মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভারতে কর্মরত রাষ্ট্রদূত জঁ-এরিক পাকে বলেছেন, আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর প্রতিনিধিদলের আসন্ন সফরের দিকে তিনি আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে রয়েছেন। ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর একটি প্রতিনিধিদল আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লি সফর করবে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিড ম্যাকঅ্যালিস্টার (David McAllister)। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সইয়ের আগের প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করতে তারা ভারত সরকার, সংসদ ও শিল্পপতিদের সাথে বৈঠক (India-European Union Free Trade) করবেন। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা।
একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
পাকে ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির মধ্যে এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পাকে। তাঁর কথায়, “বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন—এই ক্ষেত্রগুলোতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুহূর্তে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করা একটি সম্মানের বিষয়। আমাদের যৌথ কর্মসূচি কেবল আকাঙ্ক্ষামূলক নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একটি বাস্তব অঙ্গীকার, যা উভয় পক্ষের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা আনবে।”
ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা
সম্প্রতি ভারত ও জার্মানির মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হলে যৌথ উদ্ভাবন, নতুন পণ্যের বিকাশ এবং ভারতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। এমনই আশার কথা শুনিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর মতে, জার্মানির উন্নত প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার সঙ্গে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদ এবং সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে। বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-জার্মানি সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার কথা তুলে ধরেন গোয়েল। তিনি বলেন, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন হওয়ার ফলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই চুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ বাজারে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তির আওতা রয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তা বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ৭৫ শতাংশের সমতুল্য বাজারে পৌঁছতে পারে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বাস্তব বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা করেন গোয়েল।
বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক গোয়েলের
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকের পর গোয়েল জানান, ভারত-জার্মানি অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গতি এবং ভারতীয় শিল্পের সামনে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগগুলি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বস্ত্রশিল্প থেকে শুরু করে ওষুধ, ইঞ্জিনিয়ারিং, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং উদীয়মান প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে (এমএসএমই) এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান সংস্থাগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ
সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লেখেন, ভারতীয় সংস্থাগুলিকে গুণমান, নিয়ম মেনে চলা এবং নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী এবং বিশ্বের আস্থাভাজন অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গোয়েল বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা সম্ভব। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি উন্নত উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা ক্ষেত্রে দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর ফলে উভয় পক্ষের মানুষের সমৃদ্ধি বাড়বে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
