Tag: Iitian

  • Inspiring Story: দেশের জন্য মন কাঁদে, মোটা অঙ্কের চাকরির হাতছানি এড়িয়ে দেশেই ফিরলেন বিশ্ববিশ্রুত বাঙালি বিজ্ঞানী

    Inspiring Story: দেশের জন্য মন কাঁদে, মোটা অঙ্কের চাকরির হাতছানি এড়িয়ে দেশেই ফিরলেন বিশ্ববিশ্রুত বাঙালি বিজ্ঞানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের হরিশ্চন্দ্র রিসার্চ ইনস্টিটিউটে গিয়েছেন কখনও? গেলেই হয়তো দেখবেন, আপনার পাশ দিয়ে অতি সাধারণ পোশাক পরে সাইকেল চালিয়ে চলে গেলেন একজন মানুষ (Inspiring Story)। এই ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী  তিনি। আপনি ভাবতেই পারবেন না যে আপনি পৃথিবীর অন্যতম সেরা একজন পদার্থবিদের পাশ দিয়ে চলে গেলেন, কিংবা সেই সাইকেল চালানো মানুষটি একজন কোটিপতি। ইনি প্রফেসর অশোক সেন (Indian Scientist Ashoke Sen)। একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কারের চেয়েও তিনগুণ বেশি অর্থমূল্যের একটি পুরস্কার পেয়েছেন, তবুও তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করেন।

    কলকাতায় বেড়ে ওঠা অশোকের

    ১৯৫৬ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন অশোক। তাঁর বাবা ছিলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই তাঁদের পরিবারে বিজ্ঞানকে খুব সম্মান করা হত। ছোটবেলায় অশোক কোনও বিস্ময়কর প্রতিভাধর শিশু ছিলেন না, তিনি ছিলেন শুধুই কৌতূহলী। তিনি একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন, বোর্ডের পরীক্ষাও বাংলায় দিয়েছিলেন। কলেজে ওঠার পর তাঁকে পদার্থবিজ্ঞানের উত্তর ইংরেজিতে লেখা অনুশীলন করতে হয়, কারণ পরীক্ষাগুলি সেই ভাষায় হত। এটি সহজ ছিল না। তিনি ধীরে ধীরে শিখে নেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের কথা শোনেন, আইআইটি কানপুর। সেখানে যাওয়া মানে ছিল বাড়ি ছেড়ে অচেনা শহরে চলে যাওয়া, কিন্তু তাতে ছিল বড় সুযোগ। এক বন্ধুকে নিয়ে তিনি সেই ঝুঁকি নেন, ভর্তি হন আইআইটি কানপুরে। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তাঁর জীবন (Inspiring Story)।

    দেশের জন্য মন কাঁদে

    আইআইটির পাঠ চুকিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করেন, পরে গবেষণার জন্য গিয়েছিলেন বিশ্বের নামী গবেষণাগারগুলিতে। এর মধ্যে রয়েছে ফার্মিল্যাব এবং স্ট্যানফোর্ড। তাঁর সামনে ছিল অসংখ্য সুযোগ (Indian Scientist Ashoke Sen)। তিনি চাইলে আমেরিকায় মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি নিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু অশোকের মন কাঁদত ভারতের জন্য। তাই বিদেশে থাকার অনেক আকর্ষণীয় প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও, তিনি দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আটের দশকের শেষ দিকে তিনি মুম্বইয়ের টাটা ইন্সটিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালে তিনি আসেন প্রয়াগরাজের এই প্রতিষ্ঠানে। বড় শহরের কোলাহল থেকে দূরে তিনি পুরোপুরি গবেষণার কাজে ডুবে যান।

    স্ট্রিং থিওরি

    সেই সময় বিজ্ঞানীরা স্ট্রিং থিওরি নামে একটি জটিল তত্ত্ব নিয়ে লড়াই করছিলেন, যা মহাবিশ্বের মৌলিক নিয়ম ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। নয়ের দশকে প্রফেসর সেনের কাজ ছিল যুগান্তকারী। তিনি নতুন ধারণা দেন, যার মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত ‘সেন কনজেকচার’-ও। এই ধারণা স্ট্রিং থিওরির বিভিন্ন রূপকে একসঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে (Indian Scientist Ashoke Sen)। তাঁর গবেষণা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে বিজ্ঞানীরা একে “সেকেন্ড সুপারস্ট্রিং রেভেলিউশন” বলে অভিহিত করেন (Inspiring Story)। সহজ কথায়, তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মকেই নতুনভাবে লিখতে সাহায্য করেছেন অশোক। ২০১২ সালে প্রফেসর সেন একটি ফোন কল পান, যা যে কাউকে বিস্মিত করবে। তাঁকে ‘ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সে’র প্রথম বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারের অর্থ? তিন মিলিয়ন ডলার। তুলনা করলে দেখা যায়, এটি নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্যের প্রায় তিন গুণ। প্রতিদিন সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাওয়া সেই অধ্যাপকই রাতারাতি হয়ে গেলেন কোটিপতি। সবাই ভাবল তাঁর জীবন বদলে যাবে। তিনি কি দামী গাড়ি কিনবেন? বড় বাড়ি বানাবেন? হয়তো বিলাসবহুল জীবন কাটাবেন?

    অচেনা অশোক

    কিন্তু তাঁরা অশোককে (Indian Scientist Ashoke Sen) চিনতেন না। তিনি পুরস্কারের বড় একটি অংশ দান করে দেন ছাত্রদের সাহায্য এবং ভারতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার কল্যাণে। আর পরের দিনই তিনি আবার সাইকেলে চেপে তাঁর ছোট, সাধারণ অফিসে চলে যান। সেখানে তিনি আবার চক হাতে নেন এবং ব্ল্যাকবোর্ডে সমীকরণ লেখা শুরু করেন (Inspiring Story)। তাঁর কাছে আসল আনন্দ ছিল কাজের মধ্যেই, মহাবিশ্ব কীভাবে কাজ করে সেই রহস্যের সমাধান করার নিঃশব্দ আনন্দে। লাখ লাখ ডলার ছিল শুধু একটি উপায়, যাতে তরুণ বিজ্ঞানীরা তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন । অশোকের গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। এমন এক পৃথিবীতে যেখানে মানুষ সম্পদ আর বাহাদুরি দেখাতেই ব্যস্ত, সত্যিকারের মহত্ত্ব প্রায়ই নীরব রূপে আসে। এটি এমন এক মানুষের মধ্যে দেখা যায়, যিনি চাইলে অনেক গাড়ির মালিক হতে পারতেন (Inspiring Story) কিন্তু বেছে নেন সাইকেল, যিনি পৃথিবীর যে কোনও বোর্ডরুমে বসতে পারতেন, কিন্তু বেছে নেন ধুলোমাখা একটি ব্ল্যাকবোর্ড (Indian Scientist Ashoke Sen)।

  • Ankush Sachdeva: ১৭ বার ফেল, তার পরেই সাফল্যের শীর্ষে আইআইটির প্রাক্তনী

    Ankush Sachdeva: ১৭ বার ফেল, তার পরেই সাফল্যের শীর্ষে আইআইটির প্রাক্তনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী অঙ্কুশ সচদেবা প্রবাদটির জীবন্ত উদাহরণ, “ধৈর্য তিক্ত হলেও, তার ফল মিষ্টি।”  অঙ্কুশ একেবারে শূন্য থেকে গড়ে তুলেছিলেন ১৭টি স্টার্টআপ, কিন্তু একের পর এক সবকটিই ব্যর্থ হয়। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন, আইআইটি কানপুর থেকে পাশ করা এই তরুণ ইঞ্জিনিয়ার ১৭ বার অ্যাপ ও স্টার্টআপ চালু করেছিলেন, অথচ একটিও তাঁকে সাফল্য এনে দিতে পারেনি (Ankush Sachdeva)। অঙ্কুশের গল্পটি বলিউডে দেখা প্রচলিত আইআইটি সাফল্য কাহিনির মতো নয়। বরং এটি হাল না ছাড়ার এক অনন্য গল্প। তিনি আইআইটি কানপুর থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক। সাধারণত এখান থেকে পাশ করা ছাত্ররা বড় কর্পোরেট সংস্থার ঝাঁ-চকচকে অফিসে কাজ শুরু করেন। কিন্তু অঙ্কুশ বেছে নিয়েছিলেন ভিন্ন পথ, যে পথে তাঁকে টানা ১৭টি ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

    ইউটিলিটি পরিষেবা (Ankush Sachdeva)

    বছরের পর বছর ধরে ই-কমার্স থেকে শুরু করে ইউটিলিটি পরিষেবা যে সব আইডিয়ায় তিনি মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছিলেন, সেগুলির সবই ভেঙে পড়ে। বাইরের লোকজনের চোখে তিনি ছিলেন এমন এক জেদি মানুষ, যিনি ‘একটা ঠিকঠাক চাকরি’ করতে রাজি নন। কিন্তু অঙ্কুশের কাছে প্রতিটি ব্যর্থতা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শেখার ধাপ। তিনি শিখেছিলেন নিজেকে ব্যর্থ মনে করতে না। কী কাজ করছে না, তা বাদ দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে এমন এক সমস্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, যেটি গোটা টেক দুনিয়ায় প্রায় সবাই উপেক্ষা করেছিল (Ankush Sachdeva)। ২০১৫ সালে আইআইটি কানপুরেরই বন্ধু ফরিদ আহসান ও ভানু সিংয়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন, ছোট শহর ও গ্রামে ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু স্থানীয় ভাষায় কোনও আকর্ষণীয় অ্যাপ নেই। মূলধারার প্ল্যাটফর্মগুলি সেখানে জনপ্রিয় হচ্ছিল না, এমনকি সেগুলির কনটেন্টও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারছিল না। এটিই ছিল তাঁদের ‘ইউরেকা মুহূর্ত’।

    শেয়ার চ্যাট

    সেখান থেকেই জন্ম নেয় শেয়ার চ্যাট। শুরু হয় হিন্দি ভাষা দিয়ে, পরে তা বিস্তৃত হয় মালয়ালম, গুজরাটি, বাংলা, পাঞ্জাবি-সহ মোট ১৫টি ভারতীয় ভাষায়। এটি কোনও ইংরেজি অ্যাপের অনুবাদ মাত্র নয়, বরং এটি ছিল একেবারে নতুন ধরনের অ্যাপ, যেখানে ছিল হাস্যরস, স্থানীয় খবর এবং মেট্রো শহরের বাইরের ভারতের দৈনন্দিন বাস্তবতা। প্রশ্ন হল, এই শেয়ার চ্যাট কি সফল হয়েছিল? আজ্ঞে, হ্যাঁ। ২০২২ সালের মধ্যে শেয়ার চ্যাটের মূল্যায়ন পৌঁছে যায় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকায়। এটি হয়ে ওঠে লাখ লাখ মানুষের জন্য ডিজিটাল ‘নুক্কড়’, একটি এমন অনলাইন আড্ডার জায়গা, যাঁরা এতদিন বৈশ্বিক ইন্টারনেট জগতে প্রায় অদৃশ্য ছিলেন।

    ২০২১ সালের মধ্যেই শেয়ার চ্যাটের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১৬ কোটি। সংস্থার প্রধান কার্যালয় ভারতের বেঙ্গালুরুতে, বৈষ্ণবী টেক পার্কে অবস্থিত। শেয়ার চ্যাট পরিচালনা করে মহল্লা টেক। সংস্থাটির উপস্থিতি ভারত, আমেরিকা ও ইউরোপে থাকলেও এর মূল প্রযুক্তি কেন্দ্র এখনও বেঙ্গালুরুতেই, যা ভারতের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি হাব (Ankush Sachdeva)।

     

LinkedIn
Share