Tag: Income Tax Deadline AY 2026-27

  • ITR Filing 2026: ৩১ জুলাই আয়কর রিটার্ন ফাইলের শেষ তারিখ, দেরি হলেই বাড়তে পারে জরিমানা-করের বোঝা!

    ITR Filing 2026: ৩১ জুলাই আয়কর রিটার্ন ফাইলের শেষ তারিখ, দেরি হলেই বাড়তে পারে জরিমানা-করের বোঝা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেরি করলেই গুণতে হবে মাশুল। এই ভুল ভুলেও করবেন না। দ্রুত এগিয়ে আসছে আয়কর রিটার্ন (ITR Filing 2026) জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। বেতনভোগী এবং কর নিরীক্ষার আওতার বাইরে থাকা অধিকাংশ করদাতার জন্য ৩১ জুলাই-ই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে পরে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, সেক্ষেত্রে জরিমানা, বকেয়া করের ওপর সুদ এবং ভবিষ্যতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা হারানোর আশঙ্কা থাকে। তাই অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে সময়সীমার মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া উচিত।

    কার জন্য কোন শেষ তারিখ?

    করদাতার আয়ের ধরন ও ট্যাক্স অডিটের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার (ITR Filing 2026) শেষ তারিখ আলাদা।

    • ITR-1 ও ITR-2: বেতনভোগী ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF), যাঁরা ট্যাক্স অডিটের আওতায় নন – ৩১ জুলাই ২০২৬
    • ITR-3 (নন-অডিট): ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের করদাতা (অডিট প্রযোজ্য নয়) – ৩১ অগাস্ট ২০২৬
    • ITR-4 (নন-অডিট): প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন ব্যবস্থার যোগ্য করদাতা (অডিট প্রযোজ্য নয়) – ৩১ অগাস্ট ২০২৬
    • ITR-3 (ট্যাক্স অডিট): ব্যবসা বা পেশাগত আয়ের করদাতা (অডিট প্রযোজ্য) – ৩১ অক্টোবর ২০২৬
    • ITR-4 (ট্যাক্স অডিট): প্রিজাম্পটিভ ট্যাক্সেশন ব্যবস্থার করদাতা, যেখানে অডিট প্রযোজ্য – ৩১ অক্টোবর ২০২৬
    • ট্রান্সফার প্রাইসিং সংক্রান্ত করদাতা: ৩০ নভেম্বর ২০২৬
    • বিলম্বিত রিটার্ন (Belated Return): ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত
    • সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return): ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত
    • আপডেটেড রিটার্ন (Updated Return): সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন বর্ষ শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৪৮ মাস পর্যন্ত, নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে।

    সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়া কেন জরুরি?

    সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) জমা দিলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা পাওয়া যায়। বিশেষ করে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যদি কেউ শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্য কোনও মূলধনী সম্পদ বিক্রি করে ক্যাপিটাল লস করে থাকেন, তাহলে সেই ক্ষতি ভবিষ্যতের মূলধনী লাভের সঙ্গে সমন্বয় (Set-off) করার সুযোগ থাকে। এই ক্ষতি সর্বোচ্চ ৮টি মূল্যায়ন বর্ষ পর্যন্ত বহন করা যায়। তবে এই সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে ভবিষ্যতে মূলধনী লাভের ওপর কর কমানোর এই সুযোগ হারাতে হতে পারে। তবে বাড়ির সম্পত্তি (House Property) থেকে হওয়া ক্ষতির ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। আয়কর আইনের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দিলেও সেই ক্ষতি বহন করার সুযোগ থাকতে পারে।

    দেরি করলে কত জরিমানা?

    নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে আইনে নির্ধারিত জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে। আয়কর আইন, ধারা ২৩৪এফ অনুযায়ী- সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিলম্ব ফি। যদি মোট আয় ৫ লাখের বেশি না হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা জরিমানা। ধারা ২৩৪এ অনুযায়ী- বকেয়া করের ওপর প্রতি মাস বা মাসের অংশের জন্য ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে এই সুদ তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন টিডিএস (TDS), অগ্রিম কর (Advance Tax) ও অন্যান্য কর-ছাড় সমন্বয়ের পরও কর বকেয়া থাকে।

    বিলম্বিত রিটার্ন ও সংশোধিত রিটার্নের পার্থক্য

    যাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেননি, তাঁরা বিলম্বিত রিটার্ন (Belated Return) জমা দিতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁরা ইতিমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন কিন্তু পরে কোনও ভুল বা তথ্য বাদ পড়েছে বলে বুঝতে পেরেছেন, তাঁরা সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return) জমা দেওয়ার সুযোগ পান। তবে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা ও সুদ দিতে হতে পারে এবং ক্যাপিটাল লস বহন করার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধাও হারাতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

LinkedIn
Share