Tag: india defence news

  • Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    Ballistic Missile Defence: আইসিবিএম ধ্বংসের ক্ষমতা! টানা ৩ সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ডিআরডিও-র, বিশ্বের এলিট ক্লাবে ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যোগ হল। দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে (Ballistic Missile Defence বা BMD) ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে টানা তিনটি সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)।

    অভিনন্দন রাজনাথ সিংয়ের

    একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থারও সফল পরীক্ষা হয়েছে। এই সাফল্যের পর ভারত এখন বিশ্বের সেই নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় উঠে এসেছে, যারা দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শুক্রবার এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে ডিআরডিও-র বিজ্ঞানী, শিল্প অংশীদার এবং সশস্ত্র বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (X) তিনি জানান, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিচালিত একাধিক জটিল পরীক্ষায় ভারতের বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

    কী কী পরীক্ষা চালানো হয়েছে?

    ১০ এবং ১১ জুন ধারাবাহিকভাবে তিনটি ফ্লাইট টেস্ট পরিচালনা করে ডিআরডিও। এই পরীক্ষাগুলির মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের বহুস্তরীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পরীক্ষার সময় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে শনাক্ত, অনুসরণ এবং ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্যবস্থাগুলি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মোকাবিলা করা যায়। সরকারি সূত্রের দাবি, পরীক্ষিত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের ২,০০০ থেকে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল (IRBM) বলা হয়।

    এক্সো-অ্যাটমোস্ফেরিক ও এন্ডো-অ্যাটমোস্ফেরিক প্রতিরক্ষা

    সূত্রের খবর, পরীক্ষায় ব্যবহৃত দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি বায়ুমণ্ডলের বাইরে (Exo-atmospheric) এবং অন্যটি বায়ুমণ্ডলের ভিতরে (Endo-atmospheric) শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। এই দুই স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের বিএমডি শিল্ডকে আরও শক্তিশালী করবে। কোনও শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম স্তরের প্রতিরোধ ভেদ করলেও দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবে। ফলে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

    প্রথমবার সফল অ্যান্টি-শিপ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরীক্ষার পাশাপাশি মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ ডিফেন্স সিস্টেমেরও প্রথম সফল ফ্লাইট টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সরকার এখনও এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় জোর দিচ্ছে ভারত?

    গত কয়েক বছরে ভারত তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোকে দ্রুত শক্তিশালী করার পথে এগিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিআরডিও অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উন্নত সংস্করণের কাজ শুরু করে, যা ভূগর্ভস্থ শক্তিশালী বাঙ্কার বা সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম হবে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় নৌবাহিনী তাদের তৃতীয় অরিহন্ত শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন আইএনএস অরিদ্ধমানকে (INS Aridaman) অন্তর্ভুক্ত করে। এই সাবমেরিন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম।

    পাকিস্তান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব

    প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তানও সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। ফাতাহ-১ (Fatah-I), ফাতাহ-২ (Fatah-II) এবং চিনা প্রযুক্তিভিত্তিক পি২৮২-র (P282) মতো ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন ভারতের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। শুধু পাকিস্তান নয়, এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটেও ভারত তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধে আক্রমণাত্মক সক্ষমতার পাশাপাশি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    বিশ্বের কোন এলিট ক্লাবে ভারত?

    রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত এখন সেই সীমিত সংখ্যক দেশের দলে যোগ দিয়েছে, যাদের কাছে দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আইসিবিএম মোকাবিলার সক্ষমতা রয়েছে। যদিও তিনি নির্দিষ্টভাবে দেশগুলির নাম উল্লেখ করেননি, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই ধরনের উন্নত ব্যালিস্টিক মিসাইল ডিফেন্স প্রযুক্তি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন এবং ইজরায়েলের মতো কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারতের সাম্প্রতিক সাফল্য সেই তালিকায় তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা তিনটি সফল পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা নীতির একটি নতুন দিকও তুলে ধরেছে। দেশটি এখন শুধু শক্তিশালী আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে না, পাশাপাশি সম্ভাব্য শত্রুর দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতাও দ্রুত গড়ে তুলছে। ডিআরডিওর এই সাফল্য ভবিষ্যতে ভারতের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আইসিবিএম স্তরের হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতার দাবি ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    India Nuclear Warheads: পরমাণু নীতিতে বড় বদল? ১২টি সক্রিয় পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত, দাবি সিপরি-র রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের পরমাণু প্রতিরক্ষা নীতিতে কি বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে? আন্তর্জাতিক কৌশলগত মহলে এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ‘সিপরি’ (SIPRI)-এর প্রকাশিত ‘ইয়ারবুক ২০২৬’-এ দাবি করা হয়েছে, ভারত সম্ভবত প্রথমবারের মতো সীমিত সংখ্যক পরমাণু ওয়ারহেডকে সক্রিয়ভাবে অপারেশনাল বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই মূল্যায়ন সঠিক হয়, তাহলে তা ভারতের দীর্ঘদিনের পরমাণু নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এসেছে, যখন সিপরি (SIPRI Report 2026) বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা পরমাণু প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

    ভারতের পরমাণু ভাণ্ডার বেড়ে ১৯০

    সিপরি-র হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের হাতে আনুমানিক ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮০। তবে সংখ্যার বৃদ্ধির চেয়েও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হল সিপরি-র এই পর্যবেক্ষণ যে, ওই ১৯০টির মধ্যে প্রায় ১২টি ওয়ারহেড বর্তমানে অপারেশনাল ফোর্সের সঙ্গে মোতায়েন অবস্থায় থাকতে পারে। এতদিন পর্যন্ত ভারতের পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল—ওয়ারহেড এবং ক্ষেপণাস্ত্র বা ডেলিভারি সিস্টেমকে আলাদা করে সংরক্ষণ করা। ফলে যুদ্ধ বা সংকট পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদন ছাড়া দ্রুত পরমাণু হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। নতুন মূল্যায়ন সেই প্রচলিত ধারণার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন?

    ভারতের পরমাণু নীতির ভিত্তি দীর্ঘদিন ধরে দুটি মূল নীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে—

    • ● নো ফার্স্ট ইউজ (No First Use Policy) বা প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করার নীতি
    • ● ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটারেন্স (Credible Minimum Deterrence) বা ন্যূনতম কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা

    এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিপক্ষকে পরমাণু হামলা থেকে নিরুৎসাহিত করা, যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা নয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ারহেডগুলির সীমিত মোতায়েন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত তার প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ার উপযোগী করে তুলতে চাইছে। বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের সঙ্গে এই পরিবর্তনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

    সমুদ্রপথে পরমাণু প্রতিরোধ শক্তিশালী করছে ভারত

    গত এক দশকে ভারত তার নিউক্লিয়ার ট্রায়াড বা ত্রিমুখী পরমাণু হামলার সক্ষমতা গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।

    বর্তমানে ভারতের হাতে রয়েছে—

    • ● স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য পরমাণু অস্ত্র
    • ● পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন

    বিশেষ করে আইএনএস অরিহন্ত (INS Arihant) শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন এবং ভবিষ্যৎ এসএসবিএন প্রকল্প ভারতের দ্বিতীয় আঘাত হানার সক্ষমতাকে (Second Strike Capability) আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে টহলরত সাবমেরিনে মোতায়েনকৃত পরমাণু ওয়ারহেডের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের কাছে ভারতের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

    চিনের দ্রুত উত্থান ভারতের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে

    সিপরি-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ভারতের বর্তমান পরমাণু আধুনিকীকরণের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হল চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও পরমাণু শক্তি। বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে নিজের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে চীন। বেইজিং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো নির্মাণ, উন্নত আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) মোতায়েন এবং সাবমেরিন-ভিত্তিক পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ভারতও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নতুন প্রজন্মের অগ্নি সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে চীনের অভ্যন্তরে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করা সম্ভব হয়। ফলে ভারতের পরমাণু কৌশল আর শুধুমাত্র পাকিস্তানকেন্দ্রিক নয়; বরং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেও বিবেচনায় রাখছে।

    পাকিস্তান ফ্যাক্টর এখনও গুরুত্বপূর্ণ

    চিনকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হলেও পাকিস্তান এখনও ভারতের নিরাপত্তা সমীকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দুই দেশই গত এক দশকে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাকটিক্যাল নিউক্লিয়ার সিস্টেম এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক সীমান্ত উত্তেজনা এবং সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত সংঘাত পরমাণু প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের মোতায়েন ভারতকে সম্ভাব্য সংকটকালে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দিতে পারে।

    বিশ্বজুড়ে নতুন পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা

    সিপরি-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি পরমাণু শক্তিধর দেশের হাতে মোট প্রায় ১২,১৮৭টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে।

    এই দেশগুলি হল—

    • ● যুক্তরাষ্ট্র
    • ● রাশিয়া
    • ● চিন
    • ● ফ্রান্স
    • ● ব্রিটেন
    • ● ভারত
    • ● পাকিস্তান
    • ● উত্তর কোরিয়া
    • ● ইজরায়েল

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় সব পরমাণু শক্তিধর দেশই বর্তমানে ব্যাপক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশ ক্রমশ আরও অনিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে।

    ভারতের পরমাণু নীতিতে কি বড় পরিবর্তন আসছে?

    যদিও সিপরি-র রিপোর্টে ভারতের প্রথমে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা (No First Use) নীতি বা সরকারি পরমাণু মতাদর্শে কোনও আনুষ্ঠানিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি, তবুও সীমিত সংখ্যক ওয়ারহেডের সম্ভাব্য মোতায়েন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। অনেকের মতে, এটি ভারতের পরমাণু নীতির মৌলিক পরিবর্তন নয়; বরং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলার প্রচেষ্টা। তবে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ব নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছে সিপরি, তখন ভারতের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

  • Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    Indian Navy Modernisation: প্রতি ৪০ দিনে নতুন যুদ্ধজাহাজ কমিশন বাহিনীতে! নজিরবিহীন গতিতে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন (Sanjay Vatsayan)। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ৪৫টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও সহায়ক জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। পাশাপাশি আগামীদিনে আরও ১৯৫টি অতিরিক্ত জাহাজ নির্মাণ ও অধিগ্রহণের অনুমোদনও মিলেছে। এর মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ১৭৫ থেকে ২০০-তে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রতি, কলকাতায় গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (Garden Reach Shipbuilders & Engineers)-এর কারখানায় ভারতের প্রথম নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল (NGOPV) ‘সঙ্ঘমিত্রা’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চিফ অফ নেভাল স্টাফ বা নৌসেনা উপপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় ভাটসায়ন। সেখানেই তিনি নৌবাহিনীর এই বৃহৎ আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন।

    চলতি বছর ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন

    বর্তমানে দেশের ছয়টি জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য মোট ৫৪টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে। শুধু চলতি বছরেই ১৯টি নতুন জাহাজ কমিশন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এক বছরে সর্বাধিক সংযোজন। ২০২৭ সালেও আরও ১৩টি জাহাজ সরবরাহ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ইতিমধ্যেই প্রায় ২.৩৫ লক্ষ কোটি টাকার ৭৪টি অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫টি সারফেস শিপ এবং ৯টি সাবমেরিন। ভারতের এই সমগ্র নৌ-আধুনিকীকরণ কর্মসূচি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৯৯,৫০০ কোটি টাকার চুক্তির মাধ্যমে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ভবিষ্যতের সমস্ত যুদ্ধজাহাজ দেশেই তৈরি হবে বলে জানানো হয়েছে। রাশিয়া থেকে নির্মিত শেষ বিদেশি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস তমাল (INS Tamal) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কমিশন হওয়ার পর বিদেশ নির্ভরতা পুরোপুরি বন্ধ হবে।

    প্রতি ৪০ দিনে একটি নতুন জাহাজ কমিশন

    নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নীলগিরি শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট, ১১ হাজার টন ওজনের নেক্সট জেনারেশন ডেস্ট্রয়ার, অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ভেসেল এবং আধুনিক প্যাট্রোল জাহাজ। বর্তমানে গড়ে প্রতি ৪০ দিনে একটি করে নতুন জাহাজ কমিশন করছে ভারতীয় নৌবাহিনী, যা দেশের সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। ভাইস অ্যাডমিরাল সঞ্জয় বাৎস্যায়ন বলেন, ভারতীয় নৌবাহিনী এখন শুধু যুদ্ধ প্রস্তুত বাহিনী নয়, বরং সমুদ্র নিরাপত্তা, কৌশলগত উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর কথায়, “এই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নেক্সট জেনারেশন অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল প্রকল্প অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”

    কোথায় উপযোগী এনজিওপিভি?

    জিআরএসই-র উদ্বোধন করা ‘সঙ্ঘমিত্রা’ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য নির্মীয়মাণ চারটি এনজিওপিভি-র মধ্যে প্রথম জাহাজ। নৌবাহিনীর দাবি, এই এনজিওপিভিগুলি প্রচলিত অফশোর প্যাট্রোল ভেসেলের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও আধুনিক। প্রায় ১১৩ মিটার দীর্ঘ এবং ১৪.৬ মিটার প্রশস্ত এই জাহাজের ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৩,০০০ টন। ১৪ নট গতিতে চললে এর অপারেশনাল রেঞ্জ ৮,৫০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩ নট। মাত্র চার মিটার ড্রাফটের (জলের নিচে থাকা অংশ) কারণে উপকূলীয় অগভীর জলেও এই জাহাজ সহজে মোতায়েন করা যাবে।

    কেন কার্যকরী হবে এনজিওপিভি?

    অফশোর সম্পদের সুরক্ষা, সামুদ্রিক নজরদারি, মাইন ওয়ারফেয়ার, ভিজিট-বোর্ড-সার্চ-সিজার (VBSS) অপারেশন এবং বিশেষ সামরিক অভিযানে এই জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানে ভাইস চিফ গার্ডেনরিচের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, গত আর্থিক বছরে সংস্থাটি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে মোট আটটি জাহাজ তুলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক শক্তিকে মোকাবিলা করতেই ভারত এই বৃহৎ নৌ সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা ৪৩৫-এ পৌঁছে যাবে।

  • Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    সুশান্ত দাস

    ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় এখন এক বিরাট কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে। শুরুতে এটি ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম বড় সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত কিন্তু কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল বিষয়— ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট (ICD) এবং সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রকের স্পষ্ট অবস্থান— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”—প্রমাণ করছে যে আজকের ভারত আর শুধুমাত্র উন্নত প্ল্যাটফর্ম কেনায় আগ্রহী নয়। বরং যুদ্ধক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে চাইছে।

    কেন রাফাল এফ-৪ চুক্তি ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই স্কোয়াড্রন ঘাটতি-র সমস্যায় ভুগছে। চিন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী সামরিক চাপের মধ্যে দ্রুত আধুনিকীকরণ ভারতের জন্য জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ১১৪টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে—

    • ● বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো
    • ● উচ্চমানের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা
    • ● দেশীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে মেক ইন ইন্ডিয়া-কে এগিয়ে নেওয়া

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—

    • ● ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে সরাসরি সরবরাহ করা হবে।
    • ● ৬০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ৯৬টি বিমান ভারতে তৈরি
    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হ্যাল (HAL), টাটা (Tata) ও ফরাসি ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সাফরান (Safran)-এর শিল্প অংশীদারিত্ব
    • ● ভারতে নির্মিত জেটগুলিতে ৫০-৬০% দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে।
    • ● এটি সফল হলে ভারতীয় বিমান ও মহাকাশ শিল্পব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হত।

    মূল বিরোধ: ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি হস্তান্তর (ICD)

    এমআরএফএ চুক্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিমানের সোর্স কোড। এই সোর্স কোড হল যে কোনও যুদ্ধবিমানের মস্তিষ্ক। তবে, ফ্রান্স প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল যে সোর্স কোড তারা কখনই হস্তান্তর করবে না। ভারত তা মেনে নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে। আলোচনার সময় নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়, সোর্স কোড দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, রাফালের আইসিডি অ্যাক্সেস দেওয়া হোক। আইসিডি মূলত একটি প্রযুক্তিগত নকশাপত্র, যা নির্ধারণ করে—

    • ● অস্ত্র সংযোজন কাঠামো
    • ● সেন্সর যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মিশন কম্পিউটার সংযোগব্যবস্থা
    • ● এভিওনিক্স তথ্য প্রবাহ

    ভারত আইসিডি চায় কারণ এটি ছাড়া দেশীয় অস্ত্র স্বাধীনভাবে সংযোজন করা সম্ভব নয়। ভারত যে দেশীয় সিস্টেমগুলি সংযোজন করতে চায়—

    • ● অ্যাস্ট্রা (Astra) দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● রুদ্রম (Rudram) অ্যান্টি-রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড অস্ত্র (SAAW)
    • ● ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG)
    • ● দেশীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা
    • ● ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশীয় বীরূপাক্ষ রেডার (Virupaksha Radar)

    ভারত জানে যে, আইসিডি না থাকলে প্রতিটি সংযোজনের জন্য রাফালের নির্মাণকারী সংস্থা দাসোর অনুমোদন লাগবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের একাধিক সমস্যা হবে। যেমন—

    • ● অভিযানগত বিলম্ব হবে।
    • ● পুনরাবৃত্ত ব্যয় বৃদ্ধি হবে।
    • ● সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
    • ● যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থেকে যাবে।

    সব মিলিয়ে, ভারতের কাছে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বভৌমত্ব-র প্রশ্ন।

    কেন ফ্রান্স প্রযুক্তিতে আপস করতে চাইছে না?

    কিন্তু এক্ষেত্রেও ফ্রান্স বেঁকে বসে। ফ্রান্সের অনীহার মূলত তিনটি কারণ হল—

    প্রথমত, স্পেকট্রা (SPECTRA) ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার গোপনীয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাফালের সবচেয়ে সংবেদনশীল সক্ষমতা হল স্পেক্ট্রা। এটি নিয়ন্ত্রণ করে—

    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা
    • ● রেডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
    • ● জ্যামিং ব্যবস্থা
    • ● প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
    • ● টিকে থাকার অ্যালগরিদম ব্যবস্থা

    ফ্রান্স মনে করে, এই জায়গায় প্রবেশাধিকার দিলে—

    • ● নিজস্ব মেধাস্বত্ব ফাঁস হতে পারে।
    • ● যুদ্ধনীতি প্রকাশ পেতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, অনভিপ্রেত রফতানির নজির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, ভারতকে যদি বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রেতারাও একই দাবি তুলতে পারে। এতে ফরাসি রপ্তানি মডেল দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, রুশ প্রযুক্তি ফাঁসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। ভারত ব্রহ্মোস সংযোজন করতে চায়, যা ভারত-রাশিয়া যৌথ ব্যবস্থার অংশ। ফ্রান্স আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে পশ্চিমা প্রযুক্তি পরোক্ষভাবে রুশ প্রকৌশল নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে পারে।

    ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি স্পষ্টভাবে বদলেছে। আগে দেশের লক্ষ্য ছিল— কেবলমাত্র উন্নত বিদেশি প্ল্যাটফর্ম (সামরিক অস্ত্র, সামরিক যান) কেনা। কিন্তু, ২০২৬ সালে ভারতের লক্ষ্য হল—

    • ● সার্বভৌম জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন ও আপগ্রেড ক্ষমতা
    • ● স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ শিল্পব্যবস্থা

    ভারত বুঝেছে, আমদানিকৃত প্ল্যাটফর্ম তখনই কৌশলগত সম্পদ যখন—

    • ● সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ থাকে
    • ● অস্ত্র সংযোজন স্বাধীন হয়
    • ● বিদেশি অনুমোদন-নির্ভরতা না থাকে

    ২০১৬ সালের ৩৬টা রাফাল চুক্তি থেকে ভারতের শিক্ষা হয়েছে যে, সীমিত প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকৃত কৌশলগত স্বনির্ভরতা দেয় না। ফলে নয়াদিল্লি এখন শুধু সংযোজন লাইন নয়, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব চাইছে। তবে, ভারতের এই দাবিও খারিজ করে ফ্রান্স। যার পরেই, ভারতের তরফে ফ্রান্স ও দাসোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”।

    চুক্তি ভেস্তে গেলে কী হতে পারে?

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাফাল চুক্তি না হলে ভারত কী করবে? এক্ষেত্রে ভারতের হাতে যে যে বিকল্প থাকবে, সেগুলি হল—

    প্রথমত, তেজস মার্ক ২ (Tejas Mk2) যুদ্ধবিমানের গতি বৃদ্ধি করতে পারে। রাফাল চুক্তি ভেঙে গেলে তেজস মার্ক ২-তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়বে। এতে সুবিধা হবে—

    • ● পূর্ণ সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
    • ● দেশীয় সংযোজন
    • ● জীবনচক্র সার্বভৌমত্ব

    অসুবিধাও আছে। যেগুলি হল—

    • ● উন্নয়নে বিলম্ব
    • ● সক্ষমতা পরিপক্বতার ঝুঁকি

    দ্বিতীয়ত, ভারত অ্যামকা (AMCA) কর্মসূচির গতি বৃদ্ধি করতে পারে। অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম যুদ্ধবিমান প্রকল্প। রাফাল ব্যর্থ হলে অ্যামকা আরও কৌশলগত অগ্রাধিকার পাবে।

    তৃতীয়ত, রাশিয়া বিকল্প হিসেবে ফিরে আসা। রাশিয়ার প্রস্তাবিত সুখোই সু-৫৭ই (Su-57E) নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

    রাশিয়ার সুবিধা—

    • ● গভীরতর প্রযুক্তি হস্তান্তর
    • ● স্থানীয় উৎপাদনে নমনীয়তা

    ঝুঁকি—

    • ● মার্কিন ক্যাটসা (CAATSA) নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা
    • ● ভূরাজনৈতিক বার্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

    ফ্রান্সের জন্য চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি কত বড়?

    অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে রাফাল চুক্তি বাতিল হলে, বড় সমস্যায় পড়ে যাবে ফ্রান্স। ফ্রান্সের কাছে এই চুক্তি শুধু রাজস্বের বিষয় নয়। ১১৪টি বিমানের অর্ডার মানে—

    • ● দাসো-র উৎপাদন ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
    • ● সরবরাহকারী শিল্পব্যবস্থার স্থায়িত্ব কমবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি হ্রাস পাবে ফ্রান্সের
    • ● ১৮ থেকে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খোয়াবে ফ্রান্স, যা সেদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।
    • ● ভবিষ্যতে, ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক অংশিদারিত্বে যেতে চাইবে না অন্যান্য দেশ।

    ফ্রান্স ভালোই জানে যে, চুক্তি হারালে দেশের রফতানি বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে, উৎপাদন লাইনে চাপ বাড়বে। তা সত্ত্বেও কিন্তু প্যারিস সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বে আপস করতেও অনিচ্ছুক। ফলে ফ্রান্স একটি ধন্দে পড়ে গিয়েছে। একদিকে, প্রযুক্তি সুরক্ষা অন্যদিকে রফতানি টিকিয়ে রাখা। কয়েক দিন আগে, রাফাল এফ-৫ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সেখানেও কারণ একই। প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষ করে অপট্রনিক্সের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে। যা ইতিমধ্যেই ফরাসি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেছে। এবার একই ধরনের পরিস্থিতি এখন ভারতের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমিরশাহি এবং ভারতের ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করে অন্যান্য দেশও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে ফ্রান্সের সঙ্গে অনুরূপ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আগে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার ও নিশ্চয়তা দাবি করতে পারে।

    বৃহত্তর কৌশলগত তাৎপর্য

    ভারত-ফ্রান্সের এই বিরোধ দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের অস্ত্রচুক্তি আর শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার ক্রয় নয়। নতুন যুগের সামরিক শক্তি নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। যেমন—

    • ● সফটওয়্যার মালিকানা
    • ● ডিজিটাল স্থাপত্য নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন সক্ষমতা
    • ● ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন

    ভারত এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। তা হল— “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ছাড়া স্থানীয় সংযোজন প্রকৃত দেশীয়করণ নয়।” ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি আর শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন। অস্ত্র সংযোজন এবং সফটওয়্যারের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, সবচেয়ে উন্নত প্ল্যাটফর্মও সক্ষমতার পরিবর্তে নির্ভরশীলতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি শুধু রাফাল চুক্তি নয়, ভবিষ্যতের পশ্চিমি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্যও একটি মানদণ্ড।

    টার্নিং পয়েন্ট…

    রাফাল এফ-৪ আলোচনা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ভারত এখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত প্ল্যাটফর্ম ক্রয়ের চেয়ে অভিযানগত সার্বভৌমত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স মূল প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখতে চায়, আর ভারত বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ স্থাপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। তা হল— ফ্রান্স কি ভারতকে যথেষ্ট ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ দিতে প্রস্তুত, নাকি সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিশ্বের অন্যতম বড় যুদ্ধবিমান চুক্তি ভেস্তে যাবে? বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে—এই আলোচনা শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, বরং একবিংশ শতকের প্রতিরক্ষা শিল্পে সার্বভৌমত্ব বনাম নির্ভরতার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে।

  • R-37M Missile: পাকিস্তান-চিনকে টেক্কা দিতে ভারতের বড় চাল! রাশিয়া থেকে আসছে ‘কুঠারের ফলা’, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধে বড় বদলের ইঙ্গিত

    R-37M Missile: পাকিস্তান-চিনকে টেক্কা দিতে ভারতের বড় চাল! রাশিয়া থেকে আসছে ‘কুঠারের ফলা’, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধে বড় বদলের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বদলে যেতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের সমীকরণ। ‘বন্ধু’ ভারতকে নিজেদের সেরা অতি-দবরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ‘আর-৩৭এম’ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। এই মর্মে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করা হলেও, বিভিন্ন সূত্রের মতে নয়াদিল্লির হাতে এই অস্ত্র এলে, খেলা একেবারে ঘুরে যাবে। কারণ, এমন ক্ষেপণাস্ত্র চিনের কাছেও নেই। রুশ সংবাদসংস্থার দাবি, প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই সম্ভাব্য চুক্তি ভারতীয় বায়ুসেনাকে এমন একটি অস্ত্র দেবে, যা শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ বিমানকে শত শত কিলোমিটার দূর থেকে হুমকির মুখে ফেলতে সক্ষম। খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ শুরু হতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভারত দেশীয় আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ও মার্ক- প্রকল্পের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।

    চিনা ‘পিএল-১৫’ ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব রাশিয়ার ‘আর-৩৭এম’

    এই সিদ্ধান্তের সময়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২৫ সালের মে মাসে হওয়া “অপারেশন সিঁদুর” সংঘর্ষে ভারতের ‘বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ’ বা দৃষ্টিসীমার বাইরে সক্ষমতার একটি বড় দুর্বলতা সামনে এসেছিল। ভারতের সামরিক মহলের মতে, পাকিস্তানের জে-১০সি এবং জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান যদি পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত থাকে, তাহলে তারা ভারতের সুখোইয়ের বর্তমান আক্রমণ সীমার বাইরে থেকেই ভারতীয় বিমানের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘আর-৩৭এম’ ক্ষেপণাস্ত্রকে একটি অন্তর্বর্তী সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভারতের দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনে সাহায্য করবে এবং একই সঙ্গে দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য সময় দেবে। রাশিয়ায় আরভিভি-বিডি নামে পরিচিত এবং বকলমে “অ্যাক্সহেড” নামে খ্যাত এই ক্ষেপণাস্ত্র মূলত অ্যাওয়াক্স, মিড-এয়ার রিফুয়েলার ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংসের জন্য তৈরি।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি দিল্লি বা মস্কো

    এটি ভারতীয় বায়ুসেনার মিশনের পরিধিও বাড়াবে— শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান ধ্বংস নয়, বরং তাদের আকাশভিত্তিক কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতাও তৈরি করবে। এর ফলে বড় কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে, কারণ পাকিস্তান ও চিন— দুই দেশই এখন নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক সেন্সর, অ্যাওয়াক্স এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। যদিও মস্কো বা নয়াদিল্লি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির কথা ঘোষণা করেনি, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে রাশিয়া ইতিমধ্যেই রফতানির অনুমোদন দিয়েছে। এই চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে রাশিয়ার ভূমিকা আরও মজবুত করবে, বিশেষ করে যখন পশ্চিমি দেশ ও দেশীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ভারতের জন্য এটি শুধু একটি নতুন অস্ত্র নয়, বরং পাকিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে দ্রুত দীর্ঘ-পাল্লার প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য ভবিষ্যতে নির্ভর করবে—কে আগে শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে, তার ওপর।

    আকাশভিত্তিক কমান্ড নেটওয়ার্ক ধ্বংসের জন্য তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র

    • ● ‘আর-৩৭এম’ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা দীর্ঘ-পাল্লার কার্যকর এয়ার-টু-এয়ার (আকাশ থেকে আকাশ) ক্ষেপণাস্ত্র। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, আদর্শ পরিস্থিতিতে এর পাল্লা প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
    • ● ভারতের সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমানে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার হতে পারে, যা এখনও অধিকাংশ পশ্চিমি ও এশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে বেশি।
    • ● এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় মাক ৬ বা শব্দের চেয়ে ৬ গুণ দ্রুত (প্রায় ৭,৪০০ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে পৌঁছাতে পারে, ফলে শত্রুপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় খুব কম থাকে।
    • ● প্রায় ৪.২ মিটার লম্বা এবং প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের এই ক্ষেপণাস্ত্রে ৬০ কেজির উচ্চ-বিস্ফোরক ওয়ারহেড থাকে, যা বড় আকারের বিমান ধ্বংসের জন্য তৈরি।
    • ● এর গাইডেন্স সিস্টেমে রয়েছে ইনর্শিয়াল ন্যাভিগেশন, মাঝপথে ডেটা-লিঙ্ক আপডেট এবং শেষ পর্যায়ে অ্যাক্টিভ রেডার হোমিং—যার ফলে লক্ষ্যবস্তু চলন্ত থাকলেও তা ট্র্যাক করা সম্ভব।
    • ● এছাড়া এতে “লফটেড ট্র্যাজেক্টরি” ব্যবহার করা হয়—অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথমে উপরে উঠে তারপর লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে, ফলে শক্তি সঞ্চয় হয় এবং পাল্লা বাড়ে।
    • ● এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে এটি বিশেষভাবে কার্যকর অ্যাওয়াক্স ও ট্যাঙ্কারের মতো দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমানের বিরুদ্ধে।
    • ● এই ধরনের বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের অনেক পিছনে অবস্থান করে, ‘আর-৩৭এম’ সেই দূরত্ব থেকেই তাদের আঘাত করতে সক্ষম।
    • ● ফলে পাকিস্তান ও চিনকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে নিতে হতে পারে, যা তাদের রাডার কভারেজ ও সমন্বয় ক্ষমতা কমিয়ে দেবে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানে সংযোজন: ভারতের দ্রুত শক্তি বৃদ্ধি

    • ● ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হল— আর-৩৭এম দ্রুত সুখোই-৩০এমকেআই বিমানে সংযোজন করা সম্ভব।
    • ● বর্তমানে ভারতের কাছে ২৭০টিরও বেশি সুখোই-৩০এমকেআই রয়েছে, ফলে আংশিক সংযোজন হলেও বড় পরিসরে ক্ষমতা বৃদ্ধি হবে।
    • ● রাশিয়ার সুখোই-৩০এসএম-এ ইতিমধ্যেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে প্রযুক্তিগত ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
    • ● সংযোজনের জন্য মূলত সফটওয়্যার আপডেট দরকার হবে—যেমন রেডার, মিশন কম্পিউটার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন নয়।
    • ● ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনকে সুখোই-৩০ আধুনিকীকরণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে, যেখানে প্রথম পর্যায়ে ৮৪টি বিমান আপগ্রেড করা হবে।
    • ● প্রতিটি আপগ্রেড করা বিমানে অন্তত দুটি আর-৩৭এম বহন করা সম্ভব হবে, যদিও মিশ্র অস্ত্র বিন্যাসে আরও বেশি বহন করা যেতে পারে।
    • ● কিছু বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি সুখোই-৩০এমকেআই সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৮টি আর-৩৭এম বহন করতে সক্ষম হতে পারে, সঙ্গে স্বল্প-পাল্লার আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রও থাকবে।

    আকাশযুদ্ধের ভবিষ্যৎ: “ফার্স্ট-ডিটেক্ট, ফার্স্ট-শুট”

    ফলে, আর-৩৭এম শুধু একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং ভারতের জন্য দ্রুতগতিতে দীর্ঘ-পাল্লার আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনর্গঠনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এর ফলে ভারত-পাকিস্তান-চিন ত্রিভুজে আকাশযুদ্ধের ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে। আর-৩৭এম অন্তর্ভুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভবিষ্যতে লড়াই শুধুমাত্র যুদ্ধবিমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না— বরং নির্ভর করবে কে আগে শত্রুপক্ষের “চোখ ও কান” অর্থাৎ অ্যাওয়াক্স ও সাপোর্ট প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করতে পারে। অর্থাৎ, আকাশযুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে “ফার্স্ট-ডিটেক্ট, ফার্স্ট-শুট” কৌশল—এবং সেই প্রতিযোগিতায় ভারত বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

  • 800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত ব্রহ্মোস-এলআর (লং রেঞ্জ) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য বড় অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সেনা, প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস?

    বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে থাকা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে স্থল, নৌ ও বায়ু—তিন বাহিনীতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াতে এবার ৮০০ কিমি পাল্লার সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মোসের এই উন্নত ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের ডিআরডিও (DRDO) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন সংস্করণটি মাক ৩ (শব্দের তিনগুণ বেশি) গতিবেগ বজায় রেখেই শত্রুপক্ষের গভীর এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমানে, এই মিসাইলের একাধিক উড়ান পরীক্ষা চলছে।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের বৈঠক শীঘ্রই!

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে খুব শিগগিরই এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর বৈঠকে এই বড় ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে এটি হবে দীর্ঘ-পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৃহৎ অর্ডার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ‘স্ট্যান্ড-অফ ডিটারেন্স’ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ তৈরি করে দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজসেও তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক সংঘাত কী শেখাচ্ছে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছিল। ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ ভারতীয় বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একাধিক ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানে। একই সঙ্গে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাতও দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থার উপর। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি মানবসম্পৃক্ততার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

    সেনাবাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন

    এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত নিজেদের বাহিনী কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছে। বড় সংখ্যায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি আর্টিলারি ও পদাতিক রেজিমেন্টে বিশেষ ড্রোন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এমনকি সেনার নিজস্ব কর্মশালায় বড় আকারে ড্রোন উৎপাদনও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি একটি পৃথক মিসাইল ফোর্স গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে একত্রিত করে একটি আধুনিক, নেটওয়ার্কভিত্তিক মাল্টি-ডোমেইন স্ট্রাইক ফোর্স গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য।

    কৌশলগত বার্তা কী?

    ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নয়, বরং একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা—ভারত ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, যেখানে গতি, নির্ভুলতা এবং দূরপাল্লার আঘাতই হবে মূল নির্ধারক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের অনুমোদন মিললে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় ধাপ এগোবে। সব মিলিয়ে, ব্রহ্মোসের দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণ শুধু একটি অস্ত্র নয়—এটি ভারতের সামরিক চিন্তাধারার এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের প্রতীক।

  • Indian Navy: ৭ দিনে যোগ দিল ৫ যুদ্ধজাহাজ, ১ পারমাণবিক সাবমেরিন! নজিরবিহীন তৎপরতা ভারতীয় নৌসেনায়, কারণ কী?

    Indian Navy: ৭ দিনে যোগ দিল ৫ যুদ্ধজাহাজ, ১ পারমাণবিক সাবমেরিন! নজিরবিহীন তৎপরতা ভারতীয় নৌসেনায়, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুড ফ্রাইডে-র সকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের একটা ছোট্ট টুইট আলোড়ন ফেলে দিয়েছে দেশে। নিজের এক্স হ্যান্ডলে রাজনাথ লেখেন, ‘‘শব্দ নয়, এটি শক্তি—‘অরিধমান’’’। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই ক্রিপ্টিক (ইঙ্গিতবাহী) পোস্ট দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাহলে কি ভারতীয় নৌসেনায় চুপিসাড়ে তৃতীয় পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক সাবমেরিনকে কমিশনড্ বা অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে গেল? অবিশ্বাস্য নয় এটা। কারণ, ‘অরিধমান’-এর দুই পূর্বসূরি যথা ‘অরিহন্ত’ ও ‘অরিঘাত’-এর ক্ষেত্রেও চুপিসাড়ে অন্তর্ভুক্তির ঘটনা ঘটেছিল। ফলে, এক্ষেত্রেও যে ব্যতিক্রম হবে না, তা ধরে নেওয়া যায়। কারণ, এসএসবিএন (পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন)-এর বিষয়ে বরাবরই মুখে কুলুপ কেন্দ্রের। এই সাবমেরিন হচ্ছে ভারতের অত্যন্ত গোপন বিষয়। কাকপক্ষীও টের পায় না। এমনকী, অন্তর্ভুক্তির পর অরিধমান ঠিক কোথায় করছে, তা সরকারেরও সকলে জানে না। তবে, সাবমেরিনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখলেও জাহাজের ক্ষেত্রে ঘটে ঠিক তার উল্টো। একেবারে ঢাকঢোল পিটিয়ে জাহাজের অন্তর্ভুক্তির কথা জানানো হয়। কারণ, সাবমেরিন যেখানে অতল সমুদ্রতলে ঘাপটি মেরে থাকে, জাহাজ তো ভাসমান।

    কী ঘটে চলেছে নৌসেনায়?

    এদিকে, এক সপ্তাহে ভারত যা করে দেখাল, তা বোধহয়, বিশ্বের কোনও নৌসেনা করে দেখাতে পারেনি। গত সাত দিনে ভারতীয় নৌসেনায় এমন কিছু ঘটেছে, যা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আক্ষরিক অর্থে! কী সেটা? খোলসা করা যাক— গত সাত দিনে, ভারতীয় নৌসেনায় ৫টি রণতরী এবং একটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে অন্তর্ভুক্ত করে এক নজির সৃষ্টি করেছে। এই অন্তর্ভুক্তি ধারার শুরুটা হয়েছিল ৩০ মার্চ। সেদিন কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) একদিনে তিন-তিনটি রণতরীকে ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দিয়েছিল। জাহাজগুলি হল— অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘দুনাগিরি’, হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল ‘সংশোধক’ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট ‘অগ্রয়’। ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ, ৩১ মার্চ নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয় কোচিন শিপইয়ার্ডে নির্মিত আরও একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট ‘মালওয়ান’। এর পর মাঝে ২ দিনের বিরতি। ফের শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ভারতীয় নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত এক জোড়া নৌযানের অন্তর্ভুক্তি হল। এদিন নৌসেনার পরিবারে আরও একটি অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’ এবং এসএসবিএন ‘অরিধমান’ প্রবেশ করল। বিশাখাপত্তনমে তারাগিরি-র অন্তর্ভুক্তির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ রাজনাথ সিং। কাকতালীয়ভাবে, এই ভাইজ্যাগই হল ভারতের পারমাণবিক সাবমেরিনের নির্মাণের হাব এবং নৌসেনার সাবমেরিন ফ্লিটের সদর। ফলে, দুয়ে-দুয়ে চার করা সহজ। ভারতের এই যুদ্ধকালীন পদক্ষেপ দেখে অনেকেই প্রশ্ন করছেন, নৌসেনায় ঠিক কী ঘটে চলেছে? কেন নৌসেনায় এত তৎপরতায় পর পর রণতরীর অন্তর্ভুক্তি হয়ে চলেছে?

    ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গড়ে তোলার লক্ষ্য

    অল্প সময়ের ব্যবধানে এতগুলি রণতরীর অন্তর্ভুক্তির ঘটনা শুধু বিরল নয়, কার্যত নজিরবিহীন। এর থেকে পরিষ্কার, ভারতীয় নৌসেনায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নীল-জলে নিজেদের শক্তি-বৃদ্ধি করার পণ নিয়েছে এবং তা পূরণ করে চলেছে। এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরে ভারতীয় নৌসেনায় আরও একাধিক যুদ্ধজাহাজ যোগ দিতে চলেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে ১৫ থেকে ১৯টি জাহাজ নৌসেনায় যোগ দিতে চলেছে, যা কিনা একটা রেকর্ড হতে পারে। অর্থাৎ, প্রতি ছয় সপ্তাহে একটি করে জাহাজের অন্তর্ভুক্তি হবে। কী প্রচণ্ড গতিতে দেশে জাহাজ নির্মাণের কাজ হচ্ছে, তা এই ছোট্ট পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর বহরে ১৩০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় ২৫১টি বিমান ও হেলিকপ্টার রয়েছে, যা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক শক্তি হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পশ্চিম, পূর্ব ও দক্ষিণ নৌ কমান্ডের অধীনে বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, করভেট, সাবমেরিন ও অ্যামফিবিয়াস জাহাজ মোতায়েন রয়েছে দেশের বিস্তৃত সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায়। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নৌবহর ১৫৫-১৬০টি যুদ্ধজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দীর্ঘমেয়াদে ২০০-রও বেশি জাহাজ নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভারত মহাসাগর অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক জলসীমায় কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

  • S-400 Missile System: অপারেশন সিদুঁর-এর প্রথম বর্ষপূর্তির সময়েই ভারতের হাতে আসছে চতুর্থ এস-৪০০!

    S-400 Missile System: অপারেশন সিদুঁর-এর প্রথম বর্ষপূর্তির সময়েই ভারতের হাতে আসছে চতুর্থ এস-৪০০!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা (Air Defence) শক্তিকে আরও মজবুত করতে আগামী মে মাসেই দেশে পৌঁছতে চলেছে অত্যাধুনিক এস-৪০০ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (S-400 Missile System) চতুর্থ স্কোয়াড্রন। প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এই ডেলিভারির সময়সূচি ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তির (Operation Sindoor Anniversary) সঙ্গে মিলতে পারে—যে অভিযানে এস-৪০০ (ভারতে সুদর্শন নামে পরিচিত) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

    সূত্রের খবর, রাশিয়ার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, পঞ্চম ও শেষ স্কোয়াড্রনটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ভারতে পৌঁছবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ সেট ভারতের হাতে চলে আসবে। ২০১৮ সালে প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকার বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কেনার চুক্তি করে ভারত। ইতিমধ্যে তিনটি স্কোয়াড্রন দেশে এসে অপারেশনাল হয়েছে, যা ভারতের বহুস্তরীয় এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের (Multi-Layered Air Defence Network) গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।

    কৌশলগত মোতায়েন

    বর্তমানে মোতায়েন হওয়া এস-৪০০ (S-400 Missile System) ইউনিটগুলি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে স্থাপন করা হয়েছে। একটি স্কোয়াড্রন শিলিগুড়ি করিডরে মোতায়েন রয়েছে, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগ রক্ষা করে। অন্য একটি স্কোয়াড্রন পঠানকোট অঞ্চলে অবস্থান করছে, যা জম্মু ও কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের আকাশসীমায় নজরদারি জোরদার করেছে। তৃতীয় স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে পশ্চিম সীমান্তে—রাজস্থান ও গুজরাটের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকে সুরক্ষিত রাখতে।

    অপারেশন সিদুঁর-এ কার্যকারিতা

    ‘অপারেশন সিদুঁর’-এর সময় এস-৪০০ সিস্টেমের কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে সামনে আসে। দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এটি শত্রুপক্ষের আকাশপথে আসা হুমকি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এই অভিযান ভারতের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিযানের বর্ষপূর্তির (Operation Sindoor Anniversary) সময় নতুন স্কোয়াড্রনের আগমন কেবল প্রতীকী নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

    চিনের সঙ্গে উত্তেজনার পর গতি পায় আধুনিকীকরণ

    ২০২০ সালের লাদাখ সংঘাত ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা স্পষ্ট করে দেয় যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে এয়ার সুপিরিয়রিটি ও মিসাইল ডিফেন্স অপরিহার্য উপাদান। চিনের সঙ্গে সংঘাতের পর থেকেই ভারত তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে বিশেষ জোর দেয়। সেই প্রেক্ষিতে এস-৪০০-এর (S-400 Missile System) দ্রুত মোতায়েন ও কার্যকরীকরণ গুরুত্ব পায়।

    এস-৪০০: কী এর বিশেষত্ব

    এস-৪০০ একটি অত্যাধুনিক দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটি প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রু লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই সিস্টেম একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্য—ফাইটার জেট, ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন—ট্র্যাক ও ধ্বংস করতে পারে। প্রতিটি স্কোয়াড্রনে প্রায় ১৬টি যান থাকে, যার মধ্যে রয়েছে মিসাইল লঞ্চার, উন্নত রেডার, কমান্ড ও কন্ট্রোল ইউনিট এবং সহায়ক ব্যবস্থা।

    সম্পূর্ণ হলে কী বদলাবে

    সব পাঁচটি এস-৪০০ (S-400 Missile System) স্কোয়াড্রন যুক্ত হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। দেশীয় ‘আকাশ’ মিসাইলসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে এটি একটি শক্তিশালী বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং সম্ভাব্য শত্রুপক্ষের আগ্রাসন অনেকটাই নিরুৎসাহিত হবে। চতুর্থ স্কোয়াড্রনের আগমন (Operation Sindoor Anniversary) ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির পথে আরেকটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো সিস্টেম চালু হলে দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

  • INS Taragiri: নীল-জলের যুদ্ধে আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে ভারত, ৩ এপ্রিল নৌসেনায় কমিশন্ড হচ্ছে স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’

    INS Taragiri: নীল-জলের যুদ্ধে আরও শক্তিশালী হওয়ার পথে ভারত, ৩ এপ্রিল নৌসেনায় কমিশন্ড হচ্ছে স্টেলথ ফ্রিগেট ‘তারাগিরি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামুদ্রিক সার্বভৌমত্বের লক্ষ্যে আরও শক্তিশালী হতে চলেছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। আগামী ৩ এপ্রিল, বিশাখাপত্তনমে ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করা হবে অত্যাধুনিক স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তারাগিরি (INS Taragiri)’। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র কমিশন হওয়া শুধুমাত্র একটি নতুন যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তি নয়, বরং ভারতের সামুদ্রিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

    শক্তিশালী স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস তারাগিরি…

    প্রজেক্ট ১৭এ-র অধীনে নির্মিত এই ফ্রিগেটটি সিরিজের চতুর্থ জাহাজ। প্রায় ৬,৬৭০ টন ওজনের ‘তারাগিরি’ শুধুমাত্র একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, বরং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুম্বইয়ের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এ নির্মিত এই জাহাজটি দেশীয় শিপবিল্ডিং শিল্পের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পূর্ববর্তী শিবালিক-শ্রেণির উপর ভিত্তি করে এই ফ্রিগেট তৈরি হলেও, ‘তারাগিরি’ নকশাগত দিক থেকে এক প্রজন্ম এগিয়ে। এর আধুনিক নকশা এবং কম রেডার ক্রস-সেকশন একে শত্রুপক্ষের নজর এড়িয়ে কার্যকরভাবে অভিযান চালাতে সক্ষম করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।

    ব্রহ্মসে সজ্জিত তারাগিরি যে কোনও মোকাবিলায় প্রস্তুত

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ‘তারাগিরি’-তে ব্যবহৃত উপকরণের ৭৫ শতাংশেরও বেশি দেশীয়ভাবে তৈরি। এর নির্মাণে ২০০-রও বেশি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) অংশ নিয়েছে, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও জাহাজটি অত্যন্ত আধুনিক। কম্বাইন্ড ডিজেল অর গ্যাস (CODOG) প্রোপালশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি উচ্চগতি ও দীর্ঘ সময় সমুদ্রে টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র অস্ত্রসজ্জা বহুমাত্রিক হুমকি মোকাবিলার জন্য তৈরি। এর অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস ব্রহ্মস মিসাইল, মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM) এবং উন্নত অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা। এর কমব্যাট স্যুটে রয়েছে MFSTAR, একটি ৭৬ মিমি সুপার র‍্যাপিড গান, এবং ৩০ মিমি ও ১২.৭ মিমি ক্লোজ-ইন অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয়। জলের নিচে বিপদের মোকাবিলায় এতে রয়েছে অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট ও টর্পেডো। অত্যাধুনিক কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে এই সব ব্যবস্থা একত্রে পরিচালিত হয়, যা যেকোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে।

    ভারত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা—বিশেষত চিনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে—‘আইএনএস তারাগিরি’-র মতো স্টেলথ ফ্রিগেট ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা (maritime deterrence) বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও ‘আইএনএস তারাগিরি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম। এর বহুমুখী ব্যবহারিকতা একে কূটনৈতিক মিশন থেকে শুরু করে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে উপযোগী করে তুলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ক্রমেই একটি আধুনিক, সক্ষম এবং আত্মনির্ভর শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। ‘আইএনএস তারাগিরি’-র কমিশনিং সেই যাত্রারই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও মজবুত করবে এবং ভারতের উত্থানশীল নৌশক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

     

  • Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে মাঝারি-পাল্লার অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) চালিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    যাচাই হলো সব প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও অপারেশনাল প্রস্তুতি

    এই পরীক্ষা পরিচালিত হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (SFC)-এর তত্ত্বাবধানে, যা দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের দায়িত্বে রয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের দ্বারা পরিচালিত এই উৎক্ষেপণে সব অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পরীক্ষা ভারতের প্রতিরোধমূলক কৌশলের (India Nuclear Deterrence) বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ

    অগ্নি-৩ একটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (IRBM), যার আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এর ফলে প্রতিপক্ষ দেশের গভীরে অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্নি সিরিজের অন্যান্য উন্নত ও অধিক পাল্লার সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হয়েছে, তবুও অগ্নি-৩ এখনও ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০১১ সাল থেকে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের পরিষেবায় রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত।

    রমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা

    অগ্নি-৩ (Agni-3 Missile Test) একটি দুই-ধাপের, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা সর্বোচ্চ ১,৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের পেলোড (বিস্ফোরক) বহনে সক্ষম। এটি মূলত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোটন ক্ষমতার ওয়ারহেড বহন করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৭ মিটার এবং ব্যাস ২ মিটার। এর উৎক্ষেপণ ওজন প্রায় ৪৮,৩০০ কিলোগ্রাম। প্রথম ধাপের জ্বালানি শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপ সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্ধারিত পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, যা উড়ানের সময় স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

    “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” বজায় রাখা

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রে স্ট্র্যাপডাউন ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছে, যা জিপিএস-এর সহায়তায় প্রায় ৪০ মিটার সার্কুলার এরর প্রোবাব্যেল (CEP) নির্ভুলতা প্রদান করে। এর প্রথম ধাপটি মারেজিং স্টিল দিয়ে তৈরি মোটর কেস এবং দ্বিতীয় ধাপে কার্বন-ফাইবার মোটর কেস ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় ধাপেই থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল সিস্টেম সংযুক্ত থাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিরক্ষা কর্তারা জানিয়েছেন, এদিনের পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) ভারতের যাচাইকৃত কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তালিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” (India Nuclear Deterrence) বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

LinkedIn
Share