Tag: Illegal migration

  • Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনের (Spain) উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যত হতচকিত করে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন হাজার হাজার অভিবাসী (Morocco Migrants)। সাম্প্রতিক বছরে এটি স্পেনের এই ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশগুলির একটি। ২০২১ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পর এমন বড় আকারের প্রবেশ আর দেখা যায়নি। স্পেনের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের হিসেব অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েন। অনেকেই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছন। অন্যরা মরক্কো থেকে সেউতাকে আলাদা করা সীমান্তের বেড়া ভেঙে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে প্রবেশে পুলিশ কার্যত চাপে পড়ে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত ঘিরে নতুন করে অভিবাসন-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” (Spain)

    পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদকে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানায়। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা তারাজাল বাঁধের দিক দিয়ে ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিবাসীরা ফোলানো টিউব ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে বাঁধ ঘুরে সাঁতরে সেউতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি দল সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক জোর করে খুলে সেউতার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রবেশের সময়  কয়েকজনকে “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের নজিরবিহীন অভিবাসন সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই সময় কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো ও সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন (Spain)। সেউতা এবং কাছাকাছি অবস্থিত স্পেনের আর একটি ভূখণ্ড মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় থাকা অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

    জরুরি অবস্থা জারির দাবি সেউতার

    অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেউতার নেতা হুয়ান হেসুস ভিভাস মাদ্রিদ সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে সাময়িকভাবে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই (Morocco Migrants)। পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, বর্তমান সঙ্কটের তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিভাসের সঙ্গে কথা বলার পর সানচেজ বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাচ্ছি, মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “এখন দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সময়।” তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টি তিনি খোলসা করেননি (Spain)। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাজার হাজার অবৈধ সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা ইতিমধ্যেই ঠেকানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলি অভিবাসীদের ব্যবহার করছে (Morocco Migrants) বলেও অভিযোগ।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও প্রশ্ন

    বৃহস্পতিবারের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সঙ্গে সম্প্রতি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন আধিকারিক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিশেষ সীমান্ত-প্রত্যাখ্যান বিধির আওতায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো যখন খুশি ফেরত পাঠাতে পারবে না। রায়ে অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অধিকার দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গিয়েছে (Spain)।” এই রায় বিশেষভাবে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি তারা স্থলসীমান্ত এড়িয়ে বেড়ার চারপাশ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছলেও তা প্রযোজ্য হবে।এদিকে স্পেনে আগে থেকেই বসবাসকারী প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর অবস্থান নিয়মিত করার একটি সরকারি কর্মসূচিও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই যারা স্পেনে বসবাস করছেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেও, শেষ পর্যন্ত বৈধ বসবাসের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

    সানচেজ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

    সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সানচেজ সরকার অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে উদার নীতি গ্রহণ করেছে। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সেউতার পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না… কারণ আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি (Spain)।” এদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি জানিয়েছেন, সেউতায় পৌঁছনোর আশায় মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেকে এখনও বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন কথা বলছি, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে (Morocco Migrants)।” অভিবাসীদের একটি অংশ এখনও সেউতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো (Spain)।

     

  • Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অনির্দিষ্ট কারণের ফলে হওয়া ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ (Demographic Shifts) যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেন শাহ। তিনি এই বিষয়টিকে ভারতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং আদিবাসী সমাজের সংরক্ষণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

    কী লিখলেন শাহ? (Amit Shah)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্যানেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শাহ লিখেছেন, “অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য যে কোনও দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ১৫ অগাস্ট, ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার এখন এই কমিটি গঠন করেছে।”

    কমিটির সদস্য কারা?

    শাহ জানান, এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব, অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি এবং জনগণনা কমিশনার। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স-গ্রেড ওয়ান বিভাগের যুগ্মসচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবেন।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কমিটি অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে, তার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করে এজন্য একটি পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করবে (Amit Shah)।

    সীমান্তবর্তী গ্রামে নিবিড় নজরদারি

    শাহের এই ঘোষণাটি হয়েছে এমন এক দিনে, যেদিন তিনি রাজস্থানের বিকানের জেলার বিএসএফের সাঞ্চু আউটপোস্ট পরিদর্শন করেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ড্রোনের মাধ্যমে মাদক পাচারের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে বিএসএফের কার্যক্ষেত্র বাড়িয়েছে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত (Amit Shah)। তিনি বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের কারণে হওয়া জনবিন্যাস পরিবর্তনের (Demographic Shifts) বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের কার্যকলাপের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাতে হবে।”

     

  • School Jihad: মুম্বইয়ে এবার ‘স্কুল জেহাদ’, পরিচালনায় মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’

    School Jihad: মুম্বইয়ে এবার ‘স্কুল জেহাদ’, পরিচালনায় মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ে কথিত ‘স্কুল জেহাদ’ (School Jihad) নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সেটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বৃহন্মুবই মিউসিপাল কর্পোরেশন (BMC)-এর প্রস্তুত করা একটি তালিকার (Muslim Land Mafia) উল্লেখ করে কিরীট সোমাইয়ার দাবি, বর্তমানে শহরে ১৬৪টি অবৈধ স্কুল চালু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি স্কুল এক মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুমান। এই স্কুলগুলি সরকারি স্বীকৃতি বা অনুমতি ছাড়াই চলছে। আরও অভিযোগ, এগুলির উদ্দেশ্য দ্বিমুখী—একদিকে জমি দখল, অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রচার।

    সোমাইয়ার বক্তব্য (School Jihad)

    পরিসংখ্যান দেখিয়ে সোমাইয়া বলেন, “মুম্বইয়ে আগে ‘ল্যান্ড জেহাদ’, ‘কর্পোরেট জেহাদ’, ‘লাভ জেহাদ’ এবং ‘কোচিং জেহাদ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই তালিকায় নবতম সংযোজন ‘স্কুল জেহাদ’। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এই কার্যকলাপ চলছে এবং গোবিন্দি, মালাড ও কুর্লা এলাকার বহু স্কুল এতে জড়িত। সাধারণত প্রথমে একটি জমি দখল করা হয়। তারপর রাতারাতি সেখানে স্কুল বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অবৈধ দখলকে স্থায়ী করা হয়। সোমাইয়ার মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ। তাঁর অভিযোগ, ল্যান্ড মাফিয়া প্রথমে বেআইনিভাবে জমি দখল করে এবং পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ধীরে ধীরে নির্মাণকাজ শুরু করে। এতে একদিকে যেমন অবৈধ দখলকে বৈধতার ছাপ দেওয়া হয়, অন্যদিকে তেমনি কঠিন হয়ে পড়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া। তাঁর আরও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এই স্কুলগুলির ভেতরে বা আশপাশে মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে (School Jihad)।

    এই ঘটনা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গেও যুক্ত!

    এই জাতীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমাইয়া কর্পোরেশনের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, গত দুই দশকে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হল দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অবহেলা। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে এত অবৈধ স্কুল গড়ে উঠত না (Muslim Land Mafia)। সোমাইয়া এই ঘটনাকে অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই স্কুলগুলির মাধ্যমে মুম্বইয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও কর্পোরেশনের কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং খুব শিগগিরই তা কার্যকর হবে।

    ‘জেহাদ’ শব্দের ব্যাখ্যা

    এই বিতর্কের আবহে ‘জেহাদ’ শব্দটির ব্যাখ্যা নিয়েও জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, ‘জেহাদ’ মূলত সংগ্রাম বা আত্মসংযমের প্রতীক—নিজেকে উন্নত করা এবং নিজের দোষত্রুটির বিরুদ্ধে লড়াই করা। এটি সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত: ‘জেহাদ-আল-আকবর’ (অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম) এবং ‘জেহাদ-আল-আসগর’ (বাহ্যিক সংগ্রাম)। অধিকাংশ পণ্ডিত অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং শব্দটির সঙ্গে হিংসার সম্পর্ককে ভুল ব্যাখ্যা বলে মনে করেন। তবে কিছু লেখক এবং গবেষক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন (School Jihad)। কিছু লেখকের মতে, ইতিহাসে জেহাদ শুধু আধ্যাত্মিক ধারণা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্প্রসারণের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁদের দাবি, ইসলামের বিস্তারের জন্য বিভিন্ন উপায় (হিংসা-সহ) ব্যবহৃত হয়েছে (Muslim Land Mafia)।

    জেহাদের ইতিহাস

    অ্যানড্রিউ জি বস্টম তাঁর বই ‘দ্য লিগেসি অফ জেহাদে’ লিখেছেন, জেহাদের ইতিহাস কেবল আধ্যাত্মিক সংগ্রামে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও সামরিক সম্প্রসারণের একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। রবার্ট স্পেনসার তাঁর বই ‘দ্য পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট গাইড টু ইসলামে’ বলেন, ইসলামের প্রাথমিক বিস্তার অনেকাংশে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটেছিল। এমএ খান তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জেহাদ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাট ইয়র তাঁর বই ‘দ্য ধিম্মি’তে লিখেছেন, অ-মুসলিমদের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন (School Jihad)। ভারতীয় ইতিহাসের ক্ষেত্রেও কিছু গবেষণার উল্লেখ করা হয়। সীতারাম গোয়েল তাঁর গ্রন্থে মধ্যযুগে মন্দির ধ্বংসের পেছনে ধর্মীয় উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। কেএস লালের মতে, মধ্যযুগীয় যুদ্ধে বন্দিদের দাসে পরিণত করে ধর্মান্তরিত করা হত। মাইকেল বোনের জেহাদকে একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাজিদ খাদুরি ইসলামি আইনে জেহাদকে রাষ্ট্র বিস্তারের একটি উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন (Muslim Land Mafia)। সব মিলিয়ে, মুম্বইয়ে ‘স্কুল জেহাদ’ নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ, এই স্কুলগুলি অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসন কী করে, এখন সেটাই (School Jihad) দেখার।

     

LinkedIn
Share