মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Twin Cyclone in India) মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি, নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)। বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কীভাবে মানুষের প্রাণ ও জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব, ভারত তার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। পরপর দুটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এমনই মন্তব্য করেছেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো। তাঁর মতে, দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস এবং সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বের বহু দেশের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছে।
কী বললেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব?
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ সোমবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয় ঝড় ও বৃষ্টিপাত। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই একই অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আগাম সতর্কতা জারি এবং প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভারতের এই বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থারই প্রশংসা করেছেন সাউলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কেবল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়াই যথেষ্ট নয়। সেই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এই গোটা প্রক্রিয়াটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি উল্লেখ করেছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে আসার কয়েক দিন আগেই ওই অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। এমন পরিস্থিতিতেও আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, বিপর্যয়ের আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ভারতের এই সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।
বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে ভারত
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিবের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছেও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিপর্যয়ের সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। এই সাফল্য রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ উদ্যোগের লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল, বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, যাতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই মানুষ ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সঠিক সময়ে নির্ভুল পূর্বাভাস এবং সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারলে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তুতি সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরেছে।









