Tag: imran khan

imran khan

  • Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নাগরিক নন, তিনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। তাই ভারতের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়ে না। এই যুক্তিতেই অভিনেতা ইমরান খানকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay HC)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অধিকার তাঁর নেই।

    সোমবার প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠীর নেতৃত্বাধীন বিচারপতিদের বেঞ্চে ইমরানের দায়ের করা একটি মামলার শুনানি হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার (SIR Remarks) অভিযোগে মুম্বইয়ের বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর তাঁর উদ্দেশে ভারত ছাড়ার যে নোটিশ জারি করেছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা। ওই নোটিশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Bombay HC)

    শুনানির সময় ইমরানের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অভিনেতার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। আপনি ভারতীয় নাগরিক নন। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় আপনার কোনও প্রভাব পড়ছে না। সুতরাং, এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার আপনার নেই।”

    এমনকী, অভিনেতাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেও বলে আদালত। বিচারপতিদের মতে, তাঁর কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করার শামিল।

    কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং জানান, ইমরান খান বিভিন্ন সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই বক্তব্যগুলির উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ নাগরিকদের উসকানি দেওয়া।

    কড়া বার্তা আদালতের

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও স্পষ্ট করে দেন, ভারতে বসবাস করলেও বিশেষ পরিচয়পত্রধারী কোনও ব্যক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে সমালোচনা বা প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন না বলে আদালত মনে করে। তিনি বলেন, “এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আপনি আমেরিকায় গিয়ে সেখানে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন, এমনকী ভোটও দিতে পারেন। কিন্তু ভারতে এভাবে কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ করা মেনে নেওয়া হবে না।”

    এর পাশাপাশি, ইমরানের ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন না করার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। অভিনেতার জীবনের একটা বড় অংশ ভারতে কেটেছে। এখানেই তাঁর পড়াশোনা ও কর্মজীবন। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ছোটবেলা থেকেই আপনি ভারতে রয়েছেন। এখানে পড়াশোনা করেছেন, কাজ করেছেন এবং জীবনের প্রায় সবকিছুই এখানে। তা হলে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন না কেন?”

    আদালত আরও জানায়, ইমরান যদি বিশেষ পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে বসবাস চালিয়ে যেতে চান, তা হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে তাঁকে লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে (Bombay HC)।

    প্রধান বিচারপতির কথায়, “আপনি যদি এই পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে থাকতে চান, তা হলে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেবেন না।”

    নিঃশর্ত ক্ষমাও চাওয়ার নির্দেশ

    শুধু লিখিত অঙ্গীকার নয়, নিঃশর্ত ক্ষমাও চাইতে হবে অভিনেতাকে। আদালতের মতে, একজন পরিচিত তারকা হিসেবে ইমরানের বক্তব্য ও আচরণের প্রভাব অনেক বেশি। তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও যথেষ্ট। তাই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করার আগে তাঁর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “একজন তারকার কাছ থেকে অন্তত এইটুকু দায়িত্ববোধ প্রত্যাশিত। আপনি এই দেশেই কাজ করেছেন, এখান থেকেই পরিচিতি ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপনার প্রচুর অনুগামী রয়েছেন (SIR Remarks)। আপনার প্রতিটি বক্তব্যের প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ দেশে কাউকে প্ররোচিত করার অধিকার আপনার নেই। আপনার জীবিকা ও উপার্জনের উৎসও এই দেশ।”

    উল্লেখ্য, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারীদের ভারতে বসবাস ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে এই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আপাতত (Bombay HC) ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর ভারত ছাড়ার নোটিশের উপর বহাল থাকছে স্থগিতাদেশ।

     

  • India Mocks at Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কটাক্ষ, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ বলে তোপ! কী এই শব্দবন্ধ, কারা ব্যবহার করে?

    India Mocks at Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ভারতের কটাক্ষ, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ বলে তোপ! কী এই শব্দবন্ধ, কারা ব্যবহার করে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে সে দেশের সরকারকে ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ (Form 47 Government) বলে কটাক্ষ করল ভারত। গত ২৪ অক্টোবর রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী (Raghoo Puri) পাকিস্তানের (India Mocks at Pakistan) অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দাবি করেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরাতেই ভারতকে নিশানা করছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকারের উপরে সেনাবাহিনীর প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।

    কী এই ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’?

    ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ কথাটি মূলত পাকিস্তানের ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তাদের সমর্থকদের অভিযোগ, নির্বাচনে জনসমর্থন পেলেও তাঁদের প্রার্থীদের জিততে দেওয়া হয়নি। বরং নির্বাচনের ফলাফল বদলে দিয়ে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র সমর্থনপুষ্ট জোট সরকারকে ক্ষমতায় আনা হয়েছে। পিটিআইয়ের দাবি, এই নির্বাচনী কারচুপির নেপথ্যে ছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। যদিও এই অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখা যায় না; বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।

    ফর্ম ৪৫ ও ফর্ম ৪৭-এর পার্থক্য কী?

    পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণ ও ফলাফল সংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ করতে একাধিক সরকারি ফর্ম ব্যবহার করে। তার মধ্যে ফর্ম ৪৫ এবং ফর্ম ৪৭ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    ফর্ম ৪৫: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনার পর প্রিসাইডিং অফিসার এই ফর্মে ফলাফল নথিবদ্ধ করেন। সেখানে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের হিসেব-সহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচনী তথ্য থাকে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদেরও এই নথি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    ফর্ম ৪৭: একটি নির্বাচনী কেন্দ্রের অধীন সমস্ত ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একত্র করে রিটার্নিং অফিসার এই ফর্ম প্রস্তুত করেন। এতে প্রার্থীদের মোট প্রাপ্ত ভোট-সহ সামগ্রিক ফলাফলের হিসেব থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত এই ফলাফল পরবর্তী যাচাই ও চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ।

    পিটিআইয়ের অভিযোগ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে একাধিক আসনে ফর্ম ৪৫-এ তাদের সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন বা জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ফর্ম ৪৭-এ প্রকাশিত সামগ্রিক ফলাফলে অন্য প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাদের আরও দাবি, বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের ফর্ম ৪৫-এর কপি পেতেও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল। ইমরান খানের দাবি ছিল, সরকারি ফলাফলের তুলনায় তাঁর দল অনেক বেশি আসনে জয়ী হয়েছিল। ফর্ম ৪৫-এর হিসাবের ভিত্তিতে পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা ১৭০টি আসনে জয় পেয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছিল। তবে এই সংখ্যাকে সরকারি ভাবে স্বীকৃত ফলাফল হিসেবে দেখা যায় না। ভোটের ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনাও সেই সময় কারচুপির অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক বাড়িয়েছিল।

    রাষ্ট্রসংঘে ঠিক কী বলেছে ভারত?

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় পাকিস্তানের বক্তব্যের জবাব দেন ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরী। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে নজর সরাতেই ভারতকে নিশানা করছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সে দেশের প্রকৃত ক্ষমতা সেনার হাতেই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সেনাবাহিনীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করার মতো স্বাধীনতা পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের নেই। জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে পুরী বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দেশের নাগরিকদের কল্যাণে মনোযোগ দেওয়া এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) থেকে সরে আসা। ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়েও কটাক্ষ করেন ভারতীয় প্রতিনিধি।

    ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক কেন?

    ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ইমরান খানের দল পিটিআই সরাসরি দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় তাদের বহু প্রার্থী নির্দল হিসেবে লড়েছিলেন। ফলাফল ঘোষণার পর পিটিআই-সমর্থিত প্রার্থীদের আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের সমীকরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পিটিআইয়ের অভিযোগ ছিল, ভোটের প্রকৃত ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনের সরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনা হলেও ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধটি মূলত পিটিআইয়ের রাজনৈতিক প্রচার এবং বিরোধিতার একটি পরিচিত ভাষা হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের মার্চে মার্কিন কংগ্রেসের প্রায় ৩১ জন সদস্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বিদেশসচিব অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে চিঠি লিখে পাকিস্তানের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

    ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতি 

    ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। তাঁর সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, তাঁর সরকারকে সরানোর পিছনে বিদেশি শক্তির ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে আমেরিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন ইমরান খান। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এবং মার্কিন বিদেশ দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক তৎকালীন সহকারী বিদেশসচিব ডোনাল্ড লু-র মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠক সংক্রান্ত একটি গোপন কূটনৈতিক বার্তা বা সাইফার পরবর্তীকালে বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।

    আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত বলে উল্লেখ করা কিছু প্রতিবেদনে ওই নথির বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়। নথিটি থেকে আমেরিকা ও পাকিস্তানের সম্পর্ক এবং ইমরান খানের রাশিয়া নীতিকে ঘিরে ওয়াশিংটনের মনোভাব সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে বলে দাবি করা হয়। তবে ওই নথির উল্লেখ থেকেই ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আমেরিকা ষড়যন্ত্র করেছিল—এমন সিদ্ধান্ত নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না ইমরান খানের ক্ষমতাচ্যুতির পর শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করার চেষ্টা করে। একই সময়ে ইউক্রেনকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে আলোচনা হয়। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (আইএমএফ) পাকিস্তানের জন্য ৩০০ কোটি ডলারের একটি স্ট্যান্ডবাই ব্যবস্থা অনুমোদন করেছিল। তবে এই আর্থিক সহায়তার সঙ্গে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে প্রকাশিত অভিযোগকে সতর্কতার সঙ্গে বিচার করা প্রয়োজন।

    কেন তাৎপর্যপূর্ণ ভারতের এই মন্তব্য?

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে ভারত শুধু পাকিস্তানের কাশ্মীর সংক্রান্ত বক্তব্যের জবাব দেয়নি, বরং সে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই বিতর্ককেই আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে তুলে ধরে ইসলামাবাদের উপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ‘ফর্ম ৪৭ সরকার’ কোনও সরকারি সাংবিধানিক পরিচয় নয়। এটি মূলত পাকিস্তানের ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় হওয়া একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ। এর মাধ্যমে পিটিআই-সমর্থকরা শাহবাজ শরিফের সরকারের জনসমর্থন ও নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

     

     

     

     

     

  • Pakistan: ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ নিরাপত্তাকর্মীতে ছয়লাপ

    Pakistan: ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ নিরাপত্তাকর্মীতে ছয়লাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ)। আন্দোলনকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ রুখতে ইসলামাবাদজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন (Imran Khan)। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী। জনসমাবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রবেশের বিভিন্ন সড়কে এক হাজারেরও বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার বসানো হয়েছে। এগুলির অনেকগুলিতে লাগানো হয়েছে ধারালো কাঁটা। সেতুগুলিতে রাখা হয়েছে বালি ভর্তি বস্তা। রাজধানীতে প্রবেশের একটি প্রধান সড়কও বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

    ইসলামাবাদ অভিমুখী অভিযান স্থগিত পিটিআইয়ের (Pakistan)

    ইমরানের মুক্তির দাবিতে প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিল পিটিআই। তবে শুক্রবার দলের তরফে জানানো হয়, অভিযান শুরুর তারিখ পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। দলটির দাবি, এটি সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, ইমরানের সঙ্গে আচরণ এবং জেলে তাঁর বন্দিদশার পরিবেশ নিয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না পিটিআই।

    সরকারের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার সমালোচনা করে আফ্রিদি বলেন, “সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই তারা ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং আমাদের মন্ত্রীদের অপহরণ করছে। কিন্তু ইমরান খান দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাঁর জন্য মানুষ রাস্তায় নামবে।” বিপুলসংখ্যক সমর্থক নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।আফ্রিদি বলেন, “আমি জানি, আমাদের থামাতে তারা বর্বর শক্তিপ্রয়োগের যে কোনও পর্যায়ে যেতে পারে। এ নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ থাকলে তারা আমাদের ওপর গুলি চালাতে পারবে না। আমাদের পরিকল্পনা হল, এত বেশি মানুষ নিয়ে আসা, যাতে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।”

    ইসলামাবাদ-খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কঠোর নিরাপত্তা

    পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদে যাওয়ার প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রদেশটিতে মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী (Pakistan)। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সরকারনিযুক্ত গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, পিটিআই দেশে অস্থিতিশীলতা ও হিংসা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কুন্দি বলেন, “কোনও সহিংস গোষ্ঠীকে ইসলামাবাদ অভিমুখে অভিযান চালানোর অনুমতি রাষ্ট্র দিতে পারে না।” এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে ইসলামাবাদের স্বাভাবিক জনজীবনেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পণ্য সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    ইমরানের তিন বোন আটক, গ্রেফতারি পরওয়ানা

    ইসলামাবাদ অভিমুখী কর্মসূচি ঘিরে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ও জোরদার করা হয়েছে। দলের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা।

    এর মধ্যেই লাহোরে আটক করা হয়েছে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নওরিন নিয়াজিকে। পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনের আওতায় তাঁদের ৩০ দিন আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির কয়েক দিন আগেই তাঁদের আটক করা হয়।

    সরকারের দাবি, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এসব পদক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে, এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে পিটিআই। ইমরানের বোনদের আটকের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লাহোর হাইকোর্টেও আবেদন করা হয়েছে (Imran Khan)। ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর মুক্তির দাবিতে (Pakistan) আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে পিটিআই।

     

     

  • Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে (Imran Khan)। শুক্রবার ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁকে জেল হেফাজতেই রাখা নিরাপদ। ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য আদিয়ালা জেল থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁকে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি নেই। এরপরই তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর নির্ধারিত সেলে রাখা হয়।

    চিকিৎসা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিবার ও দলের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা বারবার অভিযোগ করেছেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছে না। অন্যদিকে, পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতির কথা বলা হয়নি যার জন্য অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক-সহ একটি মেডিক্যাল প্যানেলকে তাঁকে পরীক্ষা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস আপত্তির কারণে ফেরত দিয়েছে বলে খবর। আপত্তিগুলি সংশোধন করে সরকার ফের আবেদন জানাতে পারে।

    চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ

    ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে জানুয়ারির শেষ দিকে তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন ধরা পড়ার পর। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিকবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী।

    টানা ৩ বছর জেলে ইমরান

    ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। যদিও পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। ২০২৩ সালের ৯ মে তাঁর প্রথম গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটে। পরে ওই বছরের ৫ আগস্ট দুর্নীতির মামলা, যার মধ্যে তোষাখানা মামলাও ছিল, সেই মামলায় তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে একাধিক মামলা ও সাজা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান।

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

  • POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (POJK Protests) নীলম উপত্যকার আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনায় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। রাজা এহসান নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। ব্যাপক হিংসা, কম ভোট পড়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (News Portals Banned)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনার সময় এহসানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভোটপর্ব চলাকালীন ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

    নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি (POJK Protests)

    রবিবার শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, তীব্র অশান্তি এবং ভোটারদের কম অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১টি আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে মুজফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনের পাশাপাশি ছিল ১২টি উদ্বাস্তু আসনও। এই উদ্বাস্তু আসনের মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটের দিনও তীব্র বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে একাধিক এলাকা কার্যত উত্তেজনার মধ্যেই ছিল। পরিস্থিতির বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অশান্তির আঁচ এখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও।

    একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের আবহেই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় প্রতিরোধের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে একাধিক নির্বাচনী এলাকায়। রাস্তা অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর, এলএ-২৭ কোটলিতে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করায় নির্বাচনী কর্মী ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এলএ-২৮ মুজফফরাবাদ-২ অর্থাৎ লেচরাট এলাকায়। সেখানে ৭১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আধিকারিক ও ভোটগ্রহণের সামগ্রী পৌঁছতে পারেনি। অন্যান্য কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায়ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হন বলে খবর। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী গোষ্ঠী এবং বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    দিনভর বিক্ষোভ, দীর্ঘ মিছিলের ডাক

    এদিকে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ডি-চকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। মুজফফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিল করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাওয়ালাকোট থেকেও বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিচালনার খবর মিলেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল ড্রেক ইদগাহে প্রায় ৫০ দিন ধরে অবস্থান চলছে। সেখানেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। নারী ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে ভোটের দিনও সেই অশান্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল (POJK Protests)।

    ভারতের অবস্থান

    এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ফের জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলগুলির যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের “অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে” রয়েছে, সেটিও ভারতেরই অংশ। ২৮ জুলাই নয়াদিল্লি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলা “গুরুতর” মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত।

    ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়াল বিক্ষোভ

    ২ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৫টা থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রেস ক্লাবের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পড়ুয়ারা। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জও করা হয় এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গুলিচালনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। করাচি, ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও বড় জমায়েতের খবর এসেছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ।

    ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

    পাকিস্তানে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অশান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটির বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস রেস্ট্রিকটেড করা বলে জানা গিয়েছে (News Portals Banned)। স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলিকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের পরিষেবায়ও অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর (POJK Protests)। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, মূলত তাদের উপরই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল, তার নেতা তথা জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে খবর। এদিকে ২৭ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ইউটিউব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে না চললে তাঁদের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মুজফফরাবাদে চলা হিংসা নিয়ে জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।কমিটির দাবি, সাধারণ পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালাচ্ছিলেন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিষদের ২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জুলাইয়ের আগে ৩৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং ২৭ জুলাইয়ের পর রাওয়ালাকোট, মিরপুর ও মুজফফরাবাদে আরও ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। এই পরিস্থিতিতে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছেও পরিস্থিতির অবনতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো (News Portals Banned) হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি (POJK Protests)।

     

  • POJK Polls: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ইমরানের দলের, কারচুপির অভিযোগে সরব বিলাওয়াল

    POJK Polls: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ইমরানের দলের, কারচুপির অভিযোগে সরব বিলাওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২৯ জুলাই দলটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে “প্রহসন” বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক হিংসার নিন্দা করে পিটিআই বলেছে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তান সম্পর্কে ভুল বার্তা যাচ্ছে। পিটিআই চেয়ারম্যান গওহর আলি খানের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সর্দার কাইয়ুম নিয়াজি বলেন, কাশ্মীরিদের নজিরবিহীন নিপীড়ন ও বর্বরতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “কাশ্মীরিদের এমনভাবে পিষে ফেলা হচ্ছে, যার কোনও নজির নেই।” তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বিক্ষোভকারীরা সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিজেদের দাবিদাওয়া আর শোনা হচ্ছে না বুঝতে পেরে তাঁরা ৯ জুন বিক্ষোভের কথা ঘোষণা করেন। নিয়াজির কথায়, “তাঁরা শান্তিপ্রিয় মানুষ এবং আজও শান্তিপূর্ণ রয়েছেন। বলুন তো, সেখানে আমাদের বাহিনীর কোনও সদস্য গুলিতে নিহত হয়েছেন, কিংবা লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছেন? এই মানুষগুলি গুলি খাচ্ছেন, তবুও শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।”

    তিন দফায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন (POJK Polls)

    পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে তিন দফায় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নিয়াজি। তাঁর দাবি, ওই অঞ্চলের জনসংখ্যা মেরেকেটে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ। অথচ ২৫ কোটি মানুষের পাকিস্তানে এক দফায়ই নির্বাচন হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, “পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৫ কোটি এবং সেখানে এক দফায় নির্বাচন হয়। এখানে তিন দফার কী প্রয়োজন? কাশ্মীরে কী ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?” তিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন। ওই নির্বাচনে একই সঙ্গে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদের ভোট হয়েছিল। নিয়াজির অভিযোগ, সেই নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের পক্ষে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছিল। দলটির প্রধান নওয়াজ শরিফকে লন্ডন থেকে পাকিস্তানে ফিরে এসে নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

    গওহরের বক্তব্য

    গওহরও সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচন ওই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে “প্রহসন” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “২৭ তারিখে যে নির্বাচন হয়েছে, তা আপনারা সবাই দেখেছেন। নির্বাচনের নামে এটি ছিল একটি প্রহসন। এখন সবাইকে মেনে নিতে হবে যে গুলি ও লাঠি ব্যবহার করে, মানুষকে দমন করে, তাদের কণ্ঠরোধ করে এবং প্রতিবাদ করতে বাধা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় না। মানুষের কথা শোনাই গণতন্ত্র।” পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির নিন্দা করে গওহর পাকিস্তান পিপলস পার্টি এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক স্বার্থে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রকাশ্যেই বলছি, সেখানে মৃতদেহ পড়ে ছিল, মানুষ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, আর রাজনৈতিক দলগুলি তা নিয়ে রাজনীতি করেছে। একজন আর একজনকে অভিনন্দন জানিয়েছে, অন্যজন অভিযোগ করেছে যে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপি করা হয়েছে।” গওহরের দাবি, এই দুই দলই গত ৪০ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে ক্ষমতায় থেকেছে এবং নিজেদের প্রদেশগুলিতে পরাজিত হয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতিই এই দুই দলের প্রতি মানুষের প্রত্যাখ্যানের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “এত কম ভোটার উপস্থিতি পুরো ব্যবস্থা এবং এই দুই দলের ওপর অনাস্থার প্রতিফলন। এটি তাদের বিরুদ্ধে গণভোটের সমান।” গওহর আরও বলেন, বর্তমান রাজনীতি মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

    পিপিপি ও পিএমএল-এনের সংঘাত

    এদিকে মিরপুর বিভাগের নির্বাচনী ফল নিয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টি এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির অভিযোগ, সর্বত্র কারচুপি করে, ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক ঘুষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পিএমএল-এন জনগণের রায় চুরি করেছে। পিএমএল-এনের নির্বাচনী বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিলাওয়াল। পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম দফার ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান তিনি। ২৯ জুলাই মুজাফফরাবাদে পিপিপির এক কর্মী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলাওয়াল নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আপনারা যদি এই কারচুপির সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তাহলে মিরপুরে পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করুন।” নির্বাচন কমিশনের কথিত নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে সরাসরি ও কঠোর চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘শাহবাজ-মরিয়ম জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেননি’

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফকে সরাসরি কটাক্ষ করেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, “আজ কেউ যদি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে থাকেন, কিংবা কেউ মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসে থাকেন, তা জনগণের ভোটে বা আপনাদের কর্মদক্ষতার কারণে নয়—এটি একটি ফর্ম-৪৭-এর ফল, এটা একটি শিশুও জানে।” ফর্ম-৪৭ হল কোনও নির্বাচনী এলাকার সব ভোটকেন্দ্রে গণনা করা ভোটের ফলের প্রাথমিক সমন্বিত বিবরণী, যা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং আধিকারিক প্রস্তুত করেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে পিটিআই-সহ বিরোধীরা এই শব্দটি ব্যবহার করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছে। বিলাওয়ালের অভিযোগ, পাঞ্জাব ও জাতীয় পরিষদের একাধিক আসনে পিএমএল-এন পরাজিত হলেও, রিটার্নিং আধিকারিকরা মিথ্যাভাবে দলটিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় এই কারচুপির ফলেই শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী এবং মরিয়ম নওয়াজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বিলাওয়াল দাবি করেছিলেন, দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমর্থনের কারণে তাঁর দল কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে। তবে পরে ইমরানের পিটিআইও অভিযোগ করে, তাদের নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেওয়া-সহ বিভিন্ন উপায়ে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদে তাদের জনগণের রায় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

    ‘এটা আপনার কথা নয়, ফর্ম-৪৭ কথা বলছে’

    বিলাওয়ালের বক্তব্যের আগেই মরিয়ম নওয়াজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পিপিপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “কারচুপির সূক্ষ্ম শিল্পে ওস্তাদ পিপিপি এখন অন্যায় হয়েছে বলে কান্নাকাটি করছে। প্রলয় কবে আসবে?” এর জবাবে পিপিপির শরজিল মেমন বলেন, “এটা আপনি বলছেন না, ফর্ম-৪৭ কথা বলছে। প্রলয় এসেছিল ২০২৪ সালে, যখন জনগণের রায় দান হিসেবে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।” বিলাওয়ালও পিএমএল-এনকে “কারচুপির ফসল” বলে আখ্যা দেন। নিজের দলের সঙ্গে পিএমএল-এনের তুলনা করে তিনি বলেন, পিপিপির রাজনৈতিক ইতিহাস তিন প্রজন্মের। তাঁর দাবি, “এমন একটি নির্বাচনও নেই, যেখানে পিএমএল-এন জনগণের ভোটে জিতেছে—সবসময় কারচুপির মাধ্যমে জিতেছে।”

    ‘কাশ্মীরের মানুষের রায় চুরি করতে দেওয়া হবে না’

    বিলাওয়াল প্রশ্ন করেন, “তারা কি মনে করে, কাশ্মীরে আমরা তাদের নির্বাচন কারচুপি করতে দেব?” তিনি আরও বলেন, “কাশ্মীরের মানুষ মাথা নত করবে না এবং কাউকে তাদের রায় চুরি করতে দেবে না।” মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে ইঙ্গিত করে বিলাওয়াল বলেন, “এটি মুজাফফরাবাদ, শ্রীনগর নয়।” তাঁর দাবি, বিরোধী পক্ষের কারচুপির চেষ্টা ব্যর্থ করতে তাঁর দল সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। তিনি আরও দাবি করেন, ৩০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯০ শতাংশ, অথচ অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। পিপিপি কর্মীদের উদ্দেশে বিলাওয়ালের প্রতিশ্রুতি, “আমি চুরি যাওয়া প্রতিটি ভোট ফিরিয়ে আনব”। তিনি বলেন, “আমি পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু আপনারা যদি নির্বাচন কারচুপি করে আমাদের রায় চুরি করতে চান, তাহলে আমি এই ফল মেনে নিতে পারি না।”

    সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের প্রস্তাব

    পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, “আমি এই প্রস্তাব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বা বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে দিচ্ছি না। আমি এটি দিচ্ছি সেই প্রতিটি কাশ্মীরির পক্ষ থেকে, যারা এই দু’পক্ষের কোনওটির সঙ্গে যুক্ত নন।” সরকার এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি—উভয় পক্ষকেই এই দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিলাওয়ালের প্রশ্ন, “আপনারা যদি সঠিক পথে থাকেন এবং সত্যের পক্ষে থাকেন, তাহলে কমিশন গঠন করছেন না কেন?”

    কাশ্মীরের অর্থনৈতিক সঙ্কট নিয়েও সরব বিলাওয়াল

    কাশ্মীরে কর্মসংস্থানের কথা পিপিপি কেন বলছে, তার ব্যাখ্যায় বিলাওয়াল বলেন, তাঁর দল এই অঞ্চলের “অর্থনৈতিক সঙ্কট” সম্পর্কে সচেতন। এরপরেও পিএমএল-এনকে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, দলটির অর্থনৈতিক দর্শন মূলত “ধনীদের আরও ধনী করা” নীতির ওপর নির্ভরশীল। বিলাওয়াল বলেন, “তারা আমাদের কটাক্ষ করে বলে, আমরা নাকি কাশ্মীরকে সিন্ধে পরিণত করতে চাই। না, আমি চাই কাশ্মীর কাশ্মীরই থাকুক এবং মানুষই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক।” তিনি আরও বলেন, “পাঞ্জাব, ইসলামাবাদ, খাইবার পাখতুনখোয়া, সিন্ধ বা বালুচিস্তান কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।” নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পিপিপি নেতা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সঙ্গে পাঞ্জাবের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ভূমিকার তুলনাও করেন তিনি।

     

  • Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ট্যাঙ্ক জেলায় যৌথ নিরাপত্তা চেকপোস্টে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় (TTP Attack) অন্তত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনাকর্মী, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে। হামলার এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার ভোরে।

    “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” (Pakistan)

    সেনাবাহিনীর তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি চালিয়েছে “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” নামে চিহ্নিত জঙ্গিরা। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে এই পরিভাষা ব্যবহার করে। এক সময় এই সংগঠনের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নরম মনোভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, সংগঠনটির বহু সদস্য আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী দেশগুলির সেনাদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল। সেই সময় পাক প্রশাসন তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখিয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছিল। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জঙ্গিরা প্রথমে যৌথ চেকপোস্টের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এবং দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের কারণে জঙ্গিদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনী ১৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করে।

    ভয়াবহ বিস্ফোরণ

    তবে প্রথম আক্রমণে ব্যর্থ হওয়ার পর জঙ্গিরা কৌশল পাল্টায়। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে তারা চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে চেকপোস্টের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বিস্ফোরণেই ১২ জন সেনাসদস্য, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক নিহত হন। পাক সেনাবাহিনী নিহতদের “শহিদ” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলার পর গোটা এলাকায় তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্য কোনও জঙ্গি আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি “আজম-ই-ইস্তেহকাম” কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত ফেডারেল শীর্ষ কমিটির অনুমোদিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা (Pakistan)। সেনাবাহিনীর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের সাহসী সেনাদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের অটল অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। যে কোনও মূল্যে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (TTP Attack)।”

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে

    এদিকে, গত সপ্তাহেও খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী বড়সড় অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে সংঘর্ষে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ২৪ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বান্নু জেলায় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের হামলার নেপথ্যে থাকা জঙ্গি এবং তাদের সহায়ক নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে যৌথ গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গোলাগুলির পর ২৪ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সেনাবাহিনী (Pakistan)। চলতি বছরের মে মাসেও বান্নু জেলার ফতেহ খেল পুলিশ পোস্টে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলায়ও বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি গিয়ে পুলিশ পোস্টে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। বর্তমান হামলার কৌশলের সঙ্গে সেই ঘটনার মিল রয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের অভিমত।

    একের পর এক জঙ্গি হামলা 

    গত এক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রদেশটি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী ধরনের কৌশল নেওয়া উচিত, তা নিয়ে কেন্দ্রের সরকার এবং প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। এই রাজনৈতিক বিভাজনও সন্ত্রাস দমনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা (TTP Attack)। গবেষণা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ২০২৫ সালের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় হিংসার মাত্রা গত বছর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে হিংসায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩১-এ। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় হামলার প্রধান লক্ষ্য থাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলে জঙ্গি দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান আরও জোরদার করেছে। তবে ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করছে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি এখনও উল্লেখযোগ্য সংগঠনগত সক্ষমতা ধরে রেখেছে (TTP Attack) এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Pakistan)।

     

  • India Slams Pakistan: জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসের ভরকেন্দ্র’ পাকিস্তানের দাবি ওড়াল ভারত

    India Slams Pakistan: জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ‘বিশ্ব সন্ত্রাসের ভরকেন্দ্র’ পাকিস্তানের দাবি ওড়াল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের এক বার বিশ্বমঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত পাকিস্তানের দাবি খারিজ করে দিল ভারত। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশ সাফ জানিয়ে দিল, জন্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ – এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই (India Slams Pakistan) দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ এবং চিরকাল একই থাকবে। প্রসঙ্গত, এদিন একটি (UNSC) বিতর্ক চলাকালীন পাকিস্তান ফের জন্মু-কাশ্মীর ইস্যুটি তুলে ধরেন। তার পরেই রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতনেনি এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানকে তিনি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রবিন্দু বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “ভারত ও ভারতের জনগণের ক্ষতি করার লক্ষ্যে পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চকে ক্রমাগত ব্যবহার করে চলেছে। তার আবেগগ্রস্ত মনোযোগ বজায় রেখেই চলেছে।”

    পাকিস্তানকে বার্তা (India Slams Pakistan)

    তিনি বলেন, “আজকের উন্মুক্ত বিতর্কে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ অযাচিতভাবে তোলা হয়েছে, যা ভারত ও তার জনগণের ক্ষতি সাধনে পাকিস্তানের আবেশগ্রস্ত মনোযোগেরই প্রমাণ।” পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব দিতে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন। তোলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের গ্রেফতারির প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন ইচ্ছেকে দমন করার একটি উপায়। ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে ইমরান খান জেলবন্দি রয়েছেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তাঁর পরিবার লাগাতারভাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর গ্রেফতারির সমালোচনাও করে আসছে।”

    প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে!

    পার্বতনেনি বলেন, “পাকিস্তান অবশ্যই তার জনগণের ইচ্ছেকে সম্মান করার একটি অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করে। একজন প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারে পাঠিয়ে, ক্ষমতাসীন (India Slams Pakistan) রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে এবং ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে তার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ঘটাতে দিয়ে, পাশাপাশি প্রধান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানকে আজীবন (UNSC) দায়মুক্ত করে।”

    সিন্ধু জলচুক্তি

    সিন্ধু জলচুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্তের সাফাই দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “পাকিস্তান বারবার এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, তিনটি যুদ্ধ চালিয়েছে এবং একাধিক জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে।” তিনি ২২ এপ্রিল পাহেলগাঁওয়ে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন, যেখানে ২৬ জন প্রাণ হারান। পার্বতনেনির বক্তব্য, পাকিস্তান এখনও সন্ত্রাসবাদে মদত জুগিয়ে চলেছে (India Slams Pakistan)। তিনি বলেন, “ভারত ৬৫ বছর আগে সদিচ্ছা, শুভকামনা ও বন্ধুত্বের মনোভাব নিয়ে সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। এই সাড়ে ছ’দশক ধরে পাকিস্তান তিনটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে এবং হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে চুক্তির মূল ভাবনাকেই লঙ্ঘন করেছে।” পার্বতনেনি বলেন, “এই প্রেক্ষাপটেই ভারত শেষ (UNSC) পর্যন্ত ঘোষণা করেছে যে, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত থাকবে ততদিন, যতদিন না বিশ্ব সন্ত্রাসের ভরকেন্দ্র পাকিস্তান বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে তার সমর্থন বন্ধ করে (India Slams Pakistan)।”

     

  • India Pakistan Conflict: সর্বক্ষণ ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরির অপচেষ্টা কট্টরপন্থী মুনিরের! বিস্ফোরক দাবি ইমরানের বোনের

    India Pakistan Conflict: সর্বক্ষণ ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরির অপচেষ্টা কট্টরপন্থী মুনিরের! বিস্ফোরক দাবি ইমরানের বোনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সর্বক্ষণ ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাত (India Pakistan Conflict) তৈরির অপচেষ্টা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir)। কট্টর ইসলামপন্থী আসিম মুনির ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) বোন আলিমা খান। কয়েক সপ্তাহ ধরে টালবাহানার পর অবশেষে মঙ্গলবার ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর বোন ডাক্তার উজমা খানুমকে দেখা করতে দেওয়া হয়। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ঢুকতে দেওয়া হয় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সর্বময় নেতা ইমরানের বোনকে। প্রাক্তন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী পাক ক্যাপ্টেন গত দুবছর ধরে আদিয়ালা জেলে বন্দি।

    আসিম মুনির কট্টরপন্থী 

    ইমরান খানের বোন আলিমা খানের অভিযোগ, জেনারেল আসিম মুনিরের ইসলামী কঠোর অবস্থান পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের পক্ষে কখনওই ভালো নয়। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর বোন আলিমা দাবি করেন, ইমরান খান একজন খাঁটি উদারপন্থী। তিনি চান ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিমা খান বলেন, ‘‘আসিম মুনির কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী। সেই কারণেই তিনি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। তাঁর কট্টর ইসলামিক চিন্তাধারা ও সংরক্ষণ মনোভাবই তাঁকে জোর করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, যারা ইসলামে বিশ্বাস করে না।’’

    ইমরান খান স্বাধীন চিন্তাধারার

    অন্যদিকে ইমরান খান স্বাধীন চিন্তাধারার। যখন ইমরান খান ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তাঁর বোন। তিনি বলেন, ‘‘ইমরান খান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলেন। এমনকী বিজেপির সঙ্গেও। যখনই আসিম মুনিরের মতো মৌলবাদী ক্ষমতায় থাকবেন, তখন ভারতের সঙ্গে তো যুদ্ধ করতে চাইবেনই। এমনকী ভারতের বন্ধু দেশগুলিও ভুগবে।’’ পাশাপাশি ইমরান খানকে পাকিস্তানের ‘সম্পদ’ বলে অভিহিত করেন আলিমা। তিনি বলেন, “ইমরান খান এই দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। দেশের এমন একজন প্রতিনিধিকে কীভাবে কারাগারে রাখা যায়?” তিনি আরও বলেন করেন, “আসলে তারা পাকিস্তানের জনগণকে দমন করতে চায়। তারা জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে দিতে চায় না, আর জনগণ ইমরান খানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভেবেছিল, যদি তাকে আলাদা করে রাখা যায়, তাহলে মানুষ তাকে ভুলে যাবে।”

    দেশের জন্য বিপজ্জনক

    পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘দেশের জন্য বিপজ্জনক’ বললেন পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ক্রিকেটের মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে নামা ইমরান বলেন, মুনির ইচ্ছাকৃত ভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়াচ্ছেন। ৭৩ বছর বয়সি ইমরান এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘আসিম মুনিরের নীতি পাকিস্তানের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে। ওঁর নীতির জন্য সন্ত্রাস এ ভাবে বাড়ছে। দেখে কষ্ট লাগে। পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছু করায় ওঁর কোনও আগ্রহ নেই। উনি পশ্চিমের শক্তিদের তুষ্ট করতে চান। আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়াচ্ছেন, যাতে গোটা বিশ্বকে দেখাতে পারেন উনি ‘মুজাহিদ’ (ইসলামিক যোদ্ধা)।’’ মুনিরকে ‘মানসিক অসুস্থ’ও বলেছেন ইমরান। তাঁর কথায়, ‘‘মুনিরের নৈতিক শূন্যতা পাকিস্তানের সাংবিধানিক আইনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’’

    ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ ইমরান

    ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিককের মুখোমুখি হয়ে তাঁর অপর বোন উজমা খানুম বলেন, ‘‘ঈশ্বরের কৃপায় ও সুস্থ আছে…কিন্তু ওঁর উপরে চলা মানসিক অত্যাচার নিয়ে ক্ষুব্ধ। সারাদিন সেলে বন্দি করে রাখা হয় ওঁকে…খুব অল্প সময়ের জন্যই সেল থেকে বেরতে পারে, কারোর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয় না।’’ জেলবন্দি ইমরান খান পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকেই দুষেছেন দেশের বর্তমান অবস্থার জন্য। ইমরানের দাবি আসিম মুনির পাক সেনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছেন। এমনকী, সংবিধানে পরিবর্তন করে নিজেকে এবং সমস্ত সেনা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে আজীবন সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।

    ইমরানের উপর মানসিক অত্যাচার

    ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিগত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ-জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রায় এক মাস ধরে ইমরানের সঙ্গে পরিবারের কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অবশেষে মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় তাঁর বোন উজমাকে। তিনি বলেন যে ইমরান বেঁচে থাকলেও, তাঁর উপরে মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছে। উজমা বলেন, ‘‘ইমরান খান বলেছেন যে তাঁর কারও সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই, এমনকী তিনি কারও সঙ্গে দেখাও করেননি। তিনি বলেছেন যে তারা তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছে। তিনি ক্রুদ্ধ এবং বলেছেন যে যা কিছু ঘটছে তার জন্য আসিম মুনির দায়ী।’’

LinkedIn
Share