Tag: Illegal Immigrants

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের রাজনীতিতে বহু দশক ধরে অসমীয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ছিল সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত। ভাষা, অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন, নাগরিকত্ব এবং কর্মসংস্থানকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের ফলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বে সেই সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তু এবং অনুপ্রবেশকারী মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার রাজনৈতিক বার্তা এই পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেই সামনে এসেছে।

    কী বলছে হিমন্তর সরকার (Himanta Biswa Sarma)

    সরকারের বক্তব্য, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বেআইনি অভিবাসীদের এক শ্রেণিতে ফেলা উচিত নয়। এই অবস্থানকে সামনে রেখেই গত কয়েক বছরে অসমে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়েছে। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে আইডিয়া এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত সন্দেহভাজন ভোটারদের প্রসঙ্গে বলেন, “এখন বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। এক সময় এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ। ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, এবং আমি মনে করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি এও বলেন, “আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও বাঙালি হিন্দু নেই। এটাই সবচেয়ে ভালো খবর। সবার আধার হয়েছে। আগে যেখানে সাড়ে চার লাখের মতো মানুষ ছিলেন, এখন তা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধগুলির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।”

    যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক সময় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায় মিলিয়ে এই সংখ্যা ছিল ১২ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে। বর্তমানে তা কমে ৩.৫৪ লাখ হয়েছে এবং তার মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা এক লাখেরও কম। তবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (nrc) প্রকাশিত হলে প্রথমদিকে আবার কিছু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি কিছুটা জটিল হলেও, আমরা ধাপে ধাপে এর সমাধান করছি।” রাজ্য সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (caa) নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি করেছে। সেই কারণেই বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি বেআইনি অনুপ্রবেশের প্রশ্নের থেকে (Himanta Biswa Sarma) আলাদা করে দেখা উচিত বলেই দাবি সরকারের।

    নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

    এই অবস্থানের পাশাপাশি অসম চুক্তিতে নির্ধারিত ২৪ মার্চ ১৯৭১-কে বেআইনি অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করার গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবেও বারবার তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পঞ্জির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে যাঁরা প্রকৃত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অসমীয়া হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। অসমের শাসক দল বিজেপির দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনকে ব্যবহার করলেও, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি (Himanta Biswa Sarma) হয়েছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ।

    গলেছে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু সম্পর্কের বরফ

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন বিভিন্ন জনসভায়ও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের তরফে। ২০২৫ সালের অগাস্টে শিলচরে হিমন্তর সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। একইভাবে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর একাধিক সভায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শাসক শিবিরের মতে, অসমে ভাষাগত বিভাজনের পরিবর্তে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর ঐক্যের বার্তাই এখন রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে এই ইস্যু এখনও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (Himanta Biswa Sarma)।

    অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য

    প্রসঙ্গত, অনেক আগেই হিমন্ত অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্দু বাঙালিরা, যাঁরা নিজেদের ‘ধর্ম’ রক্ষার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি এবং শত শত বছরের বংশানুক্রমিক সম্পদ খুইয়েছিলেন, তাঁরা অবশেষে তাঁদের বহু-প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও হিন্দু বাঙালিকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দেওয়া হবে না বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “হিন্দু বাঙালিদের বিদেশি হিসেবে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই, কারণ তাঁরা ১৯৭১ সালের আগেই এসেছেন। তাই অসমে সিএএর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।” ২০১৯ সালে অসমে যখন জাতীয় এনআরসির ত্রুটিপূর্ণ খসড়া প্রকাশিত হয়, এবং প্রায় ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়ে তালিকা থেকে, তখনই হিমন্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়াটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। নতুন করে এনআরসি করার ডাকও দিয়েছিলেন অসমের পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)।

     

  • Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, অপেক্ষায় আরও কত, জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কড়া রাজ্য সরকার। নতুন সরকার তৈরির পর থেকে ইতিমধ্যেই ৪৮০০ অনুপ্রবেশকারীকে (Illegal Immigrants) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে সদ্য তৈরি হোল্ডিং সেন্টার থেকে এখন আরও ৮৩৬ জনকে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর তোরজোড় চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মতে রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে সরকার চিন্তিত। যেভাবেই হোক এই সমস্যা দূর করতে বদ্ধ পরিকর তাঁরা। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যেই সব মানুষ সিএএ-এর আওতায় আসেন না, তাঁদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাদের বাংলাদেশ পাঠানো হবে।

    সামান্তে কাঁটাতার

    সরকার গঠনের পরই ইতিমধ্যে সীমান্তের ১০০ কিমিতে কাঁটাতার বসানোর জমি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ৫৫৬ কিমির মধ্যে ১০০ কিমি জমি দেওয়া হয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে সবটাই দেওয়া হবে। শুভেন্দুর মতে, সারা দেশে আইন মানা হয়। কিন্তু আগের তৃণমূল সরকার রাজ্যে আইন মেনে চলত না। তাই তাঁর সরকার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়,‘‘৪৮০০ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে সীমান্তের জেলাগুলির হোল্ডিং ক্যাম্প থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত নিয়ম মেনে ঢাকায় পাঠানো হবে।’’ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারতের সব রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বাংলাদেশের সবথেকে লম্বা বর্ডার রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ২,২১৭ কিমি বাংলাদেশ বর্ডার। আর এই বিরাট সীমান্তের মধ্যে অনেক জায়গাতেই কাঁটাতার নেই। সেখান থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশ হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি

    শুভেন্দু জানান, বিএসএফ-কে জমি দেওয়া খুবই জরুরি। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই জমি দিতে হবে। এটাই তাঁর নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বলে দাবি করেছেন তিনি। বিজেপির স্পেশাল ট্রেনিং ক্যাম্পে এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘‘সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর জন্য ৫৫৬ কিমি জমি প্রয়োজন ছিল। তার মধ্যে ১০০ কিমি দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গের চিকেন নেক করিডরই প্রায়োরিটি।’’ মাথায় রাখতে হবে, চিকেন নেক করিডর বা শিলিগুড়ি করিডর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। এটি মোটামুটি ২০ থেকে ২২ কিমি চওড়া এবং ৬০ কিমি লম্বা একটা জায়গা। এই জায়গাটি গোটা দেশকে উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে জুড়ে রাখে। তাই এই জায়গাটা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এই জায়গার নিরাপত্তায় কোনও প্রকারের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় নতুন শুভেন্দু সরকার।

  • West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করার অভিযোগে আটক বিদেশি নাগরিক ও মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের, যারা দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে (West Bengal), তাদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন করতে হবে (Bangladeshi Rohingya Deportees)। এই মর্মে রাজ্যের সব জেলাশাসককে (DM) নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের নয়া সরকারের এই নির্দেশ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুভেন্দু সরকারের নীতি (West Bengal)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার নীতি নেবে। তবে সিএএ (CAA) আইনে হিন্দু শরণার্থী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে না। ২৩ মে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “আটক বিদেশি নাগরিক এবং দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের (West Bengal) উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুযায়ী হবে।”

    সরকারি নির্দেশিকা

    স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিদেশি শাখা (SAARC VISA Section) থেকে ২৩ মে জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারের সচিব জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছেন। সেখানে (Bangladeshi Rohingya Deportees) অবৈধভাবে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতির (West Bengal) কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা

    প্রসঙ্গত, বঙ্গের চালকের আসনে (West Bengal) বসার পরেই পদ্ম-নেতা শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের স্থানীয় থানায় বা প্রশাসনের কাছে না রেখে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, তাদের জেলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র। দেশকে সুরক্ষিত করার কাজ সরকার করবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার ফলে আগের সরকারের আমলে বিঘ্নিত হয়েছে (Bangladeshi Rohingya Deportees) দেশের নিরাপত্তা।

     

  • Assam Govt. “১৯৫০ সালে পাশ হওয়া আইন প্রয়োগ করেই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো যাবে”, বললেন হিমন্ত

    Assam Govt. “১৯৫০ সালে পাশ হওয়া আইন প্রয়োগ করেই অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো যাবে”, বললেন হিমন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশকারীদের (Illegal Immigrants) তাড়াতে অসম সরকারকে (Assam Govt.) ফি বার আদালতে যেতে হবে না। ১৯৫০ সালে পাশ হওয়া একটি পুরানো আইন ব্যবহার করেই এটি করা সম্ভব। শনিবার নলবাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ কথাই বললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানান,

    ইমিগ্র্যান্টস অ্যাক্ট, ১৯৫০ (Assam Govt)

    সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট বলেছে যে “ইমিগ্র্যান্টস (এক্সপালশন ফ্রম আসাম) অ্যাক্ট, ১৯৫০” এখনও বৈধ এবং এই আইন ব্যবহার করে রাজ্য সরকার আদালতের দ্বারস্থ না হয়েই অবৈধ বিদেশিদের বিতাড়ন করতে পারে। তিনি বলেন, “একটি পুরনো আইন আছে যার নাম ‘ইমিগ্র্যান্টস এক্সপালশন অর্ডার (১৯৫০)’, এবং নাগরিকত্ব আইনের ৬এ ধারা সম্পর্কিত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ বলেছে এই আইন এখনও কার্যকর। এই আইনের আওতায় এমনকি একজন জেলাশাসকও অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানোর আদেশ দিতে পারেন।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও এক কারণে এই বিধানটি ভুলে যাওয়া হয়েছিল এবং সরকারপক্ষের আইনজীবীরাও এর উল্লেখ করেননি। সম্প্রতি এই আইনের অস্তিত্বের বিষয়টি সামনে আসে। তাই এখন রাজ্য সরকার এই আইন ব্যবহার করেই অবৈধ অভিবাসীদের ফিরিয়ে দেবে।” তিনি বলেন, “এখন থেকে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করার পর আর বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর দরকার হবে না, আমরা সরাসরি সীমান্তে তাদের তাড়িয়ে দেব (Illegal Immigrants)।”

    কী বললেন হিমন্ত?

    হিমন্ত বলেন, “অসমে এনআরসির কারণে যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া একেবারে ধীরগতিতে চলছিল, এখন তা দ্রুত গতিতে হবে। একবার শনাক্ত হলে, আমরা তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাব।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানান (Assam Govt.), অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে শুরু করা হবে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও চলছে। তিনি বলেন, “এখন এসব বিষয় ট্রাইবুনালে পাঠানোর প্রয়োজন পড়বে না। ফলে প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত হবে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব ব্যক্তি তাঁদের নির্বাসনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, আদালত সেই বিষয় নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত তাঁদের নির্বাসন দেওয়া হবে না।

    অসমের নাগরিকত্ব আইন

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ঘোষিত রায়ে অসমের নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬এ-র বৈধতা সমর্থন করে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ১৯৫০ সালের ‘অসম থেকে অভিবাসী বহিষ্কার আইন’-এর বিধানসমূহকেও ধারা ৬এ-র অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পড়া হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে।” সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায়, ‘ইমিগ্রান্টস এক্সপালশন’ আইনটি নাগরিকত্ব আইনের ধারা ৬এ-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং দুটি আইন একসঙ্গে চলতে পারে (Illegal Immigrants)। শীর্ষ আদালত বলেছে, সংসদ যখন এই আইন প্রণয়ন করেছে, সেটিই প্রমাণ করে যে “বাংলাদেশ থেকে অসমে বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর অনুপ্রবেশ সবসময়ই একটি ‘উদ্বেগের কারণ’ ছিল এবং এই সমস্যার সমাধানে সংসদ ইতিপূর্বেও পদক্ষেপ করেছে।”

    কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, পশ্চিম সীমান্তের জন্য প্রণীত অনুরূপ আইন—“পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশ (নিয়ন্ত্রণ) আইন”—১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে বাতিল করা হয়। কিন্তু শুধুমাত্র অসমে প্রযোজ্য পূর্ব সীমান্তের আইনটি কার্যকর ছিল। সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে যে, ১৯৫০ সালের ‘অসম থেকে অভিবাসী বহিষ্কার আইন’ প্রণয়ন করা হয়েছিল। কারণ তৎকালীন ‘ফরেনার্স অ্যাক্টে’ পাকিস্তান থেকে আগত অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি (Assam Govt.)। অসমবাসী বহিরাগত (বহিষ্কার) আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী, যদি কেন্দ্রীয় সরকার মনে করে যে অসমের বাইরে থেকে আগত কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ভারতের সাধারণ জনগণের বা জনগণের কোনও নির্দিষ্ট অংশের বা অসমের কোনও নির্ধারিত জনজাতির স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের অসম ত্যাগ করার নির্দেশ দিতে পারে এবং তাদের অসম থেকে অপসারণের আদেশ জারি করতে পারে (Illegal Immigrants)।

    কেন্দ্রের ক্ষমতা

    যদিও এই ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হয়েছে, আইনটি কেন্দ্রীয় সরকারকে এই ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও আধিকারিক অথবা অসম, মেঘালয় ও নাগাল্যান্ড রাজ্য সরকারের কোনও আধিকারিকের ওপর ন্যস্ত করার অনুমতি দেয় (Assam Govt.)। প্রসঙ্গত, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের স্বদেশে ফেরাতে কাঠখড় পোড়াতে হয় বিস্তর। তাই বিএসএফ রাতের অন্ধকারে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। এতে লাভ হচ্ছে দুটো। এক, আগের তুলনায় অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা কমেছে। আর দুই, শনাক্ত করার পরেই অনুপ্রবেশকারীদের (Illegal Immigrants) দ্রুত তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে (Assam Govt.)।

LinkedIn
Share