Tag: india defence news

  • INS Taragiri: নীল-জলের যুদ্ধে আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে ভারত, ৩ এপ্রিল নৌসেনায় কমিশন্ড হচ্ছে স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’

    INS Taragiri: নীল-জলের যুদ্ধে আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে ভারত, ৩ এপ্রিল নৌসেনায় কমিশন্ড হচ্ছে স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক সার্বভৌমত্বের লক্ষ্যে আরও শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। আগামী ৩ এপ্রিল, বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হবে অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি (INS Taragiri)’। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র কমিশন হওয়া শুধুমাত্র একটি নতুন যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তি নয়, বরং ভারতের সামুদ্রিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

    শক্তিশালী স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরি…

    প্রজেক্ট ১৭এ-র অধীনে নির্মিত এই ফ্রিগেটটি সিরিজের চতুর্থ জাহাজ। প্রায় ৬,৬৭০ টন ওজনের ‘তারাগিরি’ শুধুমাত্র একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুম্বইয়ের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এ নির্মিত এই জাহাজটি দেশীয় শিপবিল্ডিং শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পূর্ববর্তী শিবালিক-শ্রেণির উপর ভিত্তি করে এই ফ্রিগেট তৈরি হলেও, ‘তারাগিরি’ নকশাগত দিক থেকে এক প্রজন্ম এগিয়ে। এর আধুনিক নকশা এবং কম রেডার ক্রস-সেকশন একে শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

    ব্রহ্মসে সজ্জিত তারাগিরি যে কোনও মোকাবিলায় প্রস্তুত

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘তারাগিরি’-তে ব্যবহৃত উপকরণের ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়ভাবে তৈরি। এর নির্মাণে ২০০-রও বেশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) অংশ নিয়েছে, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও জাহাজটি অত্যন্ত আধুনিক। কম্বাইন্ড ডিজেল অর গ্যাস (CODOG) প্রোপালশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি উচ্চগতি ও দীর্ঘ সময় সমুদ্রে টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র অস্ত্রসজ্জা বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। এর অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস ব্রহ্মস মিসাইল, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) এবং উন্নত অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা। এর কমব্যাট স্যুটে রয়েছে MFSTAR, একটি ৭৬ মিমি সুপার র‍্যাপিড গান, এবং ৩০ মিমি ও ১২.৭ মিমি ক্লোজ-ইন অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয়। জলের নিচে বিপদের মোকাবিলায় এতে রয়েছে অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট ও টর্পেডো। অত্যাধুনিক কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে এই সব ব্যবস্থা একত্রে পরিচালিত হয়, যা যেকোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে।

    ভারত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা—বিশেষত চিনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে—‘আইএনএস তারাগিরি’-র মতো স্টেলথ ফ্রিগেট ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা (maritime deterrence) বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও ‘আইএনএস তারাগিরি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম। এর বহুমুখী ব্যবহারিকতা একে কূটনৈতিক মিশন থেকে শুরু করে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে উপযোগী করে তুলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমেই একটি আধুনিক, সক্ষম এবং আত্মনির্ভর শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র কমিশনিং সেই যাত্রারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও মজবুত করবে এবং ভারতের উত্থানশীল নৌশক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

     

  • Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে মাঝারি-পাল্লার অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) চালিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    যাচাই হলো সব প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও অপারেশনাল প্রস্তুতি

    এই পরীক্ষা পরিচালিত হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (SFC)-এর তত্ত্বাবধানে, যা দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের দায়িত্বে রয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের দ্বারা পরিচালিত এই উৎক্ষেপণে সব অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পরীক্ষা ভারতের প্রতিরোধমূলক কৌশলের (India Nuclear Deterrence) বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ

    অগ্নি-৩ একটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (IRBM), যার আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এর ফলে প্রতিপক্ষ দেশের গভীরে অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্নি সিরিজের অন্যান্য উন্নত ও অধিক পাল্লার সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হয়েছে, তবুও অগ্নি-৩ এখনও ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০১১ সাল থেকে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের পরিষেবায় রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত।

    রমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা

    অগ্নি-৩ (Agni-3 Missile Test) একটি দুই-ধাপের, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা সর্বোচ্চ ১,৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের পেলোড (বিস্ফোরক) বহনে সক্ষম। এটি মূলত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোটন ক্ষমতার ওয়ারহেড বহন করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৭ মিটার এবং ব্যাস ২ মিটার। এর উৎক্ষেপণ ওজন প্রায় ৪৮,৩০০ কিলোগ্রাম। প্রথম ধাপের জ্বালানি শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপ সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্ধারিত পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, যা উড়ানের সময় স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

    “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” বজায় রাখা

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রে স্ট্র্যাপডাউন ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছে, যা জিপিএস-এর সহায়তায় প্রায় ৪০ মিটার সার্কুলার এরর প্রোবাব্যেল (CEP) নির্ভুলতা প্রদান করে। এর প্রথম ধাপটি মারেজিং স্টিল দিয়ে তৈরি মোটর কেস এবং দ্বিতীয় ধাপে কার্বন-ফাইবার মোটর কেস ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় ধাপেই থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল সিস্টেম সংযুক্ত থাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিরক্ষা কর্তারা জানিয়েছেন, এদিনের পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) ভারতের যাচাইকৃত কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তালিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” (India Nuclear Deterrence) বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

  • Tejas Mk-1A: ৬২ হাজার কোটি টাকায় ৯৭টি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত, হ্যালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর

    Tejas Mk-1A: ৬২ হাজার কোটি টাকায় ৯৭টি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত, হ্যালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহু যুদ্ধে অংশ নেওয়া বুড়ো ঘোড়াদের অবসরের আগের দিনই নতুন অশ্ব কেনার বরাত দিল ভারত।

    বায়ুসেনায় মিগ যুগের অবসান

    ভারতীয় বায়ুসেনায় মিগ যুগের অবসান হতে চলেছে৷ আর তার জায়গা নিচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তেজস৷ আজ শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর অবসর নিতে চলেছে বায়ুসেনার কিংবদন্তী মিগ-২১ (MiG-21) যুদ্ধবিমানগুলি। ঠিক তার আগের দিন, ৯৭টি মাল্টি-রোল সুপারসনিক লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট (এলসিএ) তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর সঙ্গে চুক্তি করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। চুক্তির মূল্য ৬২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। গতমাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি এই চুক্তিতে ছাড়পত্র দিয়েছিল৷

    ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ থেকে ডেলিভারি!

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, হ্যাল ৯৭টি যুদ্ধবিমান তৈরি করবে। এর মধ্যে থাকবে ৬৮টি ফাইটার যুদ্ধবিমান। আর বাকি ২৯টি থাকবে টুইন সিটার প্রশিক্ষণ বিমান। ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষ থেকে এই যুদ্ধবিমানের ডেলিভারি শুরু করবে হিন্দুস্তান অ্যারনটিক্স লিমিটেড। বাকি যুদ্ধবিমানগুলি সরবরাহ করা হবে প্রথম ডেলিভারি থেকে শুরু করে ৬ বছরের মধ্যে। এর আগে হ্যালকে ৮৩টি তেজস মার্ক-১ যুদ্ধবিমান তৈরির বরাত দিয়েছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    হাতে আসেনি প্রথম বরাতের প্রথম বিমান!

    এর আগে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বায়ুসেনা ৪৮,০০০ কোটি টাকায় ৮৩টি এলসিএ তেজস মার্ক-১এ বিমানের অর্ডার দিয়েছিল। কিন্তু চার বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্বেও সেই বিমান সরবরাহ শুরু হয়নি। এই নিয়ে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। উৎপাদনকারী সংস্থা হ্যালের তরফে জানানো হয়, আমেরিকা থেকে ইঞ্জিন আসতে দেরি হওয়ার কারণেই এই বিলম্ব। সূত্রের খবর, প্রথম অর্ডারের প্রথম বিমান হাতে আসতে পারে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। হ্যালের নাসিকের কারখানা থেকে প্রথম এলসিএ মার্ক-১এ (Tejas Mk1A) যুদ্ধবিমানটি শীঘ্রই আকাশে উড়বে। তার আগেই কেন্দ্রের তরফে দ্বিতীয় অর্ডার চলে হল।

    মোট ১৮০টি তেজস মার্ক-১এ উৎপাদন

    নতুন বরাতের ফলে, ভারতীয় বায়ুসেনায় মোট ১৮০টি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমান আসতে চলেছে। জানা গিয়েছে, হ্যালের বেঙ্গালুরুর কারখানা প্রতি বছর ১৬টি এবং নাসিকে ২৪টি তেজস মার্ক-১এ (Tejas Mk1A) বিমান তৈরি করতে পারে। সেই অনুযায়ী, ২০৩২ সাল নাগাদ ১৮০টি বিমান সরবরাহ হতে পারে বলে অনুমান। এর মধ্যেই সূত্রের খবর, হ্যাল ভবিষ্যতে আরও ২০০টির বেশি তেজস মার্ক–২ এবং সমসংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের উন্নত মাঝারি যুদ্ধবিমান অ্যামকা তৈরির বড় অর্ডার পেতে চলেছে।

    ১১,৭৫০ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থান

    ৪.৫ প্রজন্মের এলসিএ তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমানগুলির ৬৪ শতাংশই তৈরি হবে দেশীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে। ফলত, প্রায় ৫০০টি দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলি, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপক ব্যবসার সুযোগ পাবে। বার্ষিক প্রায় ১১,৭৫০ জনের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে। প্রকল্পটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অগ্রদূত হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি হতে চলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম বড় প্রতীক।

    উত্তম আয়েসা, স্বয়ম রক্ষা কবচ

    এই ফাইটার জেটগুলিতে ৬৭টি অতিরিক্ত ইক্যুইপমেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উত্তম অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে রেডার (UTTAM AESA), স্বয়ম রক্ষা কবচ এবং কন্ট্রোল সারফেস অ্যাকচুয়েটর্সের মতো ইক্যুইপমেন্ট থাকবে এই ধরনের যুদ্ধবিমানে। ইতিমধ্যেই জিই-৪০৪ ইঞ্জিন এসেছে হ্যালের হাতে। এই ধরনের যুদ্ধবিমানে তৈরির জন্য ওই ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। এই যুদ্ধবিমানে মিড-এয়ার রিফুয়েলিং ক্ষমতা থাকবে।

  • Tejas Mk1A: বায়ুসেনার জন্য অতিরিক্ত ৯৭টি তেজস মার্ক-১এ কিনবে ভারত, ৬২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন কেন্দ্রের

    Tejas Mk1A: বায়ুসেনার জন্য অতিরিক্ত ৯৭টি তেজস মার্ক-১এ কিনবে ভারত, ৬২ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধবিমানের ঘাটতি নিয়ে যখন ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force) প্রধান বারবার আশঙ্কার কথা তুলছেন, ঠিক সেই সময় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে বিরাট পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় সরকার। খবরে প্রকাশ, মঙ্গলবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য ৬২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অতিরিক্ত ৯৭টি এলসিএ তেজস মার্ক-১এ (Tejas Mk1A) যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি বা সিসিএস। এই বিমানগুনি তৈরি করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড বা হ্যাল। এর ফলে, ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি যেমন কয়েকগুণ বেড়ে যাবে, তেমনই প্রকল্পটি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতিকেও আরও শক্তিশালী করবে।

    ১৮০টি তেজস মার্ক-১এ বিমান পাবে বায়ুসেনা

    এর আগে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বায়ুসেনা ৪৮,০০০ কোটি টাকায় ৮৩টি এলসিএ তেজস মার্ক-১এ বিমানের অর্ডার দিয়েছিল। কিন্তু চার বছর অতিক্রান্ত হওয়া সত্বেও সেই বিমান সরবরাহ শুরু হয়নি। এই নিয়ে প্রকাশ্যে উষ্মা প্রকাশ করেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। উৎপাদনকারী সংস্থা হ্যালের তরফে জানানো হয়, আমেরিকা থেকে ইঞ্জিন আসতে দেরি হওয়ার কারণেই এই বিলম্ব। সূত্রের খবর, প্রথম অর্ডারের প্রথম বিমান হাতে আসতে পারে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। হ্যালের নাসিকের কারখানা থেকে প্রথম এলসিএ মার্ক-১এ (Tejas Mk1A) যুদ্ধবিমানটি শীঘ্রই আকাশে উড়বে। তার আগেই কেন্দ্রের তরফে দ্বিতীয় অর্ডার চলে হল। এই অর্ডার আসত, এমন সম্ভাবনা ছিলই। এখন কেন্দ্রের ছাড়পত্র পাওয়ায় তা নিশ্চিত হল। এর ফলে, ভারতীয় বায়ুসেনায় মোট ১৮০টি তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমান আসতে চলেছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতীক

    জানা যাচ্ছে, দ্বিতীয় বরাতের তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমানে দেশীয় উপকরণ ও সরঞ্জামের ব্যবহারের হার আরও অনকটাই বৃদ্ধি পাবে। নতুন তেজস বিমানগুলিতে দেশীয় উপকরণের ব্যবহার হবে ৬৫ শতাংশেরও বেশি। ফলত, প্রায় ৫০০টি দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলি, প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপক ব্যবসার সুযোগ পাবে। প্রকল্পটি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অগ্রদূত হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি হতে চলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম বড় প্রতীক।

    পুরনো মিগের জায়গা নেবে তেজস

    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) শেষ মিগ-২১ বাইসন বিমানগুলি অবসর নেবে। নতুন বিমানগুলি পুরনো মিগ-এর জায়গা পূরণ করবে। জানা গিয়েছে, হ্যালের বেঙ্গালুরুর কারখানা প্রতি বছর ১৬টি এবং নাসিকে ২৪টি তেজস মার্ক-১এ (Tejas Mk1A) বিমান তৈরি করতে পারে। সেই অনুযায়ী, ২০৩২ সাল নাগাদ ১৮০টি বিমান সরবরাহ হতে পারে বলে অনুমান। এর মধ্যেই সূত্রের খবর, হ্যাল ভবিষ্যতে আরও ২০০টির বেশি তেজস মার্ক–২ এবং সমসংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের উন্নত মাঝারি যুদ্ধবিমান অ্যামকা তৈরির বড় অর্ডার পেতে চলেছে।

LinkedIn
Share