Tag: India Bloc

India Bloc

  • Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট চুরি’ বিতর্কে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য বিজেপি প্রস্তুত। কিন্তু বিরোধী দলগুলি সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। শুক্রবার লখনউয়ে দলীয় কর্মীদের সভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Attacks Rahul)। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলেও খারিজ করেছেন তিনি। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “সংসদের ভিতরে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে বিজেপি প্রস্তুত। আমরা কিছু লুকোতে চাই না। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। কিন্তু বিরোধীরা সেখানে আলোচনা করতে চায় না। তারা সংসদ চলতে দেয় না, বরং হইচই করে।”

    আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে

    বিজেপির একাধিক নির্বাচনী জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাহ বলেন, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, পুদুচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে যে তারা নির্বাচনে জিততে পারছে না। তাঁর কথায়, “কোনও দল বা টিম ম্যাচে হারলে তাদের আরও অনুশীলন করা উচিত। কিন্তু পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তারা আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। বলছে, ভোট চুরি হয়েছে।” অন্যদিকে, অমিত শাহের এই মন্তব্যের মধ্যেই শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পাশাপাশি রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলাই লক্ষ্য

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছে বিরোধী দলগুলি। এই আবহে উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার লখনউয়ে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য বিজেপি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাহ। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণও শানান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিরোধী শিবির ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলেছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতানেত্রীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহ সংসদে বিশেষ অধিবেশনের কথা বলেন। জানান, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত তিনি। তবে তার পরেই বলেন, ‘‘রাহুল বাবা কখনওই রাজি হবেন না। সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা না-করে উনি রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা করতে চান।’’

    শাহী নিশানায় অখিলেশও

    শুধু রাহুল নন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা সাংসদ অখিলেশ যাদবকে নিশানা করেছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল এবং অখিলেশকে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে সংসদের ভিতরে আলোচনার জন্য আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। ওঁরা (বিরোধী) আলোচনা চান না, চান রাস্তায় নাটক করতে।’’উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে রবিবারের মিছিলে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াইয়ের অংশ।

    কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস

    রাহুলের অভিযোগ, সভায় যোগ দিতে আসা মানুষজনকে দিল্লি প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যাতে মানুষ দিল্লিতে আসতে না পারে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীদের আটকানো হচ্ছে। তবে সভায় আসা মানুষকে আটকানোর অভিযোগের পালটা বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন উনি। কাকে, কোথায়, কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস।”

    ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে মোট ১৩.৩৯ কোটি ভোটারের নাম ‘অনুপস্থিত’, ‘স্থানান্তরিত’, ‘মৃত’ এবং ‘একাধিকবার নথিভুক্ত’ (ASDD) শ্রেণিতে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, শুক্রবারের বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্ববাণী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না অখিলেশেরা। অখিলেশকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আপনারা নিজের চেষ্টায় একটা নির্বাচনও জিততে পারেননি। রাহুল বাবার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’’

    সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত

    এদিকে, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

     

     

     

  • CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    CJI: বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রাজি নন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, সুপ্রিম কোর্টের পথে ‘গণতন্ত্রের মিছিল’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI) সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু সেই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে বিরোধী জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের আগে, ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছিলেন তাঁরা। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ-সহ একাধিক দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়াই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, প্রধান বিচারপতির সিদ্ধান্ত ইমেলের মাধ্যমে দুই বিরোধী নেতাকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যে বিষয়গুলি নিয়ে রাহুল ও খাড়্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। তাই এই পরিস্থিতিতে আলাদা করে বৈঠক করা সমীচীন নয়। পাশাপাশি, প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আদালত সরকারের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও জানানো হয়েছে। তবে মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে পারেন বলে বিরোধী নেতাদের জানানো হয়েছে।

    কেন প্রতিবাদে সরব বিরোধীরা? (CJI)

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধীদের আন্দোলন। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভোটার তালিকায় কারচুপি করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, নির্বাচন কমিশন শাসক দল বিজেপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। সেই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের জবাবদিহির দাবিও তুলেছে তারা।

    নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। তাঁদের আপত্তির একটি বড় অংশই ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে।

    যদিও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, আলোচনার সময় মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, তাদের নির্দেশগুলির আইনি ভিত্তি রয়েছে এবং যাবতীয় সিদ্ধান্ত নির্ধারিত আইন ও বিধি মেনেই নেওয়া হয়।

    ‘গণতন্ত্রের মিছিলে’র ডাক কংগ্রেসের

    সোমবারের কর্মসূচির নাম দিয়েছে কংগ্রেস, ‘চলো দিল্লি—গণতন্ত্রের মিছিল’। দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দিল্লির কনট প্লেস ও বারাখাম্বা রোডের সংযোগস্থলে জমায়েত হওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    রাহুল জানিয়েছেন, তরুণ সমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মিছিলে অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে এগিয়ে যাবেন। শনিবার দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশ ও বিজেপি সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এদিকে, খাড়্গে জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চাইছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। খাড়্গের দাবি, শনিবার প্রতিবাদস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, এই আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন (CJI)।

    রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ বিরোধী প্রতিনিধিদল

    শুক্রবার দিল্লির বিজয় চকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। এরপর কয়েকজন সাংসদ সেখানেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে, ১০ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করতে রাষ্ট্রপতি ভবনে যায়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছিল ওই প্রতিনিধিদল।

    বৈঠকের পরে বিরোধী নেতারা জানান, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি, তাঁদের উদ্বেগ ও অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি বলে দাবি বিরোধীদের।

    রাহুল বলেন, রাষ্ট্রপতি অভিযোগগুলি অস্বীকার করেননি কিংবা সেগুলি নিয়ে প্রশ্নও তোলেননি—এই বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, দেশে কথিত ভোটচুরির অভিযোগের প্রমাণ সম্পর্কে বহু মানুষ অবগত। বিরোধীরা সেই প্রমাণ রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ভোটার তালিকার সংশোধন, কথিত ভোটচুরি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সোমবারের ‘গণতন্ত্রের মিছিল’ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার (CJI)।

     

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দু’টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের ফল বেরল। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। অন্য আসনটি দখল করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। জয়ী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম। ভোটগ্রহণে ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross Voting) অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পরাজিত কংগ্রেস (Jharkhand)

    পরিমল কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে পরাজিত করেছেন। আর বৈদ্যনাথ জয়ী হয়েছেন নির্ধারিত আসনে। নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায়, পরিমল মোট ২৮টি ভোট পেয়েছেন। অথচ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৪। এই অতিরিক্ত চারটি ভোট কোথা থেকে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা। পরিমলের কাছে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০টি ভোট। অন্য আসনে জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ নির্বাচিত হয়েছে ৩০টি ভোট পেয়ে। নির্বাচন পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দুই এবং কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভোটের অঙ্ক

    ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট ২৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২১ জন, এবং এলজেপি (রামবিলাস), আজসু পার্টি এবং জেডিইউয়ের একজন করে বিধায়ক রয়েছেন। আর, ইন্ডিয়া জোটের মোট ৫৬ জন বিধায়কের মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ভোটের আগে এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের তরফে বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছিল। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীই জয়ী হবেন (Jharkhand)।

    ক্রস-ভোটিং!

    ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রার্থীদের জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ২৮ জন করে বিধায়কের সমর্থন। এর মধ্যে ‘ইন্ডি’ জোটের পক্ষে ছিল ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে রয়েছেন জেএমএমের ৩৪ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন, আরজেডির ৪ জন, এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২জন বিধায়ক। নির্বাচনে জেএমএমের বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব পেয়েছেন ২০টি। অথচ ‘ইন্ডি’ জোটের ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসেবে জেএমএমের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে, কংগ্রেস প্রার্থীর পাওয়ার কথা ছিল ২৬টি। উল্লেখ্য (Cross Voting), জেএমএমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের মৃত্যুর কারণে রাজ্যসভার একটি আসন শূন্য হয়েছিল। আর, বিজেপি সাংসদ দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হবে ২১ জুন। তাই নির্বাচন হয়েছে সেই আসনেও (Jharkhand)।

     

  • Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে নাটকীয় মোড় (Saffron Wave)। পশ্চিমবঙ্গে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বিজেপি। ৩৪ বছরের বাম রাজত্ব, তার পরে ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা শেষে বঙ্গে ফুটল পদ্ম (India Power Map)। বহুদিন ধরে বিজেপি-বিরোধী দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলার পতন সূচনা করেছে পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক মৌলিক পুনর্বিন্যাসের, যেখানে বিজেপি এখন হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছে।

    বদলে গেল দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ (Saffron Wave)

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে দেখা গিয়েছে বড়সড় পরিবর্তন। সেখানে ১০০-র বেশি আসন জিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের দীর্ঘস্থায়ী মৌরশিপাট্টায় আঘাত হেনেছে নয়া দল তামিল বিকাশ কাজাগম (TVK)। যার জেরে বদলে গিয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF) ফের ক্ষমতায় ফিরেছে। এলডিএফের সঙ্গে পালাবদলের ধারা ভেঙে দিয়ে দক্ষিণে আবারও প্রাণপ্রতিষ্ঠা কংগ্রেসের।  এদিকে, অসম ও পুদুচেরিতে এনডিএর শাসনই জারি থাকছে। যা আদতে নির্দেশ করে উত্তর-পূর্ব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের মজবুত অবস্থানকে।

    বিজেপির জয়জয়কার

    এদিকে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলের জেরে বদলে গিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র। বর্তমানে বিজেপি একাই ১৭টি রাজ্যে রাজ করছে। এগুলি হল— পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ত্রিপুরা, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং উত্তরাখণ্ড। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসন করছে আরও পাঁচটি রাজ্য। এগুলি হল— বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড এবং সিকিম। সব মিলিয়ে মোট ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাশ রয়েছে এনডিএর হাতে (India Power Map)। এই ২২টি অঞ্চল ভারতের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৭৩ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৮ শতাংশের (Saffron Wave)। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরে বিজেপির রাজ্যস্তরের বিধায়কের সংখ্যা প্রায় ১৭০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে, যা কংগ্রেসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পদ্মশিবিরের এই ফলের জেরে রাজ্যের আইনসভাগুলিতে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বিজেপি (India Power Map)। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট এখন দেশের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে, যেখানে বিরোধী শিবিরের আওতায় রয়েছে মাত্র এক-সপ্তমাংশের কিছু বেশি।

    গেরুয়াময় অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ

    পশ্চিমবঙ্গ জয়ের মাধ্যমে বিজেপি এখন উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে গঙ্গা সমভূমি, পশ্চিম মালভূমি হয়ে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব উপকূল পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছে। এর ফলে নীতিগত সমন্বয়, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং নির্বাচনী কার্যকলাপ আরও সহজ হয়েছে (Saffron Wave)। দিল্লিতে বিজয় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী “বিকশিত ভারত” লক্ষ্যের সঙ্গে পূর্ব ভারতের পুনর্জাগরণের কথারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অতীতে বিহার, বাংলা ও ওড়িশা ভারতের গৌরবের তিন স্তম্ভ ছিল—অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ। এই তিন রাজ্যের উন্নয়নই বিকশিত ভারত গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ (India Power Map)।” তিনি কলিঙ্গ (ওড়িশা)-কে সামুদ্রিক শক্তি, অঙ্গ (বিহার)-কে বস্ত্র বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং বঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ)-কে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

    বৃত্ত ছোট হচ্ছে কংগ্রেসের

    অন্যদিকে, কংগ্রেস এখন একাই শাসন করছে মাত্র চারটি রাজ্য। এগুলি হল, হিমাচল প্রদেশ, তেলঙ্গানা, কেরল এবং কর্নাটক। ‘ইন্ডি’ জোটের সঙ্গে যুক্ত আরও দু’টি অঞ্চলেও রয়েছে কংগ্রেস—ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর। এই ছ’টি অঞ্চল ভারতের মোট এলাকার প্রায় ১৯ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের। যদিও এই জোট দক্ষিণ, মধ্য ভারত এবং হিমালয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে, তবুও তাদের ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব এনডিএর তুলনায় ঢের কম (Saffron Wave)। তবে কংগ্রেস-‘ইন্ডি’ জোটের শক্তি কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই কেন্দ্রীভূত—কেরলের উন্নত সামাজিক সূচক, কর্ণাটকের প্রযুক্তি-ভিত্তিক অর্থনীতি, তেলঙ্গনার শিল্পভিত্তি এবং ঝাড়খণ্ডের খনিজ সম্পদ তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে (India Power Map)। পরিসংখ্যান বলছে, এনডিএর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে চাইলে বিরোধী শিবিরকে মাত্র ১৪ শতাংশ জনসংখ্যা ও ১৯ শতাংশ এলাকা নিয়েই আগামী বছরগুলিতে (Saffron Wave) জাতীয় পর্যায়ে জনসমর্থন বাড়াতে হবে, করতে হবে জয়লাভও। তা না হলে অচিরেই স্রেফ সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে যাবে শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেস।

     

  • BJP: “‘গভীর ফাটল’, ইন্ডি জোটের কোনও ভবিষ্যতই নেই”, বলল বিজেপি

    BJP: “‘গভীর ফাটল’, ইন্ডি জোটের কোনও ভবিষ্যতই নেই”, বলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একের পর এক রাজ্যের রশি যাচ্ছে বিজেপির (BJP) হাতে। ক্রমেই রাজপাট হারাচ্ছে বিজেপি-বিরোধী  ‘ইন্ডি’ জোটের (INDI Alliance) বিভিন্ন শরিকদল। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমেও বিপুল ভোটে জিততে চলেছে বিজেপি। তার পরেই পদ্ম-শিবিরের ভবিষ্যদ্বাণী, ইন্ডি জোটে গভীর ফাটল। এই জোটের কোনও ভবিষ্যতই নেই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির। বলেছে, জোটকে ঠিকঠাকভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন রাহুল। ভোট গণনার দিনেও তিনি ফের অনুপস্থিত।

    ‘ইন্ডি’ জোটে ফাটল (BJP)

    নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ১৯২টি আসনে এগিয়ে থেকে সম্ভাব্য জয়ের পথে রয়েছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯৪টিতে। অসমেও এগিয়ে যাচ্ছে গৈরিক পার্টি। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা জানান, এই নির্বাচনের ফল বিরোধী জোটের মধ্যে গভীর বিভাজন সৃষ্টি করেছে। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বলেন, “এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল ‘ইন্ডি’ জোট পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে এবং অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। রাহুল গান্ধী জোটকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পুরো নির্বাচনে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি ‘ইন্ডি’ জোট সামলাতে পারেননি।”

    বিজেপির বিস্তারের কৃতিত্ব মোদির

    তিনি আরও বলেন, “আজ (সোমবার) নির্বাচনের ফল বেরোচ্ছে, অথচ রাহুল গান্ধী ফের বিদেশে ছুটি কাটাতে গিয়েছেন। জোটের শরিকদের মধ্যে কোনও সমন্বয় ছিল না।” বিজেপির এই মুখপাত্র বলেন, “এখন দেশে ‘ইন্ডি’ জোট বলে কিছু নেই। এর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। ‘ইন্ডি’ জোটের ইতি (BJP)।” পুনাওয়ালা বিজেপির বিস্তারের কৃতিত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তিনি বলেন, “দেশে টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও নতুন নতুন রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হচ্ছে, শতাংশের হিসেবেও বাড়ছে ভোট, মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হচ্ছে—মোদিজির জন্য।” বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদ জানান। এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে তিনি বলেন, “যেখানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি জন্মেছিলেন, সেই বাংলা আমাদের (INDI Alliance)। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন (BJP)।”

     

  • VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে জননীতি ও কল্যাণমূলক প্রকল্প মানেই সংক্ষিপ্ত নাম বা অ্যাক্রোনিম। পোষাণ (POSHAN), পিএম-আশা (PM-AASHA)-র মতো প্রকল্পগুলির নামেই সরকারের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতাতেই সংসদ সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA) বাতিল করে পাশ হয়েছে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন গ্রামীণ (VB-G-RAM-G) আইন। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকের রাজনীতির চোখে দেখলেও, বাস্তবে এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান নীতিতে একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। নতুন আইন কেবল নাম বদল নয়, বরং কাজের সুযোগ, উৎপাদনশীলতা এবং জবাবদিহির প্রশ্নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

    নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— কাজের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা। এটি সরাসরি গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রের একক ১০০ শতাংশ অর্থায়নের বদলে রাজ্যগুলিকেও অর্থনৈতিক দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ)। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতা ও নজরদারি দু’টিই বাড়বে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল— বপন ও ফসল কাটার সময়ে ৬০ দিনের কাজ-বিরতি। প্রথম দর্শনে এটি সীমাবদ্ধতা মনে হলেও, বাস্তবে এর লক্ষ্য গ্রামীণ শ্রমকে কৃষি চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এতে শ্রমিকরা কৃষিকাজে বেশি মজুরি আদায়ের সুযোগ পাবে এবং সরকারি প্রকল্পের কাজও কৃষির পরিপূরক হিসেবে পরিকল্পিত হবে। চতুর্থত, ‘ভিবিজিরামজি’( VB-G-RAM-G) চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজকে কেন্দ্রীভূত করেছে— জল, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতা। মনরেগা-র অধীনে কাজের পরিধি বিস্তৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছিল। নতুন কাঠামোতে থিমভিত্তিক কাজের ফলে গ্রামীণ এলাকায় টেকসই সম্পদ, জল সংরক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা

    তৃণমূলভিত্তিক বিচ্ছিন্ন কাঠামোর বদলে এই প্রকল্পকে প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি-র সঙ্গে সংযুক্ত করা। এর ফলে কাজের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও নজরদারি হবে কেন্দ্রীয় ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর। এতে একদিকে যেমন দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা বাড়ে, তেমনই প্রকল্পের আউটপুট ও ফলাফল পরিমাপযোগ্য হয়। এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন, মনরেগা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক প্রকল্প ছিল। এটি ৭৪১টি জেলা, ২.৬৯ লক্ষ পঞ্চায়েত এবং ১২.১ কোটি শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। সংসদের স্থায়ী কমিটি বারবার জানিয়েছে, শ্রমিকদের গড় মজুরি অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরির নিচে ছিল। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল— বিপুল বকেয়া মজুরি। ২০২৫ সালের অগস্টে দেখা যায়, ১২,২১৯.১৮ কোটি টাকা অবৈতনিক মজুরি পড়ে রয়েছে, যা ওই বছরের বরাদ্দের প্রায় ১৪ শতাংশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প

    গত পাঁচ বছরে প্রকৃত কাজের দিন গড়ে ৪৮–৫২ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ২০২৪-২৫ সালে কাজ পাওয়া ৫.৭৮ কোটি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৪০ লক্ষ পরিবার ১০০ দিনের কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছে। অর্থাৎ, আইনে অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই সুযোগ পূর্ণমাত্রায় পৌঁছয়নি। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সরকার নতুন আইনে কাজের সুযোগের পাশাপাশি জবাবদিহি ও দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছে। রাজ্যগুলির আর্থিক অংশগ্রহণ, থিমভিত্তিক কাজ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়— এই সবকিছু মিলিয়ে নতুন প্রকল্প অধিক ফলপ্রসূ ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে পারে। বর্তমানে ভারত চালাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, ৮১ কোটি মানুষকে নিয়ে বিনামূল্যের খাদ্য প্রকল্প (ব্যয় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকা), স্বাস্থ্য বিমা, কৃষক আয় সহায়তা ও গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প। মোট ব্যয় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। এত বিপুল ব্যয়ের ক্ষেত্রে ফলাফল ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

     

     

LinkedIn
Share