Tag: India-Bangladesh Relations

  • Dinesh Trivedi: বাংলাদেশে ভারতের নয়া হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী! সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    Dinesh Trivedi: বাংলাদেশে ভারতের নয়া হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী! সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা ব্যারাকপুরের সাংসদ বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে (Dinesh Trivedi) বাংলাদেশে (Bangladesh) পাঠানো হচ্ছে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে। দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী দেশে এই প্রথম রাজনৈতিক নিয়োগ হিসেবে ত্রিবেদী দায়িত্ব নেবেন। তিনি পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। প্রণয়কে পাঠানো হচ্ছে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে। ঢাকার তারেক রহমান সরকারের কাছ থেকে ত্রিবেদীর জন্য সম্মতি চাওয়া হবে। বছর পঁচাত্তরের অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত বিদেশমন্ত্রকের কূটনীতিকদের জন্যও একটি বার্তা দেয়।

    ত্রিবেদীর অভিজ্ঞতা (Dinesh Trivedi)

    ইউপিএ আমলে ত্রিবেদী রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল ছাড়েন, যোগ দেন বিজেপিতে। বস্তুত, ত্রিবেদীর এই নিয়োগ এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত ও বাংলাদেশ মহঃ ইউনূস জমানার সঙ্কটের পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার অপসারণের পর সংঘটিত অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে, সেনাবাহিনী ও পুলিশ আন্দোলনকারীদের (Dinesh Trivedi) ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করেছিল।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

    মার্কিন সমর্থিত ইউনূসের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সংখ্যালঘুদের (হিন্দু-সহ আরও কয়েকটি ধর্ম) বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হিংসায় লাগাম টানতে ব্যর্থ হয় তাঁর সরকার। দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগ থেকে এটা স্পষ্ট যে, মোদি সরকার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলিতে রাজনৈতিক নেতাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠাতে আপত্তি করছে না, এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি আর শুধুমাত্র ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার কর্তাদের জন্য সংরক্ষিত নয় (Bangladesh)। এর আগে প্রাক্তন সেনাপ্রধান দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীর ঢাকায় নিয়োগ এই ইঙ্গিত দেয় যে, ভারত এখন প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের দূত হিসেবে পাঠাবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর ফলে অন্তত ভারতীয় উপমহাদেশে শুধু ভালো সময়ের রাষ্ট্রদূত পাঠানোর যুগ শেষ হয়ে এসেছে (Dinesh Trivedi)।

  • Bangladesh India Relation: শেষমেশ ঢোক গিলল বাংলাদেশ, তুলে নিল আইপিএল সম্প্রচারের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা

    Bangladesh India Relation: শেষমেশ ঢোক গিলল বাংলাদেশ, তুলে নিল আইপিএল সম্প্রচারের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের শুরুতেই আসন্ন মরশুমের জন্য আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। শনিবার সেই সার্বিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার (IPL 2026)। শনিবার (Bangladesh India Relation) সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন।

    বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত (Bangladesh India Relation)

    এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এর আগে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও ক্রিকেট সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। ২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হওয়ার প্রাক্কালে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশে আবারও সম্প্রচারকারী সংস্থা এবং দর্শকরা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় টি২০ লিগ উপভোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশ আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করেছিল পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে লিগ থেকে বাদ দেওয়ার পর। মুস্তাফিজুরকে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯.২০ কোটি টাকায় কিনেছিল। কিন্তু বিসিসিআইয়ের নির্দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাঁকে ছেড়ে দেয়। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

    টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে মুস্তাফিজুরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যের সংবেদনশীল পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় (Bangladesh India Relation)। এই ঘটনার পর বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ থেকেও সরে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয়।  অনেকেই মনে করেন এটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেয়ে বেশিই ক্ষতি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের (IPL 2026)।

    ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

    তবে সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। উভয় দেশের নেতাদের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এই নরম অবস্থান ক্রীড়াক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে, এবং আইপিএল সম্প্রচার ফের চালুর সিদ্ধান্তকে সেই পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও স্বীকার করেছে, একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ক্ষতিকর ছিল। এখন তারা ক্রিকেট ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী। বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। বাংলাদেশে আইপিএলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং সম্প্রচারকারীরা অতীতে উচ্চ দর্শকসংখ্যা পেয়েছে। সম্প্রচার বন্ধ থাকায় দর্শকদের পাশাপাশি টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ও বিজ্ঞাপনদাতাদেরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে (Bangladesh India Relation)।

    কী বলছেন মন্ত্রী

    জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, “আমাদের কাছে আইপিএল সম্প্রচারের জন্য কেউ আবেদন করেনি। আমরা খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেশাতে চাই না। আমরা এটিকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করব এবং যদি কোনও চ্যানেল আবেদন করে, আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখব (IPL 2026)।” তিনি এও বলেন, “আমরা কাউকে সম্প্রচার থেকে বিরত রাখব না। যদি স্টার স্পোর্টস সম্প্রচার করতে চায়, তারা করতে পারবে। আমাদের দেশের কোনও চ্যানেল করতে চাইলে আমরা ইতিবাচকভাবেই দেখব, তবে কাউকে বাধ্য করা হবে না।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলাদেশি মন্ত্রীর এহেন বক্তব্য সরকারের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে অন্তত নীতিগতভাবে খেলাধুলোকে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে (Bangladesh India Relation)।

     

  • India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    India Bangladesh Relation: নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা! ভোটমুখী বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার-পরিজনকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ নির্বাচনের (Bangladesh General Elections) প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন হিন্দু হত্যার খবর আসছে। বাড়ছে ভারত বিদ্বেষ (India-Bangladesh Relations)। সেই আবহেই বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য কেন্দ্রে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারকে দেশে পাঠানোর পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটমুখী বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিচার করেই এই পরামর্শ বিদেশ মন্ত্রকের। তবে এ-ও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্যান্য কেন্দ্র খোলা থাকবে। সেখানে কাজও চলবে। শুধু বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সেখান থেকে কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার, তাঁদের উপর নির্ভরশীল লোকজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিল ভারত।

    ভোটের আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশে। ওই দিন আবার গণভোটেরও ঘোষণা করেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যেখানে ভাবী প্রধানমন্ত্রীদের কার্যকালের নির্দিষ্ট মেয়াদ, সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিধিতে সম্মতি জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। তার আগেই পদ্মাপার থেকে নিজের দেশের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে সরিয়ে নিচ্ছে ভারত। দিল্লি সূত্রে খবর, নির্বিঘ্নে এই ‘উদ্ধারকার্য’ চালানো হবে। বাংলাদেশে স্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং অন্য সব মিশন থেকে কূটনীতিক এবং অন্য আধিকারিকদের পরিবার ও তাঁদের উপর নির্ভরশীলদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

    কবে ভোট বাংলাদেশে

    বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের সঙ্গে হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট। গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি হয়েছে মনোনয়ন পরীক্ষার কাজ। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করেছেন বাদ পড়া প্রার্থীরা। ১২-১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে সেই আপিলগুলির যথার্থতা যাচাইয়ের কাজ চলেছে। চূড়ান্ত প্রার্থিতালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করা হবে বুধবার (২১ জানুয়ারি)। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারের পালা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

    পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ, ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং

    সাউথ ব্লকের তরফে জানানো হয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন এবং অন্য পদে অধিষ্ঠিত যাঁরা, তাঁদের কাজকর্ম আগের মতোই চলবে। ঢাকায় হাইকমিশনের পাশাপাশি, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহি, সিলেটেও ভারতীয় কূটনীতিকরা মোতায়েন রয়েছেন। দিল্লি সূত্রে খবর, ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং (Non-Family Destination) ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবার নিয়ে গিয়ে থাকার অনুপযুক্ত বাংলাদেশ। পাকিস্তান আগে থেকেই ওই তালিকায় রয়েছে।

    কেন নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমশ তলানিতে ঠেকেছে। পদ্মাপারে কূটনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়াতেও বাধা এসেছে লাগাতার। বিশেষ করে গত বছর ডিসেম্বেরে ইসলামি যুব নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে সেখানকার কট্টরপন্থীদের ভারতবিরোধী মনোভাব আরও প্রকট হয়েছে। লাগাতার হুমকি-হুঁশিয়ারি উড়ে আসছিল। হাদির খুনিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর মিছিল করে ভারতীয় হাইকমিশনে যায় ‘জুলাই ঐক্য মঞ্চ’। এমতাবস্থায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ঢাকাকে বার্তাও দেয় দিল্লি। কিন্তু তার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি তেমন। ওই সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় সে দেশের একটি গোষ্ঠী। ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই চট্টগ্রামে ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের দফতর লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠি চালায় এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। উত্তেজনা ছড়ায় সিলেটেও। তার পরেই চট্টগ্রামের ভিসা-কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেটে ভারতের উপদূতাবাসের কাছেও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ।

    নির্বাচন ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা

    নির্বাচন ঘিরেও অশান্তি বাঁধতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ইতিমধ্যেই। কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ দিল্লি। তাই বাংলাদেশ থেকে নিজেদের কূটনীতিক এবং আধিকারিকদের পরিবারকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। বাংলাদেশের নির্বাচন (Bangladesh Election) ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ চলছে। ইতিমধ্যেই প্রধান প্রতিপক্ষ জামাত ইসলামের ও বিএনপি (BNP) জোট নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তবে জামাত ও তাদের জোর শরিকদের তরফেই জোরালো অভিযোগ করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের (Yunus) সঙ্গে দেখা করার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি ইঙ্গিত করেছে তারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারে। অন্যদিকে, জামাতের বক্তব্য অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার মতো পরিস্থিতি এখনও দেশে তৈরি হয়নি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিএনপি নেতারাও। তারাও গুচ্ছ অভিযোগ করেছেন নির্বাচন নিয়ে। ‌যদিও এনসিপি এবং জামাতের সঙ্গে বিএনপির অভিযোগের ফারাক হলো তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কোনও রকম দোষারোপ করেনি। বরং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন কে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানাচ্ছে ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই হিংসার সম্ভাবনা বাড়ছে। দেশটিতে হামলা, হত্যার ঘটনা অব্যাহত। ভোটের আগে ভারত বিরোধিতা চরমে উঠবে বলে নানা মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    সংখ্যালঘু হিন্দু-হত্যা চলছেই

    সম্প্রতি দফায় দফায় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলার খবর আসতে শুরু করে বাংলাদেশ থেকে। ময়মনসিংহে বেধড়ক মারধরের পর পুড়িয়ে দেওয়া হয় দীপুচন্দ্র দাসকে। সেই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, অসম এবং ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদ শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশও সাময়িক ভাবে ভিসা পরিষেবা বন্ধ রাখে। তাদের তরফেও বাংলাদেশি কূটনীতিক ও আধিকারিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের বার্তা আসে।

    ইউনূসের আমলে অপরাধ বেড়েছে

    বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সে দেশে অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছ। অপহরণের অভিযোগ ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। ডাকাতির অভিযোগও বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। আসন্ন ভোটপর্বে বড়সড় জয় নিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতা ফিরতে পারে তারেক রহমানের বিএনপি। এমনই আশা করা হচ্ছে। এর আগে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভোট মিটলে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কি না , সেদিকেই নজর রাখছে দিল্লি।

  • PM Modi: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। তাতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, এই শোকের সময়ে তাঁর চিন্তা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করলেও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারেককে পাঠানো শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আপনার মা, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন, মহামান্য বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতির সময়ে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে চিরশান্তি দান করুন।”

    বাংলাদেশে জয়শঙ্কর (PM Modi)

    এরই মধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো শোকবার্তাটি সরাসরি তারেকের হাতে তুলে দেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচিত তারেককে পাঠানো চিঠিতে খালেদার অবদান ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। ওই চিঠিতে তিনি ২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকা সফরের সময় খালেদার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও আলোচনার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়তা ও অটল বিশ্বাসসম্পন্ন এক নেত্রী, যাঁর নেতৃত্ব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার প্রয়াত হন খালেদা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নাম। তাঁরই পুত্র তারেক বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন (PM Modi)।

    মোদির স্মৃতিচারণ

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে জানান, খালেদার আদর্শ ও মূল্যবোধ তাঁর পুত্র রহমানের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে। সেই আদর্শ ভারত ও বাংলাদেশের গভীর, ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ভবিষ্যতেও দুই দেশের জনগণের জন্য একটি দিশা হিসেবে কাজ করবে (PM Modi)। শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়াকে দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের বিরল নেতৃত্বের প্রতীকও বলে উল্লেখ করেন (Tarique Rahman)।

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকায় বেগম সাহেবার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ও আলোচনা আমি উষ্ণতার সঙ্গে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন এক বিরল দৃঢ়তা ও প্রত্যয়ের অধিকারী নেত্রী। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদার প্রয়াণে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার আদর্শ আগামী দিনেও বহন করা হবে (Tarique Rahman)।প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপনার দক্ষ নেতৃত্বে তাঁর আদর্শ এগিয়ে যাবে এবং ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। এটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশার সূচনা করবে।” খালেদার রাজনৈতিক জীবন, তাঁর নেতৃত্ব এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা দুই দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মনে করছে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল।

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

    এদিকে, বুধবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে স্বামী প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে খালেদাকে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে শেরেবাংলা নগরে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। এঁদের মধ্যে যেমন ছিলেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, তেমনই ছিলেন সাধারণ মানুষ (Tarique Rahman)। বাংলাদেশের রাজনৈতিক (PM Modi) ইতিহাসে এক প্রভাবশালী ও শক্তিশালী নেতৃত্ব হিসেবে খালেদা তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মহিলা নেত্রী।

    বাংলাদেশিদের পাশে মোদি

    অন্যদিকে, খালেদার মৃত্যুতে বাংলাদেশিদের উদ্দেশেও শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ওই শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে আমার সহানুভূতি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। ইতিহাসজুড়ে তারা অসাধারণ শক্তি ও মর্যাদার পরিচয় দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং জাতীয় ঐক্যের শক্তিতে তারা শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাবে।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন (PM Modi), “দয়া করে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কঠিন সময়ে আপনাদের পরিবারকে শক্তি ও ধৈর্য দান করেন। ভবিষ্যতের সকল উদ্যোগে আমি আপনাদের সাফল্য কামনা করি।” প্রসঙ্গত, খালেদার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বন্ধ হয়ে গেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের (Tarique Rahman)।

  • India Bangladesh Relations: ভারত-বিরোধিতার মাশুল! বাংলাদেশকে মোক্ষম শিক্ষা দিল দিল্লি, মাথায় হাত ইউনূসের

    India Bangladesh Relations: ভারত-বিরোধিতার মাশুল! বাংলাদেশকে মোক্ষম শিক্ষা দিল দিল্লি, মাথায় হাত ইউনূসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব মজবুত করতে তৎপর ইউনূসের বাংলাদেশ। ভারত-বিরোধিতা (India Bangladesh Relations) এখন পদ্মাপাড়ের মূলমন্ত্র। যে মানচিত্র ভারতের হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছিল, সেই মানচিত্রের গ্রাফটাই এখন বদলে গিয়েছে। হাসিনা পরবর্তী যুগে সোনার বাংলাদেশ এখন ছারখার। জঙ্গিদের মুক্তাঞ্চল। তাই চুপ করে কতদিন থাকা যায়! কয়েকদিন আগেই চিনে গিয়ে ভারতের নিন্দা করে এসেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। বলেছিলেন, ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি ‘ল্যান্ড লকড’। তাদের সমুদ্রপথের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। ওই এলাকার সমুদ্রপথের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ। ইউনূসের ওই মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি ভারত। এবার সহজে বাংলাদেশের বাণিজ্যের রাস্তা বন্ধ করে দিল দিল্লি। তৃতীয় কোনও দেশে বাংলাদেশি পণ্য রফতানি করতে ব্যবহার করা যাবে না ভারতের কোনও বন্দর বা বিমানবন্দরের শুল্ককেন্দ্র। সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। তবে, ছাড় দেওয়া হয়েছে ভুটান ও নেপালের ক্ষেত্রে। ভারতের ভূখণ্ড হয়ে ভুটান ও নেপালে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহণে কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে দিল্লি। অর্থাৎ, ভারত দিয়ে এই দুই দেশে আগের মতোই রফতানি করতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, ইউরোপ বা অন্য বাকি দেশে পণ্য পাঠাতে পারবে না ঢাকা।

    ভারতের সিদ্ধান্ত

    কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৮ এপ্রিলের পর থেকে ভারতের উপর দিয়ে ভুটান ও নেপাল বাদ দিয়ে আর কোনও দেশে পণ্য রফতানির জন্য ল্যান্ড কাস্টম স্টেশন (LCS) বা শুল্ক কেন্দ্র ব্যবহার করতে পারবে না বাংলাদেশ (India Bangladesh Relations)। এতদিন এই সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব পণ্য ভারতে নিয়ে এসে এখানকার বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পাঠাতে পারত। এটি দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। বাংলাদেশের সামগ্রী বিশ্বের অন্যান্য দেশে রফতানির জন্য এই ‘‘ট্রান্স-শিপমেন্ট’’ সুবিধা প্রত্যাহার করা হল। এর জন্য কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বোর্ড (সিবিআইসি) ২০২০ সালের জুন মাসের একটি নিয়ম বাতিল করল, যা বাংলাদেশের পণ্য ভিনদেশে রফতানির জন্য ভারতীয় বন্দর ও বিমানবন্দরের ল্যান্ড কাস্টম স্টেশন ব্যবহার করতে দিত। এতে বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠাতে ভারতের পরিকাঠামোকে ব্যবহার করে এক ছাদের নিচে সব সুযোগ সুবিধা পেত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এবার থেকে ওই সব দেশে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়বে। সময়ও বেশি লাগবে। খরচও বেশি হবে।

    কেন এই নির্দেশ

    পড়শি দেশকে (India Bangladesh Relations) এই সুবিধা দেওয়া বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছিল ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলি। বিশেষ করে বস্ত্র রফতানি সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে এই অনুরোধ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের জুন মাস থেকে বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিয়ে আসছিল ভারত। ভিন দেশে পণ্য রফতানির জন্য এই সুবিধা ব্যবহার করত বাংলাদেশ। ৮ এপ্রিলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে যে সব পণ্য ইতিমধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছে, সেগুলিকে পূর্বের নির্দেশিকা অনুসারে ভারত থেকে বেরোতে দেওয়া হবে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে ওই সুবিধা দেওয়ার ফলে এ দেশের বন্দর এবং বিমানবন্দরগুলিতে ভিড় বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির রফতানিতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে বাংলাদেশকে ওই সুবিধা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। তবে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, নেপাল এবং ভুটানে পণ্য রফতানি করতে বাংলাদেশের কোনও সমস্যা হবে না।

    ভারতের সুবিধা

    সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় বিমানবন্দর এবং বন্দরগুলির এলসিএস-গুলিতে বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক-শিপমেন্ট এসে ভিড় জমাত। এতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত সময় ও টাকা খরচ হচ্ছিল। অ্যাপারেল এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের (AEPC) চেয়ারম্যান সুধীর শেখরি বলেছেন, “ভারতীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হল। প্রতিদিন ২০-৩০ বাংলাদেশি পণ্য বোঝাই ট্রাক দিল্লিতে এসে অপেক্ষা করত ভিনদেশে যাওয়ার জন্য। এতে আমাদের এক্সপোর্টাররা সমস্যার পড়ছিলেন। কার্গোতে আমাদের পণ্যের পর্যাপ্ত জায়গা হচ্ছিল না।” এই সিদ্ধান্তের ফলে বস্ত্র, জুতো, মূল্যবান পাথর এবং গয়নার ক্ষেত্রে ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলির সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বস্তুত, বস্ত্র রফতানি ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হল বাংলাদেশ। ভারতীয় রফতানি সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশন’ (এফআইইও)-এর মহাপরিচালক অজয় সহায় বলেন, “এর ফলে ভারতীয় রফতানি পণ্যের জন্য বিমানে আরও বেশি জায়গা পাওয়া যাবে। অতীতে রফতানিকারক সংস্থাগুলি প্রায়শই অভিযোগ করত, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য তারা কম জায়গা পাচ্ছে।”

    কূটনীতিকদের অভিমত

    সম্প্রতি চিনে গিয়ে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরে এসেছিলেন ইউনূস। নিজেদের সমুদ্রের অভিভাবক বলে চিনকে বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশে (India Bangladesh Relations) এসে ব্যবসার জন্য, প্রচুর জিনিস বানাতে। বিক্রির জন্য বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত। চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই বন্ধুত্ব ভারত ভালো চোখে দেখেনি। তার ওপর যখন শিলিগুড়ির চিকেনস্ নেকের কাছে বাংলাদেশের মাটিতে চিনকে বিমানঘাঁটি তৈরির আহ্বান জানিয়ে বসেন ইউনূস, তখন ভারত আর চুপ করে বসে থাকেনি, বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। চিন সফরে গিয়ে ইউনূসকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের পূর্ব প্রান্তের সাতটি রাজ্য, যাদের সেভেন সিস্টার্স বলা হয়। ওই বিরাট অঞ্চল কিন্তু পাহাড় আর স্থলভাগে ঘেরা। সমুদ্রপথে যোগাযোগ করার উপায়ই নেই তাদের। বাংলাদেশই হল সমুদ্রপথের রাজা। তাই ওই এলাকায় চিনা অর্থনীতির বিস্তার ঘটতেই পারে।” এই মন্তব্যের ইঙ্গিত অত্যন্ত স্পষ্ট যে, ভারতের ৭ রাজ্য (সেভেন সিস্টার)কে ভেঙে ফেলতে চায় বাংলাদেশ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এই একই ইচ্ছা চিনের। যদিও সেই চৈনিক চাল বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এবার বাংলাদেশের মুখে এমন মন্তব্যে দুয়ে দুয়ে চার করতে খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না ভারতের। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কফিনের অন্যতম পেরেক ইউনূসের এই মন্তব্য। তাই এবার ব্যবসার রাস্তা বন্ধ করে ঢাকাকে বার্তা দিল দিল্লি।

    বিপদে বাংলাদেশ

    ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের এই এক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি ও ব্যবসায় ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে। বিশেষত ঢাকার বস্ত্র রফতানি এতে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত হবে। এতদিন ধরে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর পণ্য পাঠাত বাংলাদেশ, বিশেষত জামাকাপড়। ভারতের মাটি, বায়ুপথ ও বন্দরের শুল্ককেন্দ্র ব্যবহার করে অনেক কম খরচ ও কম সময়ে ভিনদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য পাঠাত বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সেই সুযোগ বন্ধ হল। এখন থেকে বাংলাদেশকে সমুদ্রপথ বা আকাশপথে রফতানির বিকল্প ভাবতে হবে, যা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। লজিস্টিক সমস্যা ও সময়ে পণ্য পৌঁছতে দেরি হবে। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে ঢাকা। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলছেন, “বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের রফতানি এবার মার খাবে। এতদিন ভারত যে সুবিধা দিত তাতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের শুধু অনেক টাকাই বাঁচত না, সময়ও বাঁচত।” তিনি আরও জানান, গত ২০ বছর ধরে বাংলাদেশকে সন্তানসুলভ প্রশ্রয় দিয়ে এসেছে ভারত। পণ্যের উপর শূন্য শুল্ক থেকে অগ্রাধিকার— কী না দেওয়া হয়নি। মদ ও সিগারেট ছাড়া নেপাল, ভুটানের মতো দেশে বাংলাদেশ সব পণ্য বিনা শুল্কে এতদিন পাঠিয়ে এসেছে। তাও ভারত-বিরোধিতা (India Bangladesh Relations) করতে পিছপা হননি ইউনূস। তাই পরিবর্তিত বাংলাদেশকে শিক্ষা দিতেই এই পদক্ষেপ ভারতের।

LinkedIn
Share