Tag: Independence Day 2026

  • Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    Bankim Chandra: ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কে সোনিয়াকে চিঠি বঙ্কিমচন্দ্রের বংশধরের, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’ সম্পূর্ণ গাওয়া নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বংশধর তথা পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক বিজেপির সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণা প্রকাশ করে তিনি সোনিয়ার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সুমিত্র ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নৈহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন। চিঠিতে সুমিত্র অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা থামানোর চেষ্টা আসলে “ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি”। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ গাওয়ার সময় কংগ্রেস কর্মীদের থামানোর বারবার চেষ্টা তাঁকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ (Bankim Chandra)

    সুমিত্রর কথায়, “আজ, ১৫ আগস্ট ২০২৬, স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষপূর্তির এই পবিত্র সকালে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ ভারতমাতাকে শ্রদ্ধা জানাতে নিবেদিত, তখন সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সদর দফতরে যা ঘটেছে, তা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বরং ঐতিহাসিক ভুলের নির্লজ্জ পুনরাবৃত্তি।” তিনি এও বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ কংগ্রেস কর্মীরা যখন গাইছিলেন, তখন তাঁদের অস্বস্তি, অসন্তোষ এবং বারবার থামানোর চেষ্টা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক, দেশপ্রেমিক এবং সর্বোপরি ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সরাসরি বংশধর হিসেবে গভীর বেদনা, শূন্যতা ও যন্ত্রণা নিয়ে আমি এই চিঠি লিখছি।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লিগের অধিবেশনে মহম্মদ আলি জিন্নার ‘বন্দে মাতরম’-কে মুসলিমবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, সেই আপত্তির জেরে কংগ্রেস সরকারি অনুষ্ঠানে গানটির প্রথম দু’টি প্রকৃতিবন্দনামূলক স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই আপসের ছায়া এখনও কংগ্রেসের মতাদর্শ ও আচরণে দেখা যায়।

    দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়

    চিঠিতে সুমিত্র লেখেন, “ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, আপনাদের কথিত দ্বিচারিতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৩৭ সালের অক্টোবরে আপনারাও মহম্মদ আলি জিন্নার অযৌক্তিক আপত্তির কাছে নতিস্বীকার করে এই চিরন্তন দেশাত্মবোধক গানকে খণ্ডিত করেছিলেন। সেই আপসের ছায়া এখনও আপনাদের মতাদর্শে দৃশ্যমান এবং আজ আপনাদের আচরণে তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।” ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগেও আঘাত লেগেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আজকের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আবেগ গভীরভাবে আহত হয়েছে। বিষয়টি আপনাকে জানানো আমার নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করি।” সোনিয়ার উদ্দেশে তাঁর আবেদন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের বংশধর হিসেবে অত্যন্ত বিনীত কিন্তু দৃঢ় ভাষায় আমি আপনাকে আত্মসমালোচনা করে আমার সমস্ত দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে, আপনার আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। যে নেতৃত্ব নিজের স্বাধীনতার মন্ত্রকেই সম্মান করতে ব্যর্থ হয়, ইতিহাসে তাঁর স্থান বিস্মৃতির অন্ধকারে।”

    অমিত মালব্যর অভিযোগ

    এর আগে বিজেপি নেতা অমিত মালব্য অভিযোগ করেছিলেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ পরিবেশনা বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীতের প্রথম স্তবকগুলি গাওয়ার পর সোনিয়া “অসন্তুষ্ট” হয়ে তা থামানোর কথা বলেছিলেন। রাহুলও (গান্ধী) গান শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন মালব্য। তবে পরে তাঁদের জানানো হয় যে গানটি চলবে এবং শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ পূর্ণাঙ্গ পরিবেশন করা হয়। এই ঘটনার নিন্দা করে মালব্য অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস ও সভ্যতাগত শিকড়ে প্রতিষ্ঠিত ভারতের ধারণার সম্পর্ক বরাবরই অস্বস্তিকর। ঘটনা প্রসঙ্গে সুমিত্র বলেন, “তাঁর কাজ সত্যিই লজ্জাজনক। এটি দেশের প্রতি অপমান। গোটা ভারত এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রতি অপমান। আমার গোটা পরিবার এতে ব্যথিত হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, এত বছর ভারতে বসবাস করেও সোনিয়া গান্ধী তাঁর ইতালীয় সংস্কৃতিকে ভুলতে পারেননি।”

    সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি

    তিনি জানান, বিষয়টি জানিয়ে সরাসরি সোনিয়াকে ই-মেলে চিঠি পাঠিয়েছেন এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও তার প্রতিলিপি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দেখা যাক, তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন কি না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ভারতের রাষ্ট্রপতি বা অন্য কোনও সরকারি আধিকারিককে তিনি চিঠি দেননি, যাঁকে এই ঘটনার জন্য দায়ী মনে করেছেন, তাঁকেই সরাসরি জানিয়েছেন এবং দলের প্রধানকে প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন।

     

  • Independence Day 2026: স্বাধীনতার লড়াইয়ে যাঁরা জাগিয়েছিলেন দেশ, তাঁদের সেরা ১২ বাণী

    Independence Day 2026: স্বাধীনতার লড়াইয়ে যাঁরা জাগিয়েছিলেন দেশ, তাঁদের সেরা ১২ বাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৫ অগাস্ট ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই দীর্ঘ প্রায় দুই শতকের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ভারত। সেই স্বাধীনতা সহজে আসেনি। অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম, কারাবরণ এবং রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে দেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতা দিবসের সকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাতীয় পতাকা উত্তোলন থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের। তাঁদের লড়াই শুধু একটি পরাধীন দেশকে মুক্ত করার জন্য ছিল না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক ভারত গড়ার স্বপ্নও ছিল। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে সেইসব বীরের কিছু অমর উক্তি আজও নতুন করে দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করে।

    একনজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁদের সেই বাণী—

    ভগৎ সিং

    “স্বাধীনতা মানুষের অবিচ্ছিন্ন অধিকার। ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে, কিন্তু আমার বিশ্বাস, আমার চিন্তাকে ওরা কখনও মারতে পারবে না।”

    মহাত্মা গান্ধী

    “প্রথমে তারা তোমাকে উপেক্ষা করবে, তারপর তোমাকে দেখে হাসবে। তারপরে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। শেষে কিন্তু জয় তোমারই হবে।”

    জওহরলাল নেহরু

    “পুঁজিবাদী সমাজের শক্তিগুলিকে যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে ধনীরা আরও ধনী এবং দরিদ্ররা আরও দারিদ্রতার স্বীকার হবে।”

    ভীম রাও আম্বেদকর

    “কোনও সম্প্রদায়ের অগ্রগতি আমি সেই সম্প্রদায়ের নারীর অগ্রগতির নিরিখে পরিমাপ করি।”

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

    “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কিংবদন্তি বিপ্লবী চন্দ্রশেখর আজাদের কণ্ঠেও ধ্বনিত হয়েছিল অদম্য আত্মবিশ্বাস—

    চন্দ্রশেখর আজাদ

    “দুশমন কি গোলিও কা হাম সামনা করেঙ্গে / আজাদ হি রহে হ্যায়, আজাদ হি রহেঙ্গে।”

    দেশের ঐক্য ও নাগরিকের অধিকার-কর্তব্য নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল।

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল

    “এদেশের সমস্ত নাগরিককে মনে রাখতে হবে যে তারা ভারতীয় এবং এই দেশে তাদের সমস্ত অধিকার রয়েছে, সমস্ত কর্তব্যও রয়েছে।”

    বিপ্লবীদের মুখে দেশমাতৃকার জন্য আত্মত্যাগের যে অঙ্গীকার শোনা যেত, তারই প্রতিধ্বনি রয়েছে রামপ্রসাদ বিসমিলের বিখ্যাত পংক্তিতে—

    রামপ্রসাদ বিসমিল

    “সরফরোশি কি তমন্না অব হামারে দিল মে হ্যায় / দেখনা হ্যায় জোর কিতনা বাজু-ই-কাতিল মে হ্যায়”

    স্বরাজের দাবিকে সাধারণ মানুষের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে বাল গঙ্গাধর তিলকের বিখ্যাত উক্তি আজও স্মরণীয়।

    বাল গঙ্গাধর (লোকমান্য) তিলক

    “স্বরাজ আমার জন্মগত অধিকার এবং আমি সেটা অর্জন করবই।”

    নারী জাগরণ, শিক্ষা এবং সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রশ্নেও স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গিয়েছেন। সরোজিনী নাইডুর কথায় উঠে এসেছিল সেই প্রত্যয়ের কথা।

    সরোজিনী নাইডু

    “আমরা গভীর আন্তরিকতা, বক্তৃতায় আরও সাহস এবং কর্মে আন্তরিকতা চাই।”

    অল্প বয়সেই দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম বসু। মৃত্যুকে ভয় না পাওয়ার সেই অদম্য মানসিকতার পরিচয় মেলে তাঁর কথায়—

    ক্ষুদিরাম বসু

    “আমি গীতাপাঠ করেছি। আমার মৃত্যুভয় নেই।”

    স্বাধীনতা সংগ্রামের আর এক অগ্নিযুগের বিপ্লবী ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন। তাঁর আহ্বানে ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প—

    মাস্টারদা সূর্য সেন

    “লক্ষ্যে পোঁছানোর আগে মৃত্যুর হিমশীতল তোমাদের স্পর্শ করলে তোমরা অনুগামীদের হাতে এই অন্বেষণ এর ভার তুলে দেবে-যেমন আমি তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। প্রিয় বন্ধুরা-এগিয়ে চল-কখনও পিছিয়ে যেও না। ওই দেখা যাচ্ছে স্বাধীণতার নবারুণ। উঠে-পড়ে লাগো। কখনও হতাশ হয়ো না। সাফল্য আমাদের সুনিশ্চিত।”

    স্বাধীনতার স্বপ্ন শুধু রাজনৈতিক মুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে ভয় থাকবে না, জ্ঞান হবে মুক্ত এবং মানুষের চিন্তা ও কর্ম কোনও সংকীর্ণতার মধ্যে আবদ্ধ থাকবে না। তাঁর ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার সেই অমর প্রার্থনা আজও স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ মনে করিয়ে দেয়—

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
    জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
    আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
    বসুধারে রাখে নাই খণ্ড ক্ষুদ্র করি,
    যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
    উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
    দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
    অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়,
    যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
    বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
    পৌরুষেরে করে নি শতধা, নিত্য যেথা
    তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা,
    নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ;
    ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত॥”

    উন্নত ভারতের স্বপ্নের প্রতীক

    স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে এই বাণীগুলি তাই শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায় থাকা কিছু উক্তি নয়। এগুলি আত্মত্যাগ, সাহস, অধিকার, কর্তব্য, ঐক্য এবং একটি উন্নত ভারতের স্বপ্নের প্রতীক। জাতীয় পতাকার তলায় দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের আদর্শকে মনে রাখাই হতে পারে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অন্যতম সার্থকতা।

  • Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    Independence Day 2026: আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, ১৮৫৭-র বিদ্রোহ থেকে লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা, ফিরে দেখা সংগ্রামের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১৫ অগাস্ট। স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল ভারত। স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিন। দিল্লির লালকেল্লা থেকে দেশের প্রত্যন্ত প্রান্ত—জাতীয় পতাকার রঙে সেজে উঠেছে ভারত। স্বাধীনতা অর্জনের এই পথ অবশ্য সহজ ছিল না। বহু আন্দোলন, বিদ্রোহ, আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এসেছে ১৯৪৭-এর ১৫ অগাস্ট। আজকের দিনে তাই ফিরে দেখা যাক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

    ১৮৫৭-র বিদ্রোহ: স্বাধীনতার প্রথম বড় স্ফুলিঙ্গ

    ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইতিহাসে এটি সিপাই বিদ্রোহ বা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবেও পরিচিত। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ দ্রুত বিস্তৃত আকার নেয়। মঙ্গল পাণ্ডে, বাহাদুর শাহ জাফর, রানি লক্ষ্মীবাই, নানা সাহেব-সহ বহু নেতা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। উত্তর ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে বিদ্রোহের আগুন।

    স্বদেশি আন্দোলন: বিদেশি পণ্য বর্জনের ডাক

    ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে স্বদেশি ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিদেশি পণ্য বর্জন করে দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয় দেশবাসীকে। বিশেষ করে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনের সময় স্বদেশি আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পায়। বাল গঙ্গাধর তিলকের মতো নেতারা দেশীয় শিল্প ও পণ্যের প্রসারে জোর দেন। স্বদেশি ভাবনা পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

    ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন

    স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলন। ১৯৪২ সালের ৮ অগাস্ট বম্বেতে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের উদ্দেশে ওঠে ‘ভারত ছাড়ো’ স্লোগান। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে অবিলম্বে স্বাধীনতা অর্জন। দেশজুড়ে ব্যাপক গণআন্দোলন শুরু হয় এবং বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী গ্রেফতার হন।

    ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা থেকে আজকের তেরঙা

    স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপ একদিনে তৈরি হয়নি। ১৯০৬ সালের ৭ অগাস্ট কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। সেই পতাকায় ছিল সবুজ, হলুদ ও লাল রং। পরবর্তীতে জাতীয় পতাকার নকশায় একাধিক পরিবর্তন আসে। ১৯২১ সালে পিঙ্গালি বেঙ্কাইয়া তেরঙার নকশা উপস্থাপন করেন। বর্তমান জাতীয় পতাকায় রয়েছে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রং এবং মাঝখানে ২৪টি কাঁটাযুক্ত নীল অশোকচক্র। ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই সংবিধান সভা ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান নকশা গ্রহণ করে। স্বাধীনতার পর ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় প্রথমবার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু।

    ‘জনগণমন’ কীভাবে জাতীয় সঙ্গীত হল?

    ভারতের স্বাধীনতার সময় কোনও আনুষ্ঠানিক জাতীয় সঙ্গীত ছিল না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১১ সালে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ রচনা করেন। পরবর্তীতে এর প্রথম স্তবক ‘জনগণমন’ নামে পরিচিত হয়। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘জনগণমন’-কে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গ্রহণ করে।

    জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস

    স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ গানটি রচনা করেন। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধান সভা ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    র‌্যাডক্লিফ লাইন ও দেশভাগ

    স্বাধীনতার সঙ্গে ভারতীয় ইতিহাসে যুক্ত হয়ে আছে দেশভাগের গভীর বেদনা। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফকে। পাঞ্জাব ও বাংলা ভাগের সীমারেখা নিয়ে কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৭ সালের ১৭ অগাস্ট তা প্রকাশ্যে আসে। স্বাধীনতার মাত্র দু’দিন পর প্রকাশিত সেই সীমারেখা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও বাসস্থানকে বদলে দেয়।

    ১৫ অগাস্ট ১৯৪৭: স্বাধীন ভারতের জন্ম

    অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন—১৫ অগাস্ট, ১৯৪৭। দীর্ঘ ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারত। একই সঙ্গে দেশভাগের ফলে জন্ম নেয় পাকিস্তান। ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন প্রথমে ১৯৪৮ সালের ৩০ জুন ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় এগিয়ে আনা হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা অর্জন করে ভারত।

    লালকেল্লায় প্রথম তেরঙা উত্তোলন

    স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট দিল্লির লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীনতার প্রথম প্রভাতে জাতির উদ্দেশে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তিনি। সেই ভাষণে নেহরুর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীন ভারতের নতুন যাত্রার প্রত্যয়—“গোটা পৃথিবী যখন ঘুমোচ্ছে, তখন ভারত জাগবে নতুন জীবন ও স্বাধীনতা নিয়ে।” আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে সেই আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও স্বপ্নকেই ফের স্মরণ করছে দেশ। স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু অতীতের একটি অধ্যায় নয়— এটি ভারতীয় গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় চেতনার ভিত্তি।

  • Independence Day 2026: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তুলছেন? জেনে নিন তেরঙা ব্যবহারের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি

    Independence Day 2026: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা তুলছেন? জেনে নিন তেরঙা ব্যবহারের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে আজ ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আবহ। শহর থেকে গ্রাম, আবাসন থেকে ক্লাব, সরকারি দফতর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সর্বত্রই জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা দিবস। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির হাত ধরে গত কয়েক বছর ধরে বাড়ি বাড়িও পৌঁছেছে জাতীয় পতাকার আবেগ।

    তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুধু উৎসবের বিষয় নয়। দেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম ও মর্যাদাবিধি। Flag Code of India এবং জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মান সংক্রান্ত নির্দেশিকায় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধি রয়েছে। ফলে স্বাধীনতা দিবসে তেরঙা উত্তোলনের আগে জেনে রাখা জরুরি—কী করা যায় এবং কোন কাজগুলি জাতীয় পতাকার মর্যাদার পরিপন্থী।

    বাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলতে পারবেন?

    হ্যাঁ। সাধারণ নাগরিক নিজের বাড়ি, অফিস, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থলেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা যায়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় তার মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়টি সর্বাগ্রে রাখতে হবে। পতাকা যেন কোনওভাবেই মাটিতে না পড়ে বা মেঝেতে স্পর্শ না করে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।

    জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন

    • ১. তেরঙার সঠিক দিক বজায় রাখতে হবে
      জাতীয় পতাকা কখনও উল্টো করে উত্তোলন করা যাবে না। অনুভূমিকভাবে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে গেরুয়া রং থাকবে উপরে, সাদা মাঝখানে এবং সবুজ নীচে।
    • ২. পতাকার মর্যাদা সর্বোচ্চ
      জাতীয় পতাকা দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও গৌরবের প্রতীক। তাই পতাকা উত্তোলন বা প্রদর্শনের সময় যথাযথ সম্মান বজায় রাখা আবশ্যিক।
    • ৩. পতাকা যেন মাটিতে না লাগে
      জাতীয় পতাকা কখনও মাটিতে, মেঝেতে বা জলে পড়ে থাকা অবস্থায় রাখা যাবে না। উত্তোলন, নামানো এবং সংরক্ষণের সময়ও পতাকার যাতে কোনও অসম্মান না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    • ৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব
      স্কুল-কলেজে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও দেশাত্মবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচি পালন করা হয়। শিক্ষার্থীদের শপথ পাঠের মতো কর্মসূচিও স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের অংশ হতে পারে।
    • ৫. পতাকা যেন অন্য কোনও পতাকার তুলনায় নিচে না থাকে
      জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ও মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। অন্য কোনও পতাকা বা প্রতীকের তুলনায় তেরঙাকে অসম্মানজনক অবস্থানে রাখা যাবে না।

    জাতীয় পতাকা দিয়ে পোশাক বা টেবিল ক্লথ? একেবারেই নয়

    জাতীয় পতাকাকে পোশাক, ইউনিফর্মের অংশ, টেবিল ক্লথ, রুমাল বা সাজসজ্জার সাধারণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। একইভাবে তেরঙাকে কোনও ফেস্টুন বা এমন কোনও অলঙ্করণে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে জাতীয় পতাকার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।জাতীয় পতাকার ওপর কোনও লেখা, স্লোগান, ছবি বা নকশা আঁকা বা ছাপানোও করা যাবে না।

    পতাকার উপরে ফুল-মালা বা অন্য বস্তু রাখা যাবে না

    জাতীয় পতাকার উপরে ফুল, মালা কিংবা অন্য কোনও বস্তু রাখা যাবে না। পতাকাকে এমন কোনও কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়, যাতে সেটি অন্য কোনও বস্তু বহন করার মাধ্যম হয়ে যায়।

    ছেঁড়া বা নষ্ট পতাকা ব্যবহার নয়

    স্বাধীনতা দিবসের আবেগে অনেক বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। কিন্তু সেই পতাকা ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা আগে দেখে নেওয়া জরুরি। ছেঁড়া, নোংরা বা ক্ষতিগ্রস্ত জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা উচিত নয়।

    ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া জাতীয় পতাকাকেও যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে নিষ্পত্তি করতে হবে।

    জাতীয় পতাকার সঙ্গে কোনও ধরনের অসম্মান নয়

    তেরঙার উপর পা দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে ফেলে রাখা, মেঝেতে টেনে নিয়ে যাওয়া কিংবা অন্য কোনওভাবে অবমাননা করা সম্পূর্ণ অনুচিত। স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের মধ্যেও জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাধীনতা দিবসের উৎসব হোক, কিন্তু মর্যাদা বজায় রেখেই

    জাতীয় পতাকা শুধু তিনটি রঙের কাপড় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস, অসংখ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগ এবং ভারতীয়দের জাতীয় পরিচয়। তাই ১৫ অগাস্ট বাড়ির ছাদে, স্কুলে, ক্লাবে কিংবা কর্মস্থলে তেরঙা উত্তোলনের সময় উৎসবের পাশাপাশি তার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও প্রত্যেক নাগরিকের। মনে রাখুন—স্বাধীনতা দিবসে তেরঙা উত্তোলন যেমন গর্বের, তেমনই সেই তেরঙার সম্মান রক্ষা করাও প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব।

  • Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    Independence Day: স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট, ১৯ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির পোস্টার প্রকাশ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে। ১৫ অগাস্টকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই মধ্যে আমজনতাকে সতর্ক করতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় ১৯ জন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গির ছবি ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য-সহ পোস্টার লাগানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আবেদনও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, পোস্টারে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, আল-কায়দা এবং বিভিন্ন খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ওয়ান্টেড জঙ্গির ছবি রয়েছে। তাঁদের সন্ধান পেতে তথ্য দিলে উপযুক্ত পুরস্কারের কথাও জানানো হয়েছে।

    কোন কোন জঙ্গি পুলিশের নজরে?

    দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত তালিকায় ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত রিয়াজ ভাটকল এবং শাবানদ্রি মহম্মদ ইকবাল ওরফে ইকবাল ভাটকলের নাম রয়েছে। আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত মহম্মদ শারজিল আখতার, আবু সুফিয়ান এবং সৈয়দ মহম্মদ আরশিয়ান-এর ছবিও পোস্টারে রাখা হয়েছে। খালিস্তানি জঙ্গিদের মধ্যে খালিস্তান জিন্দাবাদ ফোর্স (KZF)-এর সঙ্গে যুক্ত রঞ্জিত সিং ওরফে নীতা এবং পরমজিৎ সিং পাম্মা-র নাম রয়েছে। এছাড়াও খালিস্তান টাইগার ফোর্স (KTF)-এর সঙ্গে যুক্ত আরশদীপ সিং ওরফে আরশ ডালা-র ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (BKI)-এর সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত হরবিন্দর সিং সান্ধু ওরফে রিন্ডা, ওয়াধাওয়া সিং বাব্বর এবং গুরমিত সিং বাগ্গা-র নামও রয়েছে পুলিশের প্রকাশিত তালিকায়।

    কেন পোস্টার লাগানো হলো?

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে এ ধরনের পোস্টার সাঁটানো নতুন নয়। ১৫ অগeস্ট ও ২৬ জানুয়ারির মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার অংশ হিসেবেই সাধারণত সন্দেহভাজন বা ওয়ান্টেড জঙ্গিদের ছবি জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। এ বারও দিল্লি পুলিশের লক্ষ্য, ওই ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে থাকলে তা দ্রুত নিরাপত্তা সংস্থার কাছে পৌঁছনো। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহজনক কোনও ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। তবে, পুলিশের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য শুধু নজরদারি বাড়ানো নয়, সাধারণ মানুষকেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা। পুলিশ সূত্রে খবর, স্বাধীনতা দিবসে হামলার আশঙ্কায় দিল্লি জুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর আসার পরই স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হল।

    সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি

    স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না দিল্লি পুলিশ। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, জনবহুল বাজার, ধর্মীয় স্থান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও আরও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা গতিবিধির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরে নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে দিল্লি মেট্রোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় বাড়িয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি দেশের পশ্চিম সীমান্তেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

    রেড ফোর্টে বিশেষ নজর

    স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান হবে দিল্লির লালকেল্লায়। সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ফলে লালকেল্লা ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার অন্তত ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ কর্মীকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং জনবহুল এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে দিল্লি পুলিশ প্রথম বারের মতো তাদের ‘ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমে’র পাশাপাশি ‘অভিজ্ঞান অ্যাপ’ ব্যবহার করবে। উত্তর দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) রাজা বানথিয়া বলেছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই নিরাপত্তার প্রস্তুতি চলছে এবং এতে দিল্লি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীরা অংশ নেবেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভিডিয়ো অ্যানালিটিক্স এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ব্যবস্থা দূর থেকে মুখাবয়ব চিহ্নিত করতে পারে।

    সাধারণ মানুষকে পরামর্শ

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল জায়গায় কোনও পরিত্যক্ত ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখা গেলে সেটি স্পর্শ না করে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টারে থাকা ওয়ান্টেড ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য কারও কাছে থাকলে তা নিরাপত্তা সংস্থাকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। ১১২ নম্বরে ফোন করে তথ্য দেওয়া যাবে। এছাড়াও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রদানকারীকে উপযুক্ত পুরস্কার দেওয়া হবে এবং তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

LinkedIn
Share