Tag: IGN

  • India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    India: ভেটো ক্ষমতা ছাড়া রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ মানে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা’, স্পষ্ট বার্তা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের  নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) সংস্কারের নামে ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন কোনও ধরনের স্থায়ী সদস্যপদ চালু করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যের মর্যাদায় নামিয়ে আনা হবে। এর ফলে পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। সোমবার এমনই স্পষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত (India)।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার অধীনে ভেটো ক্ষমতা সংক্রান্ত বিতর্কের একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত পি হরিশ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পরেও যদি ভেটো ক্ষমতার বিধান বহাল থাকে, তবে সমস্ত স্থায়ী সদস্যকেই সেই ক্ষমতা দিতে হবে।

    তাঁর কথায়, “ভেটো ক্ষমতা নিয়ে ভারতের অবস্থান নীতিগত এবং সুপরিচিত। আমরা আবারও স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, যত দিন ভেটো ক্ষমতা থাকবে, তত দিন সংস্কার করা নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত স্থায়ী সদস্যের হাতেই সেই ক্ষমতা থাকতে হবে।”

    নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ (India)

    বর্তমানে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ ভেটো ক্ষমতা ভোগ করে। দেশগুলি হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশকে দু’বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, ১৯৪৫ সালের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে তৈরি এই কাঠামো একুশ শতকের বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভারতের বক্তব্য, ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য আলাদা একটি শ্রেণি তৈরি করলে নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্যে মৌলিক কোনও পরিবর্তন আসবে না।

    হরিশ বলেন, “ভেটো ক্ষমতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সদস্যদের জন্য নতুন একটি শ্রেণি তৈরি করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণ ঘটালে কার্যত তাঁদের ‘দ্বিতীয় শ্রেণির’ সদস্যে পরিণত করা হবে। এতে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার সমীকরণে কোনও পরিবর্তন আসবে না।”

    শুধু ভেটো ক্ষমতা ছাড়া নতুন সদস্যপদ চালুর প্রস্তাবই নয়, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো ক্ষমতা থাকুক বা না থাকুক, স্থায়ী সদস্যদের জন্য নতুন কোনও শ্রেণি তৈরিরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির মতে, এমন ব্যবস্থা চালু হলে যে বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেই বৈষম্যই আরও শক্তিশালী হবে।

    হরিশের সাফ কথা

    ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, “নিয়মিত নির্বাচন এবং স্থায়ী সদস্যপদের ধারণা মৌলিকভাবেই পরস্পরবিরোধী।” ১৯৬৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের শেষ সম্প্রসারণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। সেই সময় পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা ছয় থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছিল। এর ফলে স্থায়ী ও নির্বাচিত সদস্যের অনুপাত পাঁচ অনুপাত ছয় থেকে পরিবর্তিত হয়ে পাঁচ অনুপাত দশ হয়। ভারতের (India) বক্তব্য, এই পরিবর্তন আপেক্ষিকভাবে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

    ভারত তাই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের ক্ষেত্রে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। সদস্যপদের বিভিন্ন শ্রেণি, আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যা, ভেটো ক্ষমতা এবং কাজের পদ্ধতি—সংস্কারের আলোচনায় এই সমস্ত বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছে নয়াদিল্লি।

    ভেটো ক্ষমতার পাশাপাশি আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মতির নীতির ব্যবহার নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ভারত। ভারতের মতে, এই পদ্ধতি কার্যত আড়াল থেকে ভেটো প্রয়োগের কৌশলে পরিণত হতে পারে। হরিশ বলেন, “সতেরোটি আলোচনা-পর্ব পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনও দেখানোর মতো কোনও ফল পাইনি।” তিনি স্পষ্ট সময়সীমা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রকৃত খসড়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার

    নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান হল, কেবল অস্থায়ী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সংস্কারের উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকলে তা কার্যত ব্যর্থতার মুখে পড়বে। ভারতের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রগুলির অন্যতম এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দেশ হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার ন্যায্য দাবিদার ভারত।

    এদিকে, ২০২৮-২৯ মেয়াদের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছে নয়াদিল্লি। এই পদের নির্বাচন হবে ২০২৭ সালের জুন মাসে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত একমাত্র আসনে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ভারত।

    সব মিলিয়ে, নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) সংস্কার নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট। নয়াদিল্লির বক্তব্য, প্রকৃত সংস্কার করতে হলে কেবল সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই চলবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ক্ষেত্রেও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হলেও পরিষদের পুরনো ক্ষমতার কাঠামোই অক্ষুণ্ণ থেকে যাবে (India)।

     

LinkedIn
Share