Tag: india china relations

india china relations

  • Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    Operation Sindoor: ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর ফের তৈরি জঙ্গিঘাঁটি! প্রকাশ্যে বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা, মুজফফরাবাদে নির্মাণের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হওয়া পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ফের গড়ে তোলা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা একাধিক এক্সক্লুসিভ ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে ওই ঘাঁটিগুলিতে নতুন করে নির্মাণকাজের চিহ্ন। নতুন ইট ও নতুন দেওয়াল দিয়ে ফের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সংবাদ প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় ভারতের হামলায় বাহাওয়ালপুর, সাওয়াই নালা এবং মুজফফরাবাদে থাকা জঙ্গি পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল। এবার সেখানেই নতুন করে নির্মাণের প্রমাণ মিলেছে।

    লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের ছবি (Operation Sindoor)

    প্রতিবেদনে প্রকাশিত প্রথম ভিডিয়োটি লস্কর-ই-তৈবার সাওয়াই নালা শিবিরের বলে দাবি করা হয়েছে। এই শিবিরটি জঙ্গিদের থাকার জন্য ব্যবহৃত (POK) হত। অপারেশন সিঁদুরের সময় শিবিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই ফের শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ।

    দ্বিতীয় যে ছবি সামনে এসেছে, সেটি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদের সাইদা বিলাল শিবিরের। এই ঘাঁটিটি জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম কেন্দ্র। অপারেশন সিঁদুরের সময় এখানেও হামলা চালানো হয়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল। এখন সেখানেও নতুন ইট দিয়ে নতুন করে দেওয়াল নির্মাণের ছবি দেখা যাচ্ছে।

    ধ্বংস হওয়া ঘাঁটি ফের গড়ে তোলার চেষ্টা?

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের রিপোর্টেও ওই জঙ্গিঘাঁটিগুলির উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অভিযানে এই জঙ্গি পরিকাঠামোগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছিল।

    তবে নতুন করে নির্মাণের ছবি সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তানের মাটিতে ফের জঙ্গি পরিকাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে কি না। নতুন দেওয়াল এবং ইটের কাঠামো সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের অবস্থানে বড় পরিবর্তন’

    গত মাসে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে বলেছিলেন, অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযানে শুধু সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করা হয়নি, প্রতিবেশী দেশের গভীরে থাকা জঙ্গিদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়েছিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর। নারাভানে বলেন, জঙ্গিদের যারা মদত দেয়, তারা দেশের যে প্রান্তেই থাকুক না কেন, ভারতীয় পদক্ষেপ থেকে তাদেরও রেহাই নেই—এই বার্তাই ওই অভিযানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

    তিনি বলেন, এর আগে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। উরি এবং পুলওয়ামার হামলার পরের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে নারাভানে বলেন, “এর আগে যখনই এই ধরনের হামলা হয়েছে—উরির পর কিংবা পুলওয়ামার পর বালাকোটে হামলার সময়—আমরা মূলত সীমান্তের কাছাকাছি থাকা জঙ্গিঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করতাম।”

    সির ক্রিকে পাকিস্তানের তৎপরতা নিয়েও মন্তব্য

    সির ক্রিক এলাকায় পাকিস্তানের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং তথাকথিত ‘অপারেশন আবাবিল’ চালানোর খবর নিয়েও প্রশ্ন করা (Operation Sindoor) হয়েছিল প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে। নারাভানে জানান, এই ধরনের কার্যকলাপ হয়ে থাকে। তবে ওই অভিযান সম্পর্কে তাঁর কাছে সম্পূর্ণ তথ্য নেই।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও বার্তা নারাভানের

    ভারত-চিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে নারাভানে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সাম্প্রতিক বৈঠককে দুই দেশের দীর্ঘদিনের (POK) সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে।

    তিনি জানান, এটি দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার আলোচনা। অর্থাৎ এই বৈঠক প্রথমবারের ঘটনা নয়। তাঁর মতে, এই (Operation Sindoor) আলোচনার ক্ষেত্রে মূল বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি—ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও সীমান্ত বিরোধ রয়েছে।

     

  • Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Modi Xi Meeting) বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। দুই দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পার্টনার হিসেবে দেখবে—এই বিষয়টিকেই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে তুলে ধরেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)।

    গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে আসা জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উচ্ছ্বসিত ওয়াং জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চিন সম্পর্কের কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদি এবং বৃহত্তর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেন।

    ভারত-চিন অংশীদারিত্বে জোর (Modi Xi Meeting)

    ওয়াং বলেন, দুই নেতার মধ্যে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা হল ভারত ও চিনকে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। চিনের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বৈঠকে বলেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তির সদ্ব্যবহার করতে পারে, পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

    ওয়াং আরও বলেন, মোদি এবং জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্কের যে উন্নতি হয়েছে, তা শুধুমাত্র সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার পর্যায়ে নেই; বরং তা নয়া উচ্চতায় উন্নীত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রও।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বার্তা

    ভারত ও চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা যৌথভাবে বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াং। তিনি বলেন, দুই পক্ষ রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মতপার্থক্য ও বিরোধগুলি যথাযথভাবে পরিচালনা করার এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

    মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বাধাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারত-চিন সম্পর্ক এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে অগ্রগতির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর মতে, এই দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতি পরস্পরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    ওয়াং জানিয়েছেন, জিনপিংয়ের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিবাচক সাড়া দেন। মোদি স্পষ্ট করেন, ভারত কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখে (Modi Xi Meeting)।

    চিনের প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হতে প্রস্তুত ভারত

    বৈঠকের বিষয়ে ওয়াংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত চিনের প্রতিপক্ষ নয়, পার্টনার হতে প্রস্তুত। মোদি আরও বলেছেন, দুই দেশের উন্নয়নকে ভারত কোনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে একটি সুযোগ হিসেবেই দেখতে চায়। ওয়াং বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে চিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান বজায় রাখা, কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ব্রিকস-সহ বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা

    ব্রিকসে একে অপরের সভাপতিত্বকে সমর্থন করার বিষয়েও মোদি ও জিনপিং একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াং (Wang Yi)। রাষ্ট্রসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং জি২০-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগমূলক আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। ওয়াং বলেন, ভারত ও চিনের উচিত পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা (Modi Xi Meeting)।

    ঐকমত্য বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে চিন

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, মোদি ও জিনপিংয়ের বৈঠকে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বেজিং। তিনি বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান আরও গভীর করা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিতে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে (Modi Xi Meeting)।

    গুও আরও জানান, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য চিন তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশ পরস্পরের উন্নয়নকে সমর্থন করবে, যাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা যায়।

    ব্রিকস বৈঠকের পর চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং (Wang Yi) ফের জোর দিয়ে বলেন, ভারত ও চিনের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অংশীদারিত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। সীমান্তে শান্তি, ব্রিকসে সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে (Modi Xi Meeting)।

  • PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সম্মানে শনিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন (Gala Dinner)।

    নৈশভোজের আসরে রাষ্ট্রনেতারা (PM Modi)

    নৈশভোজে যোগ দিতে প্রথমে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর সেখানে আসেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

    ভারতের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতেই এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং অর্জুন রাম মেঘওয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ একাধিক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে বাসে করে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, শিবরাজ সিং চৌহান ও কিরেন রিজিজু-সহ অন্য মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে ভারত মণ্ডপমের উদ্দেশে রওনা দেন।

    নৈশভোজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

    নৈশভোজ উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “নবরস—অভিন্ন অনুভূতির মহাবিশ্ব” পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি ছিল ব্রিকসের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান “এক ছন্দ, বহু সংস্কৃতি”। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির শিল্পীরা যৌথভাবে এই সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

    বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে একত্রিত করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল ব্রিকস পরিবারের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক ঐক্যের ভাবনাকে তুলে ধরা।

    এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতভাবে ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। এই ঘোষণায় বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের দাবি জানানো হয়েছে।

    মোদি-জিনপিং বৈঠক

    শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-চিন সম্পর্ককে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জিনপিং।

    জিনপিং বলেন, “দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দুই দেশ একে অপরের থেকে ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি।”

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এবং আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

    তিনি জানান, ১২ বছরের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় নয়াদিল্লি সফর। এই সময়ে দুই দেশের দুই নেতা ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

    বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চিনের অভিন্ন দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন জিনপিং। তিনি বলেন, “দুই দেশ ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি। চিন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের অংশ। মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কারণে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের স্বার্থকে ভিত্তি করে উচ্চমানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ও অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।”

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মোদির

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    তিনি বলেন, “আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্রিকস সম্মেলনে আপনার ইতিবাচক বক্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

    মোদি আরও বলেন, “এখন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। আবারও আপনাকে ভারতে আন্তরিক স্বাগত জানাই।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত-চিন বৈঠকের আগে ব্রিকস দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামো রক্ষার ওপর জোর দিয়ে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা অসামরিক পরিকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাতের সময়ও পরমাণু নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা যাতে সম্পূর্ণ ও বাধাহীনভাবে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আগামী বছর ব্রিকসের দায়িত্ব চিনের

    জিনপিং ঘোষণা করেন, আগামী বছর চিন ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং (PM Modi) উনিশতম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

    চিনের মুখপাত্র মাও নিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বলেন, “চিন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐকমত্য তৈরি করবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে।”

    তিনি আরও (BRICS) বলেন, “আমরা একসঙ্গে ব্রিকস সহযোগিতার তৃতীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করব।”

    উল্লেখ্য, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর (Gala Dinner) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলনের মূল ভাবনা হল “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ” (PM Modi)।

     

     

  • XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার ভারতে পৌঁছলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (XI Jinping)। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। জিনপিংকে স্বাগত জানাতে উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক দল ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, “১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আগত গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। ব্রিকস যখন সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিনিধিত্বশীল ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনে অবদান রাখছে, তখন আমরা গঠনমূলক আলোচনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”

    জিনপিংয়ের সঙ্গী (XI Jinping)

    জিনপিংয়ের সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ দফতরের পরিচালক ছাই ছি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন চিনের সাংবাদিক ওয়েনতিং শিয়ে। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে তা ভারত ও চিন—উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা করবে।

    তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। দুই দেশই বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমার মনে হয়, চিন ও ভারত একসঙ্গে কাজ করলে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বিশ্ব দক্ষিণের উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

    তিনি আরও বলেন, “চিন ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত। যোগাযোগ আরও জোরদার করা, সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মতপার্থক্যগুলি যথাযথভাবে সামাল দেওয়া এবং একে অপরের সাফল্যে সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুই দেশেরই উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। চিন ও ভারতের সহযোগিতা বিশ্ব দক্ষিণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। আর গ্লোবাল সাউথও সেটিই দেখতে চায় (XI Jinping)।”

    চিনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে যে ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনেও গ্লোবাল সাউথের সহযোগিতা নিয়ে একই ধরনের উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরতে পারেন।

    দায়িত্বে চিন

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের দায়িত্ব নেবে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার বিভিন্ন মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করবে চিন।

    একই সঙ্গে অভিন্ন উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ, বিশ্ব নিরাপত্তা উদ্যোগ, বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ এবং বিশ্ব শাসন উদ্যোগের মতো কর্মসূচির উপরও জোর দেওয়া হবে। ডিজিটাল অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং কৃষির উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করবে চিন।

    এদিকে, ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা— “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। এই ভাবনায় বিদ্যমান সাফল্যগুলিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপর ভারতের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

    সম্মেলনের আলোচনায় উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষাকেও সামনে রাখা হয়েছে। ভারত ব্রিকসকে (BRICS Summit) আরও গঠনমূলক এবং সমস্যা সমাধানমুখী আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে শক্তিশালী করতে চায় বলেই অভিমত (XI Jinping) বিশেষজ্ঞদের।

     

  • PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ব্যক্তিগত কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত (SCO Summit) দেখা গেল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে খানিক সময়ের জন্য হাত মেলাতে দেখা গেল। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ইরিস অর্দো কংগ্রেস হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যামেরার সামনে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য বিনিময় (PM Modi)

    ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। সীমান্তে একাধিক পর্যায়ে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলিকেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভারত চলতি মাসের শেষ দিকে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে। মোদির আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনপিং, আশ্বাস দেন চিনের পক্ষ থেকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি সমর্থনের। এই ঘটনাকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত বিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনা সাংবাদিকের বক্তব্য

    ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিনা বিশ্ব টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ঝাও ইউনফেই মঙ্গলবার বলেন, দুই দেশের উচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ঝাও ইউনফেইয়ের মতে, এই দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এর ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত ও চিন প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সত্যিই ভালো হবে। চিন সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিবেশী, তাই আমাদের সমস্ত মতপার্থক্য মিটিয়ে এক সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সত্যিই একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। আশা করি, ব্রিকসও দুই পক্ষের জন্য একটি ভালো মঞ্চ হবে।”

    ভারতে আসবেন জিনপিং!

    ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝাও বলেন, চিনা নেতার কর্মসূচি সম্পর্কে (SCO Summit) তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন (PM Modi)।

    ঝাও বলেন, “আমাদের কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট শি-র কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। অবশ্যই ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সদস্যরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। গত ২৬ অগাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে জেনারেল স্তরের ব্যবস্থা বা সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য আরও দু’টি বৈঠকস্থল নির্ধারণে সম্মত হয়েছে।

    গলছে সম্পর্কের বরফ!

    এর পাশাপাশি সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক হটলাইন যোগাযোগের জন্য আরও দু’টি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই সিদ্ধান্ত ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৫তম দফার আলোচনায় অর্জিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যের অংশ। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন (SCO Summit)।

    সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামরিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ভারত-চিন সম্পর্কের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

    দূর সীমান্তে আশার আলো

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান না হলেও, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্তরে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর (PM Modi)।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের করমর্দন যেমন প্রতীকী বার্তা বহন করছে, তেমনই ব্রিকসের আসন্ন মঞ্চ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—দুই দেশের সামনে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে আগামী দিনে (SCO Summit) বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলি ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন (PM Modi)।

     

  • Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও রাজনৈতিক নেতার স্মৃতিকথা তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং সমকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই বই প্রকাশে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু কোনও বইয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক সংগঠন (Congress), ভারত-চিন সীমান্ত কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও দাবি থাকলে বিষয়টি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সামনে আসে তথ্য, প্রমাণ এবং প্রকাশকের দায়িত্বের প্রশ্ন। এই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi Book Row) প্রস্তাবিত স্মৃতিকথা “বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ”। বইটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বইটিকে ৫৪৪ পৃষ্ঠার একটি স্মৃতিকথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক (Sonia Gandhi Book Row)

    ভারতে বইটির প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের কথিত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সোনিয়া সেই পরিবর্তনগুলি মেনে নেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর পরেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে, একই বই বিদেশে প্রকাশিত হলেও ভারতে কেন প্রকাশিত হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তোলেন। কিন্তু বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রকাশকের বক্তব্যের পর।

    পেঙ্গুইনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    ২৮ অগাস্ট পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে জানায় যে ভারতে “বিলংগিং” বইটির প্রকাশক তারা নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, সোনিয়া সম্পাদকীয় পরিবর্তন মেনে না নেওয়ায় তারা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত বদল করেছে—এমন দাবি পুরো পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। প্রকাশকের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য যাচাই করা এবং লেখকদের সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময় বইটি প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি (Congress)। এই বক্তব্যের পর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—প্রকাশক নিজেই যখন সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করছে না, তখন সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে বই প্রকাশ না হওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্ত করার ভিত্তি কী?

    প্রশ্ন শুধু সোনিয়ার বই নিয়ে নয়

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ কি কোনও লেখক যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কোনও দাবি করতে পারবেন এবং প্রকাশককে তা তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করতে হবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং আইনি পর্যালোচনা প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনও বইয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ, সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর মন্তব্য, সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অথবা কোনও দেশের সীমান্ত নিয়ে দাবি থাকলে সেই দাবির ভিত্তি খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক। লেখকের লেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও প্রকাশককে নির্দিষ্ট আকারে সেই লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

    ভারত-চিন সীমান্তের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়

    সোনিয়ার বইকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে চিনের কার্যকলাপ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয় নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও স্মৃতিকথায় যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, কোনও সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি, অথবা কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাহলে পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে—এগুলি কি লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নাকি যাচাই করা তথ্য? এখানেই প্রকাশকের দায়িত্ব শুরু হয়। তথ্য চাওয়া সেন্সরশিপ নয়। বরং বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করাই প্রকাশকের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি লেখেন, কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কথা বলেছিলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। কিন্তু একই বইয়ে কোনও সামরিক ঘটনা, সীমান্ত বিরোধ বা সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হলে সেই দাবির প্রকৃতি বদলে যায় (Sonia Gandhi Book Row)। তখন প্রশ্ন উঠবেই—এর উৎস কী? কোনও নথি রয়েছে কি? অন্যান্য সূত্র কী বলছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি? সরকারি নথি বা জনসমক্ষে থাকা তথ্য দিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় কি? এই প্রশ্নগুলি করা লেখকের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং পাঠকের জানার অধিকার রক্ষা করা (Congress)।

    কংগ্রেসের যুক্তি এবং তার দুর্বল জায়গা

    কংগ্রেসের নেতারা গোটা ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অশোক গেহলট, কমল নাথ-সহ দলের একাধিক নেতার প্রশ্ন, বিদেশে বইটি প্রকাশিত হতে পারলে ভারতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না। অবশ্যই এটি গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্যও প্রয়োজন জোরালো প্রমাণ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে বইয়ের কোনও অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা উচিত। কোনও সরকারি আধিকারিক প্রকাশকের উপর চাপ দিয়ে থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা উচিত। কোনও মন্ত্রক বইটি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। বর্তমানে প্রকাশকের যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তাতে এমন কোনও সরকারি নির্দেশের উল্লেখ নেই। বরং সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রকাশক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইকেই প্রকাশনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাই এই পর্যায়ে “মোদি সরকার বইটি আটকে দিয়েছে”—এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা যায়।

    লেখকের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের স্বাধীনতা

    এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে কি প্রকাশকের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যায় (Sonia Gandhi Book Row)? সোনিয়ার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই কোনও পাণ্ডুলিপিতে তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে হলে প্রকাশকের লেখককে প্রশ্ন করার অধিকারও রয়েছে। লেখক কোনও পরিবর্তন গ্রহণ করতে না চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। একইভাবে, সেই আকারে বই প্রকাশ করতে প্রকাশক অনিচ্ছুক হলে সেটিও প্রকাশকের অধিকার। গণতন্ত্র উভয় পক্ষের স্বাধীনতার কথা বলে। এক পক্ষের স্বাধীনতা যখন অন্য পক্ষের উপর বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তখনই ব্যবস্থাটি অসুস্থ হয়ে ওঠে।

    পেঙ্গুইনের আগের বিতর্কও কি প্রাসঙ্গিক?

    পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার নাম এর আগেও বিতর্কিত প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে জো সাকোর গ্রাফিক প্রতিবেদন “দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট” ভারতে বিতরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। সাকোর দাবি ছিল, বইয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি উদ্ধৃতি নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পরিবর্তন চেয়েছিল। অতএব, সোনিয়ার বইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তবে “মোদিকে প্রশ্ন করা” এবং “মোদিকে দোষারোপ করা”—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করা বিরোধী দলের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করাও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভারত-চিন নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় (Congress)। প্রশ্ন করা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা গণতন্ত্রের মানকে দুর্বল করে।

    সরকার বদলালেও কি তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলাবে?

    কংগ্রেস যদি মনে করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে তাদের সেই দাবির প্রমাণ সামনে আনা উচিত। কিন্তু প্রমাণ না থাকলে প্রতিটি সম্পাদকীয় মতপার্থক্যকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরলে রাজনৈতিক বিতর্কের গভীরতা কমে যায়। আগামী দিনে সরকার বদলালে কি এই মানদণ্ডও বদলে যাবে? এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তার আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে কি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকাশনার স্বাধীনতার মানদণ্ডও বদলে যাবে? উত্তর হওয়া উচিত—না। আজ বিজেপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তথ্য যাচাই প্রয়োজন। আগামীকাল যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং কোনও কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগসম্বলিত বই প্রকাশিত হয়, তাহলেও তথ্য যাচাই প্রয়োজন হবে। এটাই গণতান্ত্রিক নীতি। রাজনৈতিক দল বদলায়। সরকার বদলায়। প্রধানমন্ত্রী বদলায়। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলানো উচিত নয় (Sonia Gandhi Book Row)।

    সেনাবাহিনী নিয়ে কে কী লিখতে পারেন, প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    চিন এবং ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত অংশের কথা সামনে আসায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, সিদ্ধান্ত এবং মোতায়েন নিয়ে গুরুতর কোনও দাবি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্পর্কিত কোনও বক্তব্য যাচাই না করেই গ্রহণ করা সমীচীন নাও হতে পারে। এখানে উদ্দেশ্য কোনও সরকারকে রক্ষা করা হওয়া উচিত নয়। কোনও সরকার সীমান্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক প্রশ্ন থাকা উচিত। সেনাবাহিনীর কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। চিন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা দরকার। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত।দেশপ্রেমের অর্থ সরকারের বলা প্রতিটি কথাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নামে কোনও যাচাই না-করা দাবিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও দেশপ্রেম নয়। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু সোনিয়ার বই প্রকাশিত হবে কি না, তা (Congress) নয়। প্রশ্ন হল—গণতন্ত্রে লেখকের স্বাধীনতা, প্রকাশকের স্বাধীনতা এবং পাঠকের সত্য জানার অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না (Sonia Gandhi Book Row)।

     

  • India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেজিংয়ে দু’দিনের সফরে গিয়ে মঙ্গলবার চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA Ajit Doval) অজিত ডোভাল। বৈঠকে ভারত-চিন (India China Talks) সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

    ডোভালের চিন সফর (India China Talks)

    ডোভালের চিন সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠক। মঙ্গলবারই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার কথা ডোভালের। সীমান্ত-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২৫ অগাস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা

    সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা ২০০৩ সালে গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছিল (NSA Ajit Doval)। এবারের বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এবারের আলোচনায় সীমান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা।

    “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” আলোচনা

    ডোভাল ও ওয়াং ই-র মধ্যে এর আগে জুন মাসে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠকে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক দুই পক্ষের আলোচনাকে “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” বলে বর্ণনা করেছিল। তখন সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (India China Talks)। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছিল। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যায়।

    মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক

    এর পর ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি এবং অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় (NSA Ajit Doval)। ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল সহযোগিতা শুধু দুই দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বহুমেরু বিশ্ব এবং বহুমেরু এশিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডোভালের বেজিং সফরের গুরুত্ব

    অজিত ডোভালের এবারের বেজিং সফর সেই বৃহত্তর সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, তেমনই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোই আপাতত নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য (India China Talks)।আগামী দিনের ভারত-চিন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হবে, তার ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, সামরিক উত্তেজনা এড়ানো এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্ব অনেকটাই নির্ভর করছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র ২৫তম দফার বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে (NSA Ajit Doval) আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ (India China Talks)।

     

  • Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই সোমবার বেজিং গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবসানে ২০০৩ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার অধীনে এটি হবে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

    জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগে ডোভালের বেজিং সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত বা চিন—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি-র সফরের কথা ঘোষণা করেনি, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। সে ক্ষেত্রে সাত বছর পর প্রথম বার ভারতে আসবেন শি। গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর।

    অরুণাচলে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি অবস্থান (Ajit Doval)

    চিনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সীমান্ত বৈঠকের জন্য ডোভালের এই সফরের মধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তথাকথিত অনুপ্রবেশের মাত্রা নিয়ে এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমার মনে হয়, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ কাল পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত খারাপ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।” লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই সংঘাতের জেরে গত ছ’দশকের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সীমান্তে কি মিলবে সমাধানের পথ?

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে লাদাখে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর রাশিয়ায় জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দুই নেতা স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার বিষয়ে একমত হন।

    এর পর ভারত ও চিনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু করা, চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখনও চোখে পড়ার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    ডোভালের বেজিং সফরে যদি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়, তা হলে আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।

    বৈঠকের আলোচনায় কী থাকবে?

    বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করা (Ajit Doval)।

    গত ৬ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক কর্মব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আগের বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্ত-পারাপার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    ডোভালের আসন্ন বেজিং সফরে সেই আলোচনাই আরও (Xi Jinping) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং ভারত-চিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর বিষয়ে দু’দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, সেটাই দেখার (Ajit Doval)।

  • Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সম্প্রতি বেজিংয়ে প্রথমবারের মতো ‘ওপেন হাউস’ (Indian Embassy Open House) কর্মসূচির আয়োজন করে ভারতীয় দূতাবাস। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সোশাল মিডিয়ায় ভারত ও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপমানজনক মন্তব্যের বিষয়টি।

    অনলাইনে ভারতবিরোধী প্রচার নিয়ে উদ্বেগ

    প্রবাসীদের অভিযোগ, চিনের একাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে ভুল তথ্য, নেতিবাচক প্রচার এবং ভারতীয়দের লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট শুধু ভারতীয়দের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি করছে। তাই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

    আলোচনায় ভিসা, চাকরি ও পারিবারিক সমস্যাও

    শুধু অনলাইন বিদ্বেষ নয়, বৈঠকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাও জোরালোভাবে উঠে আসে। চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) একাংশ জানান, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য কাজের ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেকের স্বামী বা স্ত্রীর চাকরির ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে চিনে বসবাস করাও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা নিয়ে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস?

    প্রবাসীদের বক্তব্য শোনার পর ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, ভারতবিরোধী বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং প্রবাসীদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যাও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সংলাপ চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয় দূতাবাস।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনা যে কোনও দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দিক থেকে বেজিংয়ের এই ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নজরে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

    এই বৈঠকের পর প্রবাসী ভারতীয়দের প্রত্যাশা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা এবং অনলাইনে ভারতবিদ্বেষী প্রচারের মতো বিষয়গুলিতে ভারতীয় দূতাবাস আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে নিয়মিত এই ধরনের ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি হলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

  • Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    Xi Jinping: সেপ্টেম্বরেই আসতে পারেন শি জিনপিং, গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম ভারত সফরে চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ছ’বছর পরে ভারতে আসতে পারেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে (BRICS Summit) যোগ দিতে আসতে পারেন তিনি। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা। সফর চূড়ান্ত হলে ২০২০ সালের গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটাই হবে জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। ওই সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে গিয়ে পৌঁছেছিল।

    জিনপিংয়ের ভারত সফর (Xi Jinping)

    ২০১৩ সাল থেকে চিনের প্রেসিডেন্টে পদে রয়েছেন জিনপিং। এর আগে তিনবার ভারত সফরে এসেছেন তিনি। তাঁর শেষ ভারত সফর হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর কয়েক মাস পরেই এলওসি (প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা) বরাবর পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কে আমূল পরিবর্তন আনে। জিনপিংয়ের সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চিন সফরের সম্ভাবনাও রয়েছে। সেখানে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও, সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর বৈঠকও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। এরপর সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

    অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ

    বিশেষ প্রতিনিধিদের আসন্ন বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ ও সমন্বয়ের কার্যপ্রণালীর কাঠামোর অধীনে নতুন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী এবং একটি কার্যকরী গোষ্ঠী গঠনের বিষয়ে ভারত ও চিন সম্মত হওয়ার পর এই প্রথম বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে চলেছে। এই আলোচনায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি ও কূটনৈতিক স্তরে অগ্রগতি ঘটানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের গতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষই যৌথভাবে কাজ করছে। এলওসি বরাবর অমীমাংসিত সমস্যাগুলির সমাধানের পাশাপাশি কৌশলগত আস্থা পুনর্গঠন, নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা এড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোই এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।

    গলওয়ান সংঘর্ষের পর এই প্রথম

    জিনপিংয়ের সফর চূড়ান্ত হলে ব্রিকস সম্মেলনের বাইরেও এর তাৎপর্য থাকবে। প্রায় ছ’বছর পর ভারতে তাঁর উপস্থিতি এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর প্রথম সফর হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজর কাড়বে। সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের (Xi Jinping) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে তামাম বিশ্বের। সম্ভাব্য বৈঠকে সীমান্ত বিরোধ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সম্ভাব্য বৈঠকের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর বেড়ে চলা অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চিন উভয়কেই নতুন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে (BRICS Summit)। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লি বা বেজিং (Xi Jinping)—কোনও পক্ষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সফরটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার সময় পর্যন্ত।

     

LinkedIn
Share