Tag: India-Canada Relation

India-Canada Relation

  • India Canada Relation: “নতুন সুযোগের দরজা খুলবে” মুম্বইয়ে পৌঁছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা কার্নির

    India Canada Relation: “নতুন সুযোগের দরজা খুলবে” মুম্বইয়ে পৌঁছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রশংসা কার্নির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার সন্ধ্যায় মুম্বই বিমানবন্দরে নেমেছেন। কানাডার (India Canada Relation) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তিক্ততা মিটিয়ে নতুন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্যে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উচ্চাভিলাষী দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য। উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি মুম্বইয়ে পৌঁছন। এখানে তিনি ভারত ও কানাডার শীর্ষ শিল্পপতি, আর্থিক বিশেষজ্ঞ ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    কখন কোথায় যাবেন কার্নি

    মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে কার্নি (Carney visit India) একটি বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করবেন, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় কার্নি বলেন, “ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতি। আমরা মুম্বইয়ে পৌঁছেছি ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে, যা কানাডার শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য নতুন দরজা খুলে দেবে।” ১ মার্চ কার্নির নয়াদিল্লিতে যাওয়ার কথা। ২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে জ্বালানি, শিক্ষা, খনিজ নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং দু’দেশের জনগণের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এই সফরে শক্তি, খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    সম্পর্কের নতুন সমীকরণ

    মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে টানাপোড়েনপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কানাডা আরও শক্তিশালী, স্বনির্ভর ও স্থিতিশীল অর্থনীতি গড়ার দিকে জোর দিচ্ছে। কার্নি বলেন, “এক অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা এমন বিষয়গুলিতে মনোনিবেশ করছে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা বাণিজ্য বৈচিত্র্য আনছি এবং ব্যাপক নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করছি, যাতে আমাদের শ্রমিক ও ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।” তিনি আরও বলেন, “দেশে স্থিতি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা বিদেশে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি।” কার্নির এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন সূচনার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কার্নির এই সফরকে ভারত-কানাডা সম্পর্কের (India Canada Relations) ‘রিসেট’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তাঁর পূর্বসূরি জাস্টিন ট্রুডোর আমলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে, বিশেষ করে ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের ভূমিকা নিয়ে কানাডার অভিযোগ ঘিরে। ভারত সেই অভিযোগ শুরু থেকেই জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।

  • India Canada Relation: “ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কে গুরুত্ব”, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লি আসছে শীর্ষ প্রতিনিধিদল

    India Canada Relation: “ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কে গুরুত্ব”, কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লি আসছে শীর্ষ প্রতিনিধিদল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক সফরে শুক্রবার ভারতে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (India Canada Relation)। এই সফরে শক্তি, খনিজ, পরমাণু সহযোগিতা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কানাডায় ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ পাটনায়েক জানিয়েছেন, এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কার্নির এই সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন চারজন মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দুই প্রদেশের প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী সমতুল্য)। কার্নির সঙ্গে থাকছে কানাডার উচ্চ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল। এই উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি থেকে স্পষ্ট, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

    অত্যন্ত সময়োপযোগী সফর

    কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন। তিনি বলেন, “বাণিজ্য বহুমুখীকরণ এবং কানাডিয়ানদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, অর্থনীতির সব ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি করাই আমাদের লক্ষ্য।” মঙ্গলবার অর্থ ও রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ভারত সফর নিশ্চিত করে বলেন, “একটি স্থিতিশীল কানাডিয়ান অর্থনীতির জন্য বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান, এই সফরের পর তিনি অস্ট্রেলিয়াতেও যাবেন। অটোয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্যাম্পেন ভারত সফরকে “অত্যন্ত সময়োপযোগী” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক কানাডার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে জোর

    কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী মনিন্দর সিধুও এই সফরে যোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কানাডিয়ান ব্যবসার জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের রফতানি ৩০০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বাড়ানোর যে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য, তা পূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সফরকালে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টিও সফরে থাকবেন। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা করছে। ম্যাকগুইন্টি ভারতের পর অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফরেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিটি দিক নিয়ে আলোচনা

    এছাড়াও কার্নির সঙ্গে ভারত সফরে আসবেন আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার স্কট মো এবং নিউ ব্রান্সউইকের প্রিমিয়ার সুসান হল্ট। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ম্যাট জেনারু-ও ভারতে আসছেন। তিনি এপ্রিল ২০২৪ সালের ফেডারেল নির্বাচনে কনজারভেটিভ হিসেবে নির্বাচিত হলেও সম্প্রতি লিবারেল দলে যোগ দেন। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সফরের পর এই প্রথম কোনও কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে আসছেন। অটোয়ায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পাটনায়েক বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিটি দিক নিয়েই এই সফরে আলোচনা হবে। আমরা একটি সমন্বিত প্যাকেজের দিকে তাকিয়ে আছি।” পাটনায়েকের কথায়, মার্ক কার্নির ভারত সফরে (Mark Carney India Tour) ইউরেনিয়াম সরবরাহ, তেল ও গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একগুচ্ছ চুক্তি সই হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল প্রায় ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ১০ বছরের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি।

  • India Canada Relation: ক্রমেই কাছাকাছি আসছে ভারত-কানাডা, উদ্বেগ ঠেকাতে নিয়োগ করা হবে লিয়াজোঁ অফিসার!

    India Canada Relation: ক্রমেই কাছাকাছি আসছে ভারত-কানাডা, উদ্বেগ ঠেকাতে নিয়োগ করা হবে লিয়াজোঁ অফিসার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার (Work Plan) করতে ভারত ও কানাডা একটি শেয়ার্ড ওয়ার্ক প্ল্যান করছে (India Canada Relation)। উভয় দেশই পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়, যেমন মাদক পাচার ও আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ চক্র, মোকাবিলার জন্য নিরাপত্তা ও আইন-প্রয়োগ সংস্থার লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করবে।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি (India Canada Relation)

    শনিবার অটোয়ায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কানাডার নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাথালি দ্রুইনের মধ্যে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে খালিস্তানপন্থী এক বিচ্ছিন্নতাবাদীর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ডোভালের এই সফর ছিল নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপের অংশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় দেশ তাদের দেশ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলিতে অগ্রগতির বিষয়টি স্বীকার করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনায় একমত হয়েছে (India Canada Relation)। পাশাপাশি উভয় পক্ষ নিজ নিজ অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সক্ষম করার এবং নিরাপত্তা ও আইন-প্রয়োগ সংক্রান্ত লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কার্যকর সম্পর্ক আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে।

    দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ

    বিবৃতিতে এও বলা হয়, “এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারত ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগকে আরও সুসংগঠিত করবে এবং পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়, যেমন অবৈধ মাদক প্রবাহ, বিশেষ করে ফেন্টানিলের উপাদান পাচার, এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত (Work Plan) অপরাধ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সময়োচিত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করবে (India Canada Relation)।” ভারত ও কানাডা সাইবার নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত সহযোগিতা ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য আদান-প্রদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতারণা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় আইন ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

    কানাডার জননিরাপত্তা

    শনিবার ডোভাল কানাডার জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দাসাঙ্গারির সঙ্গেও বৈঠক করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ওই বছরের শুরুতে খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় সরকারি এজেন্টদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। নয়াদিল্লি এই অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে খারিজ করে দেয় (India Canada Relation)।এই ঘটনার পর ভারত-কানাডা সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। উভয় দেশ একে অপরের কূটনীতিক বহিষ্কার করে এবং কানাডায় খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধচক্রের কার্যকলাপ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে উভয় পক্ষ ধীরে ধীরে নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে, যার মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে যোগাযোগও ছিল। মার্ক কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে (Work Plan), যার মধ্যে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পারস্পরিক যোগাযোগ অন্যতম (India Canada Relation)।

     

  • India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া এনার্জি উইক (IEW) ২০২৬-এর মঞ্চে ফের আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী পর্যায়ের জ্বালানি সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছে ভারত-কানাডা। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং কানাডার জ্বালানি (Energy Dialogue) ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী টিমোথি হজসন যৌথভাবে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি (LNG) এবং জ্বালানি রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন (India Canada Relation)। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আট বছরের মধ্যে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগ। এটি জুন ২০২৫-এ কানানাস্কিসে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের ধারাবাহিকতার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়।

    কী বললেন হরদীপ সিং পুরি (India Canada Relation)

    মন্ত্রী বলেন, “উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা তার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গিয়েছে। কানাডার কাছে সম্ভবত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।” পুরি জানান, সরবরাহ শৃঙ্খল ও দ্বিপাক্ষিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে এটি ছিল মন্ত্রী হজসনের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় বৈঠক। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের মূল ক্ষেত্রগুলি হবে, জ্বালানি রফতানি, কানাডা থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG)-এর সরবরাহ বাড়ানো, এশীয় বাজারে অপরিশোধিত তেল রফতানি বাড়াতে ট্রান্স মাউন্টেন এক্সপ্যানশন (TMX) পাইপলাইনের ব্যবহার, ভারতের উচ্চ পরিশোধন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত থেকে কানাডায় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ (India Canada Relation)।

    বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বৈদ্যুতিক যান এবং নবায়নযোগ্য শক্তি পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (OIL)-কে কানাডায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও অধিগ্রহণের জন্য একটি কনসর্টিয়ামের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ খনিজ পদার্থের খনি অনুসন্ধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে।” অয়েল ইন্ডিয়ার সিএমডি রঞ্জিত রাঠ বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস অনুসন্ধানের দিকে নজর দেবে। বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস সুরক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে। ভারত তার সম্পূর্ণ জ্বালানি মূল্য শৃঙ্খলে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরে। অন্যদিকে, কানাডা জানায় যে বর্তমানে তাদের দেশে প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি প্রকল্পে উন্নয়ন চলছে।

    এই বৈঠকে গ্রিন হাইড্রোজেন, বায়োফুয়েল এবং কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। দুই (Energy Dialogue) দেশের মন্ত্রীরাই বলেন, “বৈশ্বিক সরবরাহ কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকায় যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল বহুমুখীকরণ এখন অগ্রাধিকারের তালিকায়।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, কানাডার একটি নির্ধারিত বাণিজ্য মিশনের সময় (India Canada Relation)।

     

  • Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    Canada PM: আমেরিকার নাগপাশ কাটাতে মার্চে ভারত সফরে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী, একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফরে আসতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canada PM) মার্ক কার্নি। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারত সফরে আসার কথা তাঁর। জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, পারমাণবিক সহযোগিতা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে একাধিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়েক (Trump Tariffs)। এই সফর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে কানাডার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, আমেরিকা বর্তমানে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

    ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্য (Canada PM)

    পট্টনায়েক জানান, সফরকালে মার্ক কার্নি ভারতের সঙ্গে ইউরেনিয়াম সরবরাহ, তেল ও গ্যাস, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিতে সই করতে পারেন। প্রস্তাবিত চুক্তিগুলির মধ্যে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ১০ বছরের একটি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এদিকে, চলতি সপ্তাহে ভারত সফররত কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন বলেন, “ভারত-কানাডার পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে, তবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বিধি মেনে চলার শর্তে।” তিনি আরও জানান, জ্বালানি ও খনি খাত হবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি

    জাস্টিন ট্রুডোর আমলে ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর কার্নি দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রুডো ২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছিলেন, যা ভারত অস্বীকার করেছিল (Trump Tariffs)। পট্টনায়েক জানান, ভারত ও কানাডার মধ্যে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে স্থগিত থাকা এই বাণিজ্য আলোচনা গত নভেম্বরে পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর মতে, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই সিইপিএ চূড়ান্ত করা সম্ভব (Canada PM)।

    বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা

    কার্নি কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৈচিত্র্যময় করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা আর কার্যকর নেই। গত সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি মধ্যম শক্তিধর দেশগুলির প্রতি নতুন জোট গঠনের আহ্বান জানান, যাতে আরও স্থিতিশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এই উদ্যোগ এমন একটা সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কানাডা যদি চিনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কঠোর শুল্ক আরোপ করতে পারে।” এ প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে ভারত ও কানাডা দ্রুত নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তৎপর হয়েছে।”

    তিনি জানান, আগামী মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ওটাওয়া সফর করতে পারেন। সফরকালে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনেরও শীঘ্রই কানাডা সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। নিজ্জর হত্যা মামলা প্রসঙ্গে পট্টনায়েক বলেন, “কানাডায় চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা চলছে।” তিনি জানান, যদি তদন্তে কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার (Trump Tariffs) প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে ভারত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে (Canada PM)।

  • PM Modi: কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, কী নিয়ে আলোচনা হল?

    PM Modi: কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মোদির, কী নিয়ে আলোচনা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার কানাডার বিদেশমন্ত্রী (Canadian FM) অনিতা আনন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। আনন্দ এই প্রথম ভারত সফরে এসেছেন। চলতি সফরে তাঁর তিনটি দেশে যাওয়ার কথা। সেই সফরে বেরিয়েই আনন্দ প্রথম এসেছেন ভারত সফরে। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনন্দের সফরকে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চারের একটি সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    মোদি-আনন্দ সাক্ষাৎ (PM Modi)

    এদিন কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন চলতি বছরের জুন মাসে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে কানাডায় গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে “প্রধানমন্ত্রী বিদেশমন্ত্রী আনন্দকে স্বাগত জানান এবং উল্লেখ করেন যে তাঁর এই সফর ভারত–কানাডা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে নতুন গতি সঞ্চারের চলমান প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে।” প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার গুরুত্বও তুলে ধরেন (PM Modi)।

    কী বললেন কানাডার বিদেশমন্ত্রী

    এক্স হ্যান্ডেলে নিজের সাক্ষাৎ সম্পর্কিত বিস্তারিত শেয়ার করে আনন্দ লেখেন, “আজ সকালে আমি নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। এই বছরের গ্রীষ্মে জি৭ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী @মার্ককার্নি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠকের গতিকে ভিত্তি করে কানাডা ও ভারত আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে—একইসঙ্গে আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা আলোচনা বজায় রেখে আমাদের অর্থনৈতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত করছে।”

    রবিবার আনন্দ পৌঁছন নয়াদিল্লিতে। বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে। আলোচনার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি কমাতে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পুনর্গঠনের জন্য দুই দেশের সম্পর্ককে সর্বাঙ্গীনভাবে আরও মজবুত করা উচিত।” চলতি সফরে আনন্দের (Canadian FM) বৈঠক করার কথা বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গেও। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোর উপায় নিয়েও আলোচনা হবে। নয়াদিল্লি সফর শেষে কানাডার বিদেশমন্ত্রী যাবেন চিন এবং সিঙ্গাপুরে (PM Modi)।

  • Lawrence Bishnoi: বিষ্ণোই গ্যাংকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ তকমা দিল কানাডা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা?

    Lawrence Bishnoi: বিষ্ণোই গ্যাংকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ তকমা দিল কানাডা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে কুখ্যাত বিষ্ণোই গ্যাংকে (Lawrence Bishnoi) ‘জঙ্গি সংগঠন’ তকমা দিল কানাডা। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনন্দাসাঙ্গারী ঘোষণা করেন, সেদেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে বিষ্ণোই গ্যাং। এমনকি, কানাডার মাটিতে খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর খুনের জন্যও বিষ্ণোই গ্যাংকে কাঠগড়ায় তুলেছে সে দেশের সরকার। এ ঘোষণার ফলে কানাডায় থাকা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নগদ টাকা, যানবাহন ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। অনেকে একে ভারত-কানাডা সম্পর্কে (India-Canada Relation) পুনর্গঠনের আভাস হিসেবে দেখছেন।

    কী বলেছে কানাডা সরকার?

    বিবৃতি দিয়ে গ্যারি বলেছেন, ‘‘বিষ্ণোইয়ের দলের (Lawrence Bishnoi) কার্যকলাপ দেশ এবং দেশের বাইরে ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের অসামাজিক কাজে এবার লাগাম দেওয়া দরকার। তাই তাদের জঙ্গি ঘোষণা করে আমরা সামগ্রিকভাবে অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করছি। কানাডার মাটিতে হিংসা ও আতঙ্কের কোনও জায়গা নেই। সেই কারণেই কানাডার সরকার বিষ্ণোই গ্যাংকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করল।” কানাডার অপরাধদমন আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে, কানাডার আইন অনুযায়ী, এখন থেকে কোনও কানাডীয় নাগরিক বা বিদেশে থাকা কেউ যদি জেনে বুঝে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত সম্পত্তির সঙ্গে লেনদেন করে, তবে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

    কী কী অভিযোগ বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে?

    খুন, সুপারি কিলিং, লুঠতরাজ, তোলাবাজি-সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের (Lawrence Bishnoi) বিরুদ্ধে। মূলত কানাডাকে ঘাঁটি করে নিজেদের কার্যকলাপ চালায় এই গোষ্ঠীর মূল পান্ডা বলে পরিচিত লরেন্স বিষ্ণোই। কানাডার ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের হুমকি দিয়ে তোলা আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক গুলিচালনার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। ভারতে সলমন খান, দিশা পাটানির বাড়িতে গুলি চালনার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং (Lawrence Bishnoi)। কানাডায় কপিল শর্মার ক্যাফেতেও দুইবার গুলি চালিয়েছে বিষ্ণোই গ্যাং। সিধু মুসেওয়ালা খুনেও অভিযুক্ত লরেন্স বিষ্ণোই। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি খুনেও অভিযুক্ত বিষ্ণোই গ্যাং। তবে কানাডায় গা ঢাকা দেওয়ায় বিষ্ণোই গ্যাং কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর তা নিয়েই নয়াদিল্লির সঙ্গে জাস্টিন ট্রুডো সরকারের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে।

    সুবিধা হবে ভারতের…

    তবে আজকে কানাডার এ সিদ্ধান্তকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকে একে ভারত-কানাডা সম্পর্কে (India-Canada Relation) পুনর্গঠনের আভাস হিসেবে দেখছেন। কানাডা সরকারের এই পদক্ষেপের জেরে লরেন্স বিষ্ণোইকে (Lawrence Bishnoi) বাগে আনতে সুবিধা পেতে পারে নয়াদিল্লি। তবে প্রশ্ন উঠছে, এভাবে কি ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি তিক্ত হওয়া সম্পর্ক মেরামত করতে চাইছে কানাডা?

  • Modi Meets Carney: মোদি-কার্নি  বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’, নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে সম্মত ভারত ও কানাডা

    Modi Meets Carney: মোদি-কার্নি বৈঠক ‘ফলপ্রসূ’, নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে সম্মত ভারত ও কানাডা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-কানাডা সম্পর্কে নতুন মোড়। কানাডার (Modi Meets Carney) সঙ্গে ভারতের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানালেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কানাডায় জি৭ বৈঠকে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কার্নির আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। কানাডার (India Canada) কানানাসকিসে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকেই দুই রাষ্ট্রনেতার কথা হয়। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তাঁরা উভয় দেশেই নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন, যাতে নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়মিত কনসুলার পরিষেবা পুনরায় চালু করা যায়।

    মোদির অভিনন্দন, বৈঠক ফলপ্রসূ

    কানাডা সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে (Modi Meets Carney) সফলভাবে জি৭ সম্মেলন আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “ভারত ও কানাডা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করে এই বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।” এক্স -এ পোস্ট করে মোদি জানান, “প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, শক্তি, মহাকাশ, ক্লিন এনার্জি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সারসহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা করেছি।” কানাডায় জি৭ সম্মেলনে সন্ত্রাস দমনে ভারতের অবস্থানের কথা বিশ্বের রাষ্ট্রনেতাদের কাছে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর জন্য মঙ্গলবার ওই সম্মেলনে রাষ্ট্রনেতাদের ধন্য়বাদও জানান। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলাকে ‘মানবতা’-র উপর হামলা বলে মন্তব্য করেন। এদিন জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠকও করেন মোদি।

    নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ঐকমত্য

    ভারত ও কানাডা (India Canada) ঘোষণা করেছে, তারা নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ করবে। এর মাধ্যমে নাগরিক এবং ব্যবসায়িক পরিষেবা স্বাভাবিক করার দিকে এগনো যাবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “দুই নেতা পারস্পরিক সম্মান, আইনের শাসন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।” মোদি আরও বলেন, “জি-৭ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে ধন্যবাদ জানাই। ২০১৫ সালের পর আবার কানাডায় আসার সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।” তিনি বলেন, ভারত-কানাডা সম্পর্ক বহু দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। “অনেক কানাডিয়ান কোম্পানি ভারতে বিনিয়োগ করেছে। একইভাবে ভারতীয় কোম্পানিও কানাডায় নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই দুটি দেশ একসঙ্গে কাজ করে মানবতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।”

    নিজ্জর হত্যা ও সম্পর্কের অবনতি

    ২০২৩ সালের জুন মাসে খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী হরদীপ সিং নিজ্জরের হত্যাকাণ্ডের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। কানাডা ভারতের কয়েকজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তার হাইকমিশনার ও পাঁচজন কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নেয় এবং পাল্টা কানাডিয়ান কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। ভারতের অভিযোগ, কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার খালিস্তানপন্থীদের কার্যকলাপে প্রশ্রয় দেন। চলতি বছর মার্চ মাসে অর্থনীতিবিদ মার্ক কার্নি কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হন। ট্রুডোর পদত্যাগের পর ভারত আশা করে, নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।

    ভারত-কানাডা সম্পর্কের উন্নতি

    মার্ক কার্নি ক্ষমতায় এসেই ভারতের (India Canada) সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছিলেন। জি৭ সম্মেলনে সেই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে বলে দাবি দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। উভয় দেশই একে অপরের রাজধানীতে হাইকমিশনারদের পুনরায় নিয়োগ করতে সম্মত হয়েছে বলেই খবর। সম্প্রতি দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থা আবার যোগাযোগ শুরু করেছে। কানাডা এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের বন্ধুত্বকে মজবুত করার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী আমরা।’’ কার্নির দাবি, ‘‘দুই দেশই জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সহযোগিতার কথা ভাবছে।’’ উল্লেখ্য, কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ, যা দেশটির জনসংখ্যার ৪.৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৭.৭ লক্ষ শিখ সম্প্রদায়ের। এছাড়া প্রায় ১০ লক্ষ ভারতীয় ছাত্র, পেশাদার ও অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কানাডায় বসবাস করছেন। ২০২২ সালে কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় শিক্ষার্থীরাই ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ (৪১ শতাংশ)। তবে সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের ফলে ভারতীয় ছাত্র ও কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় উভয়েই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

  • PM Modi: অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম বিদেশযাত্রা, তিন দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    PM Modi: অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম বিদেশযাত্রা, তিন দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে কানাডা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেখানে এবার আয়োজন করা হয়েছে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের (G7 Summit)। ভারত জি৭-এর সদস্য নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ পেয়েছেন অতিথি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে। কানাডা যাওয়া-আসার পথে আরও দুই দেশে পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। এই দেশগুলি হল সাইপ্রাস এবং ক্রোয়েশিয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফর নানা দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের জেরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। তারপর এটাই হবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। খালিস্তানপন্থী ইস্যুতে ভারত-কানাডা সম্পর্ক ঠেকেছে তলানিতে। তারপর এই প্রথম কানাডায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৬-১৭ জুন কানাডার কানানাস্কিস সফর করবেন। এখানেই হবে জি৭ শীর্ষ সম্মেলন। এতেই যোগ দেবেন তিনি। এই সম্মলেন তিনি বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরবেন। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবন।

    বিদেশ সফর শুরু (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এবারের বিদেশ সফর শুরু হবে ১৫ জুন, রবিবার। ১৫-১৬ জুন তিনি সফর করবেন সাইপ্রাস। ১৬-১৭ জুন তিনি যোগ দেবেন কানাডায় জি৭ সম্মেলনে। ১৮ জুন আনুষ্ঠানিক সফর করবেন ক্রোয়েশিয়া। তারপরেই দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত ও কানাডাকে উদ্দীপ্ত গণতন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করে বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, নয়াদিল্লির বিশ্বাস, জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর পার্শ্ববৈঠক মত বিনিময় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথ অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দেবে।

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য

    শনিবার বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “গত সপ্তাহে আমাদের প্রধানমন্ত্রী কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি ফোনকল পেয়েছিলেন। সেই আলাপচারিতায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি প্রধানমন্ত্রীকে জি৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান (G7 Summit)। আপনারা জানেন, সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হয়েছে (PM Modi)।”

  • G7 Summit: জি৭ সামিটে ভারতকে কেন আমন্ত্রণ? কারণ ব্যাখ্যা করলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি

    G7 Summit: জি৭ সামিটে ভারতকে কেন আমন্ত্রণ? কারণ ব্যাখ্যা করলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জি৭ সামিটে (G7 Summit) আমন্ত্রণ পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নেবে ভারত। ১৫ থেকে ১৭ জুন কানাডার আলবার্টার কানানাসকিসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ওই সম্মেলন। যদিও ভারত জি৭-এর সদস্য নয়, তবুও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান (Canada PM) প্রভাবের কারণে এবারের জি৭ সভাপতির দায়িত্বে থাকা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

    কার্নির বক্তব্য (G7 Summit)

    ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্নি বলেন, ‘‘কিছু দেশ আছে যাদের এই আলোচনার টেবিলে থাকা উচিত। ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি, সর্বাধিক জনবহুল দেশ এবং একাধিক বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কেন্দ্রবিন্দু।’’ তাঁর এই মন্তব্য ভারতকে বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে তুলে ধরে। জানা গিয়েছে, শীর্ষ সম্মেলনের অ্যাজেন্ডায় গুরুত্ব দেওয়া হবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সুরক্ষিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার অগ্রগতি সাধন এবং বিশ্বসেরা অর্থনীতি ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর। প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, উদ্দীপনাপূর্ণ গণতন্ত্র হিসেবে, যাদের মধ্যে গভীর জনসম্পর্ক রয়েছে, ভারত ও কানাডা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন উদ্যমে এক সঙ্গে কাজ করবে।

    শিখ অধিকার সংগঠন

    ভারতকে আমন্ত্রণ জানানোয় কার্নির ওপর বেজায় খাপ্পা কানাডার শিখ অধিকার বিভিন্ন সংগঠন। তারা কার্নির এই পদক্ষেপের ব্যাপক সমালোচনা করেছে। তারা ২০২৩ সালে হরদীপ সিং নিজ্জর নামে এক খালিস্তানপন্থীর হত্যার তদন্তের উল্লেখ করেছে। কার্নি বলেন, “এই বিষয়ে একটি আইনগত প্রক্রিয়া কানাডায় চলছে এবং অনেকটাই এগিয়ে গেছে… এই ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া চলাকালে মন্তব্য করা কখনোই উপযুক্ত নয়।” জানা গিয়েছে, চারজন ভারতীয় নাগরিককে নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তেজনা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কথাবার্তা ফের শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত (Canada PM), ভারত এখনও কানাডার দশম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

    ভারতের গুরুত্ব

    কার্নি বলেন, ‘‘এই ধরনের (G7 Summit) আলোচনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট দেশকে অবশ্যই আলোচনার টেবিলে থাকতে হবে, জি৭-এর চেয়ার হিসেবে আমি এই পরামর্শ দিচ্ছি। তিনি বলেন, ভারত বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি কার্যত বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খলের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। তাই এর অংশগ্রহণ পুরোপুরি যুক্তিসঙ্গত। এর পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিকভাবে আমরা এখন নিয়মিত আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছি, যা একটি অগ্রগতি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই প্রেক্ষাপটে আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম এবং তিনি তা গ্রহণও করেছেন।’’

    মোদির প্রতিক্রিয়া

    কার্নির ফোন পেয়ে যারপরনাই আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বলেন, ‘‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক জে কার্নির ফোনকল পেয়ে আনন্দিত। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানালাম এবং এই মাসের শেষের দিকে কানানাসকিসে অনুষ্ঠিতব্য জি৭ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানালাম (G7 Summit)। প্রাণবন্ত গণতন্ত্র হিসেবে, যাদের মধ্যে গভীর জনসংযোগ রয়েছে, ভারত ও কানাডা পারস্পরিক সম্মান এবং অভিন্ন স্বার্থকে পথনির্দেশ করে নয়া উদ্যমে এক সঙ্গে কাজ করবে। সম্মেলনে আমাদের সাক্ষাতের (Canada PM) অপেক্ষায় রইলাম।’’ এবার জি৭-এর আয়োজক দেশ কানাডা। তাই কানাডাই আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারতকে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট।

    জি৭ সম্মেলন

    আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন কানাডায় হবে ৫১তম জি৭ সম্মেলন। রীতি অনুযায়ী, আয়োজক দেশ জি৭-এর বাইরে থাকা কিছু দেশকেও বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু এতদিন ভারতের কাছে কানাডার তরফে এমন কোনও আমন্ত্রণ না আসায় জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা না করেই কংগ্রেস দাবি করেছে জি৭ সম্মেলনে মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি ভারতের আরও একটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে দাবি করে সোনিয়া গান্ধীর দল। তার পরে পরেই আসে কার্নির আমন্ত্রণ। মুখ পোড়ে কংগ্রেসের (G7 Summit)।

    প্রসঙ্গত, জি৭ হল বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশগুলির একটি গোষ্ঠী। এর সদস্য দেশগুলি হল ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ব্রিটেন, জাপান, আমেরিকা এবং কানাডা। এই বৈঠকে ভারতের (Canada PM) প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আমন্ত্রিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক এবং রাষ্ট্রসংঘও (G7 Summit)।

LinkedIn
Share