয়ের পর এক্স (পূর্বে টুইটার) -এ গিয়ে, অধিনায়ক ম্যাচের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন এবং তিন শব্দের সংক্ষিপ্ত ক্যাপশন দিয়েছেন, “হর হর মহাদেব।” পোস্টটির সময় বিশেষভাবে অনুরণিত হয়েছে, কারণ এটি হিন্দু উৎসব মহা শিবরাত্রির সঙ্গে মিলে যায়, যা তাৎক্ষণিকভাবে ভক্তদের মধ্যে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এই জয়ের মাধ্যমে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে অধিনায়ক হিসেবে টানা চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন সূর্য। দলের বাকি সদস্যদের মধ্যেও এই উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে, তারকা স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ইনস্টাগ্রামে নিজের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেয়ার করেন। বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী চক্রবর্তী মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি ভারতের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তার পোস্টটি অধিনায়কের অনুভূতির প্রতিধ্বনি।

    এই জয় ভারতের জন্য

    ম্যাচ বয়কট নিয়ে আইসিসি-র সঙ্গে লম্বা টানাপোড়েনের পর ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল পাকিস্তান। আশা করা হয়েছিল, বাইশ গজে ভারতকে অন্তত খানকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে পাক দল। কিন্তু বাস্তবে হল তার উল্টো। উসমানের স্পিন হোক বা শাহিনের পেস- ভারতীয় ব্যাটারদের আঘাতে সবই ভোঁতা হল শেষমেশ। আর ম্যাচ (India Vs Pakistan) কীভাবে জিততে হয়, তা বুমরা, হার্দিক, বরুণদের থেকে ভালো আর কেই বা জানে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিসংখ্যান ৭-১ থেকে ৮-১ করে অধিনায়ক সূর্যকুমার (Suryakumar Yadav) বললেন, “এই জয় ভারতের জন্য।” পাকিস্তানকে আরও একবার হারিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই খেলেছি। এই পিচে প্রথমে ব্যাটিং করাই সুবিধার ছিল। ক্রিজে দাঁড়িয়ে ঈশান যেভাবে স্কোরবোর্ডের দায়িত্ব নিয়েছে, সেটা অসাধারণ। ঈশান ব্যতিক্রমী ইনিংস খেলে গেল। ওর মাথায় হয়তো অন্য কোনও ভাবনা ছিল।” তবে শুধু ব্যাটার নয়, বোলারদের দলগত পারফরম্যান্সেও খুশি সূর্য। এদিকে পাকবধের এই সন্ধ্যার ‘নায়ক’ যে ঈশান কিষান (Ishan Kishan), তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাঁর ৪০ বলে ঝোড়ো ৭৭ রানের ইনিংস থেকেই ভারতীয় দলের জয়ের ভিত তৈরি হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই হেইভোল্টেজ এই ম্যাচে মেগা-পারফরম্যান্স করে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়বে ভারতীয় দলের এই বাঁ হাতি ওপেনারের। ম্যাচ শেষে একথা তিনি নিজেও জানিয়েছেন। ঈশান বলেন, “ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ। এই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”

    করমর্দন হল না

    কলম্বোয় করমর্দন করলেন না ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আঘা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলালেন না সূর্য। রবিবার টসের সময় বিপক্ষ অধিনায়কের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন তিনি। গত বছর এশিয়া কাপের তিনটি ম্যাচে যে জিনিস দেখা গিয়েছিল, সেটাই দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। গত বছর পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষিতে এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত এবং পাকিস্তান। তিন বারের সাক্ষাতে এক বারও দুই অধিনায়ক হাত মেলাননি। একই জিনিস দেখা গেল বিশ্বকাপের ম্যাচেও। বোঝাই গিয়েছে, ভারতের অবস্থানে কোনও বদল হয়নি।

    পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি

    ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে সুনীল গাওস্কর পরিষ্কার বলে দেন, ‘‘এই ম্যাচে পাকিস্তান দাঁড়াতেই পারেনি। প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মার উইকেট পাওয়া ছাড়া আর কখনওই ওরা ম্যাচে ছিল না।’’ যোগ করেন, ‘‘পরের দিকে একটা-দু’টো বল ওরা ভাল করেছিল, উইকেট পেয়েছিল। কিন্তু কখনও ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিতে পারেনি।’’ টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘা। ভারত ২০ ওভারে তোলে ১৭৫-৭। অভিষেক শর্মা খাতা খোলার আগে ফিরলেও অন‌্য ওপেনার ঈশান কিষান দশটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায‌্যে করেন ৪০ বলে ৭৭ রান। শেষ দিকে সূর্যকুমার যাদব (৩২) ও শিবম দুবে (২৭) ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। জবাবে প্রথম থেকেই নিয়মিত ব‌্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ৭৮-৬ স্কোর হয়ে যাওয়ার পরে ম‌্যাচের ভাগ‌্য কার্যত নির্ধারণ হয়ে যায়। দু’টি করে উইকেট পান হার্দিক, বুমরা, অক্ষর ও বরুণ।

    জয়ের রেকর্ড ভারতের

    রবিবার কলম্বোতে টি২০ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্স করে দুরন্ত জয়ে পেয়েছে টিম ইন্ডিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতল ভারত। এই জয়ে ভারত গ্রুপ থেকে প্রথম দল হিসেবে সুপার এইটে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের মোট জয় দাঁড়াল আটটি, যা এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বাধিক জয়ের বিশ্বরেকর্ড। আগে কোনও দলই এই প্রতিযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ছয়টির বেশি ম্যাচ জিততে পারেনি। সামগ্রিক টি২০ আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে ভারত ১৭ ম্যাচের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

LinkedIn
Share